Golpo romantic golpo দ্যা ব্ল্যাক মার্ক

দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১২


দ্যাব্ল্যাকমার্ক

লেখনীতেআশুও_নিশু

পর্বসংখ্যা_১২

নিরা খাতুন নিশানের দিকে রাগী ভাবে তাকিয়ে বলে,

—”ফালতু কথা বলার জায়গা পাও না?”

নিশান ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,

—”ফালতু কথা বলার জন্য ফালতু জায়গা লাগে তাই ফালতু জায়গায় এসেছি।”

মহিলাটি নিশানকে উদ্দেশ্য করে বলে,

—”এই ছেলে কথা নাই বার্তা নাই কোথা থেকে এসে এসব বলছো।”

নিশান চেয়ার টেনে সবার সামনে পা এর উপর পা তুলে বসে।মহিলাটি কে বলে,

—”তো আপনার হবু বউমা কোথায়?”

মহিলাটি বিরক্ত কন্ঠে বলে,

—”আমার বউমার কথা জেনে তুমি কি করবে?”

—”আপনার বউমা তো আমার বউ।”

লিভিংরুমে বসা সবার মুখ হা হয়ে গেল।কী বলছে এই ছেলে।নিরা খাতুন কর্কশ কন্ঠে বলে,

—”নিশান তুমি কিন্তু তোমার লিমিট ক্রস করছো।”

নিশান অট্টহাসি দেয় আর বলে,
—”নিশানের জন্য লিমিট বানাবে এমন কোনো বান্দা দুনিয়াতে তৈরিই তো হয় নাই শাশুমা।”

নিরা খাতুন চোখ গোল গোল করে তাকাল নিশানের দিকে।
নিরা খাতুন কে আবারো বলে,

—”আপনার মেয়ে কই?”

—”তোমাকে বলতে তো আমি বাধ্য নয়।”

নিহান ফিসফিস করে বলে,

—”দেখুন নিজের ভালো নিজেই বুঝে নিতে হয় শাশুমা।এখন যদি আমার মুখ থেকে কিছু বের হয় তাহলে পালাবার পথ পাবেন না।”

—”ও আলাদাভাবে কথা বলতে গেছে আহিরের সাথে।”

—”ওয়াও ইন্টারেস্টিং। তো কোথায় গিয়েছে?”

নিশান বলতে বলতে আহির আর নোভাকে আসতে দেখা যায়।নোভার পড়নে লাল খৈয়রী রঙের একটা শাড়ি।ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক, চোখে কাজল ঠোঁটের নিচের কালো কুচকুচে তিলটা যেনো সৌন্দর্যকে আরো ফুটিয়ে তুলেছে।নিশান পকেটে থাকা হাত মুষ্টিবদ্ধ করল।নোভা গোল গোল চোখ করে তাকাল নিশানের দিকে।নোভা যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে।নিশান এখানে কেনো?তার কাজ কিই বা এখানে।
হাজারো প্রশ্ন মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। আহির নিশানের দিকে রাগী চোখে তাকাল।আহির একটু রেগে বলে,

—”কেনো এসেছিস এখানে?”

—”দেনাপাওনা উশুল করতে।”

নিশান চেয়ার টেনে আহিরকে উদ্দেশ্য করে বলে,

—”এদিকে বস।”

নিশান ঘরভর্তি মানুষের চিল্লিয়ে বলে,

—”এইযে এই মেয়েটাকে দেখছেন না?আপনাদের কারো হবু বউ,কারো বউমা,কারো ভাবী।এখন আপনারা কি এটা জানেন মেয়েটা কতটুকু ভালো?

নোভা এবার চোখ তুলে তাকালো নিশানের দিকে।বিরক্ততে তার গা সহ জ্ব’লছে যেনো।নিশান দাড়িয়ে বলে,

—”ও আমার সাথে কালকেও বাসর সেরেছে। তার আগেও অনেক বার আমাদের মধ্যে ওইসব হয়েছে।আমার এখন ও ওইসব করতে মন চাচ্ছে। এখন আপনারা মুরুব্বি মানুষ যদি অনুমতি দিতেন আমি এখন ও করতল পারি।মনটা আনচান আনচান করছে।”

সবাই মুখ হা করে নিশানের দিকে তাকাল।আহিরের মা তানিয়া বেগম নিরা খাতুন কে বলে,

—”আপা এসব কি বলছে ও এসব কি সত্যি? “

নোভার বাবা রায়হান শেখ উচ্চস্বরে নিশান কে বলে,
—”এখান থেকে বেরিয়ে যাও নিশান।তুমি যদি বের না হও তাহলে আমি ভুলে যাবো যে তুমি আমার ভাইয়ের ছেলে।

নোভা অবাক দৃষ্টিতে তাকাল বাবার দিকে।তার চাচাতো ভাই নিশান?নিশান ঘাড় কাত করে রায়হান শেখের দিকে তাকাল।ঠোঁটকে বাকিয়ে একটা হাসি দিল।নিশান সমান তালে রায়হান শেখকে বলে,

—”আমিও বলে দিচ্ছি এই বিয়েটা যদি হয় আপনিও মরবেন,আপনার স্ত্রী ও মরবে আর আহির সহ আহিরের পুরো পরিবারের লা*শ যাবে এখান থেকে।আমি কতটা নিচে নামতে পারি তার কোনো সীমানা নেই।

আহির উঠে দাড়িয়ে নিশানের শার্টের কলার ধরে বলে,
—”কী বললি?আমাদের মা*রবি?এই বিয়েটা হতে দিবি না?”

নিশান হাত দিয়ে আহিরের নাকে একটা ঘুষি মারে তৎক্ষণাৎ নাক দিয়ে গলগল করে র*ক্ত পড়তে থাকে।আহির শার্টের কলার ছেড়ে নাকে হাত দেয়।আহিরের মা এসে বলে,

—”এই ছেলে এখানে এসে মাস্তানি করছো?”

নিশান রেগে বলে,

—”আপনার ছেলেকে বলবেন নিজের লিমিট এ থাকতে।”

—”তুই তোর লিমিটে থাক। আমার বউকে আমি বিয়ে করব যা ইচ্ছে তাই করব।”

এই বলেই পাশে দাড়িয়ে থাকা নোভার কাছে গিয়েই গালে একটা চুমু খায়।আহির আবার চুমু দিতেই যাবে তখনিই নিশান আহিরের হাতনধরে টেনে এনে বলে,
—”কী করলি এখন?কী করলি এখন বাস্টার্ড। “

বলেই গালে দুইটা থাপ্পড় মারে এমনভাবে যে ঠোঁটের কোণ থেকে র*ক্ত পড়তে থাকে।রায়হান শেখ আর নিরা খাতুন মিলেও থামাতে পারছে না তাকে।অনবরত মেরেই চলেছে।

নোভা পাশ থেকে নিশানের সামনে এসে ডান গালে একটা থাপ্পড় মারে।যদিও নোভার নরম হাত দিয়ে নিশান ব্যাথা টুকুও পায়নি তাও রাগী চোখে তাকাল নোভার দিকে।আর কিছু না বলে নোভাকে কোলে করে নিয়ে শলে এল গাড়িতে।নোভা কী বলবে নিজেই জনােনা ইচ্ছে করছে আরো দুইটা থাপ্পড় দিতে।নিশান গাড়ির সামনে গিয়ে নোভাকে কোল থেকে নামায়।নোভা হাত দিয়ে আরেকটা থাপ্পড় মারতে যাচ্ছিল কিন্তু নিশান শক্ত করে হাত ধরে ফেলে।নোভা রাগে গজগজ করতে করতে বলে,

—”আমার বিয়ে কে ভেসতে দিতে এসেছেন।বেয়াদব, লম্পট।

নিশান দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
—”মানলাম আমি খারাপ তুই তো ভালো তাইনা?চুমু খেলো তাতে তো কিছু বলতে পারলি না ছেলেটাকে খুব ভালো লেগেছে না?”

নোভা বিরক্ত হয়ে বলে,
—”আমাকে ছাড়ুন বাসায় যাবো।”

নিশান রাগে কিড়মিড় করতে করতে বলে,

—”তুই আমার বাসায় চল আগে তারপর তোকে এমন অবস্থা করব পরে যদি আর কোনো জন্ম হয়ে থাকে সে জন্মেও ভুলতে পারবি না।”

নিশান গাড়ির দরজা খুলে নোভা কে জোরজবস্তি ঢুকিয়ে দেই নিজেও ঢুকে বসে।
★★★★
তুবা বসে আছে নিজের বিছানায়।বুকের বা পাশে যেনো চিনচিন ব্যাথা করছে।নিহান প্রবেশ করে তুবার রুমে হাতে স্যুপ।তুবা দেখে চোখ অন্যদিকে ফিরিয়েছে।নিহান ধীরে বলে,

—”ভালো লাগছে এখন?”

—”হুম।”

—”আমার রুমে আসো।”

—”প্রয়োজন নেই।

নিহান কিছু বলল না।স্যুপ বিছানায় রেখে বলে,

—”খাইয়ে দেবো নাকি নিজেই খেতে পারবে।”

তুবা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে,

—”পারব।”

নিহান পাশের চেয়ারে গিয়ে বসল।তুবা মাথা তুলে
তাকালো। নিহান গম্ভীর কন্ঠে বলে,

—”খেয়ে নাও তাড়াতাড়ি।”

তুবা এক চামচ মুখে দিতেই বমি করে ফেলে দিল সব।নিহান চেয়ার থেকে উঠে এসে তুবাকে বলে,

—”আমার রুমে আসো এগুলো পরিষ্কার করে দিক আতিয়া।”

—”আমি নিজে পরিষ্কার করতে পারব।”

—”লাগবে না আসো আমার রুমে।”

তুবা ধীরে বিছানা থেকে নেমে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।নিহান ও তুবার পেছন পেছন চলে যায়।নিহান রুমে ঢুকে তুবাকে বলে,

—”কী হয়েছে? খারাপ লাগছে বেশি?”

—”এক কথা কইবার জিজ্ঞেস করবেন?রাত হয়েছে আমি ঘুমাবো।”

নিহান তুবার দিকে শান্ত চোখে তাকায়।মুখটা কি শুকিয়ে গেছে।গাল আরো লাল হয়ে গেছে।শান্ত স্বরে বলে,

—”আচ্ছা শুয়ে পড়ো।”

তুবা কম্ফোর্ট গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়ে।নিহান তুবার পায়ের কাছে বসে পড়ে।

★★★★★
নিশান গাড়ি চালাচ্ছে ফুল স্পিডে।এখানে নোভার হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে। এতো দ্রুত গতিতে নিশান গাড়ি চালাচ্ছে যে নোভার মাথা চক্কর দিয়ে উঠছে বারবার।নোভা কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলে,

—”স্যার প্লিজ আমাকে বাসায় দিয়ে আসুন।”

নিশান চোখ রাঙিয়ে তাকায়।

—”কেনো?ওই ভাতারের কাছে যাবি নাকি?”

—”আমি বাসায় যাবো।বাসায় দিয়ে আসুন না।”

নোভা এসব বলতে নলতে গাড়ি থামে এহসান বাড়ির সামনে নিশান দ্রুত নেমে অপর পাশের দরজা খুলে নোভাকে বের করে।নোভা কাঁদতে কাঁদতে বলে,

—”আমি আপনার কী ক্ষতি করেছি?আমি যাবো না ছেড়ে দিন আমাকে।”

—”তুমি যদি এখন না যাও আমি কোলে করে নিয়ে যাবো।”

চলবে???

(জানিনা কেমন হয়ছে ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আাশা করি।ভালোবাসা সবাইকে)💙

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply