দ্যাব্ল্যাকমার্ক
লেখনীতেআশুও_নিশু
পর্বসংখ্যা_৮
★★★
সকলে খাবার খেতে টেবিলে বসেছে সবাই।তুবা আর আতিয়া দাঁড়িয়ে আছে, খাবার সার্ভ করার জন্যে। সকলে খাওয়া শুরু করার পরে নিশান আসে। খাবার টেবিলে থাকা দুই ভাইকে উদ্দেশ্য করে বলে,
“দেখ তো ড্রেস টাতে আমায় সুন্দর লাগছে কি না।”
নিশানের কথা শুনে নিহান এমন ভাবে তাকায় যেন কাছে কোথাও বাজ পরলো। নিশানের চোখে চোখ পরতেই নিশান একটু নড়ে চড়ে দাঁড়ায়। নিহানের দিক থেকে চোখ সরিয়ে নাহিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে,
“তুই বল কেমন লাগছে আমায়! সুন্দর লাগছে তো?”
নাহিয়ান সকালে ভাইয়ের কর্ম দেখে যতটা বিষ্মিত হয়েছিলো এখন ততোটা হলো না। তবে একেবারেই যে অবাক হলো না তেমন টাও নয়।
ভঙ্গিমা কিছুটা চেঞ্জ হয় নাহিয়ানের, সেভাবেই বলে,
—”ভালোই লাগছে কিন্তু তোমার হয়েছে টা কি বলো তো?”
নিশান চেয়ারে বসতে বসতে বলে,
—”ওসব বাদ দে আগে বল, কালকের থেকে আজ বেশি ফর্সা লাগছে না আমায়? সুন্দর হয়েছি কি একটুও?”
নিহান মাত্রই খাবার মুখে নিয়েছিলো, বড় ভাইয়ের কথায় সেটাও পেট পর্যন্ত না গিয়ে গলাতেই আটকে যায়। কেসে উঠে নিহান। নাহিয়ান সামনে রকখা গ্লাস এগিয়ে দিয়ে পিঠে জোরে জোরে থাপ্পড় মারতে লাগে। নিহান পানি খেয়ে ছোট ভাইকে বলে,
—”মারছিস কেন?”
নাহিয়ান গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলে,
—”মারবো কেন? খাবার ঠেকলে এমন করতে হয় জানো না?”
এদের তিন ভাইয়ের কাজ কর্ম দেখে তুবা ঠোঁ’ট টিপে হাসছে।
আতিয়া তা দেখে বলে,
—”এই মেয়ে হেসো না তো!”
খাবার খাওয়া শেষ করে যে যার যার মত কাজে চলে যায়। নিশান বাহিরে এসে নিজের গাড়ি বের করে নোভাকে কল দেয়।
নোভা কয়েকবার রিং হতেই কল রিসিভ করে। নিশান কি বলবে বুঝে পায় না। কল কেন করলো সেটাও বুঝতে পারে না। নিশানকে চুপ থাকতে দেখে নোভা নিজেই বলে,
—”হ্যালো স্যার, কিছু বলবেন?”
—”উমম হ্যা বলবো তো!”
—”জি স্যার বলেন।”
—”কি বলবো?”
—”আপনিই না কি যেন বলবেন বললেন!”
—”ওহ তাই তো!”
নিশান গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুড়াতে ঘুড়াতে ভাবে কি বলবে সে। এমন হুট করে কল করার জন্যে নিজেকেই নিজে কয়েকটা গালি দিতে ভুলে না মোটেও।
নোভা তাড়া দিয়ে বলে,
—”স্যার? বলবেন না?”
—”হ্যা হ্যা বলছি বলছি।”
তারপর কিছুটা থেমে বলে,
—”কি করছো?”
অপর পাশের নোভার ভ্রুদয় কুচকে যায়। ফাইল গোছানো হাত টাও থেমে যায়। হঠাৎ নিশানের এহেন প্রশ্ন নোভাবে ভাবতে বাধ্য করে। নোভা যখন ভাবনার জগতে তখনই নিশান ডাকে,
—”নোভা?”
নোভার ভাবনা ছুটে যায়, নিজেকে সামলে নিয়ে বলে,
—”ফাইল গোছাচ্ছি স্যার।
সৌজন্যতার খাতিরে বলে,
—”আপনি কি করছেন স্যার?”
—”অফিস যাচ্ছি।”
—”আচ্ছা তাহলে যান। কল রাখি!”
—”এই না না। কল কাটবা না।”
নোভা ভ্রু কুচকে বলে,
—”কেন স্যার?”
—”ওই আসলে… উমম.. আমার ভয় করছে তাই!”
নিশানের এমন কথায় নোভা জোরে হেসে দেয়। হাসি দিয়ে বলে,
—”স্যার আপনি ভয় পাচ্ছেন? তাও দিনে?”
নোভার হাসি শুনে নিশান বিরবির করে বলে,
—”হাসলে তোমায় কেমন লাগে? অপ্সরার মত বুঝি?”
—”জি স্যার? শুনতে পাইনি।”
নিশান কথা ঘুরিয়ে বলে,
—”মানে আমারে কেউ মনে হয় ফলো করছে। যদি হামলা করে দেয়? তাই জন্যে ভয় হচ্ছ।”
এবার নোভার হাসি উবে যায়। নিজের গাড়িতে উঠে বলে,
—”কি বলেন স্যার? আপনার লোকেশন সেন্ড করেন আমি আসছি।”
—”আসতে হবে না শুধু কল কেটো না তাহলেই হবে।”
—”ওকে স্যার”
★★★★
নাহিয়ানের কোন কাজ নেই। তার মতো সে ভভো করে ঘুরে বেড়ায় সব সময়। আজও বাসা থেকে বের হয়ে কিছুটা দূরে এসেছে। একটা লেকের পারে বসে আছে। এদিক সেদিক তাকাতেই দেখে। নিরিবিলি পরিবেশে হঠাৎ করে মায়ের কথা মনে পরে নাহিয়ানের। চোখ ভিজে উঠে।
তখনই ফোনটা ঝংকার করে বেজে উঠে। বিরক্ত হয় খুব নাহিয়ান। তারপরেও ফোনটা বের করে কানে ধরে। নিহান কল করেছে। কল রিসিভ হতেই একটানা বলে,
“আমি আজ আসতে পারবো না, তুবাকে ভার্সিটি থেকে নিয়ে আসিস।”
বলেই কল কেটে দেয়। নাহিয়ান বোঝে না তার ভাই তুবারে ভালোবাসে কিন্তু সেটা মানতে চাইনা কেন? সে তো তুবাকে ভাবি মানে।
উঠে গাড়ি নিয়ে তুবার ভার্সিটির দিকে যায় নাহিয়ান।
ভার্সিটির গেটে গাড়ি থামতেই এক মেয়ে হুড়মুড়িয়ে গাড়ির সামনে পরে। ভাগ্যিস গাড়ি থামিয়েছিলো নয়তো মেয়েটা তো একেবারে পিশে যেত। মেয়েটা পায়ে ব্যাথা পেয়েছে কিছুটা তাই তো চিল্লিয়ে বলে,
“এই ছেলে এই, আপনি কি চোখে দেখেন না?”
নাহিয়ান গাড়ি থেকে নেমে নিজেও রাগ দেখাতে চায় কিন্তু নেমে দেখে মেয়েটার পায়ে কিছুটা ছিলে গেছে তাই আর কিছু বলে না। নাহিয়ান না বললেও মেয়েটা ঠিকই বলে,
—”বড়লোকদের একটাই সমস্যা, আমাদের চোখেই পরে না তাদের।”
এবার নাহিয়ানের রাগ হয়। সরি বলতে চেয়েছিলো কিন্তু তা না বোলে বলে,
—”এই মেয়ে জানো না রাস্তায় গাড়ি আসবে? আর আমার গাড়ি তোমার সামনে না তুমিই গাড়ির সামনে এসেছো ইডিয়েট।”
মেয়েটা কিছু বলবে তার আগেই তুবা “তিশা, তিশা ” করে দৌঁড়ে আসে। এসে হাসপাতে হাপাতে বলে,
—”কি রেএখানে কি করিস?”
—”দেখ না, এই ছেলে আমারে গাড়ির নিচে ফেলতে লেগেছিলো।”
তুবা নাহিয়ানকে খেয়াল করে বলে,
—”আরেহ ভাইয়া আপনি?”
নাহিয়ানের বড় দুই ভাইকে তুবা স্যার বললেও নাহিয়ানকে ভাইয়া বলে, কারন নাহিয়ানের সাথে সে ভালোই কথা বার্তা বলে, মজা করে।
তুবাকে ভাইয়া বলতে দেখে তিশা বলে,
—”চিনিস এই ছেলেকে?”
—”হ্যা চিনি তো।”
তুবা ছেলেটাকে চেনে জন্যে তিশার রাগ দ্বিগুণ হয়। হনহন করে সেখান থেকে চলে যায়। নাহিয়ান তুবাবে বলে,
—”কে এটা?”
—”বান্ধবি।”
_”আচ্ছা, চলো ভাইয়া তোমায় নিয়ে যেতে বলেছে।”
—”আচ্ছা আল্লাহ হাফেজ তিশা।”
—”আল্লাহ হাফেজ।”
★★★★
বিকেল মানেই এক ধরনের প্রশান্তি—কখনো চায়ের কাপে গল্প, কখনো ছাদের কোণে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখা, আবার কখনো মাঠভরা খেলাধুলার হাসি।
তুবা ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে। আজ ছাদে কেমন অদ্ভুত বাতাস বইছে। সেই বাতাসে তার লম্বা চুলগুলো উড়ছে। দুপুরেও সে কিছু খায়নি। হঠাৎ পেছন থেকে গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো—
—“দুপুরে খাবার খাওনি কেন?”
তুবা বুঝে গেল, নিহান এসেছে। পেছনে না তাকিয়েই বলল—
—“এমনিই।”
তুবা চুপ করে রইল। নিহান ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। তুবা ঘুরে দাঁড়াল এবং বলল—
—“কাছে আসবেন না বলছি, একদম কাছে আসবেন না।”
নিহান বাঁকা হেসে বলল—
—“কেন? কাছে এলে কি বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে?”
তুবা আমতা আমতা করে বলল—
—“দেখুন, এটা ছাদ! সবসময় এসব ভালো লাগে না। সরুন তো।”
—“আমি নিজের মর্জিতে চলি, আপনার না।”
নিহান একদম কাছে চলে এলো। সে তুবার চেয়ে লম্বা হওয়ায় তুবার মুখ গিয়ে লাগল তার বুকে। তুবা আবার বলল,
—“ক..কাছে আসবেন না নিহান।”
নিহান ঠোঁট কামড়ে হেসে বলল—
—“উফ, এমন করো কেন? খেয়ে ফেলব নাকি তোমাকে?”
তুবা নরম কণ্ঠে বলল—
—“সরুন তো, কেউ চলে এলে ভুল বুঝবে।”
কিন্তু কে শোনে কার কথা। নিহান তুবার দু’হাত পেছনে চেপে ধরে তাকে কাছে টেনে নেয়। তুবা ছটফট করতে থাকে ছাড়ানোর জন্য। ঠিক সেই সময়ই নাহিয়ানের আগমন। সে এমন দৃশ্য দেখে কেশে ওঠে।
তুবা কিছু বলতে না পেরে দৌড়ে ছাদ থেকে নেমে যায়। নাহিয়ান মুখ চেপে হাসছে। নিহান বিরক্ত হয়ে “চ” শব্দ করে উঠল।
—“শালা, আর আসার টাইম পেলি না?”
নাহিয়ান হেসে বলল—
—“আমি তোমার শালা না ভাই। আর রোমান্স করতে হলে রুমে যেতে পারো না? ছাদে মানুষ রোমান্স করে?”
নিহান বলল—
—“চুপ, বেয়াদব।”
নাহিয়ান হাসি থামিয়ে বলল—
—“আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
—“কী সিদ্ধান্ত?”
—“আমি রাজনীতি করব, ভাইয়া।”
—“হুট করে বললেই হলো নাকি?”
—“সামনেই নির্বাচন কিন্তু।”
—“হুম, জানি। আমি নিশান ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে দেখব, রাতে অফিস থেকে এলে।”
—“আচ্ছা।”
★★★
নিহান ছাদ থেকে নেমে সরাসরি তুবার রুমে গেল। তাকে দেখে তুবা তাড়াহুড়ো করে বলল—
—“মানা করেছি শুনেননি? আবার কেন এসেছেন? আমার কাছে আসার চেষ্টা করবেন না।”
নিহান শান্ত গলায় বলল—
—“শোনো মেয়ে, আমি তোমাকে ভালোবাসি না, পছন্দও করি না। যা আছে, সবই শুধু…..।
বলতে গিয়েও থেমে যায় নিহান।তুবা বিস্ময়ে চোখ বড় করে তাকাল। তারপর বলল—
—“আপনার মতো চরিত্রহীনদের এসবই মানায়। অসভ্য লোক।”
নিহান কিছু বলল না। তুবা অবাক হয়ে গেল—ভেবেছিল দু-চারটা থাপ্পড় পড়বে, কিন্তু কিছুই হলো না।
নিহান গম্ভীর কণ্ঠে বলল—
—“কাল থেকে বোরকা পরে যাবে।”
—“পড়ব না। আমি বোরকা পরি না।”
—“আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করিনি, আদেশ করেছি।”
—“না, পরব না। আর আমার কাছে বোরকা বা হিজাব কিছুই নেই।”
—“আচ্ছা।”
নিহান তুবাকে প্রশ্ন করে,
—”ওই ছেলেটরা সাথে আজকে আর দেখা হয় নি তোমার?”
তুবা অবাক হয়ে বলে,
—”হঠাৎ? ওনার কথা কেন?আবার মা’রার জন্য বুঝি আমাকে?”
নিহান গম্ভীর কন্ঠে বলে,
—”একটা থাপ্পড় মারব স্টুপিড যেটা বলছি সেটার উত্তর দাও এতো কথা বলো কেন?”
তুবা চুপসে যায়।
—”হুম হয়েছিলো আজকে। খালি বলেছে কেমন আছো। আমিও জিজ্ঞেস করেছি সে কেমন আছে।
তারপর ক্লাস শুরু হয়ে যাবে যে তাই ক্লাসে চলে গেছিলাম।”
নিহান কিছু বলল না তুবাকে।বাইরের দিকে ফিসফিসিয়ে বলে,
—”তুই খুব বোকা ইফতিশাম জাওয়াদ। তুই জানিস না বুঝি আমি ওর কে।”
—”কিছু বললেন?”
—”উহু!”
চলবে_ইনশাআল্লাহ
(আসসালামু আলাইকুম। গল্পটা কেমন লাগছে আপনাদের?
২কে রিয়েক্ট হলে পরবর্তী পর্ব আসবে ইনশাআল্লাহ।ভালোবাসা সবাইকে।)❤️
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৩
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৬
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১০
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৭
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৪
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২০
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৫
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৮
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৩(প্রথমাংশ +শেষাংশ)