দ্যাব্ল্যাকমার্ক
লেখনীতেআশুও_নিশু
পর্বসংখ্যা_১৬
দুপুর গড়িয়ে বিকালের হালকা আলো ধীরে ধীরে আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।সূর্য ঢলে পড়েছে। তার লালচে আভা চারদিকে চারপাশকে এক অদ্ভুত শান্ত আবরণে ঢেকে দিয়েছে। বাতাসে হালকা শীতলতা,মাঝে মাঝে দোল খেয়ে উঠছে গাছোর পাতাগুলো।বাগানের ফুলগুলোও যেন সেই বিকেলের আলোয় আরো রঙিন হয়ে উঠেছে।
নিহান রুমের বেলকনিতে বসে আছে।মুখটা সবসময়ের মতো গম্ভীর করে রেখেছে।মনে হাজারো রাগ।কিছুক্ষণ পর বিড়বিড় করে আওড়ায়,
“তুমি এত বোকা কেন?আমার মতো একটা মানুষকে তুমি বিশ্বাস ও করতে শুনতেই অবাক লাগল।এতো বোকা হলে দুনিয়ায় চলবে কীভাবে সে?না এমন হলে তো আর হবেনা।”
বলেই নিহান উঠে দাঁড়ায়।মনে মনে অন্য ছক কষছে যে সে।
★★★
নিশান বাড়ি ফিরেছে কিছুক্ষণ হয়েছে।লিভিংরুমে বসে ফোনে কথা বলছে।নোভা এসে নিশানের সামনে বসল।
নিশান তা দেখে ফোন রেখে দিল।নোভা পায়ের উপর পা তুলে বসে।নিশান বাঁকা হাসল।বিড়বিড় করে বলে,
“আমার সাথে চালাকি?নিশান এহসানের সাথে চালাকি করে যদি জিততে পারো তাহলে নিশান এহসান সেইিদন ই পৃথিবী থেকে বিদায় নিবে চিরতরে।”
কিছুক্ষণ পর নোভাকে বলে,
“কিছু বলবে?”
“হুম।”
“বলো সময় নেই বেশি।”
“আপনি আমাকে বিয়ে করবেন?”
নিশান ভ্রু কুঁচকালো।
“কেনো?”
“তাহলে এনেছেন কেনো?”
“প্রয়োজন মেটাতে।”
“লু’চ্চা কেথাকার।”
নিশান চোখ টিপে মেরে বলে,
“শুধু তোমার জন্য। “
“এই খেলায় আমি জিতব।”
“তুমি কোন খেলার কথা বলছো জানিনা কিন্তু বিছানায় যে খেলাটা হবে সেটাতে আমি জিতব।এটাই তো আসল।”
নোভা চোখগুলা বড় বড় করল।এই পুরুষের সাথে কথা বলতে আসাটাই তার ভুল!কথার জালে এমনভাবে ফাঁসাচ্ছে যে নোভা আঁটকে যাচ্ছে।নোভা থতমত খেলো কিছুটা। তারপরও নিজেকে ঠিক রেখে বলে,
“দেখা যাবে আপনি এটাকে আসল বললেও আসল তো আরেকটা খেলা।”
“আমি তোমার থেকে লেকচার শুনতে বসিনি এখানে।যদি ফালতু কথা বলার থাকে তো এখান থেকে যাও।”
“আমার আসল কথা আপনি যদি বিয়ে না করেন আমাকে তাহলে আমি আহির কে বিয়ে করব।”
নিশান তাকাল নোভার দিকে কিন্তু এই তাকানোতে ঘিরে আছে রাগ,জেদ,অভিমান সবকিছু।কিন্তু নোভা বুঝতে পারল না নিশানের চোখের ভাষা।নিশান দাড়িয়ে নোভার কাছে এসে ঝুঁকে পড়ল।এক হাত বাড়িয়ে নোভার গাল চেপে ধরল আরেক হাত দিয়ে গলা।নোভার যেনো প্রাণ বেরিয়ে যাবে।চোখের কোনে সাথে সাথে যেনো জল জমে গিয়েছে।নিশান তাও গলা আর গাল ছাড়ল না।নোভা দুহাত দিয়ে প্রাণপণে চেষ্টা করছে ছাড়ানোর কিন্তু নিশানের কাছে সে কিছুই নয়।
আতিয়া বেগম রান্নাঘর থেকে দৌড়ে আসে এসব দেখে।নিশানকে থামানোর চেষ্টা করতে করতে একপর্যায়ে নিশান ছেড়ে দেয়।নোভা কাশতে কাশতে শেষ হয়ে যাচ্ছে। নিশান গর্জে উঠে বলে,
“থামালেন কেন আপনি আমাকে?হাউ ডেয়ার ইউ?”
“ও তো ম*রে যেত।”
“যাক মরে!ও মরবে নাকি বাঁচবে সেটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আপনি কে?”
আতিয়া বেগম মাথা নিচু করে ফেলল।নেবা এখন ও কাশছে।ডাইনিং এ গিয়ে ঢকঢক করে এক গ্লাস পানি খেল।আতিয়া বেগম মাথা নামিয়ে রান্নাঘরে চলে যায়।নোভা ডাইনিং এর চেয়ারে বসে লম্বা লম্বা শ্বাস নেয়।নিশান নেভার কাছে আসে।
“বিয়ে করবি আহির কে?বউ হবি ওর?হবি বউ হবি ওর?ওকে ছুঁবি?
নিশান জোড়ে হেসে উঠে।আর বলে,
এই জন্মে যদি এই ইচ্ছেগুলো করে থাকিস তাহলে তোর লা*শ দাফন করতেও আমি এক সেকেন্ড ভাবব না।মাইন্ড ইট!
বলেই হনহনিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে য়ায়।নোভা গোল গোল চোখ করে রেখেছে। আর ভাবছে লোকটা তো দিনদিন আরো সাংঘাতিক রুপ নিচ্ছে।
★★★
তুবা নিজের রুমে বসে বসে কাপড় গোছাচ্ছে।মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে আছে যেনো কতদিন কিছু খায়না।সত্যিই তো সে সকাল থেকে এখন ও এক দানা কিছুই খায়নি।এসব ভাবতে ভাবতে চোখের কোণে জলজল করে উঠল।
হঠাৎ দরজায় নক করে। টক টক!তুবা দরজার দিকে তাকায়।কিছুক্ষণ পর নিজেকে ঠিক রেখে দরজা খুলে দেয়।দেখে নিহান দাড়িয়ে আছে।পরণে সাদা গেন্জি আর ট্রাউজার, চুলগুলো এলোমেলো।হাতে কয়েকটা কাগজ।তুবা একটু ইতস্তত হলো। নিহান গম্ভীর আওয়াজে বলে,
—” ভেতরে ঢুকো।”
তুবা এক শব্দ ও করল না।কিন্তু ভেতরে ঢুকে পড়ল।নিহান ও পেছন পেছন ভেতের ঢুকল।তারপর দরজা লক করে দেয়।তুবা একটু ভয় পায় কিন্তু চেহারায় সেটা ফুটিয়ে তুলে না।নিহানের মুখটা দেখতে তার বিরক্ত লাগছে এখন!
নিহান সোফায় বসল।হাতে থাকা কাগজগুলো দাড়িয়ে তাকা তুবার দিকে এগিয়ে দেয়।
—”এগুলোতে সাইন করো।”
তুবা হালকা ভ্রু কুঁচকে শান্ত স্বরে বলে,
—”এগুলো কি?”
নিহান ঠান্ডা গলায় বলে,
—”কনট্রাক্ট।”
—”কীসের কনট্রাক্ট?”
নিহান এবার সরাসরি তুবার চোখের দিকে তাকায়।
—”তুমি এই বাড়িতে আমার রুলস মেনে।”
নিহান বাকিটা না বলেই থেমে যায়।তুবা স্তব্ধ হয়ে যায়।তারপর ধীরে বলে,
—”না মানলে?”
নিহানের ঠোঁটে হালকা বাকা হাসি ফুটে উঠে।
—”তাহলে যেখান থেকেই এসেছো সেখানেই রেখে আসব।”
তুবার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে।সে কাগজগুলোর দিকে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকল।
—”আপনি খুব নিষ্ঠুর মানুষ। এই পৃথিবীর সবচেয়ে যদি কেউ নিষ্ঠুর হয়ে থাকে তাহলে সেটা আপনি।”
নিহানের চোখ অন্যরকম ঝলক দেখা দেয়।পরক্ষণেই আবার আগের মতো ঠান্ডা গলায় বলে,
—”আমি যেমন..তেমনিই।”
তুবার মাথায় তখন অন্যকিছু চলছে।এখান থেকে আবার অবস্থানে ফিরে গেলে তার জীবনটা নরকে পরিণত হবে যদিও এখন ও নরকের মতই লাগছে কিন্তু তখন তো। এসব ভাবতে ভাবতে হাতে কাগজ তুলে নেয়।নিহানের অধরে বাঁকা হাসি ফুটে উঠল আবারও।কিন্তু তুবা সেটা খেয়াল করল না।
তুবা হাতে কলম তুলে নেয়।চোখগুলো ঝাপসা হয়ে উঠছে। সাইন করার আগ-মুহুর্তে নিহানকে বলল,
—”একদিন..আপনি নিজেই আপনার কথাগুলোর জন্য আফসোস করবেন।”
নিহান গম্ভীর আওয়াজে বলে,
—”নিহান এহসান কখনো আফসোস করেনা।”
তুবা আর কিছু বলল না।নিহানের সাথে কথা বলাই তার কাছে ঝামেলার।কাঁপা কাঁপা হাত দিয়ে সাইন করল। সাইন শেষে নিহানের সামনে কাগজ রাখে।নিহান আর এক সেকেন্ড ও বসল না।কাগজ নিয়ে তাড়াতাড়ি চলে গেল রুম থেকে।তুবা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।
—”আপনি খুব খারাপ নিহান। খুব খারাপ।”
★★★
নাহিয়ান ছাদে বসে একেরপর এক সিগারেট খেয়েই চলেছে।
থামার নাম নেই তার আর!ছাদ তার সবচেয়ে প্রিয় আজ অবসর সময় ছাদে বসেই কাটাচ্ছে।রাত হলেই তো আবার কানাডার ফ্লাইট।সিগারেট আরেকটা শেষ হতেই প্যাকপট থেকে আরেকটা বের করে। হঠাৎ আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল সে,
” সৃষ্টিকর্তা আমার নূরপরীর সাথে একটাবার দেখা করিয়ে দাও একটাবার দেখা করিয়ে দাও না।তাকে আমি হারিয়ে ফেললাম কীভাবে?কীভাবে তাকে হারিয়ে ফেললাম?আমার জীবনের প্রথম ভালোবাসা আমার প্রাণনেশা কে আমার থেকে কেথায় নিয়ে গেলে?তার শূন্যতা আমি কীভাবে বুঝাবো?তাকে ছাড়া প্রত্যেকটা সেকেন্ড এক বছরের মতো মনে হয়।আজ চারটা বছর সে আমার কাছে নেই!আমার ভালোবাসা আমার কাছে নেই।অন্যকারো ভালোবাসা পেয়ে আমাকে ভুলে গেছে হয়তো এতদিনে।আমার মনে তো কেনোদিন সে ছাড়া আর কেও আসেই নি তাকে আমি কথাটা বুঝাতেই পারলামনা।তার আগেই হারিয়ে গেলো।
শুনেছি পুরুষ মানুষ নাকি সহজে কাঁদে না অথচ তাকে পাওয়ার লোভে ধ্বংস হয়ে হাজারোবার কেঁদেছি নিজের জীবনকে ধ্বংস করেছি।”
নাহিয়ান মুচকি হাসে যেনো কষ্টটাকে ভুলাতে চাইছে কিন্তু তা কি আর কখনো সম্ভব হবে?মনে হাজারো হাজারো অনুভূতি যাকে নিয়ে সেই তাকে কীভাবে ভোলা যায়??
★★★
নোভা আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজের কোমর সমান চুলগুলো আঁচড়াচ্ছে।চুল আঁচড়ালেও তার মনযোগ কোন দিকে সে নিজেও বুঝছেনা।বাবা মার কথা ভীষণ মনে পড়ছে। মনে পড়লেই বা কি?শয়তানটা তো তাকে আর যেতে দিবেনা আজ রাতে নাকি আবার কানাডায় যাবে তাকে নিয়ে তাও।এসব ভাবতে ভাবতে ভাবতে হাত থেকে চিরুনিটা পরে যায়।নোভা চিরুনিতা উঠাতে নিলে দেখতে পেল খাটের নিচে একটা কাগজ। নোভা খাটের নিচে থেকে কাগজটা হাতে তুলে নেয়।কাগজে কয়েকজনের নাম লেখা সবার মাঝখানে “ইমতিয়াজ শেখ” নামটিও লেখা।নোভা ভ্রু কুঁচকালো। তার বাবার নাম এখানে কেই বা লিখল?আর সবার শেষে আহির নামটাও লেখানো।নোভা বিড়বিড় করে বলে,
—”আমার সন্দেহ কি ঠিক?কিছুই তো বুঝতেছিনা।”
হঠাৎ পেছন থেকে নোভার হাতের কাগজটা টান মেরে নিয়ে নেয় নিশান।নেবা হচকচিয়ে পেছনে তাকায়।নিশানের চোক মুকে গম্ভীরতা আর কিছুক্ষণ আগের ঘটনার জন্য সে হালকা ভয় পেল।নিশান গম্ভীর কন্ঠে বলে,
—”কি দেখছিলে?লাভ লেটার বুঝি?”
—”নাহ্!খাটের নিচে কাগজটা পেয়েছিলাম।”
নিশান আর কথা বাড়ালো না। কাগজটা হাতের মুঠোয় নিয়ে মুচড়াতে মুচড়াতে বিছানায় চলে গেল।নোভা ফিসফিসয়ে বলে,
—”শা’লা বজ্জাতের হাড্ডি।”
নিশান বিছানায় বসে আদেশের সুরে বলে,
—”এক কাপ কফি এনে দাও।”
—”কেনো?আপনার কি আমাকে চাকরানী লাগে যে কপই বানাবো?”
—”এমন ভাব করছো যেন আম্বানির মেয়ে তুমি।”
—”আমার বাবা আম্বানি থেকে কম কিছু না!”
—”তাই বুঝি?”
—”আপনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছি না আমি।”
বলেই নোভা বাইরে চলে যায়।নিশান নোভার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে বাঁকা হাসি দিল।
চলবে
(একন থেকে রেগুলার গল্প দিবো ইনশাআল্লাহ। কেউ রাগ করবেন না🥹১০০০+শব্দের পর্ব এটা)
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৫ এর সকল পর্ব
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৯
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৭
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক গল্পের লিংক
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৯
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১০
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৩(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৮