#শেষ_পাতায়_সূচনা [৬২.২]
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
দুরুদুরু বুকে পূর্ণতা ডাক্তার সিদ্দিকার কেবিনে নক করে। তার অন্য হাতে রয়েছে হেল্থ টেস্টের রিপোর্ট গুলো। রিপোর্ট গুলো পাওয়ার পরও সে সেগুলো খুলে একবারের জন্যও দেখেনি। চায়নি পাঁচ বছর আগের মতো সুসংবাদ ও দুঃসংবাদ একসাথে পেতে। সেবার কানাডা যাওয়ার কিছুদিন পরেই পূর্ণতার শরীর একটু বেশিই খারাপ করতে শুরু করে। সে ভেবেছে তার ডিপ্রেশনের কারণে হয়ত তার এই অসুস্থতা, এটা ভাবার পেছনেও কারণ রয়েছে।
ডাক্তার তাঁকে কড়া ভাবে নিষেধ করে দিয়েছিল কোন প্রকার মানসিক চাপ, বা দুঃখের কথা মনে না করতে। কিন্তু দুঃখ যার চিরসঙ্গী সে কি পারে দুঃখকে ভুলে থাকতে। বাবাকে হারিয়ে, ভালোবাসার মানুষের থেকে বিতাড়িত হয়ে সে তো তখন দুঃখের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। প্রচন্ড ডিপ্রেশনে পড়ে ভুগত সে তখন।
তাই তার যখন ঘনঘন বমি ও মাথা ঘুরে উঠতে থাকল, তখনই সে ডাক্তারের কাছে ছুট লাগায়। ডাক্তার তাঁকে ব্রেনের টেস্ট দেওয়ার পাশাপাশি কি মনে করে প্রেগ্ন্যাসির টেস্টও দিয়েছিল। টেস্টের রিপোর্ট দেওয়ার পর যা জানার কথা ছিল তাই হলো।
পূর্ণতা জানতে পারল, উপরওয়ালা তার থেকে শুধু নেয়নি, তাকে অকল্পনীয় কিছু দানও করেছে। যেটা পাওয়ার জন্য একসময় সে উপরওয়ালার পর জাওয়াদের কাছে আকুতি ভরে চেয়েছিল। কিন্তু তার নিষ্ঠুর প্রিয়তম তাঁকে সেটা দেয়নি।
তার প্রিয়তম না দিতে চাইলে কি হবে, যার হাতে সকল ক্ষমতা সে তো পূর্ণতার আকুতি ফিরিয়ে দিতে পারেন নি। তাই তো অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে হলেও পূর্ণতার আবদার পূর্ণ করেছেন।
নিজের মাঝে নতুন অস্তিত্বের কথা জানার পর পূর্ণতা বিস্ময়ে কথা বলতেই ভুলে গিয়েছিল। কিন্তু তার বিস্ময়ের চেয়েও দুঃখ বেশি পেয়েছিল তখন, যখন কিনা জানতে পারে নতুন প্রাণটির বেঁচে থাকা অনিশ্চিত। পাগলের মতো সে ডাক্তারের হাতে পায়ে ধরতে থাকল, তাকে যেন ভালো কোন ঔষধ দিয়ে সুস্থ করে তুলে। সেই সাথে নিশ্চিত হয় নতুন প্রাণটির অস্তিত্বও।
ডাক্তার পূর্ণতাকে ৫০-৫০ চান্স বলে দিলেন। পূর্ণতা রিস্ক নিয়ে প্রেগ্ন্যাসি কন্টিটিউ করলে তার বাঁচার সম্ভাবনা ৫০%। পূর্ণতা দৃঢ় চিত্তে নিজের জীবনের সবচাইতে সুন্দর সিদ্ধান্তটি নিলো।
মা হওয়া চারটি খানি কথা না সেটা সকল নারীই জানে, বুঝে। কিন্তু পূর্ণতার ক্ষেত্রে কষ্টটা ছিল রুহ ছিঁড়ে ফেলার মতো। ভীনদেশের মাটিতে সম্পূর্ণ একাকী, মানসিক সমস্যা ও অসুস্থতার সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা মেয়েটি প্রায় হাল ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে চাইত তার মা-বাবা কোলে।
কিন্তু পরক্ষণেই ভাবত, না এত তাড়াতাড়ি আমি হাল ছেড়ে দিবো না। আমি অনেক দিন বাঁচতে চাই। নিজের সন্তানকে দু’হাতে নিয়ে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে মাতৃত্বের সুখ অনুভব করতে চাই। মা ডাক শুনতে চাই। এই ভাবনাগুলোই তাঁকে শক্তি জুগিয়েছিল হাল না ছেড়ে দেওয়ার।
সত্যি বলতে তার প্রথম প্রেগ্ন্যাসির কষ্টটা তার মাঝে একটা ট্রমা হয়ে রয়ে গিয়েছে এখনও। হ্যাঁ, সে দ্বিতীয় বার মা হতে মানসিক ও শারীরিক উভয়ভাবেই প্রস্তুত। কিন্তু সেই কষ্ট আর সন্তানের জীবনের অনিশ্চয়তা ভয়টা এখনও তার বুকের এককোণে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে আছে।
সেই ভয় থেকেই সে রিপোর্ট কালেক্ট করে সে সরাসরি চলো এসেছে তার ডাক্তারের কাছে। উপরওয়ালার কাছে বারংবার প্রার্থনা করছে, প্রথমবারের মতো সুখবরের সাথে অনিশ্চিয়তার সংবাদও যেন না শুনতে হয়।
ডাক্তারের কেবিনে ঢুকে অনুমতি পাওয়া মাত্রই সে চেয়ারে বসে রিপোর্ট গুলো এগিয়ে দেয় ডাক্তারের দিকে। ডা. সিদ্দিকা চিকন ফ্রেমের চশমার নিচে থাকা ছোট ছোট আঁখিদ্বয় দিয়ে মনোযোগ সহকারে ফাইলটির একেকটি পাতা উল্টাতে থাকে। সবগুলো পাতা পর্যবেক্ষণ শেষে ঠোঁটের কোণে চওড়া হাসি ফুটিয়ে তুলে ভদ্রমহিলা সুসংবাদ দিয়েই দেন–
—অভিনন্দন মিসেস শেখ। আপনি দ্বিতীয়বারের মতো না হতে চলেছেন।
পূর্ণতা পুরো নারী অস্তিত্ব যেন খবরটি শোনা মাত্রই কেঁপে ওঠে থরথরিয়ে। এমনটা তার তাজওয়াদের সময়টাতেও হয়েছিল। চোখের কোণে জমা হয় আনন্দ অশ্রু। আনমনেই তার ডান হাতটি চলে যায় ক্ষীণ মেদপূর্ণ উদরে। তার আশঙ্কা ভুল ছিল না তাহলে। সত্যিই সে আবারও সন্তান ধারণের অপার্থিব সুখ ভোগ করতে চলেছে।
কিন্তু পরক্ষণেই তার সুখের রাজ্যে হানা দেয় দুঃখময় সংশয়। যে আসছে সে ঠিক আছে তো? তার বড় ভাইয়ের মতোই অনিশ্চয়তা নিয়ে আসেনি তো মায়ের উদরে?
নিজের সকল সংশয়, ভয় পূর্ণতা উজার করে জানায় ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার মনোযোগ দিয়ে তার কথাগুলো শোনেন। এরপর আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে মৃদু হাসেন।
—আপনি আপাতত এতটা দুশ্চিন্তা করবেন না। আপনার গর্ভাবস্থা এখন প্রায় আট সপ্তাহের। একটা আল্ট্রাসাউন্ড করে দেখি, তারপর আপনাকে সবটা পরিষ্কারভাবে বলতে পারব।
কিছুক্ষণ পর আল্ট্রাসাউন্ডের জন্য প্রস্তুত করা হয় পূর্ণতাকে। উৎকণ্ঠায় তার আঙুলগুলো পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। বুকের ভেতরটায় কেমন অস্থিরতা। মনের গহিনে শুধু একটাই প্রার্থনা—তার সন্তান যেন ভালো থাকে।
আল্ট্রাসাউন্ড শুরু হতেই ডাক্তার নিবিড় দৃষ্টিতে মনিটরের দিকে তাকান। কয়েক মুহূর্ত পর স্ক্রিনে ফুটে ওঠে ক্ষুদ্র এক প্রাণের অস্তিত্ব।
পূর্ণতার দৃষ্টি আটকে যায় সেখানেই। এতটুকু একটা প্রাণ। অথচ তার অস্তিত্বজুড়ে যেন পূর্ণতার সমগ্র পৃথিবী।
ডাক্তার কিছুক্ষণ স্ক্রিন পর্যবেক্ষণ করে বলেন,
—এই যে দেখুন। আপনার সন্তান এখানে আছে।
পূর্ণতার বুকটা ধক করে ওঠে।
—বাবু ঠিক আছে তো, ডাক্তার?
—জি। আপাতত সবকিছু বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিকই আছে। আর…
ডাক্তার হঠাৎ স্ক্রিনের অন্য একটি অংশে দৃষ্টি স্থির করেন।পূর্ণতার বুকের ভেতরটা আবারও কেঁপে ওঠে।
—আর কী?
ডাক্তার এবার মৃদু হেসে বলেন,
—আপনাকে বোধহয় আরেকবার অভিনন্দন জানাতে হবে, মিসেস শেখ।
পূর্ণতা বিস্মিত চোখে তাকায়।
—কেন?
ডাক্তার স্ক্রিনের দিকে ইশারা করেন।
—এখানে শুধু একজন নেই। নিজের সহোদরকে সাথে করে নিয়ে এসেছে যে আসতে চলেছে।
পূর্ণতা কয়েক মুহূর্ত নির্বাক হয়ে থাকে। ডাক্তার আবারও বলেন,
—আপনি যমজ সন্তানের মা হতে চলেছেন।
কথাটা শুনে পূর্ণতার চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে যায়।
— যমজ…?
—জি। দুটো ভ্রূণই দেখা যাচ্ছে। দুটিরই হৃদস্পন্দন আছে এবং এই মুহূর্তে দুটোকেই বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক মনে হচ্ছে।
পূর্ণতা আর কোনো কথা বলতে পারে না। কিছুক্ষণ আগেও যে হৃদয়টা ভয় আর আশঙ্কায় কাঁপছিল, সেই হৃদয়েই যেন একসঙ্গে দুটো ছোট্ট হৃদস্পন্দনের শব্দ এসে আঘাত করে।
তার ডান হাতটি ধীরে ধীরে গিয়ে থামে ক্ষীণ মেদপূর্ণ উদরের ওপর। চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে উষ্ণ অশ্রু। তার ভয় সত্যি হয়নি। বরং তার প্রার্থনার চেয়েও বেশি কিছু পেয়েছে সে।
একটি নয়…তার গর্ভে বেড়ে উঠছে দুটি ছোট্ট প্রাণ। এত সুখ পূর্ণতার ঝুলিয়ে এসেছে দেখে পূর্ণতা বিস্ময়ে কথা বলতেই ভুলে যায়।
প্রয়োজনীয় ঔষধ ও পরামর্শ নিয়ে পূর্ণতা হসপিটাল থেকে চলে যায় অফিসে। তার বুকের ভেতরটা তখন সুখের জোয়ারে ভাসছে। জাওয়াদকে ফোন দিয়ে জানানো ইচ্ছে করছে খুশির সংবাদ খানা, কিন্তু পরক্ষণেই সে তার মনোভাব বদলে ফেলে। আর দশদিন পর তাদের ষষ্ঠ বিবাহবার্ষিকী। সেদিন জানাবে সে জাওয়াদকে সংবাদটা। লোকটা তার কাছে না থাকুক, সে ফোনের মাধ্যমেই দেখবে এই খবরটি শোনার পর তার প্রিয় পুরুষটির অশ্রু ছলছল চোখজোড়া। তাতেই সে নিজের প্রাপ্তি খুঁজে নিবে।
পূর্ণতা প্ল্যান করে, আজ ডিনারে আহমেদ বাড়ির সকলকে দাওয়াত দিবে। আর রাতেই সকলকে খবরটি জানাবে। এমনিতেও বহুদিন হলো তাঁদের সকলের সাথে দেখা সাক্ষাৎ নেই। বিজনেসের চাপ, সংসার-সন্তান সামলে তার যাওয়া হয়ে ওঠে না ঐ বাড়ি। তাই এই খুশির সংবাদ জানানোর উছিলায় তাদের সকলের একটা ছোটখাটো গেট টু গেদারও হয়ে যাবে।
যেই ভাবা সেই কাজ। তাজওয়াদের আজ স্কুল ছিল না বলে তাঁকে বারোটার সময় স্কুল থেকে আনার কাজটাও নেই। তাই পূর্ণতা দুপুর দুইটার দিকে অফিস থেকে চলে আসে বাসায়। আরওয়া আর চাকরি করবে না বলে, সপ্তাহ খানেক আগেই পূর্ণতা তার আরেকজন পি.এ. নিয়োগ দিয়েছে। সে ম্যানেজার আর তার পি.এ.কে সব কাজ বুঝিয়ে দিয়েই বাসায় যায়।
রাস্তায় আসতে আসতে সে আরিয়ান ও তার বড় বাবাকে ফোন দিয়ে রাতে তাদের বাসায় ডিনার করার জন্য জানিয়ে দেয়। তারা খুশি মনেই সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে। টনিকেও বলে আসার জন্য। পূর্ণতা বাসায় এসে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে বিকাল থেকে টুকটুক করে রান্নাবান্না শুরু করে দেয়।
তাকে এত এলাহি ভাবে রান্নার আয়োজন করতে দেখে জিনিয়া এসে জিজ্ঞেস করে–
—ভাবী, আজ এত কিছুর রান্নার প্রিপারেশন নিচ্ছ যে? বাসায় গেস্ট আসবে নাকি? সাথে টনিকেও।
—হুম, ঐ বাড়ির সবাইকে দাওয়াত দিয়েছি।
—ওহ্হ। তা হঠাৎ? স্পেশাল কিছু আছে নাকি আজ?
—হয়ত।
রহস্যময় হাসি দিয়ে হেঁয়ালি করে কথাটি বলে পূর্ণতা।বেচারি জিনিয়া ভাবনায় পড়ে যায় ভাবীর হেঁয়ালিতে। তাও সে এত ভাবাভাবি বাদ দিয়ে পূর্ণতার হাতে হাতে কাজ এগিয়ে দিতে থাকে।
বাবা-মা না থাকুক পূর্ণতা তার বড় বাবাকেই নিজের বাবার মতো ভালোবাসে। আর আরিয়ানের সাথে তার সম্পর্ক কতটা গভীর সেটা তো আপনাদের আর বলার দরকার নেই। পূর্ণতা দাওয়াতি সকলের পছন্দের খাবার রান্না করে। মিষ্টি তিন-চার পদ অনলাইনে অর্ডার দিয়ে আনার পরও, সে নিজ হাতে সেমাই, পায়েস, আর শাহি টুকরা বানায়। এত এত ডেজার্ট আইটেম দেখে জিনিয়ার মুখে পানি চলে আসে। সে আবার ভীষণ সুইট লাভার কিনা।
মাগরিবের পরপর দিয়েই রান্না শেষ হয়ে গেলে, পূর্ণতা ও জিনিয়া চলে যায় ফ্রেশ হতে। দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা কিচেনে কাজ করে তারা দু’জনই ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে গিয়েছে। পূর্ণতা আর জিনিয়া ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে মেহমানরা সবাই চলে এসেছে।
পূর্ণতা সবাইকে ওয়েলকাম ড্রিংকস আর স্ন্যাক্স আইটেম দিয়ে স্বাগতম জানায়। সবাই হালকা নাস্তা করে খোশগল্প করতে থাকে। তাজওয়াদ বায়না ধরে টনিকে তার নতুন রোবটকার দেখাবে বলে। টনি খুশি মনে তার কথায় সম্মতি দিলে তাজওয়াদ তার হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় নিজের রুমে।
জিনিয়াও আশেপাশে একবার নজর বুলিয়ে সুযোগ বুঝে চম্পট হয়ে যায় সেখান থেকে। হসপিটাল থেকে ছুটি পাওয়ার পর টনিকে সামনাসামনি দেখার সুযোগ হয়েছিল একমাসের মধ্যে একবার। তাই আজ প্রিয় পুরুষটিকে একান্তে কাছাকাছি দেখার সুযোগ পেয়ে জিনিয়ার মিস করতে চায় না। সে তাজওয়াদদের পেছন পেছন রুম অবধি যায়। তারপর তাজওয়াদকে কিছুক্ষণ সময় দেয় তার খেলনা গুলো টনিকে দেখতে দেওয়ার আর সে বাহিরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকে।
দশমিনিট পর তাজওয়াদ তার খেলনা দেখানো শেষ হয়ে গেলে সে ছুটতে ছুটতে নিচে চলে যায় মায়ের কাছে। টনিও বের হয়ে আসে তাজওয়াদের রুম থেকে তখনই জিনিয়া আড়াল থেকে বের হয়ে টনি হাত টেনে ধরে পাশের রুমে নিয়ে যায়। যেটা আদতে তারই রুম।
হুট করে টেনে নিয়ে আসায় টনি থতমত খেয়ে যায়। সে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে–
—এমন ভাবে নিয়ে আসলে কেন? কেউ দেখে ফেললে কি ভাববে?
জিনিয়া দরজা লক করতে করতে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে–
—ভাববে আমরা প্রেম করছি।
—এমনভাবে বলছো, যেন বিষয়টা স্বাভাবিক।
—অস্বঅভাবিক ভাবছেন কেনো? আমরা এনগেজড। প্রেম করার অফিসিয়াল লাইসেন্স অনেক আগেই পেয়ে গিয়েছি। সো চিল করুন আর আমার সাথে আসুন।
—কই যাবো আবার?
টনির প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই জিনিয়া আবারও তার হাত টেনে ধরে আয়নার সামনে নিয়ে যায়। তারপর তাঁকে সামনে দাঁড় করিয়ে নিজে পেছনে গিয়ে এমনভাবে দাঁড়ায়, যাতে করে আয়নায় টনির বাম পাশের কাঁধের উপর দিয়ে জিনিয়ার চোখজোড়া শুধু দেখা যাচ্ছে।
জিনিয়া তার ফোনটা টনির হাতে দিয়ে বলে–
—ফোনটা নিচু করে পিকটা তুলুন।
—কি করছো এসব?
—জীবনে প্রথমবার ট্রেন্ড ফলো করছি। এখন চুপচাপ করবেন নাকি খবর করবো আপনার।
—দাও
টনি জিনিয়ার ফোনটা হাতে নিয়ে ব্যাক ক্যামেরা অন আয়নার দিকে তাক করে তাদের পিকটা তুলে। ছবি তোলা শেষে টনি খেয়াল করে দেখে, ভীষণ সুন্দর হয়েছে তাদের ছবিটা। সে নিজের হোয়াটসঅ্যাপেও ছবিটা পাঠিয়ে দেয় জিনিয়ার ফোন থেকে। এরপর যার ফোন তাকে ফিরিয়ে দেয়।
জিনিয়া ছবিটা একটু ক্রপ করে টনিকে ট্যাগ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেয় সুন্দর একটা ক্যাপশন দিয়ে। কাজটা শেষ করে জিনিয়া হাসি-হাসি মুখে টনির দিকে তাকালে টনি ভ্রু নাচিয়ে বলে–
—আপনার বাদরামি শেষ হয়েছে মিস লিলিপুট শেখ? আমরা নিচে যেতে পারি এবার?
জিনিয়া ঘনঘন মাথা নাড়িয়ে বলে–
—হুম চলুন আমার পারসোনাল সান্ডাপান্ডা।
এদিকে জিনিয়ার পোস্টে টনি ট্যাগ থাকায় সেটা টনির ফিডেও পোস্ট হয়। আর সেই পোস্টটা দেখে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে টনির কাজিন রুশা। ঐ মেয়ে এখনও টনিকে পাওয়ার আশা ছাড়েনি।
তারা নিচে চলে এসে বাকিদের সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দেয়। তারপর রাত নয়টার দিকে সবাই ডিনার করতে বসে একসাথে। খাবারে সকলের পছন্দের টাইম গুলো থাকায়, সবাই বেশ তৃপ্তি নিয়েই খায়।
খাওয়াদাওয়া শেষ করে সবাই আবারও এসে ড্রয়িংরুমে বসে। আরিয়ান লম্বা একটা ঢেকুর তুলে বলে–
—আজ যা খেয়েছি না, আগামী দুইদিন না খেলেও চলবে আমার। বোনু তোর হাতে জাদু আছে।
—ধন্যবাদ ভাইয়া।
পূর্ণতা তৃপ্তির হাসি দিয়ে সেখান থেকে উঠে চলে যায় কিচেনে। তার পেছন পেছন আরওয়াও যায়। কিছু সময় পর তারা দু’জন হাতে দুটো বড় ট্রেতে করে মিষ্টান্ন নিয়ে উপস্থিত হয়। সবাই এত পদের ডেজার্ট দেখে অবাক হয়ে যায়। আরিয়ান তো বলেই ফেলে–
—কি ব্যাপার বোনু, আজ এত উৎসব উৎসব ভাইব পাচ্ছি কেন সবকিছুতে? আর হঠাৎ এত ঘটা করে দাওয়াত কীসের জন্য?
—এর পেছনের একটা স্পেশাল কারণ রয়েছে?
—আর কি সেটা?
পূর্ণতা এই পর্যায়ে লজ্জা পেতে থাকে। নিজ মুখে নিজের প্রেগন্যান্সির কথা জানাতে যে কোন মেয়েই লজ্জা পাবে। সে আরওয়ার হাত টেনে ধরে উপরে নিজের রুমে যেতে যেতে বলে–
—আসছি দাঁড়াও।
সবাই বেআক্কল হয়ে যায় তার যাওয়া দেখে। সেই সাথে ভাবতে থাকে স্পেশাল কারণটা কি? একটু পরই আরওয়া হাস্যজ্জ্বোল মুখে ছুটতে ছুটতে নিচে আসে। তার হাতে একটা ফাইল। তার পেছন পেছন আস্তে ধীরে আসতে থাকে পূর্ণতা।
আরওয়া নিচে এসেই সকলের অনাকাঙ্ক্ষিত খবরটি ঘোষণা করে দেয়–
—পূর্ণতা আপু দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আর জমজ বাবু আসতে চলেছে আমাদের পরিবারে।
এত বড় একটা নিউজ শুনে সকলে প্রায় একসাথেই বলে ওঠে–
—কিহ্হ্হ্হ্হ্!!!!
পূর্ণতার ঘুমানোর আগ মুহূর্তে জাওয়াদের ফোনে ছোট্ট করে একটা টেক্সট পাঠায়। সেখানে ভীষণ আবেগীয় কথা লিখে। লেখাগুলো কিছুটা এমন–
❝আমার বিষাদের শহরে এক টুকরো শান্তির কারণ, আমার সুন্দরতম জেদ, আমার মনের সুলতান—আপনার কাছে হয়তো আমি কখনো মুখ ফুটে বলিনি, আপনি আমার জীবনে ঠিক কতটা প্রয়োজনীয়।
আপনি পাশে থাকলে বুঝি না, আপনার উপস্থিতিটা আমার জীবনের কতটা জায়গা জুড়ে আছে। অথচ আপনি দূরে যেতেই চারপাশটা কেমন অচেনা, কেমন শূন্য মনে হচ্ছে। একই ঘর, একই বিছানা, একই রাত তবুও কোথাও যেন আপনাকে ছাড়া কিছুই পূর্ণ হচ্ছে না।
আজ ঘুমাতে যাওয়ার আগে বারবার মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে যদি আপনি পাশে থাকতেন! হয়তো কিছুই বলতাম না, তবুও আপনার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই স্বস্তির ঘুমে ঢলে পড়তাম।
সুস্থভাবে তাড়াতাড়ি ফিরে আসুন, শেখ সাহোব। আপনার জন্য অপেক্ষা করার বিষয়টা ভালোই লাগে, শুধু আপনাকে ছাড়া রাতগুলো ভীষণ একা লাগে।❞
[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন। ]
#শব্দসংখ্যা~২০০০+
[আমার সামনে পরীক্ষা, এজন্য পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত। আশা করি আমার দিকটা বুঝতে পারবেন।
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স। ]
বইমেলা উপলক্ষে জাওয়াদ, পূর্ণতা ও তাদের ছানা নিয়ে লেখা ❝পূর্ণতার সংসার❞ ই-বুকে চলছে ২৫% ডিসকাউন্ট। প্রোমোকোড-EBOOKMELA2026 ব্যবহার করে ৪৫টাকায় ক্রয় করতে পারবেন ইবুকটি। লিঙ্ক….
পড়ুন ই-বই “পূর্ণতার সংসার”
https://link.boitoi.com.bd/hMuN3 See less
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৫৪.১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৯
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪২.৩
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৫৭.১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৫৫.১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৫২.১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৬০.১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৮