দ্যাব্ল্যাকমার্ক
লেখনীতেআশুও_নিশু
পর্বসংখ্যা_৫
সকাল মানেই যেন নতুন শুরুর নরম আলোর স্পর্শ। পূর্ব দিগন্তে সূর্যের প্রথম কিরণ ধীরে ধীরে আকাশকে রাঙিয়ে তোলে হালকা সোনালি আর গোলাপি আভায়। শিশিরভেজা ঘাসে আলো পড়তেই ছোট ছোট মুক্তোর মতো ঝিলমিল করে ওঠে চারপাশ। দূরে কোথাও পাখির কিচিরমিচির ডাক ভেসে আসে—মনে হয় প্রকৃতি নিজেই যেন ঘুম ভাঙার গান গাইছে।
তুবা আজ বেশ ভোরেই ঘুম থেকে উঠেছে। সবার জন্য রান্নাঘরে ব্যস্ত হাতে ব্রেকফাস্ট বানাচ্ছে। অথচ মনটা অদ্ভুতভাবে উদাস হয়ে আছে। এমন সময় পাশ থেকে কর্কশ কণ্ঠে মহিলাটা বলে উঠল,
— “এখনো এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন? উপরে যাও। স্যাররা এলে এসো।”
তুবা নরম স্বরে বলল,
— “ইয়ে… মানে আমার একটু খিদে পেয়েছে।”
কথাটা শুনে মহিলাটা যেন আরও বিরক্ত হলো।
— “জানো না এখানে মালিকরা খাওয়ার পরেই কর্মচারীরা খায়?”
তুবা আর কিছু বলল না। চুপচাপ সেখান থেকে সরে গিয়ে ছাদে উঠে দাঁড়াল।
ঠিক তখনই নিহান রান্নাঘরের সামনে এসে দাঁড়ায়। পরনে জগিং স্যুট। তাকে দেখেই কেয়ারটেকাররা সালাম দিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে—সে কেন এসেছে, কী দরকার—এসব ভাবনায় সবাই একটু অস্থির। কারণ অন্য কোনোদিন তাকে এখানে দেখা যায় না।
মহিলাটা হেসে বলল,
— “স্যার, কিছু লাগবে?”
নিহানের কপালের রগগুলো স্পষ্ট নীলচে হয়ে উঠেছে, হাত দুটো শক্ত করে মুষ্টিবদ্ধ। গম্ভীর স্বরে সে বলল,
— “ওর সঙ্গে কিসের ভাষায় কথা বলেছেন?”
সবাই চুপ। হঠাৎ সে গর্জে উঠল,
— “আন্সার মি!”
মিস আতিয়া একটু সাহস করে বলল,
— “স্যার, আমি এখানে কেয়ারটেকারদের মেইন দায়িত্বে আছি। আমার বলার অধিকার আছে।”
— “শাট আপ।” নিহানের কণ্ঠ ঠান্ডা কিন্তু ভয়ানক কঠোর। “ওকে অসম্মান করে কথা বললে ফল খুব খারাপ হবে।”
তারপর চারপাশে তাকিয়ে আবার বলল,
— “শুধু আপনাকে না—এই বাড়ির সবাই শুনে রাখুন। তুবার গায়ে একটা আঁচড় লাগলেও জ্যান্ত কবরে ঢুকিয়ে দেব। মাইন্ড ইট।”
আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না সে। হনহন করে সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেল ছাদে।
ছাদে তুবা একা দাঁড়িয়ে আছে। পরনে কালো সুতির থ্রিপিস। নিহান চোখ বন্ধ করে লম্বা শ্বাস নিল—রাগটা সামলানোর চেষ্টা করছে। তারপর গম্ভীর স্বরে বলল,
— “এখানে দাঁড়িয়ে আছো যে?”
তুবা পেছনে তাকিয়ে অবাক হলো।
— “এমনি… আপনি এখন কোথা থেকে এলেন?”
নিহান ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
— “আমি পার্টিতে গিয়েছিলাম, জগিংয়ের কাপড় পরে।”
তুবা খিলখিল করে হেসে উঠল। তার হাসির শব্দ যেন সকালবেলার রোদে ঝলমলে ঘণ্টার মতো বাজল। নিহান স্থির চোখে তাকিয়ে রইল—এভাবে ওকে কখনো হাসতে দেখেনি। পরক্ষণেই নিজের ওপর বিরক্ত হলো সে। মেয়েটা হাসল কি না, তা নিয়ে কেন ভাবছে সে?
গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
— “আমার রুমে কফি দিয়ে যাও। তাড়াতাড়ি।”
বলেই সে ঘুরে চলে গেল। ছাদের রেলিং ধরে কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে রইল তুবা। সকালের আলো তার মুখে এসে পড়েছে, তবু মনে যেন এক অদ্ভুত অস্থিরতা।
হঠাৎ কফির মনে পড়তেই তাড়াতাড়ি নিচে নেমে এল সে। কফি বানাতে বানাতে তার হাত সামান্য কেঁপে উঠল।
মিস আতিয়া দূর থেকে তাকিয়ে সব দেখছিল। তার চোখে বিরক্তির সঙ্গে একফোঁটা কৌতূহলও। কিন্তু কিছু বলল না—সকালের ঘটনাটা যেন তাকে সামান্য হলেও সতর্ক করে দিয়েছে।
কফির কাপ হাতে নিয়ে তুবা ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠল। নিহানের দরজার সামনে এসে থামল সে। দরজাটা আধখোলা। ভেতরে তাকাতেই দেখল—নিহান জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। সকালের আলো তার কাঁধ ছুঁয়ে গেছে, মুখের গম্ভীর রেখাগুলো আরও স্পষ্ট।
তুবা ধীরে বলল,
— “কফি…”
নিহান ঘুরে তাকাল। চোখে সেই চিরচেনা কঠোরতা, কিন্তু আজ যেন তার ভেতরে অন্য কিছু মিশে আছে—অচেনা, নরম এক দৃষ্টি।
— “এত দেরি হলো কেন?”
— “আমি… বানাচ্ছিলাম।”
সে আর কিছু বলল না। তুবা এগিয়ে গিয়ে টেবিলে কাপটা রাখল।
নিহান কফির দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ বলল,
— “ওরা তোমাকে কিছু বলেছে?”
তুবা একটু চমকে তাকাল।
— “না… কিছু না।”
— “মিথ্যে বলো না।”
কণ্ঠটা কঠিন হলেও স্বর নিচু। তুবা চোখ নামিয়ে নিল। উত্তর দিল না। সেই নীরবতাই যেন সব কথা বলে দিল।
নিহান ধীরে মগটা হাতে নিল। এক চুমুক দিয়ে বলল,
— “এখানে কেউ তোমাকে অপমান করার অধিকার পায়নি। এটা মনে রাখবে।”
তুবা বিস্ময়ে তাকাল। বুকের ভেতর হালকা ধুকপুক শব্দ হচ্ছে। কী বলবে বুঝে উঠতে পারছে না। শুধু মাথা নেড়ে বলল,
— “জি।”
নিহান আর কিছু বলল না। জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল।
তুবা ধীরে ধীরে দরজার দিকে পা বাড়াল। বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক আগে পেছন থেকে নিহানের কণ্ঠ এল—
— “তুবা।”
সে ঘুরে তাকাল।
— “নিজের খেয়াল রাখবে।”
এক মুহূর্তের জন্য সময় থেমে গেল। তুবার চোখে বিস্ময় আর অদ্ভুত এক উষ্ণতা জ্বলে উঠল। সে কিছু বলতে পারল না শুধু হালকা মাথা নেড়ে বেরিয়ে গেল।
দরজা বন্ধ হওয়ার পর নিহান নিঃশব্দে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। নিজের অজান্তেই তার ঠোঁটে একচিলতে হাসি ফুটে উঠল।~~~
নিশান,নাহিয়ানকে নিয়ে বের হয়েছিলো নতুন কোন শিকারের খোঁজে, পেয়েও গেলো টাটকা এক মেয়েকে। পরনে পার্টি ড্রেস, পায়ে হাই হিলস, মুখে ভারি মেকআপ।
নিশান গাড়ি থেকে নেমে মেয়েকে বলে,
“হেই মিস, কারো জন্যে অপেক্ষা করছো?”
মেয়েটা নিশানের মতই ফ্লাটিং করে বলে,
“হ্যা ওয়েট তো করছিই কিন্তু অন্যকারো নয় তোমারই।”
নিশান সকলকে নিজের শিকার হিসাবে টার্গেট করে না। যারা বার, পার্টি, ছেলে, মাস্তি নিয়ে থাকে তাদের কেই টার্গেট করে।
নিশান এক গাল হেসে বলে,
“তাহলে এখনও দাঁড়িয়ে কেন আছো? লেটস্ গো বেইব।”
মেয়েটাও মাথা নাড়িয়ে নিশানের সাথে গাড়ির দিকে আসতে লাগে।
নিশান আর মেয়েটাকে গাড়ির দিকে আসতে দেখে নাহিয়ান খুবই সতর্কতার সাথে গাড়ি থেকে নেমে নিজের রাস্তায় চলে যায়।
নিশান মেয়েটাকে নিয়ে তার নিজস্ব রুমে আসে। আসার সময় আতিয়াকে বলে যাতে তার রুমে ডিংক্স দেয়া হয়।
আতিয়া বেগম আর কোন কথা না বলে নিশানের কথা মত ডিংক্সের বতল দিয়ে আসে নিশানের রুমে।
নিশান নিজের আর মেয়েটার জন্যে ডিংক্স ঢালে গ্লাসে। মেয়েটা ম’দ ঢকঢক করে খেয়ে নেয়। নিশানও খায় তারপর শুরু হয় নিজেদের চা’হিদা মেটানোর খেলা।
নিশান বতল হাতে নিয়েই মেয়েটার সাথে ইনটিমেট হতে থাকে।
পরনের পোষাক অর্ধ খুলে ফেলেছে দুইজনই। নিশানের পরনে শুধু প্যান্ট ছিলো সেটাও খুলে ফেলেছে এখন শুধু আন্ডারওয়ার টা আছে।
নিশান মেয়েটার উপরে শুনে তার বুকের উপর বতলের অর্ধেক ডিংক্স ঢেলে সেখানে মুখ গোজে। মেয়েটাও নিজের মত করে মজা নিতে থাকে।
নিশানের চা’হিদা পূরন হলে সে উঠে যেতে লাগে তখন মেয়েটা নিশানের হাত ধরে বলে,
“আর একটু থাকো না বেইব।”
নিশান অন্যদিকে মুখ ফিরে বিরবির করে বলে,
“শা’লি বে’শ্যা”
আবারও মেয়েটার উপরে উঠে তবে এবার আর চা’হিদা সরূপ কোনো কাজ করে না। বরং পাশে থেকে কুশন তুলে মেয়েটার মুখে চেপে ধরে। মেয়েটা হাত দিয়ে কুশন সরাতে চেয়ে সটফট করে, কিন্তু নিশান ছাড়ে না তাকে। অবশেষে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলেই যায়।
নিশান তার রুমের নিচের সিক্রেট রুমে মেয়েটাকে নিয়ে যায় তারপর বড় একটা হাউজে দুই ধরনের এসিড মিক্স করে দুনিয়ার সবচেয়ে বিপদজনক এসিড বানায় যাতে হাড্ডি পর্যন্ত গলে যায়।
লা’শটাকে ওর মধ্যে ফেলে দিয়ে স্যানেটারি দিয়ে হাত ধুতে ধুতে বলে,
“যাক একটা বে’শ্যা কমলো।”
চলবে?
(আপনারা যদি চলার মতো রেসপন্স করেন তবেই চলবে)
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৬
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৪
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৩
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৯
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক গল্পের লিংক
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১০