#জাহানারা
#জান্নাত_মুন
পর্ব :৯৩
ক’পি করা নিষিদ্ধ
সতর্কবার্তা:
এই গল্পে অ’কথ্য ভাষা এবং স”হিং’সতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সং’বে’দনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।
আমি ধ’স্তাধ’স্তি করছি অনবরত। কিন্তু ইফানের বাঁধন থেকে কিছুতেই নিজেকে ছাড়াতে পারছি না। মদির নয়নে ইফান আমার অস্থিরতা দেখল, আমার ক্রো’ধে লাল হওয়া মুখশ্রী দেখল। অতঃপর আচানক আমার কন্দনরত, কম্পমান ওষ্ঠাধর নিজের ঠোঁটের নিগড়ে বন্দী করে ফেলল। মনের খায়েশ মিটিয়ে তবেই ছাড়ল। ততক্ষণে আমার নিশ্বাস ভারী হয়ে ওঠেছে। অ্যা’লকোহলের উগ্র, ঝাঁঝালো গন্ধে বমির উদ্রেকও আসছে। আমি ছাড়া পেতেই জোরে জোরে দম নিতে লাগলাম। আমার ঠোঁটের লিপস্টিক ঘেটে গেছে। ইফান বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে আলতো করে আমার ঠোঁটের কোণ মুছে দিতে দিতে হাস্কি স্বরে আওড়াল,
–“এটা কি করেছ তুমি! কি করেছ! আমার জন্য সেজেছ! টেল মি, আমার জন্য?”
আমি কন্দনরত গলায় বলে উঠলাম,“ভুল করেছি। আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম তুই একটা জা’নো’য়ার। তুই বারবার এভাবেই আমার সদ্য তৈরি হওয়া অনুভূতিগুলো পায়ে পিষে দিস। তোকে আমি আজও মানুষ করতে পারলাম না।”
ইফান আমার কপালে কপাল ঠেকিয়ে হিসহিসিয়ে আওড়াল,
–“স্টপ ক্রাইং। কাঁদার জন্য পুরো রাতই পরে আছে বেব।”
বাক্যটা আওড়েই আমার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। আমার কান্নার বেগ আরও বাড়ল। আমি সেভাবেই অভিযোগ করে বলতে লাগলাম,
–“তুমি কোন জীবনে আমায় বুঝবে? বল, কোন জীবনে? আমার বুঝি স্বামীকে নিয়ে কোনো আহ্লাদ নেই? তুমি ভীষণ বাজে লোক। ভীষণ খারাপ। অহংকারী লোক একটা। আজ পর্যন্ত একটি বারও বললে না আমায় ভালোবাস। কেন বললে না আমায় ভালোবাস? খালি আমার উপর নিজের জোরই দেখাতে পার।”
আমি চোখ বন্ধ করে ঠোঁট টিপে ফুপিয়ে যাচ্ছি। আমার চোখের কর্নিশ বেয়ে একনাগাড়ে তপ্ত নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে। কান্নার তোড়ে ওঠানামা করছে আমার সুডৌল বক্ষ। পলকহীন আমার বিধস্ত মুখশ্রীর পানে চেয়ে রইল ইফান। সহসা হেবি ড্রা’গ নেওয়ায় অস্বাভাবিক রকম রক্তিম বর্ণ ধারণ করা ইফানের চোখগুলো শীতল হয়ে আসল। ধীরলয়ে সে তার অধরযুগল দিয়ে আমার চোখ নিঃসৃত অশ্রুকণাগুলো আহরণ করে নিতে লাগল। স্বামীর আদরে যেন আমার কান্নার বেগ আরও বাড়ল, বাড়ল অভিমানের পাল্লা। ইফান তার ওষ্ঠপুট আমার কানে ছুঁয়াল। অতঃপর হিসহিসিয়ে বলে উঠল,
–“আমার মুখ থেকে তুমি ঐ শব্দটা শুনতে চাও?’
স্তম্ভিত হয়ে গেলাম আমি। কোনো প্রত্যুত্তর করলাম না। নিজের ছেলেমানুষি কর্মকান্ডগুলোর কথা ভাবতেই ইতস্তত হয়ে উঠলাম। ইফান আমার বিব্রত মুখশ্রী দেখে ক্রুর হাসল। যা পরক্ষণেই কুয়াশার মতো মিলিয়ে গেল। ইফান আমার হাতের বাঁধন খুলে দিল। আমি বিস্মিত হলাম। কিন্তু ইফান আমাকে তার চেয়েও বেশি অবাক করে ওঠে দাঁড়াল। ঘুরে দাঁড়াতেই বলে উঠলাম,
–“ক…কি হয়েছে?”
–“নাথিং।”
আমি দ্রুত ওঠে বসতে গিয়েও ব্যর্থ হলাম। তল পেটে চিনচিন করে ব্যথা করছে। আমি পাংশুটে মুখশ্রী করে বিদ্রুপমাখা কণ্ঠে আওড়ালাম,
–“বাচ্চাদের মতো অভিমান করা তোমার মতো দামড়া বেডা মানুষের সাথে যায় না।”
ইফান এগোতে গিয়ে থমকে দাঁড়াল। আমার দিকে তাকিয়ে শক্ত কণ্ঠে আওড়াল,“আমি ভীষণ রেগে আছি। আর রাগিও না। ঘুমিয়ে পর।”
আমি চোখ কুঞ্চিত করে শুধালাম,“ও তাহলে এই জন্যই এভাবে ড্রা’গ নিয়েছ! তা সাহেব, এত রেগে থাকার কারণ কি শুনি?”
ইফান কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে পড়ল। চেহারায় অযাচিত উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। ইফানের বেখেয়ালিপনার সুযোগ আমি লুফে নিলাম। ওর হাতে হেঁচকা টান দিয়ে বিছানায় আমার পাশে এনে ফেললাম। মা’দকাসক্ত থাকায় ইফান তার দেহের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারি নি। পড়ে গিয়ে বেজার ক্ষু’ব্ধ নেত্রে আমার পানে তাকাল ইফান। আমার দুষ্টুমিমাখা চাপা হাসিতে মূহুর্তেই তার মাথা থেকে সব বেরিয়ে গেল। মুগ্ধ নয়নে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। আমি কাথ হয়ে ইফানের দিকে ঘুরে শুলাম। অতঃপর ইফানের পাংশুটে চেহারা দেখে ওর গাল টেনে বাচ্চাদের মতো আওড়ালাম,
–“উহ্ রা’গ! রা’গ দেখাও আমার সাথে!”
ভ্রু কুঁচকে নিল ইফান। মেকি রাগ দেখিয়ে আমার হাত সরিয়ে দিল। ফের আমি হাত বাড়িয়ে ওর থুতনি ধরে সুরু চোখ করে তাকিয়ে বলে উঠলাম,
–“উহ্ কি তেজ! তেজি পোলা আমার হেব্বি পছন্দ!”
ইফান সরু চোখ করে আমার চোখের পানে তাকাল। আমি দাঁত দিয়ে জিহ্বা কেটে দুষ্টুমিভরা হাসলাম। ইফান গম্ভীর চেহারায় পলকহীন তাকিয়ে রইল আমার দিখে। আমি যেন ওর চোখের অব্যক্ত ভাষা পড়ে কিছু একটা আন্দাজ করে ফেললাম। আচমকা উঠতে যাব অমনি ইফান আমায় ঝাপটে ধরে ফেলল। চাপা স্বরে বলে উঠলো,
–“আমারও এই ঝাঁঝওয়ালি হেব্বি পছন্দের।”
আমি খিলখিল করে হেসে নিজেকে ছাড়াতে চাইছি। ইফান ঠোঁট কামড়ে নিঃশব্দে হাসল। পরক্ষণেই সে আমার ঘাড়ে মুখ গুঁজে দিল। সহসা আমার হাসি থেমে গেল। ইফান আমার ঘাড়ে নাক ঘষে দীর্ঘশ্বাস টানছে। ওর তপ্ত শ্বাস আমার ঘাড়ে আঁচড়ে পড়ছে। ইফানের একটা হাত ধীরেলয়ে আমার উন্মুক্ত পিঠে বিচরণ করছে। আমার ব্লাউজের ফিতায় হাত দিতেই চোখ বন্ধ করে নিলাম। শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম ওর গলা।
ইফান পলকে অবস্থান বদলে নিজের উপর থেকে আমায় বিছানায় শুইয়ে দিল। অতঃপর নিজে আমার উপর ঝুঁকে পড়ল৷ আমার হাত নিজের হাতে নিয়ে চুমু খেতে যাবে অমনি ভাইব্রেট ফোনের আওয়াজে থমকাল ইফান। চেহারার রোমাঞ্চকতার ছাপ উবে চোয়াল শক্ত হয়ে গেল তার। আমি ওর চেহারা দেখে ঠোঁটে ঠোঁট টিপে নিঃশব্দে মিটিমিটি হাসলাম। আমার হাস্যোজ্জ্বল মুখাবয়ব দেখে আরও রাগান্বিত হয়ে গেল সে। প্যান্টের পকেট থেকে ফোন বের করে একবারও ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখারও প্রয়োজনবোধ করল না। সপাটে ফোন বন্ধ করে অবেলায় বিছানার এক কোণায় ফেলে দিল। আমি নাখুশ হয়ে নিচু গলায় বলে উঠলাম,
–“কে কল করছে একবার দেখা উচিত ছিল তোমার। গুরুত্বপূর্ণ কলও হতে পারে!”
