Golpo romantic golpo যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ

যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ১৯


ইশরাতজাহানজেরিন

যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ১৯

রাত তখন প্রায় ২ টা ছুঁইছুঁই। শহরের ব্যস্ততা থেমে গিয়ে নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে চারপাশে। রাত গাড়ির ভেতর বসে আছে, মুখে কালো মাস্ক। পাশে রিদম। রাত ভালো করে চারপাশে একবার দেখল। কি অদ্ভুত জায়গা। আর তারচেয়েও বড় কথা এখানে কত মশা। শালা মশার কামড়ে জীবন একেবারে জ্বালাপালা হয়ে যাচ্ছে।
রাতের চোখে অস্থিরতা। “তুই নিশ্চিত, ওই মেয়েটা এখানেই এসেছে?”

রিদম মোবাইল স্ক্রিন দেখে বলল, “হ্যাঁ ভাই, ভালো মতো খোঁজ নিয়েছি। এখানেই পাবো জানিয়েছে। তবে দুনিয়ায় তুই কি আর কোনো মেয়ে পাসনি? কেমন যেন টমবয় টমবয় লাগে। কত ফ্যান তোর আছে। একেই কেন পছন্দ করতে হবে?”

“মনের ওপরে কিছু হয়না ভাই। কত মেয়েই তো দেখেছি জীবনে। তুই কখনো আমায় এমন পাগল হতে দেখেছিস?”

“দেখার কি আছে তুই তোর পাগলই।”

“এই মুখ সামলে,তুই আমার স্টুডিওতে কাজ করিস বুঝে যাস না। আর আমি কত বড় সিঙ্গার তুই জানিস?”

“সিঙ্গারা হও আর আলুর চপ তাতে কি আসে যায়? তুই এর আগে কত গুলো ডেট করেছিস বল তো রাত? একটা রিলেশনশিপও টিকেছে কি? টিকবে কেমন করে? তুই তো আস্ত একটা শয়তান। মেয়েদের সাথে ওইভাবে কেউ কথা বলে? শুন এবার আর ভুল করিস না। প্রশংসা করবি, পাঁচানি দিলে কিন্তু এটাও হাত ছাড়া। খালি নাম ডাক, টাকা থাকলেই হয় না। মেয়েরা নরম মনের, ওরা কেয়ারিং ছেলে চায়। একটু কেয়ার ফেয়ার করিস। আর ভুলেও প্রথমে হোটেল রুমে আনার কথা ভাববি না। ভয় পাবে। গালে দুটো চড়, আর মুখের ওপর থুও দিতে পারে।”

“তো কদুর মতো চেহারা আর বানরের তো চরিত্র থাকলে আমি বলতে পারব না?”

“তুই থাম ভাই।”

রাত হাতঘড়ির দিকে তাকাল । তারপর পুনরায় বলল,

“কিরে কই? আজকে না দেখলে শান্তি পাবো না…”

গাড়িটা ধীরে ধীরে একটা নিরিবিলি, পরিত্যক্ত জায়গার দিকে ঢুকে পড়ল। জায়গাটা দিনের বেলায়ও খুব একটা লোকজন থাকে না, আর রাতে তো একেবারেই না থাকার কথা। কিন্তু… হঠাৎই দূর থেকে ভেসে আসে তীব্র চিৎকার, “ওয়োওওও!!! ব্ল্যাক টিম! ব্ল্যাক টিম!!”

রিদম আর রাত দুজনেই অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকায়। “এটা আবার কী! এত ভীড় কেন? আমার তো কনসার্ট হচ্ছে না। নাকি আমি আসব এই খবর মিডিয়া আগেই যেনে গেছে? ওএমজি।” রাত জলদি মাথায় হুড তুলে দিলো। মুখে কালো মাক্স পড়ে নিলো। আর একটু এগোতেই তারা দেখল পুরো জায়গাটা আলো আর মানুষের ভিড়ে ঠাসা। চারদিকে নিয়ন লাইট, গাড়ির হেডলাইট, আর মানুষের উত্তেজিত চিৎকার। তারপর ছেলে-মেয়ে নেশা পানি করে, বক্স বাজিয়ে কি অবস্থা করছে। রাত অবাক রিদমকে প্রশ্ন করল, “এটা তো… কার রেসিং!” গাড়িটা আর এগোতে পারল না। চারদিক থেকে মানুষ ঘিরে ধরেছে। তারা ভিড়ের মধ্যেই আটকা পড়ে যায়। দূরে একটা লম্বা রাস্তা, দুই পাশে দর্শক। মাঝখানে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন রঙের গাড়ি। লাল, নীল, সবুজ, হলুদ… আর সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো একটা সম্পূর্ণ কালো গাড়ি।
সব গাড়ির চারপাশে তাদের নিজ নিজ টিম, নিজেদের পতাকা। একদল দর্শক চিৎকার করছে, “রেড টিম আজকে জিতবেই!”

আরেক দল সাথে পাল্টা দেয়, “স্বপ্ন দেখছিস! ব্ল্যাক কুইন আছে মাঠে!”

রাতের চোখ গিয়ে আটকে যায় সেই কালো গাড়ির দিকে। গাড়িটার দরজা ধীরে খুলে যায়। ভেতরে প্রবেশ করে কালো লেদার জ্যাকেট, চুল পনিটেইল করা একটা মেয়ে। তবে পেছন থেকে মেয়েটার চেহারা দেখা যাচ্ছে না। মেয়েটা হেলমেট হাতে নিয়ে গাড়ির ভিতর ঢুকতেই চারপাশে হইচই বাড়তে থাকে। “ব্ল্যাক কুইন! ব্ল্যাক কুইন!!”

অন্যদিকে লাল গাড়ির চালকও একজন অভিজ্ঞ রেসার, তার জন্য চেয়ার করার বুঝি মানুষের কমতি আছে? রাত আর রিদম ভীড় ঠেলে সামনে যাওয়ার আগেই একজন স্টার্টার মাঝখানে এসে হাত তোলে।
“থ্রি… টু… ওয়ান—গো!”

এক মুহূর্তে চারপাশে গর্জে ওঠে ইঞ্জিনের শব্দ।
সব গাড়ি একসাথে ছুটে যায়। শুরুতেই লাল গাড়ি এগিয়ে যায়। দর্শক চিৎকারে ফেটে পড়ে।

“রেড! রেড! রেড!!” কিন্তু কালো গাড়িটা স্থির। সে তাড়াহুড়া করছে না।
রিদমও এখন পুরোদমে রেস দেখায় মগ্ন। “ও পিছিয়ে যাচ্ছে কেন!”

রাত কিছু বলল না। তার চোখ শুধু সেই কালো গাড়ির দিকে। প্রথম বাঁকে লাল গাড়ি হঠাৎ ড্রিফট করে নিখুঁতভাবে ঘুরে যায়। ঠিক তখনই কালো গাড়ি অবিশ্বাস্য গতিতে বাঁক নেয়, প্রায় গাড়ির গায়ে গায়ে ঘেঁষে। এক সেকেন্ডের জন্য মনে হয় ধাক্কা লাগবে!
কিন্তু না। সে নিখুঁতভাবে পাশ কাটায়।
রাত মুগ্ধ হয়ে বলে, “অবিশ্বাস্য…”
এখন লাল আর কালো গাড়ি পাশাপাশি।
দুইজনই কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। ইঞ্জিনের গর্জন, চাকার ঘর্ষণ, বাতাস কেটে যাওয়ার শব্দ সব মিলিয়ে উত্তেজনা চূড়ায়। লাল গাড়ি সামনে এগিয়ে যায়।
আর মাত্র কয়েক সেকেন্ড! ঠিক তখনই কালো গাড়ি হঠাৎ সাইড নেয়, এক অসম্ভব ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাঙ্গেলে ওভারটেক করে! পুরো ভিড় একসাথে চিৎকার করে ওঠে, “ওওওওওও!!!”
ফিনিশ লাইনে কালো গাড়ি… জিতে যায়। পুরো জায়গা কেঁপে ওঠে চিৎকারে, “ব্ল্যাক কুইন!! ব্ল্যাক কুইন!!”
মেয়েটা হেলমেট খুলে ফেলে। এবার তাকে দেখা যাচ্ছে।
রাত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। “সুহানা?”


চারপাশে এখনো উত্তেজনার রেশ রয়ে গেছে। “ব্ল্যাক কুইন! ব্ল্যাক কুইন!” চিৎকারগুলো ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বাতাসে এখনও গরম গন্ধ। বার্নিং রাবার, পেট্রোল আর অ্যাড্রেনালিনের রয়েই গেছে। সুহানা একদম কোনো দিকে না তাকিয়ে নিজের কালো গাড়ির দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়ে। দরজাটা বন্ধ হতেই বাইরের শব্দ অনেকটাই স্তব্ধ হয়ে যায়। গাড়ির ভেতরে আধো অন্ধকার। শুধু ড্যাশবোর্ডের নীল আলো হালকা করে তার মুখের ধারগুলো ফুটিয়ে তুলছে। সে ধীরে ধীরে গ্লাভস খুলে ফেলে। আঙুলগুলো লাল হয়ে আছে। স্টিয়ারিং চেপে ধরার চাপ এখনও রয়ে গেছে। হেলমেটটা পাশে ছুঁড়ে দিয়ে চুল খুলে দেয়। পনিটেইল খুলে যেতেই লম্বা চুল কাঁধে নেমে আসে। তারপর জ্যাকেটের চেইন নামায়… খুলে ফেলে। ভেতরে কালো ট্যাংক টপ। বুকটা দ্রুত ওঠানামা করছে। রেসের উত্তেজনা এখনও শরীর ছাড়েনি। সে এক মুহূর্ত চোখ বন্ধ করে সিটে হেলান দেয় গভীর শ্বাস নেয়। তারপর সিটের নিচ থেকে একটা ছোট গ্লাস বোতল বের করে।
ঢাকনা খুলে এক চুমুক দেয়। চোখ বন্ধ রেখেই আরেকটা ছোট চুমুক দেয়। বাইরের দুনিয়া যেন তার কাছে গুরুত্বহীন। হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ শুনতে পেল সে। সুহানার চোখ ধীরে খুলে যায়। রাত কোনো অনুমতি না নিয়েই ভেতরে ঢুকে পড়ে। দরজা টেনে বন্ধ করে দেয়। এক সেকেন্ড। দু’জনের চোখ এক হয়। সুহানার চোখে কোনো বিস্ময় নেই। “নেমে যাও।”
রাত একটু হাসে। চারপাশে তাকিয়ে নেয়, “ওয়াও… ইমপ্রেসিভ। বাইরের চেয়ে ভেতরটা আরও ডেঞ্জারাস লাগছে।”

সুহানা আবার বোতলটা ঠোঁটে তোলে, “তোমার শেষবার বলছি নামো।”

রাত এবার সিটে আরাম করে বসে পড়ে, এক পা অন্য পায়ের ওপর তুলে, “আজকে না। আজকে আমি এত সহজে নামছি না।”

সুহানা ধীরে মাথা কাত করে তাকায়, “তুমি বুঝতে পারছো তুমি কার গাড়িতে বসে আছো?”

রাত সামান্য ঝুঁকে আসে, তার চোখে চোখ রেখে বলল, “আমি জানি… ব্ল্যাক কুইনের গাড়িতে।”সে খুব নিচু গলায় বলল, “আর আমি জানি… তুমি সুহানা। যদিও আবার ফ্যান। তোমার কত সৌভাগ্য আমি নিজে তোমার কাছে এসেছি।”

সুহানার চোখে একটা পরিবর্তন আসে। কিন্তু সেটা মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়। সে আবার নির্বিকার। “ভুল জায়গায় এসে ভুল মানুষকে খুঁজছো তুমি।”
রাত মুচকি হাসে, “হয়তো… কিন্তু আমার ভুলগুলো সাধারণত ইন্টারেস্টিং হয়।”
ঠিক তখনই দূর থেকে ভেসে আসে একটা শব্দ।
সাইরেনের শব্দ। একটা না… একাধিক। বাইরের ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। “পুলিশ! পুলিশ!”
“দৌড়াও!” মানুষ ছুটতে শুরু করে। গাড়ির ইঞ্জিন একসাথে গর্জে ওঠে। হেডলাইটগুলো এলোমেলোভাবে জ্বলে ওঠে, চারপাশে আলো আর ছায়ার খেলা। রাত একটু ঘাড় ঘুরিয়ে বাইরে তাকায়, তারপর আবার স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলে, “তো… আমি আসলে বলতে চাচ্ছিলাম….” সুহানা হঠাৎ ইগনিশনে চাবি ঘোরায়।
গাড়ি গর্জে ওঠে।রাত থেমে যায়, “এই! আমি কথা বলছি….” সুহানা স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরে, চোখ সোজা সামনে। “সিটবেল্ট বাঁধো।”
রাত ভ্রু কুঁচকে বলে, “আমি সিরিয়াস…..”
বলার আগেই ভ্রূউউউম!!! গাড়ি হঠাৎ ঝাঁকুনি দিয়ে সামনে ছুটে যায়। রাত সিট আঁকড়ে ধরে,
“এই! পাগল নাকি তুমি!”
সুহানা কোনো উত্তর দেয় না। তার চোখ এখন সম্পূর্ণ ফোকাসড। রাস্তা ফাঁকা না। চারপাশে পালাতে থাকা গাড়ি, দৌড়াতে থাকা মানুষ। সে নিখুঁতভাবে ফাঁক খুঁজে বের করে। স্টিয়ারিং ঘোরায়। গাড়ি একেবারে স্লাইড করে পাশ কাটিয়ে যায়। রাত চিৎকার করে ওঠে,
“তুমি কী করছো! থামাও….”
“পেছনে তাকাও।”
সুহানার কণ্ঠ এবার ঠান্ডা, কিন্তু বিরক্ত মিশে আছে তাতে। রাত ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। দুইটা পুলিশের গাড়ি সোজা তাদের দিকে ধেয়ে আসছে। লাল-নীল লাইট ঝলকাচ্ছে। সাইরেন কানে বাজছে।
রাতের গলা হঠাৎ থেমে যায়, “…ওকে।”
সুহানা ধীরে বলে, “এখন শুনো….”
সে গিয়ার চেঞ্জ করে। গাড়ি আরও স্পিড নেয়।
“যদি বাঁচতে চাও…” একটা তীক্ষ্ণ বাঁক নেয়। গাড়ি প্রায় ড্রিফট করে ঘুরে যায়। “…একদম চুপ থাকবে।”
রাত এবার চুপ। কয়েক সেকেন্ড শুধু ইঞ্জিনের গর্জন আর টায়ারের ঘর্ষণের শব্দ। তারপর সে ধীরে বলে,
“…তুমি সবসময় এমন?”
সুহানার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে ওঠে।
চোখ এখনও রাস্তায়। “না…”
সে হঠাৎ স্পিড বাড়ায়। “…কখনো কখনো এর থেকেও খারাপ।” গাড়ি অন্ধকার রাস্তা কেটে ঝড়ের মতো ছুটে চলে।

কালো গাড়িটা হঠাৎ স্পিড কমিয়ে একটা ফাঁকা, আধো অন্ধকার জায়গায় ঢুকে পড়ে। চারপাশে কোনো মানুষ নেই। সুহানা ব্রেক কষে গাড়িটা থামে। ইঞ্জিন এখনও চালু। সুহানা এক মুহূর্তও নষ্ট না করে রিয়ারভিউ মিররে তাকায়। তারপর সাইড মিরর। তারপর সামনে।
চোখে পুরো সতর্কতা। কয়েক সেকেন্ড কিছু বলে না।
শুধু নিশ্চিত হয় কেউ ফলো করছে না। রাত সিটে হেলান দিয়ে বসে, একটু হাঁফ ছাড়ল। “ওয়াও… তুমি ড্রাইভ করো না, যুদ্ধ করো মনে হয়।” সুহানা কোনো রিঅ্যাক্ট করল না। তার চোখ এখনও বাইরে।
তারপর ধীরে বলল,“আমার কাছে কী কাজ?”
রাত একটু অবাক হয়, “কি?”
সুহানা এবার সরাসরি তার দিকে তাকায়, “তুমি আমার গাড়িতে উঠে পড়লে, পুলিশ থেকে আমার সাথে পালালে… এখন বলো, কী দরকার?”

এক সেকেন্ড থামল সে। তারপর ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল, “আর তুমি তো সিঙ্গার, তাই না? আমার বান্ধবী তো তোমার মতো বলদদেরই ভক্ত। সামিরার বাচ্চা!”

রাত কয়েক সেকেন্ড চুপ থাকে। তারপর হাসে, “ওহ… ইন্টারেস্টিং। আমি প্রথমবার শুনলাম, কেউ আমাকে বলদ বলছে।”

সুহানা কাঁধ ঝাঁকায়, “সত্য কথা শুনতে অভ্যস্ত না বুঝি?”

রাত মাথা নেড়ে বলে, “না, আসলে মিথ্যা কথা বেশি শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।”

সুহানা আবার জানালার বাইরে তাকায়, “তাহলে আজকে একটু সত্য শুনো।”

রাত একটু সামনে ঝুঁকে, “ঠিক আছে, তুমি বলো… আমি শুনছি।”

সুহানা এবার সিটে হেলান দেয়, হাত গুটিয়ে নেয়, “তোমার মতো ছেলেরা নাম, টাকা, ফেম… এগুলো নিয়ে ঘুরে বেড়াও। ভাবো সবাই ইমপ্রেস হবে।”

রাত শান্ত গলায় বলে, “আমি কাউকে ইমপ্রেস করতে আসিনি।”

“ও প্লিজ,” সুহানা চোখ ঘুরায়, “এই ডায়লগগুলো আমার ওপর কাজ করবে না।”

রাত একটু থামে। তার চোখ এবার সিরিয়াস।
“আমি সত্যিই তোমাকে খুঁজতে এসেছি।”

সুহানা হাসে, “আমায়? কেন? আমি কি তোমার নতুন গান নাকি?”

রাত ধীরে বলে, “তুমি আলাদা।”

“সবাইই আলাদা,”

সুহানা ঠান্ডা গলায় বলে, “কেউ ভালো, কেউ খারাপ।”

রাত গভীর শ্বাস নেয়, “শোনো… আমি তোমাকে প্রথম দেখার পর থেকে…..”

“স্টপ,” সুহানা হাত তুলে থামিয়ে দেয়, “এই লাইনটা অনেকবার শুনেছি।”

রাত এবার চোখ ছোট করে তাকায়, “তুমি সবসময় এমনই?”

“হ্যাঁ,”

সুহানা নির্লিপ্তভাবে বলে, “বিশেষ করে তোমার মতো ছেলেদের ক্ষেত্রে।”

রাত এবার আরেকটু কাছে ঝুঁকে আসে, “আমার মতো ছেলেদের মানে?”

সুহানা মুচকি হাসে, “যারা ভাবে মেয়েদের পটানো একটা ট্যালেন্ট।”

এইবার রাতের ধৈর্য একটু ভাঙে। সে সোজা হয়ে বসে, তারপর হালকা হেসে বলে, “ওহ… তাহলে তুমি ভাবছো আমি তোমায় পটাতে এসেছি?”

সুহানা ভ্রু তোলে, “না? তাহলে?”

রাত এবার মাথা নেড়ে হেসে ফেলে। “সত্যি বলতে কি…”

সে একটু থামে, তারপর সরাসরি বলে, “তোমাকে পটানোর মতো কষ্ট আমি নিতে রাজি না।”

সুহানার চোখ সরু হয়ে যায়। “এক্সকিউজ মি?”

রাত কাঁধ ঝাঁকায়, “মানে… তুমি দেখতে ভালো, ড্রাইভিং অসাধারণ। কিন্তু অ্যাটিটিউডটা একটু বেশি হয়ে গেছে না?”
সুহানা ঠান্ডা গলায়, “তুমি এখন আমার গাড়িতে বসে আমাকে জাজ করছো?”

রাত হাসে, “তুমি তো আগে থেকেই শুরু করেছো। আমি শুধু রিপ্লাই দিলাম।”

সুহানা একটু সামনে ঝুঁকে আসে, “তুমি জানো না তুমি কার সাথে কথা বলছো।”

রাতও পিছিয়ে যায় না। চোখে চোখ রেখে বলল, “আমি জানি… আর তুমিও জানো না তুমি কার সাথে কথা বলছো।”

সুহানা এখনও সতর্ক। তার চোখ বারবার রিয়ারভিউ মিররে যাচ্ছে। রাত একটু বিরক্ত ভঙ্গিতে বসে আছে। হুডির হাতা গুটানো। এই মেয়ে তো তাকে পাত্তাই দিচ্ছে না। এত বড় একটা শিল্পীর সাথে কি করে কথা বলতে হয় জানা নেই। রাত একে নিজের মনের কথা কি করে বলবে? এটা তো একটা ডাইনী।

“তুমি আসলে প্রোবলেমটা কী জানো?” রাত গম্ভীর গলায় বলে, “সবকিছু এত অ্যাটিটিউড দিয়ে দেখো যে, আসল কথাটাই শুনতে চাও না।”

সুহানা ঠান্ডা হাসে, “আর তোমার প্রোবলেম তুমি ভাবো সবাই তোমার কথা শুনতেই বাধ্য।”

“আমি কাউকে বাধ্য করি না,”

রাত সামনে ঝুঁকে বলে, “কিন্তু তুমি অযথা আমাকে….”
হঠাৎ সুহানার চোখ আয়নায় আটকে যায়। দূরে একটা গাড়ি… ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। সামনে ছোট চেকপোস্ট টাইপ কিছু। দুই-তিনজন লোক দাঁড়িয়ে। টর্চের আলো, রিফ্লেক্টিভ জ্যাকেট। ওমা পুলিশ? গাড়ি স্টার্ট দিতে গিয়ে তাও কাজ করছে না। কি সমস্যা হলো এই সময়? সে দ্রুত সামনে তাকায়… তারপর আবার আয়নায়। রাত এখনও নিজের মতো করে বলছে,
“আমি সিরিয়াসলি…..”
হঠাৎ সুহানা তার দিকে ঝুঁকে আসে। রাত থেমে যায়।
“কি..” কথাটা শেষ হওয়ার আগেই সুহানা তার ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে। এক মুহূর্তে সময় যেন থেমে যায়।
রাত পুরোপুরি স্তব্ধ। তার চোখ বড় হয়ে যায়। শরীর শক্ত হয়ে থাকে। হাতটা যেটা দিয়ে সে একটু আগে ঝগড়া করার ভঙ্গিতে ইশারা করছিল সেটা মাঝ আকাশেই থেমে যায়। সুহানার হাত উঠে গিয়ে রাতের হুডির কলার ধরে টেনে নেয় তাকে আরও কাছে। চুমুটা ভালোই শক্ত!
বাইরে চেকপোস্টের লোকেরা গাড়ির দিকে এগিয়ে আসতেই জানালার দিকে তাকায়। একটা ছেলে আর মেয়ে খুব কাছাকাছি। এমা চুমু খাচ্ছে! আজ-কাল ছেলে-মেয়েগুলোও না!

চলবে?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply