Golpo romantic golpo অবাধ্য হৃৎস্পন্দন

অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫৪


অবাধ্য_হৃৎস্পন্দন (৫৪)

সোফিয়া_সাফা

উর্বী আর রিদমের গায়ে হলুদ শুরু হয়েছে পুরো দমে। প্রথমেই উর্বীর গালে হলুদ লাগিয়ে দিল রিদম। খাইয়ে দিল মিষ্টি। তারপর একসাথে কেক কাটল। তাদের দেখাদেখি অনিরও ইচ্ছা করল অনিলার গালে হলুদ মাখতে। সে বেশি ভাবাভাবি না করে এক ফাঁকে পেছন থেকে গিয়ে অনিলার গালে হলুদ ছুঁইয়ে দিল। অতর্কিত আক্রমনে অনিলা হকচকিয়ে গেলেও অনিকে দেখে খানিকটা রেগে গিয়ে বলল, “দিলে তো আমার মেক-আপ নষ্ট করে। মেখেছো, মেখেছো তাই বলে এতোগুলো?”

অনি কাঁচুমাচু ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে বিড়বিড় করল, “সরি, কিন্তু সুন্দর লাগছে তোমাকে।”

অনিলা লাজুক হাসল। মনে মনে দুষ্টুমি এঁটে চোখেরই পলকে হলুদের বাটি থেকে এক খাবলা হলুদ নিয়ে অনির গালে মেখে দিল। “নাও, শোধবোধ করে দিলাম।”

অনি হাসি চেপে রাখতে পারল না। ফুল শুধু মলিন চোখে তাদের আহ্লাদ দেখল। একবার চোখ ফেরাল তার আরাধ্য পুরুষটার দিকে; কিন্তু তার সেই পুরুষ তখন এককোনায় গিয়ে ফোনে কথা বলতে ব্যস্ত। যেন এখানে থেকেও কোথাও নেই সে।

লুহানের ইচ্ছে করল মেলোর ফর্সা গালদুটোও হলুদ করে দিতে। সেও অনির স্টাইলে মেলোকে হলুদ মাখতে চাইল কিন্তু পারল না। মেলো আগেভাগেই তার ফন্দি বুঝে ফেলে দৌড় লাগাল। চেঁচিয়ে বলল, “স্টে অ্যাওয়ে লুহান! দেখ ভুলেও না। আমি ওসব মাখবো না।”

লুহান কোনো বাঁধা মানল না। মেলোর পিছু ধাওয়া করে তাকে রেলিঙের সাথে একরকম কোণঠাসা করে ফেলল। মেলো ঘন ঘন শ্বাস ফেলছে। হাত দিয়ে লুহানকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেও স্বাভাবিক ভাবেই ব্যর্থ হলো সে।

“সবসময় এমন করিস কেন এ-মেলো? জাস্ট একটু হলুদ মাখবো প্লিইজ!”
মেলো হাতপা ছুড়তে লাগল। “না, দূরে সর।”

লুহানের মুখের হাসিটুকু মিলিয়ে যেতে লাগল। তার অভিব্যক্তির এই বদলে যাওয়া মেলোর ভালো লাগল না; বুকের ওপর ঘুষি মেরে দিয়ে বলল, “একটু বেশি বেশিই বিরক্ত করছিস ইদানীং।”

তারপর লুহানের হাত ধরে সে নিজেই নিজের গালে হলুদ মেখে নিল। “যা খুশি এবার?”

লুহান আবারও হেসে উঠে মাথা নেড়ে তাকে মুক্ত করে দিল। মেলো বুকভরে শ্বাস নিয়ে স্টেজের দিকে পা বাড়াল।

কিছুক্ষণ পর,
রিদমের গাল, গলা আর হাত হলুদে একাকার করে ফেলেছে সোহম, অনি আর লুহান। রিদম নির্বিকারভাবে সব সহ্য করে নিয়েছে।
উর্বীকেও এক আঙুল পরিমাণ করে করে হলুদ লাগিয়েছে অনিলা, মেলো আর ফুল।

মেলোকে ওদের সাইডে থাকতে দেখে সোহম বলল, “তুই শুরু থেকেই ওই পাশে কী করিস? এদিকে আয়।”

মেলো মুখ ঘুরিয়ে জবাব দিল, “তোদের আশেপাশে ঘুরঘুর করলে তোদের বউয়েরা আবার আমাকে সহ্য করতে পারেনা। তাই আজকের জন্য তোদের বউদের সাইডেই চলে এসেছি। এমনি এমনি অসহ্যকর হতে কে চায় বল।”

লুহান ঠোঁট চেপে ‘হাহ’ শব্দ উচ্চারণ করল, “ভালো করেছিস। অন্তত একটু মেয়েলি স্বভাব রপ্ত করার চেষ্টা কর। ছন্নছাড়া হয়ে আর কতদিন কাটাবি?”

মেলো বিপরীতে একটা ডিজগাস্টিং লুক ফেরত দিল। যার মানে সে লুহানের কথা হিসেবেই ধরে না। লুহান যদিও মাইন্ড করল না। মেলো সবসময় এভাবেই তাকায় তার দিকে। অথচ একটু আগেই সে মেয়েটার ওপর জোর খাটিয়ে হলুদ লাগিয়ে এসেছে।

ফোনকল শেষ করে উদ্যান এসেছিল একটু দূরে সিগারেট খেতে। খাওয়া শেষে একটা চুইংগাম মুখে পুরে স্টেজের সমুখে আসতেই থেমে গেল তার পা। ফুল পেছন থেকে পা টিপে টিপে এসে তার গালে হলুদ মাখাতে যাবে, তখনই সে ঝড়ের বেগে ঘুরে গিয়ে ফুলের হাত মুচড়ে ধরল।

“আহ্! আমার হাত ভেঙে ফেলল রে।” আর্তনাদ ছাপিয়ে ফুলের মুখ ফসকে বেরিয়ে এল কথাটা। উদ্যান চুইংগাম চিবোতে চিবোতে তার হাতে থাকা হলুদের দিকে তাকাল।

“ছাড়ুন, ব্যথা পাচ্ছি।” ফুল অনুনয় করল।

উদ্যান ছেড়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফুল উদ্যানের দুগালেই হলুদ লেপ্টে দিল। বিস্ময়ে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়ল উদ্যান। সে ভাবতেও পারেনি ফুল তার সাথে এমন কিছু করবে। না মানে, সে হলুদের ব্যাপারটা ঠিকঠাক অনুমান করতে পারেনি।
ফুল ছুটে পালিয়ে যেতে চাইল কিন্তু উদ্যান তার আগেই হ্যাঁচকা টানে তাকে নিজের কাছে টেনে নিল। চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল তার। নিচু স্বরে প্রশ্ন করল, “এটা কী করলে? আমাকে এগুলো মাখলে কেন?”

ফুল ভয় পেয়ে গেলেও সাহস জুগিয়ে তীব্র গলায় বলল, “বেশ করেছি, ওখানে রিদম স্যার উর্বী আপুকে হলুদ মেখে দিলেন। অনি স্যারও মাখলেন অনিলা আপুকে। শুধু আপনিই সব ব্যাপারে উদাসীন। আপনারও যে একটা বউ আছে তা তো আপনার মনেই থাকেনা। তাই আমিই মনে করিয়ে দিলাম।”

উদ্যানের অভিব্যক্তিতে কোনো ভাবান্তর হলো না। শুধু মৃদু গলায় বলল, “বউকে হলুদ মাখতে হয়! রাইট? ওকে লেটস ডু ইট।”

কথাটা শেষ করেই উদ্যান ঝুঁকে পড়ল ফুলের মুখের ওপর। ফুলকে স্তব্ধ করে দিয়ে তার গালে গাল ঘষে মেখে দিল হলুদ। অন্য গালেও একই ভাবে মাখল। তারপর ফুলের ওড়নার আঁচলটা টেনে নিয়ে নিজের গাল দুটো মুছে নিল রুক্ষভাবে।
,
,
,
সন্ধ্যার ঠিক আগমুহূর্তে হলুদের আয়োজন শেষ হতেই লুহান তাড়া দিয়ে বলল, “একটু বিশ্রাম নিয়ে সবাই বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি হয়ে নাও গিয়ে।”

সবাই সায় জানিয়ে দরজার দিকে হাঁটা ধরল। কিন্তু বিপত্তি বাধল তখন যখন রিদম স্টেজ থেকে নামতে গিয়ে দেখল তার জুতো জোড়া গায়েব!

“আমার জুতো কোথায় হাওয়া হয়ে গেল?” সে হন্যে হয়ে এদিক-ওদিক খুঁজতে লাগল, কিন্তু কোনো হদিস মিলল না।

সোহম অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “তুই জুতো খুলে উঠেছিলি কেন?”
“আরে বোকাফুল বলল… ওয়েট আ সেকেন্ড! ও আজ আমাকেই বোকা বানিয়ে দিল রে।”

সোহম বুঝে গেল পুরো ঘটনাটা।

উর্বীকে নামতে হেল্প করছিল অনিলা আর ফুল। সোহম তাদের কাছে গিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করল, “রিদমের জুতো কোথায়?”

অনিলা আর হাসি চেপে রাখতে পারল না। ফুল ভ্রু উঁচিয়ে বলল, “শুনুন বিয়ে বাড়িতে জুতো হারিয়ে যাওয়া কমন ব্যাপার। বরপক্ষের সতর্ক থাকতে হয় বুঝলেন। আমরা অবশ্য খুঁজে পেতে সাহায্য করতেই পারি। কিন্তু তাতে অনেক খাটাখাটুনি করতে হবে তো… বুঝতেই পারছেন, পরিশ্রমের একটা মূল্য আছে!”

সোহম খুকখুক করে কেশে উঠল, “আরে পিসফুল তুমি এসব কী বলছো? এটা বিয়ে বাড়ি সেটা ঠিক আছে তবে জুতো হারিয়ে যাওয়ার তো কোনো প্রশ্নই আসেনা তাইনা? আরে আমরা তো সবাই-ই বরপক্ষ। নিজেদের মধ্যে ঝগড়া ফ্যাসাদ কে করে বলো?”