ইফান আমার দিকে পুনঃদৃষ্টি স্থির করল। ওর ঘায়েল হওয়া চাহনিতে জমে গেলাম আমি। ইফান ফের আমার হাতটা ওপরে তুলে তার ওষ্ঠাধরের উষ্ণ ছোঁয়া মেখে দিল। মাদকতা মেশানো হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে বলে উঠলো,
–“শিওরলি, দ্যাট ওউন্ট বি মোর ইমপোর্ট্যান্ট দ্যান ইউ।”
লাজে আমি রঙা হয়ে উঠলাম সহসা। চোখ ফের বুঁজে নিলাম। ইফানও সম্মোহনী হাসল। অতি যত্ন নিয়ে ধীরে ধীরে আমার দু’হাতের চুড়িগুলো খুলে নিল। তার আলতো হাতের স্পর্শ আমার উন্মুক্ত উদর ছুঁয়ে উর্ধ্বমুখী হয়ে অবশেষে গ্রীবাদেশে এসে থমকে দাঁড়াল। ধীরলয়ে খুলে নিল আমার গলার নেকলেসটা। তারপর এক এক করে কানের ঝুমকো জোড়া৷ আজ প্রথমবার আমার ভেতরে ভিন্ন এক অনুভূতির জোয়ার জাগছে। পুরুষালি দেহের মাদকতা মেশানো কোলনের সুঘ্রাণে আমি ধীরে ধীরে বশীভূত হয়ে যাচ্ছি। আমার তলপেটের অবাধ্য প্রজাপতিরা ডানা মেলেছে। শুকনো ঢোক গিললাম আমি। তা ইফানের প্রখর দৃষ্টি এড়ালো না। বাঁকা হেসে আমার কণ্ঠনালিতে গভীর চুম্বন আঁকল। কলার বোনে আলতো করে দাঁত বসাল। বন্ধ চোখজোড়া খিঁচে নিলাম আমি। সাথে মৃদু আর্তনাদ করে উঠলাম। ইফান পরোয়া করল না তার। ধীরে ধীরে সে নিজের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। ঘনঘন নিশ্বাস ফেলার ভারী কামনাবদ্ধ আওয়াজে আমি চোখ মেলে তাকালাম। সহসা দৃষ্টি বিনিময় ঘটল ইফানের সাথে। ওর ধূসর বাদামী অক্ষিযুগল ফের অস্বাভাবিক র’ক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। কপালের শিরাগুলো ফুলে ওঠেছে, এমনকি বলিষ্ঠ হাতের নীলচে শিরাগুলোও চামড়া ফুঁড়ে বেরিয়ে তীব্র র’ক্তচলাচলের জানান দিচ্ছে।
আমার কপাল বেয়ে ঘাম ঝরতে লাগল। নিশ্বাস ভারী হয়ে আসল। ইফান আমার এক কাঁধ থেকে ব্লাউজ নামিয়ে নিল। উন্মুক্ত কাঁধের শ্বেতশুভ্র জমিন জুড়ে তার নি’র্লজ্জ ঠোঁটজোড়ার বিচরণ চালাল। হঠাৎই লোকটা নিজের উপর সমস্ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসল। এতক্ষণে তার মধ্যকার কৃত্রিম কোমলতাটুকু নিমিষেই খসে পড়ে জা’নোয়ারের মতো উ’গ্রতায় রুপ নিল। ওর হাতদুটো আমার সর্বাঙ্গে লা’গামহীন হয়ে পড়ল। দীর্ঘদিনের এই যোজন যোজন দূরত্বের অবসান ঘটিয়ে আমাদের মধ্যকার শেষ বিন্দুমাত্র ব্যবধানটুকু ঘুচিয়ে দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে, সে আমার কানের কাছে হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে বলে উঠল,
–“জারা!”
–“উ!”
আমি বিমোহিত ঘোর লাগা কণ্ঠে অস্ফুটে আওড়ালাম। ইফান শুকনো ঢোক গিলল। তার ঘনঘন ভারী নিশ্বাসের আওয়াজ আমার কানে খুব তীব্রভাবে আঘাত করছে। এক মূহুর্ত রুমজুড়ে নৈঃশব্দ্য। অতঃপর সেই নিশ্ছিদ্র নৈঃশব্দ্য চূর্ণ করে আমার কানের গহীনে বেজে উঠল ইফানের হাস্কি কণ্ঠস্বর,
–“আই…লাভ…ইউ!”
মাত্র তিনটি শব্দে থমকে গেল আমার সমগ্র অস্তিত্ব, মোচন হলো আমার দীর্ঘ দূরত্বের সীমারেখা, মিলিত হলো দুটো তৃষ্ণার্ত দেহাত্মার। আমি স্তম্ভিত, বিমোহিত, বাকহারা। আমার কানে অনবরত প্রতিধ্বনিত হতে লাগল ইফানের বলা শব্দ তিনটে। অনিমেষ আমার চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগল আনন্দ অশ্রু। আমি ফুপিয়ে ওঠে ইফানের গলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। ওর বণ্য স্পর্শগুলো আমাকে এলোমেলো করে দিচ্ছে অনবরত। আমার সর্বাঙ্গে এঁকে দিচ্ছে তার অধিপত্যের সিলমোহর। ঘরের চার দেওয়ালে আছড়ে পড়ছে আমার অবরুদ্ধ আবেগের ব্যাকুল কণ্ঠস্বর। নিজের অস্থৈর্যকে সামাল দিতে খামচে ধরলাম অসংযত লোকটার পিঠ। আবার তার মাথার উষ্কখুষ্ক চুল। ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে সেথায় অধর ছুঁয়ালাম। অস্ফুটে বলতে চাইলাম,
–“আ…আমিও তোমাকে ভা…!”
আমি মুখ নিসৃত বাক্য সম্পূর্ণ করতে পারলাম না। তার আগেই আমার ঠোঁটের উপর ইফান আঙুল ধরে চুপ করিয়ে দিল। আমি বিস্মিত দৃষ্টিতে ইফানের ঘর্মাক্ত চেহারার পানে তাকালাম। ইফান ঢোক গিলে বলল,
–“মা’রতে চাইছ আমায়, বুলবুলি? বাট আমি এই মূহুর্তে ম’রতে চাইছি না। বাক্যটা নাহয় তোলা থাক। আমি না-হয় পৃথিবীর সব বাঁধা পেরিয়ে হলেও এই তিনটা শব্দ শুনার জন্য বারবার তোমার কাছে ফিরে আসব।”
আমি ছলছল নেত্রে তাকে দেখছি। ইফান অধরকোণ বাঁকাল। আমার কানের কাছে ঠোঁট ছুইয়ে হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে বলে উঠলো,
–“প্রমিস! ম’রণও আমাকে ঠেকাতে পারবে না। ডু ইউ নো হোয়াই?”
ইফান আমার চোখে চোখ রাখল। আমার ঘর্মাক্ত, শ্রান্ত মুখচ্ছবি অবলোকন করে আমার কপালে কপাল ঠেকাল। একই স্বরে বলে উঠলো,
–“কজ ইউ আর মাই লাইফ, মাই সোলমেট।”
বাস! কথারা এখানেই চুপ হয়ে গেল। ইফান আমার উদ্দাম হাত দুটো নিজের হাতবন্দি করে ফেলল। এক সময় এই চমৎকার রাতটা হয়ে উঠল আমার কাছে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর। আর হয়ে উঠল আমার ধৈর্যচ্যুত। ইফানের লা’গামহীন উ’গ্রতা আমার সহ্যসীমার প্রাচীর পেরিয়ে যেতেই নিজেকে ছাড়াতে ব্যাকুল হয়ে উঠলাম। কিন্তু দীর্ঘ সময় পর আমাকে কাছে পেয়ে নিজের আরও কাছে টেনে নিতে মরিয়া হয়ে উঠল মাফিয়া বস। ওদিকে বাইরের দখিনা হাওয়ার বেগ চড়চড় করে বাড়তে লাগল। ঘরের ঝুলন্ত, শুভ্র মসৃণ মখমলের পর্দাগুলো সেই বাতাসের তালে অনবরত দোল খেয়ে এক ভৌতিক নৃত্য শুরু করল। এক সময় ধবধব করে রুমের সবগুলো মোমবাতির লকলকে জ্ব’লন্ত শিখাগুলো এক লহমায় নিভে গেল। সঙ্গ ধরে ফেইরী লাইটগুলোও ঝিমিয়ে পড়ল। সাথে ক্লান্ত হয়ে বুঁজে এল আমার নেত্রপল্লব।
____________
রাতের তৃতীয় প্রহর চলছে। পুরো রুম জমাট বাঁধা নৈঃশব্দ্যে ছেয়ে আছে। ইফান তার ক্লান্ত, বলিষ্ঠ দেহটা বিছানায় উপুড় করে, বালিশের নরম ভাঁজে মুখ গুঁজে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। হঠাৎ তার কর্ণদারে কারো ফুপিয়ে কান্নার আওয়াজ পৌঁছেতেই ঘুমের ঘোরেই তার চেহারায় বিরক্তিভাব ফুটে উঠল। পরমুহূর্তেই সেই ফুপিয়ে কান্নার আওয়াজ ইফানের কানে আরও স্পষ্টভাবে পৌঁছাতেই টনক নড়ে গেল তার। আকস্মিক চোখ মেলে তাকিয়ে অস্ফুটে আওড়াল,
–“জারা!”
সারা রুম অন্ধকারের এক নিশ্ছিদ্র চাদরে ঢাকা। ইফানের চোখের তারায় সেই অন্ধকার যেন আরও ঘনীভূত হয়ে ধরা দিল। এদিকে ইফানের ডাকে আমি আরও জোরে হেঁচকি তুলে ফুপিয়ে উঠলাম। এবার ইফানের হুঁশ যেন সম্পূর্ণ ফিরল৷ হাত বাড়িয়ে বেড সাইডের ল্যাম্পটা জ্বালিয়ে দিল। মূহুর্তেই সবকিছু দৃশ্যমান হলো। ইফান দ্রুত ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। তার নজরে পড়ল আমার উন্মুক্ত পিঠ। যেখানে বেশ কয়েক জায়গায় লালচে বর্ণ হয়ে আছে। খনিকের জন্য ইফান স্তব্ধ হয়ে গেল। তার কণ্ঠনালি বেয়ে এক কষ্টসাধ্য শুকনো ঢোক নেমে গেল।
আমি ফুপিয়ে যাচ্ছি অনবরত। সাদা চাদরের অভন্ত্যরে আমার সম্পূর্ণ পেলব দেহটা কম্পিত হচ্ছে। নে’শার ঘোরে করা নিজের কুকর্মের কথা ঝাপসা স্মরণ হতেই নিজের মাথার চুল দু’হাতে খামচে ধরল ইফান। চোখ খিঁচে বিড়বিড়িয়ে অশ্রাব্য ভাষায় নিজেকে গা’লি-গালাজ দিয়ে ভর্ৎসনা করল। তৎপর আর এক মূহুর্ত সময় নষ্ট করল না সে। এক ঝটকায় আমার দেহটা তুলে নিজের চওড়া বুকের সাথে মিশিয়ে নিল ইফান। তার উষ্ণ বুকে মুখ গুঁজে কেঁদে উঠলাম আমি। ইফান আমার মাথায় এলোপাতাড়ি চুমু খেল। আমার মুখ তুলে মুখাবয়বের উপর লেপ্টে থাকা এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে দিল। আমার এহেন বিধস্ত চেহারা দেখে কেঁপে উঠল ইফানের ইস্পাতকঠিন বক্ষ। আমার নেত্রপল্লব ভেজা। ইফান ওষ্ঠাধর ছুঁইয়ে চুষে নিল সেই নোনাজল। শঙ্কিত কণ্ঠে শুধাল,
–“জারা তুমি ঠিক আছ?”
আমি চোখ বন্ধ করে দু’পাশে মাথা ঝাঁকালাম। যার অর্থ না আমি ঠিক নেই। ঢোক গিলল ইফান। আমার লালচে বর্ণ ধারণ করা পেলব গাল ছুঁইয়ে অধীর কণ্ঠে শুধাল,
–“ক..কি সমস্যা হচ্ছে তোমার?”
–“তল পেটে খুব ব্যথা করছে।”
অযাচিত অভিশঙ্কায় চোখ দু’টো কিঞ্চিৎ প্রসারিত হলো ইফানের। আমার সম্ভার ঢেকে রাখা চাদরখানা ইফান এক টানে আমার দেহের উপর থেকে সরিয়ে নিল। সহসা দৃষ্টি গোচর হলো আমার নাজেহাল দশার। লাল র’ক্তে আমি আর বিছানার সাদা চাদরের অবস্থা শোচনীয়। এহেন দৃশ্য দেখে থরথর করে কেঁপে উঠল ইফানের হাত। ইফান জিহ্বা দিয়ে শুষ্ক অধর ভিজাল। আর এক মূহুর্ত সময় অপচয় না করে আমাকে পাঁজাকোলে তুলে নিল। আমি ওর গলা জড়িয়ে ধরে ব্যথায় মৃদু আওয়াজে গোঙাতে লাগলাম। ইফান আমাকে তুলে নিয়ে সোজা ওয়াশরুমের উদ্দেশ্যে পা বাড়াল। নিজের সম্ভারটুকুও ঢাকার প্রয়োজনবোধ করল না।
*
ওয়াশরুমে এনে আমাকে সোজা বাথটবে শুইয়ে দিলো ইফান। অতঃপর সময় নিয়ে আমাকে ফ্রেশ করিয়ে দিল। স্বচ্ছ, স্ফটিকের মতো শীতল পানির পরশে সারাদেহে অদ্ভুত রকম একটু স্বস্তি অনুভব করছি। আমি ক্লান্তির নিশ্বাস ছাড়লাম। ইফান আমার দেহে টাউয়াল দিয়ে মুছে দিল। আমি টান মেরে ওর হাত থেকে টাউয়াল ছিনিয়ে নিয়ে নিজের সম্ভারটুকু আড়াল করে ধরলাম। ইফান তপ্ত শ্বাস ছেড়ে মোলায়েম কণ্ঠে শুধাল,
–“খুব কষ্ট হচ্ছে তাই না? আমি এক্ষুনি ডক্টরকে কল করছি।”
–“এতরাতে ডক্টরকে কল করতে হবে না। এখন একটু স্বস্তি…!”
বাকি বাক্যটুকু সমাপ্ত করতে পারলাম না। ইফানের দিকে তাকাতেই তার এহেন নিরাবরণ দশা দেখে দৃষ্টি ঘুরিয়ে আওড়ালাম,“ছি!”
–“কি ছি?”
ইফান ভ্রুকুটি করে নিজের দিকে তাকাল। আমি অন্য দিকে তাকিয়েই আওড়ালাম,“নি’র্লজ্জ বে’হায়া!”
আমাকে নিয়ে এই উদ্বীগ্নতার মধ্যেও কোমরে দু’হাত ধরে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ঠোঁট টিপে নিঃশব্দে এক চিলতে হাসল। অতঃপর পা বাড়িয়ে কাঁচের দেয়ালটায় দুই হাত ঠেকিয়ে শাওয়ারের নিচে গিয়ে দাঁড়াল সে। মুহূর্তেই স্ফটিক-শীতল পানির ধারা ইফানের মাথা ছুঁয়ে তার সমস্ত বলিষ্ঠ দেহে এক অবাধ্য স্রোত বইয়ে দিল। সেভাবেই ইফান কিছুটা বিব্রত অথচ শান্ত গলায় ডেকে উঠল,
–“বুলবুলি..!”
–“উু?”
–“আ’ম সরি।”
আমি তেছড়া চোখ করে ইফানের দিকে তাকালাম। সহসা বিব্রত হয়ে রাঙা চেহারায় অন্য পাশে দৃষ্টি ঘুরালাম। কোনো প্রত্যুত্তর করলাম না। গ্লাসে নিজের প্রতিচ্ছবি ভেসে আছে। সেদিকে স্থির তাকিয়ে রইলাম। সদ্য শাওয়ার নেওয়ায় আমাকে অনেক উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। এখনো চোখের নিচে কাজলের কালচে ছায়া লেপ্টে আছে। এই জন্য আমাকে আরও অসম্ভব সুন্দর দেখতে লাগছে। ডান গালে কামড়ের দাগ স্পষ্ট। তাছাড়া উন্মুক্ত গ্রীবাদেশজুড়ে বেশ কয়টা লালচে দাগ ঝলঝল করছে। আলতো করে সেখানে ছুয়ে দিতেই সারা দেহে শিহরন বয়ে গেল। কিন্তু বেশিক্ষণ এই রোমাঞ্চকর অনুভূতিটা পাত্তয়া করতে পারলাম না। এখনো তল পেটে চিনচিন ব্যথা করছে। টাউয়াল উদর থেকে সরিয়ে দিতেই গ্লাসে উন্মুক্ত উদর ভেসে উঠল। সেথায় হাত বুলিয়ে দিলাম। আজকাল পেটটা বেশ ভার লাগে। লাগারই কথা হুট করেই কেমন জানি নিজেকে মোটা মোটা লাগে। বিশেষ করে কামিজ পড়লে পেটটা একটু ফোলা লাগে। হঠাৎই মস্তিষ্ক স্থির হয়ে গেল। বি’ষন্ন মনে ভাবনায় তলিয়ে গেলাম। তবে আকস্মিক দৃষ্টি ঘুরাতেই লক্ষ করলাম ইফান ঘাড় কাথ করে আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে। আমি দ্রুত দেহে আবরণটা টেনে নিলাম। ইফান শান্ত গলায় শুধাল,
–“জারা!”
–“হু?”
–“ইজ এভরিথিং ওকে?”
আমি তৎক্ষনাৎ প্রত্যুত্তর করলাম না। আমার বিষণ্ণ, ম্লান মুখচ্ছবির পানে ইফান তাকিয়েই রইল পলকহীন। আমি নত মাথায় গলার স্বর খাদে নামিয়ে বলে উঠলাম,
–“ঐ অ্যা’ক্সিডেন্ট না হলে আজ বোধহয় ওর চার পাঁচ মাস হতো!”
বলতে না বলতেই টুপ করে আমার হাতের উপর কয়েক ফোটা তপ্ত অশ্রুকণা পড়ল। আমি আরও শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরলাম টাউয়ালটা। ইফান নিস্প্রভ, নিষ্প্রাণ নয়নে আমার পানে এখনো তাকিয়ে। আমি কিছুক্ষণ চুপ থেকে ফের অপরাধী গলায় বলে উঠলাম,
–“বোধহয় আল্লাহ আমার পাপের শা’স্তিই এভাবে ফিরিয়ে দিল। ঠিকই হয়েছে। আমি শাস্তি পাওয়ারই যোগ্য।”
ইফান আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কোমরে টাউয়াল পেচিয়ে বেরিয়ে গেল। ইফানের এই আচরণে বুকে মোচড় দিয়ে উঠল। ছলছল নয়নে তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলাম। তবে আমার সেই অভিমানী চাউনি দীর্ঘস্থায়ী হলো না। মুহূর্তের মধ্যেই ইফান আবারও ওয়াশরুমে ফিরে এলো হাতে আমার কাপড় নিয়ে। কাছে এসে নিয়ে আসা কামিজটা পরিয়ে দিতে চাইলে নাক টেনে নিজেকে সামলে বললাম,
–“চার পাঁচ মাস ধরে পিরিয়ড হয় না বলে পেট কেমন যেন বড় আর ভার হয়ে গেছে। আমার সব কামিজগুলো টাইট হয়ে গেছে। পরলে দমবন্ধ লাগে।”
ভ্রু কুঞ্চিত করল ইফান। এক রাশ অসন্তোষ মাখা চেহারায় অনুযোগের সুরে বলল,“আগে বল নি কেন? আমার না হয় মাথায় ছিল না এসব। তোমারটা তুমি বলবে না!”
–“এত কিছু হয়ে গেল এ কদিনে। তারমধ্যে এসব নিয়ে কাউকে বলার মতন পরিস্থিতি কি আদৌ ছিল!”
ইফান ফোঁস করে নিশ্বাস ছাড়ল। আমাকে কোলে নিয়ে রুমে এসে গায়ে এখনখানা মখমলে শাড়ি জড়াতে সাহায্য করল। অতঃপর আমাকে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে নিজে গায়ে কাপড় জড়াতে লাগল। আমি বিছানায় গা এলিয়ে দিতে যাব তখনই আকস্মিকভাবে আমার দৃষ্টি হঠাৎ স্থির হয় বিছানার এক কোণায় চাদরের নিম্নাংশে। সেখানে ঝুলন্ত অবস্থায় ঝলঝল করছে নীল হিরকের নেকলেসটি। আমি নড়েচড়ে ওঠে হাত বাড়িয়ে নেকলেসটা হাতে তুলে নিলাম। চোখের সামনে তুলে ধরে কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম। সহসা কেমন যেন ঘোর লেগে গেল। নিজের ভেতরের সেই অবশ ভাবটুকু সামলে ধীরেপায়ে বিছানা থেকে নামতে লাগলাম। ইফান ঘাড় কাথ করে আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
–“নামছ কেন? রেস্ট নিতে বলেছিতো!”
আমি দাঁড়িয়ে ড্রেসিং টেবিলের দিকে ধীর পায়ে এগিয়ে যেতে যেতে ক্লান্ত কণ্ঠে বললাম,“এটা গুছিয়ে রেখেই শুয়ে পড়ছি।”
ইফান ভ্রু কুঁচকে আমার হাতের দিকে তাকাল। আমার হাতে ঝলঝল করছে হোপ ডায়মন্ডের নেকলেসটা। ইফান দৃষ্টি সরিয়ে গায়ে টিশার্ট জড়াতে লাগল। আমি ড্রেসিং টেবিলে রাখা সিন্দুকটায় নেকলেসটা রাখার আগমুহূর্তে ফের চোখের সামনে তুলে ধরলাম। কি অপূর্ব দেখতে নীল পাথরটা! ঘোর লেগে আসা কণ্ঠে আমি বলে উঠলাম,
–“জানো, এই গাঢ় নীল পাথরটার দিকে তাকালেই আমার কেমন যেন ভয় ভয় লাগে গো।”
টিশার্টের বোতামে হাত চালাতে চালাতে ইফান জিজ্ঞেস করল,“এটাকে ভয় পাওয়ার কি আছে?”
আমি চেহারায় কিছুটা উদ্বেগ রেখে সপাটে প্রত্যুত্তর করলাম,“ভয় পাওয়ার কি আছে মানে! তুমি কি এটা সম্পর্কে জানো না? আমি অনেকদিন আগে একটা ম্যাগাজিনে এটা সম্পর্কে পড়েছিলাম। সেখানে লেখা ছিল, লোককথা ও ইতিহাস অনুযায়ী, এই হীরার মালিক যারাই হয়েছে, তারা কোনো না কোনো চরম বিপ’র্যয় কিংবা অপমৃ’ত্যুর শিকার হয়েছে। যার ফলে এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত ‘অ’ভিশপ্ত রত্ন’ বলা হয়।”
ইফান চকিতে দৃষ্টি ঘুরাল। নীল পাথরটিকে অনেক উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। তার কারণও আছে বটে। এটির আলো ধারণ ও প্রতিসরণ করার ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি। সাধারণ আলো যখন এই হোপ ডায়মন্ডের ভেতর প্রবেশ করে, তখন পাথরটির নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে আলো ভেতরের দেয়ালে বাধা পেয়ে বারবার প্রতিফলিত হয় এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, এইজন্য নীল হীরকটিকে অত্যন্ত উজ্জ্বল করে তোলে।
ইফান নীল হীরকটিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পরখ করতে করতে কিছুটা অন্যমনষ্ক হয়ে পড়ল। তার কপালে কয়েকটা সুক্ষ্ম ভাঁজের সৃষ্টি হয়েছে। আমি নেকলেসটা সিন্দুকে রেখে ঢাকনা টেনে দিতে লাগলাম। ঢাকনা লাগানোর আগ মূহুর্তে অন্ধকার সিন্দুকের বুক চিরে এক চোখ ধাঁধানো রক্তিম আলোকরশ্মি বিচ্ছুরিত হলো! যা দেখামাত্রই ইফান বাম ভ্রু উঁচিয়ে ফেলল। তবে তার চেহারার বিস্ময়ের ছাপ ন্যানোসেকেন্ডর মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল। এই হীরকের সম্পর্কে যেন তার আগে থেকেই সব কিছু জানা। ইফান দৃষ্টি সরিয়ে নিল। জিহ্বার ডগা দিয়ে গাল ঠেলে বলে উঠল,
–“তুমি শুয়ে পড়। আমি ডক্টরকে কল করছি।”
আমি ডিজিটাল পাসওয়ার্ড চেপে সিন্দুক ফের লক করে দিলাম। সেটা হাতে নিয়ে কাবার্ডের দিকে ধীরপায়ে এগিয়ে যেতে যেতে প্রত্যুত্তরে বললাম,“এত রাতে ডক্টরকে আসতে বলো না। পেটের যন্ত্রণাটা অনেকটা উপশম হয়েছে।”
–“আমি কোনো রিক্স নিতে চাই না। আমি ডক্টরকে কল করছি।”
ইফান এগিয়ে গেল বিছানার দিকে। আমি যত্ন করে সিন্দুক কাবার্ডে রাখতে রাখতে বললাম,“আমি তো না করি নি ডক্টর দেখাব না। আমি বলছি এত রাতে ডেকো না। সকালে এসে না হয় চেক-আপ করে যাবে। অ্যা’ক্সিডেন্টের পর থেকেই তো আমার দেহে টুকটাক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই ডক্টর প্রতিমাসে তো দু-তিনবার করে আমাকে চেক-আপ করে যাচ্ছেন। উনি বলেছেন, বুকের সমস্যা আলহামদুলিল্লাহ ঠিক হয়ে গেছে। তারপরও এর জন্য কয়েকমাস শরীরে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তুমি এত টেনশন করো না।”
আমি সিন্দুকটা সুরক্ষিত স্থানে রেখে কাবার্ড লক করে দিলাম। এরমধ্যেই ব্রুনোর ডাক কানে ভেসে এলো। ইফান ততক্ষণে ফোনটা হাতে তুলে নিয়েছে, কিন্তু স্ক্রিনটা অন করতে গিয়েও সে মাঝপথে থমকে গেল। ভ্রু কুঁচকে দরজার পানে দৃষ্টি স্থির করল। আমি ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে অভিযোগ ঢেলে দিলাম ব্রুনোর নামে,
–“দেখেছ কি অ’সভ্য এটা? মাঝরাতেও তার ব’জ্জাতি না করলে চলে না!”
আমার কথায় ইফান কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না। বরং চোখ কুঁচকে ঠোঁট কামড়ে ধরল। এরমধ্যেই চিৎকার করে ডাকতে ডাকতে কোথা থেকে ঝড়ের বেগে ছুটে আসল ব্রুনো। ঘরের দরজা খোলা থাকায় সপাটে ওটা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করল। ব্রুনো তার লম্বা জিহ্বাটা বের করে একদণ্ড হাঁপিয়ে দম নিল। অতঃপর ইফানের সামনে এসে ভাউ ভাউ আওয়াজ তুলে ডাকতে আরম্ভ করেছে। সে ইফানকে কেন্দ্র করে চারদিকে বৃত্তাকারে ঘুরপাক খেয়ে যাচ্ছে। ইফান সুক্ষ্ম জহুরি নজরে ব্রুনোকে পরখ করে ব্রুনোর মাথায় হাত বুলিয়ে ভারী গলায় আওড়ালো,
–“হোয়াট হ্যাপেন্ড, বয়?”
ব্রুনো আরও জোরে ডেকে উঠল। সে বেশ অস্থির আচরণ করছে। ইফানের সামনে তাকে এমন অস্থির আচরণ করতে কখনো দেখি নি। তাই আমি কপাল কুঁচকালাম। এদিকে ব্রুনো দু’পা তুলে ইফানের কোলে চড়তে চাইল। তার এই অতিকায় অবয়বের এমন কাণ্ড দেখে আমি দাঁতে দাঁত পিষে ধমকে উঠলাম,
–“এই হতচ্ছাড়া, তোর কি এখনো সেই বয়স আছে কোলে উঠার?”
যদিও এর আগে বেশ কয়েকবার দেখছি ইফানকে এই বিশালদেহী ব্রুনোকে কোলে নিতে। ব্রুনো হিং’স্র হলেও মনিবের কাছে সে নিজেকে বাচ্চা মনে করে শিশুসুলভ আচরণ করে। এদিকে ইফানের চেহারার রঙ ধীরে ধীরে পাল্টে কাঠিন্যে রূপ নিচ্ছে। ইফান দ্রুত ফোন অন করল। ফোন অন হতেই ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থেকে ইফানের চোয়াল শক্ত, ব্লেডের ন্যায় ধারালো হয়ে গেল। ধূসর বাদামী নেত্র অযাচিত ক্ষো’ভে লালচে রক্তিম বর্ণ ধারণ করে উঠল। তার কপালের শিরাগুলো ফোলে গেল। শক্ত করে মুষ্টি করে ধরল মুঠোফোনখানা। হাতের বল এতটাই জোরালো ছিল যে তার বলিষ্ঠ হাতের শিরাগুলো ফোলে টগবগ করে ওঠল। হঠাৎ ইফানের এহেন কাঠিন্য মুখাবয়ব দেখে ভরকে গেলাম। শুনেছি বোবা প্রাণীরা বিশেষ করে কুকুররা আগে থেকেই বিপদের পূর্বাভাস পায়। আর ব্রুনো তো কঠোর ট্রেনিংপ্রাপ্ত পিওরব্রেড ডোবারম্যান পিন্সার জাতের কুকুর। তবে কি! আমি ভয়ার্ত ঢোক গিলে অস্ফুটে আওড়ালাম,
–“ই..!”
কিছু বলার ফুরসত পেলাম না। তার আগেই ইফানের হিমশীতল গলার স্বর ভেসে এলো,
–“রেডি হও।”
চলবে,,,,,,,,,,,
অনেক বড় পর্ব ভুল ত্রুটি থাকলে ধরিয়ে দিয়েন। যারা পড়েছেন সকলে রেসপন্স কইরেন। হ্যাপি রিডিং
Share On:
TAGS: জান্নাত মুন, জাহানারা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জাহানারা পর্ব ৮৯
-
জাহানারা পর্ব ৭৯
-
জাহানারা পর্ব ৯২
-
জাহানারা পর্ব ৯০(শেষাংশ)
-
জাহানারা পর্ব ৪
-
জাহানারা পর্ব ৯
-
জাহানারা পর্ব ৩৯+৪০
-
জাহানারা পর্ব ৮১
-
জাহানারা পর্ব ৮৭
-
জাহানারা পর্ব ১৩+১৪