জল তরঙ্গের প্রেম পর্ব ২১
লেখনীতেনবনীতাচৌধুরি
ভোর সাড়ে পাঁচটা না বাজতেই আজ সরকার বাড়ির অর্ধেক মানুষ উঠে পড়েছে।
বাইরে এখনো পরিষ্কার আলো ফোটেনি; চারপাশে মিশে আছে ধূসর আবছায়া। দূর কোথাও থেকে ভেসে আসছে পাখিদের কিচিরমিচির ডাক। নিস্তব্ধ ভোরকে ধীরে ধীরে ছন্দময় করে তুলছে সেই সুর। ঠান্ডা বাতাসে শিশিরের গন্ধ মিশে নতুন দিনের সূচনা জানান দিচ্ছে।
বাচ্চারা বাদে, মাঝ বয়সী সবাই উঠে পড়েছেন। তাদের সঙ্গেই আজ তরঙ্গ ও যোগ হয়েছে। গতকাল ও সে জলদি উঠে পড়েছিল, আজ ও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত দু’দিন ধরে রোদ মাথায় ঘুরাফেরা করার দরুন, তার গায়ের রঙে হালকা ক্লান্তির ছাপ পড়েছে। চোখের নিচে কালির দাগ পড়েছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে কয়েকদিন ধরে নাওয়া – খাওয়াতে বেশ অনিয়ম হচ্ছে। সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে সন্ধ্যায় ফিরছে। দুপুর শাওয়ার ভর সন্ধ্যায় নিচ্ছে। নিজের সুন্দর মুখের এই পরিবর্তন, এতক্ষণ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে খুঁটিয়ে দেখলো তরঙ্গ। থুতনি ধরে এদিক-ওদিক চোয়াল ঘুরিয়ে মুখশ্রী যাচাই করলো সে। পর পর হালকা বিরক্তি নিয়ে সেখান থেকে সরে এলো তরঙ্গ।
দু’হাত চুলের ভেতর চালিয়ে আরেক দফায় বিরক্ত হলো। রোদের তাপে চুল গুলো উষ্কখুষ্ক হয়ে গেছে। হালকা বাতাসেই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। আজ শ্যাম্পু না করলে ফের হেয়ার ফল বাড়বে। মাথার চুল নিয়ে বেশ প্রজেসিভ তরঙ্গ। তরীর পর তার দ্বিতীয় ভালোবাসা এই চুল। নিরেট কন্ঠে বিড়বিড়িয়ে উঠলো সে।
–” এমন করে দিন দিন তরঙ্গ থেকে কাকতাড়ুয়াতে রুপান্তর হয়ে গেলে; তরকারি জান তো আমাকে আর পছন্দ ই করবে না। এখন যাও পাশে শোয়। কবে না বিছানা ত্যাগ করেন মহারাণী। ওহ গড,”
চিন্তিত মননে সী-গ্রিন শার্টের বোতাম গুলো লাগিয়ে হাতা গুটিয়ে নিলো সে। ধীর পায়ে বিছানার পাশে এসে দাঁড়ালো। আলুথালু অবস্থায় ঘুমিয়ে আছে তরী। রাতে নিপুণ হাতে পাকানো বেণুণী থেকে বেরিয়ে এসেছে গুটি কয়েক ছন্নছাড়া চুল। সেগুলো ফ্যানের বাতাসে তরীর মুখের উপর খেলা করছে। তরীর ঘুমানোর ধরণ বেশ ভালো। কিন্তু, তরঙ্গ ঘুমানোর সময় হাত-পা ছোড়াছুড়ি করে। সে এখনো নিজের আয়ত্তে আনতে পারিনি ঘুমন্ত শরীরটাকে। সকালে উঠে ও দেখে ছিলো তার ডান পা তরীর গায়ের উপর। নিজের কাজে নিজেই অবাক হয়ে ছিলো তরঙ্গ।
আজ-কাল তরঙ্গের মনে হয় মেয়েটা তাকে জাদু করেছে। জাদুতে ও কি এতোটা পোখর শক্তি থাকে? যাতে দিনের চব্বিশ ঘন্টা ই একটা মানুষ অপর মানুষটির মস্তিষ্কে বিচরণ করতে পারে? তাকে নিয়ে ভাবনায় বিভোর হয়ে সময় ভোলা যায়। তাকে এক পলক দেখা বা কথা বলার নিমিত্তে শত বাহানা জুড়ে দেওয়া যায়। মানুষ বলে সৌন্দর্য দেখে নাকি ভালোবাসা হয়।
তবে তরীর গায়ের রঙ ও তো ওতো উজ্জ্বল না। আহামরি সৌন্দর্যের অধিকারীণী সে নয়। তবুও তরঙ্গের এতো কেন ভালো লাগে মেয়েটাকে? তার শ্যামবর্ণের ডাগর, ডাগর চোখের চাহনি তরঙ্গ কে টালমাটাল করে দেয়। কৃষ্ণ বর্ণ পাপড়ি গুলো ঝাপটে চোখ বুজে ফেলার দৃশ্যটা তাকে অস্থির করে তোলে। বক্ষতল্লাটে তোলে কালবৈশাখী ঝড়। সেসব ভাবনা রেখে। তরঙ্গ বিছানায় বসে ঝুঁকে পড়লো তরীর উপর। যতোটা ঝুঁকলে তরীর অস্তিত্বের টের পাওয়া যায় ঠিক ততটা।
তরঙ্গ ঝুঁকে এসে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো তরীর কলারবোনে। তরঙ্গের ভালোবাসাময় উষ্ণ স্পর্শে তরী নড়েচড়ে উঠলো। শান্ত কন্ঠে তরঙ্গ সুধালো,
–” আমার জীবনের প্রতিটা সকাল এমন আদুরে, ভালোবাসাময় করবো বলেই তো তোকে পরশু রাতে কাঁদিয়ে ছিলাম তরীজান। সবার সামনে অপমানিত হতে দেখে ও সত্যি কথা প্রকাশ করিনি। বিনে অধিকারে তোকে আমি সবার কটু কথা থেকে বাঁচাতে পারবো না। তার জন্য লিখিত অধিকার প্রয়োজন ছিলো। পেয়ে গেছি, এখন আর কোনো চিন্তা নেই তোর। তোর অসভ্য পুরুষ ই যথেষ্ট! তোকে বুকে আগলে পুরো সমাজ কে বুড়ো আঙুল দেখানোর জন্য।”
তরঙ্গ থামলো,
–” তুই আমাকে অসভ্য বলিস না! ঠিকই বলিস, আমি সত্যিই তোর বেলাতে খুব অসভ্য। যা দেখাই, তার থেকে ও কয়েকগুণ বেশি। কিন্তু তুই তো পাত্তাই দেস না বউ!”
ঘুমন্ত তরী তরঙ্গের কোনো কথাই শুনলো না। কিছুক্ষণ ওভাবে থেকে, তরঙ্গ ধীর ভঙ্গিতে সোজা হয়ে বসল। দুজনের মাঝখানে অবহেলায় পড়ে থাকা তরীর সাদা ওড়নাটি তুলে নিলো সে। চোখ দুটির জন্য সামান্য ফাঁক রেখে, ওড়নাখানা জড়িয়ে নিলো নিজের মুখমণ্ডলে। ফের, অল্প ঝুঁকে এলো সে। এক নিমিষে তার দৃষ্টির কিনার ছুঁয়ে গেলো তরীর অবাধ্য, অগোছালো কেশরাশি। সে স্পর্শে একটু ও বিচলিত না হয়ে, নিঃশব্দে এগিয়ে গেলো তরঙ্গ। ঘুমন্ত তরীর ললাটের মধ্যিখানে স্থির হলো তার ওষ্ঠের উপস্থিতি।
সেখানে পরম যত্নে, শব্দহীন আবেশে, ভালোবাসার কোমল পরশ এঁকে দিলো সে।
সারা দিনের ব্যস্ততা শেষে মাত্র একটু বসার সুযোগ পেয়েছে তরঙ্গ। সকাল থেকে এতোটাই ব্যস্ত ছিলো সে। যে শান্তিমত বসে শ্বাসটুকু ও নিতে পারেনি সে।
মেহমানরা সবাই চলে গেছে। রাত আটটা পেরিয়েছে। তরী এখনো ঘরে ফিরেনি। নিচে কালকে মেহেদী পরিয়ে দেওয়া ভাবির সাথে কথা বলছে সে। সারাদিনে দু’বার তরীর সাথে দেখা হয়েছিলো তার। মেয়েটা আজ ও শাড়ি পরেছিলো। তবে লাল শাড়িটা পরেনি। রিসেপশনের জন্য আনা শাড়িটা পরেছে। তাকে একটু দেখার সুযোগ ও হয়নি তরঙ্গের। পরণের ব্লেজার, সু না বদলেই শুয়ে পড়লো তরঙ্গ। ঘাড় থেকে কোমর পর্যন্ত ব্যথায় টন টন করছে।
ব্যস্ত পায়ে ঘরে প্রবেশ করলো তরী। কোনো দিকে না তাকিয়ে হন্তদন্ত পায়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলো সে। সেদিকে এক পলক তাকিয়ে সেভাবেই শুয়ে রইলো তরঙ্গ। দরজায় পুনরায় নক পড়তেই মাথা বালিশের সাথে চেপে ধরে। নিরেট কন্ঠে প্রশ্ন করলো সে;-
–” কে?”
–” আমি ভাই।”
–” বল?”
–” ভাবির জন্য এক গ্লাস শরবত পাঠিয়েছেন চাচি।”
অলস শরীর নাড়িয়ে উঠে বসলো তরঙ্গ।
–” আয় রেখে যা।”
শরবতের গ্লাস হাতে রাকিব ঘরের ঢুকে বেড সাইড টেবিলে গ্লাসটা রেখে। একটু দূরে সরে দাঁড়ালো।
–” ভাবি কোথায়?”
–” ওয়াশরুমে।”
সেদিকে তাকিয়ে গ্লাসটা হাতে তুলে নিলো তরঙ্গ। কাঁচের গ্লাসটা ঠান্ডা হয়ে আছে। কিসের শরবত তরঙ্গ ঠাহর করতে পারলো না। ভ্রু কুঁচকে এক ঢোক মুখে নিলো সে। মূহুর্তে বিদঘুটে স্বাদে মুখ কুঁচকে গেলো তার। কোনো মতে মুখের শরবত টুকু গিলে গমগমে কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো সে;-
–” এটা কীসের শরবত?”
ভয়ের তোপে রাকিবের মুখ চুপসে এলো।
–” চাচি জানেন ভাই।”
–” অদ্ভুত খেতে।”
কথা শেষ করে তিন ঢোকে সম্পূর্ণ গ্লাসের শরবত পান করে নিলো তরঙ্গ। নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে তা পরোখ করলো রাকিব। এছাড়া তার কিছুই করার নেই। ভয়ে তার র*ক্ত হিম হয়ে আসছে। শরবত শেষ করে স্বল্প সময় ঝিম ধরে বসে রইলো তরঙ্গ। গলার মধ্যে চিনচিন করছে। তাকে মাথা চেপে ধরতে দেখে হাঁটুতে কম্পন ধরল অদূরে দাঁড়ানো রাকিবের। তার ভয় আরেক ধাপ বাড়লো তরঙ্গের চিৎকারে;-
–” তুই আমার জানের জন্য কি এনেছিলি রে রাকিবের বাচ্চা? মাথা এমন ঝিম ঝিম করছে কেন? গলা জ্বলে যাচ্ছে।”
তরঙ্গের কথায় ঢোক গিললো রাকিব। তার চোখে মুখে ভয় ফুটে উঠেছে। তরীর জন্য আনা শরবত টা তরঙ্গ খেয়ে ফেলেছে। এইবার কি হবে? সাহনারা জানলে যে তাকে মেরে ফেলবে। ওয়াশরুম থেকে পানির শব্দ আসছে। তার মানে তরী এই রুমের ওয়াশরুমেই আছে। বের হয়ে আসার আগেই তাকে পালাতে হবে ভেবে রাকিব ছুটলো দরজার দিকে। রাকিব কে চলে যেতে দেখে দাঁড়িয়ে পড়লো তরঙ্গ। তার পরণে এখনো ফরর্মাল ড্রেসাপ। মাত্র ই রুমার শশুর বাড়ি থেকে এসেছিলো। রুমাকে নিয়ে যাওয়ার পর তরঙ্গ আর রুমার খালাতো ভাইয়েরা ওর সাথে দেখা করতে ওর শশুর বাড়িতে গিয়ে ছিলো। সেখান থেকে ফিরতে ফিরতে দেরী হয়ে গিয়েছে।
হাঁটতে নিয়ে ও চোখে ঝাপসা দেখলো তরঙ্গ। পা টলতে টলতে দেয়ালে ঢেঁশ দিয়ে দাঁড়ালো সে। দরজার কপাট দুটো থেকে চারটে তে রূপান্তরিত হলো। কোনটা ছেড়ে কোনটা দিয়ে বের হবে বুঝতে পারছে না। সহসা গরম লেগে উঠলো তরঙ্গের। উদভ্রান্তের ন্যায় ব্লেজার টা শরীর থেকে আলাদা করে নিলো সে। কালো শার্টটার গলার কাছের বোতাম ও আলগা করে নিলো তরঙ্গ।
কাঁপা কাঁপা পায়ে কদম ফেলে বারান্দায় এসে দাঁড়ালো সে। নিজের শরীরের ভার ছেড়ে দিয়ে সেখানেই বসে পড়লো তরঙ্গ। কয়েকবার চোখের ভারি পাতা ঝাপটে খুলে নিজেকে সামলাতে চাইলো সে।
হাত মুখে পানি ছিটিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলো তরী। অসাড় শরীরটা বয়ে এনে ফ্যানের নিচে বসলো সে।
সারাদিনের ক্লান্তিতে অনুভূতিরা থিতিয়ে আছে। শরীর ঝিম ঝিম করছে। এদিকে পানির তৃষ্ণা ও পেয়েছে তার। বিছানায় পিঠ এলাতে গিয়ে ও আলস্য ঝেরে দাঁড়ালো তরী। এক গ্লাস পানি না খেলে এখনি বুক ফেটে মরে যাবে সে। অতএব, ইচ্ছে না থাকা শর্তে ও শাড়ি সামলে ঘর থেকে বেরোলো তরী। বারান্দার মাঝ বরাবর এসে হোঁচট খেলো সে। বর্তমানে এদিকের বাতি গুলো জ্বলছে না। তাই সামনে বস্তার অনুরূপ কি পড়ে ছিলো তরী তা খেয়াল করেনি।
হোঁচট খেতেই সামনে রাখা বস্তাটা থেকে কুঁকিয়ে উঠার মৃদ্যু শব্দ ভেসে এলো। ভয় এবং উত্তেজনায় তরী ঝুঁকে পড়লো। হাত এগিয়ে ধরতেই বুঝলো এটা মানব শরীর কোনো বস্তা নয়।
–” কে?”
–” যে ই হই তোর কি হ্যাঁ? পুরুষ দেখলেই গায়ে পড়তে চলে আসিস কেন শালি? তোর সাথে কথা বলছি দেখলে আমার বউ রেগে যাবে। আমার তরীজান ছাড়া সব মেয়ে আমার চাচি লাগে।”
তরঙ্গের ঝাঁঝালো স্বরের ধমকে চমকে উঠলো তরী। নিজেকে সামলে গম্ভীর কন্ঠে তরঙ্গ কে ডাকলো সে।
–” তরঙ্গ? কি করছেন আপনি এখানে?”
এবার বোধ হয় তরীর কন্ঠ চিনতে পারলো তরঙ্গ।
–” তোকে খুঁজছিলাম তরকারি জান?”
তরঙ্গের পাশে হাঁটু গেড়ে বসলো তরী। ডান হাতটা আলতো করে তার ঘাড়ে রাখলো সে।
–” এভাবে কথা বলছেন কেন? কিছু কি খেয়েছেন আপনি?”
–” আমি ইচ্ছে করে খাই..নি। রাকিব শয়তান টা কি খাইয়ে দিয়েছে আমা..কে।”
কিছু একটা বুঝে গলার স্বর কিছুটা নরম করলো তরী।
–” চলুন তরঙ্গ।”
তরীর কথায় তরঙ্গ টলতে থাকা পায়ে দাঁড়ালো। কিছুটা এগিয়ে আবার মেঝেতে বসে পড়লো সে।
–” কি হলো বসে পড়লেন যে?”
–” আমি যাবো না।”
–” মানে?”
কাঁদো কাঁদো গলায় তরঙ্গ বলে উঠলো।
–” তুই আমাকে ভালো না বাসলে আমি যাবো না।”
তরঙ্গের এমন অদ্ভুত আবদারে তরী অবাক হলো। চিন্তিত কন্ঠে সুধালো সে।
–” এটা কেমন কথা তরঙ্গ?’
তরঙ্গ জবাব না দিয়ে তরীকে হেঁচকা টান মেরে নিজের কোলে ফেলে দিলো। তরী অবাক হয়ে তরঙ্গের দিকে তাকিয়ে রইলো। ঘটনার আকস্মিকতায় তার কি করা উচিত বুঝলো না। কিন্তু পরমুহূর্তে তরঙ্গের ওষ্ঠ জোড়া এগোতেই তরী মাথা পিছিয়ে নিলো।
–” একদম সরবি না তরী জান। তোকে চুমু খেতে না দিলে আমি এখান থেকে উঠবো না। সারারাত রাস্তায় বসে থাকবো। আর কাউকে এখান দিয়ে যেতে দেখলেই লাথি দিবো।”
চলবে
( প্রিয় পাঠক মহল,
আলহামদুলিল্লাহ, আব্বু বাড়ি এসেছে। সেই জন্য বেশ ব্যস্ততায় দিন কাটছে। চাইলে ও লিখতে পারছি না। তার মধ্যে লোডশেডিং নিয়ে কি আর বলবো। ফোনে চার্জ ও থাকছে না। দুই পার্সেন্ট চার্জ না হতেই কারেন্ট চলে যাচ্ছে। বেশ বড় একটা পর্ব দিয়েছি। রিচেক দেইনি, কোথাও ভুল হলে বলবেন। সবশেষে পর্বটা কেমন হয়েছে জানাবেন। আপনাদের মন্তব্য গুলো আমাকে লেখার উৎসাহ দেয়।)
Share On:
TAGS: জল তরঙ্গের প্রেম, নবনীতা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
She is my Obsession পর্ব ২৩
-
She is my Obsession পর্ব ৭
-
জল তরঙ্গের প্রেম পর্ব ২০
-
জল তরঙ্গের প্রেম পর্ব ১৫
-
She is my Obsession পর্ব ৩
-
She is my Obsession পর্ব ৪
-
She is my Obsession পর্ব ৩১
-
She is my Obsession পর্ব ১১
-
She is my Obsession পর্ব ১৪
-
She is my Obsession পর্ব ২৮