ফুল হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলল, “বিয়েটা হয়ে গেলেই আমরা বরপক্ষে ব্যাক করবো, তার আগে আমরা কনেপক্ষ বুঝলেন? উর্বী আপুর বোন আমরা।”

অনিলা ঠোঁট চেপে হেসে বলল, “হ্যাঁ পরিচিত হয়ে নিন, ও মেলো—উর্বীর বড় বোন। আমি অনিলা, উর্বীর মেজো বোন। আর এই যে দেখছেন ফুল, ও হলো সবচেয়ে ছোট আর ডাকাবুকো বোন।”

উত্তর পাওয়ার আশায় মেলোর দিকে ফ্যালফ্যাল চোখে তাকাল সোহম। কিন্তু কোনো উত্তর মিলল না। নিরুপায় হয়ে সোহম বাকিদের ডেকে আনল। রিদম পেঁচার মতো মুখ করে স্টেজেই দাঁড়িয়ে রইল; জুতো ছাড়া সে নামবে কী করে!

লুহান পরিস্থিতি সামলাতে এসে বলল, “সমস্যা নেই, রিদম। আমি তোর জন্য নতুন জুতোর ব্যবস্থা করছি দাঁড়া।”

সে পকেট থেকে ফোন বের করতেই ফুল চেঁচিয়ে উঠল, “আপনারা দেখছি কিচ্ছু জানেন না! জুতো চুরির বিধান মানতে হবে। যে করেই হোক, সেই হারানো জুতোই খুঁজে বের করতে হবে, নইলে খুব বড় বিপদ হবে।”

বাকিরা কেউ তার কথা গায়ে না মাখলেও রিদম শুকনো ঢোক গিলল। বোঝা গেল, সে বেশ কুসংস্কারাচ্ছন্ন। কাঁপা গলায় বলল, “ওরে তোদের দোহাই লাগে, যে করেই হোক আমার জুতো খুঁজে বের করে আন।”

উদ্যান পুরো বিষয়টার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারল না। সে বিরক্ত হয়ে বলল, “জুতোর কি পা আছে নাকি যে হেঁটে চলে গেছে? এখানে রাখলে যাবে কোথায়? ভালো করে মনে করে দেখ কোথায় রেখেছিস।”

সোহম বলল, “আরে জুতো চুরি হয়ে গেছে। মুভিতে দেখিসনি বরের শ্যালিকারা কীভাবে জুতো চুরি করে নিয়ে যায়। তারপর ফিরিয়ে দেওয়ার বদলে টাকা দাবি করে। এখানেও তেমনটাই হয়েছে।”

লুহান চাপড় মেরে দিল সোহমের পিঠে, “ওই রিদমের শ্যালিকারা কি আসমান থেকে টপকেছে জুতো চুরি করতে?”

সোহম সরু চোখে ফুলেদের দিকে ইশারা করে বলল, “হ্যাঁ ওইদিকে তাকিয়ে দেখ। ওরাই জুতো চুরি করেছে।”

তাদের একসাথে তাকাতে দেখে ফুল, অনিলা একটু ভাব নিয়েই উর্বীর কাঁধে হাত রেখে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়াল।
হঠাৎ সাউন্ড বক্সে একটা পরিচিত সুর বেজে উঠল। গানের তালের সাথে তাল মিলিয়ে সোহম চোখমুখ কুঁচকে ঠোঁট নাড়তে শুরু করল,
“দুলহে কি সালিও, ও হারে দুপাট্টে ওয়ালিও… জুতে দে দো, প্যাসে লে লো!”

​ফুল থমকে দাঁড়িয়ে পেছন ফিরল। সে-ও গানের কলিতে পাল্টা জবাব দিল,
“দুলহান কে দেবার, তুম দিখলাও না ইউ তেবার… প্যাসে দে দো, জুতে লে লো!”

​সবাই হো হো করে হেসে আবারও স্টেজে এসে বসল। উদ্যানের যাওয়ার একেবারেই ইচ্ছে ছিল না, কিন্তু বাকিদের জোরাজুরিতে সে-ও হার মানল। ফুল, অনিলা আর মেলো ব্যুহ রচনা করে তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।

​ফুল চওড়া হাসি নিয়ে হাত বাড়িয়ে দিল, “আজি নোট গিনো জি!”
সোহম কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই উদ্যান তাকে থামিয়ে দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল, “জুতে লাও!”

ফুল ঠোঁট বাঁকিয়ে গানের সুরেই বলল, “জিদ ছোড়ো জি।”
উদ্যান অবিচল, “জুতে লাও!”
“ফ্রড হ্যায় ক্যায়া হাম?” ফুলের চোখে দুষ্টুমি।
“তুম হি জানো!” উদ্যানের সংক্ষিপ্ত উত্তর।
“আকড়ু হো তুম!”
“জো ভি মানো!”
সবাই তাল মেলালো, “জো ভি মানো, জো ভি মানো।”

ফুল টেবিলের ওপর থেকে খাবারের প্লেটগুলো সরিয়ে সেখানে আয়েশ করে বসল। আবারও উদ্যানের দিকে চ্যালেঞ্জিং ভঙ্গিতে হাত বাড়িয়ে দিল সে,
“আজি বাত বাড়েগি!”
“বাড় জানে দো!” উদ্যানও এবার কিছুটা খেলায় মজেছে।
“মাং চাড়েগি!”
“চাড় জানে দো!”
“অড়ো না অ্যায়সে!”
“পেহলে জুতে!”
“পেহলে প্যাসে!”
“পেহলে জুতে!”
​সবাই একসাথে চেঁচিয়ে উঠল, “পেহলে জুতে, পেহলে জুতে!”

এবার ফুল উঠে দাঁড়িয়ে উদ্যানের হাত টেনে ধরল। গানের শেষটুকু সে গাইল সরাসরি উদ্যানের চোখের দিকে তাকিয়ে,
“জুতে লিয়ে হ্যায় নেহি চুরায়া কোয়ি জেবার… দুলহান কে দেবার তুম দিখলাও না ইউ তেবার! প্যাসে দে দো, জুতে লে লো!”

ফুলের মুখের অভিব্যক্তি দেখে উদ্যান এক মুহূর্তের জন্য যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। ঠিক তখনই ফুল তার দিকে তাকিয়ে এমন এক জাদুকরী হাসি দিল যে, উদ্যানের ভেতরটা কি একটু কেঁপে উঠল? সে কি থমকে গেল সেই হাসির ঝিলিক দেখে?

ফুল সরে যেতেই এবার মেলো সামনে এল। পেছন থেকে অনিলা ট্রে ভর্তি বিভিন্ন খাবার এগিয়ে দিল। মেলো এক গ্লাস লেবুর শরবত সোহমের সামনে ধরল, “কুছ ঠাণ্ডা পি লো!”

সোহম নিতে গেলেও লুহান তাকে কনুই দিয়ে সরিয়ে দিল, “মুড নেহি হ্যায়!”

​এক বাটি দই এগিয়ে দিল, “দাহি বাড়ে লো!”
লুহান আবারও মাথা নাড়ল, “মুড নেহি হ্যায়!”
“কুলফি খা লো!”
“বহুত খা চুকে!”

মেলো কিছুটা বিরক্ত হয়ে একটা পান নিয়ে প্রায় জোর করেই লুহানের মুখে পুরে দিতে চাইল, “পান খা লো!”

লুহান কোনোমতে মুখ সরিয়ে নিল, “বহুত খা চুকে!”
​পুরো দল সুর মেলাল, “বহুত খা চুকে, বহুত খা চুকে!”

ট্রের ওপর সাজানো রসমালাই দেখে অনি এবার অনিলার হাতের ওপর ঝুঁকে পড়ল, “আজি রাসমালাই?”
অনিলা মিষ্টি হেসে ট্রে-টা এগিয়ে দিল, “আপকে লিয়ে!”
“ইতনি মিঠাই?”
“আপকে লিয়ে!”
​অনি নিজেকে সামলে নিয়ে সোজা হয়ে বসে বলল, “পেহলে জুতে!”
অনিলা চোখ রাঙিয়ে বলল, “খায়েঙ্গে ক্যায়া?” (জুতো খাবেন নাকি?)
অনি হাসিমুখে মাথা নেড়ে বলল, “আপকি মার্জি!”
অনিলাও আর গাম্ভীর্য ধরে রাখতে পারল না, হেসে ফেলে বলল, “নাজি তওবা!”
​পেছন থেকে বাকিরাও সায় দিল, “নাজি তওবা, নাজি তওবা!”

সোহম মাঝখান থেকে উঠে এসে তাদের চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে গানের শেষটুকু গাইল,
“কিসি বেতুকে শায়ের কি বেসুরি কাওয়ালিও… দুলহে কি সালিও, ও হারে দুপাট্টে ওয়ালিও! জুতে দে দো, প্যাসে লে লো!”

গান শেষ হতেই সবাই একযোগে হেসে উঠল। রিদম লক্ষ্য করল তার পাশে বসা উর্বীও খিলখিল করে হাসছে। তাকে হাসতে দেখে সে নিজেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
আর উদ্যান? সে মুখে যতই অনিহা দেখাক না কেন, এই আনন্দের রেশ তাকেও ছুঁয়ে গেছে। তার নির্লিপ্ত চোখের কোণেও তখন এক চিলতে ভালো লাগার আভা।

রিদম বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে জানতে চাইল, “তো বলো কতো টাকা চাই তোমাদের? বিশেষ করে মেলো, তোর কতো টাকা চাই হুম?”

মেলো মুখ ভেঙিয়ে অন্যদিকে তাকাল। ফুল স্টেজের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একজন মেইডকে ইশারা করতেই সেই মেইড রিদমের জুতো নিয়ে ফিরে এলো। জুতো পায়ে গলিয়ে বুকভরে শ্বাস নিল রিদম।

ফুল একগাল হেসে বলল, “আমাদের টাকা চাইনা। আমরা শুধু মুহূর্তগুলো ক্যামেরা বন্দী করতে চেয়েছিলাম। সেটা করতে পেরেছি। এবার সবাই যেতে পারেন। হাতে বেশি সময় নেই।”

রিদম হয়তো তাদের টাকা দিতে চাইল কিন্তু ওদের স্বামীদের সামনে টাকা দেওয়া ঠিক হবেনা ভেবে চাওয়াটা দমিয়ে নিল। শুধু মেলোর হাতে লাখ খানেক টাকা গছিয়ে দিয়ে বলল, “মাঝেমাঝে এভাবেই একটু আকটু এনজয় করিস লাইফটাকে। লাইফ কিন্তু একটাই, সারাক্ষণ তেহুর মতো কাজ কাজ করে ক্যাচক্যাচ করিস না।”

মেলো কনুই দিয়ে রিদমের বুকে খোঁচা মেরে দিল। তারপর তার হাত থেকে টাকাগুলো নিয়ে নিজের পকেটে ঢুকিয়ে নিল। “টাকা দিলে আমি আবার ‘না’ বলিনা।”

অনিলা আর ফুল তাদের খুনসুটি দেখে আনমনেই হেসে যাচ্ছিল। এর মধ্যেই অনি এগিয়ে এসে অনিলার হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে দিল। “নাও, তোমার পাওনা।”

অনিলাও খুশি খুশি নিয়ে নিল। “যদিও টাকার জন্য করিনি তবুও ফিরিয়ে দিলে কষ্ট পাবে বলে নিয়ে নিলাম।”

“হ্যাঁ, অনেক কষ্ট পেতাম। ভাগ্যিস তুমি নিয়ে উদ্ধার করলে।” অনির টিটকারিতে অনিলা হাসল শুধু।

তাদের দেখাদেখি উদ্যানও অলস ভঙ্গিতে ফুলের সামনে এসে দাঁড়াল। ততক্ষণে সবাই স্টেজ থেকে নেমে গেছে। ফুল যেতে নিল উর্বীর কাছে। তখনই উদ্যান তার হাত টেনে ধরল। হাতে থাকা টাকাগুলো ফুলের মাথার চারদিকে একবার ঘুরিয়ে এনে তার সামনে ধরল।

“নাও, তোমার পাওনা। বুঝিয়ে না দিলে তো আবার বলবে, বউ আছে সেটা ভুলেই গেছি।”
ফুল লজ্জায় মাথা নিচু করে টাকাগুলো নিয়ে উদ্যানের বুকপকেটে গুঁজে দিল। উদ্যান ভ্রু কুচকে তাকাল, “নেবে না?”

ফুল মুখ তুলে তাকাল। মিহি কণ্ঠে বলল, “দিতে চাইলে নিজেকে দিয়ে দিন তেহজিব। এই কাগজের নোটে আমার ঠিক পোষাবে না। আমি শুধু আপনাকে চাই।”

উদ্যানের চাউনি নিগুঢ় হলো। “আমি যে এমনি এমনি কাউকে কিছু দিইনা পেটাল। নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে আমাকে পেতে চেয়ো না, আমাকে পেতে চাইলে সর্বপ্রথম নিজেকে আমার হাতে তুলে দিতে হবে।”

ফুলের ঘোর লেগে গেল। শরীরটাকে যতটা সম্ভব তুলে উদ্যানের গলা জড়িয়ে ধরল। “ধন্যবাদ, আপনাকে পাওয়ার উপায় বলে দেওয়ার জন্য।”
“তো কবে নিজেকে আমার হাতে তুলে দিচ্ছো, পার্ল?”
“প্রস্তুতি নিচ্ছি। আপনার হাতে আমার মৃ’ত্যুও হতে পারে। আমি আপনাকে কেবল তখনই পাবো যখন আমি আপনার হাতে নিজেকে অক্ষত রাখতে পারব।”
“এতো ভয় পাও আমাকে?”
“হ্যাঁ খুব ভয় পাই। পরিশেষে আপনাকে না পাওয়ার ভয় আমাকে শান্তি দেয়না একদণ্ডও।”
“তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভয় কি এটাই পেটাল?”

​ফুলের ঠোঁট কাঁপল, কিন্তু কোনো উত্তর বেরোল না। তবুও উদ্যান আজ পড়ে ফেলল তার চোখের ভাষা, বুঝে নিল ফুলের অব্যক্ত কথাগুলো। আলগা হয়ে এলো তার হাতের বাঁধন। ছাড়া পেয়ে ফুল একছুটে স্টেজ থেকে নেমে চোখের আড়ালে চলে গেল।
,
,
,
রাত বারোটা। রিদম আর উর্বীকে বিয়ের সাজে আসরে নিয়ে আসা হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি আর আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে তাদের বিয়েটা সম্পন্ন হতে হতে রাত দুটো বেজে গেল।
ফুল সুযোগ পেলেই উদ্যানের আশেপাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে শুধুমাত্র ছবি তোলার জন্য। এখনো তেমনি এসে উদ্যানের পাশে বসল সে। উদ্যান ফোন চাপছিল। ফুল তার বাহুতে টোকা দিয়ে বলে উঠল, “বউ বুঝি এতোটাই বিশ্রী দেখতে যে একবারও তাকানো যাচ্ছে না? ফোনটা বুঝি বউয়ের চেয়েও বেশি সুন্দর দেখতে? যে তার থেকে চোখ ফেরানো যাচ্ছে না?”

উদ্যান ফোন থেকে নজর না সরিয়েই গম্ভীর গলায় বলল, “তেমন কিছুনা পেটাল, কাল অনেক অতিথি আসবে তো তাই একটু রিচেক করছি সবকিছু।”
“এক মিনিটের জন্য ফোনটা দেওয়া যাবে আমাকে?”

উদ্যান জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই ফুল এক ভুবন ভোলানো হাসি দিল। উদ্যান যেন সেই হাসির ঝিলিক সইতে না পেরে দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল। ফুল আবদারের সুরে বলল, “কয়েকটা সেলফি তুলতাম আপনার সাথে। ফটোগ্রাফারকে দিয়ে অনেকগুলো ছবি তুলিয়েছি কিন্তু প্রত্যেকটাতে আপনি এদিক ওদিক তাকিয়ে ছিলেন।”

উদ্যান এগিয়ে দিল ফোনটা ফুলের দিকে। ফোনটা পেয়ে খুব খুশি হলো ফুল। প্রথমে সে নিজের কয়েকটা একক সেলফি তুলল, তারপর হঠাতই উদ্যানের বাহুর ওপর মাথা হেলিয়ে দিল। উদ্যান চমকে তার দিকে তাকাতেই ফুল হাত উঁচিয়ে ক্লিক করল; তাদের প্রথম কাপল সেলফি এভাবেই লেন্সবন্দী হলো।
উদ্যানের বাহু আঁকড়ে ধরে সে আরও বেশ কিছু সেলফি তুলল। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে পেছন থেকে উদ্যানের কাঁধে থুতনি রেখে আবার পোজ দিল। উদ্যান পাথরের মতো স্থির হয়ে তার এই চঞ্চলতা পর্যবেক্ষণ করছিল। মেয়েটা কত দ্রুত যে অভিব্যক্তির বদল ঘটাচ্ছে আর ছবি তুলছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই।

ঠিক তখনই লুহান ডাক দিল উদ্যানকে। ফুল পাশে বসে ছবিগুলো দেখতে শুরু করল আর উদ্যান উঠে লুহানের দিকে এগিয়ে গেল।
“কী হয়েছে?”

সোহম চাপা গলায় বলল, “রিদম নাকি মিস্টার মরগ্যান আর চার্লসকেও ইনভাইট করেছে। তুই জানিস এই ব্যাপারে?”

উদ্যান ভ্রুক্ষেপহীন গলায় বলল, “হুম, অ্যাকচুয়ালি আমিই ওদেরকে ইনভাইট করতে বলেছি।”

লুহান অবাক হলো, “বাট হোয়াই? ওরা অফিসিয়ালি আমাদের শত্রুতে পরিনত হয়েছে তেহ।”

উদ্যান কাঁধ ঝাকিয়ে বলল, “সেই জন্যই আরও পারসোনালি ইনভাইট করা হয়েছে। ওরাও এসে দেখুক আমরা কতোটা সফলভাবে এবারের প্রজেক্টটা শেষ করতে পেরেছি। ওরা আমাদের কিছুই করতে পারেনি।”

তাদের কথার মাঝেই অনির কণ্ঠ ভেসে এল।
“বিয়ে তো কমপ্লিট হয়েই গেছে। চল এবার একটা ফ্যামিলি… আই মিন গ্রুপ ফটো তুলে ফেলি।”

সোহম সম্মতি জানাল, “হুম তেহ চল।”

উদ্যানের মনে পড়ে গেল সে ফুলের কাছেই ফোনটা রেখে এসেছে, “তোরা যা, আমি পেটালকে নিয়ে আসছি।”

লুহান বলল, “ঠিক আছে।”

উদ্যান ফিরে এসে দেখল ফুল সেখানে নেই। মুহূর্তেই চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল তার। টেরেসের আনাচে-কানাচে ফুলকে হন্যে হয়ে খুঁজল সে, কোথায় না পেয়ে দ্রুত পায়ে নেমে এল নিচে। ফুলের রুমেও দেখা মিলল না ফুলের। সে খুঁজতে খুঁজতে গার্ডেনে এসে দেখল ফুল সেখানে বসে আছে। সে তেড়ে গিয়ে ফুলের হাত থেকে ফোনটা ছিনিয়ে নিল।

ফুল ভড়কালো না। নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলল, “এমন ভাব দেখালেন যেন আমি চাইলেই আপনার ফোন দিয়ে কাউকে কল দিতে পারতাম।”

উদ্যান তাচ্ছিল্যের হাসল, “তার মানে তুমি আসলেই কল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলে?”

ফুল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আকাশের দিকে তাকাল, “মাকে দিতে চেয়েছিলাম। এবার তার ফোন নম্বর মুখস্থ করে এসেছিলাম কিনা। কিন্তু দিতে পারিনি আপনার ফিংগারপ্রিন্ট চাচ্ছিল বারবার।”

উদ্যান ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে ফুলের হাত চেপে ধরল, “ভুলে যেতে বলেছি না সবাইকে?”

ফুলের কণ্ঠস্বর বুজে এল, “চাইলেই যদি ভুলে যাওয়া যেতো তাহলে আর মানুষের আবেগ, ভালোবাসার কোনো মূল্য থাকতো না। উল্টো ইদানীং কেন যেন একটু বেশি বেশিই মনে পড়ে যায় মায়ের কথা। মনে হয় সে আমাকে খুব করে ডাকছে। কেন এমন মনে হয় বুঝে উঠতে পারিনা। একটু দিন না কথা বলতে।”

কথাগুলো শুনে উদ্যান শূন্য চোখে তাকাল তার দিকে। বলল, “অনেক সময় খুব করে চাইলেও কথা বলা যায়না। ছুঁয়ে দেখা যায়না। তোমার ক্ষেত্রেও তাই, নিজেকে বোঝাও। ইচ্ছাটাকে দমিয়ে রাখো।”
“কিন্তু আপনি চাইলেই তো কথা বলতে পারি আমি তাইনা? কেন এমন করছেন? দিন না প্লিজ।”

উদ্যান দেখল ফুলের চোখ টলমল করছে। ফুল ধীরপায়ে এগিয়ে গিয়ে উদ্যানের সামনাসামনি দাঁড়াল। জরানো কণ্ঠে বিড়বিড় করল, “দিন না তেহজিব। একটু কথা বলতে দিন না। খুব মনে পড়ছে তাকে।”

উদ্যান নির্লিপ্ত চোখে চেয়ে রইল ফুলের চোখের দিকে। ফুল কাঁদতে কাঁদতে তার বুকের মাঝ বরাবর নিজের মাথা ঠুকে দিল। উদ্যান অন্যমনস্ক হয়ে পকেটের দিকে হাত এগিয়ে নিয়ে গেল কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে ফুলের মাথায় হাত রাখল। শান্ত গলায় বলল, “চলো ওখানে সবাই মিলে ছবি তুলবো।”

ফুল বুঝতে পারল উদ্যান তার এই কথাটা রাখবে না। খারাপ লাগল তার। উদ্যান দুপা পিছিয়ে গিয়ে ফুলের বাহু আঁকড়ে ধরল। “চলো, ওরা অপেক্ষা করছে।”

ফুলের হাত ধরে একপ্রকার টেনে নিয়ে যেতে লাগল উদ্যান। স্টেজের সামনে দাঁড়িয়ে সবাই একসাথে গ্রুপ ফটো তুলে নিল তারা।
আজ রাতে ফুল, উর্বী আর অনিলা এক রুমেই শুয়ে পড়ল। নিয়ম অনুযায়ী, আজ ‘কালরাত্রি’ তাই রিদম আর উর্বীর একে অপরের মুখদর্শন করা বারণ।

পরদিন, দুপুর একটা!
উদ্যান বালিশে মুখ গুজে ঘুমে তলিয়ে ছিল। তখনই হঠাৎ তার কানে এক অদ্ভুত শব্দতরঙ্গ ভেসে এল। মুহূর্তেই সজাগ হয়ে গেল তার মস্তিষ্ক। কোনো কিছু একটা ধুকপুক ধুকপুক করছে। যা-ই হোক না কেন জিনিসটা খুব কাছাকাছি আছে তার। তরঙ্গটা উদ্যানের খুব পরিচিত বলে মনে হলো।
ফট করে চোখ মেলে তাকিয়ে আলগোছে বালিশের পাশ থেকে ফোনটা টেনে নিল সে। হ্যাঁ, সে ঠিকই অনুমান করেছে। শব্দটা মূলত ফোন থেকেই আসছে।

ফোনের স্ক্রিনে অনির নাম দেখে সব চিন্তাভাবনা সরিয়ে রেখে উদ্যান কলটা রিসিভ করে কানের কাছে ধরল। ওপাশ থেকে ভেসে এল, “লাঞ্চ টাইম হয়ে গেছে। ফ্রেশ হয়ে নিচে আয়।”

উদ্যান কলটা কেটে দিয়ে ফোনের দিকে তাকাতেই ভূত দেখার মতো চমকে গেল। সে যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না এটা তার ফোন। কারণ ফোনের ওয়ালপেপারে তার আর ফুলের কাপল ছবি। সে চোখ বন্ধ করে বিড়বিড়াল, “আমি বোধহয় ঘুমিয়ে আছি এখনো। ধুর! এতো জঘন্য স্বপ্ন কেন দেখছি?”

তখনই তার মনে পড়ল, ফোনটা সে ফুলের হাতে দিয়েছিল গতকাল। ফুলের কাছ থেকে আনার পর সে আর ফোনের দিকে তাকায়নি। হয়তো মেয়েটাই মাকে কল দিতে ব্যর্থ হয়ে এই আকাম করেছে বসে বসে। সে চোখ মেলে আবারও দৃষ্টি নিক্ষেপ করল ফোনে। ভেসে উঠল সেই ছবিটা; ফুল তার বাহু আঁকড়ে ধরে মিষ্টি হাসছে আর উদ্যান অপ্রস্তুত হয়ে ফুলের ধরে রাখা হাতের দিকে চেয়ে আছে।

উদ্যান নিজেও বুঝতে পারল না সে ঠিক কতোক্ষণ তাকিয়ে ছিল ছবিটার দিকে। তাকিয়ে থাকতে থাকতে মনে পড়ল সেই অদ্ভুত রিংটোন টার কথা। উদ্যান তৎক্ষনাৎ সেটিংসে ঢুকে রিংটোন চেক করে দেখল একটা রেকর্ড করা সাউন্ড রিংটোন হিসেবে সেট করে রাখা। সাউন্ডটার নাম হচ্ছে: “Heartbeat of Flower”

ফাইলটায় ট্যাপ করে একটা শুকনো ঢোক গিলল উদ্যান। ভেসে এলো আবারও সেই ধুকপুক ধুকপুক শব্দটা। এবার উদ্যান বুঝে গেল এটা কোনো র‍্যান্ডম সাউন্ড নয় বরং এটা ফুলের হৃৎস্পন্দনের শব্দ।

উদ্যান তাজ্জব বনে গেল। মেয়েটা কি পাগল নাকি? এমনটা কে করে? উদ্যান পুরো সাউন্ড টা শুনতে পারল না। চেঞ্জ করে ফোনের ডিফল্ট রিংটোন টাই আবারও সেট করল। তারপর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ওয়ালপেপার টাও ডিফল্ট করল।
,
,
,
রাত গভীর হতেই উর্বী আর রিদমের বৌভাতের আয়োজনের ধুম পড়ে। তাদের দুজনের হাতে উপহার তুলে দিয়ে অতিথিরা যার যার মতো খাওয়া দাওয়ায় মনোযোগী হয়ে ওঠে।

“মিস্টার চার্লস আর মরগ্যান তো এলোই না।” অনির কথার পৃষ্ঠে রিদম বলল, “আমার মনে হয় ওরা ভয় পেয়েই আসেনি। সেইবার তেহ যেভাবে চার্লসের হাত-পা ভেঙে দিয়েছিল। তারপর কোন সাহসে আসতো বল।”

লুহান বলল, “হুম, দাঁতগুলোও তো ভেঙে দিয়েছিল। যখন দেখল কোনোভাবেই আমাদের থেকে বদলা নিতে পারছে না তখন অফিসিয়ালি আমাদেরকে শত্রু হিসেবে এনাউন্সমেন্ট করেছে।”

রিদম ছোট্ট একটা শ্বাস ফেলে স্টেজের দিকে তাকাল। সেখানে উর্বীর পাশে বসে বসে গল্প করছে অনিলা আর ফুল।

বৌভাত শেষ হয়ে গেল নির্বিঘ্নেই। রাত তিনটা নাগাদ রিদম রুমে ঢুকে দেখল উর্বী উদাস চোখে জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। রিদম গিয়ে তার পাশে দাঁড়াল।
“কী করছো, উর্বশী?”

উর্বী কিছু বলল না। যদিও রিদমের ‘তুমি’ সম্বোধন শুনে সে একটু থমকে গিয়েছিল। তার নীরবতা দেখেই রিদম আঁচ করতে পারল, মেয়েটা এখনো মনে মনে তার ওপর বেশ চটে আছে। সে আবারও মুখ খুলল,
“কথা বলবে না আমার সাথে?”

উর্বী ‘না’ বোধক মাথা নাড়ল। রিদম হালকা হেসে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল, “ঠিক আছে, যাও এই ভারী পোশাক চেঞ্জ করে আরামদায়ক কিছু পরে এসো। তোমার প্রয়োজনীয় সবকিছু এই রুমে শিফট করা হয়েছে।”

উর্বী উলটো ঘুরে ওয়াশরুমে চলে গেল। সে জামাকাপড় পালটে আসার পর রিদমও চলে গেল ফ্রেশ হতে। প্রায় মিনিট দশেক পর বের হয়ে দেখল উর্বী খাটের একপাশে গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে। রিদম বুঝতে পারল উর্বী আসলে ঘুমানোর নাটক করছে। তবুও সে ধরা না দিয়ে বিড়বিড় করল, “ভেবেছিলাম তোমার সাথে কিছুক্ষণ গল্প করব কিন্তু তুমি তো ঘুমিয়ে গেলে।।”

রিদম লাইট অফ করে দিয়ে সাবধানে খাটের অন্যপাশে গা এলিয়ে দিল। কখন যে সে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল, টেরই পেল না।

চলবে,,,

শব্দসংখ্যা: ৩৪০০+

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply