দিশেহারা (৭১)
সানা_শেখ
(শুরুতেই সবাইকে ঈদ মোবারক)
অনিমা চৌধুরীর কান্না শুনে ভীষন বিরক্ত হলো শ্রবণ। তার কান্না শ্রবণের কানে কাঁটার মতো বিধছে। রেগে তাকাল অনিমা চৌধুরীর দিকে। বাজখাঁই গলায় বলল,
“এই ডাইনির বাচ্চা, চুপ কর। তোর আর তোর বোনের জন্য সব হয়েছে। তোদের দুজনের জন্য আমি আমার আম্মুকে হারিয়েছি, আমার বোনকে হারিয়েছি, আমার আব্বু আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। সব তোদের দুজনের জন্য হয়েছে। তোদের জন্য আমার সোহা-ও আমার কাছে নেই এখন।”
শ্রবণের ধমক খেয়ে অনিমা চৌধুরীর কান্না বন্ধ হয়ে গেল অটোমেটিক। শামীম রেজা চৌধুরী ভয় পেয়ে গেছেন এত জোরে ধমক শুনে।
বাকিরা হতভম্ভ হয়ে তাকিয়ে আছে শ্রবণের দিকে। তনিমা চৌধুরী নিজেকে সামলে মিনমিন করে বললেন,
“আমাদের দুই বোনের জন্য সব হয়েছে ঠিক আছে, কিন্তু আমাদের জন্য সোহা কীভাবে কিডন্যাপ হলো?”
শ্রবণ আগুন চোখে তাকাল তনিমা চৌধুরীর দিকে। তার তাকানো দেখেই আরো মিইয়ে গেলেন তনিমা চৌধুরী। শ্রবণ মুখের ভাত গিয়ে আঙুল তুলে বলল,
“তোদের জন্যই সব হয়েছে। তোদের জন্যই আমি বাড়িতে না থেকে আলাদা থাকি, তোরা না থাকলে আমি বাড়িতেই থাকতাম। সোহাকে নিয়ে রাতে বেরও হতাম না, ও কিডন্যাপও হতো না। নাটের গুরু তুই। তুই আমাদের জীবনে এসে সব এলোমেলো করে দিয়েছিস। সোহাকে ভালোয় ভালোয় ফিরিয়ে নিয়ে আসি, তারপর তোকে লাথি মে’রে এই বাড়ি থেকে বিদায় করব।”
শ্রবণের কথা শুনে হাজব্যান্ডের দিকে তাকালেন তনিমা চৌধুরী। শামীম রেজা চৌধুরী টু শব্দ অবধি করলেন না, চুপচাপ ছেলেকে খাওয়াতে থাকলেন। তনিমা চৌধুরীর ভীষণ রাগ হলো হাজব্যান্ডের উপর। তাকে এত বড়ো কথা বলল অথচ তিনি ছেলেকে কিচ্ছু বললেন না!
অনিমা চৌধুরী পুনরায় কাঁদতে শুরু করেছেন। শ্রবণ চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
“চুপ করবি নাকি তোর মুখ সেলাই করে দিবো?”
অনিমা চৌধুরী শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে কাঁদতে লাগলেন। নিজে পুরুষ মানুষ হয়ে এতক্ষণ বউয়ের জন্য ভেউ ভেউ করে কাঁদল, আর উনি কী নারী হয়েও মেয়ের জন্য কাঁদতে পারবেন না? শ্রবণকে পছন্দ করেন না, ভালোবাসেন না, ঠিক আছে। কিন্তু মেয়েকে তো ভালোবাসেন। শ্রবণ আবার বলল,
“মেয়ের জন্য খুব দরদ উথলে পড়ছে তাই না? তোর মেয়ে তোর কাছ থেকে দূরে থাকে কতগুলো মাস ধরে? একবারও গিয়েছিস মেয়েকে দেখতে?
আগের কথা বাদই দিলাম। তোর মেয়ে প্রেগন্যান্ট, ডেলিভারির সময় হয়ে আসছে। এর মধ্যে একদিনও মেয়ের কথা মনে করেছিস? একদিনও গিয়েছিস মেয়েকে দেখতে?”
“তুমিই তো যেতে নিষেধ করেছো, গেলে দেখতে দিতে নাকি?”
“আমি নিষেধ করেছি তো কী হয়েছে? তোর মেয়ে, আমি নিষেধ করেছি সেজন্য তুই তোর মেয়েকে দেখতে যাবি না? তুই একদিন যেতি, আমি দেখতে দেই নাকি ফ্ল্যাটে ঢুকতে দেই সেটা আমার ব্যাপার। তুই তো ভাবিসনি কোনোদিন মেয়ের কথা, মেয়েকে মনেই করিস না, স্বার্থপরের মতো শুধু নিজের কথা ভাবিস। তোদের দুই ডাইনির কঠিন শাস্তি হবে দেখেনিস।”
“আব্বু, কথা না বলে খাওয়া শেষ করো দ্রুত।”
শ্রবণ ঘাড় ঘুরিয়ে হাঁ করল।
খাওয়া শেষে পানি খেতেই শ্রবণের ফোন বেজে উঠল। তাড়াহুড়ো করে হাত থেকে গ্লাস রেখে ফোনের স্ক্রিনে তাকাল। অপরিচিত নাম্বার। সময় নষ্ট না করে দ্রুত রিসিভ করে কানে ধরল ফোন। শ্রবণ কিছু বলার আগেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো কান্না জড়ানো গলার স্বর।
“বাবুর আব্বু।”
সোহার গলার স্বর শুনতেই শ্রবণ লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল। উত্তেজিত হয়ে বলল,
“হ্যাঁ হ্যাঁ; জান, আমি। তুই কোথায়, জান? কেমন আছিস? তুই ঠিক আছিস, জান?”
“ভালো নেই আমি। এটা কোন জায়গা আমি জানি না।”
“এটা কার ফোন? কীভাবে কল করলি?”
“ওই লোকগুলোর মধ্যে থেকেই কারো একজনের। ভুল করে এখানে ফেলে রেখে চলে গেছে। আমাকে নিয়ে যাও এখান থেকে।”
“জান, তুই বল তুই কোথায় আছিস, আমি এক্ষণই আসছি।”
“শান্ত হও তুমি। আমি জানি না এটা কোন জায়গা। আমার এখানে থাকতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। লোকগুলো পানি ছাড়া কিচ্ছু খেতে দেয়নি আমাকে, আমার ভীষণ খিদে পেয়েছে। বাবু পেটের ভেতর কেমন করছে। আমি ম’রে যাব আর একদিন এখানে থাকলে।”
দিশেহারা শ্রবণ আরো দিশেহারা হয়ে উঠল সোহার কথা শুনে। কী বলবে, কী করবে কিচ্ছু মাথায় আসছে না এখন। লোকগুলোকে হাতের কাছে পেলে জানেই মে’রে ফেলবে।
সোহা কাঁদতে কাঁদতে আবার বলল,
“ও বাবুর আব্বু, এখান থেকে নিয়ে যাও আমাকে।”
“তুই কোথায় আছিস না জানলে কীভাবে আসব, জান? জান, ফোনের লোকেশন শেয়ার করতে পারবি?”
“হ্যাঁ হ্যাঁ পারব।”
“তাহলে দ্রুত লোকেশন শেয়ার কর, আমি আসছি।”
“করছি, দাঁড়াও।”
“দ্রুত কর।”
বলতে বলতে শ্রবণ বাইরের দিকে ছুটল। তার পেছন পেছন স্পর্শ আর সিয়াম-ও ছুটল। শামীম রেজা চৌধুরী বাবার দিকে তাকিয়ে ব্যস্ত কন্ঠে বললেন,
“তোমরা বাড়ির ভেতর থেকে বের হবে না, আমি আসছি।”
শ্রবণ নিজের গাড়িতে উঠে বসল দ্রুত। পাশের সিটে বসল স্পর্শ, পেছনে বসল সিয়াম। শামীম রেজা চৌধুরী বাড়ির গাড়িতে উঠে বসলেন দ্রুত। শ্রবণের গাড়ির পেছন পেছন বেরিয়ে তিনি ছুটলেন থানার উদ্দেশ্যে। পুলিশ ফোর্স নিয়ে তারপর যাবেন ওই জায়গায়। স্পর্শের ফোনের লোকেশন তার ফোনে শেয়ার করা আছে আগে থেকেই।
সোহা লোকেশন শেয়ার করার পর দ্রুত শ্রবণের নাম্বারটা ডিলিট করল ফোন থেকে। মুখ তুলে তাকাতেই দেখল সামনে একজন দাঁড়িয়ে আছে। লোকটাকে দেখেই সোহার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল।
হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেল, ভয়ে পিছিয়ে গেল অনেকখানি। লোকটা ঝুঁকে নিজের ফোনটা হাতে নিল। স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখল লক করাই রয়েছে। তাকাল সোহার দিকে। সোহা সঙ্গে সঙ্গেই মুখ নামিয়ে নিল। লোকটাকে দেখেই পাওয়ার বাটনে চাপ দিয়েছিল। লোকটা দুবার সোহার সামনেই নিজের ফোন আনলক করেছিল, সোহা দুবারই দেখে নিয়েছিল ফোনের প্যাটার্ন লক।
লোকটা ফোন হাতে রুম থেকে বেরিয়ে এলো। ম’দ গিলেছিল, খুব বেশি নেশাও হয়নি, আবার পুরোপুরি হুশেও নেই। পাশের রুমে এলো বাকিদের কাছে। ধপ করে বসে পড়ল ফ্লোরে বিছিয়ে রাখা চাদরের উপর। একজন লিডারের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ওই মাইয়া তো আমাগো সকলের মুখ দেইখা ফালাইছে। ওইডারে ছাইড়া দিলে তো পুলিশের কাছে কইয়া দিবো সব। তারপর পুলিশ আমাগো মুখের ছবি আঁকাইয়া দইরা ফালাইব।”
“ক্যারা ছাড়ব ওরে? টাকাডি পাই একবার হাতে, তারপর গলাডা কাইট্টা খাল্লাস কইরা দিমু।”
অন্য একজন বলল,
“বস, আমার কেমন ভয় লাগতাছে। জীবনের প্রথম এই কাজে জড়াইছি নিজেরে, ধরা-টরা পড়মু না তো? আবার খু’ন-টুনও করতে চাইতাছেন!”
“আরেহ কীসের ডর? আমাগো প্ল্যান সাকসেসফুল হইলে কোটি পতি হইয়া জাইমু, বাকি জীবনে আর কোনো কাম করন লাগব না, কিচ্ছু করন লাগব না, খালি আয়েশ আর আয়েশ।”
গন্তব্যে পৌঁছাতে শ্রবণের সময় লাগল দেড় ঘণ্টা। রাস্তায় জ্যাম-জট নেই, নয়তো আরো বেশি সময় লাগত। যেই স্পিডে গাড়ি চালিয়েছে, দুই ভাই ভয়ে শুধু আল্লাহকে ডাকছিল, নাজানি কখন অ্যাকসিডেন্ট হয়ে যায়।
অনেক পুরোনো একটা বাড়ি, চারদিকে আগাছা দিয়ে ভরতি, বিশাল বড়ো বড়ো গাছ। সন্ধ্যা রাতেই কেমন অন্ধকারে ডুবে আছে জায়গাটা। আশপাশে অনেকটা এরিয়া জুড়ে কোনো বাড়িঘর নেই।
গাড়ি থেকে নেমেই শ্রবণ গেইটের দিকে অগ্রসর হলো। স্পর্শ পেছন থেকে টেনে ধরল তার হাত। চাপা স্বরে বলল,
“এভাবে ভেতরে যাওয়া যাবে না, ভাইয়া। এভাবে গেলে সোহাকে তো উদ্ধার করতে পারবই না, উল্টো আমরাই মা’রা পড়ব লোকগুলোর হাতে। নিশ্চই তাদের কাছে অস্ত্র আছে, আর ভেতরে কতজন লোক আছে এটাও তো আমরা জানি না। সাবধানে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে যেন ধরা না পড়ি।”
ছোটো ভাইয়ের কথা যুক্তিসঙ্গত মনে হলো শ্রবণের কাছে। এভাবে ভেতরে প্রবেশ করা ঠিক হবে না।
“ভাইয়া, আব্বু তো পুলিশ নিয়ে আসছে। আমরা কিছুক্ষন অপেক্ষা করি?”
“না।”
বলেই শ্রবণ খুব সাবধানে গেইট খুলল, তবুও গেইট খোলার একটা আওয়াজ হলো। শ্রবণের পেছন পেছন ভেতরে প্রবেশ করল স্পর্শ আর সিয়াম। খুব সাবধানে ভেতরের দিকে অগ্রসর হলো তিনজন।
বাড়ির বাইরেটা যতটা ভাঙাচোরা মনে হলো ভেতরটা ততটা ভাঙাচোরা না। শ্রবণ লোকেশন দেখে সোজা দোতলায় উঠে এলো। একটা রুম থেকে কয়েকজন পুরুষের গলার আওয়াজ ভেসে আসছে। শ্রবণের রক্ত মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। ক্ষিপ্ত মস্তিষ্কে আগুন ধরল আরো বেশি। শ্রবণ রুমটার দিকে এগোতেই স্পর্শ ছুটে এসে রুমের দরজা লাগিয়ে দিলো বাইরে থেকে। ভেতরে থাকা লোকগুলো ভীষণ ভয় পেয়ে গেল এমন হওয়ায়। কয়েকজন ছুটে এসে দরজা ধাক্কাতে লাগল।
শ্রবণ নীরবতা ভেঙে পুরো বাড়ি কাঁপিয়ে সোহার নাম ধরে ডাকতে শুরু করল।
সোহা দেওয়াল ঘেঁসে শুয়ে ছিল এতক্ষণ, শ্রবণের ডাক শুনে তাড়াহুড়ো করে উঠে বসেছে। দেহে জান ফিরে পেল শ্রবণের উপস্থিতি পেয়ে।
দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে দুর্বল পায়ে দরজার কাছে এগিয়ে এসে ধাক্কা দিতে দিতে চিৎকার করে বলল,
“বাবুর আব্বু, আমি এখানে, দরজা খোলো।”
শ্রবণ সোহার গলার আওয়াজ পেয়ে মুখ বন্ধ করল। সোহা আবার ডাকতেই দৌড়ে এসে দরজা খুলল দ্রুত। দরজায় শুধু ছিটকিনি লাগানো ছিল। সোহাকে চোখের সামনে দেখেই জাপটে ধরল শ্রবণ। পাগলের মতো চুমু খেলো কতক্ষন। কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“তুই ঠিক আছিস, জান?”
সোহা নিজেও কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“তুমি চলে এসেছো, এখন ঠিক আছি। এখান থেকে নিয়ে চলো আমাকে। লোকগুলো অনেক পচা, আমাকে খাবার খেতে দেয়নি, চড়ও মে’রেছে।”
শ্রবণের মনে হলো তার কলিজার মধ্যে কেউ ধারালো ছু’রি ঢুকিয়ে দিলো। সে যার দিকে গরম চোখে তাকানো বন্ধ করে দিয়েছে তাকে কেউ চড় মে’রেছে এটা সে কিছুতেই সহ্য করতে পারছে না। তার উপর আবার দুদিন ধরে না খাইয়ে রেখেছে। সোহাকে নিয়ে পেছন ফিরতেই দরজা ভেঙে বেরিয়ে এলো লোকগুলো। সাত/আট জন মানুষ। সিয়াম আর স্পর্শ কুলিয়ে উঠতে পারছে না এত জনের সঙ্গে। দুজন ধুমধাম মা’রছে আবার খাচ্ছেও।
শ্রবণ সোহাকে রুমের ভেতর ঢুকিয়ে দিয়ে বলল,
“জান, ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দে।”
“ভেতর থেকে দরজা লাগানো যায় না।”
শ্রবণ তাড়াহুড়ো করে বাইরে থেকেই দরজা লাগিয়ে দিলো। হিংস্র বাঘের ন্যায় ছুটে এলো লোকগুলোর কাছে। রাগের মাথায় দোতলা থেকে দুজনকে ছুঁড়ে ফেলে দিলো নিচে। দুজনের ভয়ানক আর্ত চিৎকার শোনা গেল। লিডার লোকটা শ্রবণের হাতে ছু’রি দিয়ে আঘাত করল। ইতি মধ্যে স্পর্শ আর সিয়ামও ছু’রির আঘাতে জখম হয়েছে।
শ্রবণ লোকটার হাত থেকে ছু’রি কেড়ে নিয়ে সোজা তার পেটের ভেতর ঢুকিয়ে দিলো।
একজন ছুটে সোহাকে রাখা রুমটার দিকে দৌড় দিলো। শ্রবণ তাকে আটকানোর চেষ্টায় ব্যস্ত তখন আরো দুজন ছুটে গিয়ে সেই রুমে ডুকে গেল। সোহার গগন বিদারী চিৎকার শুনে শ্রবণের দুনিয়া আরো এলোমেলো হয়ে গেল। ধরে রাখা লোকটাকে তুলে সোজা নিচে ফেলে দিলো। এগুলো কিডন্যাপার নাকি গাঁজাখোর শ্রবণ বুঝতে পারছে না। সবগুলোকে গাঁজাখোর পাতি মাস্তানের মতো দেখতে।
দৌড়ে রুমে প্রবেশ করে দেখল সোহা কাত হয়ে পড়ে আছে ফ্লোরে, যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে ভীষণ। পানি আর র’ক্তে ফ্লোর ভেসে যেতে শুরু করেছে। সোহার নাম ধরে গগন কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠল। ছুটে এসে লোক দুজনকে মা’রতে শুরু করল, শ্রবণের শক্তি যেন এখন আরো বেড়ে গেছে। একজনকে ধরে দেওয়ালের সঙ্গে বাড়ি মে’রে তার মাথা ফাটিয়ে দিলো, ফিকনি দিয়ে র’ক্ত বের হচ্ছে। দ্বিতীয়জন অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে ফ্লোরে।
সোহার কাছে এসে তাকে তুলে বুকে চেপে ধরল। দিশেহারা হয়ে বলল,
“জান, কীভাবে পড়লি?”
সোহা শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে ক্ষীণ স্বরে বলল,
“ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। বাবুর আব্বু, আমি ম’রতে চাই না এখনই। আমাকে আর বাবুকে বাঁচাও। আমি তোমাকে একা ছেড়ে চলে যেতে চাই না। আমি আরো অনেক বছর বাঁচতে চাই তোমার সঙ্গে, আর আমাদের সন্তানের সঙ্গে।”
“জান, তোদের কিচ্ছু হবে না, আমি কিচ্ছু হতে দিবো না।”
শ্রবণ তাড়াহুড়ো করে উঠে দাঁড়াল সোহাকে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে। রুম থেকে বেরিয়ে চিৎকার করে বলল,
“স্পর্শ, ফোনের লাইট জ্বালাও আর নিচের দিকে চলো।”
স্পর্শ নিজের পকেট থেকে ফোন বের করে লাইট অন করল। দুজনের দিকে লাইট ধরতেই তার মাথায় আসমান ভেঙে পড়ল যেন।
বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসতেই শামীম রেজা চৌধুরী আর পুলিশের গাড়ি এসে দাঁড়াল।
স্পর্শ বাবার গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে বলল,
“ভাইয়া, আব্বুর সঙ্গে যাও।”
শ্রবণ দ্রুত গাড়িতে উঠে বসল সোহাকে নিয়ে। সোহা অজ্ঞান হয়ে গেছে। বাবার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে জড়ানো গলায় বলল,
“আব্বু, দ্রুত হসপিটালে চলো।”
শামীম রেজা চৌধুরী গাড়ি ঘুরিয়ে ছুটলেন হসপিটালের উদ্দেশ্যে।
শ্রবণ সোহাকে বুকে চেপে ধরে ডাকতে ডাকতে বলল,
“এই জান, এই, চোখ খোল। আমাকে ছেড়ে যাবি না কিন্তু। জান, তোর কিছু হলে আমি ম’রে যাব।”
সোহা চোখ খুলল না, কোনো কথাও বলল না। শ্রবণ বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,
“আব্বু, দ্রুত চলো—নয়তো আমার জানদের কিছু হয়ে যাবে। দ্রুত চালাও, স্পিড বাড়াও।”
“দ্রুতই চালাচ্ছি, আব্বু। তুমি শান্ত হও, বাবুর আর সোহার কিছু হবে না।”
“ওই কু/ত্তার বাচ্চারা একটাও যেন পার না পায়। ওদের আমি নিজের হাতে জ’বাই করব।”
চলবে…………
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ৩৪
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ৮
-
দিশেহারা পর্ব ৩৮
-
দিশেহারা পর্ব ৫৯
-
দিশেহারা পর্ব ১২
-
দিশেহারা পর্ব ১৭
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ১
-
দিশেহারা পর্ব ৫৪
-
দিশেহারা পর্ব ৪১
-
দিশেহারা পর্ব ২০