#প্রণয়ঘোরের_সন্ধিতে
#লেখনীতে_সালমা_চৌধুরী
(২৮ এর প্রথমাংশ)
ঝিরিঝিরি বৃষ্টি এবার মুষলধারে নেমেছে। বাতাসে ভেসে আসে কাঁচা মাটির ঘ্রাণ অদৃশ্য নেশার সৃষ্টি করছে। এলোমেলো বাতাসে ঘরের পর্দাগুলো তুমুল বেগে ছুটাছুটি করছে। জানালার দ্বারে মানব মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে নৌমি। বৃষ্টিভেজা গাছের পাতার মৃদু দোল আর ছিটে আসা বৃষ্টিতে ভেজা শরীর আরও ভিজিয়ে দিচ্ছে। বৃষ্টির টুপটাপ শব্দে জমে ওঠেছে এক অদ্ভুত সুর। টেবিলের উপর একটা চার্জার লাইট জ্বলছে। আলো খুব বেশি নয়। বিছানার উপর একটা শাড়ি পড়ে আছে। কিছুক্ষণ আগেই নৌমিকে পড়তে দেওয়া হয়েছে। নৌমির মাথায় রাজ্যের দুশ্চিন্তা। একটু আগে লোকটার বলা কথাগুলো বার বার কানে বাজছে। নৌমি মনে মনে আওড়াল,
” এভাবেও কি বিয়ে হয়?”
চাপা নিঃশ্বাস ছেড়ে নৌমি বলতে শুরু করল,
” কিন্তু এটা তো কখনোই সম্ভব না। আব্বু-আম্মু, মামা-মামিরা কেউ কিছুই জানে না। সবচেয়ে বড়ো বিষয়, নিলু আপুর কি হবে!
তামজিদ ভাইয়া আর নিলু আপুর মাঝখানে আমি কখনো যেতে পারব না।”
অকস্মাৎ বাইরে থেকে ডাকল,
” আমি কি আসতে পারি?”
নৌমি আড়চোখে তাকাল। তাজ পাঞ্জাবি পড়ে একেবারে রেডি হয়ে এসেছে। তাজকে এ অবস্থায় দেখে নৌমির ভয় বাড়তে লাগল।
কালো মেঘে ঢাকা আকাশে, মাঝে মাঝে বিদ্যুতের ঝলকানি চোখে ভেসে ওঠছে। আবার কখনো বজ্রের গর্জন বৃষ্টির সুরের সাথে মিলেমিশে একাকার হচ্ছে। তাজ এগিয়ে এলো। নৌমির কাঁধে আলতোভাবে হাত রেখে মৃদুস্বরে আওড়াল,
” ভয় পাচ্ছিস?”
সরু নেত্রে তাকাল নৌমি। চোখাচোখি হলো দু’জনের। ব্যাকুলতায় মুগ্ধ তাজের দৃষ্টি। বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ যেন প্রেমের একান্ত গোপন আলাপন। অথচ নৌমির মন বিতৃষ্ণায় ছেয়ে যাচ্ছে। নৌমি গুরুগম্ভীর কন্ঠে জানতে চাইল,
” আমাদের কি সত্যি বিয়ে দিয়ে দিবে?”
তাজ ক্ষীণ হেসে বলল,
” তুই তো তাই চাস। আমি তোকে বিয়ে করি, আমাদের ছোট্ট একটা সংসার হোক। সকাল-সন্ধ্যা ঝগড়া করব আবার কেউ কাউকে ছাড়া থাকতেও পারব না। কি চাস না?”
নৌমি থমকাল। বুকের ভেতরটা কেমন করে কাঁপছে।
এই কম্পনের কারণ কি!
কথায় আছে, প্রিয় মানুষ পাশে থাকলে বৃষ্টিসিক্ত রাত আরও গভীর হয়ে ওঠে। জানালার পাশে বসে একসাথে চায়ের কাপ নিয়ে গল্প করতে করতে সারারাত কাটিয়ে দেয়। কখনও বা বৃষ্টির ফোঁটা গুনতে গুনতে রাজ্যের প্রেমালাপ করে। প্রিয় মানুষটা পাশে থাকলে, পৃথিবীর সব সুখ ঘিরে থাকে। চোখে-চোখ রেখে ভালোবাসি বলে জন্ম-জন্মান্তর পার করা যায়। নৌমির ক্ষেত্রে কেন এমনটা হচ্ছে না! এসব কি সত্যি ঘটছে? নাকি কল্পনা!
নৌমি আনমনে বলে ওঠল,
” আমি কি চাই তা নিজেও জানি না।”
তাজের নিরেট জবাব,
” আজেবাজে চিন্তা রেখে ভেজা কাপড়-জামা পাল্টে নে। আন্টি চা-নাস্তার ব্যবস্থা করছেন।”
“আর বিয়ে?”
“তুই বললে হবে।” তাজ মুচকি হেসে রুম থেকে প্রস্তান নিল। নৌমি রয়েসয়ে নিঃশ্বাস ছেড়ে জামা পাল্টাতে গেল। মিনিট দশেকের মধ্যে বেরিয়ে এলো। তাজ আর ভদ্রলোক চেয়ারে বসে গল্প করছিলেন। তাজের হঠাৎ নজর পড়ল নৌমির দিকে৷ ভেজা গায়ে শাড়ি পড়াতে, শাড়ির কোনো কোনো অংশ গায়ের সাথে লেপ্টে আছে। সেই সঙ্গে ভেজা চুল থেকে টুপটাপ পানি ফোঁটা পড়েই যাচ্ছে। রুমের অল্পস্বল্প আলোতেও তাজের নজর আঁটকে গেল। অদ্ভুত মোহে জড়িয়ে যাচ্ছে। দৃষ্টি সরানোর সব চেষ্টা বৃথা যাচ্ছে। ভদ্রলোক হঠাৎ ডাকলেন,
” এই যে ভাই।”
তাজ নড়ে ওঠল। লজ্জায় খানিক আড়ষ্ট বোধ করল। নৌমি কাছাকাছি এসে দাঁড়াতেই ভদ্রলোক বললেন,
” বসো বোন।”
নৌমি বসল ঠিকই কিন্তু তার নজর আশপাশে। অস্থির হয়ে খুঁজছে কিছু। ভদ্রলোক হঠাৎ প্রশ্ন করলেন,
” তুমি কিন্তু ভয় পাচ্ছো? এখানে তোমার কোনো ভয় নেই। তোমরা নিশ্চিন্তে থাকতে পারো।”
এরমধ্যে চা-নাস্তা হাজির হলো। ভদ্রমহিলাও নৌমির পাশের চেয়ারটাতে বসলেন। ভদ্রলোক চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে তপ্ত স্বরে বলতে লাগলেন,
” জানো, তোমাদের মতো আমরাও খুব সুইট কাপল ছিলাম। কাপল বলতে, প্রেমিক-প্রেমিকা না। খুব ভালো বন্ধু ছিলাম আমরা। একবার কলেজ থেকে ট্যুরে এসেছিলাম। আজকের রাতের মতোই খুব বৃষ্টি ছিল। এক্সিডেন্ট বশত আমরা সেই বাসে উঠতে পারি নি। এত বৃষ্টি ছিল যে স্যাররা সেভাবে খোঁজও নিতে পারেনি৷ ভেবেছিল, সবাই বাসে ওঠে পড়েছে৷ এদিকে আমি আর ও আঁটকা পড়েছিলাম। এত বৃষ্টির মধ্যে কোথায় যাব, কি করব বুঝতে পারছিলাম না। হঠাৎ দু’জন লোক আমাদের সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিলেন। ওনাদের কথামতো আমরা তাঁদের বাড়িতে যেতেই আমাদের আঁটকে টাকা-পয়সা রেখে দেয়। তারপর এলাকাবাসীকে ডেকে রাতেই আমাদের বিয়ে দেওয়া হয়। এক প্রকার চাপে পড়েই আমাদের বিয়েটা করতে হয়েছিল। সেই থেকে এই এলাকাতেই থাকছি আমরা। চাইলেই চলে যেতে পারতাম। কিন্তু ঐ যে! জেদ। আমাদের অপমানের বদলা নিতে রয়ে গেলাম।
এই এলাকার মানুষদের স্বভাবই এটা। মানুষের বিপদ দেখলে ওরাঁ খুব আনন্দ পায়।
তোমাদের দেখে ভদ্র ঘরের ছেলেমেয়ে মনে হয়েছিল৷ তাই তোমাদের বাঁচাতে আমার সঙ্গে নিয়ে এসেছি। ভয় পেয়ো না। আমি চাই না আমাদের মতো পরিস্থিতি তোমাদের বা অন্য কারোর হোক।”
নৌমি চিন্তিত কণ্ঠে আওড়াল,
” তখন যে বিয়ের কথা বললেন?”
