Golpo romantic golpo চেকমেট সিজন ২

চেকমেট সিজন ২ পর্ব ২


চেকমেট_২ ||২||

সারিকা_হোসাইন


মেয়ের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হবার আগেই হসপিটাল থেকে জরুরি কল এলো রুদ্রের।মাথায় ক্রিটিক্যাল আঘাত পাওয়া রাশিয়ান পুলিশ অফিসার ভর্তি হয়েছেন ইমারজেন্সি তে।জরুরি অপারেশন দরকার তার।যে করেই হোক ত্রিশ মিনিটের মধ্যে হসপিটালে পৌঁছাতে হবে তাকে।রুদ্র আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা করতে পারলো না।সে প্রিন্সিপাল এর থেকে বিদায় নিয়ে উঠে দাঁড়ালো অতঃপর মেয়েকে বললো

“তুমি এখান থেকে কোত্থাও যাবে না।ক্যাভিন আংকেল এসে তোমাকে পিক করবে,ঠিক আছে?

রোদ মাথা ঝাকিয়ে সম্মতি জানাতেই রুদ্র হনহন করে বেরিয়ে গেলো।দূতলার অফিস রুম থেকে নেমে বাইরের মাঠে এক দন্ড দাঁড়ালো রুদ্র।তীক্ষ্ণ চতুর দৃষ্টি মেলে খুজলো শাহরান কে।কিন্তু মাঠের কোত্থাও তাকে দেখা গেলো না।সামান্য স্বস্তি পেল রুদ্র।গাড়িতে উঠে নিজের সহযোগী ক্যাভিন কে কল করলো

“ভার্সিটিতে রোদ একা।এক নাছোড়বান্দা আঠার মতো চিপকে আছে ওর পিছনে।ওকে এসে নিয়ে যাও কুইক।

বলেই গাড়ির ইঞ্জিন চালু করে স্টিয়ারিং হুইল ঘুরালো রুদ্র।এমন সময় লুকিং গ্লাসে এক ক্রুর নজরের সাথে দৃষ্টি মিলিত হলো তার।কয়েক পলের জন্য রুদ্র নিয়ন্ত্রণ হারা হলো।এমন অদ্ভুত হাসি সে নিজেও কোনো দিন হাসেনি।সারফরাজ কি পয়দা করেছে এটা ভেবেই রুদ্রের বুক ধক করে উঠলো।ছেলেটাকে ছোট বেলায় বেশ কোমল আর শান্ত দেখেছিলো সে।কিন্তু বিগত তিন সাক্ষাতে সমস্ত ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।ছেলেটি চতুরতা,বুদ্ধিমত্তা, তেজে,কথার জাদুতে সারফরাজ কেও ছাড়িয়ে গেছে।দুদিন আগে বা পরে রুদ্রকে নাকে দড়ি দিয়ে এই ছেলে পুরো রাশিয়া ঘুরাবে যা ঢের টের পেলো রুদ্র।আপাতত শাহরান কে ডিল করতে ইচ্ছে হলোনা তার।নিজের মেয়ের প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস।বাবার হুকুম অমান্য করবে না কিছুতেই।মেয়েটির শান্ত হবার এই এক ফায়দা।রুদ্র ভার্সিটির গেট পার হতে হতে আরেকবার লুকিং গ্লাসে পিছনে তাকালো।ছেলেটি এখনো প্যান্টের পকেটে হাত গুঁজে ঘাড় কাত করে বাঁকা হেসে চলেছে।ইচ্ছে হলো এই কারনে সারফরাজ কে ফোন দিয়ে দুটো কথা শুনাতে

“ভাই পাতাল ঘরে বন্দি করে মশার কামড় খাইয়েও তোর শান্তি হচ্ছে না?এই বুড়ো বয়সে তোর ছেলের চোট কুলানোর ক্ষমতা আমার আছে?

কিন্তু রুদ্র এমনটি করতে পারলো না।সারফরাজ নিজে থেকে যেহেতু তাকে কিছু জানায়নি সেহেতু সে আগ বাড়িয়ে এসব বিষয়ে সারফরাজ কে কিছুতেই কল করতে পারে না।তাছাড়া এসবে সারফরাজ এর দোষ থোরাই?সব দোষ ওই সুফিয়ান চৌধুরীর ।নাতির কানে যত কুবুদ্ধি আর শয়তানি আছে সব ওই ভদ্রলোক ই ঢালেন।

রুদ্রের গাড়ি দৃষ্টি সীমানার আড়াল হতেই শাহরান ঠোঁট গোল করে শিস বাজলো

“Teri mast mast do nain…
mera dil ka la gaye chain….
mera dil ka le gaye chain
teri mast mast do nain…..

বলেই প্রিন্সিপাল এর রুমের দিকে পা বাড়ালো সে ।প্রিন্সিপাল এর সাথে তার সম্পর্ক বেশ ভালো।ভার্সিটির বহু একটিভিটিতে নিজের যোগ্যতা দিয়ে প্রিন্সিপাল কে মুগ্ধ করেছে সে।শাহ নামে প্রিন্সিপাল ভ্লাদিমির অন্ধ।আর কি চাই?
শাহরান যখন দূতলার করিডোরে উপস্থিত হলো তখন বেরিয়ে এলো রোদ।মেয়েটিকে দেখে সিঁড়ির পাশের দেয়ালে গা ঢাকা দিল শাহরান।রোদ বাইরে বের হয়ে মুগ্ধ দৃষ্টি মেললো চারপাশে।তার কলেজের চাইতে ভার্সিটি বেশ সুন্দর।বিল্ডিঙের সৌন্দর্য, চারপাশের পরিবেশ আর গাছপালা দেখে নিমিষেই মন ভালো হয়ে যায়।রুদ্র আশেপাশে নেই ভেবে একটু স্বস্তি পেলো রোদ।গলার মাফলার আরেকটু সুন্দর করে গলায় জড়িয়ে দীর্ঘ খোলা শ্বাস ফেলে সিঁড়ির দিকে হাঁটা ধরলো।রোদ যখন প্রথম সিঁড়ির ধাপে পা দিতে নিলো ঠিক সেই সময় ভরাট কন্ঠ ঝংকার তুললো

“হ্যালো মাই লাভিং বিউটিফুল….

আকস্মিক ভারী কন্ঠে চমকিত হয়ে পাশে তাকাতেই শাহরান কে নজরে এলো।সকালে ছেলেটির কান্ড মনে পড়তেই বুকের ভেতর ধক করে উঠলো।শাহরান এগিয়ে আসতে নিলেই ভয়ে তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি থেকে নামতে গিয়ে পা উল্টে তাল হারা হয়ে পড়ে যেতে নিলো রোদ।শাহরান হাত বাড়িয়ে টেনে ধরলো গলার মাফলার ।ঝটকা টানে নিয়ে এলো একদম সন্নিকটে।রোদের কপাল বাড়ি খেলো শাহরানের প্রশস্ত বুকে।
রোদ ঝটপট নিজেকে ধাতস্থ করে চোখ মুখ অমানিশার আধারে ঢেকে বিরক্তি প্রকাশ করে বললো

“এসব কি ধরনের অসভ্যতা?

মেয়েটির চোখ মুখ কুঁচকানো শাহরানের গায়ের চামড়ার উপর দিয়ে গড়িয়ে গেলো।সে গায়ে মাখালো না।সাথে মাফলার ও ছাড়ল না।রোদ নিজের মাফলার ছাড়ানোর জন্য টানা হ্যাচড়া করলো।এক সময় শাহরানের হাত চেপে ধরে দাঁত পিষে বললো

“ইউ আর ক্রসিং ইউর লিমিট মিস্টার।

শাহরান রোদের হাতের কব্জি ধরে অধীর হয়ে শুধালো

“ইউ নো হু আই অ্যাম?

“আপনাকে চিনে আমার কি কাজ?হাত ছাড়ুন।নয়তো চিৎকার করবো আমি।

“ছাড়ার জন্য হাত ধরেছি নাকি?আমি একবার যাকে ধরি তাকে আজীবন আর ছাড়ি না।

রোদ শক্ত মুখে শুধায়

“ওহ রিয়েলি?তা কত জনকে এপর্যন্ত ধরলেন?

“আপাতত তোমাকেই ধরেছি।আর কাউকে ধরার প্রয়োজন মনে করছি না।

এরই মাঝে শাহরানের ফোন বেজে উঠলো,এহেন পরিস্থিতিতে ফোনের শব্দে শাহরানের ফর্সা কপালে বিরক্তির ভাঁজ ফুটালো।তবুও এক হাতে রোদের হাত চেপে ধরে রেখেই পকেট থেকে বের করলো ফোন।ফোন বের করেই শাহরানের ঠোঁটে হাসি ফুটলো।অমায়িক সুন্দর হাসি।যে কেউ ঘায়েল হবে এই লালচে ঠোঁটের মিষ্টি হাসিতে।কিন্তু রোদের গা পিত্তি জ্বলে উঠলো।ছেলেটার চাল চলন পুরো লাফাঙ্গা ।রুদ্র ফিরে এসে এহেন দৃশ্য দেখলে আজই এই ছেলের জীবনের শেষ দিন হবে।তা কি এই বোকা উশৃঙ্খল ছেলেটা বুঝে?

শাহরান ফোন রিসিভ করে রোদের সামনে ধরলো।স্ক্রিনে একজন হাস্যজল বৃদ্ধ মানুষকে দেখে ইতস্ততায় ঘাড় ঘুরিয়ে নিলো সে।শাহরান রোদের চেপে রাখা হাতটা ক্যামেরায় দেখিয়ে প্রশস্ত হেসে বলে উঠলো

“ধরে ফেলেছি নানা ভাই এই দ্যাখো!আর পালাতে পারবে না।বলেছিলাম না সারা পৃথিবী চসে হলেও খোঁজে বের করে ধরে ফেলবো?

নাতির হাতে রোদের হাত দেখে সুফিয়ান চৌধুরী লাফিয়ে উঠলেন।দেয়ালে চাপড় মেরে বলে উঠলেন

“সাব্বাস নানা ভাই,সাব্বাস ছাড়িস না ,ধরে রাখ।দরকার পড়লে বেঁধে রাখ।উফ চুমু খেতে ইচ্ছে করছে তোকে এই মুহূর্তে।এই না হলে আমার নানা?

রোদ বিস্ফারিত চোখে সুফিয়ান চৌধুরীর পানে তাকালো।মানুষটার এক পা কবরে চলে গেছে।থুতনি ভর্তি পাকা দাড়ি।নামাজ পড়তে পড়তে কপালে কালো নুরানী দাগ পড়ে গেছে।সেই মানুষের মুখে এহেন ভন্ড কথা শুনে রোদ আশ্চর্য হলো।শেষমেষ ধৈর্য হারিয়ে বলে উঠলো

“নাতিকে এসব নোংরা উপদেশ দেন ,কেমন নানা আপনি?লজ্জা লাগছে না আপনাদের?

সুফিয়ান চৌধুরী পাত্তা দিলো না। বরং চোখ মুখের ইশারায় নাতিকে বুঝালো

“পারলে দু গালে দুটো পাপ্পি দিয়ে দিয়ে নানা ভাই।আমি রাখছি।তোর যা মন চায় তুই করতে থাক।

বলেই ফোন কেটে দিলো।ফোন কাটতেই শাহরান বলে উঠলো

“আমার নানা ভাই,বেশ ভালো মানুষ।

“দেখতে খেয়েছি কেমন ভালো মানুষ।এবার হাত ছাড়ুন।অনেক ভদ্রতা দেখিয়েছি।এবার অভদ্র হতে বাধ্য হবো।

“দেখাও তোমার সমস্ত অভদ্রতা,আমি একটুও বিরক্ত হবো না।

রোদ গলায় ঝাঁঝ ঢেলে কিছু বলার আগেই শক্ত এক ঘুসি পড়লো শাহরানের সুন্দর ঠোঁট জোড়ায়।মুহূর্তেই দাঁতে লেগে কেঁটে দুভাগ হলো ছেলেটার মসৃন লোভনীয় ঠোঁট জোড়া।অন্য কেউ হলে মেয়েটির হাত ছেড়ে নিজেকে সামলাতে ব্যস্ত হলো।রোদ নিজেও ভয়ে জড়সড় হলো।কিন্তু শাহরান তবুও ছাড়ল না রোদের হাত।উল্টো বলে উঠলো

“আগের চাইতে অনেক দুর্বল হয়ে গেছো ডিয়ার ক্যাভিন।পাপা বলেছিলো তোমার এক ঘুসিতে নাকি বুকের পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়।এই তার নমুনা?

ক্যাভিন ধমকে শুধায়

“হু ইজ ইউর ফাদার?

রোদের হাত ছেড়ে দিয়ে জিভ দিয়ে ঠোঁটের লোহিত ধারা লেহন করে ক্যাভিনের সামনে দাঁড়ায় শাহরান।অদ্ভুত এক দৃষ্টিতে তাকায় ক্যাভিনের চোখ বরাবর।সেই দৃষ্টি এক পলক দেখেই দুকদম পিছিয়ে যায় ক্যাভিন।শক্ত চোয়ালটা নরম হয়ে আসে।খুলে যায় হাতের শক্ত মুঠো।শাহরান তাচ্ছিল্য হেসে ক্যাভিনের এলোমেলো শার্টের কলার ঠিক করে শীতল গলায় বলে উঠে

” আই ডিডন্ট টেইক ইট পার্সোনালি।ডোন্ট বি প্যানিক ওকে?

ক্যাভিন ফাঁকা ঢোক গেলে ।শাহরান আবার রোদের কাছে ফিরে এসে ফিসফিস করে বলে উঠে

“খুব জ্বালাবো।প্লিজ একটু সয়ে নিও।না সইতে পারলে আঘাত করো।কিচ্ছু মনে করবো না আমি।তবুও প্লিজ এখান থেকে অন্য কোথাও চলে যেও না।

রোদ শাহরানের কথা বুঝতে পারলো না।ছেলেটার কথা গুলো কেমন মাথা মুন্ডু হীন।শাহরানের নরম সুন্দর ঠোঁট হঠাতই শক্ত হয়ে উঠলো।হিসহিস করে রোদের কানের কাছে এসে বলে উঠলো

“যদি চলেও যাও তবুও আমার থেকে বাঁচতে পারবে না তুমি।পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে তোমার সামনে গিয়ে এভাবেই দাঁড়াব আমি।যদি পাতলেও লুকাও মাটি খুঁড়ে হলেও খুঁজে বার করবো।গট ইট?

মেয়েটি ভয়ে গুটিয়ে গেলো।আজকের দিনটা হঠাৎ কেন এত অশুভ হলো বুঝে পেলো না রোদ।তার মনে হলো ছেলেটি উন্মাদ নয়তো বড়লোক মা বাবার বখে যাওয়া সন্তান।

এমন সময় নিনাদ এসে ডাকলো

“শাহ

শাহরান তাকাতেই রক্তাক্ত ফুলে যাওয়া ঠোঁট খানা দেখে চমকে উঠলো নিনাদ।সে দৌড়ে এসে শাহরান কে টেনে বলে উঠলো

“চল আমার সঙ্গে।

শাহরান যেতে চাইল না।কিন্তু নিনাদ জোর করে টেনে হিচড়ে নামালো ওকে।কিন্তু এক মুহূর্তের জন্য নিজের ঘোর লাগা দৃষ্টি রোদের উপর থেকে সরালো না সে।রোদ এবার ভয় পেলো।হঠাৎ মস্তিষ্কে হানা দিলো স্বপ্নে দেখা ছেলেটির ক্রুর চোখ জোড়ার কথা।মনে হলো এটাই সেই চোখ যেই চোখ জোড়া কদিন ধরে নিয়মিতভাবে স্বপ্নে তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাকে।
শাহরান চলে যেতেই ক্যাভিন বলে উঠলো

“বস যাতে কিছুতেই জানতে না পারে এই কথা।নয়তো পূর্বের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলেও হতে পারে।

রোদ বুঝলো না ক্যাভিন কিসের ইঙ্গিত দিলো।সে মাথা ঝাকিয়ে ক্যাভিনের পেছনে পেছনে চলতে লাগলো।আর মনে মনে ভাবতে লাগলো

“হুট করেই ছেলেটা আমার উপর সওয়ার হতে চাইছে কোন দুঃখে?


খুব ভোরে ঘুম ভাঙল সারফরাজ এর।ঘুম থেকে উঠেই তার মন ভার হলো।একটা সূক্ষ চিনচিনে ব্যাথা বুকের পুরোটা ছেয়ে নিলো।সব কিছু বিস্বাদ লাগছে।মুহূর্তেই বিষাদ রূপ নিলো ক্রোধে।সমস্ত রাগ গিয়ে পড়লো সুফিয়ান চৌধুরীর উপর।ইচ্ছে হলো তুলে আছাড় দিয়ে মাটিতে ফেলে দিতে।সকাল সকাল সারফরাজ এর মুখের নানা রকম অভিব্যক্তি দেখে কপাল কুচকালো রূপকথা।সে হাই তুলতে তুলতে শুধালো

“এমন করছো কেন?

দমিয়ে রাখা রাগ এবার ফেটে পড়লো সারফরাজ এর।সে ধমকে বলে উঠলো

“ইচ্ছে হচ্ছে তোমার বাপ কে পানিতে চুবিয়ে সারা রাত বরফের মধ্যে বেঁধে রাখি।

রূপকথা চোখ মুখে রাগ ফুটিয়ে তেজী গলায় বলে উঠলো

“আমার বাপের পেছনে না লাগলেই তোমার নয়?কি করছে সে?কিছু হলেই তোমার সব রাগ আমার বাপের উপর গিয়েই গড়ায়?

রূপকথার চিৎকার চেঁচামেচি তে মুখে করল্লার রস জমলো সারফরাজ এর।মহিলাকে একটা বললে সে তাকে দুটো শোনায়।খুব অপমান লাগে।বুড়ো বয়সে এসব মানতে কষ্ট হয়।সারফরাজ দাঁত কিটমিটিয়ে বললো

“তোমার বাপের লায় পেয়ে ছেলে আমার দেশ ছাড়া।কোথায় গিয়ে বসে আছে দেখো।আমি একবারও মত দিয়েছিলাম রাশিয়া যেতে?ছেলেকে উস্কায় নি তোমার বাবা?বলেনি তোর যেখানে খুশি সেখানে চলে যা,দেখি কে আটকায়?

“হ্যা বলেছে তো।তো?

“তো আবার কি?

“তোমার ছেলে ভালো আছে সেখানে।পড়ছে,ঘুরছে।তাছাড়া একা তো যায়নি।নেলির ছেলে নিনাদও আছে ওর সঙ্গে।তুমি এত হাইপার হচ্ছ কেন?

সারফরাজ গলার স্বর নরম করে বলে উঠলো

“আমার ছেলে ভালো নেই রূপকথা।আমি স্বপ্নে দেখেছি ও মন ভার করে লুকিয়ে কাঁদছে।

ছেলে কাঁদছে শুনে রূপকথা চোখ উল্টালো।যাকে সে পেটে ধরেছে তাকে বেশ করে চিনে সে।দুস্টুমি ,বদমাইসি ছাড়া ছেলেটা কিচ্ছু বুঝে না।আর সেকি ছোট মানুষ?

সারফরাজ ঘড়িতে সময় দেখলো।ক্যালিফোর্নিয়া তে এখন সকাল সাড়ে সাতটা।তার মানে রাশিয়ার নিকোলিনা গোরা তে এখন প্রায় সাড়ে ছ’টা বাজে।রাত নেমেছে ওখানে পুরোপুরি।কারন শীতকালে ওখানে সূর্য ডুবে যায় চার টার মধ্যে।সারফরাজ তপ্ত শ্বাস ফেলে ছেলের নম্বরে ভিডিও কল করলো।রিং বাজতেই রিসিভ হলো কল।হ্যালো বলার আগেই ছেলের ফুলে উঠা ঠোঁট দেখে সারফরাজ বজ্র কন্ঠে শুধালো

“কে করেছে এই কাজ?নাম বলো।পাপা তার কলিজা খুবলে আনবো।রুদ্র করেছে?

শাহরান অল্প হেসে বলে উঠলো

“নিনাদ ভলিবল ছুড়তে গিয়ে ভুলে আমার মুখে মেরেছে পাপা।আর কিছু না।

সারফরাজ এক ভ্রু উঁচু করলো।এরপর কিছুক্ষন নিশ্চুপ থেকে বলে উঠলো

“রক্ত আর কাটাছেঁড়ার সাথে আমার মাখামাখি বহু পুরোনো শাহ।আজকাল আমাকে ফাঁকি দেয়া শিখে যাচ্ছ?

শাহরান পুনরায় অমায়িক হাসলো।অতঃপর বললো

“ব্যাথাটা ভালো লাগছে পাপা।অন্তরে আরাম লাগে।যদি কখনো নানা ভাইয়ের থেকে এমন চোট খেতে তবে ভালোবাসা টাকে আরেকটু গভীরভাবে অনুভব করতে পারতে।

“যথেষ্ট ভালোবাসি তোমার মাকে।বিশ্বাস না হলে জিজ্ঞেস করে দেখো।

“তোমার চাইতে আমার ভালোবাসা শত গুন মজবত পাপা।তুমি মাকে ফেলে কোথায় কোথায় পালিয়ে বেড়িয়েছো আর আমি তার ছায়ার পিছে পিছে।”

চলবে…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply