Golpo romantic golpo যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ

যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৪২


#যেখানে_প্রেম_নিষিদ্ধ

#ইশরাত_জাহান_জেরিন

#পর্ব_৪২

সিলেটের সেই শতাব্দী প্রাচীন জমিদার বাড়ির বিশাল নাচঘরের ভারী কাঠের দরজাটা যখন ভেতর থেকে খিল আঁটার মতো করে লক হয়ে গেল, তখন প্রত্যাশার মনে হলো তার চারপাশের চেনা পৃথিবীটা এক নিমেষে থমকে গেছে। জানালার ওপাশে তখনো আষাঢ়ের মেঘভাঙা বৃষ্টি আছড়ে পড়ছে, আর সেই একটানা শব্দে প্দেয়ালগুলোর শ্যাওলা মাখা অন্ধকার যেন আরও বেশি গাঢ় ও শ্বাসরোধকারী হয়ে উঠছে। সেটের রাজকীয় লাল পর্দা, ঝাড়বাতির আবছা আলো আর বাসি রজনীগন্ধার সুবাস মিলে এক দমবন্ধ করা মায়াজাল তৈরি করেছে। প্রত্যাশা তার লাল বেনারসি শাড়ির আঁচলটা দুই হাতে শক্ত করে মুচড়ে ধরে রাগে, ক্ষোভে আর অপমানে কাঁপতে কাঁপতে মীর আরবিন প্রাণের মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়াল। তার চোখের নোনা জল তখন বেনারসির ভারী কাজের ওপর টপটপ করে ঝরে পড়ছে। সে প্রাণের সেই জরি জড়ানো দামী শেরওয়ানির কলারটা নিজের দুই ফর্সা হাতে খামচে ধরে চিৎকার করে উঠল, “আপনি আমার সাথে এই জঘন্য চিটিংটা করতে পারলেন প্রাণ ভাইয়া? আপনি একজন সুপারস্টার হতে পারেন, মীর বাড়ির ছেলে হতে পারেন, কিন্তু এভাবে একটা মেয়ের ক্যারিয়ার, তার গোটা লাইফকে একটা সিনেমার নকল শটের আড়ালে আইনি ফাঁদে ফেলে ধ্বংস করার অধিকার আপনার নাই! আমি এই নাটক মানি না। কাল সকাল হতে দিন, আমি এই সেটের সবাইকে, পুরো ঢাকার মিডিয়াকে ডেকে প্রেস কনফারেন্স করব। মিডিয়া ট্রায়াল দেব আপনার নামে!”

সুপারস্টার প্রাণ একটুও রাগল না। তার সেই ধারালো ফর্সা চেহারায় কোনো অপরাধবোধের ছিটেফোঁটাও ফুটল না। বরং সে বড্ড আয়েশ করে, নিজের রাজকীয় পাগড়িটা খুলে টেবিলের ওপর রাখল। তারপর সোফায় দুই পা ছড়িয়ে বসে ঠোঁটের কোণে মীর বাড়ির সেই চেনা চতুর, শয়তানি হাসিটা ঝুলিয়ে দিল। সে এক ঝটকায় প্রত্যাশার কাঁপতে থাকা গয়না পরা হাত দুটো নিজের শক্ত, ফর্সা মুঠোয় টেনে নিয়ে বড্ড নিচু আর গম্ভীর গলায় বলল,

“মিডিয়া ট্রায়াল দেবে, বউ? এই মীর আরবিন প্রাণের ডিকশনারিতে ‘ডিফিট’ বলে কোনো শব্দ নেই, তা তো তোমার ভালো করেই জানা ছিল। নেক্সট ১২ ঘণ্টার মধ্যে আমার অফিশিয়াল ভেরিফাইড পেজ আর পিআর টিম থেকে আমাদের এই বিয়ের রিয়েল ছবি আর লিগ্যাল কাবিননামার হাই-ডেফিনিশন কপি প্রেস রিলিজে চলে যাবে। অলরেডি সাব-ডিরেক্টরকে দিয়ে আমি ঢাকার বড় বড় নিউজ পোর্টালগুলোতে খবর পাঠিয়ে দিয়েছি। কাল সকালে পুরো বাংলাদেশের ব্রেকিং নিউজ হবে, ‘সিনেমার সেটেই রিয়েল লাইফ পরিণীতাকে ঘরে তুললেন সুপারস্টার প্রাণ!’ এখন বলো নেত্রী, কোন মিডিয়া তোমার এই চিটিংয়ের থিওরি গিলবে? সবাই ভাববে এটা আমাদের আগে থেকে করা প্ল্যান ছিল, যা আমরা সিনেমার প্রমোশনের জন্য আজ এক্সিকিউট করেছি। মীর বাড়ির ছেলেদের পাতা ফাঁদ বড্ড নিখুঁত হয় প্রত্যাশা, এখান থেকে ওড়ার ডানা তোমার নাই।” প্রত্যাশা প্রাণের এই মারাত্মক, ছক কষা চালের গভীরতা দেখে এক মূহূর্তে স্তব্ধ হয়ে গেল। তার মুখ দিয়ে আর কোনো শব্দ বের হলো না। সে শুধু হা করে তাকিয়ে রইল এই বেপরোয়া পুরুষের দিকে, যে তাকে ভালোবেসে নিজের খাঁচায় বন্দি করতে গোটা একটা সিনেমার সেটকে অবলীলায় ব্যবহার করে ফেলেছে!

সোমবার ভোর পাঁচটা। কুয়াশা আর আষাঢ়ের হালকা মেঘের চাদর ভেদ করে সিঙ্গাপুর চাঙ্গি এয়ারপোর্ট থেকে বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর বিমানটি যখন রানওয়ে ছেড়ে রানীর মতো আকাশে ডানা মেলল, তখন বিমানের ভেতরে এক থমথমে উত্তেজনা। এয়ার হোস্টেস সিয়া তার নেভি-ব্লু অফিশিয়াল ইউনিফর্ম পরে, চুলে নিখুঁত খোঁপা আর ঠোঁটে গাঢ় লাল লিপস্টিক লাগিয়ে ইকোনমি ক্লাসের প্যাসেঞ্জারদের বড্ড পেশাদার হাসিতে কফি সার্ভ করছিল। সিয়ার বুকের ভেতর তখন আনন্দের এক লক্ষীছাড়া ঢেউ! সে মনে মনে ভাবছে, সে তো বড্ড নাটক করে, নিজের জামা ছিঁড়ে মীর তাজকে এক্কেবারে কোণঠাসা করে বিয়ের ডেট পাকা করে ফেলেছে। এই মীর বাড়ির চিফ ক্যাপ্টেনকে ফাঁদে ফেলে সে এখন যেন মেঘের ওপর মেঘ জমিয়ে ভাসছে। কিন্তু সিয়া জানত না, মীর তাজের মতো সিভিল এভিয়েশনের সবচেয়ে কড়া, ডিসিপ্লিন্ড আর ধুরন্ধর অফিসারের মনের ভেতরের রাডার রিড করা সাধারণ কোনো মেয়ের পক্ষে সম্ভব নয়। ঘণ্টাখানেক পর, বিমান যখন মাঝ-আকাশে ৩৫ হাজার ফুট ওপরে একদম স্ট্যাবল কন্ডিশনে উড়ছে, তখন সিয়া গ্যালিতে এসে এক কাপ ব্ল্যাক কফি রেডি করছিল। ক্রু-রুমের এই অংশটায় তখন অন্য কোনো অ্যাটেনডেন্ট ছিল না। ঠিক তখনই গ্যালির স্লাইডিং ডোরটা বড্ড শক্ত হাতে কেউ এক ঝটকায় টেনে লক করে দিল। সিয়া চমকে উঠে ঘুরে দাঁড়াতেই তার হাতের কফির কাপটা সামান্য কেঁপে উঠল। সামনে দাঁড়িয়ে আছেন স্বয়ং চিফ ক্যাপ্টেন মীর তাজ! পরনে তাঁর চারটে গোল্ডেন স্ট্রাইপ ওয়ালা ধবধবে সাদা শার্ট, নেভি ব্লু ট্রাউজার আর মাথায় সেই রাজকীয় এভিয়েশন ক্যাপ। তাজের সেই ফর্সা, পাথুরে গম্ভীর চেহারায় আজ এক খতরনাক মাদকতা। সে বড্ড মাপা কদমে এগিয়ে এসে সিয়ার একদম মুখোমুখি দাঁড়াল। তার চোখ থেকে কালো রিবন সানগ্লাসটা খুলে যখন সিয়ার কম্পিত ঠোঁটের ওপর রাখল, সিয়ার মনে হলো বিমানের কেবিন প্রেশার বুঝি এক নিমেষে ড্রপ করেছে! তাজ সিয়ার একদম কাছাকাছি ঘেঁষে এসে, তাকে গ্যালির মেটালিক দেয়ালের সাথে একপ্রকার লক করে দিল। সিয়া আমতা আমতা করে বলল, “ক্যা… ক্যাপ্টেন তাজ? আপনি ককপিট ছেড়ে এখানে কেন? ফার্স্ট অফিসার তো একা…” তাজ তার ফর্সা, শক্ত হাতটা বাড়িয়ে সিয়ার কানের পাশের এক গোছা আলগা চুল বড্ড রূঢ় কিন্তু তীব্র অধিকার নিয়ে টেনে ধরল। সে নিজের ধারালো মুখটা সিয়ার কানের লতির কাছে এনে বড্ড নিচু, গম্ভীর আর বুক কাঁপানো গলায় বলল, “তুমি ভেবেছ তোমার ওই ছেঁড়া জামার নাটক, আর ওই সস্তা ইমোশনাল ট্র্যাপ আমি ধরতে পারিনি, মিস সিয়া? মীর বাড়ির ছেলেরা আকাশে ওড়ে ঠিকই, কিন্তু মাটির নিচের ছলাকলা তারা তোমার চেয়ে অনেক বেশি ভালো বোঝে। তুমি ভেবেছ মীর তাজকে এভাবে সস্তা ফাঁদে ফেলে তুমি উইনার হয়ে গেছ?”

সিয়ার ফর্সা মুখটা লজ্জায় আর ভয়ে এক মূহূর্তে ফ্যাকাসে হয়ে গেল। সে বলল, “আমি… আমি তো শুধু আপনাকে বিয়েতে রাজি করাতে…”

“চুপ!” তাজ বড্ড কড়া গলায় সিয়ার ঠোঁটের ওপর নিজের বুড়ো আঙুলটা চেপে ধরল। তার স্পর্শে সিয়ার বুকের ভেতরের ধড়ফড়ানি যেন এভিয়েশন ইঞ্জিনের গতিকেও হার মানাল। তাজ ঠোঁটের কোণে এক চিলতে রহস্যময় শয়তানি হাসি ফুটিয়ে বলল, “ঢাকা এয়ারপোর্টে প্লেন ল্যান্ড করলেই সোজা মীর বাড়ির কাজী অফিস। মীর তাজের খাঁচায় ঢোকার শখ যখন করেছ, তখন সিভিল এভিয়েশনের এই চাকরিটা আজই ইস্তফা দিয়ে দাও। কারণ আমার ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইটের শিডিউল বড্ড কড়া। আজ থেকে তুমি আজীবনের জন্য শুধু মীর তাজের পার্সোনাল ককপিটের একমাত্র অফিশিয়াল এয়ার-হোস্টেস। ওখানেই তোমার ডিউটি, আর ওখানেই আমার ভালোবাসা আর কড়া শাসন খাওয়া তোমার শাস্তি!” সিয়া নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই এমনভাবে লকড হয়ে গেল যে তার মুখ দিয়ে আর কোনো শব্দ বের হলো না। সে শুধু তাজের সেই চওড়া বুকের ধবধবে সাদা শার্টের দিকে তাকিয়ে নিজের অজান্তেই এক তীব্র ভালোলাগার চোরাবালিতে তলিয়ে যেতে লাগল।

পরদিন সকাল ঠিক আটটা। আষাঢ়ের সেই ঝুমঝুম বৃষ্টিটা কমে গিয়ে জানালার ভারী কাঁচ ভেদ করে এক চিলতে ম্লান রোদ এসে পড়েছে বেডরুমের কার্পেটের ওপর। নৈশি যখন বড্ড ক্লান্ত শরীর নিয়ে নিজের চোখের পাতা দুটো মেলল, তখন তার মনে হলো সে এক ইঞ্চিও নড়তে পারছে না। সে তাকিয়ে দেখল, সে শুয়ে আছে আব্রাজের সেই চওড়া, সুগঠিত বাম বাহুর ওপর। আব্রাজ তখনো গভীর ঘুমে মগ্ন। তবে সবচেয়ে বড় কথা, ঘুমের ঘোরেও আব্রাজের ডান হাতটা বড্ড অধিকার নিয়ে নৈশির কোমরের ওপর রাখা, আর তার আঙুলগুলো তখনো নৈশির ব্লাউজের সেই আলগা হয়ে যাওয়া সুতোর বাঁধনটাকে শক্ত করে চেপে ধরে আছে যেন একটু আলগা করলেই এই বিরোধী দলীয় নেত্রী তার খাঁচা থেকে পালিয়ে যাবে! নৈশি কাল রাতের সেই কথা মনে করতেই লজ্জায় এক মূহূর্তে লাল হয়ে উঠল। সে বড্ড সাবধানে, নিজের নিশ্বাস বন্ধ করে আব্রাজের হাতের বাঁধন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু সে সামান্য নড়তেই আব্রাজ চোখ না খুলেই তার হাতের গ্রিপটা আরও শক্ত করে নৈশিকে নিজের গায়ের সাথে আরও বেশি লেপ্টে নিল। তার সেই ঘুম জড়ানো, ভাঙা কড়া পুরুষালি গলা নৈশির কানের কাছে ফিসফিস করে উঠল, “পলিটিক্সে যেমন রাতের অন্ধকারে গোপনে বড় বড় চুক্তি পাস হয়ে যায় নেত্রী, ঘরের পলিটিক্সেও মীর আব্রাজ রোদ কাল রাতে ইমার্জেন্সি অর্ডিন্যান্স জারি করে দিয়েছে। এখন আর ছটফট করে অনাস্থা প্রস্তাব এনে কোনো লাভ নাই। স্পিকারের রায় অলরেডি আমার পক্ষে।” নৈশি বড্ড রেগে গিয়ে আবরাজের বুকে একটা কিল মেরে বলল, “ছাড়ুন রোদ! সকাল হয়ে গেছে। আপনার পলিটিক্যাল ড্রামা বন্ধ করুন। কাল রাতে খাবারে ঝাল দেওয়ার শোধ ওভাবে নিতে হবে তা আমার জানা ছিল না! আপনি একটা আস্ত ধড়িবাজ পলিটিশিয়ান!” আব্রাজ এবার বড্ড মন্থর গতিতে নিজের গভীর, লালচে চোখ জোড়া খুলল। তার ঠোঁটের কোণে সেই শয়তানি হাসিটা ফুটে উঠল। সে নৈশির ভেজা চুলগুলো কানের পেছনে গুঁজে দিয়ে বড্ড কড়া গলায় বলল, “কাল রাতের ওই মারাত্মক ঝালের পর আজকের সকালের নাস্তায় কিন্তু আমার কড়া মিষ্টি চাই নেত্রী। নইলে পার্লামেন্টে যাওয়ার আগে বিছানার এই জরুরি অধিবেশন আমি কোনোভাবেই স্থগিত করব না! আর যদি বেশি চিল্লাচিল্লি করেন, তবে ওই ল্যাপটপে থাকা সিসিটিভি ফুটেজটা কিন্তু আজই রিলিজ করে দেব।” নৈশি দাঁতে দাঁত চেপে আবরাজের সেই ধারালো চোখের চাহনির দিকে তাকিয়ে রইল। সে বুঝতে পারল, এই বেপরোয়া পুরুষের ডিকশনারিতে পরাজয় বলে কোনো শব্দ নেই। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, আবরাজের এই কড়া শাসন আর তীব্র ভালোবাসার ওম নৈশির বুকের ভেতর এক অন্যরকম, নিষিদ্ধ ভালোলাগার কাঁপন তুলে দিল, যা সে পলিটিক্যাল ইগোর খাতিরে মুখে কোনোদিনই স্বীকার করবে না।

পরদিন সকাল সাড়ে ৯ টা। ঢাকা শহরের আকাশ আজ বড্ড বিষণ্ণ। সকালের চেনা রোদ উধাও, চারপাশটা এক অদ্ভুত ধূসর কুয়াশায় ঢাকা। মীর বাড়ির বিশাল ড্রয়িংরুমে তখন একটা রাজকীয় গাম্ভীর্য বিরাজ করছে। আরযানের বাবা আফজাল সোফায় বসে চশমাটা নাকের ডগায় ঝুলিয়ে সকালের খবরের কাগজ পড়ছেন। তাঁর সামনে রাখা রুপোলি কাপে ধোঁয়া ওঠা ব্ল্যাক টি। ঠিক তখনই ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করল আরযান। তার পরনে একটা ইস্ত্রি করা অফ-হোয়াইট কটন শার্ট, চুলগুলো নিখুঁতভাবে ব্যাকব্রাশ করা। তার চোখে-মুখে এক ফোঁটাও ক্লান্তির ছাপ নেই, যেন মাঝরাতের সেই তীব্র পিঠের ব্যথা আর মানসিক ঝড় পুরোপুরি এক কাল্পনিক গল্প ছিল।

সাঁঝ তখন ড্রয়িংরুমের পাশের ডাইনিং স্পেসের পর্দার আড়ালে চোরের মতো দাঁড়িয়ে কাঁপছিল। তার পরনে একটা সাধারণ আকাশী রঙের সালোয়ার-কামিজ, ওড়নাটা সে বড্ড শক্ত করে দুই হাতে চেপে ধরেছে। তার চোখ দুটো ঘুমে আর কান্নায় সামান্য ফুলে আছে। “আব্বু, আসসালামু আলাইকুম,” আরযান বড্ড শান্ত গলায় বলল।

আফজাল কাগজ থেকে চোখ না সরিয়েই বললেন, “ওয়ালাইকুমুস সালাম। বসো আরযান। শুনলাম কালকের ম্যাচটা বড্ড টাফ ছিল। মালদ্বীপের ফরোয়ার্ডরা নাকি বড্ড ফাউল খেলছিল?”

“হ্যাঁ আব্বু। একটু বডি-চেক বেশি ছিল। তবে আমরা ডিফেন্স ভাঙতে দিইনি,” আরযান সোফায় বসতে বসতে বলল। ঠিক তখনই মেইন গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকল আরযানের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট। তার হাতে একটা খাকি রঙের অফিশিয়াল খাম। তাকে দেখামাত্রই ডাইনিং রুমের পর্দার আড়ালে থাকা সাঁঝের হার্টবিট যেন এক মূহূর্তের জন্য বন্ধ হয়ে গেল। সে চোখ বন্ধ করে মনে মনে আয়াতুল কুরসি পড়তে লাগল, “আল্লাহ্… আজ বুঝি সত্যি সত্যি গ্রামের টিকিট কাটা হয়ে গেল!”

এসিস্ট্যান্ট সোজা এসে আরযানের সামনে দাঁড়াল। “স্যার, আপনি যে ফাইলটা সকাল নয়টার মধ্যে মীর সাহেবের ডেস্কে দিতে বলেছিলেন, ওটার প্রিন্ট কপি আর পেনড্রাইভটা নিয়ে এসেছি।”

বড় আব্বু এবার চশমাটা ঠিক করে খবরের কাগজটা ভাঁজ করে রাখলেন। তিনি রফিকের হাতের খামটার দিকে তাকিয়ে বললেন, “কীসের ফাইল আরযান? কোনো নতুন স্পন্সরশিপের ঝামেলা?” আরযান তার এসিস্ট্যান্টের হাত থেকে খামটা নিল। সে এক মূহূর্তের জন্য ডাইনিং রুমের পর্দার দিকে তাকাল। পর্দার সামান্য ফাঁক দিয়ে সাঁঝের ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া মুখটা আর তার চোখভরা জল আরযানের চোখ এড়াল না। আরযান বড্ড ধীরস্থিরভাবে খামটা টেবিলের ওপর রাখল। তারপর তার বাবার দিকে তাকিয়ে বলল, “না আব্বু। কাল রাতে আর্মি স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। ক্লাবের মেইন স্পন্সরের মেয়ে নীলিমা ড্রেসিংরুমে ঢুকে প্লেয়ার্স প্রোটোকল ভেঙেছিল।”

আফজাল ভ্রু কুঁচকালেন। “স্পন্সরের মেয়ে ড্রেসিংরুমে ঢুকেছিল? কেন?”

“সে আসলে কিছু অফিশিয়াল সই নিতে এসেছিল, কিন্তু সময়টা ঠিক ছিল না। ম্যাচ শেষের ঠিক পরপরই খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত জোনে বাইরের কারও ঢোকা নিষিদ্ধ,” আরযান বড্ড পেশাদার গলায় বলল। তারপর সে একটু থামল। তার গলার স্বর এবার বড্ড গম্ভীর আর মাপা শোনাল, “কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে, আমাদের পরিবারের একজন মেম্বারও তখন স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিল এবং সে ঘটনাচক্রে নীলিমাকে ড্রেসিংরুম থেকে বের করে দেওয়ার জন্য একটু … উগ্র আচরণ করেছে। ফেডারেশন থেকে একটা কমপ্লেন আসার কথা ছিল।” সাঁঝের তখন মনে হচ্ছিল মেঝের মাটিটা যদি দু-ভাগ হয়ে যেত, তবে সে সোজা পাতালপুরে চলে যেত। আরযান ভাইয়া এত বড় বেইমান! সে সত্যি সত্যিই বাবার সামনে সব বলে দিচ্ছে! বড় আব্বু বড্ড কড়া গলায় বললেন, “আমাদের পরিবারের কে গিয়েছিল সেখানে? আর কে এমন জঘন্য আচরণ করেছে মীর বাড়ির ইজ্জত ধুলোয় মিশিয়ে?”

আরযান খামটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বড্ড শান্ত, পাথুরে গলায় বলল, “সাঁঝ গিয়েছিল আব্বু।”

“সাঁঝ!” বড় আব্বুর গলার আওয়াজে পুরো ড্রয়িংরুম যেন কেঁপে উঠল। আরযান এক চুলও নড়ল না। সে বড্ড চতুরভাবে বলল, “হ্যাঁ আব্বু। সাঁঝ আসলে কাল আমার জন্য বাড়ি থেকে একটা আয়ুর্বেদিক মলম নিয়ে স্টেডিয়ামে গিয়েছিল। আমার ইনজুরির কথা শুনে সে বড্ড দুশ্চিন্তায় ছিল। ড্রেসিংরুমের করিডোরে যখন সে দেখে স্পন্সরের মেয়ে আমার বড্ড কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছে, তখন মীর বাড়ির মেয়ে হিসেবে সে নিজের ইমোশন কন্ট্রোল করতে পারেনি। সে ভেবেছিল নীলিমা হয়তো কোনো বাইরের ফ্যান, যে সিকিউরিটি ভেঙে ঢুকেছে। তাই সে একটা বড় হাঙ্গামা করে নীলিমাকে বের করে দিয়েছে।”

বড় আব্বু স্তব্ধ হয়ে গেলেন। তাঁর মুখের সেই কড়া ভাবটা এক মূহূর্তে গলে গেল। তিনি আরযানের দিকে তাকিয়ে বললেন, “সাঁঝ তোমার জন্য মলম নিয়ে গেছিল? ও তো বড্ড ছোট, বড্ড ইমোশনাল।”

“ছোট বলেই তো অন্যায়টা করেছে আব্বু,” আরযান খামটা ডেস্কে রেখে বলল, “স্পন্সরের মেয়ে অলরেডি ইস্যুটা নিয়ে জলঘোলা করার চেষ্টা করছে। আমি ফেডারেশনকে বলেছি, সাঁঝ মীর আরযান শানের কেবল বোন বা আত্মীয় নয়, ও খুব জলদিই আমার….যাকগে ফেডারেশন কমপ্লেনটা ড্রপ করেছে।” ডাইনিং রুমের পর্দার আড়ালে সাঁঝের মুখটা হাঁ হয়ে গেল। সে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। আরযান ভাইয়া বড় আব্বুর সামনে কী বলল এটা? “কমপ্লেন ড্রপ করেছে?” আফজাল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোফা থেকে উঠলেন। তিনি আরযানের কাঁধে হাত রেখে বড্ড ভেজা গলায় বললেন, “ গুড জব আরযান।”

“আর সাঁঝের বিষয়টাও আমি সামলে নিব। আরযান বড্ড নিস্পৃহভাবে মাথা নোয়াল। “কারন অবাধ্য রোগীদের বেশিদিন প্রেসক্রিপশন ছাড়া রাখা ঠিক না।”

সকাল ১০ টা। আষাঢ়ের বৃষ্টিটা কমে গিয়ে সিলেটের আকাশে তখন একটা ফ্যাকাশে রোদের ছটা দেখা দিয়েছে। কিন্তু পুরো ‘সমর্পণ’ সিনেমার সেটে তখন এক তুমুল হইচই আর থমথমে পরিবেশ। সাব-ডিরেক্টর থেকে শুরু করে কস্টিউম ডিজাইনার, লাইটম্যান, ক্যামেরা ক্রু সবার মুখে মুখে কেবল একটাই খবর। কেউ বিশ্বাসই করতে পারছে না যে সুপারস্টার মীর আরবিন প্রাণ শুটিংয়ের প্রপস ব্যবহার করে সত্যি সত্যি ছবির নায়িকা প্রত্যাশাকে অফিশিয়ালি রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করে নিয়েছে!

প্রত্যাশা যখন নিজের কস্টিউম ব্যাগ আর সাধারণ জামাকাপড় গুছিয়ে মেকআপ রুম থেকে বের হয়ে করিডোর দিয়ে আসছিল, তখন চারপাশের ক্রু মেম্বাররা বড্ড সমীহ করে, মাথা নিচু করে তাকে ‘ভাবী’ বা ‘মীর বাড়ির ছোট বউ’ বলে ডাকতে শুরু করল। গতকাল পর্যন্ত যে ডিরেক্টর প্যানেল তাকে ধমক দিয়ে শট বুঝিয়েছে, আজ তাঁরাও বড্ড বিনয়ী গলায় বললেন, “ভাবী, স্যারের গাড়ি রেডি। আপনি প্লিজ গাড়িতে গিয়ে বসুন, স্যার আসছেন।” প্রত্যাশা এক অদ্ভুত ঘোর আর লজ্জার সাগরে ডুবে যাচ্ছিল। সে বুঝতে পারল, এই মীর বাড়ির নামের দাপট কতটা ভয়ঙ্কর, এক রাতেই তার পুরো পরিচয় বদলে গেছে।

ঠিক তখনই বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রাণের দামী আইফোনে একটা ভিডিও কল বেজে উঠল। প্রাণ ফোনটা রিসিভ করে স্পিকার অন করতেই স্ক্রিনে ভেসে উঠল ধানমণ্ডির মীর বাড়ির সেই চিরচেনা লিভিং রুমের দৃশ্য। আর স্ক্রিনের ওপাশে আর কেউ নয় বড় আব্বু, বড় মা, সেজো আব্বুসহ রাজ, আব্রাজ আর রাতও একসাথে সোফায় বসে আছে! পুরো মীর পরিবার আজ এক লাইনে। বড় আব্বু তাঁর গম্ভীর কিন্তু অত্যন্ত গর্বিত কণ্ঠস্বর কাঁপিয়ে বলে উঠলেন, “প্রাণ! সিলেটের আউটডোর শুটিংয়ে গিয়ে তুই মীর বাড়ির ইজ্জত আর নিজের বউকে একসাথে রেজিস্ট্রি করে ফেলেছিস শুনলাম? সাব-ডিরেক্টর তো অলরেডি আমাদের কাবিননামার ছবি পাঠিয়েছে। বড্ড নিখুঁত আর খতরনাক শট দিয়েছিস বাবা। আমাদের মীর বাড়ির ছেলেদের ডিকশনারিতে যে কোনো রিজেকশনের জায়গা নাই, তুই তা আবার প্রমাণ করলি।” পাশের সোফা থেকে আব্রজ তার লিনেন শার্টের কলারটা ঠিক করে বড্ড চতুর হেসে খোঁচা দিয়ে বলল, “প্রাণ, মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ পাতার ওস্তাদ তো আমরা সবাই ছিলাম, কিন্তু তুই যেভাবে ডিরেকশন দিয়ে পুরো সেটকে বোকা বানিয়ে বউ ঘরে তুললি, ওটার পলিটিক্যাল ভ্যালু কিন্তু জবরদস্ত! জলদি ছোট বউকে নিয়ে ধানমণ্ডির বাড়িতে আয়, মীর বাড়ির ছেলেদের পাতা ফাঁদ যে কখনো বিফলে যায় না, ওটার একটা বড়সড় গেট-টুগেদার পার্টি বাকি আছে এখনো!” ওপাশ থেকে রাত তার লেদার জ্যাকেটে হাত গুঁজে বলল, “হ্যাঁ ভাইয়া, জলদি আয়। তোর এই রিয়েল লাইফ ক্লাইম্যাক্সের পর আমার কনসার্টের মিউজিকটা আরও জমে উঠবে!” প্রাণ বড্ড গর্বের সাথে হাসল এবং ফোনটা প্রত্যাশার মুখের সামনে ধরল। বড় মা স্ক্রিনে প্রত্যাশার ফ্যাকাশে আর ভেজা মুখটা দেখেই বড্ড মমতায় বললেন, “মা প্রত্যাশা, একদম কাঁদবে না। মীর বাড়ির বউদের কাঁদতে নেই, ওদের কাজ শুধু স্বামীদের ভালোবাসা আর আদর খাওয়া। জলদি বাড়ি আয় মা, আমরা সবাই তোর অপেক্ষায় আছি।” প্রত্যাশা ফোন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বড় মার সেই চেনা আশ্বাস আর মীর পরিবারের এই উন্মাদনা দেখে নিজের অজান্তেই চোখের কোণ দিয়ে এক ফোঁটা জল ফেলল। এ কোথায় ফেঁসে গেল সে?

দুপুরের দিকে ঢাকা শহরের বুকে যেন অন্ধকার নেমে এল। আষাঢ়ের সেই মেঘগুলো এবার বড্ড কালো হয়ে পুরো আকাশটা গ্রাস করে নিয়েছে। ঝুমঝুম শব্দে বৃষ্টি পড়ছে মীর বাড়ির বিশাল বারান্দার টিনের চালের ওপর। আরযান বারান্দার ইজিচেয়ারে বসে ছিল। তার চোখে তখনো সেই রিডিং চশমাটা আঁটা, হাতে একটা স্পোর্টস ম্যাগাজিন। কিন্তু তার মনোযোগ ম্যাগাজিনের পাতায় ছিল না, সে বড্ড নিঃশব্দে জানালার ওপাশে বৃষ্টির নাচ দেখছিল। ঠিক তখনই বারান্দার দরজায় একটা মৃদু শব্দ হলো। সাঁঝ এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কড়া লিকারের চা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার ফর্সা মুখটা এখনো লজ্জায় আর বিস্ময়ে লাল হয়ে আছে। সকালের সেই ড্রয়িংরুমের নাটকের পর সে আরযানের মুখোমুখি হতে বড্ড ভয় পাচ্ছিল।

সাঁঝ বড্ড ধীরপায়ে এগিয়ে এসে চায়ের কাপটা আরযানের পাশের ছোট টেবিলটার ওপর রাখল। সে চলে যাওয়ার জন্য যেই ঘুরে দাঁড়াল, অমনি আরযানের সেই গমগমে কণ্ঠস্বর বারান্দার নীরবতা ভেঙে দিল। “চা-টা কি বিষ মিশিয়ে এনেছিস সাঁঝ? নাকি প্রতিশোধ নিতে চিনি বেশি দিয়েছিস?”

সাঁঝ ঝট করে ঘুরে দাঁড়াল। তার চোখের কোণে আবার সেই চেনা জেদটা ফিরে এসেছে। সে বলল, “আমি কোনো বিষ মিশাইনি আরযান ভাইয়া। আর সকালের ওসব বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা কথা বড় আব্বুকে বলার কী দরকার ছিল? আপনি তো বড্ড ধড়িবাজ লোক! আমাকে কুড়িগ্রাম পাঠানোর ভয় দেখিয়ে নিজের খাঁচায় বন্দি করার এই মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদটা বড্ড নিখুঁত ছিল আপনার!”

আরযান ম্যাগাজিনটা একপাশে রাখল। সে নিজের চশমাটা আঙুল দিয়ে সামান্য নিচে নামিয়ে সাঁঝের দিকে তাকাল। “মিথ্যা কোথায় বললাম সাঁঝ? সত্যি তোকে বাঁচিয়েছি তো।”

আরযান বড্ড সহজ গলায় বলল, “তুই কি কাল রাতে ড্রেসিংরুমে হাঙ্গামা করিসনি? করেছিস। তুই কি জেলাস হোসনি? হয়েছিস। এখন বল, চা-টা কেমন বানিয়েছিস?”

সাঁঝ ঠোঁট উল্টে বলল, “কড়া লিকারের চা, চিনি ছাড়া। আপনার মতো তিতকুটে মানুষের জন্য এমনই চা দরকার।”

“চমৎকার,” আরযান চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে একটা ছোট চুমুক দিল। “লিকারটা বড্ড ভালো হয়েছে। তবে একটা কথা মনে রাখিস সাঁঝ, মীর আরযানের খাঁচায় ঢুকতে হলে কিছু শর্ত মানতে হয়। এক নম্বর শর্ত আজকের পর থেকে মীর আরযান শানের দিকে কোনো মেয়ে যদি সেলফি তোলার জন্যও এগিয়ে আসে, তুই সেখানে শাড়ির কুচি উঁচিয়ে হাঙ্গামা করতে পারবি না। যা করার, ঘরের ভেতর এসে করবি। দুই নম্বর শর্ত আমার পিঠের এই কালশিটে দাগগুলো পুরোপুরি শুকানো পর্যন্ত প্রতিদিন মাঝরাতে তোকে এই তিতকুটে মানুষের সেবা করতে হবে। কী, শর্তগুলো কি বড্ড কঠিন মনে হচ্ছে? যদি মানতে পারিস তাহলে তোর সাথে আবার কথা বলা শুরু করব।” সাঁঝ আরযানের এই সহজ অথচ তীব্র অধিকারবোধের ডায়ালগে একদম কেঁচো হয়ে গেল। সে নিজের ওড়নাটা আঙুলে পেঁচাতে পেঁচাতে বড্ড নিচু গলায় বলল, “আপনার শর্তের আমি কোনো তোয়াক্কা করি না আরযান ভাইয়া। আমি শুধু বড় আব্বুর মুখের দিকে তাকিয়ে…”

“মিথ্যে বলিস না সাঁঝ,” আরযান চায়ের কাপটা রেখে হঠাৎ সোজা হয়ে বসল। তার চোখের সেই চপলতা এক মূহূর্তে হাওয়া হয়ে সেখানে এক মহাসমুদ্রের মতো গভীরতা চলে এল। সে বলল, “তুই বড় আব্বুর জন্য না, তুই মীর আরযান শান নামের ওই পাথুরে পুরুষটার তীব্র, খ্যাপাটে ভালোবাসার ওম থেকে নিজেকে কোনোদিন মুক্ত করতে পারবি না বলেই এখানে দাঁড়িয়ে আছিস। সত্যটা স্বীকার করতে এত লজ্জা কেন রে তোর?” সাঁঝ আর এক মূহূর্তও সেখানে দাঁড়াতে পারল না। সে লজ্জায় আর এক অদ্ভুত মোহে নিজের মুখটা দুই হাতে ঢেকে বারান্দা থেকে এক দৌড়ে পালিয়ে গেল। তার নূপুরহীন পায়ের শব্দ বৃষ্টির ঝুমঝুম শব্দের মাঝে এক অপূর্ব সুর তৈরি করে মিলিয়ে গেল।

চলবে?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply