#শেষ_পাতায়_সূচনা [৬১.২]
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
সেদিন আর কাউকে টনির সাথে দেখা করতে দেওয়া হয় না। পরের দিন টনির কন্ডিশন আগের থেকে আরেকটু উন্নতি হওয়ায় তাকে নরমাল কেবিনে শিফট করা হয়। তখন গিয়ে সকলে দেখার সুযোগ পায়। এই পুরো দু’টো দিন জাফর সাহেব এক মিনিটের জন্যও হসপিটাল থেকে বাড়িতে যান নি। তার শুধু মনে হয়েছে, সে চলে গেলে যদি সত্যিই টনির মা টিকে নিজের সাথে নিয়ে চলে যায়।
সবার শেষে টনির বাবা যায় ছেলের সাথে দেখা করতে। টনি তাঁকে দেখে ভীষণ অবাক হয়। সত্যি বলতে সে আশাই করেনি জাফর সাহেবকে। তবে টনি নিজের অভিব্যক্তি জাফর সাহেবকে বুঝতে দেয় না। নির্লিপ্ত দৃষ্টি নিয়ে পিতার আগমন দেখতে থাকে।
জাফর সাহেব এসে টনির বেডের পাশের টুলে বসে পড়ে। ছেলের মলিন, অসুস্থ দৃষ্টির সাথে তিনি নিজের দৃষ্টির সন্ধি করানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তার অপরাধবোধ তাকে নুইয়ে দেয়। খানিক সময় পর কিছুটা ধরা গলায় সে সুধায়–
—তোমার এখন কেমন লাগছে বাবা?
—ভালো।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর। টনির ইচ্ছে হয় না জাফর সাহেবের সাথে কথা বাড়াতে। বড্ড বিতৃষ্ণা হয় তার সাথে কথা বলার কালে। তাই সে চোখ বন্ধ করে নেয় উত্তরটা দেওয়ার পরপরই।
তাদের দু’জনের নিস্তব্ধতার মাঝেই সেখানে এসে হাজির হয় এক অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি, যার কারণেই আজ জাফর সাহেব আর টনির মাঝে এত দূরত্ব। ব্যক্তি হলো, জাফর সাহেবের দ্বিতীয় স্ত্রী রোকেয়া বেগম। দরজা খোলার আওয়াজ টনি আর জাফর সাহেব সেদিক টায় তাকায়। টনি ভাবে জাফর সাহেব বোধহয় চলে গিয়েছেন, এই ভাবনা থেকে চোখটা খুলেছিলো। কিন্তু চোখ খুলে সেই নিষ্ঠুর মহিলাকে দেখে টনির শরীর যেন আরো বিষিয়ে যায়।
রোকেয়া বেগম আঁচলে মুখ চেপে মেকিভাবে কাঁদতে কাঁদতে কেবিনে প্রবেশ করেন। তারপর টনির কাছে এসে ন্যাকামি করে কাঁদতে কাঁদতে বলে–
—টনি বাবা, তোমার এই অবস্থা কেন বাবা? ও আল্লাহ! আমার ছেলেটাকে তুমি সুস্থ করার বদলে আমাকে তুমি নিজের কাছে নিয়ে নাও খোদা।
মহিলা শুধু শুধুই হাউমাউ করে কাঁদছেন। না চোখ দিয়ে কোন পানি বের হচ্ছে, আর নাই বা চেহারায় তেমন দুঃখের ছাপ রয়েছে। তার উচ্চস্বরে কাঁদার কারণে টনির মাথা ধরে যায় সাথে সাথেই। সে প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে বলে–
—মি. ইসলাম আপনি প্লিজ আপনার স্ত্রীসহ বের হোন আমার কেবিন থেকে। আমার খারাপ লাগছে আপনাদের উপস্থিতির জন্য।
ছেলের খারাপ লাগার কথা শুনে জাফর সাহেব উত্তেজিত হয়ে পড়েন। সে টনির মাথায়, মুখে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন–
—কোথায় খারাপ লাগছে বাবা? আব্বুকে বলো, দাঁড়াও আমি ডাক্তার ডাকছি।
—স্টপ ইউর ননসেন্স ড্রামা। আপনি কি বুঝতে পারছেন না আপনার ও আপনার স্ত্রীর উপস্থিতিই আমার খারাপ লাগার কারণ? নাকি সবসময়ের মতো এবারও বুঝেও অবুঝ সাজার নাটক করছেন? প্লিজ লিভ মি এলোন। আরেকটা কথা, আপনাদের কারোর প্রয়োজন নেই আমার জন্য সহমর্মিতা দেখানোর বা আমাকে দেখতে আসার।
রোকেয়া বেগম পাশ থেকে বলে উঠেন–
—টনি বাবা, তুমি তোমার বাবার সাথে এমনভাবে কথা বলছো কেনো? সন্তানের অসুস্থতায় বাবা-মাই তো তার পাশে থাকে।
টনি রোকেয়া বেগমের কথায় প্রতিত্তোরে একটা কষ্টের হাসি দিয়ে বলে–
—ঠিক বলেছেন মিসেস ইসলাম। কিন্তু একটু মিস্টেক আছে আপনার কথায়। সেটা হলো, আপনারা আমার বাবা-মা নন। আমার মা একযুগের অধিক সময় আগে মারা গিয়েছেন, আর আমার পিতাও তার কয়েক বছর পর মারা যান। বর্তমানে আমি এতিম।
—টনি….
ভেজা গলায় ডেকে ওঠেন জাফর সাহেব। টনি থামায় না নিজের কথা,
—আপনাদের মেয়ের টিচার হিসেবে আমায় দেখতে এসেছেন, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। এবার আপনারা আসতে পারেন। আমি রেস্ট নিতে চাচ্ছি।
কথাটা শেষ করে টনি চোখ বন্ধ করে নেয়। জাফর সাহেব কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে চেয়ে থাকেন ছেলের দিকে। তার অবহেলা, অনাদর ও নিষ্ঠুরতা আজ তার ছেলের মন থেকে তাকে মুছে দিয়েছে। সে খেয়াল করেছে কিছুক্ষণ আগে, জাওয়াদের বাবা মি.শেখের সাথে টনি যতটা আন্তরিকতা, সম্মান, ভালোবাসার সহিত কথা বলে, তার ছিটেফোঁটাও থাকে না তার সাথে কথা বলার সময় টনির মাঝে। উপরন্তু তখন টনির হাবভাব দেখে মনে হয়, সে নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধ কোন অপ্রিয় কাজ করছে।
বাবা হয়ে কতটা পর হয়ে গিয়েছে সে তার সন্তানের কাছে যে, সামান্য কথা টুকু বলতে তার মধ্যে বিতৃষ্ণা কাজ করে। সে পিতা হয়েই এত অবহেলা সহ্য করতে পারছে না, তাহলে তার মা হারা ছেলেটি কীভাবে সহ্য করেছিল নিজের প্রতি হওয়া অবিচার গুলো?
জাফর সাহেব ভগ্ন হৃদয়, ক্লান্ত দেহ নিয়ে কেবিনের বাহিরে চলে আসেন। তার পেছন পেছন রোকেয়া বেগমও হাঁটা দেন। তারা হসপিটাল থেকে চলে আসার আগে জাফর সাহেব জাওয়াদকে অনুনয় করে বলেন–
—ছেলেটার ভালো-মন্দের আপডেট একটু কষ্ট করে দিও আমায়।
জাওয়াদ নীরবে সম্মতি দিয়ে জানায়, সে দিবে টনির আপডেট। জাওয়াদের থেকে আশ্বস্ত হয়ে জাফর সাহেব ও রোকেয়া বেগম চলে আসেন নিজেদের বাড়িতে।
হসপিটালে সাতদিন ডাক্তারদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাঝে দিন কাটে টনির। তার ডান পায়ে বেশ ভালোই ফ্যাকচার হয়েছে বলে এক্স-রে রিপোর্ট থেকে জানা যায়। টানা এক থেকে দেড় মাস সম্পূর্ণ বেড রেস্টের মধ্যে থাকতে বলেছে ডাক্তার তাঁকে।
এরই মাঝে টনির এক্সিডেন্ট হওয়ার পেছনের কারণ ইনভেস্টিগেশনের মাধ্যমে জানা গিয়েছে। টনি প্রত্যেকদিন সন্ধ্যা সাতটায় জিমে যায়, আসে নয়টায়। ঘটনার দিনও নয়টার দিকে জিম থেকে ফিরছিল। আকস্মিক এক গাড়ি এসে তাঁকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে, সে রাস্তায় মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পায়। সে ব্যথা সামলে ওঠার আগেই চার-পাঁচ জন মুখোশ পড়া লোক এসে তাঁকে আর্তকিতভাবে মারতে শুরু করে হকিস্টিক দিয়ে। মারার এক পর্যায়ে সে অজ্ঞান হয়ে গেলে, লোকগুলো চলে যায়।
টনি বর্ণনা করা ঘটনা বেশ সন্দেহজনক লাগায় পূর্ণতা পুলিশে রিপোর্ট করে। বিষয়টা এটেম টু মা”র্ডার কেস হওয়ায় ও পূর্ণতা নিজের পাওয়ার ব্যবহার করার পুলিশ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে কেসটা অনেকটাই সলভ করে ফেলেছে।
টনি যেই রাস্তায় এক্সিডেন্ট হয়েছিল, সেখানকার চৌরাস্তার মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। পুলিশ সেই সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ চেক করে টনির বলা গাড়ির মতোই এক গাড়ির খোঁজ পায়। গাড়িটির নেইম প্লেটে থাকা নাম্বারের মাধ্যমে তারা আসল কালপ্রিটকে ধরে।
টনিকে হ”ত্যা করার পেছনের মেইন কালপ্রিট আর কেউ না জিনিয়ার ভার্সিটির সিনিয়র সিফাত। সে পূর্বের ঘটনার রেশ টেনেই মূলত এই ঘটনাটা ঘটিয়েছে। বর্তমানে সিফাত ও তার সাথীরা পুলিশের কাস্টাডিতে রয়েছে।
গত সাতদিনের মতো আজও সাতসকালে জিনিয়া চলে এসেছে টনির সাথে দেখা করতে। এই সাতদিন জিনিয়া নিজের নাওয়াখাওয়া লাটে তুলে দিন-রাতের বেশিরভাগ সময় হসপিটালেই পড়ে রয়েছে। পারলে সে রাতেও থেকে যেতো, কিন্তু রাতে হসপিটালে থাকার নিয়ম নেই বলে থাকতে পারে নি। বহুবার বলেকয়েও তাকে স্বাভাবিক করা যায় নি। তার মনে এখনও টনিকে হারিয়ে ফেলার ভয় কাজ করছে।
জিনিয়ার তার মাকে হারিয়ে ফেলার ট্রমা আবারও ফিরে এসেছে টনির এক্সিডেন্টের পর। তাঁকে জাওয়াদ-পূর্ণতা জোর করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে, ডাক্তার সাজেস্ট করে, তাঁকে তার মতো কিছুদিন থাকতে দিতে। সে যা করতে চাইছে তাই করতে দিতে। পরিস্থিতির সাথে সাথে সেও আগের মতোই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
জিনিয়া এসে টনিকে ব্রেকফাস্ট করায়। টনি খেতে খেতে একধ্যানে জিনিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। বিষয়টা জিনিয়া খেয়াল করে স্মিত হেঁসে জিজ্ঞেস করে–
—কি দেখছেন ওমন করে?
—দেখছি কারো ভালোবাসা কতটা সুন্দর হয়। সারাজীবন অবহেলা, অনাদর, ভালোবাসাহীন ভাবেই বড় হয়েছিল তো, তাই এই বিষয়ে এক্সপেরিয়েন্স একদমই জিরো। আচ্ছা একটা কথা বলো তো।
—কি?
—আমায় কি দেখে ভালোবাসলে এত? আমার মতো এতিম, চারকুল বিহীন ছেলেকে এত ভালোবাসার কারণ কি মিস জিনিয়া শেখ?
—সত্যি বলবো? মন খারাপ করবেন না তো?
ঠোঁটের কোণে এক টুকরো দুষ্টমি হাসি নিয়ে বলে জিনিয়া। টনি ডানে-বামে মাথা নাড়িয়ে জানায়, সে মন খারাপ করবে না। জিনিয়া এরপর তার হাতের স্যুপের বাটিটা বেডের পাশের ছোট টেবিলের উপর রেখে টনির কাছে এগিয়ে আসতে শুরু করে। তাকে এগোতে দেখে টনি থতমত খেয়ে যায়। তাও কিছু বলে না। জিনিয়া তার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিসিয়ে বলে–
—কজ আই ওয়ান্ট মাই ফিউচার চিলড্রেন টু হ্যাভ অ্যা ড্যাম ইনোসেন্ট, হ্যান্ডসাম অ্যান্ড হট পাপা—জাস্ট লাইক ইউ। আর চোখের সামনে এমন ভোলাভালা, হট এন্ড হ্যান্ডসাপ ছেলে থাকায় তাঁকে হাত ছাড়া করতে চাই নি। তাই ভালোবেসে ফেললাম।
কথাটা বলে জিনিয়া আবারও আগের জায়গায় এসে বসে মিটমিট করে হাসতে থাকে। আর টনি আহাম্মকের মতো হা করে তাকিয়ে থাকে তার দিকে।
আরো চারদিন হসপিটালে কাটানোর পর আজ টনির বাসায় যাওয়ার পালা। টনির রিলিজের কথা শুনে জাফর সাহেব সকাল সকাল এসে পড়েছেন ছেলেকে নিজের সাথে নিয়ে যাবেন বলে।
হসপিটালের সব বিলস মিটিয়ে দেওয়ার পর জাফর সাহেব টনিকে তার সাথে যাওয়ার কথা বলে, টনি এক বাক্যে তাঁকে মানা করে দেয়। জাফর সাহেব হাজারবার অনুরোধ করেও যখন তাঁকে মানাতে পারে না, তখন সে তার একটি গোপন অ”স্ত্রের ব্যবহার করে। সে তার কোর্টের পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে এগিয়ে দেয় টনির সামনে। টনি কাগজটির দিকে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে–
—এটা কি দিচ্ছেন আমায়?
—খুলেই দেখো না, হয়ত তোমার জন্য মূল্যবান কিছু।
টনি হাত বাড়িয়ে ভাজ করা কাগজটি হাতে তুলে নেয়। কাগজটিকে দেখতে অনেকটা চিঠির মতোই লাগছে। সে কাজ খুলে চিঠিটা পড়তে শুরু করে। সময় যতই যাচ্ছে, ততই তার কোঁচকানো ভ্রু সোজা হয়ে যাচ্ছে। চোখে অল্প-বিস্তর পানি জমছে।
কাগজটি মূলত টনির মায়ের লেখা শেষ চিঠি। যেটা সে টনির জন্য লিখে রেখে গিয়েছিল নিজের অন্তিম মূহুর্তে। চিঠিটার সারমর্ম কিছুটা এমন, টনি যেন কখনো তার বাবার বাড়ি ছেড়ে চলে না যায়। এই বাড়িতে টনি ব্যতীত টনির মায়ের একটি অংশ রয়েছে। টনির বাবার বিজনেসে একবার বড়সড় ক্ষতি হওয়ায়, তখন টনির মা নিজের বিয়ের সময়কার অনেকগুলো গহনা দেন টনির বাবাকে বিজনেসের পেছনে লাগানোর জন্য। বিজনেসটা সেই টাকায় আবারও উঠে যাওয়ার পর গহনার টাকাগুলো জাফর সাহেব তার স্ত্রীকে ফেরত দিতে চাইলে, টনির মা সেই টাকা দিয়ে বাড়ি বানানোর প্রস্তাব দেন। তাই বাড়ির ৫০শতাংশ ভাগ টনির নামেই রয়েছে। তাই তার মা বলেছেন, সে যেন কোন ক্রমেই এই বাড়ি দাবী না ছাড়ে আর নাই বা বাড়ি ত্যাগ করে কোন কারণে।
অনিচ্ছায় সত্ত্বেও টনি চিঠিটা পড়ার পর রাজি হয় জাফর সাহেবের সাথে যেতে। জাফর সাহেব খুশি মনে ছেলেকে ধরে ধরে নিয়ে নিজের গাড়িতে বসান।
সময় তার আপন নিয়মে কেটে যেতে থাকে। দিন পেরিয়ে সপ্তাহ, সপ্তাহ পেরিয়ে মাস অতিক্রম হয়ে যায়। জাওয়াদ-পূর্ণতা, আরিয়ান-আরওয়া, টনি-জিনিয়া সকলের জীবনই স্থিতিশীল বিরাজমান। ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, টনি পুরোপুরি সুস্থ হলে আর জিনিয়ার ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হলে তাদের চার হাত এক করে দেওয়া হবে।
জাওয়াদ-পূর্ণতার জীবন ব্যস্ততায় ঘেরা। জাওয়াদ দু’দিন হলো ম্যাপেল লিফের দেশ কানাডার টরন্টো শহরে গিয়েছে। কারণে, সেখানে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে একমাসব্যাপী “Toronto International Fashion & Trade Expo”। এটি মূলত একটি ফ্যাশন ইভেন্ট। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা ফ্যাশন হাউস, ডিজাইনার, পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মিলনমেলা এটি ইভেন্ট।
জাওয়াদের কোম্পানি “ঐতিহ্য”–ও এবার প্রথমবারের মতো সেই মর্যাদাপূর্ণ আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। পুরো এক মাসজুড়ে চলবে নতুন কালেকশন প্রদর্শনী, ফ্যাশন শো, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে বিজনেস মিটিং, ব্র্যান্ড কোলাবোরেশন, ফ্যাশন সেমিনার এবং নতুন ডিজাইন উন্মোচনের নানা আয়োজন। তাই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজের চাপে ডুবে থাকতে হচ্ছে তাকে। নিজের কোম্পানিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার এই সুযোগটি কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চায় না জাওয়াদ ও মাহবুব।
জাওয়াদকে ছাড়া পূর্ণতা ও তাজওয়াদের অবস্থা অনেকটাই পানি বিহীন মাছের মতো। তার উপর আজ স্কুল থেকে বাসায় এসে তাজওয়াদ তার রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে বসে আছে। হ্যাঁ, তার জন্যও একটি নির্দিষ্ট রুম রয়েছে যেখানে সে শুধু পড়ালেখা, খেলাধুলা আর মন খারাপের সময়গুলো কাটায়। বাকি সময় সে হয়ত তার বাবা-মায়ের রুমে থাকে নাহয় পিপি, নাহয় দাদাভাইয়ের রুমে কাটায়। পূর্ণতা কতক্ষণ ধরে এক নাগারে ডাকার পরও যখন তাজওয়াদ দরজা খুলে না, তখন তার একটু চিন্তা হতে থাকে। তার ছেলের এমন কঠিন মন খারাপ খুব কমই হয়েছে।
পূর্ণতা আদুরে গলায় আকুতি করে বলে–
—তাজ, আমার সোনা বাচ্চা কি হয়েছে মাম্মাকে বলো সোনা। তোমার কি নিয়ে এত মন খারাপ যে দরজা আটকে বসে আছো? কলিজা দরজা খুলো, মাম্মার তো টেনশন হচ্ছে এখন। এখন কিন্তু মাম্মা কান্না করে দিবো।
মায়ের আকুতিভরা অনুরোধ আর কান্না করার কথা শুনে তাজওয়াদ আর দরজা না খুলে পারে না। মলিন মুখ নিয়ে দরজা খুলে দিয়ে আবারও বেডে গিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে বালিশে মুখ গুঁজে দেয়।
পূর্ণতাও গিয়ে বেডে তার পাশে শুয়ে পড়ে। ছেলেকে নিজের বুকে আনতে চায়, কিন্তু তাজওয়াদ জেদ দেখিয়ে আসে না। পূর্ণতা উপায় না পেয়ে আলতো ভাবে তাজওয়াদের পিঠের উপর শুয়ে পড়ে। এতে তাজওয়াদ কিছুটা হকচকিয়ে যায় যদিও, তারপরও সে মুখ তুলে না বালিশ থেকে।
পূর্ণতা ভালো করে খেয়াল করলে শুনতে পায়, তাজওয়াদ ঘন ঘন নাল টানছে। এমনটা সে তখনই করে যখন সে কাঁদে। সকালেও ছেলেটা কত হাসি-হাসি মুখে স্কুলে গেলো। কিছুক্ষণ পর তাজওয়াদ ফুপাতে ফুপাতে বলে…..
[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন। ]
#চলবে?
[বাহিরে গিয়েছিলাম, এসেই সাথে সাথে পোস্ট করলাম। সরি ফর লেট। রিচেক দেওয়ার সময় পায় নি।
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স। ] See less
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৫৩.১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩৯.১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৯
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৬১.১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৭
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৫২.৩
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪৪.১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৩
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১০