#তোমাতেই_আসক্ত
#পর্ব:৫৬
#তানিশা সুলতানা
আরিফ কল করেছে আদ্রিতাকে। তিথিকেও কল করেছিলো। দুজনের বক্তব্য মিলেনি। তিথি বলেছে ওরা থাইল্যান্ড যাচ্ছে আর আদ্রিতা বলেছে মালদ্বীপ যাচ্ছে। এখানেই গন্ডগোল লেগে গিয়েছে আরিফের মনে। সে এই মুহূর্তে আদ্রিতার সঙ্গে দেখা করতে চাচ্ছে।
কিন্তু ওরা ইতিমধ্যে এয়ারপোর্টে চলে এসেছে। আর মাত্র 30 মিনিট পরেই ফ্ল্যাট। এখন আদ্রিতার জন্য কোনো গন্ডগোল হলে আবরার ওকে রেখে চলে যাবে। সেই জন্য কথা বলে বাবাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালাচ্ছে মেয়েটা।
এবং মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ করছে।
ওই তো খানিকটা দূরে বসে আছে আবরার। তার পাশে একটা মেয়ে দাঁড়ানো। এই মেয়েটাকে আদ্রিতা চেনে। ইনস্টাগ্রামে বেশ কয়েকবার দেখেছে। সম্ভবত চায়নার কোনো মডেল বা অভিনেতা। তবে সমস্যা হচ্ছে মেয়েটা অত্যাধিক সুন্দরী। সাদা রঙের একটা জামা পড়েছে তাতে মেয়েটার সৌন্দর্যের দিকে গুণ বেড়ে গেছে। হাসলে ঠোঁটের বাম পাশে একটু টোল পড়ে। চোখ ফেরানো দায়।
আদ্রিতা বুঝে গিয়েছে এই মেয়েটা অসম্ভব ভালোবাসে আবরার তাসনিনকে। এবং তাকে পাওয়ার জন্য সবকিছু করতে পারে।
এই মুহূর্তে কোনো একটা বিষয় নিয়ে আবরার এর সাথে আলোচনা করছে।
সুন্দর হাত দুটো নাড়িয়ে নাড়িয়ে অনবরত বকবক করেই চলেছে। আবরার কখনো মাথা নাড়াচ্ছে বা কখনো হুম হ্যাঁ বলে জবাব দিচ্ছে।
এই বিষয়টা সহ্য হচ্ছে না আদ্রিতা।
তর তর করে রাগ বেড়ে যাচ্ছে।
“আব্বু আমি বলছি তো মালদ্বীপ যাচ্ছে। পৌঁছে ভিডিও কল করব। তিথি কি বোঝে?
সুন্দর হলেই কি হয় নাকি?
তিথি একটা পাগল ওর মাথায় কোনো ঘিলু নেই। ঘিলু থাকলে কি আর অন্যের পার্সোনাল মানুষের সাথে এভাবে চিপকে থাকতে পারতো?
কল রাখো।
৩০ মিনিট পরে আমার ফ্লাইট।
বলেই ঠাস করে কল কাটলো। আবরার ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে আদ্রিতার মুখপানে।
কথাগুলো যে ইয়াং ইউকে উদ্দেশ্য করে বলেছে সেটা ভালোই বুঝতে পারলো।
আদ্রিতা ফোন খানা পকেটে পুরতে পুরতে এগিয়ে আসলো। এবং আবরারোর গা ঘেষে বসে। আড়ালে মৃদু হাসলো আবরার। ইয়াং ইউ এর মুখ বন্ধ হয়ে গেলো। সে এবার তারা দিয়ে বলে ওঠে
“আমাদের এবার যাওয়া উচিত।
ফ্লাইটের সময় হয়ে গিয়েছে।
বলেই নিজের লাগেজ এবং হ্যান্ড ব্যাগ হাতে নিয়ে বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে যেতে থাকে।
আদ্রিতা আবরারের কানে কানে বলল
“এই মেয়েটা আমাদের সাথে যাবে নাকি?
আবরার জবাব দিল না। সিয়াম আমান আহাদ ইভান এবং চলে আসলো। ওরা মূলত খেতে গিয়েছিলো। এ্যানি আমানের কোলে।
এয়ারপোর্টে মানুষের প্রচুর ভিড়াভিড় দেখে সিয়াম এক খানা কবিতা বানিয়ে ফেলেছে।
” মানুষ তোমরা গোসল করিস
মাখিও পারফিউম বেশি করে
ঘামের গন্ধে না ঝলসে যায়
মন চায় ম/রে যেতে
ইভান বলে
“ভাই বাংলাদেশের এয়ারপোর্টের মানুষদের সাথেই যদি ঘামের গন্ধ থাকে তাহলে কাঁচা বাজারের কি অবস্থা?
আহাদ বলে
” আহহহহ
বাংলাদেশের মেয়েদের সাথে চন্দন কাঠের গন্ধ।
ভাই নাক ঝলসে যায়।
আমান বলে
“তুই বুঝলি কেমনে?
” আরেহহ বার্গার কিনতে গেলাম না? তখন আমার পাশে এসে একজন দাঁড়িয়েছিলো।
ভাইরে ভাই
কি সুন্দর মেয়ে। আমি প্রেমে পড়ে গেছি।।
সিয়াম এক খানা কবিতা বলে উঠলো
“পড়িও না নারীর প্রেমে
করিও না ভুল
নারী হইলো কালনাগিনী
সর্বনাশের মূল
সিয়ামের কোলে থাকা এ্যানি মিউ মিউ আওয়াজ তুললো। মানে বলছে “ঠিক বলেছে”
এ্যানির মিউ মিউ এর ভাষা আর কেউ বুঝতে না পারলেও সিয়াম বুঝলো। সে ঠাসস করে গালে কয়েকটা চুমু খেয়ে বললো
“তুই ছাড়া এই পৃথিবীতে আমার আর কেই নেই রে।
তখনই আহাদ আরেকটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খেলো।
মেয়েটা ধাক্কা দিয়ে একটুখানি “স্যরি” বলে চলে গেলো।
আহাদ হা করে তাকিয়ে থাকে।।
আমান বলে
“কি রে এমনে তাকাই আছিস কেন?
” ভাই ওইডার থেকে এইডা বেশি কিউট।
আবরার আব্বোকে বোঝা
আমি আরও কিছুদিন বাংলাদেশে থাকতে চাই।
কেউ পাত্তা দিলো না আহাদের কথায়।।
____
প্লেনে আবরারের পাশে বসেছে আদ্রিতা। এবং তাদের অপরপাশে বসেছে ইয়াং ইউ।।
মেয়েটা একটু পরপরই তাকাচ্ছে আবরারের মুখ পানে। মুচকি মুচকি হাসছে। আবার লিপস্টিক লাগাচ্ছে।
আদ্রিতার বিরক্ত লাগছে।।সে দাঁতে দাঁত চেপে ফোঁস ফোঁস করছে।
আর আবরার চুপচাপ গভীর মনোযোগ দিয়ে ফোন দেখছে।
টনি ভীষণ খারাপ মানুষ।
সে আবারও আবরারকে মা/রা/র জন্য প্ল্যানিং সাজিয়েছে। এবং সেই প্ল্যানিং ধরে ফেলেছে আবরার।
মেজাজটা প্রচন্ড খারাপ হয়ে যায়।
ফোঁস করে শ্বাস টেনে ফোন বন্ধ করে পকেটে রাখে। সিটে মাথা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে।
আদ্রিতা দেখলো কিন্তু কিছু বললো না।
কারণ বলেও লাভ নেই জল্লাদ হাতি কথা বলবে না।
আদ্রিতা বুঝতে পারে না এর সমস্যা কি?
কথা বললে কি ট্যাক্স দিতে হয়?
এমন গোমড়া মুখ করে থাকলে কি টাকাপয়সা পাওয়া যায়?
অবশ্য যেতেও পারে।
টাকা না পাওয়া গেলে আবরার এমন বড়লোক হইলো কেমনে?
ইয়াং ইউ নজর সরাচ্ছেই না। আবরার চোখ বন্ধ করে আছে এই সুযোগে নিজের বড় বড় চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে।
এবার আর জেলাসি কন্ট্রোল করতে পারলো না মেয়েটা।
ওড়না দিয়ে ঢেকে দিলো আবরারের মুখ।
“কি হলো?
ওড়না দিলে কেনো?
আবরার চোখ বন্ধ রেখেই বললো।
আদ্রিতা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে জবাব দিলো
” ওই মেয়েটা আপনার দিকে তাকিয়ে থাকে শুধু।
আবরার হাসলো একটু। নিজের মাথাটা এলিয়ে দিলো আদ্রিতার কাঁধে। এবং ফিসফিস করে বললো
“আমাকে লুকিয়ে রাখো তোমর হৃদয়ে।
কেউ চাইলে বলবে হি ইজ মাই প্রোপার্টি।
খুশি হলো আদ্রিতা। ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে বললো
” এটা বলার পরও যদি তাকিয়ে থাকে। তাহলে কি ঝগড়া করবো?
আবরার এবার দুই হাতো জড়িয়ে ধরলে মেয়েটাকে। গলার উন্মুক্ত স্থানে ঠোঁট গুঁজে বলে
“হুমম করিও।
লোকটার গরম নিঃশ্বাস এবং ঠোঁটের স্পর্শে কেঁপে ওঠে আদ্রিতার সত্তা। এদিক ওদিক দৃষ্টি ফেরায়। সিয়াম ভাইয়ারা পেছনের দিকে বসেছে। ইয়াং ইউ ছাড়া আর কেউ দেখছে না।
তবুও লজ্জা এবং অস্বস্তিতে পড়ে যাচ্ছে মেয়েটা। নিঃশ্বাস নিতেও যেনো কষ্ট হচ্ছে।
কোনো রকমে রিনরিনিয়ে বললো
” ছাড়ুন
আমার ফাঁপড় লাগছে।
আবরার ছাড়লো না। আবরার ছোট্ট করে কামড় দিলো গলায়। এবং বললো
“ছাড়লে কিন্তু ইয়াং ইউ এর কাছে গিয়ে বসবো।
আদ্রিতা সঙ্গে সঙ্গে বললো
” না না এভাবেই থাকুন।
ছাড়তে হবে না।
“এতো ভয় পাও কেনো পাখি
তুমি ছাড়া আমার জীবনে দ্বিতীয় কোনো দুর্বলতা নেই।
আমি তোমাতেই সন্তুষ্ট।
আর কাউকে প্রয়োজন নেই।
চলবে
Share On:
TAGS: তানিশা সুলতানা, তোমাতেই আসক্ত সিজন ২
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৭
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৩
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৮
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৩০
-
তোমাতেই আসক্ত ২ পর্ব ২০
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৩৮
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১৭
-
অন্তরালে আগুন পর্ব (২৪+২৫)
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৫৪
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৬