Golpo romantic golpo মূল্য

মূল্য পর্ব ৯


#মূল্য |০৯|
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
নীলার শ্বাশুড়ি দিনকে দিন তার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এরই মাঝে একদিন সে অযথাই কাজের মেয়েটার সাথে ঝগড়া লাগিয়ে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দিয়েছে। যার কারণে ঘরদোর মোছামুছি থেকে শুরু করে রান্না-বান্না সবই নীলাকে করতে হচ্ছে।
নীলা কাজের লোক রাখতে চাচ্ছে কিন্তু তার শ্বাশুড়ি রাখতে দিচ্ছে না। তার ভাষ্যমতে, কাজের লোকেরা একে তো বাসাবাড়ির জিনিস চুরি করে। দুয়ে, শুধু শুধু কাজের লোক রেখে তার ছেলের এত কষ্টের টাকা খরচ করার দরকার কি? নীলা তো সবই পারে, কি আর কাজ এই দুই জনের সংসারে।
নীলা যতই সম্মান আর সম্পর্কের খাতিরে দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করছে, ততই যেন বুড়ো মহিলা সাপের পাঁচ পা দেখে নাচছে আর নীলাকে নাচাচ্ছে।
এমনিতেও তিনি ঢাকায় বেড়াতে আসলে একমাসের বেশি থাকেন না। পনেরো দিন ছোট ছেলের বাসায় আর বাকি পনেরো দিন বড় ছেলের বাসায় কাটিয়েই চলে যান গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু এবার দুই মাস হয়ে যাওয়ার পরও তার নড়নচড়ন নেই যাওয়ার জন্য। নীলার শ্বশুরের আর ভালো লাগছে না শহরের এই বদ্ধ পরিবেশে। তিনি গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ। গ্রামই তার কাছে অক্সিজেন। তার চারজন ছেলেমেয়ে শহর থেকে পড়ালেখা করে এখানেই স্থায়ী হয়েছে। এতে তাদের কোন আক্ষেপ নেই। বরং সন্তানদের সুখে থাকতে দেখে তারাও খুশি। তবে নিজেরা এই বদ্ধ পরিবেশে বেশি দিন থাকতে পারেন না।
তিনি নিজের স্ত্রীকে বেশ কয়েকবার গ্রামে চলে যাওয়ার কথা বলেন, তবে তার স্ত্রী মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছে, বড় বউকে ব্যবসা ছাড়িয়েই তারপর তিনি যাবেন।
এত সব ঝামেলার মাঝে কয়েকটা সুখবর রয়েছে। এর প্রথমটি হলো, নীলা তার ব্যবসীক জীবনের সবচাইতে বড় অর্ডারটি পেয়েছে। কানাডায় বসবাসরত এক ভদ্রমহিলা তার আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের দেওয়ার জন্য বেশ কিছু ব্লক পেইন্ট ও হ্যান্ড পেইন্টের শাড়ি, সালওয়ার সুট ও পাঞ্জাবি অর্ডার করেছে, যেগুলোর মূল্য প্রায় ত্রিশ হাজারের কাছাকাছি। ভদ্রমহিলা নীলার কাজের সুবিধার জন্য ইতিমধ্যে দশ হাজার টাকা পেও করে দিয়েছেন এবং তাকে একমাসের মতো সময় দিয়েছেন কাজটি শেষ করার জন্য।
আর দ্বিতীয় সুখবরটি হলো, নীলার ছোট জা কাকলী মা হতে চলেছে। বিষয়টা জানার পর পুরো পরিবারে আনন্দের স্রোত বয়ে গিয়েছে। নীলা ও অরিত্র খবরটি জানার পর কাকলীর জন্য গিফট নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেইখানে গিয়েও এক বুক কষ্ট নিয়ে ফিরতে হয়েছে নীলাকে।
নীলা তার হাতে তৈরি কাকলী ও তার অনাগত সন্তানের জন্য কিছু কাপড় দিয়ে অভিনন্দন জানায়। সে কাপড়গুলো দিয়ে একপাশে সরে যেতেই নীলার শ্বাশুড়ি কাকলীর থেকে খপ করে কাপড়গুলো নিয়ে ভীষণ অবহেলা করে সেগুলো দূরের সোফায় ফেলে দিয়ে রাগান্বিত গলায় বলেন–
—বাবু না হওয়া অব্দি ওর সাথে কম কম মিশবে, ওর দেওয়া কিছু না খাবে আর নাই বা ছুঁবে। তোমার আগে বিয়ে করে আজ পর্যন্ত আমাদের বংশধরের মুখ দেখার সুযোগ করে দিতে পারল না, আমি নিশ্চিত ওর সাথে কালোছায়া রয়েছে। যার কারণে ও আজও মা হতে পারে নি।
কথাটি যেন সে নীলাকে শোনানোর জন্যই জোরে জোরে বলেছেন। তার এহেন কথায় কাকলী হতভম্ব হয়ে একবার অরিত্রের মা ও একবার নীলার মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে থাকে। শ্বাশুড়ির কথা শুনে ও তার আচরণে নীলার চোখে অশ্রু জমতে শুরু করেছে। সেই অশ্রু গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ার আগেই নীলা সেখান থেকে চলে যেতে চায়, কিন্তু তার পা থমকে যায় অরিত্রের কিছু কথা শুনে।
অরিত্র অফিসের একটা ইম্পর্টেন্ট কল এটেন্ড করে মাত্রই বারান্দা থেকে ড্রয়িংরুমে পা রেখেছিল, তখনই সে নিজের মায়ের এই নিন্মমানের কথা ও কাজটি দেখতে পায়। আসলে বারান্দাটি ড্রয়িংরুমেই ছিল আর অরিত্রের মা ও কাকলী যেখানে বসেছিল তার পেছনেই ছিল বারান্দা। তাই অরিত্রের মা যখন কাকলীকে ঐসব কথা বলছিল, সে খেয়ালই করেনি ছেলের আগমন। যদি করত তাহলে হয়ত বলত না। কারণ, অরিত্র এই একটা বিষয় নিয়ে ভীষণ যত্নবান নিজের স্ত্রীর প্রতি।
বিয়ের ছয়বছরেও তাদের সন্তান হয়নি, এর মানেই যে তার স্ত্রীর সমস্যা রয়েছে এটা অরিত্র মানতে নারাজ। নীলা তার শ্বাশুড়ি ও পাড়াপ্রতিবেশি মহিলাদের কথায় প্রভাবিত হয়ে কয়েকবার নিজের হেল্থ টেস্টও করিয়েছিল, কিন্তু রেজাল্টে এমন কিছুই আসেনি যার কারণে নীলাকে বন্ধ্যা বা সন্তান দানে অক্ষম নারী বলা যায়।
আসলে সন্তান হওয়া না হওয়া তো সবই উপরওয়ালার ইচ্ছে। অরিত্র বিশ্বাস করে, তিনি যখন চাইবেন তখনই তাদের সন্তান হবে। এজন্য তার স্ত্রীকে দোষারোপ করার মানেই হয় না।
অরিত্র সেই জায়গাতে দাড়িয়ে থেকেই গম্ভীর গলায় বলে–
—আমার স্ত্রীকে এমন ভাবে অপমান না করলেও পারতে আম্মা। আমি তোমাকে আগেও বলেছি আজও বলছি, সন্তান হওয়া না হওয়া আল্লাহ পাকের ইচ্ছা। তাও তুমি আমার স্ত্রীর সাথে এমন বাজে কাজটা করে মূলত আমাকেই কষ্ট দিলে। তোমার থেকে এমনটা আশা করি নি আমি আম্মা।
অরিত্রের গলার স্বর শুনে তার মা, কাকলী ও নীলা তিনজনই চমকে যায়। কারণ এমন ভাবে অরিত্র তখনই কথা বলে, যখন কিনা সে অত্যধিক রেগে যায়।
অরিত্র ঠান্ডা মাথায় কাজ করা পুরুষ। তার সকল অবহেলা, চোটপাট, ভালোবাসা সে একমাত্র তার স্ত্রীর সাথেই করে। বাকি সবার কাছে অরিত্র এমন এক পুরুষ যে কিনা ভালোবাসা, সাহায্য কোন কিছুতে কৃপণতা করে না। সবসময় গদগদ ভাবে না হাসলেও, ব্যবহার ও আচরণে সে নিতান্তই একজন ভদ্রলোক।
তবে এই ভদ্রলোকটি রেগে গেলেও কখনোই চিৎকার-চেচামেচি করে না। গম্ভীর গলায় যুক্তি মতো কয়েকটা শুনিয়ে সেই জায়গা ছেড়ে চলে যায়। দ্বিতীয় বার তার দিকে ফিরেও তাকায় না।
অরিত্রের এই স্বভাবের কথা তার পরিবার থেকে শুরু করে অফিসের কলিগরা পর্যন্ত জানে। তাই অরিত্রের এমন গলার টোন শুনে তার মা বুঝে যায় ছেলে তার বেজায় খেপেছে। সে তাড়াহুড়ো করে নিজের পক্ষে সাফাই দিতে চান–
—বাবা,, আমায় ভু….
অরিত্র হাত উঠিয়ে নিজের মা’কে থামিয়ে দেয়। সেখান থেকে সরে এসে নীলার কাছে এসে তার হাত চেপে ধরে আর অন্যহাত দিয়ে সেন্টার টেবিলের উপর রাখা নীলার ব্যাগ ও কাকলীকে দেওয়া নীলার কাপড়গুলো তুলে নেয়। স্পষ্টত বুঝা যাচ্ছে, সে বাসা থেকে বের হয়ে যাবে নীলাকে নিয়ে।
অরিত্রের মা ছেলেকে আটকাতে চায় কাজটি করার জন্য। কিন্তু ততক্ষণে বহু দেরী হয়ে যায়। কাকলীদের বাসা থেকে বের হওয়ার আগে অরিত্র কাঠকাঠ গলায় তার মায়ের উদ্দেশ্যে বলে যায়–
—আজ থেকে আমি বা আমার স্ত্রী আর আসব না তোমার ছোট ছেলের বাসায়। আজ তুমি নীলাকে এই কথাটা বলতে পারছ, কাল কাকলীর দিকের আত্মীয়রা আমাকে এমন কথা শুনাবে না এর কি গ্যারান্টি আছে? আমি পুরুষ বলে সবসময় বেঁচে নাও তো যেতে পারি। আমি চাই না একটা সাধারণ বিষয় নিয়ে নিজেকে আর আমার স্ত্রীকে অপমানিত হতে।
তারপর সে কাকলীর দিকে ফিরে গলাটা পূর্বের চেয়ে নরম করে বলে–
—আজ আসি কাকলী, আর হয়ত তোমার সাথে সহজে দেখা হবে না। আমাদের মনে তোমার জন্য কোন খারাপ লাগা নেই, আমি আর আমার স্ত্রী খুশি মনেই এসেছিলাম তোমাদের সাথে দেখা করতে। কিন্তু… তারপর কি হলো তা তো তুমি দেখলেই।
আমি তোমায় একজন শিক্ষিত ও বিবেকবান মেয়ে বলে চিনি। আশা করি আমাদের দিকটা বুঝতে পারবে। তোমার ও তোমার অনাগত সন্তানের জন্য আমরা দু’জন মন থেকে দোয়া করব। আজ আসছি।
কথাটা বলে সে নীলার হাত ধরে টানতে টানতে চলে যায়। নীলা তখন আর না কাঁদলেও, কথার আঘাতেই সে অনেকটা মুষড়ে পড়েছে।
অরিত্রের ভাই ও বাবা তখন একটা কাজে বাহিরে গিয়েছিল বলে তারা কিছুই জানত না। কিন্তু বাসায় এসে তারা যখন অরিত্র আর নীলাকে পান না, তখন কাকলীকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে কাকলী সব কথা জানিয়ে দেয়।
কাকলী সুষ্ঠ বোধ সম্পন্ন একজন মেয়ে, সে অরিত্র আর নীলার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে বিষয়টা সম্পর্কে মনে নেগেটিভ ভাবনা রাখে না। বরংচ, সে আজকে অরিত্রের কথা শুনে মুগ্ধ হয়েছে।
সব জানার পর অরিত্রের ছোট ভাই অভিক ক্ষেপে যায় নিজের মায়ের উপর। এতগুলো মানুষের একটা সুন্দর দিন পন্ড করতে একজন মাত্র মানুষের কয়েকটা মুখের কথাই যথেষ্ট। অরিত্রের বাবাও স্ত্রীর সাথে রাগ করে বেশ কিছুদিন ভালোভাবে কথা বলেন না।
নীলা বাসায় এসে মন খারাপ করে রাখলে অরিত্র বিভিন্ন কায়দায় তার মন ভালো করে। সে বেশ ভালো করেই জানে, অন্যান্য সকল বিষয় যেমন তেমন কিছু এই একটা বিষয় নিয়ে কথা উঠলে নীলা মনে মনে কতটা ভেঙে পড়ে। তাই সে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত নীলার পিছু লেগে থাকে। তাঁকে এক মুহূর্তের জন্যও একা থাকতে দেয় না।
নীলা যখন রাতের খাবার রান্না করছিল, তখনও সে নীলাকে সাহায্য করার ছুতোয় তার সাথে সাথে চিপকে থেকেছে। আবার খাবার খাওয়া শেষে আজ সে জোর করে নীলাকে তার বুকে মাথা রাখিয়ে উপন্যাসের বই পড়িয়ে শুনিয়েছে। বিয়ের শুরুতে এই কাজটা অরিত্র প্রায়ই করত, কিন্তু হঠাৎই সবকিছু কেমন বদলে যেতে থাকল তার দিক থেকে। অফিসের কাজ তাকে এতটা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিলো যে, সে তার প্রিয় মানুষটাকে এতটাই অবহেলা করে যে, তাদের সম্পর্কটাকেই ধ্বংসের দাঁড়প্রান্তে নিয়ে এসেছিল।
তার এই উপলব্ধি হুট করেই আসেনি। সে বিগত কয়েকমাস ধরে নীলার অবহেলা পেয়ে অরিত্র মানসিকভাবে অনেকটা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল। কোন কিছুতেই সে শান্তি পাচ্ছিল না। তখন সে তার এই মানসিক টানাপোড়েনের কথাটি সে তার সবচাইতে কাছের বন্ধুটির কাছে শেয়ার করে, যে কিনা পেশায় একজন সাইকোলজিস্ট। তার নাম মিরাজ হোসেন।
অরিত্র তার কাছে গিয়ে যখন শুধু নীলার পরিবর্তন গুলোর কথাই বলতে থাকে, তখন মিরাজ বুঝে যায় পরিবর্তন ছোঁয়াটা প্রথমে তার বন্ধুর মাঝেই এসেছে। নাহয় একজন নারী হুট করে নিজের স্বামীর থেকে কেন নিজেকে গুটিয়ে নিবে? যতই বিজনেস করুক সে, দিনশেষে নারীর স্বস্তির জায়গা কিন্তু একমাত্র তার স্বামীই।
মিরাজও কৌশলে তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে বন্ধুর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জেনে নেয়। অরিত্রের অফিসের কাজে অতিরিক্ত ব্যস্ত হয়ে যাওয়া, বাসায় আসার পর ক্লান্তির অজুহাতে নীলাকে সময় না দেওয়া, নীলার জন্মদিন ভুলে গিয়ে নিজের কাজিনের জন্মদিন ধুমধাম করে পালন করা এবং এই ভুলের জন্য নীলার কাছে ক্ষমা না চাওয়া, ঈশিতার হয়ে নীলাকে জামার দাম দেওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো সে সবই কথায় ছলে বলে দেয়।
এসব জানার পর মিরাজের ইচ্ছে করে বন্ধুর মাথা ফাটিয়ে দিতে। একজন বিচক্ষণ মানুষ হিসেবে সে সহজেই বুঝতে পারে, অরিত্র ও নীলার সম্পর্কের এই শীতলতার জন্য তার বন্ধুই দায়ী। অরিত্র নীলাকে গিভেন ফর টেক হিসেবে নিচ্ছিল এতদিন, নীলা বিষয়টা বুঝতে পেরে নিজেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে নিতে থাকে অরিত্রের কাছ থেকে। অরিত্র যদি এখনও নীলার পরিবর্তনটা বুঝতে না পারত আর আগের মতোই স্বভাব ধরে রাখত, তাহলে একসময় দেখা যেতো তাদের সম্পর্কটার ইতি টানতে হতো।
মিরাজ সব শোনার পর অরিত্রকে যা বলে, তা শুনে অরিত্রের অবাক হয়ে যায়।
[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন। ]
#চলবে?
[সব ঠিক থাকলে আর একটা পর্ব আসবে ইনশা আল্লাহ। গল্পটা আমি চাইলেও আর বেশি বড় করতে পারছি না। আমার এক্সাম চলছে, সারাবছর ভণ্ডামি করে পরীক্ষার আগে পড়া পাবলিক আমি। বুঝতেই পারছেন, এখন পড়ার চাপ কতটা। দু’টো গল্প একসাথে চালিয়ে যাওয়া আমার কাছে সত্যি কষ্টকর।
আরেকটা কথা, আমি একটা মানুষ হয়ে এত হাজার হাজার পাঠকের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম নই। গল্পটা আমি নিতান্ত সাদামাটা ভাবেই ভেবেছিলাম এবং সেই ভাবনা অনুযায়ীই শেষ করতে চলেছি। আপনাদের এত এত চাহিদা পূরণ করতে না পারার জন্য আমি দুঃখিত।
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স। ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply