Golpo romantic golpo নতুন প্রেমের গান

নতুন প্রেমের গান পর্ব ২৫


নতুন প্রেমের গান পর্ব ২৫

“সুপ্রভা শেখ সিয়াদাত শাহারিয়ার স্ত্রী। শুনেছো তুমি? নাকি রিপিট করতে হবে?”

সুপ্রভার হৃদস্পন্দন যেন এক লহমায় স্তিমিত হয়ে গেল ।সে এক মুহূর্তের জন্য পাথরের মূর্তিতে পরিণত হলো। তার চোখের পলক পর্যন্ত পড়ছে না। সে সিয়াদাতের দিকে চেয়ে আছে, কিন্তু দৃষ্টিটা কেমন জানি ঘোলাটে লাগছে। তার গলার ভেতরটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।মনে হচ্ছে কেউ যেন তার স্বরযন্ত্র পাথর দিয়ে চেপে ধরেছে। সে প্রাণপণ চেষ্টা করছে কিছু বলার। কিন্তু ঠোঁট ফুঁড়ে কোনো শব্দই বের হচ্ছে না।

নোরা ক্ষিপ্ত হয়ে এগিয়ে আসে সিয়াদাতের দিকে। চোখে একরাশ বিস্ময়, কণ্ঠে অবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, “ কী বললে তুমি? কে তোমার স্ত্রী?”

নোরার উগ্ৰ আচরণ সিয়াদাতের ভ্রু কুঁঞ্চিত করে দেয়।তার ঠোঁট বেকে যায় বিরক্তিতে।সে মন্দ্র স্বরে বলে, “ তোমার শ্রবণশক্তি হ্রাস পেয়েছে নাকি? আমি রব তুলে সকলের সামনে বললাম সুপ্রভা আমার বিয়ে করা ব‌উ।কথাটা সবার কর্ণকুহরে প্রবেশ করলো, অথচ তোমার কর্ণগোচর হলো না।”

সুপ্রভার হাতটা তখনো সিয়াদাতের হাতের মুঠোয় অবরুদ্ধ।তার সর্বাঙ্গ থরথর করে কাঁপছে।সে কি ঠিক শুনছে? সিয়াদাত কী বলছে? সুপ্রভা নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছে না।সে নিজেকে ধাতস্থ করে এক ঝটকায় সিয়াদাতের হাতের বেষ্টনী থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়।কুপিত কণ্ঠে বলে,

“আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন, সিয়াদাত? আপনি জানেন আপনি ঠিক কী বলছেন?আপনি হয়তো এটাকে কোনো বড়সড় মজাক ভেবে মজা করছেন।কিন্তু আপনার এই হীন মানসিকতার মজা আমার জন্য কতটা অপমানজনক, সেটা কি একবারও ভেবে দেখেছেন?বিধবা বলে যা নয় তাই করবেন আমার সাথে? দয়া করে আমার সরলতাকে আর দুর্বলতা ভেবে ভুল করবেন না।”

সুপ্রভা একটু থেমে ম্লান স্বরে বলে– “দয়া করে এই জঘন্য নাটকটা বন্ধ করুন। আমি আপনার এই পাগলামির অংশ হতে চাই না। সবার সামনে আমাকে এভাবে ছোট করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?”

সুপ্রভার কথায় পুরো হলরুমে নিস্তব্ধতা নেমে এলো।মোহনা শেখ বিস্ময়ে স্তম্ভিত। আর সিয়াদাত? সে বরাবরের মতোই অটল। তার ঠোঁটের কোণে সেই রহস্যময় হাসিটা আরও একটু চওড়া হলো। সে সুপ্রভার দিকে একটু ঝুঁকে যায়।
ধীরস্থির গলায় বলে, “আমি মোটেও মজা করছি না সুপ্রভা। আমি যা করি, তা ভেবেচিন্তেই করি।যা বলি ভেবেচিন্তে‌ই বলি।এখন তুমি সেটাকে অপমান বলো আর দুর্ভাগ্য বলো সত্যিটা এই যে, তুমি এখন আমার আইনত স্ত্রী।”

সিয়াদাতের এই শীতল উত্তরের পর সুপ্রভার মনে হলো, তার পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে যাচ্ছে। সে বুঝতে পারছে, এই মানুষটা মিথ্যে কথা বলছে না। সে সত্যিই কোনো এক সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের জালে তাকে আটকে ফেলেছে।

আর ভাবতে পারে না সুপ্রভা।সে তড়িঘড়ি হাতের উল্টো পিঠে চোখের জল মুছে নেয়। নির্ভীক চিত্তে বলে, “ তখন থেকে বলছেন আমি আপনার স্ত্রী। কিন্তু আমাদের তো বিয়ে হয়নি।বিয়ে ছাড়া একটা মেয়েকে স্ত্রী বলার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?”

সিয়াদাত ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে বলে, “ কে বলেছে আমাদের বিয়ে হয়নি?আজ থেকে বিশ দিন আগে আমাদের বিয়ে হয়েছে।”

সিয়াদাতের কথাটা সুপ্রভার মাথায় বজ্রপাতের মতো আছড়ে পড়ে। বিশ দিন? বিশ দিন ধরে সে সিয়াদাতের স্ত্রী! অথচ সে ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি! তার চারপাশে তখন পৃথিবীটা যেন ঘূর্ণাবর্তের মতো ঘুরপাক খাচ্ছে। আজ সকাল থেকেই একটার পর একটা ধাক্কা সামলাতে সামলাতে সুপ্রভার শরীর অবশ হয়ে এসেছে। একটার পর একটা চমক পেয়ে তার মনে হচ্ছে আজ যেন চমক ডে।তাকে আরো একবার চমকে দিতে সিয়াদাত তার হাতে একটা পেপার ধরিয়ে দেয়।তেরছা হেসে বলে–

“মনে পড়ে গত মাসের সেই অফিস এগ্রিমেন্টের কথা? সেদিন অফিসে তোমাকে একটা এগ্রিমেন্ট পেপারে সাইন করতে বলেছিলাম। প্রজেক্টের জরুরি কাগজ বলেছিলাম তোমাকে। তুমি তো বেশ সরল বিশ্বাসে না পড়েই সাইন করে দিলে।”

সিয়াদাত থামে না, বরং সুপ্রভার আরও কাছাকাছি এগিয়ে আসে।তার কানের কাছে মুখ লাগিয়ে ফিসফিস করে বলে, “ওটা কোনো অফিসের এগ্রিমেন্ট ছিল না সুপ্রভা। ওটা ছিল আমাদের ম্যারেজ রেজিস্ট্রি পেপার। সেদিন, ওই অফিসে, ওই টেবিলেই আইনত তুমি আমার স্ত্রী হয়ে গেছো। আজ শুধু তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলাম মাত্র।”

সিয়াদাতের কথায় বাক্যহারা হয় সুপ্রভা।সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রয়। অতর্কিতে সিয়াদাতের চোখে চোখ পড়তেই সিয়াদাত বাম চোখ টিপ দেয়। দুষ্টু হেসে বলে– “ ফাইনালি তুমি প্রফেসর শেখ সিয়াদাত শাহারিয়ার হয়ে গেলে লাল চমচম!”

চলবে??

® Nuzaifa Noon

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply