Golpo romantic golpo দ্যা ব্ল্যাক মার্ক

দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২


১৮+ ও নিশংসতা এলার্ট🚫

অফিস উদ্বোধন শেষে রাতে পার্টিতে গিয়েছে তিন ভাই। এরা তিন ভাই খুব বেশি ছোট বড় নয়। একজন আরেকজনার চেয়ে দুই বছরের বড় মাত্র। রাতের পার্টি মানেই নারী আর নেশাযুক্ত পানিও পান করা। ক্লাবের মধ্যে লাল, নীল, সবু ইত্যাদি হরেক রকমের বাতি জ্বলছে। সাথে রয়েছে ইংরেজি গান, যার তালে তালে কোমর নাচাচ্ছে কিছু নির্লজ্জ নারী, পুরুষ। নিহান একটার মেয়ের সাথে ডান্স করছে। এক হাতে সেই নারীর কোমর জোড়িয়ে ধরে আছে অন্যহাতে একটা ডিংক্সের গ্লাস। কিছু সময় নিহানের সাথে ডান্স করার পরে মেয়েটা নিহানের অর্ধ উন্মুক্ত শরিরে নিজের হাত স্লাইড করতে করতে বলে,

“বেইব চলো ভেতরে যাই। “

নিহান মুচকি হেসে হাতে থাকা গ্লাসের পুরা ডিংক্সটায় এক চুমুকে খেয়ে নেয়। মাথা নেরে বলে,

“ওকে বেইব চলো।”

নিহান মেয়েটার কোমর ধরেই হাটতে শুরু করে হোটেলের আগে থেকেি বুকিং করে রাখা রুমের দিকে।

~
নাহিয়ান বা’রে বসে বসে ডিংক্স পান করছে। নাহিয়ানকে একা একা বারে বসে থাকতে দেখে নিশান এহসান ভাইয়ের দিকে অগ্রসর হয়। কিন্তু নাহিয়ানের কাছে যাওয়ার আগেই একটা মেয়ে নাহিয়ানের গলা দিয়া হাত বুক পর্যন্ত পৌছে দিয়ে বলে,

“হ্যালো বেইব। ডান্স করবে?”

নাহিয়ান মেয়েটাকে একবার উপর থেকে নিচ পর্যন্ত পখর করে দেখে, মেয়েটার পরনে শর্ট টপ, স্কার্ট। টপ এতোটাই ছোট যে ভেতরের ইনার পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। মুখে এক গাদা মেকআপ। ঠোঁ’টে লাল টকটকা লিপস্টিক। হাতে ডিংক্সের গ্লাস।

নাহিয়ার এক গাল হেসে বলে,

“নিশ্চই! কেন নয়?”

মেয়েটার হাত ধরে নাহিয়ার উঠে চলে যায় সকলে যেখানে ডান্স করছে সেদিকে।

কিছুক্ষন ডান্স করে নাহিয়ানকে কোন শতর্ক বার্তা ছাড়ায় মেয়েটা কিস করে বসে। অকষ্মিত এহেন কান্ডে নাহিয়ান অবাক হলেও নিজেকে খুব জলদিই সামলে নেয়। নিজেও মেয়েটার সাথে রেসপন্স করতে থাকে। কিছুক্ষন পরে ছেড়ে দিয়ে মেয়েটা বলে,

“ভেতরে যাই? অন্য কিছুও লাগবে যে!”

“ওকে বেইব চলো।”

যাওয়ার সময় বার থেকে বি’য়ারের বোতল নিতে একদম ভোলে না।

রুমে গিয়ে মা’তা’ল অবস্থাতেই দরজা লাগায় নাহিয়ান। কি’স করতে থাকে মেয়েটাকে। মেয়েটাও সাত দিচ্ছে নাহিয়ানকে। নাহিয়ান মেয়েটাকে বেডের উপর ছিটকে ফেলে। তার উপর নিজেও উঠে বসে। দাঁত দিয়ে বি’য়া’রের বোতর খুলে কিছুটা ডিংক্স মেয়েটার গলার নিচে বুকের উপরের বিউটি স্পর্স্টটার উপর ফেলে। সেখানেই মুখ ডোবায় নাহিয়ান। মেয়েটা পরম আবেশে চোখ বন্ধ করে নেয়

~
নিহান মেয়েটাকে নিয়ে রুমে আসলে মেয়েটা বলে,

“আ’ম লিলি। আর কিছু বলার সময় নেই, চলো শুরু করি।”

নিহানকে আর কিছু বলতে হয় না। লিলি নিজেই নিহানের ঠোঁ’টে কিস করে। সাথে সাথে নিহানের ভ্রুদয় আপনা আপনি কুঁচকে যায়। লিলির মাথার পেছনে হাত দিয়ে চুল আকরে ধরে সাথে চোখ বন্ধ করে নেয়। সাথে সাথে কানে বেজে উঠে এক করুন রুদ্ধকর কন্ঠস্বর,

“দেখুন আমার কাছে আসবেন না। আমারে ছুঁবেন না। আমারে এনারা ঠকিয়েছে। আপনি এসব করবেন না।”

কন্ঠটা কানে আসতেই নিহানের চোখ এক ঝটকায় খুলে যায়। চোখ বড় বড় হয়ে যায়। লিলিকে নোংড়া বস্তুর ন্যায় সামনে ছুড়ে ফেলে। লিলি ফ্লোরে পরে হাতের কব্জিতে অসহনীয় ব্যাথা অনুভব করে। তারপরেও উঠে এসে নিহানের গলায় হাত দিয়ে বলে,

“কি হয়েছে বেইব? তুমি কি কিছু নিয়ে আপসেট? “

নিহান আবারও সজোরে ধাক্কা দিয়ে লিলিকে ফেলে দেয়। লিলি এবার বিরক্ত হয়। কড়া গলায় কিছু বলবে তার আগেই নিহান হুংকার ছেড়ে বলে,

“সাহস কি করে হয়? গেট আউট।”

লিলি চরম বিরক্ত হয়ে কিছু বলতে মুখ খুলতেই নিহান আবারও বলে,

“স্টোপপ, আই সেই গেট আউট।”

মেয়েটা নিজের পার্স নিয়ে নিহানকে বকতে বকতে রুম থেকে চলে যায়।
লিলি যেতেই নিহান ফ্রিজ থেকে এক বোতল বি’য়ার বের করে ঢোক ঢোক করে খেতে লাগে। কিন্তু একটু খেতে না খেতেই নিহানের সামনে ভেসে উঠে তুবা নামক সেই পতি’তার কথা। সেই কান্না, সেই চিৎকার করে বলা, আমাকে ছুবেন না।

নিহান অসহ্য হয়ে বি’য়া’রের বোতল ছুড়ে ফেলে। হাত দিয়ে দুই কান চেপে ধরে চিৎকার করে বলে,

“স্পোট ইট। আমি এটা শুনতে চাই না। স্টোপপপপ।”

হোটেল রুমের প্রতিটা কোনায় কোনায় প্রতিধ্বনিত হয় নিহানের কন্ঠ কিন্তু তুবার কন্ঠ থেকে নিহান রেহায় পায় না।


নিহান হোটেল থেকে বাসায় ফিরে আসে।তার মন থাকছে না।নিহানের বুকের বা পাশে চিনচিন ব্যাথা করছে।লাগছে কী যেন কী যেন নেই?নিজের মনের অস্হিরতা কিছুতেই থামছেনা।
নিহান মনে মনে বলে,
“আমার এমন লাগছে কেন?হুয়াই?কই কেনোদিন তো এমন লাগেনি আজ কেন এমন লাগছে?”

নিশান আর নাহিয়ান এখনো বাসায় ফিরেনি।নিহান একাই এসেছে। তার মনে যে শান্তি পাচ্ছেনা।নিহান মনপর অস্হিরতা কাটাতে শাওয়ার নিতে ঢুকে।লম্বা এক শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসে।কোমড় পর্যন্ত খালি টাওয়াল জড়ানো সারা শরীরজুড়ে আর কিছু নেই।এমনঅবস্থায় আয়নার সামনে দাড়ায় নিহান।গলায় সেই আঁচড়ের লাল হয়ে যাওয়া দা’গ।হঠাৎ কী মনে করে হাত বুলিয়ে দিল সেখানে।পরক্ষণে নিজের উপর একরাশ বিরক্ত প্রকাশ করল নিহান।

~~
তুবা বসে আছে খাটে।রিনা বেগম রুমে ঢুকে বলে,
“লোকটাকে নাকি তাড়িয়ে দিয়েছিস? “
তুবা নরম কন্ঠে বলে,
“আমি আজ পারবে না আমার পি’রিয়ড চলছে।”
রিনা বেগম রেগে বলে,
“নাটক করবি না একদম।যা বলছি তাই কর।”
তুবা এবার রেগে যায়।
“পারবো না বলেছি না?”
রিনা বেগম এবার থাপ্পড় মা’রে গালে।পরপর একটা, দুইটা না চার চারটা।তুবা মাটিতে বসে পড়ে, ঠোঁটের কোন বেয়ে র’ক্ত ঝড়ছে।রিনা বেগম চুলের মুঠি ধরে তুবাকে উঠিয়ে বলে,
“আমার কথা শুনবি না? বল শুনবি না?”

তুবা কান্না থামিয়ে বলে,

“প্লিজ আন্টি এমন করবেন না।আমার আজকে প্রথম দিন পি’রিয়ডের প্লিজ এমনটা করবেন না।আপনি তো আমার মার মতো বলুন।”

রিনা বেগম তুবাকে রেখে চলে যায়।আর কিছু বলে না।
রাগে কী করবে বুঝতে পারে না।তারপর লোকটাকে গিয়ে বলে,
“স্যার কালকে আসবেন পিলিচ,ছেড়িডা আইজকে অসুস্থ হয়ে গেছে।”
লোকটা চলে যায় রিনা বেগমের কথা মতো।তুবা জানালা দিয়ে দেখতে পায় যে লোকটা চলে গেছে।মনে মনে বলে,
“যাক,প্রথম প্ল্যান সাক্সেস এখন কালকে রাতে এখান থেকে পালিয়ে যাবো তারপর ঘটনা শেষ।”

তুবা বিছানায় শুয়ে শান্তিতে নিঃশ্বাস ফেলে। চোখদুটো আলতো করে বুঝে নেয়। মনে এক প্রকার শান্তি কাজ করছে তুবার।


**
নিশান একটা মেয়ের সাথে ডান্স শেষ করে বলে,

“চলো তোমায় বাড়ি পৌঁছে দেই।”

মাতাল মেয়েটাও তেমন কিছু বলে না। নিশানের সাথে ক্লাব থেকে বের হয়। নিশান বাহিরে এসে গাড়ি নিয়ে আসে পার্কিং থেকে। মেয়েটাকে গাড়িতে তুলে সে নিজেও উঠে। গাড়ি স্ট্রাট করে নাহিয়ানের নাম্বারে একটা ক্ষুদে বার্তা লেখে,

“আমি একটা শি’কার পেয়েছি। ওরে নিয়ে বাসায় যাচ্ছি বাকিটা তুই দেখে নিস।”

রাত অনেক হয়েছে যা করার দ্রুত করতে হবে তাই গাড়ির স্প্রিড বারায় নিশান।
শীতের মধ্যে প্রচণ্ড স্প্রিডে গাড়ি চালিয়ে এহসান মঞ্জিলে আসে। গেটের সামনে থেকে দাড়োয়ান গেট খুলে দিলে গাড়ি নিয়ে সোজা পার্কিং এড়িয়াতে চলে যায়।

গাড়ি পার্ক করে মেয়েটাকে নিয়ে রুমে চলে যায়। মেয়েটা তখনও বেহুস, ম’দ খেয়ে মা’তাল। নিশান একবার দেখে মেয়েটাকে তারপর কি যেন একটা ভেবে হালকা হাসে। পরপর বেহুস মেয়েটার সাথেই নিজের শা’রিরিক চা’হিদা পূরন করে।
মেয়েটা বুঝতেও পারে না হয়তো সে সব। নিজের চা’হিদা পূরন করে নিশান একটা ব্যাগ নিয়ে ওয়ারড্রবের কাছে যায়। সেখানে ছোট্ট একটা সুইচ চাপতেই ফ্লোর ভেটে একটা গুপ্ত ঘর বের হয়। সেই ঘরে মেয়েটাকে নিয়ে প্রবেশ করে।

উপরের বাড়ি থেকেও নিচের বাড়িটা হাজার গুন বেশি সুন্দর। রাজকিয় সব কিছু। বাতির আলোর কোন কমতি নেই।
সব কিছু উজ্জল তারার ন্যায়। এ যেন বিশাল সম্রাজ্য।
নিশান মেয়েটাকে একটা রুমে নিয়ে সিঙ্গেল বেডে সুইয়ে দেয়। তারপর মেয়েটার হাত পা বেডের সাথে বেধে নেয়।
মেয়েটা একটু নড়ে চড়ে উঠে। নিশান সে সবে পাত্তা না দিয়ে আলতো করে একটা ইনজেকশন দেয়। তারপর নিজের সাথে আনা ব্যাগ থেকে চা’কু জাতিয় সব কিছু বের করে মেয়েটার সকল অ’র্গান বের করে নেয়। মেয়ার মৃত্যু হয় কিন্তু কোন কাক পক্ষিও টের পায় না।
নিশান অর্গান গুলা নিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে আসে আর কয়েকটা ছেলেকে আদেশের সুরে বলে,

“এসব জঙ্গল পরিষ্কার কত দ্রুত।”

চলবে ইনশাআল্লাহ

দ্যাব্ল্যাকমার্ক

আশু_নিশু

পর্ব_২

মতামত জানাতে ভুলবেন না কিন্তু। হ্যাপি রিডিং

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply