Golpo romantic golpo মিস্টার মাংকিম্যান

মিস্টার মাংকিম্যান পর্ব ৩


মিস্টার_মাংকিম্যান

পর্ব_৩

আতিয়া_আদিবা

মেয়ের স্কুলব্যাগে টিফিনবক্স খুঁজতে গিয়ে হাতে মিলল প্রেগনেন্সি কিট!
রেহানা কল্পনাও করেন নি তার এতটুকুন মেয়ের স্কুলব্যাগ থেকে এমন ভয়াবহ কিছু খুঁজে পাবেন।

বিছানায় কুঁকড়ে থাকা নিয়তির পুরো শরীর পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেছে ততক্ষণে। সে চোখ দুটো শক্ত করে বুঁজে রইল। তবুও তার চোখের পাতাগুলো কাঁপতে লাগল।

রেহানা এখনো ভ্রু কুঁচকে ব্যবহৃত প্রেগনেন্সি কিটের দিকে তাকিয়ে আছেন। সেখানে স্পষ্ট দুটো গাঢ় লাল দাগ। একদম সমান্তরাল। নিখুঁত।
রেহানার বুকের ভেতরটা কেমন যেন ফাঁকা হয়ে গেল মুহুর্তেই। হৃদপিণ্ডের স্পন্দন যেন থমকে গিয়ে আবার দ্বিগুণ গতিতে ধুপধুপ করতে লাগল।

তিনি কিটটা হাতে নিয়ে নিয়তির দিকে ঘুরলেন। তার চোখ দুটো চড়কগাছ। ঠোঁট দুটো সামান্য ফাঁকা হয়ে গেছে। কিন্তু কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। তিনি একবার কাঠিটার দিকে তাকাচ্ছেন। আর একবার নিয়তির দিকে তাকাচ্ছেন।

“নিয়তি…”

রেহানার গলা দিয়ে যে আওয়াজটা বের হলো তা যেন তার নিজের কণ্ঠ নয়। কেমন ভাঙা শোনাল।

নিয়তি চোখ মেলল না। আলগোছে ঠোঁট কামড়ে ধরল।

রেহানা ধীর পায়ে বিছানার কাছে এগিয়ে এলেন। তার হাত কাঁপছে। তিনি নিয়তির গায়ের কম্বলটা পুরোপুরি সরিয়ে দিলেন। নিয়তির বারো বছরের শরীরটা জবুথবু হয়ে পড়ে আছে। ফ্রকের হাতাটা কনুই পর্যন্ত গুটানো। ফর্সা হাত-পাগুলো জ্বরে আরও ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে।

“নিয়তি, চোখ খোল মা। এইদিকে তাকা।”

রেহানার কণ্ঠে এবার ভয়ের স্পষ্ট ছাপ। রাগ নয় বরং এক চরম অনিশ্চয়তা ঝরে পড়ছে তাতে।

নিয়তি অনেক সময় ধরে বুকে সাহস জুগিয়ে বহু কষ্টে চোখ মেলল। মায়ের ভয়ার্ত মুখটা দেখে তার বুকটা ভেঙে যেতে চাইল।
রেহানা কাঠিটা নিয়তির চোখের সামনে ধরলেন। তার হাত তখনও কাঁপছে।

-এটা কী মা? এটা তোর ব্যাগে কেন? তুই… তুই এটা কোথায় পেলি?

নিয়তি কোনো কথা বলল না। সে শুধু মায়ের দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল। তার চোখ দিয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে বালিশে পড়তে লাগল।

-কথা বলছিস না কেন? এটা কিসের কাঠি আমি জানি না ভাবছিস?

রেহানা বিছানার ওপর বসলেন। তিনি নিয়তির কাঁধ দুটো শক্ত করে ধরলেন।
রেহানা মনে মনে নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। না! এটা অসম্ভব। তার মেয়ে ক্লাস সিক্সে পড়ে। সে তো এখনো ফ্রক পরে ঘুরে বেড়ায় তাদের সামনে। বিকেল হলে কার্টুন দেখার জন্য বায়না ধরে। সে এসবের কী বোঝে? নিশ্চয়ই রাস্তা থেকে ও কুড়িয়ে পেয়েছে।

-বল মা, এটা কার? নাকি তুই রাস্তায় কুড়ায়ে পাইছিস? সত্যি করে বল, আমি তোকে কিচ্ছু বলব না।

রেহানার গলায় এক চরম আকুতি। তিনি যেন নিয়তির মুখ থেকে শুনতে চাইছেন যে এটা তার নয়। তিনি তার মেয়েকে যে শিক্ষা দিয়েছেন, যে মূল্যবোধ দিয়ে বড় করেছেন, তার ওপর উনার অগাধ বিশ্বাস। উনার মেয়ে এমন কোনো কাজ করতেই পারে না!

নিয়তি এবার ডুকরে কেঁদে উঠল। সে মাথা নেড়ে বলল,

-না মা… কুড়িয়ে পাই নাই।

-তবে? তবে এটা তোর ব্যাগে কেন?

রেহানার গলার স্বর এবার একটু চড়ল,

-তুই কি কোনো… কোনো ছেলের সাথে…”

রেহানা নিজের মুখটা চেপে ধরলেন। নিজের মেয়ের নামে এই উচ্চারণ করতেও জিহ্বা কেঁপে উঠছে।

-তোর কি কোনো বন্ধু আছে? কোচিংয়ের কোনো ছেলে? কেউ তোকে জোর করেছে? বল মা, আল্লাহর দোহাই লাগে সত্যিটা বল। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে!

নিয়তি মায়ের হাত দুটো জড়িয়ে ধরল। কান্নায় তার শ্বাস আটকে আসছে। সে বারবার মাথা নাড়তে লাগল।

-না মা, কোনো ছেলে না। আমার কোনো ছেলে বন্ধু নেই।আমি কোনোদিন কোনো ছেলের সাথে কথাও বলি না।

  • তাহলে এটা কি! তুই মিথ্যা বলছিস নিয়তি! তুই আমার সাথে চাতুরী করছিস!

রেহানার চোখ দিয়ে এবার বাঁধভাঙা জল নেমে এলো। সম্ভ্রান্ত পরিবারের আদর্শের যে দেয়াল তিনি এত বছর ধরে যত্ন করে গড়ে তুলেছিলেন তার গায়ে যেন এবার প্রথম ফাটলটা ধরল।

-আমি মিথ্যা বলছি না মা…”

নিয়তি কাঁদতে কাঁদতে বিছানায় শুয়ে পড়ল আবার।

-তাহলে নাম বল! কে সে? কার এত বড় সাহস? তুই না বললে আমি এখনই তোর বাবাকে ডাকব!

রেহানা উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেন।

বাবা! আসলাম সাহেবের নাম শোনা মাত্রই নিয়তির ভেতরের সমস্ত শক্তি যেন লোপ পেয়ে গেল। বাবা জানতে পারলে নিজেকেই হয়তো শেষ করে দেবেন।

নিয়তি আর পারল না। সে বিছানা থেকে উঠে মায়ের পা দুটো জড়িয়ে ধরল। নিয়তির কম্পিত কণ্ঠস্বর নিবদ্ধ বাতাস চিরে মায়ের কানে পৌঁছাল,

“মা.. মামা…শফিক মামা!

রেহানা জমে গেলেন। তার পায়ের নিচের মেঝেটা বোধহয় আচমকা উধাও হয়ে গেছে। তিনি যেন এক অন্তহীন শূন্যতায় তলিয়ে যাচ্ছেন প্রতিক্ষণে!

-কী বললি?

রেহানার কণ্ঠস্বর এবার আর শোনা গেল না। শুধু ঠোঁট দুটো সামান্য নড়ে উঠল।

নিয়তি মায়ের পায়ের ওপর মাথা রেখে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলতে লাগল,

-ওই যে সেদিন দুপুরে তুমি আর বাবা বাইরে গেলা। ওদি…

নিয়তি আর শেষ করতে পারল না। তার আগেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। রেহানা বেগম মেয়ের কাছ থেকে আলগোছে নিজের পা সরিয়ে নিলেন। তার চোখ দুটো যেন কোটর থেকে বেরিয়ে আসবে এক্ষুনি!

শফিক! এই বারো বছরের নিষ্পাপ মেয়েটার ওপর…।
রেহানার মাথার ভেতর একটা তীব্র ঝাঁকুন অনুভূত হলো।
তার পাকস্থলী উল্টে বমি আসতে চাইল।
এক নিমেষে রেহানার চেনা পৃথিবীটা এক জঘন্য, পঙ্কিল নরকে পরিণত হলো। তিনি নিজের চুল মুঠো করে ধরলেন। চিৎকার করে কাঁদতে চাইলেন। কিন্তু গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হলো না। বুক চিরে শুধু একটা গোঙানির মতো শব্দ বের হতে লাগল।

রেহানা নিয়তির দিকে তাকালেন। মেয়েটা এখনো বিছানায় শুয়ে কাঁপছে। শব্দ করে কাঁদছে। রেহানা আর ওই ঘরে থাকতে পারলেন না। তিনি উন্মাদিনীর মতো ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

ড্রয়িংরুমে আসলাম সাহেব তখন সোফায় বসে সকালের পত্রিকা পড়ছিলেন। হাতে চায়ের কাপ। আজকেও একটা ধর্ষ*ণের খবর ছেপেছে পত্রিকায়। এসব খবর পড়ে উনার মনটা বড় খারাপ হয়ে যায়। আজও তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। চোখ থেকে চশমা সরিয়ে মাথা নিচু করে বসে রইলেন ক্ষণিককাল।

রেহানা ড্রয়িংরুমে এসে দাঁড়ালেন। তার চুলগুলো ততক্ষণে বেশ উষ্কখুষ্ক, চোখ দুটো জবা ফুলের মতো লাল। পুরো শরীরটা থরথর করে কাঁপছে। তার হাতের মুঠোয় এখনো শক্ত করে ধরা সেই প্রেগন্যান্সি কিটটা।

আসলাম সাহেব ভ্রুঁ কুঁচকে চশমা পরলেন। রেহানার এই রূপ তিনি এই দীর্ঘ বছরের সংসার জীবনে কোনোদিন দেখেননি!

-কী হয়েছে রেহানা? এভাবে দাঁড়িয়ে আছ কেন? নিয়তির জ্বর বেড়েছে?

আসলাম সাহেব পত্রিকাটা টেবিলের ওপর রাখলেন।
রেহানা কোনো উত্তর দিলেন না। তিনি ধীর পায়ে আসলাম সাহেবের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। উনার অবশ হাতটা টেবিলের ওপর প্রসারিত করলেন। হাতের মুঠোটা খুলতেই কিটটা টেবিলের ওপর ‘ টক’ জাতীয় একটা শব্দ করে পড়ে গেল।।

আসলাম সাহেব ভ্রু কুঁচকে সেদিকে তাকালেন। জিজ্ঞাসু চোখে রেহানার দিকে পুনরায় তাকালেন। রেহানা এবার পুরোপুরি ভেঙ্গে গেলেন। চিৎকার করে কেঁদে উঠলেন। অস্ফুট স্বরে শুধু বললেন,

-শ..শফিক!

আসলাম সাহেব স্তব্ধ হয়ে গেলেন। তিনি ঝট করে উঠে দাঁড়ালেন।

-কী আবোল-তাবোল বকছ রেহানা? মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার?

আসলাম সাহেবের কণ্ঠস্বরে অবিশ্বাস।

রেহানা সোফায় ধপাস করে বসে পড়লেন। চিৎকার করে বলতে লাগলেন,

-আমি ওকে খুন করে ফেলব! ওকে আমি বাঁচতে দিব না। ওকে আমি খুন করে ফেলব।

আসলাম সাহেবের চোখ দুটো সরু হয়ে গেল। তিনি আপনমনেই বলতে লাগলেন,

  • কী বলছ তুমি? শফিক? আমাদের শফিক!

-এখন কী হবে রেহানা? আমাদের মেয়ের কি হবে? আমার সম্মানের পরোয়া আমি করি না। কিন্তু আমার মেয়ে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কিভাবে মাথা উঁচু করে চলবে? কিভাবে?

অর্ধপাগল অবস্থায় রেহানা উত্তর দিলেন,
-পুলিশকে জানাতে হবে।

-পাগল হয়েছ তুমি?

আসলাম সাহেব ঝট করে মাথা তুললেন।

-পুলিশে জানাবে? জানো তাহলে কী হবে? কোর্ট-কাচারি হবে। খবরের কাগজে নিয়তির নাম আসবে ছবিসহ। আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ আরো কুৎসিত করে দিবে ওরা! বাঁচতে দিবে না ওকে। প্রাণভরে দম নিতে দিবে না!

-তাহলে? কি করব এখন আমরা!

আসলাম সাহেব ভেজা চোখজোড়া মুছে বললেন,

-আগে মেয়েটাকে জানে বাঁচাতে হবে তো! মেয়েটা আমার এই ধকল সইতে পারলে হয়!

রেহানা দৌঁড়ে স্বামীকে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন। আসলাম সাহেব নিজেও এই প্রথম বোধহয় শব্দ করে কাঁদছেন!

★★★

হাসপাতালের সাদা দেয়ালগুলোর দিকে নিয়তি একদৃষ্টিতে চেয়ে ছিল। সে যেন সবার মাঝে থেকেও নেই। শুধুমাত্র শরীরটা রয়েছে। মনটার অস্তিত্ব বিলীন।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের ঠান্ডা বাতাস নিয়তির ১০৩ ডিগ্রি জ্বরে পুড়তে থাকা শরীরে ধারালো ছুরির মতো বিঁধছিল।

রেহানা বেগম মেয়ের হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছেন।
আসলাম সাহেব দূরবর্তী এক কোণে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর চোখ জোড়া মেঝেতে নিবদ্ধ। সামাজিক পরিচিতি আড়াল করতে তাঁরা নিয়তিকে শহরের একদম শেষ প্রান্তের এক নিরিবিলি ওয়ান-স্টপ ক্লিনিকের নামী গাইনোকোলজিস্ট ডা. সুরাইয়া রহমানের কাছে নিয়ে এসেছেন।

-ভেতরে আসুন।

নার্সের ডাক শুনে রেহানা নিয়তিকে টেনে তুললেন। নিয়তির দুর্বল পা জোড়া কাঁপছিল। মায়ের ওপর ভর দিয়ে সে কোনোমতে আল্ট্রাসনোগ্রাফি কক্ষের সেই উঁচু বেডটায় গিয়ে শুলো।

ডা. সুরাইয়া একজন মাঝবয়সী নারী। নিয়তির বয়স আর ফ্যাকাশে মুখটা দেখেই তার অভিজ্ঞ চোখ অনেক কিছু অনুমান করে নিয়েছিল।

নার্স নিয়তির ফ্রকটা পেটের ওপর টেনে তুলে ঠান্ডা জেলটা মেখে দিল। নিয়তি সামান্য শিউরে উঠল।
মেশিনের প্রোপটা পেটে ঘুরতেই মনিটরের কালো পর্দায় আবছা কিছু প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠল। ডা. সুরাইয়া কিছুক্ষণ মনোযোগ দিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলেন।তারপর থ্রিডি মোড অন করতেই স্ক্রিনে একটা ছোট্ট তরলপূর্ণ থলি আর তার ভেতরে বিন্দুর মতো একটা অবয়ব স্পষ্ট হয়ে উঠল।

ডা. সুরাইয়া একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্রোপটা সরিয়ে নিলেন। নিয়তির পেটটা টিস্যু দিয়ে মুছে দিতে দিতে বললেন,

-মা, তুমি এই নার্স আপুর সাথে বাইরে গিয়ে বসো। আমি তোমার আব্বু-আম্মুর সাথে একটু কথা বলি।

এরপর নার্সের দিকে তাকিয়ে ইশারা করলেন সুরাইয়া।

নিয়তি ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই ডা. সুরাইয়া ,
আসলাম সাহেব ও রেহানাকে নিজের ডেস্কের সামনে বসালেন। অত্যন্ত নিচু গলায় শুরু করলেন,

-মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী নিয়তি গর্ভবতী। তবে একেবারেই ইনিশিয়াল স্টেজ। পাঁচ সপ্তাহ চলছে।

আসলাম সাহেব চেয়ারে সোজা হয়ে বসলেন। রুদ্ধশ্বাসে জিজ্ঞেস করলেন,

-আপা, কোনো উপায় কি আছে? ও তো একদম বাচ্চা!?মাত্র ক্লাস সিক্সে পড়ে।

ডা. সুরাইয়া আসলাম সাহেবের দিকে এক পলক তাকিয়ে রেহানার দিকে ফিরলেন। বললেন,

-টার্মিনেশন অবশ্যই সম্ভব। তাছাড়া ওর যা বয়স, এই পরিস্থিতিতে সেটাই একমাত্র যৌক্তিক সমাধান। ১২ বছরের একটা বাচ্চার শরীর এখনো মা হওয়ার জন্য পরিপক্ব নয়। যেহেতু এটা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়, তাই আমরা দুটো পদ্ধতিতে সল্যুশন আনতে পারি।

তিনি টেবিলের ওপর রাখা একটা প্যাডে কলম দিয়ে লিখতে লিখতে বুঝিয়ে বলতে লাগলেন,

-যেহেতু এখনো মাত্র ৭ সপ্তাহের কম সময়, তাই আমরা নির্দিষ্ট কিছু রেজিস্টার্ড ওয়ান-টাইম এমআর কিট বা ওষুধের কম্বিনেশন ব্যবহার করতে পারি। এটি প্রাকৃতিক নিয়মে ব্লিডিংয়ের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটায়। এর জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে না আবার জটিলতাও কম।

আর যদি ওষুধের মাধ্যমে না হয়, তবে আমাদের একটা ছোট ডে-কেয়ার প্রসিডিউর করতে হবে। সামান্য লোকাল অ্যানেশথেসিয়া দিয়ে জরায়ুর মুখ হালকা বড় করে একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে জরায়ু পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। এতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে। চাইলে সেদিনই ওকে বাসায় নিয়ে যেতে পারবেন।

ডা. সুরাইয়া কলমটা থামিয়ে এবার সোজা হয়ে বসলেন।
বললেন,

-দেখুন, ওর বয়স খুব কম। ও এখন তীব্র মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমি প্রথমে ওষুধের কোর্সটাই দেব। যদি তাতে কাজ না হয়, তবেই আমরা অন্য প্রসিডিউরে যাব। আজ থেকেই ওষুধ শুরু করতে হবে।

রেহানা বেগম শুকনো চোখে বললেন,

-ডাক্তার, আমাত মেয়েটা সুস্থ হয়ে যাবে তো? ওর কোনো বড় ক্ষতি হবে না তো?

সুরাইয়া বললেন,

-শারীরিক ক্ষতিটা আমরা সঠিক পরিচর্যা দিয়ে সারিয়ে তুলতে পারব। কিন্তু নিয়তির ভেতরের যে মানসিক ধকল, যে ট্রমা বাসা বেঁধেছে সেটা সারানো অনেক কঠিন। এই বয়সে ওর জরায়ু যতটা না ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষত তৈরি হয়েছে ওর মনে। ওকে বকাঝকা করবেন না প্লিজ। আমি অনুরোধ করে বলছি, ওর পাশে ছায়ার মতো থাকবেন।

এবার তিনি প্রেসক্রিপশনটা আসলাম সাহেবের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন,

-আমি ওষুধ লিখে দিয়েছি। প্রসেসটা শুরু হলে তীব্র পেটে ব্যথার সাথে ব্লিডিং হতে পারে। ভয়ের কিছু নেই, তবে অতিরিক্ত কিছু হলে সরাসরি আমাকে কল দেবেন।
আর হ্যাঁ…”

ডাক্তার একটু থামলেন। তার চোখ দুটো সামান্য কঠোর হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন,

-আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছেন তো? এই অপরাধের কিন্তু বিচার হওয়া দরকার।

আসলাম সাহেব প্রেসক্রিপশনটা হাতে নিলেন। ডাক্তারের শেষ প্রশ্নটার উত্তরে তিনি সামান্য হাসলেন। বললেন,

-দেশে আইন আছে, ডাক্তার সাহেবা?

সুরাইয়া প্রশ্নটি শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে কিছু একটা বলতে চাইলেন।
তার আগেই আসলাম সাহেব কথপোকথনের ইতি টানলেন,

-আজ আমরা আসি। নিয়তির জন্য দোয়া করবেন।

(চলবে….)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply