অসম্ভবরকমভালোবাসি_তোমায়
লেখিকাসুমিচৌধুরী
পর্ব ২৬ (ঈদ মোবারক)
সকাল ৮ টায় রিদির ঘুম ভাঙল। জানালার ফাঁক দিয়ে আসা রোদের ঝিলিক চোখে পড়তেই সে আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসল। চারপাশ তাকিয়ে দেখে তার পাশে কেউ নেই। শুভ্রা। মিহি। পাখি। কেউ না। সে একাই বিছানায়। ঘরটা কেমন নিঝুম। কিন্তু জানালার ওপাশ থেকেই ভেসে আসছে ঈদের খুশির আমেজ। গ্রামের ঈদগাহ মাঠ থেকে ভেসে আসা মাইকের আওয়াজে চারপাশ মুখরিত। সুমধুর স্বরে কেউ ইসলামিক বয়ান দিচ্ছে। আবার মাঝে মাঝে ‘আসসালাতু খায়রুম মিনান নাওম’ ধ্বনিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠছে।রিদি তাড়াতাড়ি করে উঠে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। বাড়ির উঠোনে আসতেই তার চোখ চড়কগাছ। উঠোনের এক কোণে বড় উনুন জ্বলেছে। সেখানে বিশাল হাঁড়িতে সেমাই আর ফিরনি রান্না হচ্ছে। ঘিয়ের মিষ্টি সুবাসে পুরো বাড়ি ম ম করছে। বাড়ির মহিলারা গয়না আর নতুন শাড়ির খসখস শব্দ তুলে রান্নার তদারকিতে ব্যস্ত। কেউ পিঠা বানাচ্ছে। কেউ আবার চাটনি তৈরিতে মগ্ন।
একটু দূরেই আমতলায় জলচৌকি পেতে মিহি। পাখি আর শুভ্রা জটলা পাকিয়ে বসে আছে। সবার হাতেই মেহেদীর গাঢ় আলপনা। রিদিকে দেখেই পাখি খিলখিল করে হেসে উঠল। সে এগিয়ে এসে রিদির হাত ধরে বলল।
“কী রে ঈদ মোবারক ? কেমন আছিস? এখন ঘুম ভাঙল তোর? আমরা কত ডাকলাম। তোকে ধাক্কালাম। কিন্তু তোর কোনো সাড়াশব্দ নেই। মনে হচ্ছিল কুম্ভকর্ণের ঘুম দিচ্ছিস।”
রিদি লজ্জায় একটু জিভ কাটল। একটা লম্বা হাই তুলে আলসেমি মাখা গলায় বলল।
“ঈদ মোবারক আসলে কাল রাতে তো অনেক দেরিতে ঘুমিয়েছিলাম। তাই একদম বুঝতে পারিনি রে।”
শুভ্রা রিদির চোখের নিচে হালকা কালি দেখে মুচকি হাসল। সে হয়তো জানে এই কালির রহস্য কী। সে হাত নেড়ে বলল।
“ঈদ মোবারক, হয়েছে এখন। কাল রাতে তো মেহেদী লাগাস নি। এখন লাগা।”
রিদি হাতটা সরিয়ে নিয়ে কাঁচুমাচু হয়ে বলল।
” ঈদ মোবারক, না রে। আমার এখন একদম ইচ্ছে করছে না। তোরা পরেছিস তো। তাতেই হবে। থাক। দিব না।”
কিন্তু গ্রামের এই ডানপিটে মেয়েগুলোর কাছে রিদির ওজর টিকল না। মিহি একরকম জোর করেই রিদিকে টেনে আনল। ওর মেহেদী লাগানো শুকনো হাতটা সাবান দিয়ে সুন্দর করে ধুয়ে দিল। তারপর পরম মমতায় রিদির কোমল হাতের তালুতে লতা পাতার এক সূক্ষ্ম নকশা ফুটিয়ে তুলল।এদিকে বাড়ির পুরুষদের মধ্যে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। নামাজের সময় হয়ে এসেছে। পুকুর ঘাটে পানি ছিটানোর শব্দ আর হাসাহাসি শোনা যাচ্ছে পুরুষরা দল বেঁধে ঈদগাহে নামাজ পড়তে গেলেই বাড়ির মহিলারা গোসলের সুযোগ পাবে।
রিদি যখন নিবিষ্ট মনে নিজের হাতের মেহেদীর সূক্ষ্ম ডিজাইনটা দেখছিল। ঠিক তখনই বাড়ির ভেতর থেকে ধীরপায়ে বের হয়ে এল শুভ্র। মুহূর্তের মধ্যে উঠোনের সব কোলাহল যেন থেমে গেল। সবার চোখ আটকে গেল শুভ্রর দিকে। এমনকি রিদিও অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
শুভ্র আজ ধবধবে সাদা একখানা কারুকাজ করা পাঞ্জাবি পরেছে। আস্তিন দুটো কনুই পর্যন্ত নিখুঁতভাবে ফোল্ড করা। যার ফলে তার সুগঠিত হাতের লোমগুলো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। সাথে ম্যাচিং সাদা পায়জামা আর বাঁ হাতে সেই দামী ব্ল্যাক স্মার্ট ওয়াচ। চুলগুলো এখনো ভেজা। মাত্রই গোসল সেরে আসায় পানির কণাগুলো রোদে হীরের মতো চিকচিক করছে। হাতে একটা শৌখিন জায়নামাজ। রিদি যেন মুহূর্তের জন্য জাস্ট থ হয়ে গেল। হৃদস্পন্দনটা এক পলকের জন্য থমকে গিয়ে আবার দ্বিগুণ বেগে ছুটতে শুরু করল। এ যেন এক চেনা শুভ্রকে নতুন করে আবিষ্কার করা। ইতিমধ্যে গ্রামের কয়েকজন চঞ্চল কিশোর আর যুবক দৌড়ে এল। শুভ্রর সাথে কোলাকুলি করে উচ্চস্বরে ‘ঈদ মোবারক’ জানাল। বিলকিস চৌধুরী পরম মমতায় এগিয়ে এলেন। শুভ্রকে আপাদমস্তক দেখে মুগ্ধ হয়ে বললেন।
“বাহ। মাশাআল্লাহ। মনে হচ্ছে আসমান থেকে নেমে আসা কোনো জান্নাতি পুরুষ। আমার তো চোখই সরছে না রে।”
শুভ্র বিনয়ী হাসিতে মুখ উজ্জ্বল করে বলল।
“আসসালামু আলাইকুম চাচি। ঈদ মোবারক। দোয়া করবেন।”
সবাই একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে লাগল। আনন্দ আর হুল্লোড়ে মুখর হয়ে উঠল চারপাশ। ঠিক তখনই ইমন এক লাফে দৌড়ে এসে শুভ্রর কোমর জড়িয়ে ধরল। সে আবদারের সুরে চেঁচিয়ে বলল।
“আসসালামু আলাইকুম ব্রো। ঈদ মোবারক। আগে সালামি দাও। তারপর কথা।”
শুভ্র ইমনের কান হালকা করে মুচকে ধরে শাসন করার ভঙ্গিতে বলল।
“আগে নামাজ। তারপর সালামি। বুঝছিস?”
ইমন কানের ব্যথা পাওয়ার ভান করে মুখ কুঁচকে বলল।
“কান ছাড়ো। নামাজ পড়েই নিব। না দিলে খবর আছে তোমার। তখন বুঝবা সালামি কারে কয়।”
ঠিক তখনই মিহি হাসতে হাসতে এগিয়ে এসে বলল।
“শুভ্র ভাইয়া। ঈদ মোবারক। আমাদের সালামিটাও কিন্তু একদম রেডি রাইখো। কোনো বাহানা চলবে না এবার।”
শুভ্র এবার সবার দিকে তাকিয়ে কৌতুকমাখা হাসিতে বলল।
“হুম। নামাজে যাচ্ছি। আসার সময় কাঁঠাল গাছ থেকে বস্তা বস্তা টাকা নিয়ে আসব। তোদের সবার জন্য। তোরা শুধু হা করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকিস। দেখিস কত টাকা দিই।”
শুভ্রর এই রসিকতা শুনে বাড়ির উঠোনে থাকা সবাই একসাথে হোহো করে হেসে উঠল। চারপাশের এই হাসিখুশি আর উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই যেন এক অন্যরকম আনন্দে মেতেছে। কিন্তু রিদি একদম চুপচাপ। সে একপাশে দাঁড়িয়ে অপলক চোখে শুভ্রকে দেখছে। শুভ্র কী সুন্দর সবার সাথে হাসছে। কথা বলছে। সবার আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছে। কিন্তু রিদির মনের ভেতরে তখন অন্যরকম এক দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। তার দুচোখে শুধু ওই মানুষটার প্রতি একরাশ মুগ্ধতা আর না বলা হাহাকার।
হঠাৎ রিদির মনের গহীনে একটা চিন্তা তিরের মতো এসে বিঁধল। শুভ্র তো এখন শুধু তার ভালোবাসার মানুষ নয়। শুভ্র তার তিন কবুল বলা বৈধ স্বামী। শরিয়তের হিসেবে শুভ্রর ওপর তার সবটুকু অধিকার আছে। তবে শুভ্র কেন তার থেকে এত দূরে দূরে থাকে? কেন তাকে সেভাবে স্পর্শ করে না? কেন তাদের মাঝে এই দুর্ভেদ্য দেয়াল?
শুভ্রসহ বাড়ির সব পুরুষরা নামাজ পড়তে বেরিয়ে গেল। সাথে সাথেই শুরু হলো মেয়েদের গোসলের ধুম। একে একে সবাই গোসল সেরে ফেলল। রিদি গোসল শেষ করে প্রথমে সাধারণ একটা কামিজ পরে চুলগুলো ভালো করে শুকিয়ে নিল। তারপর আলমারি থেকে বের করল তার পছন্দের সেই সাদা রঙের চুড়িদার। সুন্দর করে চুল বেঁধে ওড়নাটা পরিপাটি করে জড়িয়ে নিল সে। ঠোঁটে দিল হালকা লিপস্টিক আর চোখে গাঢ় কাজল। সব শেষে আয়নায় নিজেকে একবার দেখে নিল রিদি। ঈদের দিনের নতুন কাপড়ে সবাইকে যেন একটু বেশিই সুন্দর লাগে।
শুভ্রা। মিহি। পাখি। সবাই নতুন কাপড় পরে সেজেগুজে ড্রয়িংরুমে আসল। বাড়ির পুরুষরা নামাজ পড়ে ততক্ষণে ফিরে এসেছে। শুভ্রও চলে এসেছে। ইতিমধ্যে ঈশানও গোসল করে রুম থেকে বেরিয়ে সবার সাথে কথা বলছে। সোহান চৌধুরীর মন পুরোপুরি জয় করতে না পারলেও। শুভ্রর বড় চাচা মাহবুব চৌধুরী এবং চাচি বিলকিস চৌধুরীর মন সে ঠিকই জয় করে নিয়েছে। তাদের কাছেও ঈশানকে খুব ভালো লেগেছে। হিন্দু হলে কী হবে। ছেলেটা মন থেকে একদম সৎ আর অমায়িক।
রিদি রুম থেকে বেরিয়ে বড়দের সম্মান জানিয়ে প্রথমেই মাহবুব চৌধুরীকে সালাম করল।
“আসসালামু আলাইকুম মামা। ঈদ মোবারক।”
মাহবুব চৌধুরী হেসে বললেন।
“ওয়ালাইকুম আসসালাম। ঈদ মোবারক মামুনি।”
বলেই তিনি পাঞ্জাবির পকেট থেকে চার হাজার টাকার কচকচে নোট বের করে রিদির হাতে দিলেন। রিদি প্রথমে নিতে না চাইলেও তিনি জোর করেই দিলেন। একে একে রিদি বাড়ির সব বড়দের সালাম করল। সবাই খুশি হয়ে সাধ্যমতো সালামি দিল। শুভ্রা। মিহি। পাখি। তারাও একই কাজ করল। সবার হাতেই তখন সালামির টাকার তাড়া। ঠিক শেষ মুহূর্তে রিদি দেখল শুভ্র ঈশানের পাশে বসে ফোন টিপছে। রিদি সাহস সঞ্চয় করে এগিয়ে গিয়ে বলল।
“আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া। ঈদ মোবারক।”
শুভ্র এবার ফোন থেকে চোখ সরিয়ে রিদির দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল।
“ওয়ালাইকুম আসসালাম। ঈদ মোবারক।”
ঠিক তখন রিদি ঈশানের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বলল।
“আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া। জানি আপনার ধর্ম হিন্দু। কিন্তু আনন্দে উইশ করা নিশ্চয়ই পাপ হয় না। তাই বলছি। ঈদ মোবারক।”
ঈশান হালকা হেসে মাথা নেড়ে বলল।
“ওয়ালাইকুম আসসালাম। ঈদ মোবারক বোন।”
বলেই ঈশান পকেট থেকে এক হাজার টাকা বের করে রিদিকে দিতে নিল। ঠিক তখনই শুভ্র ছোঁ মেরে টাকাটা কেড়ে নিয়ে বলল।
” পাইছে কি সবাই। ছোট বলে ওদেরকেই খালি টাকা দিতে হবে। আর আমরা বড় হয়েছি বলে কি আকাশ থেকে উড়ে এসেছি নাকি?”
রিদি ভ্রু কুঁচকে রেগে গিয়ে শুভ্রের দিকে তাকিয়ে বলল।
“তাই বলে আপনি আমার টাকা নিলেন কেন? আমার টাকা দিন বলছি।”
শুভ্র টাকা তো দিলই না। উল্টো আচমকা রিদির হাত থেকে বাকি সব সালামির টাকা এক ঝটকায় কেড়ে নিল। রিদি তখন মরিয়া হয়ে শুভ্রের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার জন্য এপাশ ওপাশ করছে। আর শুভ্র দুষ্টুমি করে টাকাগুলো ওদিক সেদিক ঘুরিয়ে উপরে তুলে ধরছে। কিছুতেই দিচ্ছে না। ড্রয়িংরুমে বসে থাকা বাড়ির সবাই দুজনের এই খুনসুটি দেখে হোহো করে হাসছে। এক সময় কোনো উপায় না পেয়ে রিদি সোহান চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে নালিশের সুরে বলল।
“মামা। তোমার ছেলেকে কিছু বলবে?”
সোহান চৌধুরী হেসেই কুটিপাটি। তিনি ছেলেকে আদুরে ধমক দিয়ে বললেন।
“শুভ্র। দিয়ে দে টাকাগুলো। মেয়েটাকে আর ক্ষ্যাপাস না।”
শুভ্র বিন্দুমাত্র বিচলিত হলো না। সে নিজের মতো চেয়ারে বসে আয়েশি ভঙ্গিতে সবার আগেই নুডলস খেতে খেতে নির্বিকার গলায় বলল।
“ও এত টাকা সামলাতে পারবে না। তাই আমি ওর ভালোর জন্যই নিজের কাছে রেখে দিয়েছি।”
রিদি এবার জেদ ধরে বলল।
“কে বলেছে আমি সামলাতে পারব না? দেখেন। আমার টাকা এখনই ফেরত দেন।”
শুভ্র আর কোনো কথা বলল না। চুপচাপ নিজের খাওয়া চালিয়ে যেতে থাকল। ঠিক সেই মুহূর্তে ঈশান সুযোগ বুঝে শুভ্রের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল।
“বস। শুনেছি ঈদে হাজব্যান্ডরা তাদের ওয়াইফকে স্পেশাল সালামি দেয়। আর আপনি এখানে নিজের স্ত্রীর সালামিটাই উল্টো কেড়ে নিলেন। বাহ বাহ। দারুণ কাজ করছেন তো আপনি।”
শুভ্র কোনো কথাই বলল না। সে নিজের মতো নির্বিকার ভঙ্গিতে খেতে থাকল। ইকবাল এহসান হাসিমুখে এগিয়ে এসে রিদির মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বললেন।
“মা। রাগ করিস না। ও একটু দুষ্টুমি করছে। টাকা দিয়ে দেবে।”
রিদি অভিমানে গাল ফুলিয়ে চেয়ারে বসে পড়ল। তার মুখটা ছোট হয়ে এল। বাড়ির সবাই এক এক করে ডাইনিং টেবিলে বসে পড়ল এবং ঈদের হরেক রকম সুস্বাদু নাস্তা খেতে শুরু করল। সেমাই। ফিরনি। আর নুডলসের গন্ধে পুরো ঘর ম ম করছে। সবাই গল্প আর হাসাহাসিতে মেতে উঠল।
খাওয়া দাওয়া শেষে শুভ্রের পিছু নিল রিদি। সে বারবার মিনতি করে বলতে লাগল।
“ও শুভ্র ভাই। আমার টাকাগুলো দিয়ে দিন।”
কিন্তু শুভ্র নাছোড়বান্দা। সে রিদির কথা গায়েই মাখল না। হাঁটতে হাঁটতে সে বাড়ির ছাদে উঠে এল। তার দেখাদেখি পেছনে পেছনে রিদিও ছাদে চলে এল। রিদি ছাদে দাঁড়িয়ে কোমরে হাত দিয়ে জেদি গলায় বলল।
“আপনি আমার টাকা দিবেন না তাহলে?”
শুভ্র এক পা আরেক পায়ের ওপর দিয়ে ভাঁজ করে দাঁড়াল। তারপর বুকে হাত দিয়ে গম্ভীর ভঙ্গিতে রিদির দিকে তাকিয়ে বলল।
“নো।”
রিদি এবার একটু নরম হয়ে বলল।
“আপনার তো টাকার অভাব নেই। তাহলে আমার এই কয়টা টাকা নিয়ে আপনার কী যায় আসে?”
শুভ্র ঠোঁট কামড়ে হাসি চেপে রাখল। সে নিজেকে শক্ত করে গম্ভীর গলায় বলল।
“যায় আসে। এই টাকাগুলো ভবিষ্যতের জন্য।”
রিদি অবাক হয়ে বলল।
“ভবিষ্যতে মানে?”
শুভ্র এবার একটু বাঁকা হাসি দিয়ে বলল।
“ভবিষ্যতে বাচ্চা কাচ্চা হবে না। তাদের জন্য আমি এগুলো জমিয়ে রেখে দেব।”
রিদি ভ্রু কুঁচকে মুখ বাঁকিয়ে ঝাঁঝালো গলায় বলল।
“তো আপনার বাচ্চার সাথে আমার টাকার কী হ্যাপা। আপনার বাচ্চার জন্য আপনি জমান। আমার খুচরো পয়সাগুলো নিয়ে কেন টানাটানি করছেন?”
শুভ্রর ঠোঁটের কোণে এবার একটা রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল। সে ধীর পায়ে এগিয়ে এসে রিদির একদম সামনে দাঁড়াল। রিদি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে এক পা পিছিয়ে যেতেই শুভ্র ওর পথ আটকে দিল। শুভ্র দুই হাত পেছনে দিয়ে একটু ঝুঁকে মাথাটা নিচু করল। রিদির কানের খুব কাছে মুখ নিয়ে তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে একদম নিচু স্বরে বলল।
“হাঁদারাম একটা। আমার বাচ্চা আর তোর বাচ্চা তো একই কথা। আমার বাচ্চার মা তো তুই হবি ইডিয়ট।”
কথাটা শোনা মাত্রই রিদির চোখ বড় বড় হয়ে গেল। বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। মুহূর্তের মধ্যে তার ফরসা মুখটা লজ্জায় আপেলের মতো টকটকে লাল হয়ে উঠল। শুভ্র তার এই অবস্থা দেখে একগাল বাঁকা হেসে দুই হাত পকেটে ঢুকিয়ে নিল। সে ছাদ থেকে আয়েশি ভঙ্গিতে গুনগুন করে গেয়ে উঠল।
~নওশা সেজে যাবো আমি বন্ধু তোমার বাড়ি~
~তোমার অঙ্গে সেদিন প্রিয়া থাকবে লাল শাড়ি~
লাইনটুকু বলেই শুভ্র আচমকা এক পা এগিয়ে রিদির একদম কানের কাছে মুখ এনে পুনরায় গভীর স্বরে গাইল।
~বিয়ার সাজন সাজিবে~
~আমার পাশে বসিবে~
~আদ’র দিমু তোমারে বাসরে নিয়া~
রিদির লজ্জায় এবার সত্যিই মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে। সারা শরীরে যেন একটা বিজলি খেলে গেল। শুভ্র এসব কী অসভ্য গান গাইছে। লোকটা কি আজ পাগল হয়ে গেল নাকি। তার হৃৎস্পন্দন যেন নিজের কানকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। রিদি পাথরের মতো জমে দাঁড়িয়ে রইল।হঠাৎ শুভ্র ওর দিকে একটা ইশারা করে রিদির হাতে তার কেড়ে নেওয়া সব সালামির টাকাগুলো ধরিয়ে দিল। রিদি প্রথমে অবাক হলেও পরক্ষণেই ভ্রু কুঁচকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল।
“আচ্ছা আপনার মনে আছেটা কি বলেন তো?। এই রাগী। এই শান্ত। না মানে আপনি সাপের মতো খোলস বদলান কীভাবে?”
শুভ্র একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর আলতো করে রিদির কপালে একটা চটুল টোকা মেরে মুচকি হাসল। সে ধীরপায়ে ছাদের সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল। নামতে নামতে সে উচ্চস্বরে গান ধরেছে। যেন গানের সুর দিয়েই রিদির মনের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাচ্ছে।
~এত কিছু বোঝো আর মন বোঝো না~
~কত কিছু তুমি খোঁজো আমায় তো খোঁজো না~
শুভ্রর দরাজ কণ্ঠের সেই গান রিদির কানের পর্দায় বারবার প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। রিদি পাথরের মতো ছাদে দাঁড়িয়ে রইল। সে নিজের হাতে থাকা সালামির টাকাগুলোর দিকে একবার তাকাল আর একবার সিঁড়ির দিকে। লোকটা আসলেই অদ্ভুত। কখনো বাঘের মতো গর্জে ওঠে আবার কখনো শরতের আকাশের মতো শান্ত আর মায়াবী। রিদি বিড়বিড় করে নিজেকেই বলল। লোকটা কি সত্যিই আমায় ভালোবাসে নাকি সবটাই তার পাগলামি।
শুভ্রকে খুঁজতে খুঁজতে ঈশান বারান্দা দিয়ে যাচ্ছিল। কিছুদূর হাঁটতেই হঠাৎ পিচ্ছিল কোনো একটা জিনিসের ওপর পা পড়তেই সে ধপাস করে মেঝের ওপর আছাড় খেয়ে পড়ল। কোমরের তীব্র ব্যথায় সে ককিয়ে উঠতেই আড়াল থেকে কেউ একজন খিলখিল করে হেসে চিৎকার করে বলে উঠল।
“ঈদ মোবারক ঈশান ভাইইইয়া। সালামিইইইইই দিন।”
ঈশান দাঁতে দাঁত চেপে বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে দেখে শুভ্রা দাঁত বের করে হাসছে। ঈশান নিজের জুতোর তলার দিকে তাকিয়ে দেখল চটচটে আর পিচ্ছিল জাতীয় কিছু একটা লেগে আছে। এই কাণ্ডটা যে শুভ্রারই কাজ। তা আর আলাদা করে বলে দিতে হবে না। সে শুভ্রার দিকে চোখ রাঙিয়ে বলল।
“এই। কী ছিল ওটা? কী করলে তুমি এটা?”
শুভ্রা একগাল হেসে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল।
“স্পেশাল উইশ।”
ঈশান অবাক হয়ে চেঁচিয়ে বলল।
“অ্যাঁ। এইভাবে কোন ধরনের উইশ শুনি?”
শুভ্রা হাত নেড়ে বলল।
“এটা হচ্ছে বাকিদের থেকে আলাদা। সবাই তো হাসি-খুশিতে উইশ করল। আর আমি এইভাবে স্পেশাল কায়দায় করলাম। এখন আর কথা না বাড়িয়ে আমার ঈদের সালামিটা জলদি বের করুন।”
ঈশান ব্যথায় কোমর ঘষতে ঘষতে মুখ কুঁচকে বলল।
“দিব না। যদি ভালোভাবে উইশ করতে তাহলে ভেবে দেখতাম। কিন্তু এখন এমন কায়দায় উইশ করে আমার কোমরটাই ভেঙে দিয়েছ। এখন ওই সালামির টাকা দিয়ে আমি আগে নিজের কোমরের চিকিৎসা করব। যাও। এক পয়সাও পাবে না তুমি।”
শুভ্রা ঠোঁট উল্টে অভিমানের সুরে বলল।
“এ ওই সব পুরোনো কাসুন্দি বাদ দিন তো। রিদিকে এক হাজার টাকা দিয়েছেন। আমি কী দোষ করেছি শুনি?”
ঈশান ব্যথায় মুখ কুঁচকে বলল।
“ফাজিল মেয়ে। এত বড় একটা কাণ্ড করে আবার জিজ্ঞেস করছ কী দোষ করেছ। রিদির মতো কি তুমি ভদ্র মেয়ের মতো উইশ করেছ? করেছ তো আমার কোমরটা ভেঙে।”
শুভ্রা এবার একটু অবাক হওয়ার ভান করে বলল।
“তার মানে কি আমি অভদ্র?”
ঈশান দাঁতে দাঁত চেপে বলল।
“তার থেকেও বেশি।”
শুভ্রা পাল্টা কিছু বলতে যাবে। ঠিক তখনই পেছন থেকে শুভ্রর সেই গম্ভীর আর ভারী কণ্ঠস্বর ভেসে এল।
“কী হচ্ছে এখানে?”
ঈশান আর শুভ্রা ঝট করে সামনের দিকে তাকাল। শুভ্র দুদিকে ঘাড় বাঁকিয়ে ঈশানকে মেঝের ওপর বিধ্বস্ত অবস্থায় বসে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে বলল।
“কী হয়েছে? তুমি এইভাবে মেঝেতে বসে আছো কেন?”
ঈশান একরাশ বিরক্তি নিয়ে শুভ্রার দিকে আঙুল উঁচিয়ে বলল।
“আমি ইচ্ছে করে বসিনি। শুভ্রা এমন করেছে। এখানে কী একটা পিচ্ছিল জিনিস মাখিয়ে রেখেছিল। আমি সেখানে পা দিতেই একদম ধপাস করে পড়ে গেছি।”
মুহূর্তের মধ্যে শুভ্রর চোখের চাউনি বদলে গেল। সে শুভ্রার দিকে তাকিয়ে কড়া এক ধমক দিয়ে বলল।
“শুভ্রা। এটা কোন ধরনের বেয়াদবি? দিনে দিনে খুব বেশি বেয়াদব হয়ে যাচ্ছিস। তাই না? এরপরে যদি আর কোনোদিন এমন কিছু শুনি। তবে এক চড়ে তোর সব দাঁত ফেলে দেব।”
মুহূর্তের মধ্যে শুভ্রার হাসিখুশি মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সে অপরাধীর মতো ঈশানের দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল।
“সরি ভাইয়া। আর হবে না। ভুল হয়ে গিয়েছে।”
এই বলে শুভ্রা মাথা নিচু করে চলে যেতে নিলেই ঈশান পেছন থেকে ডেকে উঠল।
“দাঁড়াও। যে জিনিসের জন্য এমন কাজ করলে। এখন কি সেইটা না নিয়েই চলে যাবে?”
শুভ্রার চোখে জল টলমল করছে। সে ধরা গলায় বলল।
“না। লাগবে না ভাইয়া।”
বলেই শুভ্রা দ্রুতপায়ে দৌড়ে চলে গেল। ঈশান বুঝল মেয়েটা বকা খেয়ে ভীষণ অভিমান করেছে। সে মেঝ থেকে অনেক কষ্টে কোমর চেপে ধরে উঠে দাঁড়াল। শুভ্রর দিকে তাকিয়ে একটু অনুযোগের সুরে বলল।
“বস। ওকে অত বকলেন কেন? ছোট মানুষ। একটু আধটু দুষ্টুমি করে ফেলেছে।”
শুভ্রর মেজাজ তখনো কিছুটা চড়া। সে ঈশানের দিকে একপলক তাকিয়ে ব্যঙ্গ করে বলল।
“ওহ। তাই নাকি? আচ্ছা। ঠিক আছে। সমস্যা নেই। আমি ওকে আবার বলে দেবনি এমন দুষ্টুমি করতে।”
বেলা এগোরোটা তপ্ত রোদ জানলার পর্দা ভেদ করে শুভ্রের ঘরের মেঝেতে এসে পড়েছে। রিদি টিপটিপ পায়ে দরজার কাছে এসে দাঁড়াল। বুকের ভেতরটা দুরুদুরু করছে। বাড়ির সবাই সালামি দিল। অথচ শুভ্র তার নিজের জামাই হয়েও এক টাকা পকেট থেকে বের করল না। এটা কিছুতেই হজম হচ্ছে না রিদির।
রিদি দরজায় হালকা উঁকি দিয়ে দেখল। শুভ্র এখন আর পাঞ্জাবিতে নেই। একটা ধবধবে সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট পরে বিছানায় বাবু হয়ে বসে ল্যাপটপে কী যেন টাইপ করছে। ওর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি স্ক্রিনের দিকে স্থির। রিদি ভাবল চুপিচুপি উঁকি দিয়ে দেখবে। কিন্তু শুভ্র স্ক্রিন থেকে চোখ না সরিয়েই একদম শান্ত অথচ গম্ভীর গলায় বলে উঠল।
“উঁকি না মেরে রুমে আয়। কেন এসেছিস সেটা বল।”
রিদি চমকে উঠে এক পা পিছিয়ে গেল। লোকটা কি অন্তর্যামী নাকি। পেছনে চোখ আছে নাকি ওর। রিদি একবুক সাহস সঞ্চয় করে গটগট করে রুমে ঢুকল। শুভ্রের একদম সামনাসামনি দাঁড়িয়ে কোমরে হাত দিয়ে ত্যাড়ামি করে বলল।
“আচ্ছা। আপনি সালামি দিলেন না কেন? আগে ভাই হিসেবে না দিলেও কিছু বলতাম না। কিন্তু এখন আপনি আমার হাজব্যান্ড। এখন তো আমি এটা মানতে পারছি না। কিছুতেই না।”
শুভ্র ল্যাপটপ থেকে এক পলক রিদির ওই রাগী রাগী লাল হয়ে যাওয়া মুখটার দিকে তাকাল। পরক্ষণেই আবার স্ক্রিনে মন দিয়ে একদম নির্লিপ্ত গলায় বলল।
“সালামি নাই। যা এখান থেকে।”
রিদি এবার যেন ফেটে পড়ল। জেদ চেপে গেল ওর মাথায়। সে দুই পা এগিয়ে এসে চেঁচিয়ে বলল।
“বললেই আমি বিশ্বাস করমু? সাইফান শুভ্র চৌধুরীর পকেটে টাকা নাই। এই কথা তো কোনো সুস্থ-সবল মানুষ বিশ্বাস করবে না। একমাত্র সেই বিশ্বাস করতে পারবে যে আস্ত একটা পাগল-ছাগল। তাহলে আমাকে কি আপনার পাগল-ছাগল মনে হয়?।”
শুভ্র ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে এক মুহূর্তের জন্যও চোখ সরাল না। রিদির অস্থিরতা দেখে সে ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি চেপে রেখেই অত্যন্ত শান্ত গলায় বলল।
“তুই তো আস্ত এক পাগলি। তুই আবার কবে থেকে ভালো হলি যে সুস্থ-সবল মানুষের সার্টিফিকেট দিচ্ছিস?”
রিদি এবার দুই কোমরে হাত দিয়ে ত্যাড়ামি করে দাঁড়িয়ে গেল। গলার স্বর এক পর্দা চড়িয়ে বলল।
“দেখুন। এখন এসব আজেবাজে বাহানা দিয়ে পার পাওয়া যাবে না। অনেক হয়েছে। এবার তাড়াতাড়ি আমার ঈদের সালামিটা বের করুন বলছি।”
শুভ্র আর কথা বাড়াল না। এক হাত দিয়ে ল্যাপটপটা ফট করে বন্ধ করে দিল। পকেট থেকে চামড়ার মানিব্যাগটা বের করে রিদির দিকে না তাকিয়েই একটা নোট অবহেলার ভঙ্গিতে ছুড়ে মারল। নোটটা রিদির পায়ের কাছে গিয়ে পড়ল। শুভ্র নির্বিকার গলায় বলল।
“এই নে। টাকা নিয়ে এবার বিদায় হ।”
রিদি বেশ আগ্রহ নিয়ে নিচু হয়ে নোটটা কুড়িয়ে নিল। কিন্তু নোটের দিকে তাকাতেই তার চোখ কপালে উঠে গেল। হাতের তালুতে মাত্র ২ টাকার একটা পুরোনো নোট জ্বলজ্বল করছে। রিদি রীতিমতো হাবার মতো নোটটার দিকে তাকিয়ে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। রিদির ওই ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়া মুখটা দেখে শুভ্র পেটের ভেতর দলা পাকিয়ে আসা হাসিটা অনেক কষ্টে চেপে রাখল।
হঠাৎ রিদি চেঁচিয়ে উঠে বলল।
“আপনি কি আমাকে রাস্তার ফকির মনে করেন? আমি এই দুই টাকা নেব আপনার কাছ থেকে?”
শুভ্র এবার আয়েশি ভঙ্গিতে বিছানায় গা এলিয়ে দিল। এক পায়ের ওপর অন্য পা তুলে দিয়ে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে উদাস গলায় বলল।
“ফকির না তো কী? তুই যেভাবে টাকার জন্য সকাল থেকে কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করছিস। সাধারণত ফকিররাই এমনটা করে। অবশ্য তোকে তার থেকেও ওপরের স্তরের কিছু একটা বলতে হবে। কারণ আজকালকার রাস্তার ফকিরদেরও আত্মসম্মানবোধ আছে। একবার ‘টাকা নেই’ বললে তারা আর দ্বিতীয়বার চায় না। কিন্তু তোর তো দেখি নাছোড়বান্দা স্বভাব।”
রিদি অপমানে আর চরম রাগে দুই টাকার নোটটা দলা পাকিয়ে সরাসরি শুভ্রের মুখের ওপর ছুড়ে মারল। ওর চোখমুখ তখন রাগে রি রি করছে। দাঁতে দাঁত চেপে চেঁচিয়ে বলল।
“লাগবে না আপনার এই পচা টাকা। কিপটুস একটা। জঘন্য কিপটে।”
বলেই রিদি আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়াল না। ধপধপ করে পা ফেলে রাগে গজগজ করতে করতে রুম থেকে বেরিয়ে এল। করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় নিজের মনেই বিড়বিড় করতে লাগল।
“ছিহ। এমন কিপটুস আমি জীবনে আর দুটো দেখিনি। নিজের বউকে দু-পাঁচশ টাকা সালামি দিতে কলিজা শুকিয়ে যায় লোকটার। ভয় পায় টাকা দিতে। উফ। আর এই হাড়কিপটের সাথেই নাকি আমার সারাজীবন সংসার করতে হবে। হায় আল্লাহ। তাহলে তো আমায় সব মেপে মেপে খেতে হবে। ভাতের চালও হয়তো গুনে গুনে হাঁড়িতে দেবে। ও আল্লাহ। এসব সহ্য হয় না। ভালো লাগে না ছাই।”
রিদি রাগে বিড়বিড় করতে করতে যাচ্ছিল। ঠিক এমন সময় একটা শান্ত পুরুষালি কণ্ঠ কানে আসতেই সে থমকে দাঁড়াল।
“হাই রিদি। ঈদ মোবারক। অনেক দিন পর দেখা হলো।”
রানিং…!
ঈদের সকালের কিছুটা মুহুর্ত দেওয়া হলো সবাইকে❤️🩹🫂
Share On:
TAGS: অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায়, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৫
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৫
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৯(সমাপ্ত)
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬১
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬২
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৮