Golpo romantic golpo প্রণয়ের রূপকথা

প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৮৩


আবিদা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেয়েকে এ বাড়িতে রাখবেন না। কিছুতেই না। তিনি সব কিছু গুছিয়ে নিতেই আনোয়ার বললেন,”তোমার কি মনে হয়, আয়ানা থাকলে খুব ক্ষতি হয়ে যাবে?”

“তোমার ধারণা নেই ও মেয়ে কি করতে পারে। “

“তবু।”

“আর কোনো কিছু নয়। দেখো, আমরা এসেছিলাম আম্মার সম্পত্তির জন্য। সেটা পেয়ে গেছি। বাড়তি হিসেবে কুহুদের ভাগেও ভাগ পেয়েছি। আমি আর কিছু চাই না। রোজ এত অশান্তি ভালো লাগে না।”

বলে তিনি ব্যাগ নিয়ে আয়ানার রুমে এলেন। আয়ানা ঘুমিয়ে ছিল। আবিদা ডাকলেন,”আয়ানা, দ্রুত উঠ।”

ঘুমু ঘুমু কণ্ঠে ও বলল,”এই সকালে ডাকছো কেন?”

“আমরা শহরে ফিরব।”

“কী?”

বলে ও ওঠে বসল। আবিদা ব্যাগপত্র নিয়ে পুরো তৈরি। মেজাজ খারাপ নিয়ে আয়ানা বলল,”সকাল সকাল কী শুরু করলে?”

“উঠ তুই।”

“আমি কোথাও যাচ্ছি না।”

“কেন যাবি না? এখানে কেন থাকবি? কী মতলব তোর?”

“মা! তুমি এবার বেশি বেশি করছো।”

“আয়ানা উঠতে বলেছি।”

বলে মেয়ের ওপর চড়াও হলেন তিনি। সদ্য ঘুম থেকে উঠা আয়ানা ও চ্যাঁচিয়ে উঠল।

“আমি যাব না। যাব না মানে যাব না।”

“বাড়াবাড়ি করবি না। উঠ তুই।”

“তুমি বাড়াবাড়ি করছো।”

“আমি করছি? করলে বেশ করেছি।”

বলে মেয়েকে টেনে নিয়ে বের হলেন আবিদা। আয়ানা সমানে চ্যাঁচামেচি করছে। সেই শব্দে বাড়ির বাকিরাও চলে এসেছে। বসার ঘরে আসতেই দাদিজান বললেন,”সকাল সকাল কী শুরু করলা মেঝো বউ।”

“আম্মা, আমরা চলে যাচ্ছি।”

“চলে যাচ্ছ মানে?”

“শহরে ফিরে যাচ্ছি।”

বৃদ্ধার মনে ভীষণ একটা ধাক্কা লাগল। তিনি কি বলবেন বুঝলেন না। আনোয়ার এসে উপস্থিত হতেই, জেবা বললেন,”তোমরা এ সিদ্ধান্ত কেন নিলে?”

“সেসব কি ভেঙে বলতে হবে ভাবি। এটাই ভালো হয় আমাদের জন্য।”

জেবা আর কথা বাড়ালেন না। কুহু-কণা ও উপস্থিত। দীপ্র সকাল সকাল গিয়েছে শরীর চর্চা করতে। আবিদা বুক ভরে দম নিলেন। মেয়ের হাতটা শক্ত করে ধরলেন। মনের ভেতর দ্বন্দ্ব চলছে। একবার ক্ষমা চাইবেন কী,ভাবতেই পরের মুহূর্ত তীব্র অহংবোধ জেগে উঠে। ক্ষমা চাওয়া হয় না। শুধু বলেন,”আমরা আসছি।”

বাড়িতে কি একটা ঘটনা ঘটে গেল। অনুষ্ঠানের মাত্র দুদিন আগে এসব সত্যিই মানা যায় না। যদিও একদিক থেকে ভালো হয়েছে। তবু মনের ভেতরটা কেমন খালি খালি লাগছে। দীপ্র এসে সব শুনল। কুহু মাথা নামিয়ে বলল,”কুঞ্জকে নিয়ে আসবেন প্লিজ। ওকে ছাড়া, এই অনুষ্ঠানের কোনো মানেই হয় না।”

দীপ্র ছোট করে বলল,”নিয়ে আসব।”

বাড়িতে আজ রান্না হয়নি ঠিকঠাক। কারো খাওয়া ও হয় নি। কুহু গোসল করে, ভেজা চুল নিয়ে ছাদে এসে দাঁড়িয়েছিল। দীপ্র আসলো অলগোছে। মানুষটার উপস্থিতি বুঝে ও পেছন ফিরতে যেতেই দীপ্র বলল,”ওভাবেই থাক।”

কথা মতন ওভাবেই রইল ও। দীপ্র বড়ো করে নিশ্বাস নিল। তারপর বলল,”কুহু, এই দুনিয়ায় সব আমাদের হাতে থাকে না। মানুষের মন মানুষ ভেদে ভিন্ন হয়। সম্পর্কের জন্য আমরা অনেকটা লড়াই করি। তবে সব সময় সেই লড়াইটা ভালোর জন্য হয় না। আয়ানার চলে যাওয়াটাই বরং ভালো হয়েছে।”

কুহু একটু সময় নেয়। তারপর ছোট করে বলে,”আপনি বাদে, আমি সব কিছুর ভাগ দিতে পারতাম। কিন্তু আপনার ভাগ কীভাবে দেব? আয়ানাপুকেও আমি ভালোবাসি। অথচ সম্পর্ক নষ্ট হলো।”

খুব কান্না পায় মেয়েটির। দীপ্র এবার পেছন থেকে আলগোছে মেয়েটির গলা জড়িয়ে ধরে। টেনে নিয়ে আসে বুকে। কুহু কেঁদে ফেলে।

“আয়ানাপুর ভালোবাসাটাও সত্য। তবে আমি এখানে স্বার্থপর না হয়ে পারলাম না। আপনাকে ভাগ করতে পারব না। কোনো কিছুর বিনিময়েই না।”

“বোকা, কান্নাকাটি করছিস কেন?”

“আমার যে কিছু ভালো লাগছে না।”

বলে ও নাক ঘঁষে দীপ্রর বুকে। দীপ্র আদরের সাথে হাত বুলিয়ে দেয় ভেজা চুল গুলোতে।

“আমার বোকা জানপাখি। শুধু কাঁদতে জানে। এত মায়া কেন তোর মনে?”

“জানি না। শুধু খারাপ লাগছে।”

“তাহলে মন ভালো করে দেই?”

বলে কোনো জবাবের আশা না করেই ফট করে মেয়েটিকে কোলে তুলে নেয় দীপ্র। কুহু চমকে উঠে। ব্যালেন্স করতে গলা জড়িয়ে ধরে। দীপ্র হেসে বলে,”কুঞ্জ আসবে। ওকে কাল গিয়ে নিয়ে আসব আমি।”

কণার আসলে দুঃখ লাগছে না। ওর ভালো লাগছে। এত এত ঝামেলার পর কিছু একটা ভালো তো হচ্ছে। সন্ধ্যায় সাগর বাড়ি আসতেই কণার সাথে দেখা। ছেলেটা দাঁত কেলিয়ে হাসল। কণা বলল,”কী ব্যাপার সাগর ভাই? মনে এত রং কেন?”

“বাড়িতে বিয়া, রং লাগব না?”

“কথা কিন্তু ঠিক। তবে শুনলাম, প্রেম নাকি আবার চলছে।”

সাগর একটু আমতা আমতা শুরু করল। কণা হেসে বলল,”ছ্যাঁকা খেয়েও শিক্ষা হয় না।”

কণা চলে যেতেই সাগর মাথা চুলকাল। আসলেই, জেসমিন এত কিছু করল। তারপর ও আবার সেই জেসমিনের সাথেই! আজব কাহিনী চলছে ওর জীবনে। কে জানে কী হবে!

রাতের খাবার খেয়ে, কণা একটু পড়তে বসেছিল। ঠিক তখনই একটি কল এলো। আননোন নাম্বার থেকে। ও ভ্রু কুঞ্চিত করে রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একটি পুরুষ কণ্ঠ বলল,”আমায় আবার ব্লক করেছ?”

কণ্ঠটি শুনেই কণার বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল। খুব কান্না পেল। ও কান্না গিলে নিয়ে বলল,”কেন কল করলেন?”

ওপাশের ব্যক্তিটি নীরব রইল। খানিক বাদে বলল,”জানি না।”

“জানেন না! মশকরা পেয়েছেন? আমাকে মজা লাগছে?”

“কণা, এভাবে বলিও না।”

“বলব। হাজারবার বলব। আপনি লোকটা আমাকে মে রে ফেলতে চাচ্ছেন।”

“এমন না। আমি শুধু আমি শুধু…

বলে রাগীব আটকাল। তার বিয়ের কথা বার্তা শেষ। সামনেই ডেট দেয়া হবে। অথচ এই সময়ে কণাকে এত মনে পড়ছিল। মেয়েটির কণ্ঠ শুনতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু কেন? রাগীব দ্বিধায় ডুবে যায়। কণা কল কেটে দিয়ে এই নম্বরটিও ব্লক করে দেয়। ওর বুকের ভেতরটা ফের জ্বলে উঠে। ছোট্ট মনটা বলে, সব ছেড়ে কোথাও একটা পালিয়ে যেতে।

দুটো পাশাপাশি ঘর। দুই রাত পরেই হলুদের অনুষ্ঠান। কুহুর কেমন একটা অনুভূতি হচ্ছে। মন তো চাচ্ছে ছুটে চলে যেতে। তবে সেটা এখন সম্ভব না। তাই কল করে দীপ্রকে। রাত এত গভীর, অথচ মানুষটা ঠিকই জেগে!

“কী করেন? এখনো জেগে।”

“কাজ করছিলাম।”

“অহ, তাহলে রাখছি।”

“না। তুই বল।”

“এমনি।”

“এমনি?”

“হুম।”

দীপ্র হাসে। দুষ্টুমি করে বলে,”বললেই হয় মিস করছিলি।”

“মিস করতে আমার বয়ে গেছে।”

“তাই? কিন্তু আমি যে মিস করছি।”

বলে দীপ্র কেমন করে যেন শ্বাস নেয়। কুহুর মনটা চনমনে হয়ে উঠে। দীপ্র বলে,”দুটো দিন। অথচ অপেক্ষা করতে ইচ্ছে করে না।”

“অপেক্ষার ফল মিষ্টি হয়।”

“কিন্তু আমার তো এখনই মিষ্টি দরকার।”

“হ্যাঁ?”

“আমি আসছি। তুই দরজা খুলে রাখ।”

কি থেকে কি হয়ে গেল কুহু বুঝে না। ও প্রতিবাদ করার সুযোগ ও পায় না। দীপ্র এসে দরজায় ঠকঠক করে। কুহু চমকে চায়। দ্রুত উঠে গিয়ে দরজা খুলে। দীপ্র সেকেন্ডের মাঝেই ঘরে প্রবেশ করে। দু হাতে মেয়েটির কোমর জড়িয়ে ধরে। তৃষ্ণার্ত কণ্ঠে বলে,”সব সময় তোর আবেদনের অপেক্ষা করেছি। নিজেকে সামলে নিয়েছি। কিন্তু এবার তোর অনুমতি, তোর আবেদন কিছুরই অপেক্ষা করব না। আজ দীপ্র দেওয়ান, নিজের সবটুকু ইচ্ছে নিয়ে, প্রেয়সীর ঠোঁটের মিষ্টতা গ্রহণ করবে। পৃথিবীর কোনো আইন মানবে না। মানবে না কোনো বিরোধ।”

কোনো অজুহাত দিব না। তবে এই গল্পটা লিখতে গিয়ে আমি আমার পাঠকদের সাথে অনেক অন্যায় করেছি। সময় নিয়েছি। যত ক্ষমা চাইব তাই কম হবে। বলেছিলাম দীপ্র-কুহু বই হবে। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে ওদেরকে বইয়ে আরেকটু সুন্দর করে আনা প্রয়োজন। তাই বইটা আমি কিছু মাস পরে আনব ইনশাআল্লাহ। নতুন করে লিখব দীপ্র-কুহুর #প্রণয়ের_রূপকথা। এখন যেহেতু বই দিতে পারছি না, তাই ঠিক করেছি আমার নোটে থাকা দীপ্র-কুহুকে নিয়ে ছোট্ট একটা গল্প, সেটা ই-বই করে দিব। সেটার জন্য কিছু সময় প্রয়োজন। আর রানিং গল্প ঠিকঠাক দেয়ার ও চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

চলবে…
কলমে ~ #ফাতেমাতুজনৌশি

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply