#জাহানারা
#জান্নাত_মুন
পর্ব :৯৪(প্রথমাংশ)
ক’পি করা নিষিদ্ধ
সতর্কবার্তা:
এই গল্পে অ’কথ্য ভাষা এবং স”হিং’সতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সং’বে’দনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।
–”রেডি হও মানে!”
আমি বিস্মিত কণ্ঠে প্রত্যুত্তর করলাম। অতঃপর ইফানের হাতের ফোনটার স্ক্রিনে উঁকি দিতেই লক্ষ্য করলাম শতাধিক মেসেজ আর কলের নোটিফিকেশন শো করছে। এখনো অনবরত মেসেজ আর ফোনকলের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। তারমধ্যে মাঝরাতে ইনানের কল দেখে ভ্রুকুটি করলাম। ইফান ফোনের স্ক্রিন থেকে কঠোর দৃষ্টি সরিয়ে নিল। ফোনকল রিসিভ করে ত্বরিতে টেবিলের উপর থেকে ব্লুটুথ নিয়ে কানে গুঁজতে গুঁজতে গম্ভীর গলায় আমার উদ্দেশ্যে বলে উঠল,
–”আমাদের ইমিডিয়েট বের হতে হবে।”
ইফানের কথার মানে আমার বোধগম্য হলো না। এই মাঝরাতে বের হতে হবে মানে! তাকে কিছু জিজ্ঞেস করার সুযোগটুকুও সে আমাকে দিল না। বরং দ্রুত কদমে এগিয়ে গিয়ে কাবার্ড থেকে পোশাক বের করে গায়ে জড়াতে লাগল। আমি সম্পূর্ণ হতবিহ্বল, বাকরুদ্ধ হয়ে কলের পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে তার উন্মাতাল ব্যস্ততা দেখতে লাগলাম। ইফান গায়ে শার্টের উপর ওভার লং কোট জড়িয়ে নিতে নিতে ইনানের সাথে ক্ষুব্ধ চাপা কণ্ঠে কথা বলে যাচ্ছে,
–”দ্রুত প্রাইভেট জেট রেডি করতে বল। আর এক্ষুনি আমাদের জন্য হেলিকপ্টার পাঠা।”
অপর প্রান্ত থেকে ইনানের উত্তর শোনার পর দাঁতে দাঁত পিষল ইফান। চোয়াল শক্ত করে ফরাসি ভাষায় অ’শ্রাব্য গা’লি দিয়ে উঠল,
–”পুতাঁ!” (ফা’ক!)
অকস্মাৎ এক ঝাঁক বুলেটের কানফাটানো আওয়াজে হকচকিয়ে উঠলাম আমি। থমকালো ইফানের চটজলদি হাতদুটোও। ওপাশের মানুষটিকে কিছু বলতে গিয়েও তার শব্দরা জঠরেই আটকে গেল। সারা বাড়িতে তীব্র আওয়াজে রেড অ্যালার্ট সাইরেন বেজে উঠেছে। হঠাৎ এত উৎকট আওয়াজের জন্য দু’হাত দিয়ে সজোরে কান চেপে ধরলাম। বাইরের গু’লাগু’লির আওয়াজ ক্রমশ আরও বেড়ে চলেছে। ইফান ফোন রেখে ঝটপট মাথায় ক্যাপ পড়ে আপাদমস্তক নিজেকে কালোয় মুড়িয়ে নিল। অতঃপর রিভলবার লোড করে এগিয়ে এসে আমার এক হাত ধরে বলে উঠল,
–”চল।”
–”ক কো…!”
কিছু শুধাবার ফুরসতটুকু পেলাম না। ইফান আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগল। ঘর থেকে বেরোতেই যেন এক অন্তহীন অন্ধকারের গোলকধাঁধায় হারিয়ে গেলাম আমরা। করিডরের জমাট বাঁধা অন্ধকার চিরে আগে আগে ত্রাস নিয়ে ছুটছে ব্রুনো। ওকে ধ্রুবতারা বানিয়ে ইফান আমাকে নিয়ে দ্রুত পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ইফান আমাকে মেইন দরজা দিয়ে নিয়ে না গিয়ে বাড়ির পিছন দরজা দিয়ে বেরিয়ে এলো। সহসা কানে এসে আরও উদগ্রভাবে আছড়ে পড়তে লাগল গু’লাগু’লির আওয়াজ। আলো-আঁধারির মধ্যে নজরে পরল বাড়ির পিছনে একদল কালো পোশাকধারী সশস্ত্র গার্ড সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের বের হতে দেখেই দুপাশে ঘিরে ফেলেছে। ইফান আমাকে টেনে নিয়ে দ্রুত কদমে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তার সাথে এত দ্রুত পায়ে হাঁটতে না পেরে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। আর এক পা-ও এগোতে পারছি না। আমাকে থমকে যেতে দেখে থামল ইফানের পা। ঘাড় কাথ করে তাড়া দিয়ে বলে উঠল,
–”হোয়াটস রং? দ্রুত চল। এক্ষুনি তোমাকে নিয়ে এখান থেকে বের হতে হবে।”
আমি হাঁপাতে হাঁপাতে তল পেটে হাত ধরে বলে উঠলাম, “আমি আর পারব না। আমার পেটে আবার ব্যথা শুরু হয়েছে খুব।”
বলতে গিয়ে আমি শুকনো ঢোক গিললাম। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। ইফান এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে আকস্মিক আমাকে তার কাঁধে তুলে সামনে হাঁটা ধরল। আমি হকচকিয়ে গেলাম। ওর পিঠ চাপড়ে অস্থির কণ্ঠে বলে উঠলাম,
–”কি করছ তুমি?”
–”হিশশ! এটা কথা বলার সময় নয়।”
আমি চুপ হলাম না। চেহারায় দুশ্চিন্তা আর কৌতূহল নিয়ে ফের শুধালাম,”কিন্তু আমরা পালাচ্ছি কেন?”
–”তোমার সেফটির জন্য। নাহলে পালানোর প্রশ্নই ছিল না। সবকটাকে জ্যান্ত পুঁতে দিয়ে ক্ষ্যান্ত হতাম!”
আমি আর কোনো কথা বাড়ালাম না। ইফান বাড়ির পিছনের গেট দিয়ে বেরিয়ে পরল। চতুর্দিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। হঠাৎই সব আধার ভেদ করে জ্বলজ্বল করে উঠল সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি কালো মার্সিডিজের হেডলাইট। ইফান দ্রুত সবার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িটির দিকে এগিয়ে গেল। একজন গার্ড ইফানকে আসতে দেখে সহসা গাড়ির দরজা খুলে দিল। ইফান আমাকে ভেতরে বসিয়ে দরজা লাগিয়ে দিল। ঘুরে এসে ঝটপট নিজের সিটে বসে গাড়ির সিটবেল্ট লাগিয়ে নিতে লাগল। বসকে গাড়িতে ওঠে যেতে দেখামাত্রই ব্রুনোসহ গার্ডরা হড়মুড়িয়ে পিছনের গাড়িগুলোতে ওঠে পড়ল।
ইফান ব্যস্ত হাতে সিট বেল্ট লাগাচ্ছে। এরমধ্যেই পিছন থেকে গু’লাগু’লির বিকট আওয়াজ ভেসে এলো। আমি জানালার বাইরে দৃষ্টিপাত করার পূর্বেই চোখের পলকে ইফান থাবা মেরে আমার মাথা ব্যাক সিটের সাথে চেপে ধরে বাইরের দিকে শুট করল। নির্দ্বিধায় একনাগাড়ে কয়েকবার ট্রিগার চাপল। সহসা কয়েকজন মানবের উৎকট চিৎকারের আওয়াজে ভারী হয়ে উঠল চারপাশ। আমার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। আসলে হচ্ছেটা কি তা বুঝে ওঠার আগেই ভো দৌড়ে সামনের সোজা রাস্তা ধরে এগিয়ে গেল আমাদের মার্সিডিজটি। অনুসরণ করে এগিয়ে আসতে লাগল গার্ডদের আরও চার-পাঁচটি গাড়ি। তবে পিছন থেকে অনবরত গু’লাগু’লির আওয়াজ কানে আসছে আমার। পিছন থেকে এখনো অগত্য আক্রমণকারীরা গু’লি চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রতিরোধে পাল্টা গু’লি চালাচ্ছে ভেনম গার্ডরা।
সমান্তরাল পিচঢালা রাস্তা মাড়িয়ে তীব্র বেগে একের পর এক গাড়ি ছুটে চলেছে। মধ্যরাত হওয়ায় চারপাশে শুনশান নীরবতা। ইতোমধ্যে উত্তরার চার নাম্বার সেক্টর থেকে বেরিয়ে এসেছি আমরা। গাড়ি চলছে হাইওয়ের উদ্দেশ্যে। এদিকে আমার গা গুলিয়ে আসছে। আমি এক হাত বুকে মালিশ করে মুখ হা করে দম নিচ্ছি। ইফানের কানে ব্লুটুথ গুঁজে রাখা। সে অনবরত কথা বলে চলেছে কারো সাথে। হঠাৎই ইফান অন্য রাস্তায় গাড়ি ঢুকিয়ে দিল। পিছনের গার্ডদের গাড়িগুলোও অন্য পথে চলে গেল। চোখ কুঞ্চিত করে আমি তৎক্ষণাৎ জিজ্ঞেস করলাম,
–”এদিকে কোথায় যাচ্ছ?”
–”ঐদিকে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়েছে।”
–”কিহ্! রাস্তায় কে ব্যারিকেড দিয়েছে?”
সহসা ইফান ফরাসি অকথ্য ভাষায় বিড়বিড়াল,”ফ্রিক দ্য মের্দা।” (ফা’কিং পুলিশ।)
আমার তখন বোধগম্য হলো না। পাংশুটে চেহারায় ইফানের কাঠিন্য চেহারার পানে চেয়ে রইলাম। রাগে আর উত্তেজনায় ওর চোয়ালের পেশিগুলো ধনুকের মতো শক্ত হয়ে উঠেছে। সিগারেট পোড়া ব্রাউন ওষ্ঠপুট বিড়বিড় করছে অনবরত। নির্ঘাত এই লোক অ’শ্রাব্য ভাষায় কাউকে গা’লি-গা’লাজ করছে। আমি বিরক্তভরা উদ্বীগ্ন কণ্ঠে ফের শুধালাম,
–”হচ্ছেটা কি বলবে আমায়? আবার কি অপকর্ম করেছ তুমি? যে বাড়ি অব্দি পর্যন্ত শত্রুরা এসে হানা দিল!”
ইফান কারো সাথে কথা বলছিল। কিন্তু আমার কথা শুনে সে থেমে গেল। ত্বরিতে আমার দিকে তাকাতে গিয়ে আচমকা দৃষ্টি পড়ল আরেকটি সরু কানাগলি দিয়ে একটি গাড়ি এদিকে ধেয়ে আসছে। ইফান দ্রুত হাতে শুট করে সেই গাড়ির গতিবেগ পাল্টে দিল। চাকার কর্কশ আর্তনাদ তুলে ওটা ছিটকে গেল পাশে। আর আমাদের মার্সিডিজ দ্বিগুণ গতিতে সামনের দিকে ছুটে চলল। ইফান সামনের দিকে তাকাতে না তাকাতেই দেখল একটি মেরুন রঙা গাড়ি একদম আকস্মিকভাবে তীব্র গতিতে আমাদের গাড়ির দিকে ধেয়ে আসছে। এই বুঝি দুই গাড়ির সংঘর্ষ হলো বলে। এই দৃশ্য দেখে চমকে উঠলাম আমি। সহসা হৃৎস্পন্দন থমকে গেল আমার। আমি ইফানের বাহু ঝাপটে ধরে চোখ খিঁচে চিৎকার করে উঠলাম।
কয়েক সেকেন্ড গেলেও নিজেকে অক্ষত অনুভব করে পিটপিট করে চোখ মেললাম। সহসা সম্মুখীন হলাম এক নজিরবিহীন ঘটনায়। গাড়ি দুটো যখন সংঘর্ষ লাগবে ঠিক তার পূর্ব মুহূর্তে ইফান ১৮০ ডিগ্রি এঙ্গেলে স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে নিল। সামনের গাড়িটাও সেই মুহূর্তে ১৮০ ডিগ্রি এঙ্গেলে ঘুরে গেল। আমি চোখ মেলতেই তীব্র ঘূর্ণনে আমার মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠল। আমাদের কালো মার্সিডিজটি যখন চাকার আর্তনাদ তুলে ঘুরে গিয়ে ফের সোজা পথে তিরবেগে ছুটে চলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে আমার চোখ আটকে গেল মেরুন রঙের গাড়িটার ওপর। সেখানে একজোড়া হ্যাজেল চোখ দুই গাড়ির হেডলাইটের আলোয় ঝলমল করে উঠল। কিন্তু লোকটার চেহারাটুকু দেখার ফুরসত পেলাম না। তার আগেই আমার গাড়ির জানালার কাচ উপরে উঠতে লাগল সাথে গাড়িটা সোজা পথে দানবের মতো ছুটে চলল।
_____________
আমাদের মার্সিডিজটি মিনিট দশকের মধ্যেই উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে ঢুকে পড়ল। আমি ইফানের মতিগতি কিছু আন্দাজ করে উঠতে পারলাম না। কিছুক্ষণ ওর শক্ত মুখাবয়বের দিকে তাকিয়ে রইলাম। ইফান ধ্যান ধরে ফোন কলের অপর প্রান্তের ব্যক্তির কথাগুলো শুনছে। আমি ভারী নিঃশ্বাস ছেড়ে ক্লান্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলাম,
–”আমাকে কিছু বলছ না কেন তুমি? কি হয়েছে বল আমায়! আবার কি করেছ তুমি, যে পা’গলা কু’কুরদের মতো তোমার পিছনে সবাই পড়ে গেছে?”
–”খু’ন করেছি।”
স্তব্ধ হয়ে গেলাম আমি। হা করে পাশে বসে থাকা লোকটার পানে চেয়ে রইলাম। সংবিৎ ফিরতেই বিস্মিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলাম,
–”কি বলছ! কানাডিয়ান মিনিস্টারের পর আবার কাকে খু’ন করেছ তুমি?”
কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল ইফান। দৃষ্টি তার স্থির হলো ফ্রন্ট মিররে। আমাদের গাড়িকে ফলো করছে আরও এক-দু’টো গাড়ি। ইফান দাঁতে দাঁত পিষে স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে নিল। দৃঢ় গলায় আমার উদ্দেশ্যে বলে উঠল,
–”এখন আর কোনো প্রশ্ন নয়।”
এবারো আমি চুপ হলাম না। ফের শুধালাম,”কি করছ তুমি হ্যাঁ! মাঝরাতে এভাবে আমাকে নিয়ে কই যাচ্ছ।”
–”আজ রাতেই ফ্রান্স ব্যাক করছি আমরা।”
–”ফ্রান্স ফিরছি মানে!”
আমার বিস্ময়মিশ্রিত প্রশ্নের জবাব দিল না ইফান। অন্ধকার ফুঁড়ে সামনেই ভেসে উঠল একটা লোহার তৈরি প্রকাণ্ড, বিশালকার গেট। আমাদের কালো মার্সিডিজটাকে তীরের বেগে সেদিকে ধেয়ে আসতে দেখেই পাহারারত দারোয়ান চটজলদি গেটটা খুলে দিল। চোখের পলকে আমাদের গাড়িটা একটা জরাজীর্ণ, পরিত্যক্ত পুরোনো গোডাউনের পেটের ভেতর সেঁধিয়ে গেল।
আমাদের গাড়ি দেখামাত্রই অপেক্ষারত শতাধিক অস্ত্রধারী গার্ডরা দুভাগে ভাগ হয়ে গেল। অতঃপর পায়ে ছুটে গাড়ির পিছু নিল। আমি যতদূর জানি এই এরিয়াটায় চৌধুরী ইন্ডাস্ট্রির বেশ কিছু ফ্যাক্টরি আর গোডাউন রয়েছে। কিন্তু ইফান আমাকে এখানে নিয়ে আসল কেন! মনে প্রশ্ন জাগতেই ইফানের দিকে তাকালাম। ইফান আমার দিকে না তাকিয়েই গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরাতে ঘুরাতে বলে উঠল,
–”এখানে প্রাইভেট জেট রেডি করা আছে।”
–”এই গোডাউনে!”
আমার বোকাসোকা প্রশ্নে কপাল কুঞ্চিত করল ইফান। তৎক্ষণাৎ বলে উঠল,”এটা আমার হিডেন রানওয়ে এরিয়া।”
ইফানের বাক্য শেষ হতে না হতেই পিছন থেকে ফায়ারিংয়ের বিকট আওয়াজ হতে লাগল। মুহূর্তেই গোডাউনের ভেতর থেকে হড়মুড়িয়ে আরও শতাধিক গার্ড অস্ত্র হাতে বেরিয়ে এসে পিছনের দিকে ছুটল। ইফান এক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে গাড়ির গতি আরও দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিল। আমি ঘাড় কাথ করে পিছনে ফিরলাম। আমাদের গার্ডদের মধ্যে অনেকে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছে। অনেকে শুট করতে করতে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইফান রাস্তায় যাদের চোখের ধুলো দিয়ে হাই স্পিড ড্রিফট করে পালিয়ে এসেছিল, এখন তারাই আবার এখানে পৌঁছে গেল নাকি! হায় খোদা কি হচ্ছে এসব! এদিকে আমি বেশিক্ষণ কোনোকিছু নিয়ে একদণ্ড ভাবতেও পারছি না। বারুদের ঝাঁঝালো গন্ধে এবার সত্যি সত্যি আমার পেট থেকে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসার উপক্রম হয়েছে। পেটের ব্যথাও এখনো আমাকে নিস্তার দেয়নি। আমি পেটে হাত ধরে খুব কষ্টে ঢোক গিললাম। ইফানের দিকে তাকিয়ে উদগ্রীব গলায় শুধালাম,
–”হচ্ছেটা কি এসব!”
ইফান ফ্রন্ট মিররে সতর্ক দৃষ্টি বুলাল। ওর চোখ দুটো চোখে রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। ইফান বিড়বিড়াল,
–”দিজ আর ফা’কিং ট্র্যাপস। গেইম খেলছে আমার সাথে। গেইম!”
–”কিহ!”
আমি অস্ফুটে আওড়ালাম। ততক্ষণে আমাদের গাড়ি গোডাউনের শেষ মাথায় পৌঁছে গেছে প্রায়। গোডাউনের ভেতর ঝাপসা দেখালেও সামনে বিশাল এক দরজা দেখা যাচ্ছে। আর বাইরের ঝলমলে আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে স্থির দাঁড়িয়ে থাকা এক বিমান। তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে ইনান তার সাথে ব্রুনোসহ কালো পোশাকধারী অসংখ্য গার্ড। আমরা গোডাউনের দরজা ক্রস করার আগেই বিকট আওয়াজ হলো। আমাদের গাড়ির টায়ারে একটা বুলেট এসে লাগতেই গাড়ি বেগতিক হয়ে পড়ল। ইফান চটজলদি আমার কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল, যেন আঘাত না পাই। ইফান গাড়ি আর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারল না। বিশাল দরজার নাগাদ এসেই গাড়িটাকে কোনো মতে নিয়ন্ত্রণে আনল। পিছনের সব পথ প্রায় অন্ধকারেই ঢাকা। শুধু হলদে আলোয় ঝাপসা দেখা যাচ্ছে স্বল্প।
ইফান গাড়ির দরজা খুলতেই চারপাশ চিরে ফের ধেয়ে এলো বুলেটের বৃষ্টি। ও গাড়ি থেকে নামতে গিয়েও বিদ্যুৎগতিতে মাথা নুইয়ে ফেলল। একত্রে কয়েকটা গু’লি এসে ছিন্নভিন্ন করে দিল গাড়ির কাচের দরজখানা। গু’লাগু’লির আওয়াজ পেতেই রিভলবার তাক করে ছুটে আসতে লাগল ইনানসহ বাকি গার্ডরা। ইফান হাত বাড়িয়ে রিভলবার তুলে পিছনে গু’লি ছুড়ল। অতঃপর পাল্টাপাল্টি গু’লাগু’লি হতে লাগল। ইফান গাড়ি থেকে বের হয়ে এসে আমাকেও গাড়ি থেকে বের করে নিল। সহসা আমাদের দিকে পিছন থেকে বুলেট ছুটে আসল। ইফান টেনে আমাকে গাড়ির আড়াল করে নিল। ব্রুনো দৌড়ে এসে আমার পাশে দাঁড়াল। আমি লক্ষ করলাম সামনে আমাদের থেকে বেশ খানিকটা দূরে ঝাপসা হলদেটে আলোয় দেখা যাচ্ছে জমিনে গু’লিবিদ্ধ বিশাল মানবদেহগুলো পরে আছে। কিছু য’ন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। পাল্টাপাল্টি গু’লাগু’লির তোপে ইফান আমাকে নিয়ে সামনে বিমান অব্দি এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াসটুকু পেল না। তাই আমাকে দেওয়ালে আড়াল করে বহিরাগত শত্রুদের উপর গু’লি চালাতে লাগল। শত্রুদের দেখে মনে হচ্ছে তারাও কোনো মাফিয়া গ্যাংস্টারের সৈনিক। পোশাকআশাক তো তাই বলছে। আমার ভ্রম ছুটল বাইকের উদগ্র আওয়াজে। সামনে গোডাউনের পিছন দিক দিয়ে ভুমভুম করে আওয়াজ তুলে ছুটে আসছে দুটি বাইক। তাদের মধ্যে একজনকে চিনতে আমার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হলো না। কিন্তু মীরা ফ্রান্স থেকে দেশে কখন ফিরল!
চাকার কর্কশ আর্তনাদ তুলে ঝড়ের বেগে বাইক দুটো থামিয়ে নেমে এলো মাহিন আর মীরা। অতঃপর রিভলবার তাক করে এদিকে ছুটে আসল। মাহিন সন্নিকটে এসেই ইফানকে জিজ্ঞেস করে উঠল,”তোমরা ঠিক আছ?”
ইফান ভ্রুকুটি করল। সন্দিহান কণ্ঠে শুধাল,”তোরা এখানে কি করছিস?”
মীরা সপাটে জবাব দিল,”দাভাই হটাৎ করেই জানতে পারি ফাদার নাকি বিডি আসছে। তাই আমরাও ফিরছিলাম। কিন্তু আসার পথে খবর পেলাম ঐ বা’স্টা’র্ড নাকি বিডিতে।”
মাহিন আর মীরা কথাবার্তা আর এগোলো না। সবাই ছড়িয়ে পড়ল। সকলে আড়াল থেকে একের পর এক শুট করে যাচ্ছে। আ’ক্রমণকারীরা আটঘাট বেঁধে নেমেছে ভালোই বুঝা যাচ্ছে। সংখ্যায় তারা প্রায় ডাবল। এদিকে ইফানের গার্ডরা পর্যাপ্ত। হঠাৎ এমন হামলা হবে কেউই ঘুনাক্ষরেও আন্দাজ করতে পারে নি। তাই পর্যাপ্ত অস্ত্রও হাতে নেই। বিধায় শত্রুরা প্রায় সন্নিকটে এগিয়ে এসেছে। ইফানের রিভলবারের বুলেট শেষ। সে প্যান্টের পকেট থেকে বুলেট নিয়ে ফের দ্রুত হাতে রিভলবার লোড করতে লাগল। একের পর এক বুলেট আমাদের এদিকে ছুটে আসছে। ইতোমধ্যে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়েছে গাড়ির সমস্ত কাচ। ইফান আমাকে টেনে দেয়ালের আড়াল করে দিল। অতঃপর আবারও সামনের দিকে ফায়ার করতে লাগল। আমি পেটে হাত ধরে মৃদু গোঙিয়ে যাচ্ছি। বড্ড ব্যথা হচ্ছে পেটে। তবুও নিজেকে সামলে বলে উঠলাম,
–”আমিও বরং…”
আমাকে বাক্য সম্পূর্ণ করতে না দিয়ে ইফান চাপা স্বরে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিল,”একদম নড়াচড়া করবে না। এখানে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাক।”
হঠাৎই হেলিকপ্টারের প্রখর আওয়াজে উপরে তাকাতেই দেখি আকাশে একটি হেলিকপ্টার উড়ছে। উপস্থিত সকলে এক নজর সেদিকে দৃষ্টি ঘুরাল। ওদিকে গোডাউনের পিছন গেইট দিয়ে হড়মুড়িয়ে প্রায় দশেক জিপ প্রবেশ করল। চলন্ত গাড়ি থেকেই একের পর এক কালো পোষাকে আপাদমস্তক ঢাকা গার্ডরা অ’স্ত্র হাতে লাফিয়ে নামতে লাগল। কিছু গার্ড মাঠেই দাঁড়িয়ে পড়ল। আরও শতাধিক গার্ডরা আমাদের এইদিকে এগিয়ে এসে শত্রু পক্ষের বিরুদ্ধে ফায়ার করতে লাগল।
চতুর্দিকে গু’লাগু’লির বিকট আওয়াজ আর বারুদের ঝাঁঝাল গন্ধে মৌত হয়ে গেছে। আমার কাছে প্রাকৃতিক বাতাসটাও বি’ষাক্ত লাগছে। আমি এক পর্যায়ে দেয়াল ঘেঁষে বসে পড়লাম নিচে। বমির উদ্রেক আসছে খুব। ইফান সামনে ফায়ার করতে করতে আমার দিকে তাকাল। আমার এমন দুর্বল আর বেহাল দশা দেখে তার ক্ষিপ্ত চোখদুটো শীতল হয়ে আসছিল। কিন্তু সামনে একের পর এক বুলেট ছুটে আসায় আমার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিল। তার চোখ জোড়া ফের ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। ওদিকে আমার অবিশ্রান্ত দৃষ্টি স্থির হয় সামনের দিকে। হেলিকপ্টার মাটি হতে সামান্য ভাসমান। গার্ডরা সামনে থেকে সরে গেল। হেলিকপ্টার থেকে বেরিয়ে এলো বিশাল এক কালোয় মুড়ানো অবয়ব। মাথা থেকে চোখ অব্ধিও কালো আবরণ টানা। আমার দৃষ্টিগোচর হতেই চিনতে পারলাম লোকটাকে। তিনি লন্ডনের ডন গড ফাদার পলক কাইসার।
–”ইফান, ফাদার।”
আমি অস্ফুটে আওড়ালাম। ইফান চকিতে দৃষ্টি ঘুরাল। পলক কাইসারকে দেখা মাত্রই তার অধরকোণ বেঁকে গেল। অতঃপর সে আবারও সামনে ফায়ারিং এ ব্যস্ত হয়ে পড়ল। ইতোমধ্যে আমাদের গার্ডরা এগিয়ে গেছে। শত্রু পক্ষের লোকদের প্রায় জব্দ করে ফেলবে। পলক কাইসার গান লোড করতে করতে হুংকার ছাড়লেন,
–”উন মা’দারচো’দো মে সে এক ভি জিন্দা ওয়াপস নেহি লৌটনা চাহিয়ে।”
থেমে জুড়ে দিয়ে বললেন, “সালে কি ইতনি হিম্মত কি মেরে বেটে পর হাত উঠায়ে! উস মা’দারচো’দ কা কলেজা চিরকর তারাজু মে তৌলুঙ্গা, তব দেখুঙ্গা কিতনি হিম্মত হ্যাঁয় উসকি!”
পলক কাইসার দাপটে পায়ে এগিয়ে আসলেন। উচ্চতায় খুব একটা বিশাল নয়। তবে ভারী দেহ তার। তাতেই তিনি ক্ষমতার দাপটে শির উঁচিয়ে রাখেন সর্বদা। পলক কাইসার সামনে কয়েকটা গু’লি চালিয়ে এগিয়ে এসে ইফানের কাঁধে রেখে বলে উঠলেন,
–”বেটা, তু অভি আপনি বিবি কো লেকর ইহা সে চলা যা। বাকি ম্যায় দেখ লুঙ্গা।”
ইফান থমকাল। শঙ্কিত নয়নে আমার দিকে তাকাল। আমি বমি করে সব ভাসিয়ে দিয়েছি। ইফান চটজলদি এসে আমার কাছে হাঁটু গেড়ে বসল। আমার মুখাবয়ব তার দু’হাতের তালুতে পুরে বিচলিত কণ্ঠে শুধাল,
–”আমার বুলবুলি, খুব কষ্ট হচ্ছে জান?”
–”আমাকে এখান থেকে নিয়ে চল। এখানে দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার।”
ইফান ত্বরিতে আমাকে ঝাপটে ধরে দাঁড় করাল। আমার চোখেমুখে লেপ্টে থাকা আধভেজা চুলগুলো সরিয়ে দিল। কিছু বলবে অমনি মাইকিং আওয়াজ ভেসে আসল,
–”ভেতরে যারা আছেন তারা পালানোর একদমই চেষ্টা করবেন না। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আপনাদের চারদিক থেকে সম্পূর্ণভাবে ঘেরাও করেছে। আপনাদের পালানোর সব পথ বন্ধ।”
এক লহমায় দুই দল লড়াই বন্ধ করে স্তব্ধ হয়ে গেল। পরমুহূর্তেই হুলুস্থুল শুরু হয়ে গেল। বিপক্ষের লোকরা পালানোর পায়তারা চালাল। পলক কাইসার সহ সকলে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে। মাহিন, মীরা, ইনান এদিকে ছুটে এলো। পলক কাইসারের কাছে সকলে প্রশ্নবিদ্ধ নয়নে তাকাতেই পলক কাইসার চিন্তিত গলায় বলে উঠলেন,
–”সেনা ওয়ালে ক্যায়েসে পৌঁছ গয়ে? উনহোঁ ক্যায়েসে পতা চলা!”
মীরা কপাল চাপড়াল। সকলে তার দিলে তাকেই মীরা বলে উঠল, “এতক্ষণ যে কিটদের সাথে নিছক লড়লাম তাদের লিডারই এখানে নেই!”
মাহিন দু হাত কোমর চেপে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে আওড়াল,”ইট ওয়াজ আ ট্র্যাপ!”
ইফান দাঁতে দাঁত পিষল। একহাত সজোরে মুষ্টিবদ্ধ করে চোখ বুজে নিল। সেনাবাহিনী মাইকিংএ অনবরত সাবধান করে দিচ্ছে কেউ যাতে না নড়ে নিজ জায়গা থেকে। পলক কাইসার বিচলিত কণ্ঠে বলে উঠলেন,
–”অভি এক কাম কর, ফিলহাল সব লোগ ইইয়াহাঁ সে নিকলো, জলদি।”
বলা মাত্রই তিনি দ্রুত কদমে পা চালিয়ে এগিয়ে গেলেন নিজ হেলিকপ্টারের দিকে। মাহিন, মীরা ছুটল নিজ বাইকের দিকে। ইনান ব্রুনোকে নিয়ে ছুটল। ব্রুনো যেতে চাচ্ছে না। সেই তখন থেকে অনবরত ডেকে যাচ্ছে। বেজায় অস্থির আচরণ করছে। ইনান তবুও টেনেটুনে ব্রুনোকে নিয়ে যেতে লাগল। ব্রুনো বারবার পিছনে ফিরে মনিবকে দেখে ডাকছে। ইফানের সেদিকে মন নেই। সে আমার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছে। হঠাৎই পিছন থেকে আবারও ফায়ারিং এর আওয়াজ শুরু হলো। সাথে সেদিক থেকে দ্রুতগতিতে অনেকগুলো পায়ের ছুটে আসার ভারী আওয়াজ কর্ণগোচর হচ্ছে। পদচারণের এহেন প্রখরতা দেখে মনে হচ্ছে একদল বাহিনী বুটের আওয়াজ তুলে এগিয়ে আসছে। ইফান এক পলক পিছনে ঘুরল। তক্ষুনি পলক কাইসারের গলা ভেসে এল,
–”বেটা, জলদি কর। খড়ে রহকর সময় বরবাদ করনা বন্ধ কর।”
ইফানের টনক নড়ল। তার একহাতে রিভলবার অপর হাতে আমার হাত শক্ত করে ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগল। বমি করে আমার দেহ আরও নেতিয়ে পড়েছে। আমি হাটতে পারছি না। ইফান তবুও আমাকে টেনে দ্রুত কদমে এগোচ্ছে। বাইরের আবহাওয়া ভালো না। ভীষণ জোরে উন্মাতাল ঝড়ো হাওয়া বইছে। মাঝেমধ্যে আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। সহসাই পিছনে গু’লিগু’লি থেমে পড়ল। আচমকা চারপাশ আলোয় ঝলমল করে উঠল। খুব সন্নিকট থেকে ভেসে এল মাইকিং-এর আওয়াজ,
–”ইফান চৌধুরী, পালানোর পথ বন্ধ। আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করুন। আমরা সব জানি আপনার সম্পর্কে।”
ইফান থামল না। আমার পা থমকে গেলেও ইফানের হাতের টানে চলতে লাগলাম। সেভাবেই দৃষ্টি ঘুরাতেই নজরে এলো শতশত অস্ত্রধারী সেনাবাহিনী আমাদের ঘিরে ফেলেছে। অজানা শঙ্কায় আমার বুক কেঁপে উঠল। আমি ফুপিয়ে আকুতি করে উঠলাম,
–”দোহায় লাগি ইফান, থেমে যাও। ওরা ঘিরে ফেলেছে। তুমি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল। তোমার পাপের পাল্লা আকাশচুম্বী। তুমি এখন না থামলে ওরা ক্রসফায়ার করতেও দ্বিধা করবে না। ওদের কাছে সেই নির্দেশ আছে। আত্মসমর্পণ কর।”
ইফান বিন্দুমাত্র টলল না। বরং জেদি গলায় বলে উঠল,”আমি মাথা নিচু করতে শিখিনি। আত্মসমর্পণ শব্দটা আমার ডিকশনারীতে নেই।”
পলক কাইসার হেলিকপ্টারে উঠতে গিয়েও থমকে দাঁড়িয়েছেন। তিনিসহ সকলে পিছনে ফিরে পাল্টা বন্ধুক তাক করে ধরেছে সেনাবাহিনীদের দিকে। আকাশে উড়ন্ত হেলিকপ্টারের আওয়াজে সকলে উপরে তাকাতেই লক্ষ্য করল বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার উড়ছে। বিমান বাহিনী আকাশ পথে হেলিকপ্টার নিয়ে সবাইকে ঘেরাও করে ফেলেছে। হেলিকপ্টারের পাখার দাপটে সৃষ্ট তীব্র বাতাসে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা মুশকিল হয়ে পড়ছে।
বারবার ইফানকে সাবধান করা হচ্ছে আর এক পা-ও না এগোতে। ওরা গু’লি চালাতে বাধ্য হবে। ইফান কিছুতেই থামছে না। বরং ওর ক্ষিপ্র হাঁটার দাপটে প্রশস্ত কাঁধ দুটো আরও টানটান হয়ে উঠছে, আর প্রতিটি পদক্ষেপে জমিনে ভারী বুটের এক একটি সশব্দ প্রত্যয় প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। সে আমার হাত ধরে টেনেটুনে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা দাঁড়িয়ে থাকা বিমানটির খুব সন্নিকটে পৌঁছে গেছি প্রায়। এদিকে বাতাসের দাপটে উড়ছে আমার চুল, শাড়ির আঁচল। আমার নিঃশক্তি দেহ আর এগোতে পারছে না। আমি কেঁদে আকুতি করে যাচ্ছি অনবরত। পলক কাইসারসহ সকলে ইফানকে থামতে বলছে। কিন্তু এই পা’গল লোক করো কথায় কানে তুলছে না। আত্মসমর্পণ করা মানেই তার পাহাড়সম বিশাল অহমিকার দেয়াল চূর্ণ হওয়া। তার ইগো তা কিছুতেই হতে দিবে না। হঠাৎই আমার কানে ভেসে এলো অতি পরিচিত পুরুষালি কণ্ঠস্বর,
–”জাহান, তোর হাসবেন্ডকে আত্মসমর্পণ করতে বল। না হলে ফলাফল কি হবে একজন আইনের লোক হয়ে তুই নিশ্চয়ই ভালো করে জানিস।”
আমি ত্বরিতে দৃষ্টি ঘুরাতেই লক্ষ্য করলাম শতশত সেনাবাহিনীর মধ্যে রিভলবার তাক করে দাঁড়িয়ে আছে সিআইডি টিম। তাদের মধ্যে আমার দৃষ্টি স্থির হলো সিআইডি অফিসার আরমাল শেখ জিতুর দিকে। যে কিনা এই মুহূর্তে অন ডিউটিতে আছে। জিতু ভাইয়ার সাথে দৃষ্টি বিনিময় হতেই আমি থমকে গেলাম। দ্রুত চলার পথে আমি আকস্মিক থমকে যাওয়ায় ইফানের হাতের বাঁধন থেকে আমার হাত খসে পড়ল। কয়েক পা সামনে এগোতেই ইফান থমকে দাঁড়াল। হঠাৎ করেই চতুর্দিক নৈঃশব্দ্যে ছেয়ে গেল। ইফান ধীরলয়ে পিছনে দৃষ্টি ঘুরাতেই দেখল তার দিকে রিভলবার তাক করে দাঁড়িয়ে স্বয়ং তারই বউ।
চলবে,,,,,,,,
যারা পড়েছেন সবাই রিয়েক্ট কমেন্ট করবেন। ভুল ত্রুটি থাকলে ধরিয়ে দিয়েন। আমি তো মনে করেছিলাম আজ পর্বটা দিতেই পারব না। কারণ আমি সন্ধ্যা বেলা এডিট করতে গিয়ে দেখি পর্বটা নেই। মানে ডকুমেন্ট খুলছে না। আমি হার্ট অ্যাটাক করতে করতে বেঁচে গেছি ভাই। ভাগ্যিস অনেক চেষ্টা করার পর কপিটা সংগ্রহ করেছি, যা ছিল এলোমেলো কিছুটা৷ আমাকে আবারো নতুন করে পুরোটা গোছাতে হয়েছে। ভাবতে পারছেন বিষয়টা! এতদিনে একটু একটু করে লেখাটা আবার এইটুকু সময়ে আমাকে ঠিকঠাক করতে হয়েছে!
হ্যাপি রিডিং
Share On:
TAGS: জান্নাত মুন, জাহানারা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জাহানারা পর্ব ৭৭
-
জাহানারা পর্ব ৮৭
-
জাহানারা পর্ব ৮১
-
জাহানারা পর্ব ১১+১২
-
জাহানারা পর্ব ৮৩
-
জাহানারা পর্ব ৫৭+৫৮
-
জাহানারা পর্ব ১৩+১৪
-
জাহানারা পর্ব ৭৮
-
জাহানারা পর্ব ৪৯+৫০
-
জাহানারা পর্ব ৮৯