লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_৫৮
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
মেঝেতে যেখানে গত রাতে বসে ছিল, সেখানেই একসময় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল আদ্রিতা।
ভোরের কোমল আলো পর্দা ভেদ করে ঘরে ঢুকতেই তার নিদ্রাভঙ্গ হলো।
ফ্লোর থেকে ধীরে উঠে চারদিকে তাকাল সে। তৃষ্ণার্ত দু’চোখ ব্যাকুল হয়ে খুঁজে ফিরল আদ্রিসকে।
কিন্তু এত আকুল অনুসন্ধানের পরও তার দেখা মিলল না।
বুকের ভেতর হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল। তবে কি সে খুব অন্যায় করে ফেলেছে? সে তো শুধু মায়ের সঙ্গেই গিয়েছিল। আদ্রিস কেন এমন করে কষ্ট পায়, সেটুকুও কি সে বোঝে না?
হাজারো ভাবনার জাল বুনতে বুনতে আদ্রিতা ওয়াশরুমে গেল।
কাল রাতে আদ্রিসের চোখে কোনো রাগ ছিল না; সেখানে বাসা বেঁধেছিল এক অদ্ভুত বিষাদ।
সে দৃষ্টিতে ছিল নিজেকে তুচ্ছ ভাবার নিঃশব্দ যন্ত্রণা।
সেই স্মৃতি আদ্রিতাকে ভীষণভাবে ঘায়েল করল। বুকের ভেতর যেন রক্তক্ষরণ শুরু হলো।
আদ্রিসকে কখনো এমন ভাঙা রূপে দেখবে, এ কথা কল্পনাও করেনি সে।
তার চরিত্রের সঙ্গে দুঃখ যেন মানায় না।
আদ্রিতার চেনা আদ্রিস তো ছিল রাগী, তেজস্বী, দুর্বার।
আকাশ-পাতাল ভাবতে ভাবতে নিজেকে গুছিয়ে নিচে নামল আদ্রিতা।
ডাইনিং টেবিলে আজ সবাই আছে, শুধু আদ্রিস নেই।
আদ্রিতাকে একা নামতে দেখে সায়ের প্রশ্ন করল,
“আদ্রিতা, আদ্রিস কোথায়?”
মায়ের পাশে চেয়ার টেনে বসে নিচু স্বরে বলল সে,
” জানি না।”
উত্তর শুনে উপস্থিত সকলে খানিকটা বিস্মিত হলো।
মিরা তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
” কেন? কোথায় গেছে জানিস না?”
আদ্রিতা মাথা নত করে বলল,
” না, আপু।”
মিসেস মিহু চামচে খাবার তুলে মুখে দিতে দিতে বললেন,
“সবাই এত অবাক হচ্ছ কেন? আদ্রিস নিশ্চয়ই বাচ্চা ছেলে নয়।”
মায়ের কথা শুনে সায়ের আরও বিস্মিত হলো।
“মম, তোমার কী হয়েছে?”
“আমার আবার কী হবে?”
সায়ের গম্ভীর স্বরে বলল,
“তুমি আদ্রিতাকে কী বুঝিয়েছ জানি না, কিন্তু আদ্রিস তো সেই মানুষ, যে তোমার জীবনে তখনও ছিল, যখন তুমি ছিলে সামান্য এক কুড়িয়ে পাওয়া মেয়ে কারও বাড়িতে।”
” সায়ের! নিজের ছোট বোনকে এসব কীভাবে বলছ?”
“সরি টু সে, মম, কিন্তু তুমি যা করছ, তা কোনোভাবেই মানতে পারছি না। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে অনেক কিছুই হয়। আদ্রিস যে ভীষণ পজেসিভ, সেটা তুমি ভালো করেই জানো। আদ্রিতাকে বোঝানোর বদলে উল্টো বুঝ দিয়েছ তুমি। এটা ঠিক করোনি।”
কথাগুলো বলে সায়ের খাবার শেষ না করেই উঠে চলে গেল।
মিরা স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার চলে যাওয়ার পথে।
ওদিকে ভাইয়ের কথা শুনে আদ্রিতার মন আরও ভারী হয়ে উঠল।
মিসেস মিহুও আর খাবার শেষ করলেন না।
প্রিয়া নীরবে বসে সব শুনল, কিছুই বলল না।
তার ব্রেকফাস্ট প্রায় শেষের দিকে ছিল।
গ্লাসে থাকা কমলার জুসটা হাতে নিয়ে এক বারে পান করে নিলো সে। এরপর সে মেনশন ছেড়ে বেরিয়ে গেল।
আদ্রিস রাগ করে তাকে কোথাও পাঠিয়েছিল, মিরাকে জানিয়ে সেও চলে গেল।
চারপাশে তাকাল আদ্রিতা।
মুহূর্তে নিজেকে তার এই খোলা ডাইনিং রুমটার মতোই নিঃসঙ্গ মনে হলো, প্রশস্ত, শূন্য, নির্জন।
অনুভূতিটা হৃদয়ে আঘাত করতেই চোখের কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল দু’ফোঁটা নোনা জল।
জিমরুমে টানা এক ঘণ্টা ধরে অনবরত শরীরচর্চা করছিল আদ্রিস।
পাঞ্চিং ব্যাগে বক্সিং গ্লাভস পরা মুষ্টি দিয়ে একের পর এক আঘাত হানতে হানতে একসময় সেটি ছিঁড়ে গেল, আর ভেতরের ভরাট জিনিসপত্র চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল।
আদ্রিসের ঊর্ধ্বাঙ্গ অনাবৃত, নিচে পরনে গাঢ় রঙের ট্রাউজার।
উষ্ণ শরীর বেয়ে ঘামের ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছিল নিচের দিকে।
কপালের উপর নেমে আসা ভেজা চুলগুলো হাতের ঝটকায় সরিয়ে নিল সে।
তারপর টেবিলের উপর রাখা হ্যান্ড টাওয়েল তুলে শরীরের ঘাম মুছে নিল ধীর ভঙ্গিতে।
এমন সময় দরজা খুলে কেউ ভেতরে প্রবেশ করল।
আদ্রিস ফিরে তাকাল পেছনের দিকে।
একজন অপরূপা তরুণী।
পরনে কালো বডি-ফিটিং গাউন, চুল নিপুণভাবে বাঁধা, মুখে পরিমিত সাজ।
মেয়েটি এগিয়ে এসে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
“কিরে, কবে এলি রাশিয়ায়? আমাকে একবার জানালিও না?”
আদ্রিস শান্ত গলায় উত্তর দিল,
“সময় পাইনি।”
মেয়েটি ভ্রু কুঁচকে বলল,
” কেন? একটা বার জানাতে সময় হলো না যে তুই এসেছিস? একটা টেক্সট করতে সর্বোচ্চ দুই সেকেন্ড লাগে, আদ্রিস।”
” মিলা, ওভাররিয়্যাক্ট করা বন্ধ কর।”
” কম অন, আদ্রিস। এতটুকু জানার অধিকার আমার আছে।”
আদ্রিস টেবিল থেকে পানির বোতল তুলে এক নিঃশ্বাসে শেষ করে ফেলল।
তারপর মিলার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
” তোকে কে বলল আমি এখানে?”
মিলা ঠোঁটে হাসি টেনে বলল,
” অবশ্যই সায়ের ভাই। উনি না থাকলে তোর খবর পাওয়া অমাবস্যার রাতে চাঁদ খোঁজার মতো কঠিন।”
” যখন জানিস, তখন খুঁজিস কেন?”
” তুই বড্ড বেশি বকিস।”
আদ্রিস পানির বোতলটা ফের টেবিলে রেখে মিলার দিকে ফিরে সিরিয়াস হয়ে জিজ্ঞেস করে,
” আমাকে বল, কী হয়েছে?”
” কিছু না। আমার একমাত্র বন্ধু তুই,আমার জন্য একটু ভাব।”
আদ্রিস নির্বিকার স্বরে বলল,
” আমার অফিস আছে। ইউ ক্যান গো নাউ।”
” আমিও যাব তোর সঙ্গে। সায়ের ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করব।”
” তোর গাড়ি আছে। তুই চলে যা।”
মিলা বিরক্ত হয়ে বলল,
” আদ্রিস, তুই এত রুড কেন?”
আদ্রিস ফিরে তাকাতেই তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মিলা থমকে গেল।
বিরবির করে বলল,
“যাচ্ছি আমি,
ফাকিং রুড এস৷ “
মিলা বেরিয়ে গেল মেনশন ছেড়ে।
আদ্রিস নিজের কক্ষে গিয়ে শাওয়ার নিতে ঢুকল।
দীর্ঘ সময় ঠান্ডা পানির নিচে দাঁড়িয়ে থাকার পর বাইরে এলো সে।
আজ মেনশনটা ভীষণ নীরব লাগছিল।
আগেও সে এমন নীরবতার মধ্যে সময় কাটিয়েছে, কিন্তু সেই নীরবতা আর আজকের নীরবতার মাঝে ছিল আকাশ-পাতাল তফাত।
ভাবনাগুলো মাথায় ঘুরতে ঘুরতে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল গুছিয়ে নিল সে।
তারপর টাই পরে গাড়ির চাবি হাতে নিল।
সবশেষে অফিসের উদ্দেশে বেরিয়ে গেল।
অফিসে পৌঁছে আদ্রিস দেখে তার কেবিনে রেভেন, সায়ের এবং মিলা তিনজন বসে।
আদ্রিস ভেতরে এগিয়ে গিয়ে রেভেনকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করে,
“হোয়ার ইজ প্রিয়া?”
“ও ভার্সিটিতে যাবে বলল তাই ভার্সিটিতে দিয়ে এসেছি।”
“ওকে।”
আদ্রিস গিয়ে নিজের চেয়ারে বসলো।
সায়ের তাকিয়ে আছে আদ্রিসের দিকে মিলার সামনে পারিবারিক কথা বার্তা শুরুও করতে পারছে না।
মিলা উঠে দাঁড়ায়,
“প্রিয়াও এসেছে এটাও জানাস নি আমাকে কেন?”
আদ্রিস, ল্যাপটপের দিকে দৃষ্টি স্থির করেই উত্তর দেয়,
“তোকে বলা প্রয়োজন কি?”
“দেখেছো সায়ের ভাই এত রুড মানুষের সাথে কিছু হওয়া সম্ভব? “
“রিলাক্স মিলা তুমিত জানো ওকে।”
“আচ্ছা আমি আজ সন্ধ্যা ৭ টায় একটা পার্টি রেখেছি আমার বাড়িতে, তোমাদের সবাইকে আসতে হবে।”
কারোর কোন উত্তর দেওয়ার আগেই আদ্রিস বলে ওঠে,
“সময় পাব না আমি।”
মিলা বিরক্ত হয়ে আদ্রিসের দিকে চায়,
“তোরই সমস্যা সব সময়।”
“বাকিরা গেলে যাবে আমি কোথাও যাব না।”
“সায়ের ভাই প্লিজ আদ্রিসকে বোঝাও।”
“আমি বোঝালে কি শুনবে নাকি?’
” আদ্রিস প্লিজ না করিস না। প্রিয়াকে নিয়ে আসিস। আর ভাইয়া বাড়িতে আন্টি আর কে কে আছে সবাইকে নিয়ে আসবেন।’
“ট্রায় করব।”
“প্লিজ ভাইয়া বাবা স্পেশালি আপনাদের ইনভাইট করেছে।”
“ওকে মিস্টার পার্ক কে আমার সালাম দিও।”
“ওকে ভাইয়া, আদ্রিস, রেভেন প্লিজ না না করিস না চলে আসিস৷”
কথা গুলো শেষ করে মিলা বেরিয়ে যায় কেবিন থেকে।
আদ্রিস তখনো নিজের কাজে ব্যস্ত।
সায়ের কোন কথা উঠাতে যাবে তার আগেই সায়েরের এসিস্ট্যান্ট এসে বলে ওর মিটিং আছে। সায়ের বেরিয়ে যায় আদ্রিসকে কিছু না বলেই।
লাড়া এবং টোটো দু’জনে টোটের অফিস কেবিনে বসে আছে।
লাড়া টোটোট পায়ের কাছে হাঁটু গেড়ে বসে আছে।
টিস্যু নিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে করতে বলে,
“ইউ আর টু মাচ মিস্টার টোটো।”
টোটো নিজের প্যান্টের চেইন লাগাতে লাগাতে বলে,
“ইউ টু ডার্লিং৷”
“লাইক সিরিয়াসলি! আমি কি করলাম?”
“তুমি বার বার আমাকে হর্নি ফিল করাও৷”
“আমি কি এতটাই সেক্সি?”
“মেবি তুমি আমার সামনে সব সময় এমনটা সেজে থাকো।”
“উফ, তোমার সঙ্গে কথায় পারা যাবে না।”
“তাহলে কথা বাড়িও না৷”
“এখন কি করবেন?”
“কি বিষয়ে?”
“আদ্রিতা?”
“আদ্রিতাকে আর কিছুদিন সময় দিব। পাখির দানা ছাড়িয়েছি, জালে আটকা পড়তে সময় দাও।
এরপর শুরু হবে আসল খেলা।”
“আর সায়ের?”
“ও ব্যবস্থাও করছি জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ৷”
“ওকে আম ওয়েটিং৷’
চলবে?
[ হল্প পড়েই চলে যেও না। দাঁড়াও। কাল আমার নতুন ই বুক ‘শেহজাদ আরিয়ান মির্জা ‘ রিলিজ হয়েছে লিংক কমেন্ট এ দিয়ে দিব।
এবার আসি আসল কথায়। আমি খুবই অসুস্থ আবহাওয়া বদলেছে আমার ঠান্ডা গরম লেগেছে শরীরটা বড্ড খারাপ আজকাল। সেই সাথে বাসায় মেহমান। আমার বিষয়টা বুঝিও রেসপন্স করিও। আসসালামু আলাইকুম ]
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪১
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪৭
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৩
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২৭
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩১
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৭
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৮
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৩০
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৬