ভদ্রলোক হাসতে হাসতে বললেন,
” মজা করেছিলাম। ভাবলাম একটু ভয় দেখিয়ে দেখি কি হয়! তারপর তাজ আমাকে সবকিছু খুলে বলল।
তোমাদের বাড়ি থেকেই বিয়ে ঠিক করে রেখেছে। তাই আমি তোমাদের বিয়ের আনন্দটা মাটি করলাম না।”
নৌমি বক্রদৃষ্টিতে তাজের দিকে তাকাল। তাজ মুচকি হেসে চোখ মারল।
#চলবে..
#প্রণয়ঘোরের_সন্ধিতে
#লেখনীতে_সালমা_চৌধুরী
(২৮ এর শেষাংশ)
নৌমি থম মেরে দাঁড়িয়ে আছে। তাজের হাবভাব স্বাভাবিক। ভদ্রমহিলা নৌমিকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
” খাও।”
নৌমি চুপচাপ খাওয়া শুরু করল। দৃষ্টি এখনও তাজের পানে স্থির। কিছু সময়ের জন্য মনের ভেতর যে ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়েছিল তার অবসান হয়েছে। মিনিট ৩০ এর মতো আলাপচারিতা চলল। বেশিরভাগ কথা তাজই বলছে। ভদ্রলোক সঙ্গে তাল দিচ্ছেন। ভদ্র মহিলা হঠাৎ বললেন,
” তোমাদের বিয়েতে দাওয়াত দিবে না আমাদের? “
নৌমি আমতা আমতা করে বলল,
” পোগ্রাম হবে না।”
নৌমিকে থামিয়ে দিয়ে তাজ উত্তেজিত কণ্ঠে বলতে শুরু করল,
” তোকে কে বলেছে পোগ্রাম হবে না! আব্বু নিজে আমার সাথে কথা বলেছেন। কোথায় পোগ্রাম হবে, কতদিন ব্যাপী পোগ্রাম চলবে এমনকি হানিমুনে কোথায় যাব সেটাও পর্যন্ত ঠিক করা হয়ে গেছে।”
নৌমির দু-চোখ প্রশস্ত হলো। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিল। শুকনো গলায় আওড়াল,
” কোথায় যাব?”
“কি কোথায় যাবি?”
” হানিমুনে..”
ভদ্রলোক এবং ভদ্রমহিলা মিটিমিটি হাসছে। তাজ ভ্রু কুঁচকে নিরস কণ্ঠে বলল,
” তোকে তো কতবার বলেছিলাম, পাসপোর্ট টা করে নে। পাসপোর্ট থাকলে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম কিংবা পাশের দেশের কাশ্মীরে অন্তত যেতে পারতাম। যেহেতু পাসপোর্ট নেই তাই আপাতত লন্ডনই যেতে হবে।”
নৌমি অতর্কিত কণ্ঠে শুধালো,
” লন্ডন! “
” গরীবের লন্ডল মানে সিলেট।”
নৌমি নির্বাক। হা হয়ে আছে। ভদ্রলোক হেসে বললেন,
” জানো, আমাদের বিয়ের পর আমরা কোথায় হানিমুনে গিয়েছিলাম?”
তাজ কৌতুহলী কণ্ঠে আওড়াল,
“কোথায়?”
” গাবতলি।”
“সেটা আবার কোথায়?”
” আমাদের পাশের গ্রামে।”
” ওয়াও! তারপর?”
” তারপর আর কি! ঘুরতে গিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়েছিলাম।
ভাঙাচোরা একটা টিনের ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলাম। একদিকে বাতাসের ভয়, অন্যদিকে সাপ, ব্যাঙের লড়াই। কি ভয়াবহ ঘটনা মনে পড়লেই গা শিউরে ওঠে এখনও।”
“বেঁচে ফিরলেন কি করে?”
” ভাগ্য ভালো ছিল তাই কোনো না কোনোভাবে বেঁচেই গেলাম।”
ভদ্রমহিলা অভিমানের স্বরে বললেন,
” কোনো না কোনোভাবে কি! বলো আমি তোমাকে বাঁচিয়ে নিয়ে এসেছি।”
” হ্যাঁ হ্যাঁ তাই তো।”
” তাই তো আবার কি!”
ভদ্রলোক মুচকি হেসে বললেন,
” তুমি না থাকলে যে আমার কি হতো….!
তাই তো বলি,
ভালোবাসি তোমায়
ভালোবেসে যাব
জনম জনমে সাথী হবো।”
ভদ্রমহিলা লাজুক হেসে ওঠে গেলেন। নৌমি, তাজরাও হাসল। কিছুক্ষণ গল্প চলল। রাত গভীর ভোরে ওঠে বাস ধরতে হবে।
★
ড্রয়িং রুমে শুভ্র, সুমি, রাফিরা সবাই উপস্থিত। সকাল পেরিয়ে দুপুর হতে চলল এখনও তাজদের কোনো খোঁজ খবর নেই। তাজের আব্বু গুরুগম্ভীর ভাব নিয়ে সোফায় বসে আছেন। শুভ্র তাজের নাম্বারে কলের পর কল দিয়েই যাচ্ছে। কিন্তু ফোন বন্ধ।
রাফি শুভ্র’র কানের কাছে বিড়বিড় করে বলল,
” আমাদের কি পুলিশকে জানানো উচিত!”
তাজের আম্মু আর্তনাদ করে ওঠলেন,
” পুলিশ জানাবি মানে, ওঁরা কোথায় তোরা কি জানিস না?”
শুভ্র মাথা নিচু করে বলল,
” খুব বৃষ্টি ছিল গতকাল। ঠিকমতো আলোও ছিল না। আমরা ভেবেছিলাম ওঁরা বাসে ওঠেছে..”
এটুকু বলেই থামলো শুভ্র। এরপরের কথা বলার আগেই চোখ পড়ল তাজের আব্বুর পানে। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন তিনি৷ নিঃশ্বাস গাঢ়। শুভ্র নিঃশব্দে ঢোক গিলল। তাজের আব্বু গুরুগম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
” রাতে কিছু জানাও নি কেন?”
শুভ্র এলোমেলো চুলে হাত বুলিয়ে ধীরস্থির কণ্ঠে বলল,
” ভেবেছিলাম ওঁরা হয়তো রাতের মধ্যে চলে আসবে। কিন্তু এখনও কেন আসতেছে না তাই বুঝতে পারছি না। “
তাজের আব্বু কিছু বলতে যাবে তৎক্ষনাৎ নজর পড়ল সদর দরজায়। নৌমি আর তাজ দাঁড়িয়ে আছে৷ নৌমির পড়নে শাড়ি, তাজের পড়নে পাঞ্জাবি দেখে বাড়ির সবাই অবাক চোখে তাকাল। তাজকে দেখেই ছুটে গেল শুভ্র। দাঁড়াল ঠিক তাদের সামনে গিয়ে৷ নিঃশব্দে কয়েকবার দু’জনের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ বলল,
” কোথায় ছিলি সারারাত? “
” মতিন মিয়ার বাড়িতে।”
” মতিন মিয়া কে? আর তোরা বাস মিস করেছিলি কিভাবে?”
তাজ নৌমির দিকে ইশারা করে বলল,
” ও পড়ে গিয়েছিল।”
” পরের বাসে ফিরতে পারতি।”
” ওইটাই শেষ বাস ছিল।”
শুভ্র আর কিছু বলতে পারল না। শুধু কয়েকবার আড়চোখে নৌমির দিকে তাকালো। নৌমি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে৷ মলিন চেহারা, নির্বাক চাউনি। ড্রয়িং রুমে দুই মিনিট দাঁড়ালো কি না! সঙ্গে সঙ্গে নিজের বাসায় চলে গেল। তাজের আব্বু স্বাভাবিক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,
” কোনো সমস্যা হয় নি তো?”
” না আব্বু। কোনো সমস্যা হয়নি। বৃষ্টি ছিল খুব। এলাকায় কারেন্ট ছিল না। পানিতে ভিজে ফোন নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। যে বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলাম তাঁরা অন্য জগতের মানুষ। ফোন ব্যবহার করেন না।”
” রুমে যাও।”
তাজ ব্যস্ত পায়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠতে লাগল। পেছন পেছন রাফিরাও যাচ্ছে। শুভ্র যেইমাত্র সিঁড়ির কাছে পৌঁছাল তখনই শুনতে পেল,
” এবার ওঁদের বিয়েটা দেওয়া দরকার। সাথে কাবিননামা থাকলে যেখানেই যাক নিশ্চিন্তে থাকতে পারব।”
কথাটা কানে যেতেই থামলো শুভ্র। আড়চোখে তাকিয়ে তাজের আব্বু আম্মুকে খানিক দেখে নিল। জবাবে তাজের আম্মু বললেন,
” ছেলেটা তো বেকার। নৌমির কষ্ট হবে না!”
” আমি আছি না! তাজ আমার একমাত্র ছেলে। আমার যা আছে সবই তাজের। নৌমি এইটুকু মেয়ে। ও আর কি খাবে, কি পড়বে!”
” তারপরও..”
” তোমরা মেয়ে মানুষের আসলে মনেই সমস্যা। “
শুভ্র দূর থেকে মুচকি হেসে ওঠে গেল। তাজের আম্মু ধীর গলায় বললেন,
” আমার আবার কি সমস্যা? “
” তোমার কি নৌমিকে পছন্দ না?”
তাজের আম্মু কিঞ্চিৎ ভ্রু কুঁচকে বললেন,
” ভুলে যাবেন না, নৌমির কথা সর্বপ্রথম আমিই আপনাকে বলেছিলাম।”
” সে আমি ভুলিনি। কিন্তু এখন বারণ করছ কেন!”
” আমি বারণ করছি না একটু সময় নিতে বলছি।”
” আর কত সময় নিবে বলো! আমার বোন রাজি, বোনের জামাই রাজি। আমার ছেলে, ছেলের বউ দু’জনেই রাজি। আমরাও রাজি। তাহলে বিয়েটা দিতে বারণ কোথায়!
আমার মেয়েটা শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার পর থেকে এই বাড়িটা ফাঁকা হয়ে গেছে। নৌমি যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ মনে হয় বাড়িতে প্রাণ আছে। নৌমি না থাকলেই নিশ্চুপ। এক গ্লাস পানি চাইলে পাবো এমন একটা মানুষও নেই।”
তাজের আম্মু চাপা নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন,
” বেশ! আপনি চাইলে যেকোনো তারিখে বিয়ে পড়াতে পারেন। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।”
” যাক, আলহামদুলিল্লাহ। “
এদিকে শুভ্র তাজের রুমে ঢুকে ঘুরঘুর করছে। তাজ গোসলে গিয়েছে। কয়েক মিনিট পর বের হলো তাজ। রুমে পা রাখা মাত্রই গর্জে ওঠল শুভ্র,
” তুই নিলুকে কবে বিয়ে করছিস?”
” হঠাৎ এই প্রশ্ন? “
” আমার প্রশ্নের উত্তর দে।”
” এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই।”
শুভ্র রাগান্বিত কণ্ঠে চিৎকার করল,
” তোর শরীরে তোর বাবার রক্ত বইছে তো?”
” মানে?”
” তিন বছর এক মেয়ের পেছনে ঘুরলি। প্রেম, ভালোবাসা, ঘুরাঘুরি, মন দেওয়ানেওয়া সবই করলি। এমনকি বিয়ের সিদ্ধান্তও নিয়ে নিলি। অথচ এখন তুই আরেক মেয়ের পেছনে ঘুরিস।”
” কোন মেয়ের পেছনে ঘুরেছি?”
“কোনো লুকোচুরি না। আজ আমি সরাসরি বলছি, আমি যেদিন থেকে এই বাড়িতে পা রেখেছি সেদিন থেকে দেখছি তুই নৌমির প্রতি আলাদা কেয়ার করিস। সবকিছুতে নৌমিকে প্রায়োরিটি দিস। আমি আর তুই দু’জনেই নৌমির কাছে সমান তাহলে তুই কেন গুরুত্ব বেশি পাবি। আমি নৌমিকে নিয়ে একা কোথাও যেতে চাইলে তুই বাঁধা হয়ে দাঁড়াস। কেন? তুই তোর নিলুকে সময় দে। নিলুর কথা বাসায় জানা। দুই নৌকায় পা দিয়ে কতদিন চলবি! এখনও সময় আছে নিজের চরিত্র ঠিক কর। নয়তো আমি চাচ্চুকে বলতে বাধ্য হবো…”
অকস্মাৎ শুভ্রর গালে থাপ্পড় পড়ল। দ্বিতীয় থাপ্পড়টা দিতে গেলে শুভ্র তাজের হাত ধরে ফেলল৷ কণ্ঠস্বর দ্বিগুণ ভারী করে চিৎকার করল,
” আমাকে থাপ্পড় দিলেই কি তোর সাত খু* ন মাফ হয়ে যাবে?”
#চলবে..
( দেরিতে গল্প দেওয়ার খুশিতে,
সবাই আমাকে একবার করে I Hate You বলে যান।)
Share On:
TAGS: প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে, সালমা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ৩২
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ১৩
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ৩০
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে গল্পের লিংক
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ৭
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ৩১
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ২১(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ৪
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ২৩
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ১২