#যেখানে_প্রেম_নিষিদ্ধ
#ইশরাত_জাহান_জেরিন
উত্তরা থেকে ধানমণ্ডির মীর বাড়ির দূরত্বটুকু পার হতে আরযানের কালো গাড়িটার আজ বড্ড বেশি সময় লাগল। গাড়ির পেছনের সিটে আরযানের সেই দামী ব্লেজারটা গায়ে জড়িয়ে এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে সাঁঝ। তার চোখ মুখ ফুলে লাল হয়ে আছে, ঠোঁটের কোণের কান্নাটা এখনো থামেনি। কিন্তু পুরোটা রাস্তায় আরযান একটা শব্দও উচ্চারণ করেনি। স্টিয়ারিং হুইলে তার ফর্সা হাতের মুঠো শক্ত ছিল, চোখ ছিল সামনের অন্ধকার রাস্তায়।
বাসায় পৌঁছে আরযান সাঁঝকে গাড়ি থেকে নামিয়ে সোজা তার ঘরের সামনে নিয়ে এল। নিজের পকেট থেকে চাবি বের করে তালাটা খুলল। সাঁঝ ভেবেছিল আরযান এবার তাকে বকবে, হয়তো তার সেই ঝাঁঝালো আয়ুর্বেদিক মলম এনে আবার কবজিতে চেপে ধরে বলবে, ‘অবাধ্য রোগীদের নার্ভ সোজা করার দাওয়াই!’ কিন্তু আরযান তার কিছুই করল না। সে সাঁঝের মুখের দিকে একটা বারও না তাকিয়ে বড্ড শীতল গলায় বলল,
“ভেতরে যাহ। আব্বুকে বলে আমি তোর ঢাকার এই ইন্টার্নশিপ বাতিল করে দিচ্ছি। তোকে আর মীর আরযানের খাঁচায় বন্দি থাকতে হবে না সাঁঝ। তুই মুক্ত।” কথাটা বলেই আরযান ধীরপায়ে করিডোর ধরে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। সাঁঝ দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে স্তব্ধ হয়ে রইল। আরযানের এই নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, এই অধিকার ছেড়ে দেওয়াটা সাঁঝের বুকে তিরের মতো বিঁধল। সে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে মনে মনে বলল, “আপনি আমাকে মেরে ফেলতেন আরযান ভাইয়া, কিন্তু এভাবে পর করে দিবেন না!”
–
১০ টা বাজে। সিয়া আজ অফিসে এসেছে একদম ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে। গতকাল তাজের সেই চওড়া বুকে লেপ্টে যাওয়া, তার তপ্ত নিশ্বাসের ওম আর কপাল ঠোকাঠুকির পর থেকে তার পুরো রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আয়নায় নিজের কপালটা দেখতে গিয়েও তার বারবার তাজের সেই ধারালো চোখ দুটো মনে পড়ছিল। সে করিডোর দিয়ে ফাইল হাতে বিড়ালের মতো পা টিপে টিপে যাচ্ছিল, যাতে কোনোভাবেই ক্যাপ্টেন তাজের কেবিনের সামনে পড়তে না হয়।
“মিস সিয়া! হাত থেকে ফাইলটা ফেলার আগেই ওটা টেবিলে রাখুন।”
তাজের সেই কড়া, গমগমে গলার আওয়াজ শুনে সিয়া চমকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল। তাজ তার কেবিনের দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল, পরনে নিখুঁত পাইলটের ইউনিফর্ম, চোখে কালো সানগ্লাস। সে সিয়ার দিকে এগিয়ে এসে ফাইলটা নিজেই টেনে নিল।
“গতকালকের পর থেকে দেখছি আপনার হাঁটার ব্যালেন্স আরও কমে গেছে, সিয়া। সিভিল এভিয়েশনের অফিসে এভাবে চোরের মতো দেয়াল ঘেঁষে হাঁটার কোনো নিয়ম নেই। ভেতরে আসো।”
সিয়া মাথা নিচু করে বিড়ালের মতো তাজের কেবিনে ঢুকল। তাজ ডেস্কে বসে সানগ্লাসটা টেবিলের ওপর রাখল। তার ধারালো চোখ দুটো সিয়ার লাল হয়ে যাওয়া কানের লতি আর কপালে থাকা হালকা লালচে দাগটার ওপর স্থির হলো। তাজ চেয়ারে হেলান দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল, “গতকালের ফুয়েল রিপোর্টের ভুলটা আপনি সারা রাত জেগে ঠিক করেছেন, আমি দেখেছি। কাজটা নিখুঁত হয়েছে। তবে…” তাজ টেবিলের এক কোণে রাখা একটা ছোট কাগজের কাপ সিয়ার দিকে এগিয়ে দিল। “…আপনার ওই ভয়ার্ত মুখ দেখে মনে হচ্ছে আপনার শরীরে একটু কড়া ক্যাফেইন দরকার। কফিটা তিতো, তবে আপনার কথামতো এক ফোঁটা মায়ায় ভরা চিনি মেশানো আছে। খেয়ে কাজে যান। সোমবারের ফ্লাইটে কোনো ভুল যেন না দেখি।”
সিয়া কফির কাপটা হাতে নিয়ে তাজের দিকে তাকাল। তাজের মুখে সেই কড়া শৃঙ্খলের বর্ম থাকলেও চোখের কোণে এক চিলতে অদ্ভুত মায়া জ্বলজ্বল করছিল। সিয়া লজ্জায় আরক্ত হয়ে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে দ্রুত কেবিন থেকে বের হয়ে এল। এই বাউন্সার ক্যাপ্টেনকে সামলানো বড্ড কঠিন, কিন্তু তার এই লুকিয়ে রাখা তীব্র কেয়ারিংটা বড্ড সুন্দর।
–
সুপারস্টার মীর আরবিন প্রাণের নতুন সিনেমা ‘নীল খামের চিঠি’ গতকাল রিলিজ হয়েছে। সিনেমা প্রথম দিনেই অলটাইম ব্লকবাস্টার হিট! আজ ঢাকার এক নামী মাল্টিপ্লেক্সে প্রাণের সাথে সিনেমা দেখতে এসেছিল ছবির নায়িকা প্রত্যাশা। সিনেমা শেষ হতেই যখন হলের লাইট জ্বলল, তখন দর্শক তাদের চিনে ফেলল। ব্যস! পুরো হল জুড়ে চিৎকার আর উন্মাদনা। “প্রাণ! প্রত্যাশা!” দর্শকেরা তাদের এক নজর দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ল। বডিগার্ডেরা কোনোমতে ভিড় ঠেলে তাদের গাড়িতে তুলে দিল। গাড়ির পেছনের সিটে বসে প্রত্যাশা তখনো জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছিল। তার ফর্সা মুখটা উত্তেজনায় চকচক করছে। “প্রাণ! দেখেছন মানুষের উন্মাদনা? আমি তো ভাবতেই পারছি না আমি এত বড় নায়িকা হয়ে গেছি!”
প্রাণ ড্রাইভ করতে করতে আড়চোখে প্রত্যাশার দিকে তাকাল। প্রত্যাশার এই রূপ, এই চঞ্চলতা তাকে দিনের পর দিন পাগল করে তুলছে। সে মনে মনে জানে, মিডিয়ার এই ঝলমলে দুনিয়ায় প্রত্যাশাকে সে একা ছাড়তে পারবে না। যেকোনো সময় অন্য কোনো ছেলে তার এই সরলতার সুযোগ নিতে পারে। আর মীর বাড়ির ছেলেদের ডিকশনারিতে নিজের ভালোবাসার মানুষকে হাতছাড়া করার কোনো নিয়ম নেই। প্রাণ ঠোঁটের কোণে একটা চতুর হাসি ফুটিয়ে বলল, “জনপ্রিয়তা তো মাত্র শুরু, প্রত্যাশা। আগামী সপ্তাহ থেকে আমার নতুন সিনেমা ‘সমর্পণ’-এর শুটিং শুরু হচ্ছে। আউটডোর শ্যুট হবে সিলেটের এক প্রত্যন্ত জমিদার বাড়িতে।”
“তাই? স্ক্রিপ্ট কেমন?” প্রত্যাশা কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল।
“স্ক্রিপ্ট বড্ড খতরনাক,” প্রাণ বড্ড ধীর গলায় বলল। “ছবির ক্লাইম্যাক্সে নায়ক-নায়িকার একটা বিয়ের সিন আছে। আমি চাই ওটা একদম রিয়েল লাগুক। তাই আমি শুটিং সেটে একজন আসল কাজি আর আসল কাবিননামার ব্যবস্থা করেছি। তুমি শুধু স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী সই করে দেবে, ঠিক আছে?”
প্রত্যাশা সরল মনে হেসে বলল, “হ্যাঁ, ডিরেক্টর সাহেব যা বলবেন, তা-ই হবে।”
প্রত্যাশা বুঝতেই পারল না, ডিরেক্টর মীর আরবিন প্রাণ শুটিংয়ের ভুয়া নাটকের আড়ালে তাকে চিরজীবনের জন্য নিজের আসল খাঁচায় বন্দি করার মাস্টারপ্ল্যান করে ফেলেছে। মীর বাড়ির ছেলেদের এই ভালোবাসার ফাঁদ বড্ড ভয়ঙ্কর আর নিখুঁত হয়।
–
বিকেলের দিকে গুলশানের এক অভিজাত ক্লাবে বসে আছে মীর আব্রাজ রোদ। আজ এক পলিটিক্যাল ডিনারে সে নৈশিকে সাথে নিয়ে এসেছে। আগের রাতের সেই কাঁচা মরিচ আর ঝাল ভুনার শোধ নিতে রোদ আজ নৈশির জন্য এক মোক্ষম ফাঁদ পেতেছে।
সে নৈশির কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল, “শুনুন নেত্রী, এই টেবিলে যারা বসে আছেন তারা সবাই আমার দলের সিনিয়র লিডার। আজ যদি আপনি এখানে আমার ‘আদর্শ, বাধ্য স্ত্রী’র অভিনয় না করেছেন, তবে ওই ৪কে ভিডিওর ভূত কিন্তু আমি আজ রাতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেব।”
নৈশি মুখে একটা মধুর ভন্ড হাসি ঝুলিয়ে আব্রাজের দিকে তাকাল। টেবিলের নিচ দিয়ে সে নিজের হিল জুতোটা আব্রাজের পায়ের পাতার ওপর হালকা করে ছোঁয়াল, যেন একটা মৃদু সতর্কতা। “মাননীয় এমপি সাহেব, রাজনীতিতে কোনো হুমকি চিরকাল চলে না। অভিনয় আমি খুব ভালোই করতে পারি, দেখে যান।”
ঠিক তখনই দলের প্রধান আব্রাজকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “আব্রাজ, তোমার মতো এত কড়া পলিটিশিয়ানকে এই মেয়ে কীভাবে সামলায় বলো তো? তুমি তো আবার বড্ড রাগী মানুষ!”
নৈশি চট করে আব্রাজের হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে অত্যন্ত আদুরে গলায় বলল, “আরে চাচাজান, আপনারা উনাকে বাইরেই রাগী দেখেন। ঘরের ভেতর উনি যে কতটা নরম, তা তো আমিই জানি। সারাদিন আমার আঁচল ধরে ঘুরঘুর করে।”
টেবিলের বাকি সবাই হো হো করে হেসে উঠল। আবরাজ চায়ের কাপে চুমুক দিতে গিয়ে বিষম খেল। তার ফর্সা মুখটা রাগে আর লজ্জায় লাল হয়ে গেল। নৈশি তার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপে একটা চরম শয়তানি হাসি দিল। আবরাজ দাঁতে দাঁত চেপে মনে মনে বলল, “দাঁড়াও নেত্রী, বাড়ি চলো। আজ রাতে তোমার এই বিরোধী দলীয় আসন আমি চিরকালের জন্য সাসপেন্ড করব!”
–
রাত যখন গভীর হলো, তখন ধানমণ্ডির জমিদার বাড়ির ছাদবাগানে তখন হালকা হাওয়া বইছে। আর্যার পরনে আজ একটা সাদা সুতির শাড়ি, চুলগুলো পিঠের ওপর ছড়ানো। সে ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। পেছন থেকে এক জোড়া শক্ত চওড়া হাত এসে আর্যার কোমরটা জড়িয়ে ধরল। আরভিদের তপ্ত নিশ্বাস আর তার সেই চেনা দামী পারফিউমের সুবাস আর্যাকে এক মূহূর্তে শিউরে তুলল। আরভিদ আর্যার ঘাড়ে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে ভারী গলায় বলল, “এত রাতে একা একা এই চাঁদের দিকে তাকিয়ে কাকে খোঁজা হচ্ছে, আর্যা? তোমার এই অবাধ্য স্বামী কি ঘরের ভেতর খুব কম ভালোবাসছে?”
আর্যা আলতো করে হেসে আরভিদের বুকের সাথে নিজের পিঠটা ঠেকিয়ে দিল। সে আরভিদের হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল, “কী যা তা বলো আরভিদ! আমি তো ভাবছিলাম, আমাদের মীর বাড়ির ছেলেদের এই অধিকারবোধটা কেন এত তীব্র? কেন তোমরা নিজেদের ভালোবাসার মানুষকে এভাবে খাঁচায় বন্দি করে রাখতে চাও?”
আরভিদ আর্যাকে এক ঝটকায় নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল। আবছা আলোয় আরভিদের চোখ দুটো বড্ড বেশি গভীর আর নেশাতুর দেখাল। সে আর্যার চিবুকটা উঁচিয়ে ধরে বড্ড নিচু, বুক কাঁপানো গলায় বলল, “কারণ মীর বাড়ির ছেলেরা যাকে একবার নিজের বলে মেনে নেয়, তার প্রতিটা নিশ্বাস, তার প্রতিটা ধড়কনের ওপর শুধু তাদের নিজেদের সিলমোহর মারা থাকে আর্যা। এটা শাসন নয়, এটা এক মরণ রোগ। আর এই খাঁচায় বন্দি থাকাটাই তোমার ভাগ্যের সবচেয়ে সুন্দর নিয়ম।”
আরভিদ আর কোনো কথা বলার সুযোগ দিল না। সে আর্যার সেই রেশমি ঠোঁটদুটোকে নিজের গভীর চুম্বনে টেনে নিল। বাইরে তখন রাতের নিস্তব্ধতা হলেও তাদের মধ্যে ভালোবাসার সূচনা ঘটল।
–
ঢাকা শহরের রাতগুলো বড্ড অদ্ভুত। বাইরে সোডিয়াম লাইটের হলুদ আলো আর দূর থেকে ভেসে আসা গাড়ির হর্নের শব্দ ছাড়া পুরো ধানমণ্ডির মীর বাড়ি তখন এক গভীর নিস্তব্ধতায় ডুবে আছে। কিন্তু সেই নিস্তব্ধতা সাঁঝের ঘরের ভেতরের পরিবেশটাকে যেন আরও বেশি দমবন্ধকর করে তুলেছিল। সারা রাত সাঁঝ চোখের পাতা এক করতে পারেনি। বিছানায় হাঁটু দুটো বুকের কাছে গুটিয়ে সে ঘরের দেয়ালের দিকে তাকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছে। আরযানের সেই ব্লেজারটা এখনো তার বিছানার এক কোণে পড়ে আছে, যেখান থেকে আরযানের ব্যবহার করা সেই চেনা, দামী পারফিউমের সুবাস আসছিল। কিন্তু সেই সুবাস আজ সাঁঝের বুকে এক তীব্র অপরাধবোধের তড়িৎপ্রবাহ তৈরি করছে। আরযান তাকে বকেনি, তার ওপর হাত তোলেনি, এমনকি একটা চড়ও মারেনি। সে শুধু বড্ড শান্ত গলায় তার খাঁচার চাবিটা ফিরিয়ে দিয়ে বলেছে, “তুই মুক্ত।” আর এই একটা কথাই সাঁঝকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার জন্য যথেষ্ট ছিল।
ভোর চারটে বাজতেই সাঁঝ আর বিছানায় টিকে থাকতে পারল না। সে চোখের জল মুছে, নিজের গায়ের ছেঁড়া কামিজটা বদলে একটা সাধারণ সুতির থ্রি-পিস পরে নিল। আয়নায় নিজের মুখটা দেখতেই তার নিজের ওপরই ঘেন্না হলো। চোখ দুটো ফুলে জবা ফুলের মতো লাল হয়ে আছে, ঠোঁটটা কামড়ে ধরার কারণে রক্ত জমে কালো হয়ে গেছে। সে বড্ড মাপা কদমে, চোরের মতো পা টিপে টিপে নিজের ঘর থেকে বের হয়ে এল। করিডোর পেরিয়ে সে সোজা গিয়ে দাঁড়াল আরযানের ঘরের দরজার সামনে। দরজাটা সামান্য ফাঁক হয়ে আছে, ভেতর থেকে একটা হালকা নীলচে আলো করিডোরে এসে পড়েছে। সাঁঝের বুকটা দুরুদুরু করে কাঁপছে। সে হাত বাড়িয়ে দরজাটা একটু ধাক্কা দিতেই ভেতরের দৃশ্যটা তার চোখে পড়ল। আরযান ঘুমায়নি। সে তার ডেস্কে বসে আছে, পরনে সেই ফর্সা সাদা কটন শার্ট, যার ওপরের দুটো বোতাম আলগা। টেবিলের ওপর একটা অ্যাশট্রে, আর সেখানে একটা সিগার মন্থর গতিতে পুড়ছে, ধোঁয়াগুলো ঘরের সিলিংয়ে গিয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে। আরযানের সামনে কিছু ফাইল খোলা, কিন্তু তার দৃষ্টি ফাইলে নেই। সে শূন্য চোখে জানালার ওপাশের অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। তার সেই পাথুরে, গম্ভীর চোয়াল আজ বড্ড বেশি ক্লান্ত আর বিষণ্ণ দেখাচ্ছে। সাঁঝ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে দরজার পর্দাটা ঠেলে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ল। মেঝের ওপর তার নূপুরহীন পায়ের আলতো শব্দ হতেই আরযান চট করে চোখ ফিরিয়ে নিল। সাঁঝকে দেখামাত্রই আরযানের চোখের সেই বিষণ্ণতা এক মূহূর্তে উধাও হয়ে সেখানে আবার বরফশীতল গাম্ভীর্যের বর্মটা রাজত্ব করে বসল। সে বসার ভঙ্গিটা সোজা করে নিল। আরযান তার দিকে আর একটিবারও তাকাল না। ডেস্কের ওপর ছড়িয়ে থাকা ফাইলগুলো এক এক করে গুছিয়ে নিজের প্রাতিষ্ঠানিক চামড়ার ব্রিফকেসে পুরল সে।
আরযান ব্রিফকেসটা হাতে নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে এল। সাঁঝ অবলীলায় তার পথ আগলে দাঁড়িয়ে রইল, চোখ দিয়ে তখনো নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে। সে আরযানের শার্টের হাতাটা আলতো করে ছুঁয়ে অত্যন্ত দুর্বল, কাঁপা গলায় বলল, “আপনি… আপনি সত্যি আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছেন আরযান ভাইয়া? আমার ওপর আপনার আর কোনো অধিকার নেই?”
আরযান হাতটা সামান্য ঝাঁকুনি দিয়ে সাঁঝের বাধন থেকে মুক্ত করে নিল। তার মুখাবয়বে কোনো রাগ নেই, কেবল এক মহাসমুদ্রের মতো গভীর উদাসীনতা। সে সাঁঝের চোখের দিকে না তাকিয়েই বড্ড নিরাসক্ত গলায় বলল, “অধিকার জোর করে টিকিয়ে রাখার জিনিস নয়, সাঁঝ। আর আমি তোকে তাড়িয়ে দিচ্ছি না। তুই এই বাড়িরই মেয়ে, এখানেই থাকবি। তবে হ্যাঁ, মীর আরযানের ছায়াটা আজ থেকে তোর ওপর আর থাকবে না। নিজের ইচ্ছেমতো চল, এবার পথ ছাড়।”
আরযান পাশ কাটিয়ে করিডোর ধরে মাপা কদমে হেঁটে নিচে নেমে গেল। সাঁঝ দেয়ালের শ্বেতপাথরের পিলারটা শক্ত করে ধরে মেঝেতে বসে পড়ল। সাঁঝ নিজের বুকের বাঁ পাশে এক তীব্র খালি অনুভূতির জন্ম হতে দেখল।
–
সাতটা দিন কেটে গেল। এই সাতটা দিন মীর বাড়ির ভেতরে সাঁঝের জন্য এক এক যুগের মতো কাটল। আরযান তাকে কোনো ঘরবন্দি করেনি, তার ফোন কেড়ে নেয়নি, এমনকি ডাইনিং টেবিলে সবার সামনে তার দিকে কুটিল চোখে তাকায়ওনি। কিন্তু আরযান যা করছিল, তা সাঁঝের জন্য চাবুকের আঘাতের চেয়েও শতগুণ বেশি যন্ত্রণাদায়ক। আরযান এখন সাঁঝকে সম্পূর্ণ অদৃশ্য মানবীর মতো ট্রিট করে। ডাইনিং টেবিলে বসে আরযান যখন সবার সাথে কথা বলে…. তখন সাঁঝ ঠিক তার উল্টো দিকের চেয়ারে বসে থাকলেও আরযানের চোখ জোড়া সাঁঝের ওপর দিয়ে এমনভাবে চলে যায়, যেন সেখানে কেউ বসেই নেই। আজ বিকেলে বৃষ্টি নামতেই সাঁঝের ছটফটানি আরও বেড়ে গেল। ঢাকা শহরের এই টিপটিপ বৃষ্টিতে তার বড্ড বেশি মনে পড়ছিল পিলুগ্রামের সেই রাতের কথা। কীভাবে আরযান ধোঁয়া ওঠা কাচ্চি বিরিয়ানির লোকমা নিজের হাতে তার মুখে পুরে দিচ্ছিল, আর আলতো করে রুমাল দিয়ে তার চোখের জল মুছে দিচ্ছিল। সাঁঝ আর নিজের ঘরে টিকতে পারল না। সে বড্ড চাতক পাখির মতো ছটফট করতে করতে আরযানের ঘরের দিকে পা বাড়াল। তার মন আজ বড্ড বেশি চাইছে আরযান তাকে ধরুক, তার কবজিটা চেপে ধরে তীব্র ঝাঁঝালো সেই মলমটা লাগিয়ে দিয়ে বলুক, ‘অবাধ্য রোগীদের নার্ভ সোজা করার দাওয়াই!’ আরযানের সেই কড়া ধমক শোনার জন্য সাঁঝের ভেতরটা আজ হাহাকার করে উঠছে।
সে আরযানের ঘরের সামনে গিয়ে দেখল দরজাটা পুরোপুরি খোলা। আরযান অফিসের পোশাক বদলে একটা আরামদায়ক কালো ট্রাউজার আর ধূসর রঙের কটন টি-শার্ট পরে খাটের ওপর বসে ল্যাপটপে কাজ করছে। চোখে তার রিডিং গ্লাস। সাঁঝ দরজার বাইরে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে এক বুক সাহস নিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকল। টেবিলের ওপর রাখা পানির জগটা হাতে নিয়ে সে বড্ড আদুরে, নরম গলায় বলল, “আপনার… আপনার জগে পানি ফুরিয়ে গেছে আরযান ভাইয়া। আমি একটু এনে দেব?”
আরযান ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখ না সরিয়েই বড্ড যান্ত্রিক গলায় বলল, “লাগবে না। দরকার হলে আমি নিজেই নিয়ে নেব। তুই নিজের ঘরে যা।” সাঁঝ জগটা টেবিলে নামিয়ে রেখে আর এক কদম এগিয়ে এল। সে আরযানের খুব কাছে গিয়ে বসল, তার গলাটা অভিমানে বুজে এল। সে বলল, “আপনি আমার দিকে তাকাচ্ছেন না কেন? আমি তো সেই পরশু দিন থেকে কলেজ যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। কোনো ছেলের সাথে কথাও বলি না। তাও আপনি আমার ওপর থেকে রাগ কমাচ্ছেন না?”
আরযান এবার ল্যাপটপটা বন্ধ করে একপাশে রাখল। চোখ থেকে গ্লাসটা নামিয়ে সে সরাসরি সাঁঝের চোখের দিকে তাকাল। সে বড্ড নিচু গলায় বলল, “আমি তো আগেই বলেছি সাঁঝ, তোর ওপর আমার কোনো রাগ নেই। তুই কলেজ যাবি কি যাবি না, কার সাথে কথা বলবি, সেটা সম্পূর্ণ তোর একার সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে মীর আরযানের মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন নেই। আর দয়া করে আমার ঘরে এভাবে পারমিশন ছাড়া আসবি না, আমার কাজের ডিস্টার্ব হয়।”
আরযানের এই শান্ত অথচ চূড়ান্ত দূরত্বের দেয়ালটা সাঁঝের ভেতরের সবটুকু জেদ আর অহংকারকে এক মূহূর্তে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল। সে আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়াতে পারল না। চোখ দুটো হাত দিয়ে চেপে ধরে সে এক দৌড়ে নিজের ঘরে চলে এল।
বিছানায় মুখ গুঁজে সাঁঝ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। সে আজ বুঝতে পারছে, মীর বাড়ির ছেলেদের এই অতিরিক্ত অধিকারবোধ আর শাসনটা আসলে কোনো বিষাক্ত খাঁচা ছিল না, ওটাই ছিল তার সবচেয়ে বড় আশ্রয়। আরযান যখন তাকে শাসনের কড়া শৃঙ্খলে বেঁধে রাখত, তখনো সাঁঝ জানত যে সে আরযানের কতটা জুড়ে আছে। কিন্তু আজ এই অসীম মুক্ত পৃথিবীতে এসে আরযানের এই অবহেলা তাকে এক চরম একাকীত্বের নরকে আছড়ে ফেলল। সাঁঝ বালিশটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে মনে মনে আর্তনাদ করে বলল, “আপনি আমাকে আবার বকুন আরযান ভাইয়া, চড় মারুন, খাঁচায় বন্দি করুন… কিন্তু এভাবে পর করে দেবেন না। আপনার এই দূরত্ব যে আমি সহ্য করতে পারছি না!”
–
সোমবারের ফ্লাইটটা ছিল সিঙ্গাপুরের। চার ঘণ্টার একটা দীর্ঘ রুট। বিমানের ফার্স্ট ক্লাস কেবিনের এয়ার হোস্টেস হিসেবে সিয়ার ডিউটি ছিল আজ। সাধারণত ফ্লাইটে ক্যাপ্টেন তাজের শৃঙ্খল আর কড়াকড়ি দ্বিগুণ হয়ে যায়। পুরোটা সময় সে ককপিটের ভেতরেই ছিল, কিন্তু সিয়ার মনটা কেমন যেন বারবার ককপিটের ওই দরজার দিকেই ছুটে যাচ্ছিল। সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি এয়ারপোর্টে যখন ল্যান্ড করল, তখন ঘড়িতে রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। এয়ারপোর্টের ফর্মালিটিজ শেষ করে ক্রু মেম্বারদের জন্য নির্ধারিত পাঁচতারা হোটেলের রুমে যে যার মতো চলে গেল। সিয়া নিজের রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে সবেমাত্র বসেছিল, ঠিক তখনই কো-পাইলটের একটা ফোন এল। “মিস সিয়া, ক্যাপ্টেন তাজ স্যারের আগামীকালের রিটার্ন ফ্লাইটের কিছু ক্রু ইনফরমেশন আর ডিক্লেয়ারেশন শিট বাকি রয়ে গেছে। উনি ওটা ওনার রুমে নিয়ে গেছেন। কাইন্ডলি একটু ওনার ৭০২ নম্বর রুমে গিয়ে ওটা নিয়ে আসবেন? আমার একটু ইমার্জেন্সি কাজ আছে।”
সিয়া একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এই লোকটার মুখোমুখি হওয়া মানেই বুক ধড়ফড়ানি বেড়ে যাওয়া। তা-ও চাকুরির খাতিরে নিজের অ্যাপ্রনটা ঠিক করে সে ফাইলের বাকি কাগজগুলো হাতে নিয়ে ৭০২ নম্বর রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দরজায় দুবার মৃদু টোকা দিল সিয়া। কোনো সাড়াশব্দ নেই। সে আরও একটু জোরে টোকা দিল, “ক্যাপ্টেন স্যার? আমি সিয়া। ফাইলটা নিতে এসেছি।”
ভেতর থেকে কোনো আওয়াজ এল না, কিন্তু সিয়া খেয়াল করল দরজার লকটা পুরোপুরি লাগেনি, সামান্য ফাঁক হয়ে আছে। সিয়া একটু অবাক হলো। তাজ স্যারের মতো একজন ডিসিপ্লিন্ড মানুষ হোটেলের রুমের দরজা এভাবে খোলা রাখবে, এটা ভাবাই যায় না। সে ভয়ে ভয়ে হাত দিয়ে দরজাটা একটু ধাক্কা দিল। ঘরের ভেতরটা ঘুটঘুটে অন্ধকার। কেবল কাঁচের জানালার ওপাশ থেকে সিঙ্গাপুর সিটির দূরবর্তী সোডিয়াম লাইটের আবছা আলো এসে ঘরের মেঝেতে পড়েছে। বাইরে তখন হঠাৎ করেই ঝুমঝুম করে ক্রান্তীয় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। কাঁচের গায়ে বৃষ্টির ফোঁটা আছড়ে পড়ার এক একটানা শব্দ হচ্ছে। সিয়া ঘরের ভেতর এক কদম বাড়িয়ে বলল, “স্যার? আপনি কি ভেতরে আছেন?”
কোনো উত্তর না পেয়ে সে দেয়ালের সুইচে চাপ দিয়ে লাইটটা অন করল। আর লাইট জ্বলতেই সিয়ার বুকের ভেতরটা ছ্যাৎ করে উঠল। বিশাল কিং-সাইজ বিছানাটার ওপর ক্যাপ্টেন তাজ চিত হয়ে শুয়ে আছে। তার গায়ের পাইলটের শার্টের ওপরের তিনটে বোতাম ছেঁড়া, টাইটা মেঝের এক কোণে পড়ে আছে। তাজের চওড়া ফর্সা কপালটা ঘেমে একাকার হয়ে গেছে, আর তার চোয়াল দুটো শক্ত হয়ে আছে। সে যেন তীব্র কোনো যন্ত্রণায় ছটফট করছে। সিয়া ফাইলটা টেবিলের ওপর ফেলে এক দৌড়ে বিছানার কাছে চলে গেল। “স্যার! ক্যাপ্টেন স্যার! কী হয়েছে আপনার?” সে তাজের কপালে নিজের হাতটা ছোঁয়াতেই ছিটকে পিছিয়ে এল। এ তো মানুষ নয়, জ্যান্ত আগ্নেয়গিরি! জ্বরে তাজের শরীরটা পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে। তাজের মতো এক অটল পাহাড়, যে কি না শত শত যাত্রী নিয়ে মাঝ-আকাশের ঝড় সামলায়, সে আজ এভাবে অসহায়ের মতো বিছানায় পড়ে আছে, হুশ নেই।
তাজ জ্বরের ঘোরে বিড়বিড় করছিল, “ফ্লাইট… অল্টারনেটিভ রুট… ক্লাউড…” সিয়া প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গেল। এই অচেনা দেশে, মাঝরাতে সে কাকে ডাকবে? সে দ্রুত ইন্টারকমে হাত দিতে গেল, কিন্তু তখনই তার মনে হলো, ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইটের চিফ ক্যাপ্টেনের এমন অসুস্থতার খবর যদি এয়ারপোর্ট অথরিটি বা হোটেলে জানাজানি হয়, তবে ওনার মেডিকেল গ্রাউন্ডে বড় কোনো সমস্যা হতে পারে। চাকুরির সুরক্ষার কথা ভেবে সিয়া নিজেই পরিস্থিতি সামলানোর সিদ্ধান্ত নিল। সে দ্রুত ওয়াশরুমে গিয়ে একটা ছোট গামলা আর তোয়ালে নিয়ে এল। তোয়ালেটা ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে সে তাজের মাথার কাছে বসল। ভয়ে তার হাত দুটো কাঁপছিল। এত কাছ থেকে সে তাজকে কোনোদিন দেখেনি। চশমা ছাড়া তাজের বন্ধ চোখের পাতাগুলো, তার তীক্ষ্ণ নাক আর চওড়া বুকটা আজ বড্ড বেশি চেনা অথচ অচেনা লাগছিল। সিয়া ভেজা তোয়ালেটা তাজের ফর্সা কপালে আলতো করে বসিয়ে দিল। ঠাণ্ডা পানির ছোঁয়া লাগতেই তাজ একটা গভীর হুংকার দিয়ে উঠল। তার ডান হাতটা হুট করেই সিয়ার জামার হাতা ভেদ করে তার নরম কবজিটা শক্ত করে চেপে ধরল।
তাজের হাতের তপ্ত উত্তাপ সিয়ার চামড়ায় গিয়ে বিঁধল। সিয়া চমকে উঠে বলল, “স্যার, ছাড়ুন! আমি সিয়া… আপনার কপালে জলপট্টি দিচ্ছি। প্লিজ হাতটা ছাড়ুন, জল বদলে আনতে হবে।” কিন্তু জ্বরের ঘোরে থাকা তাজের শক্তি যেন আরও বেড়ে গেল। সে সিয়াকে নিজের দিকে এক হ্যাঁচকা টান দিল। সিয়া ভারসাম্য রাখতে না পেরে সরাসরি তাজের সেই চওড়া, উন্মুক্ত বুকের ওপর আছড়ে পড়ল। সিয়ার লম্বা চুলগুলো তাজের মুখের ওপর ছড়িয়ে পড়ল। তাজের ঘন, তপ্ত নিশ্বাস সিয়ার ঠোঁটের ওপর এসে আছড়ে পড়ছিল। বাইরে তখন বৃষ্টির বেগ আরও উগ্র হচ্ছে, কাঁচের জানালায় বাতাসের ঝাপটা লাগছে, আর এই নিস্তব্ধ রুমে দুটি হৃদস্পন্দন একাকার হয়ে গেছে। তাজ চোখ না খুলেই সিয়ার কোমরটা তার এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে নিজের বুকের সাথে আরও শক্ত করে পিষে ফেলল। সে ফিসফিস করে বলল, “যেও না… সিয়া… কফিটা বড্ড বেশি তিতো…”
সিয়া তাজের বুকের মাঝে একদম বন্দি হয়ে গেল। তার নিজের হৃদস্পন্দন তখন এয়ারক্রাফটের ইঞ্জিনের চেয়েও দ্রুত গতিতে চলছিল। সে বুঝতে পারল, এই বাউন্সার ক্যাপ্টেন জ্বরের ঘোরেও তার সেই ‘মায়ায় ভরা চিনি মেশানো’ কফির কথা ভুলতে পারেনি। সিয়া আর নিজেকে সরিয়ে নিল না। সে এক হাত দিয়ে তাজের কপালে হাত বুলিয়ে বড্ড আদুরে, নরম গলায় বলল,
“আমি কোথাও যাচ্ছি না, স্যার। আমি এখানেই আছি। আপনার সোমবারের কফিতে আমি অনেকটা মায়া মিশিয়ে দেব। এবার শান্ত হোন।”
সিয়ার এই নরম কণ্ঠস্বর আর তার শরীরের সুবাস যেন তাজের ভেতরের সেই অবাধ্য জ্বরটাকে একটু শান্ত করল। তাজের হাতের মুঠোটা আস্তে আস্তে আলতো হয়ে এল, কিন্তু সে সিয়াকে নিজের বুক থেকে সরাল না। বিরবির করে তাজ আবার আওড়াল, “আজকে তোমার কোথাও যাওয়া নেই। এখানেই থাকবে। নইলে চাকরি কিন্তু বাতিল করে দিব। তখন যাবজ্জীবন ছুটি কাটিয়ো।”
চলবে?
( সাঁঝ এবার বুঝুক কত ধানে কত চাল।)
Share On:
TAGS: ইশরাত জাহান জেরিন, যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৮+৯+১০
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ১৭
-
প্রেমতৃষা ৪২ ( শেষ অর্ধেক)
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৪০
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ২৩
-
প্রেমতৃষা পর্ব ২৩+২৪
-
প্রেমতৃষা ৪২ (প্রথম অর্ধেক)
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৩৫
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৮
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৩৪