শেষপাতায়সূচনা [৫১.৩]
সাদিয়াসুলতানামনি [ইটিশপিটিশ মার্কা পর্ব 🙈 সাবধান! ১৮+এলার্ট⚠️]
[নিচের লেখাগুলো সব্বাই পড়বেন। যে পড়বে না সে হাউন আঙ্কেল। 🔪😾😒
লেট মি ক্লিয়ার সামথিংস গাইজ, গত পর্বে আপনারা আবারও জাওয়াদের বিপক্ষে চলে গিয়েছে। জাস্ট বিকজ, সে তার মায়ের কাছে তাজকে রেখে এসেছে আর পূর্ণতা তার মাকে কটাক্ষ করায় জাওয়াদ হাত তুলতে চেয়েছে।
আমি এত গভীর কিছু ভেবে লেখাটা লেখিনি। তাও আপনারা আবারও ওকে অপছন্দের তালিকায় ফেলায় বিষয়টা আমায় ক্লিয়ার করতেই হলো।
জাওয়াদ জিনিয়ার কাছে তাজওয়াদকে রেখে এসেছে। এখন জিনিয়ার সাথে থাকা মানে তাজওয়াদ তার দাদা-দাদী দু’জনেরই সাহচর্যে থাকবে। তাই নয় কি? আর মিসেস শেখ কেন নিজের নাতিকে মারতে চাইবেন? যেখানে একদম শুরুতেই সে আফসোস করেছিল, তার পূর্ণতার পেটে তার ছেলের সন্তান আসলে সে ছুঁতেও পারবে না। পর্বটা ছিল ৩৪। মনে না থাকলে পুনরায় দেখে নিয়েন।
আরেকটা কথা, জাওয়াদ হাত তুলতে চেয়েও নামিয়ে ফেলেছিল। একই ভুল সে দ্বিতীয়বার কিন্তু করেনি। এমনিতেই তার মেজাজ খারাপ ছিল, পূর্ণতা আবারও পালিয়ে যাওয়ার সংবাদ শুনে। তাই হয়ত ওভার রিয়াক্ট দেখিয়ে ফেলেছি। কিন্তু ওর খারাপ রিয়াক্টের আড়ালে কষ্টটাকে একটু উপলব্ধি করার চেষ্টা করবেন। পাঁচটা বছর দুইজন প্রিয় নারীর থেকেই সে দূরে ছিল। একজনকে সে নিজ দোষে হারিয়েছে, আরেকজনকে সে নিজে ত্যাগ করেছে। অথচ উভয় নারীই একসময় তার জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
তাছাড়া গত পর্ব পড়ে আপনাদের একটা বিরাট সংখ্যা, জাওয়াদের সাথে মিল চাচ্ছেন না। অথচ গত পর্বের আগের পর্বেই সবাই আমাকেই তুলোধুনো করছিলেন, কেন পূর্ণতা এত দেমাগ দেখাচ্ছে? ভালোবাসলে ছাড় দেওয়া শিখতে হয়, ইত্যাদি ইত্যাদি…..
আমার মনে হচ্ছে, জাওয়াদ যথেষ্ট শাস্তি পেয়েছে। সেটা শারীরিক হোক আর মানসিক। আমি বলবো, ও মানসিক শাস্তিই বেশি পেয়েছে।
গল্পটা অলরেডি অনেক বড় হয়ে গিয়েছে, যার দরুন অনেকেই পড়া ছেড়ে দিয়েছেন। তাই আর টানতে চাচ্ছি না। সুন্দর একটা সমাপ্তি দেখিয়ে শেষ করতে চাচ্ছি। আর প্যাচ লাগাতে বলিয়েন না আপনারা।]
জাওয়াদ আড়চোখ পূর্ণতাকে শান্ত হতে দেখে জিনিয়াকে বিদায় জানিয়ে কলটা কেটে দেয়। তারপর পূর্ণতাকে বলে–
—”কি বিশ্বাস হলো তো আমাদের ছেলে তার বাড়িতে সেফ আছে?”
—”আপনার কথায় একটু কারেকশন করতে হবে, মি.শেখ। কথাটা, তার বাড়ি না ঐটা। তার মায়ের উপার্জনে কেনা বাড়িই তাজওয়াদ আহমেদ আদরের আসল বাড়ি। আর বর্তমানে আমায় ছাড়লে উপকৃত হতাম। একজন নোংরা চরিত্রের মেয়েকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে রেখেছেন কতক্ষণ ধরে। আয়হায় রে! আপনার চরিত্রে দাগ লাগল বলে।”
পূর্ণতার এমন কটাক্ষপূর্ণ কথায় জাওয়াদের বুক জ্বলে ওঠে। এসবগুলোই একদিন সে নিজেই পূর্ণতাকে বলেছিল, আজ সময়ের চাকা ঘুরেছে। পূর্ণতা আজ আর তাকে পাগলের মতো ভালোবাসতে চায় না, বরং তার একমাত্র অস্তিত্বকে নিয়ে দূরে চলে যাওয়ার কত পাঁয়তারাই না এই রমণীটির। কিন্তু জাওয়াদ যে তাদের দু’জনকে ছাড়া নিজেকে ভাবার ধৃষ্টতা টুকু করতে পারে না।
জাওয়াদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পূর্ণতাকে কোলে তুলে নিয়ে বেডে দিকে আগাতে থাকে। এদিকে পূর্ণতাও থেমে থাকে না। হাত-পা ছুঁড়াছুঁড়ি করতে থাকে, জাওয়াদের বুকে-পিঠে চড়-থাপ্পড় বেশ কয়েকটা দিয়েও দিয়েছে ইতিমধ্যে। এক্সটেনশন করা নেইলস গুলো দিয়ে গলা ও মুখের কিছু অংশ রক্তাক্তও করে দিয়েছে। কিন্তু এতকিছুর পরও জাওয়াদ তাকে ছাড়ে না। উপরন্ত, বেডের কাছে নিয়ে গিয়ে একপ্রকার ছুঁড়ে ফেলে পূর্ণতাকে। আকস্মিক এমন বেহাল ভাবে পরায় পূর্ণতা কোমড়ে ব্যথা অনুভব করে।
প্রেগ্ন্যাসির পর মাতৃত্বের ছাপ পড়েছে পূর্ণতার গতরে। স্লিম ফিগারের আনাচে কানাচে কিঞ্চিত মেদ জমেছে। গাল দুটোয় আগের থেকে আরো বেশি আদুরে হয়েছে, যা জাওয়াদের প্রেম প্রেম ভাব টাকে আরেকটু বাড়িয়ে দেয়।
এককথায়, এই পূর্ণতায় জাওয়াদ তার জান দেয়। সে নিজেই এখন নিজের পূর্বের বোকামির জন্য আফসোস করে। কি না করেছে মেয়েটা তাকে ভালোবেসে। আর সে কি করলো? খুবই সুন্দর ভাবে মেয়েটাকে ভেঙে গুড়িয়ে দিল। তার জীবনের সবচাইতে বড় বিষাদের কারণ হলো।
পূর্ণতা কোমড়ে হাত রেখে চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ মালিশ করল। ব্যথায় চোখমুখ খিঁচে এসেছে। ব্যথাটা যখন একটু কমে আসল তখন সে চোখ খুলে তাকালো, আর তখনই তার আত্মাটা দেহ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চাইল।
শার্টলেস হয়ে জাওয়াদ পূর্ণতার অনেকটা কাছে চলে এসেছে। চোখেমুখে তাকে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা সহজেই পূর্ণতার চোখে ধরা পরে। জাওয়াদকে একদম সেই দিনটার মতো লাগছে, যেদিন জাওয়াদ তাকে নেশা ঘোরে কাছে টেনে নিয়েছিল আর পূর্ণতার জীবনের বিষাদময় দিনটার সূচনা হয়েছিল।
পূর্ণতা পল্টি দিয়ে সরে যেতে চায়, কিন্তু জাওয়াদ তার এলোমেলো চুলগুলো নিজের হাতের মুঠোয় চেপে ধরে তাকে নিজের সর্বোচ্চ কাছে নিয়ে আসে, তারপর কোন আগাম বার্তা ছাড়াই দুইজনের ঠোঁটের সন্ধি ঘটায়। পূর্ণ ভালোবাসা নিয়ে শুষে নিতে থাকে পূর্ণতার ওষ্ঠের সুধা।
পূর্ণতা ছটফট করতে থাকে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য। সে চায় না এই লোকের সাথে দ্বিতীয় বারের মতো বাঁধা পরতে। একবার তো চেষ্টা করেই ছিল, ফলাফল আজও ভুগছে। একই ভুল বারবার করতে চায় না, তাই সে নিজের উন্মুক্ত হাত দ্বয় দিয়ে জাওয়াদকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে।
নিজের কাজে বাঁধা প্রাপ্ত হওয়ায় জাওয়াদ বেশ বিরক্তবোধই করে। সে তার অপর হাত দিয়ে পূর্ণতার হাত দুটোকে নিজের মুঠোয় নিয়ে পিঠের পেছনে বেঁকিয়ে ধরে। তারপর চুমু দিতে দিতে বেডের সাথে শুয়ে দেয় পূর্ণতাকে। নিজেকে কোনভাবেই মুক্ত করতে না পেরে পূর্ণতা মাথা ডান-বামে করতে থাকে। জাওয়াদ এইবারও বিরক্তবোধ করায় পূর্ণতাকে চুমু দেওয়া বন্ধ করে তার ঠোঁট কামড়ে ধরে। ব্যথায় পূর্ণতা চোখজোড়া বন্ধ করে নেয়।
মুখের ভেতরে নোনতা নোনতা অনুভব করায় জাওয়াদ বুঝতে পারে পূর্ণতার ঠোঁট কেটে রক্ত বের হচ্ছে। সে চোখ খুলে দেখে পূর্ণতার বন্ধ চোখের কোণ বেয়ে অবিরত অশ্রু গড়িয়ে পরছে। দৃশ্যটা অবলোকন করে জাওয়াদের বুকের পীড়া বাড়ে বৈ কমে না। সে পূর্ণতার ওষ্ঠ থেকে নিজের ঠোঁট সরিয়ে এনে তার গলায় মুখ গুঁজে দেয়।
জাওয়াদ সরে যেতেই পূর্ণতা হাঁপানি রোগীদের মতো বড় বড় করে শ্বাস নিতে থাকে। বর্তমানে পূর্ণতার সবচাইতে বড় অপনেন্ট তারই স্বামী জাওয়াদ শেখ, যে কিনা নিজের ভালোবাসা দিয়ে পূর্ণতাকে পুনরায় জয় করতে চাইছে। কিন্তু অতীতের বিশ্রী সব স্মৃতি পূর্ণতাকে ভীত করে তুলছে। পূর্ণতার মতো মানুষ কখনোই নিজের অপনেন্টের সামনে চোখের পানি ফেলতে ইচ্ছুক নয়, কিন্তু আজ তার অশ্রুগুলোও যেনো তার সাথে বেঈমানী করছে। তার অনুমতি ব্যতীতই আপনাআপনিই গড়িয়ে পড়ছে।
ইতিমধ্যে, জাওয়াদ পূর্ণতার পিঠের দিকে শাড়িতে লাগানো সেপ্টিফিন খুলে ফেলেছে। ব্যস্ততার সহিত পূর্ণতার আঁচলটাও সরিয়ে দেয় বুকের উপর থেকে। তারপর সেখান টায় নিজের ভালোবাসার স্পর্শ দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। পূর্ণতা ফ্যাসফ্যাসানো গলায় কেঁদে ওঠে। চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলে–
—”ছাড়ুন অসভ্য, শয়তান লোক। আমার কাছে আজ কেনো আপনার এত পাগলামি? আজও রাতের আঁধারে নিজ ইচ্ছেতে আমাকে কাছে টেনে নিবেন, তারপর কাল দিনের আলোতে একটা অজুহাত টেনে আমাকে চরিত্রহীন অ্যাখ্যায়িত করে ছুঁড়ে ফেলবেন আপনার জীবন থেকে।
আপনাকে ভালোবেসে আমি মস্তবড় ভুল করেছি। কেন এলেন আমার সাজানো গোছানো জীবনটাকে এলোমেলো করে দিতে? চলে যান আমার জীবন থেকে, আমাদের জীবন থেকে। আপনি কখনোই আমার আকাঙ্ক্ষিত শ্যামসুন্দর পুরুষ ছিলেন না। আমার শ্যামসুন্দর পুরুষের মন এত কঠোর না, আমায় এত কষ্ট দিতে পারত না সে কখনোই।”
জাওয়াদের চোখও এতক্ষণে ভিজে উঠেছে। সে পূর্ণতার বুক থেকে মুখ উঠিয়ে তার মুখের কাছে আসে। তারপর তার দুই গালে হাত রেখে অস্থির গলায় বলতে থাকে–
—”জান, এই জান! আমিই তোমার শ্যামসুন্দর পুরুষ। আর একবার বিশ্বাস করে ভালোবেসে হাতটা ধরো। ঐ উপরওয়ালাকে স্বাক্ষী রেখে বলছি, এই দেহে রুহ থাকা অব্দি কখনো তোমাকে বিন্দু মাত্র কষ্টের আচ পেতে দিবো না। আর একবার ভালোবাস আমায় আগের মতো করে, প্লিজ সোনা! আমি মরে যাচ্ছি তোর চোখে এত অবহেলা দেখে।
জান রে! প্লিজ আমায় মাফ করে দেও। আমি ধোঁয়াশায় ছিলাম ঐদিন গুলোয়। তোমার প্রতি আমার অনুভূতি জন্ম নিয়েছিল বিয়ের পরপরই, কিন্তু মায়ের ষড়যন্ত্র আর আমার মিথ্যে জিদের বসবর্তী হয়ে তোকে এত কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। বিশ্বাস করো, এই পাঁচটা বছরে এমন একটা দিন যায় নি যেদিন আমি তোমার কথা মনে করে কাঁদি নি। প্লিজ আমায় আপন করে নাও তোমার। আমার একটা সুখের সংসারের অনেক শখ। তুমি, আমি আর আমাদের তাজওয়াদ।”
জাওয়াদ পূর্ণতার কপালের সাথে কপাল ঠেকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলে। জাওয়াদের চোখের পানি টপটপ করে পূর্ণতার চোখের উপর পরছে, তারপর সেই পানি পূর্ণতার চোখের পানির সাথে মিশে গড়িয়ে পরছে কানের পাশ দিয়ে।
—”এতই সহজ সব ভুলে যাওয়া? আপনার বাবা-মা, বোন সব থাকার পরও একটা সুখের সংসারের কত শখ। আর আমি? আমার তো কিছুই ছিল না একটা বাবা ছাড়া। আমার শখ হয় নি নিজের সুখের সংসার সাজাতে? ছোট থেকেই আমার শখ না স্বপ্ন ছিল একটা সাজানো গোছানো সংসারের। আপনি জানতেন না এসব? হাজার বার বলিনি আপনাকে এসব আমি? তাও আপনি খুবই সুন্দর ভাবে আমার স্বপ্নকে মৃত্যু দিয়েছেন। আমায় আপনাকে নিয়ে না ভাবতে বাধ্য করেছেন, আমায় চিরজীবনের জন্য বিচ্ছেদের যন্ত্রণা দিয়েছেন। আমি তো মেনেই নিয়েছি আপনার সব চাওয়া। তাহলে আজ কেনো আপনার এমন পাগলপানা?”
—”ভালোবাসি তাই।”
দুই শব্দের ছোট একটি উত্তর। কিন্তু পূর্ণতার হাজারো প্রশ্নের উত্তর যেনো এতেই বন্দি। জাওয়াদ পূর্ণতার কপালে, গালে, চোখে, থুতনিতে চুমু দিতে দিতে বলে–
—”ভালোবাসি জান। ভীষণ, ভীষণ, ভীষণ ভালোবাসি তোমাকে। তোমাকে এতটা ভালোবাসি যে, নিজেকে ভালোবাসতেও ভুলে গিয়েছি। আমার বেঁচে থাকার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছ তুমি।”
জাওয়াদের এমন পাগলের ন্যায় করা আচরণ ও তার কথা শুনে, পূর্ণতার এতদিনের কষ্ট যেনো কর্পূরের ন্যায় উড়ে যায়। একরাশ ভালোলাগা তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে। জাওয়াদের স্পর্শে যেনো তার সকল রাগ, অভিমান, অভিযোগ গায়েব হয়ে যেতে চায়।
কিন্তু পূর্ণতা সব ভুলে গিয়েও যেনো ভুলে না। সে এতক্ষণের হুড়োহুড়িতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছে, তারউপর আজ সারাদিন ছেলের টেনশনে খাওয়া হয়নি, অনেকটা দূর্বলও বলা যায় তাকে।
পূর্ণতা দূর্বল হাতে নিজেকে ছাড়ানোর প্রয়াস চালিয়ে মারতে থাকে আবারও। জাওয়াদ এবার কিছুটা আর্তনাদ করেই বলে–
—”আর মেরো না প্লিজ। বুক, কাঁধ মনে হচ্ছে কেউ মরিচ লাগিয়ে দিয়েছে।”
পূর্ণতা নিজেকে জাওয়াদের বাহুডোর থেকে ছাড়ানোর প্রয়াস চালায় জাওয়াদের বুক, উন্মুক্ত কাঁধ ও গালকে আহত করে।
সে জাওয়াদের অনুরোধ কানে তো নেয়ই না, উল্টো সে ডান হাত দিয়ে জাওয়াদের গালের একপাশ সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে খামচে ধরে বলে–
—”আমাকে না ছাড়া অব্দি আপনারও মুক্তি নেই। ছাড়ুন অসভ্য, লুচ্চু, ইতর লোক।”
জাওয়াদ তবুও তাকে ছাড়ছে না দেখে, পূর্ণতা জাওয়াদকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বলে–
—”সরুন তো আমার উপর থেকে বাল। ভালো লাগছে না আমার, বাসায় যাবো আমি। ছেলেকে কাল দিয়ে যাবেন আমার বাসায়।”
জাওয়াদ পূর্ণতার উপর থেকে সরে নাই, বরং তার খোলা হাত দুটোর মাঝে নিজের আঙুল গুঁজে দিয়ে বিছানার সাথে চেপে ধরে। তারপর নেশা ধরানো গলায় বলে–
—”যাবো তো জান বাসায়, কিন্তু আজ না কাল। আজ এখানে আমাদের এতদিনের পেন্ডিং হানিমুনটা করব, কাল তারপর শেখ ভিলায় যাবো। তোমার স্বপ্নের সংসার তোমার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তো। কিন্তু তার আগে ছেলেকে একটা বোন গিফট করার প্রসেসিংটা করে নেই।
জানো আজও স্কুল থেকে আসার পর আমাদের প্রিন্স আমায় বলেছে, ওর নাকি একটা বোন ইমিডিয়েটলি লাগবে। বেচারা ছেলে আমার, সারাদিন একা একা খেলতে খেলতে বোর হয়ে যায়।”
পূর্ণতা ছটফট করতে করতে উঁচু গলায় বলে–
—”নাটক করেন আমার সাথে আপনি? ছেলে কখন বলেছে আপনাকে এগুলো হ্যা? আমার ছেলে আমায় এতদিন বললো না, আর তার দুই দিন ধরে পরিচয় হওয়া বাপকে বোনের আবদার করেছে না?
নিজের ইচ্ছে আমার ছেলের নামে চাপিয়ে দিবেন না খবরদার। আর যদি করেও থাকে, তাহলে আপনাদের দুই বাপ-বেটাকে মাথার ওপর তুলে এমন আছাড় মা”রবো সব বোরিংনেস ছুটে যাবে।”
জাওয়াদ গোবেচারার মতো মুখ করে বলল–
—”কাল তোমার ছেলের কাছেই জিজ্ঞেস করে নিও বলেছে কিনা। কিন্তু আজ কোন ছাড়াছাড়ি নেই।”
—”আপনি জোর করবেন আমায়?”
জাওয়াদ একটা বাঁকা হাসি দিয়ে পূর্ণতার গালে ঠেসে একটা চুমু দেয়, তারপর একটা ভিলেনি হাসি দিয়ে বলে–
—”স্বামী ভালোবেসে আদর দিলে এটাকে জোর করা বলে জান? তাহলে তাই সই। বিজনেসের পাশাপাশি সংসার টাও বেশ হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে আমাদের। ঐতিহ্য ক্রিয়েশনস ভার্সেস আহমেদ গ্রুপ অফ ইন্ড্রাসটিস।। ব্যবসার জগতে আমাদের এমন যুগলবন্দীর কথা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে জান।”
পূর্ণতা অবাক হয়ে যায় ঐতিহ্য ক্রিয়েশনসের নাম শুনে। সে অবাক হয়ে বলে–
—”ঐতিহ্য ক্রিয়েশনস মানে……”
—”ইয়েস মাই লাভ। ঐতিহ্য ক্রিয়েশনসেরন ৫০% মালিক আমি। আপনার ওয়ান এন্ড অনলি জামাই জাওয়াদ শেখ।”
পূর্ণতা যেনো সাত আসমানের উপর থেকে ধপ করে মাটিতে পড়ে। যদিও সে জাওয়াদের বর্তমান বসতবাড়ি, চালচলন আর তার অফিসের নেইম-প্লেট দেখে কিছুটা সন্দেহ করেছিল। কিন্তু তার সন্দেহই যে সত্যি হবে সেটা সে ভাবতে পারেনি এই কয়েক বছরে জাওয়াদ এতটা সাফল্য অর্জন করেছে জানতে পেরে সে যেমন অবাক হয়েছে, তারচেয়েও বেশি খুশি হয়েছে।
পূর্ণতা তার খুশির দুনিয়ায় থেকে হুঁশে ফিরে কিছুক্ষণের মাঝেই, কিন্তু ততক্ষণে জাওয়াদ বহুদূর এগিয়ে গিয়েছে। জাওয়াদ পূর্ণতার উন্মুক্ত বক্ষে নিজের সুখের ঠিকানা পেতেই মরিয়া হয়ে ওঠে পূর্ণতাকে আরো কাছে পাওয়ার। পূর্ণতা জাওয়াদের হাত থেকে ছাড়া পেতে ছটফট করতে থাকে, জাওয়াদ তখন নিজের ভালোবাসার স্পর্শ দিতে দিতে বলে–
—”জান উপরে সিলিংয়ের দিকে তাকাও। দেখো তোমার শ্যামসুন্দর পুরুষ তোমায় কতটা পাগলের মতো চাইছে। তোমাকে নিজের ভালোবাসার স্পর্শে রাঙিয়ে দিচ্ছে। তোমায় আপন করে নেওয়ার উন্মাদনায় সে বুদ হয়ে আছে। ছটফট করে না, জাস্ট ফিল দিস মোমেন্ট জান।”
রুমটা আগে থেকেই হালকা আলোয় আলোকিত ছিল, পূর্ণতা জাওয়াদের কথামতো সিলিংয়ে লাগানো আয়নার দিকে তাকায়। জাওয়াদকে তার জন্য এতটা পাগল, ছন্নছাড়া হতে দেখে তার সারা শরীর বেয়ে শিহরণ বয়ে যায়। নিজের নারী জীবন স্বার্থক মনে হতে থাকে তার। তার মস্তিষ্ক তাকে বারবার বাঁধা দিতে বলে জাওয়াদকে, কিন্তু তার আজ চরম বেঈমানীতে মেতে উঠেছে।
পূর্নতা পুনরায় আর জাওয়াদকে বাঁধা দিতে পারে না তাকে ভালোবাসার থেকে। বরং নিজের অজান্তেই সেও জাওয়াদের সাথে তাল মেলায় আপন করে নেওয়ার আদিম খেলায়।
জাওয়াদ পূর্ণতার থেকে সাপোর্ট পেয়ে আরো উন্মাদ হয়ে যায়। সে ভালোবাসা নামক ঘূর্ণিঝড়ে পূর্ণতাকে উড়িয়ে নিয়ে যায় পূর্ণতার বহুল আকাঙ্ক্ষিত রাজ্যে। পারিপার্শ্বিক অবস্থা, রাগ, অভিমান ভুলে তারা দু’জন শুধু নিজেদের ভালোবাসতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
প্রায় ভোরের দিকে ঘুমিয়েও জাওয়াদের ঘুমটা আজ তাড়াতাড়িই ভেঙে যায়। চোখ খুলতেই তার পুরো শরীরে ভালোলাগাময় অনুভূতিদের ছুটাছুটি অনুভব করে। নিজের বর্তমান অবস্থানটা বুঝতে তার কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে, কিন্তু যখন সে বুঝতে পারে সে আর কোথাও না বরং তার বউয়ের বক্ষে আছে খুশিতে তার বুকটা নেচে ওঠে।
সে তার মাথাটা উঠিয়ে দেখে পূর্ণতা ভীষণ যত্ন করে তাকে বুকে আগলে রেখেছে নিজের সাথে। দৃশ্যটি দেখার পর খুশিতে কেমন পাগল পাগল লাগতে থাকে। এমনই একটা সকালের প্রার্থনা সে বিগত কয়েকবছর ধরে ওপরওয়ালার কাছে করে আসছিল। অবশেষে আজ তা পূরণ হলো।
জাওয়াদ আস্তে করে পূর্ণতার উপর থেকে সরে গিয়ে পাশে শুয়ে পরে। তারপর তার দিকে কাত হয়ে হাতের উপর মাথা রেখে একধ্যানে পূর্ণতাকে দেখতে থাকে। পূর্ণতা একদম রাজকন্যার মতো সুন্দর এখনও। খাড়া নাক, গোলাপের পাপড়ির ন্যায় ওষ্ঠ, টানা টানা চোখ, বড় বড় আইলেস আর চোখের উপরের ঘন ভ্রু। গায়ের রঙের কথা তো বাদই দিলাম, পূর্ণতার চৌদ্দগুষ্ঠীর সবাই এমন নজরকাঁড়া সুন্দর। পূর্ণতাও বংশ পরম্পরায় সেই সৌন্দর্যের অধিকারী হয়েছে। সব মিলিয়ে হাজারো যুবকের কাঙ্ক্ষিত রমণী আনাবিয়া আহমেদ পূর্ণতা।
জাওয়াদ তার হাত বাড়িয়ে পূর্ণতা তুলতুলে গাল টায় একটু আদর দেয়। পূর্ণতার এমন চকচকে নজরকাঁড়া রঙের পাশে নিজের তামাটে রঙটা বড়ই নজরে লাগে তার নিজেরই। ছোট থেকেই সে নিজেই তার শরীরের এই তামাটে বর্ণ নিয়ে হীনমন্যতা ভুগে। যার কারণে না সে আগ বাড়িয়ে কারো সাথে বন্ধুত্ব করতে পেরেছে আর না কাউকে ভালোবাসার মতো দুঃসাহসিক কাজ করেছে।
কিন্তু এই মেয়েটা তার মতো এই কৃষ্ণ বর্ণের মানুষের মাঝে কি যে এমন দেখেছে যে, সে এতটা পাগলের মতো করে তাকে চেয়েছে। এসব ভেবেই নিজের হাতটা পূর্ণতার গাল থেকে সরিয়ে নিতে চায়, তখনই পূর্ণতা ঘুমের ঘোরেই জাওয়াদের হাতটা টেনে ধরে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে তার দিকে পিঠ দিয়ে শুয়ে পরে। জাওয়াদের ভার হয়ে ওঠা মুখে হাসি ফুটে ওঠে।
জাওয়াদ পেছন থেকে পূর্ণতার চুলের ভাজে আদর দেয়। তারপর পূর্ণতাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে পুনরায় চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে যায়।
দূরে কোথাও আজানের সুরে পূর্ণতার ঘুমটা ভাঙে। আজ দীর্ঘ অনেকগুলো বছর পর এত লম্বা একটা ঘুম দিয়েছে। শরীরটা খানিক দূর্বল লাগলেও মনটায় প্রশান্তি ভর করেছে তার। ঘুম থেকে উঠে পূর্ণতা নিজেকে একটা জেন্স শার্ট পরিহিত অবস্থায় পায়। পূর্ণতা শার্টের কলারটা টেনে নাকের কাছে এনে মন ভরে ঘ্রাণ টেনে নেয়। সেই নেশা ধরানো ঘ্রাণ! মাথা ঝিমঝিম করে ওঠে তার ভালো লাগায়। ঠোঁটের কোণে এক চিলতে স্নিগ্ধ হাসি ফুটে ওঠে।
পূর্ণতা ঘাড় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জাওয়াদকে খুঁজে, কিন্তু তার বজ্জাত জামাই টাকে কোথাও দেখতে পায় না। বেড থেকে উঠে নিচে নামতে নিলে বেডসাইড টেবিলের উপর একটা ছোট্ট চিরকুট পায়। চিরকুটটা তার ফোনের নিচে ছিল। পূর্ণতা চিরকুট টা হাতে তুলে নিয়ে পড়া শুরু করে–
❝আমাদের জীবনে এমন স্নিগ্ধ সকাল অগণিত বার আসুক জান। শুভ অপরাহ্ন। আমি একটা কাজে যাচ্ছি, চেষ্টা করব তোমার ঘুম ভাঙার আগেই আসার। আর যদি তা করতে না পারি, তাহলে ভেবো না ছেড়ে চলে গিয়েছি। তোমাকে ছেড়ে যাওয়া মানে, নিজ হাতে নিজের রুহের মর্মান্তিক মৃত্যু দেওয়া। আমার গল্পের শেষ পাতায় সূচনা-ও শুধু তোমাকেই ঘিরে, প্রিয়।।❞
পূর্ণতা চিরকুটটা একবার, দু’বার পরপর অনেকবার পড়ে। তারপর চিরকুটটার উপর ঠোঁট ছুঁয়ে পূর্বের জায়গায় রেখে দেয়। কাউচের উপর তার জন্য রাখা ড্রেস গুলো নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায় ফ্রেশ হতে।
গুটিগুটি পায়ে হেঁটে এসে শুভ্র পাঞ্জাবি পরিহিত যুবকের পেছনে এসে দাঁড়ায় রমণীটি। চোখের কোল ঘেঁষে অশ্রুরা বিনা অনুমতিতেই পড়তে থাকে তার। সে হাত উঠিয়ে মুছে নেয় সেগুলো, কিন্তু সেকেন্ডের ব্যবধানে আবারও তার গাল ভিজে যায়। রমণীটি বহু কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়ে তার প্রিয় পুরুষের কাঁধে হাত রাখে। তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলে–
—একটু কাঁদুন তাজের পাপা। এমন পাথর হয়ে থাকবেন না। নিজের কষ্ট গুলো অশ্রু হয়ে ঝরে যেতে দিন। আপনাকে এমন শান্ত দেখে আমার বুক কেঁপে উঠছে বারংবার ভয়ে। প্লিজ একটু কাঁদুন। কেঁদে নিজেকে হালকা করে নিন। একটু কেঁদে স্বাভাবিক হন। আমাদের যে আপনি ছাড়া আর কেউ নেই। আপনার কিছু হয়ে গেলে, আমরা মা-ছেলে কীভাবে বাঁচব?
পুরুষটি আর নিজেকে আটকে রাখতে পারে না। প্রিয় নারীর বক্ষস্থলকেই বেছে নেয় নিজের অশ্রু বিসর্জনের উত্তম জায়গা হিসেবে। দিকশূন্যের ন্যায় পাগলের মতো কাঁদতে থাকে এই সুপুরুষটি। পূর্ণতাও গভীর মমতায় প্রিয় পুরুষটিকে আগলে নেয় নিজের বক্ষে। সময় দেয় তার কষ্টগুলো ঝরে যাওয়ার।
[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন।]
শব্দসংখ্যা~২৪০০
চলবে?
[কেন কাঁদছে জাওয়াদ এমন করে গেস করতে পারবেন কেউ? আজকের পর্ব পড়ার পরও যে আমাকে আর জাওয়াদকে আনরোমান্টিক বলবে, তার একদিন কি আমার যতদিন লাগে।😾🔪 এত বড় পর্ব দিলাম, রেসপন্সের ইপর ডিপেন্ড করবে নেক্সট পর্ব কখন পাবেন।😊
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪৩.২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১০
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৩
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩৯.২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৭
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৪