Golpo romantic golpo নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৩৮


নীভৃতেপ্রেমআমার_নীলাঞ্জনা

নাজনীননেছানাবিলা

পর্ব_৩৮

অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌❌❌❌

রিচেইক দেইনি। এবং গল্প আবার ১ দিন পর আসবে।🫠

নীলা বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো।তার চোখ মিহালের প্যান্টের ভেজা অংশের দিকে।আর মিহাল তো এখনো কপালে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে।হাত কপালে এমন ভাবে রেখেছিল যে তার চোখ এতক্ষণ ঢাকা ছিল।এখন হাত সরাতেই নীলার দিকে চোখ গেল। কিন্তু নীলার দৃষ্টি লক্ষ্য করে সঙ্গে সঙ্গে নিজের দুই হাত দিয়ে প্যান্টের ভেজা অংশের উপর রেখে যায়গায় টা ঢেকে ফেলল।নীলা ঠোঁট কামড়ে হেসে উঠলো।মিহাল নীলার দিকে তীক্ষ্ণ চোখ তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলল_
কন্ট্রাক্টে কিন্তু লেখা ছিলনা যে তুমি কথায় কথায় আমার প্যান্ট ভিজিয়ে দিবে।

নীলা এবার নিজের হাসি থামলো।মিহালের চোখে চোখ রেখে বলল_
প্রথমত কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ করেছি বলে বার বার কন্ট্রাক্ট কথাটি মনে করিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন।আর হ্যাঁ আমি ইচ্ছে করে আপনার প্যান্ট ভিজিয়ে দেই না। কিন্তু আপনার যদি কথায় কথায় প্যান্ট ভিজে যায় তাহলে সরি টু সে প্রবলেম আপনার মাঝে, আমার মাঝে নয়।

মিহালের ভ্রু জোড়া আপনা আপনি কুঁচকে গেল‌।সে বিরক্ত নিয়ে বলল _
লাইক সিরিয়াসলি? ভুল করবে তুমি আর দোষ হবে আমার? আর মিহালের ব্যক্তিগত মিসেস কিডিং উইথ মি?

নীলা বাঁকা হেসে বলল __
ভুলে যাবেন না আমাদের বিয়েটা চুক্তির বিয়ে এবং চুক্তিতে অনেক শর্ত আছে যা আপনাকে মানতে হবে মি মিহাল খান। কিন্তু এক মিনিট আপনি কি আমাকে তাড়াতাড়ি বিয়ে করার ধান্দায় ভালো করে চুক্তিপত্র পড়েন নি? তাহলে কিন্তু খুব বেশি বোকামি করে ফেলেছেন। আফটার অল আপনি নীলা মির্জার অনলি ওয়ান হাসবেন্ড তাও আবার একজন নামকরা প্রফেসর।

নীলার কথা শুনে মিহাল চমকে গেল। এবং মনে করার চেষ্টা করল সে আদৌও নীলার দেওয়া চুক্তি পত্র ভালো করে পড়েছিল কিনা।আর ভাবতে ভাবতে চলে গেল অতীতে__

নীলাকে সাজিয়ে মিহালের পাশে বসানোর সাথে সাথেই নীলা মিহালের কানের কাছে ফিসফিস করে বলল__
আপনার সাথে আমি একা কিছু জরুরী কথা বলতে চাই তাও বিয়ে সম্পূর্ণ হবার আগে।

নীলার কথা শুনে মিহাল কিঞ্চিত অবাগ হলেও পরক্ষণেই নিজেকে সামলিয়ে নিল এবং মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল__
মা বিয়ের আগে আমি আর নীলা আলাদা কিছু কথা বলতে চাই।আমি ওকে নিয়ে আমার রুমে যাচ্ছি।
বলেই বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো এবং নীলায দিকে তাকালো।নীলা একবার নিজের ফুফুর দিকে তাকালো,ফুফুর কাছ থেকে অনুমতি পেতেই দাঁড়িয়ে পরলো এবং মিহালের পেছন পেছন যেতে লাগলো। তাদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল মুনভি, ইকরা এবং মিহালের মা-বাবা।

মিহাল নিজের রুমের সামনে এসে থেমে গেল। পেছনে তাকাতেই দেখল নীলা ঠিক তার পেছন।মিহাল হাত বাড়িয়ে নীলা কে আগে নিজের রুমে প্রবেশ করার সুযোগ দিল‌। নীলা কিছুটা ভয় সংশয়, দ্বিধা নিয়ে মিহালের রুমের ভেতর ঢুকে পরল এবং আশ পাশে ভালো করে চোখ বুলিয়ে নিল।

মিহাল রুমের ভেতর প্রবেশ করলেও দরজা লাগালো না‌। প্রথম তাদের মাঝে এখনো এমন কোনো সম্পর্ক হয়নি যে তারা দরজা লাগিয়ে কথা বলবে।আর হয়তো নীলা তাকে ভুলও বুঝতে পারে।তাই সব দিক বিবেচনা করে সে দরজা লাগালো না।আর তাছাড়াও উপরে কেউ আসবে না যে তাদের কথা অন্য কেউ শুনে ফেলবে।তাই দরজা খোলা রেখে সোজা নীলার পেছন গিয়ে দাঁড়ালো এবং নীলাকে তাড়া দিয়ে বলতে লাগলো _
কি বলবে তুমি?

নীলা এখনো মিহালের দিকে পিঠ করে দাঁড়িয়ে আছে।চোখ বন্ধ করে এক বড় শ্বাস টেনে নিজকে ধাতস্থ করল এবং পেছন ফিরে মিহালের সরাসরি দাঁড়াল। এখন দুজন একে অপরের মুখোমুখি।
একটি কাগজ এবং কলম দিন আমাকে।
কিছু না ভেবেই কথাটি বলে ফেলল নীলা।

মিহাল হয়তো কিছুটা আন্দাজ করতে পারলো। কিন্তু এখন সে কিছুই বলতে চায় না তাই নিঃশব্দে তার টেবিলের উপর থেকে একটা নোট খাতা নিল এবং খাতা থেকে একটি পৃষ্ঠা ছেড়ে ফেলল। তারপরে একটি কলম নিয়ে নীলার দিকে এগিয়ে দিল।

নীলা চট করে মিহাল হাত থেকে নোট খাতা, সেই নোট খাতা থেকে ছেড়া পৃষ্ঠা এবং কলম নিজের হাতে নিয়ে নিল। এবং নোট খাতার ওপর পৃষ্ঠাটি রেখে কিছু লিখতে শুরু করলো। মিহাল শেরওয়ানির পকেটে হাত ঢুকিয়ে নীলার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।সে হয়তো কিছু বুঝতে পারছে অথবা কিছুই বুঝতে পারছে না।

নীলা মিনিট দশেক সময় নিল কিছু লেখার জন্য। খুব দ্রুতই লিখেছে সে যতটা তার পক্ষে সম্ভব ছিল।লেখা শেষ হতেই পৃষ্ঠায় শূন্যস্থান রেখে দেওয়া দুইটির মাঝে নিজের নির্দিষ্ট স্থানে সই করে দিল। এবং মিহালের দিকে তাকিয়ে কাগজটি এগিয়ে দিয়ে বলল_
আমরা কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ করছি‌। আপনার যেমন এক কথায় আমি এই বিয়েতে রাজি হয়ে গিয়েছি তেমন ভাবে আমিও আশা করছি আপনি কোনো প্রশ্ন ছাড়াই এই কন্ট্রাক্টূ রাজি হয়ে যাবেন। এইখানে কিছু শর্ত আছে যা আপনাকে মেনে চলতে হবে।আপনি চাইলেও কিছু শর্ত যুক্ত করতে পারেন। সম্পূর্ন আপনার নিজস্ব ইচ্ছে।

মিহাল কিছুক্ষণ পলকহীন চোখে তাকিয়ে রইল নীলার দিকে। তার তো অবাক হবার কথা কিন্তু সে মোটেও অবাক হচ্ছে না। বরং নীলা যে এতক্ষণ সময় লাগালো এমন সিদ্ধান্ত নিতে এটি দেখে সে এতক্ষণ যাবৎ অবাক হয়ে যাচ্ছিল। বরং এখন নীলার সিদ্ধান্ত দেখে সে কিছুটা শান্ত হলো। ঠোঁটে এক রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল।চোখ কিছু জয়ের আশঙ্কা দেখা গেল যা নীলার চোখ হইতে এড়ায়নি।নীলা মিহাল কে শান্ত দেখে বাঁকা হাসলো এবং মনে মনে বলল _
বাহ্ নীলা তোর হবু বর দেখছি বেশ স্মার্ট এবং ব্রেভ।মোটেও বিচলিত হলো না উল্টো আরো হাসছে। এখানে যদি তোর থার্ড ক্লাস পছন্দের ইরফান থাকতো তাহলে পুরো বাড়ি মাথা উঠিয়ে ফেলতো।

মিহাল নীলার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে তারপর চুক্তিপত্রে থাকা শর্তগুলো না পড়েই সই করে দিল। নীলার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। মিহাল এতক্ষণ নীলার চোখে স্মার্ট এবং বুদ্ধিমান ভাবলেও এখন তার চোখে সব থেকে বড় বোকা হয়ে গেল। কারণ যে ব্যক্তি কোন কন্টাক্ট পেপার না পড়েই সাইন করে দেয় সে আর যাই হোক বুদ্ধিমান হতে পারেনা। অনন্ত নীলার মতে তো কোনো ভাবেই না।নীলা যেই না মুখ খুলল কিছু বলার জন্য অমনি মিহাল বলে উঠলো__
আমাকে বোকা ভাবার সময় বিয়ের পর আজীবন পাবে। আপাতত এই শর্তগুলো পড়ে আমি সময় নষ্ট করতে চাচ্ছি না। ঠিক যেরকম ভাবে আমি জানতাম তুমি কোন না কোন কন্ট্রাক্ট তৈরি করবে, ঠিক সেরকম ভাবেই আমি আন্দাজ করে ফেলেছি এই কন্ট্রাক্টে কি কি শর্ত থাকতে পারে। খামোখা এগুলো পড়ে আমি নিজের বিয়ের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চাই না। আর এমন তো নয় যে তুমি আমার সকল সম্পত্তি নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছো, আর সম্পত্তি নিয়ে পালিয়ে গেলেই বা কি করতে পারব।যে জায়গায় আমার মন চুরি করে ফেললে আমি কিছুই করতে পারলাম না, সেই জায়গায় সম্পত্তির বিষয় নিয়ে তোমি মাথাও ঘামাই না।তাই এখন চলো বিয়ে করি আগে তারপর এইসব হিসাব নিকাশ হবে।
বলেই মিহাল সামনের দিকে অগ্রসর হলো আর নীলা রয়ে গেল পেছনে।সে মিহাল কে যত জানছে ততই অবাক হচ্ছে। আসলেই লোকটি নিজেকে যেরকম ভাবে রিপ্রেজেন্ট করে ভেতর থেকে একদম তার ভিন্ন। এসব ভাবতে ভাবতেই নীলা নিচে নেমে মিহালের পাশে গিয়ে বসল এবং তাদের বিয়ে হয়ে গেল।

মিহাল অতীতের ভাবনা থেকে বর্তমানে ফিরে এলো নীলার কন্ঠস্বর শুনে।নীলা মিহালের মুখের সামনে হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে বলছে__
ভেজা প্যান্ট পরে এভাবে দাঁড়িয়ে থেকেই সারারাত পার করার ইচ্ছা আপনার?

মিহাল নড়েচড়ে উঠলো। তারপর কাবার্ডের কাছে গিয়ে কাবার্ড খুলে একটি ট্রাউজার এবং গেঞ্জি নিল আর ওয়াশরূমে চলে গেল।মিহাল যেতেই নীলা অট্টো হাসিতে ফেটে পরলো। হাসতে হাসতে পেট চেপে বিছানায় বসে পড়লো।আসলে সে কথায় কথায় কেবল মিহালের প্যান্ট ভিজিয়ে দেয় আর বেচারা মিহাল আগেও তাকে কিছু বলতে পারেনি আর এখনো পারবেনা। কারণ সে সেই কাগজে চালাকি করে একটি শর্ত লিখে দিয়েছিল যেখানে লেখা ছিল, নীলা যত ভুল করবে সব ভুলের দায় মিহাল কে নিতে হবে। নীলা যদি তার স্ত্রী হয় তাহলে নীলার করা সকল ভুল তার ভুল।
আর মিহাল সেসব শর্ত না পড়েই সাইন করে দিয়েছিল এখন নীলা ইচ্ছা মতোন নাকানিচোবানি খাওয়াবে মিহালকে।
হাসতে হাসতে হঠাৎ মনে পড়ল মিহালের তো হাতে ব্যথা।তখন মুনভি সাহায্য করেছিল কাপড় পরার জন্য।এখন মিহাল একা কি করে করবে।নীলা আর বেশি কিছু না ভেবে ধীরে ধীরে ওয়াশ রুমের দিকে এগিয়ে গেল এবং ওয়াশরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল। ধীরে ধীরে ওয়াশরুমে নক করলো এবং নরম কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল__
আপনি কি ঠিক আছেন? হাতে কি বেশি ব্যথা করছে? আর একা একা কি কাপড় পড়তে পারবেন?

মিহাল শাওয়ার শেষ করে সবে মাত্র প্যান্ট পরলো আর অমনি নীলার বলা কথাগুলো কানে এলো। নিজের দিকে তাকিয়ে দেখল তার প্যান্ট পড়া শেষ এখন শুধু গেঞ্জি পরা বাকি। কিন্তু এহেন মূহুর্তেই নীলা এই কথা বলল। যদি একটু আগে বলতো তাহলে হয়তো সে প্যান্ট নিজ থেকে পরতো না। বরং নীলার সামনে ব্যাথার অভিনয় করে বলতো প্যান্ট পরতে যেন সাহায্য করে। কিন্তু সে প্যান্ট পরে ফেলেছে এইটা সে জানে‌। নীলা তো আর জানে না।তাই মিহাল নির্লজ্জের মতোন প্যান্ট আবার খুলতে নিল এবং বলতে লাগলো __
না‌গো বউ হাত ব্যাথার কারন পরতে পারছি না।তুমি কি একটু সাহায্য করবে?

মিহালের অসহায় কন্ঠ শুনে নীলার মন গলে গেল।সে দরজার কাছ থেকেই বলল_
আচ্ছা আপনি প্যান্ট পরে বাইরে আসুন আমি গেঞ্জি পরিয়ে দিচ্ছে।

পরনের প্যান্ট খুলতে থাকা মিহালের হাত জোড়া থেমে গেল।সে বিরক্ত নিয়ে আবার ভালো করে প্যান্ট পরতে লাগলো আর মনে মনে বলল __
দূর ছাতার মাথা বউ একটুও রোমান্টিক না। প্যান্ট ভিজিয়ে দিতে পারে মেডাম অথচ পরিয়ে দিতে গেলে উনার শত সমস্যা। অবশ্য এই যাত্রায় যে আমার ব্যাথার কথা ভেবে গেঞ্জি পরিয়ে দিতে রাজি হয়েছে এইটাই অনেক।
কথাগুলো বিড়বিড় করে বলে বাঁকা হাসি দিল মিহাল।
এবং টাওয়াল গলায় ঝুলিয়ে প্যান্ট পরে গেঞ্জি হাতে নিয়ে ওয়াশ রুম থেকে বের হয়ে এলো।

নীলা ফ্লোর পরিষ্কার করছিল যেখান দুধ পরেছিল।মিহাল নীলার পেছন এসে বলল_
তুমি কষ্ট করে পরিষ্কার করতে গেলে কেন? নিচে মেইড কে বললে সে এসে করে দিয়ে যেতো।

নীলা নিজের কাজ করতে করতে বলল__
যেহেতু আমার জন্য নোংরা হয়েছে সে তো আমি পরিষ্কার করব।

মিহাল অভিযোগ করে বলল_
আমার প্যান্ট নষ্ট করতে তো একবারও ভাবনা তাহলে পরিষ্কার করার সময় ভাবো তো কেন?

নীলা দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল_
আমার ইচ্ছা।
বলেই মিহালের দিকে চোখ গেল তার।মিহাল তার সামনে শার্টলেস।সুঠাম চওড়া কাঁধের একপাশে একটা তোয়ালে অবহেলায় ঝুলছে, আর হাতে ধরা তার গেঞ্জিটা।
শাওয়ারের জল চুঁইয়ে পড়ছে মিহালের কপাল আর ধারালো চিবুক বেয়ে। অবাধ্য ভেজা চুলের গোছা থেকে দু-এক ফোঁটা জল চুইয়ে মিহালের প্রশস্ত বুকের ওপর দিয়ে গড়িয়ে নামছে, তৈরি করছে এক অদ্ভুত সম্মোহনী পথরেখা। মিহালের উদোম শরীরের প্রতিটি পেশি যেন এই মুহূর্তের লাইটের আলোয় আরও বেশি স্পষ্ট, আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ধরা দিচ্ছে।

নীলা চাইলেই চোখ সরিয়ে নিতে পারত, কিন্তু তার দৃষ্টি যেন অবাধ্য হয়ে মিহালের সেই সুগঠিত শরীরের খাঁজে খাঁজে আটকে যাচ্ছে। মিহালের পৌরুষদীপ্ত এই রূপের সামনে নীলার দীর্ঘদিনের সাজানো গাম্ভীর্য মুহূর্তেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। নীলার হৃদস্পন্দনের গতি বাড়তে শুরু করেছে, আর গলার কাছটা শুকিয়ে কাঠ। মিহালের শরীর থেকে আসা সেই পরিচিত সাবান আর শ্যাম্পুর ঘ্রাণ নীলার মস্তিস্কে এক প্রকার নেশা ধরিয়ে দিচ্ছে, যা উপেক্ষা করার সাধ্য ওর এই মুহূর্তে অন্তত নেই।মিহাল যতবার তার কাছাকাছি আসতো সে ছিঃ ঘ্রাণ পেতো আর আজ বেশ ভালো করে অনুভব করতে পারছে।

নীলার অপ্রস্তুত চাহনি আর স্তব্ধ হয়ে থাকা দেখে মিহালের ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসির রেখা ফুটে উঠল। সে জানত না যে, তার এই রূপ নীলার হৃদয়ে কেমন ঝড় তুলছে। মিহাল এক পা এগিয়ে এসে কাঁধে থাকা টাওয়াল দিয়ে নিজের ঘাড়ের জল মুছতে মুছতে নীলার খুব কাছে গিয়ে দাঁড়াল। এবং মিহাল নীলার কানের কাছে মুখ নামিয়ে ফিসফিস করে বলল, “কী হলো নীলাঞ্জনা? এভাবে তাকিয়ে আছ যে? আমাকে কি আগে কখনো দেখোনি? নাকি আমার সিক্স প্যাকগুলো গুনতে শুরু করেছ?”

নীলা সম্বিত ফিরে পেয়ে তড়িঘড়ি করে চোখ সরিয়ে নিল। ওর গাল দুটো ততক্ষণে লজ্জায় টকটকে লাল হয়ে উঠেছে। সে নিজেকে সামলে নিয়ে একটু রাগী গলায় বলল, “যাহ্‌! কী যা তা বলছেন? আমি আপনার ওসব ফালতু বডি দেখতে যাব কেন? আমি জাস্ট ভাবছিলাম… এই গরমে না মানে শীতে আপনি গেঞ্জি না পরে এভাবে ঘুরছেন কেন, অসভ্য একদম!”

মিহাল আরেকটু ঝুঁকে এসে মজা করে বলল, “ওহ, তাই নাকি? কিন্তু তোমার চোখের মণি তো বলছিল অন্য কথা। গাল দুটো কেন আপেলের মতো লাল হয়ে গেল তবে? সত্যি করে বলো তো, আমি কি তোমার ক্রাশলিস্টের এক নম্বরে উঠে এলাম? চাইলে তুমি ছুঁইয়েও দেখতে পারো। শুধু খালি চোখে কেন দেখবে?আমি আর আমার শরীর সব তোমার।আমি বাংলা ছবি দেখেছিলাম বাবার সাথে যেখান একটি ডায়লগ আছে তুমি আমার শরীর পাবে কিন্তু মন পাবে না।আমার ডায়লগ ভিন্ন।নীলা বেবি তুমি তো আমার মন নিয়েই নিয়েছো চাইলে এই শরীর টাও নিয়ে নাও। আমি মোটেও মাইন্ড করবো না।

নীলার চোখ বের হয়ে আসার উপক্রম।এ কোন মিহাল কে দেখছে সে।তার লজ্জায় জান বের হয়ে এলো।নীলা মিহালের উন্মুক্ত বুকে আলতো ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে মুখ ঘুরিয়ে বলল, “একদম বাজে বকবে না আপনি। আপনি এখন আয়নায় নিজের মুখটা দেখেন, একটা বাঁদরের মতো লাগছে। আর অশ্লীল কথাবার্তা বন্ধ করুন।সভ্য হন দয়া করে।

মিহাল শব্দ করে হেসে উঠল। সে বুঝল, নীলা মুখে যাই বলুক, তার বুকের ধুকপুকুনি সে ঠিকই টের পাচ্ছে।মিহালের টানা ফ্লার্টিং আর দুষ্টুমিতে নীলা মনে মনে কিছুটা কাবু হলেও বাইরে সেটা প্রকাশ পেতে দিল না

নীলা প্রসঙ্গ বদলানোর জন্য বলল_
আপনি কি বাচ্চা মাথার চুল ভালো করে বুঝেননি সেখান থেকে পানি পড়ছে। তারপর তো ঠান্ডা লেগে যাবে।

মিহাল অসহায় কন্ঠে বলল _
আসলে হাতে ব্যথা তো তাই কিছু করতে পারছি না।
তার কতটা ব্যথা না হলেও সে নীলার সামনে নিজেকে বারবার অসুস্থ প্রমাণ করছে শুধুমাত্র নীলা কাছ থেকে একটু যত্ন পাওয়ার জন্য।

নীলা ব্যস্ত হয়ে বলল_
দাঁড়িয়ে না থেকে চুপচাপ বসুন আমি চুল মুছে দিচ্ছি।

মিহাল যেন নীলার এই হঠাৎ বদলে যাওয়া শান্ত রূপটা বেশ উপভোগ করল। সে কোনো প্রতিবাদ না করে লক্ষ্মী ছেলের মতো বিছানার একপাশে বসল। নীলা তার কাঁধ থেকে আলতো করে তোয়ালেটা টেনে নিল। তারপর মিহালের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে পরম মমতায় ওর ভেজা চুলগুলো মুছে দিতে শুরু করল।

নীলার হাতের আঙুলগুলো তোয়ালের আড়াল দিয়ে মিহালের মাথার ত্বকে স্পর্শ করছিল। চুলের ভেতর দিয়ে সেই স্নিগ্ধ অনুভবে মিহাল মুহূর্তেই অন্য এক জগতে হারিয়ে গেল। আগের সেই দুষ্টুমি মাখা চোখ দুটো এখন নিমীলিত। নীলা খুব যত্ন করে একেকটা চুলের গোছা মুছিয়ে দিচ্ছে। মিহাল যখন বসে আছে, তার সামনে দাঁড়ানো নীলার গা থেকে আসা হালকা মেয়েলি ঘ্রাণ আর তার চুলের মিষ্টি সুবাস মিহালকে এক অদ্ভুত শান্তিতে আচ্ছন্ন করে তুলল।

মাঝে মাঝে মিহালের কপাল থেকে দু-এক ফোঁটা জল চুইয়ে ওর চোখের পাতায় পড়ছিল, আর নীলা সযত্নে তোয়ালে দিয়ে তা মুছে দিচ্ছিল। মিহাল চোখ খুলে নীলার দিকে তাকাল। নীলা তখন নিজের কাজে মগ্ন, ওর চোখে-মুখে এক ধরনের পবিত্র মমতা।

মিহাল নিজের ভেজা চুলে ব্যস্ততা থাকা নীলার হাত হঠাৎ ধরে ফেলল।নীলা থমকে গেল এবং মিহালের দিকে প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে তাকালো।মিহাল মুচকি হেসে বলল __
অনেক সেবা যত্ন করেছ। এখন গিয়ে চেঞ্জ করে নাও।আজ তো কম ধকল যায়নি। তার উপর এত ভারী লেহেঙ্গা পরেছো। তোমার থেকে তো তোমার লেহেঙ্গার ওজন বেশি। ছোট টেবিলের ওপর দেখো তোমার জন্য মা কাপড় রেখে দিয়েছে। চেন্জ করে সেগুলো পরে নাও। তারপর না হয় দুজন মিলে নফল নামাজ পড়ে নিব।

নীলাও সায় দিল। আসলেই তার জান বের হয়ে যাচ্ছে। আজ কম ধকল যায়নি, কম দৌড়াদৌড়ি করেনি। এভাবে আরো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে হয়তো সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলত। ভাগ্যিস তার ফুফু বিয়ে সমাপ্ত হতে না হতেই তাকে যত্ন সহকারে খাইয়ে দিয়েছিল। নয়তো এতক্ষণ তো সে কখনোই দাঁড়িয়ে থাকতে পারতো না।

নীলা কাপর নিয়ে ওয়াশ রুমে চলে গেলো এবং সময় নিয়ে গোসল করে বের হলো‌।এখন তার পরনে খয়েরি রঙের সেলোয়ার কামিজ এবং সাথে ওড়না। টাওয়াল দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে নীলা বের হলো।মিহাল কাবার্ড থেকে জায়নামাজ বের করছিল। হঠাৎ নীলাকে দেখে সে থমকে গেল।চোখে মুগ্ধতা ফুটে উঠল এবং ঠোঁটে হাসি।এই প্রথম নীলাকে সে হিজাব ছাড়া দেখছে।
মিহাল আজ থমকে গেল। যে নীলাকে সে সবসময় আবক্ষ হিজাবে আবৃত দেখে এসেছে, আজ তার সামনে এক অন্য নীলা। গোসল সেরে ভেজা চুলে যখন নীলা ঘর থেকে বের হলো, মিহালের মনে হলো তার পরিচিত চেনা জগৎটা মুহূর্তেই বদলে গেছে।
নীলার পরনে খয়েরি রঙের সালোয়ার কামিজ, তার ওপর অযত্নে জড়িয়ে রাখা ওড়না। ভেজা চুল থেকে চুইয়ে পড়া জলকণাগুলো খয়েরি কাপড়ের কাঁধের ওপর ছোট ছোট গাঢ় দাগ তৈরি করছে। সে আনমনে টাওয়াল দিয়ে চুল মুছতে মুছতে সামনে এগোচ্ছিল, খেয়ালই করেনি দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মিহালকে।
মিহাল পলকহীন চোখে তাকিয়ে রইল। হিজাব ছাড়া নীলার মুখশ্রী যেন আজ নতুন করে তার কাছে ধরা দিয়েছে। কপালে লেপ্টে থাকা কয়েকগাছি অবাধ্য ভেজা চুল আর স্নান-সিক্ত স্নিগ্ধতা—সব মিলিয়ে নীলাকে কোনো মায়াবী জলপরীর মতো লাগছে। মিহালের বুকের ভেতরটা হঠাৎ করেই ধক করে উঠল। যে অনুভূতিটা এতদিন স্রেফ ভালো লাগার স্তরে ছিল, আজ যেন তা গভীর এক মুগ্ধতায় রূপ নিল।
সে কিছু বলতে চাইল, কিন্তু গলা দিয়ে শব্দ বেরোলো না। কেবল এক অদ্ভুত আবেশে আচ্ছন্ন হয়ে সে দেখল, নীলা টাওয়াল দিয়ে চুল ঝাড়তে ঝাড়তে মাথা তুলল। চারজোড়া চোখ এক হতেই মিহালের হৃদস্পন্দন যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। এক অজানা আবেশ আর মুগ্ধতা নিয়ে মিহাল শুধু ভাবল, “আবরণ ছাড়াও যে কেউ এতটা পবিত্র আর সুন্দর হতে পারে, তা আজ না দেখলে জানাই হতো না।”


মিহালের এক জরুরী ফোন এসেছিল বলেছে বাহিরে গিয়েছিল। ফোনে কথা বলতে বলতে তার বেশি সময় লেগেছে। কিন্তু রুমের ভেতরে এসে দেখল নীলা লাইট চালু করা অবস্থাতেই বিছানার এক পাশে শুয়ে রয়েছে। চোখ, মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট।

মিহাল মুচকি হেসে রুমেই লাইট অফ করল এবং ল্যাম্প লাইট জ্বালিয়ে দিল যেখান থেকে ঘরে হালকা হলদে আলো ছড়িয়ে পড়ছে।মিহাল ধীরে ধীরে নীলার দিকে এগিয়ে গেল এবং বিছানায় উঠে পরল।

এইতো কিছুক্ষণ আগেও নীলা তাকে নানান কথা শুনানো। কন্ট্রাক্ট ম্যারেজর চুক্তিতে শর্ত ছিল,যার মধ্যে অন্যতম হলো মিহাল নীলাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ছুঁতে পারবে না।

কিন্তু এখন তো নীলা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে আছে।মিহাল যা খুশি তাই করতে পারবে।ভেবেই বাঁকা হাসলো। এবং নীলাকে চুপচাপ নিজের বুকে টেনে নিয়ে ঘুমাতে দিল মিহাল। নীলার মাথা তার বুকের উপর রাখলো।ধীরে ধীরে নীলার মাথায় তারপর নীলার কপালে ভালোবাসার পরশ ছুঁইয়ে দিয়ে বিড়বিড় করে বলল_
ভালোবাসার পবিত্র স্পর্শ চুরি করে দিলেও আল্লাহ মাফ করবেন। তোমার জন্য তো একটু আধটু চিটিং, বাটপারি করতেই পারি নীলাঞ্জনা। তুমি যে আমার প্রথম প্রেম, ভালোবাসা। অনেক যন্ত্রনা পেয়েছো এখন সুখ পাওয়ার সময় তোমার।আর আমি তোমাকে তোমার প্রাপ্য সকল সুখ দিব।আই প্রমিস নীলাঞ্জনা।

চলবে???? ভুলত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন অনেকদিন পর আজ লিখতে বসেছি হয়তো ভুল হয়েছে। গল্প আবার একদিন পর আসবে।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply