চেকমেট_২ ||২১||
সারিকা_হোসাইন
লম্বা এক ঘুমের পর বিকেলের দিকে ফ্রেস মস্তিষ্কে বিছানা ছেড়ে উঠে বসলো রোদ।এক নাগাড়ে ঘুমানোর দরুন শরীর হালকা ম্যাজম্যাজ করছে কিন্তু ভালো লাগছে।রোদ আড়মোড়া ভেঙে বাবু হয়ে বিছানায় বসে অল্প ঝিমুলো।এরপর হাই তুলতে তুলতে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ালো।ধোয়া উঠা এক মগ গরম কফি খেতে পারলে মন্দ হয়না।যেই ভাবনা সেই কাজ।রোদ কিচেনে এসে এক মগ কফি বানালো।এরপর ফিরে এলো কক্ষে ।বিছানার বালিশের পাশে থাকা মোবাইল খানা তুলে নিয়ে বেলকনিতে পাতা ইজি চেয়ারটায় গিয়ে বসলো।এরপর কফিতে ছোট চুমুক দিয়ে ফোনের লক খুললো।নোটিফিকেশন এ লিওনার মেসেজ।রোদ আনমনে সেই মেসেজ ওপেন করলো।ছোট একটা বার্তা
“ইউ আর ফিনিষড রোদসী অরোরা!”..
এমন অর্ধেক অর্থবহ বার্তায় রোদের কপাল কুঁচকে এলো।ফ্রেস মাথা কেমন তপ্ত হয়ে উঠলো।বুকের ভেতরে কামড় পড়লো।কলিজা কেঁপে উঠলো হালকা।কফিতে চুমুক দিতেই গরমে ঠোঁট পুড়লো বোধকরি।মুখের কফিটা উগলে দিলো রোদ।এরপর মুখ কুঁচকে ঠোঁটে অল্প ট্যাপ করে লিওনার নম্বর ডায়াল করলো।রিং হলো না।কেটে গেলো কল।রোদের সুন্দর বিকাল খানা মুহূর্তেই পানসে হলো লিওনার ছোট একটা মেসেজে।রোদ মস্তিষ্কে চাপ প্রয়োগ করে ভার্সিটিতে কাটানো বিগত দিনের ঘটনা মনে করল ।স্মৃতির অলিগলি হাতড়ে তেমন কিছু পাওয়া গেলো না।অবশেষে ফোন ছুড়ে ফেলে রোদ নিজ কক্ষে এসে বিছানায় ধপ করে শুয়ে গেলো।কফিটার স্বাদ তেঁতো বিশ্রী লাগছে।মোটেও খেতে ইচ্ছে করছে না আর।যতোটা মন মস্তিষ্ক সতেজ নিয়ে ঘুম থেকে উঠেছিল ততটাই মলিন হলো লিওনার ক্ষুদে বার্তায়।
সন্ধ্যার দিকে রুদ্র এসে জানালো সারফরাজ দাওয়াত করেছে।যেতেই হবে।চুপকথা আর রোদকে তৈরি হতে বলে নিজে ফ্রেশ হতে চলে গেলো।চুপকথা রোদসীকে কথাটা জানাতেই রোদসী বিরক্তি প্রকাশ করে বলে উঠলো
“শরীরটা ভালো লাগছে না মা, তোমরা যাও।আমার যেতে ইচ্ছে করছে না।
চুপকথা তপ্ত শ্বাস ফেলে বললো
“তোর বাবা রাগ করবে।
রোদসী তবুও রাজি হলো না।সে যাবেই না এক বাক্যে বলে দিয়ে চলে গেলো ছাদে।
মেয়ের যাবার পানে তাকিয়ে চুপকথা কপাল কুঁচকালেন বিরক্তিতে।মেয়েটা কেমন যেন হুট করেই বদলে গেলো ।সব কিছুতে মুখের উপর কথা বলে দেয়।
মেয়ের থেকে পাত্তা না পেয়ে চুপকথা একাই তৈরি হলো।এরপর রুদ্রের সামনে গিয়ে জানালো
“তোমার মেয়ে যাবে না।
রুদ্র নাক ফুলালো।বললো যেতেও হবে না।তুমি চলো।
চুপকথাকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো রুদ্র ।বাসায় একাকী পরে রইলো রোদ।ছাদে কিছুক্ষণ অস্থির সময় কাটিয়ে রোদ নীচে নেমে এলো।পুনরায় ডায়াল করলো লিওনার নম্বর।সংযোগ বন্ধ।মেয়েটাকে ইচ্ছেমতো উদুম কেলানি দিতে ইচ্ছে হলো রোদের।কখন সকাল হবে সেই ভাবনায় শরীর নিশপিশ করতে লাগলো।কোথাও যেন এক বিন্দু শান্তি নেই।
কতক্ষন রুম জুড়ে পায়চারি করে রোদ পড়ার টেবিলে বসলো।বয়সের তুলনায় পড়াশোনা অনেক পিছিয়ে গিয়েছে।ভালো রেজাল্ট না করতে পারলে লাইফ অর্থহীন হয়ে যাবে।রোদ বই খুলে কঠিন ম্যাথ গুলো ঝালিয়ে নিতে চাইলো।কিন্তু পড়ার টেবিলে সযত্নে সাজিয়ে রাখা শাহরানের বক্সটা কেমন অনুরোধ করে ডাকলো
“আমায় একটু ছুঁয়ে দিবে রোদসী অরোরা?
বাক্সের আবদার ফেলতে পারলো না রোদ।বই খাতা ঠেলে সরিয়ে বাক্সটা খুললো।ভেতরে এখনো যত্নে সাজানো শাহরানের জিনিস গুলো।ইচ্ছে করেই এগুলো ফেরত দেয়নি রোদ।কোন এক অজানা টানে ফেরত দেয়া হয়নি।আর রোদ এগুলো ফেরত দিতে চায় ও না।স্বয়ং শাহরান কখনো এসেও যদি এসব দাবি করে তখনও রোদ ফেরত দেবে না এগুলো।দীর্ঘ পাঁচ বছরে জিনিস গুলোর উপর বড্ড মায়া জন্মে গেছে।
রোদ নাক ডুবিয়ে বাক্সের ভেতরের গন্ধ নিলো।জিনিস গুলো থেকে এখনো শাহরানের শরীরের গন্ধ ভেসে আসছে।রোদ চোখ বুজে নিলো সেই সুঘ্রানে।চোখ বন্ধ করতেই অক্ষিপটে হানা দিলো বছর সাত আগের স্মৃতি।
“তুমি ছুঁয়ে দিলেই ফুল গুলো ঝরে যাবে।তোমার সৌন্দর্যের উত্তাপ ওই নগণ্য ফুল সইতে পারবে না।
রোদ বাজি ধরেছিলো শাহরানের সঙ্গে।বাজির শর্ত ছিলো চুমু।
আচ্ছা রোদ তো জানতো সে হেরে গেলেই শাহরান তাকে ছুঁয়ে দিবে অবলীলায়।তবে কেনো সেদিন দৌড়ে পালালো না সে?কেনো ঠাঁয় মাটিতে পা দাবিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো শাহরানের সামনে?তবে কি তার অবচেতন মন চেয়েছিলো শাহরান ও তাকে ছুঁয়ে দিক ফুলগুলোর মতো?যেই স্পর্শে রোদের ভেতরের সমস্ত দম্ভ,ক্রোধ, একগুঁয়ে ভাব ঝরে যেত ঝুরঝুর করে?কিন্তু কই শাহরান তো তাকে ছোয় নি।চলে গিয়েছে নিঃশব্দে।
সেদিন যদি শাহরান নির্দ্বিধায় ছুঁয়ে দিতো রোদ কে তবে কি এতগুলো বছর এভাবে তড়পাতে হতো রোদ কে?নিশ্চয় নয়।আজ রোদের হাত বন্ধ থাকতো শাহরানের হাতের মুঠোয়,আঙুলের ফাঁক গলিয়ে আঙুল আর একাকী বিষন্ন রাতের আকাশ জুড়ে তারকারাজি গণনা।সব কেমন এলোমেলো হয়ে গেলো টাইফুনের তোড়ে।রোদ হারিয়ে গেলো অহংকার আর না বুঝতে চাওয়া দম্ভের গহ্বরে।শাহরান চলে গেলো বহু দূরে।মাঝখানে যোজন যোজনের শক্ত পোক্ত দেয়াল।যেই দেয়াল ভেঙে শাহরানের পানে আর হাত বাড়ানো যায় না।মানুষটা বড্ড ধরা ছোঁয়ার বাইরে।আচ্ছা কোথায় আছে সেই দাম্ভিক পুরুষ?আর কখনো কি সে ক্যালিফোর্নিয়া ফেরেনি?কিন্তু কেন?কোন জেদে?
পরের দিন সকাল হতেই রোদসী নিজেকে গুছিয়ে বেরিয়ে গেলো ভার্সিটির উদ্দেশ্যে।নানাবিধ চিন্তায় সারাটা রাত তার চোখের পাতায় এক বিন্দু ঘুম ধরা দেয়নি।ভোরের আলো ফুটতেই মাথাটা কেমন চক্কর দিয়ে উঠলো।কিন্তু লিওনার ভয়ানক বার্তা তাকে ছুটিয়ে নিয়ে চললো ভার্সিটিতে।
ভার্সিটিতে এসে সমস্ত ক্লাস জুড়ে লিওনা কে খুজলো রোদসী।কিন্তু মেয়েটার টিকিটিরও খুঁজ নেই কোথাও।কিন্তু ক্লাস জুড়ে সকলের চোখে মুখেই কেমন এক অদ্ভুত আতংক।যেনো খাঁচা হীন চিড়িয়াখানায় তাদের ছেড়ে রাখা হয়েছে।একটু পরেই ক্ষুধার্ত এক বাঘ এসে সবাইকে খেয়ে নিবে ছিন্নভিন্ন করে।ক্লাসের এমন এক শ্মশান নীরবতা ভালো লাগলো না রোদের
সে ক্লাসের পরিচিত এক মেয়েকে হাতের ইশারায় ডাকলো
“অ্যাই ফেন্সি?শুনো!
মেয়েটা বইয়ের পাতায় মুখ গুজে রেখেছিলো।মনে হচ্ছে খুব জরুরি কিছুতে মনোনিবেশ করেছে।এক্ষুনি পড়াটা শিখে তাকে উপস্থাপন করতে হবে।
রোদের ডাকে ফেন্সি বিরক্ত হলো।সে কপাল কুঁচকে বললো
“ব্যাস্ত আছি।কি বলবে তাড়াতাড়ি বলো।
মেয়েটির অধিক পাত্তাহীন আচরণে রোদের কথা বলার সমস্ত রুচি ফুরিয়ে গেলো।তবুও বললো
“ক্লাস এমন বিরান ভূমি কেন?
“কারন নতুন প্রফেসর যমের মতো।যমের দুয়ায়র থেকে ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকলে ফিরে আসা সম্ভব,কিন্তু তার সামনে পড়লে পড়া না দিয়ে তুমি এক মুহূর্ত চোখের পাতাও ফেলতে পারবে না।
রোদ গায়ে মাখলো না ফেন্সির কথা।লিওন স্মিথ এর ক্লাসে যেহেতু সে বুক আর গলা দুই উচিয়েই টিকতে পেরেছে তবে নতুন জন কোন ক্ষেতের মুলো।ফেন্সির দিকে তাকিয়ে কাঁধ উঁচিয়ে ঠোঁট উল্টালো রোদ।ভাবখানা এমন
“ওকে দেখা যাবে কেমন স্ট্রিক্ট!ওসব গোনার টাইম আছে আমার?
ঘড়ির কাটা টিকটিক করে সাড়ে আটের ঘরে যেতেই পুরো ক্লাস হুট করেই ভুতের রাজ্যে পরিণত হলো।রোদের মনে হলো পুরোটা ক্লাস বন্ধ একটা কবর আর ভেতরে সব গুলো বোবা জ্যান্ত লাশ।
ঠান্ডা আবহাওয়া, নিশ্চুপ ক্লাস আর গত রাতের নির্ঘুম প্রহর সব মিলিয়ে রোদের চোখ বুজে এলো কঠোর ভাবে।মনে হচ্ছে চোখের পাতায় কেউ আঠা লাগিয়ে চেপে ধরে আছে।নিজ ডেস্কের উপর মাথা রেখে রোদ কখন যেন ঘুমের ঘোরে তলিয়ে গেলো নিজেও টের পেলো না।এমন সময় স্বপ্নে হানা দিলো ইয়া বিশাল কুচকুচে এক কালো ষাঁড়।যেই ষাড় তেড়ে রোদসী কে গুতুতে আসছে।হিংস্র ষাঁড়ের থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য প্রাণপণে ছুটছে রোদ।কিন্তু চারপাশে কঠিন দেয়াল।
নির্দিষ্ট ঘন্টা পড়ার সাথে সাথেই ফর্মাল পোশাকে ঠক ঠক শব্দ তুলে টাইলস মাড়িয়ে এগিয়ে আসছে প্রফেসর।এক হাত প্যান্টের পকেটে গুঁজে ওপর হাতে টাইয়ের নট অল্প ঢিলে করে নিলো সে।ফর্সা চোয়াল জুড়ে কাঠিন্যতার ঝলক।মসৃন কপালে সূক্ষ ভাঁজ।চোখ জোড়া তীক্ষ্ণ শিকারীর দৃষ্টি।বুকের ছাতি ফুলিয়ে নির্দিষ্ট ক্লাস রুমের সামনে এসে দাড়ালো উক্ত ভদ্রলোক।অতঃপর গলা খাকরি দিয়ে লম্বা পায়ে ক্লাসে ঢুকে নিজের ডেস্কের সামনে দাঁড়িয়ে অনাড়াম্বর হীন বলে উঠলো
“গুড মর্নিং ডিয়ার স্টুডেন্টস”
প্রফেসরের ভারী শীতল গম্ভীর আওয়াজ পুরো ক্লাস রুম জুড়ে দাপিয়ে বেড়ালো কয়েক মুহূর্ত।রিমলেস রেকটেঙ্গুলার স্বল্প চোখের চশমা খানা তর্জনী আঙুলে চোখে ভালো করে সেট করে পুরো ক্লাসে নজর বুলালো।এরপর বাঁকা ভ্রু সরু করে বলে উঠলো
“আজকাল ক্লাস রুম ঘুমানোর ভালো জায়গা হয়ে উঠেছে নাকি?আপনাদের জন্য কাঁথা বালিশের ব্যাবস্থা করবো?আরেকটু আরামের ঘুমের জন্য?
প্রফেসর রোদসী কে কটাক্ষ করে কথাটা বলেছে এটা সকলেই বুঝতে পেরে মাথা নামিয়ে ভীত সন্ত্রস্ত নজর যার যার বইয়ে গুজলো।রোদের পাশের এক মেয়ে কুনুই দিয়ে হালকা গুঁতো দিয়ে রোদকে জাগাতে চাইলো।কিন্তু কুম্ভকর্ণের ন্যয় রোদ ঘুমিয়েই রইলো।প্রফেসর ঘসঘস করে হোয়াইট বোর্ডে আজকের চ্যাপ্টার এর কিছু বিষয়বস্তু লিখলেন এরপর ঠোঁট টিপে শরীরের সমস্ত শক্তি খাটিয়ে মার্কার পেনের হেড ছুড়ে মারলেন রোদের ডেস্ক বরাবর।
মাথায় তীক্ষ্ণ আঘাত পেতেই হকচকিয়ে উঠলো রোদ।ঘুম ঘুম ঝাপসা চোখে চারপাশে নজর বুলাতেই ক্লাসে টিচারের উপস্থিতি আন্দাজ করে সকলের দেখাদেখি সেও নির্দিষ্ট চ্যাপ্টার খুললো।চ্যাপ্টার খুলে পড়া দেখার আগেই ভেসে এলো ভারী গলার নির্দেশ―
“হেই ইউ,দ্যা শর্ট গার্ল ইন দ্যা থার্ড রো, স্ট্যান্ড আপ!”
গম্ভীর মোটা আভিজাত্য ভরা উঁচু গলাটা পিনপতন নীরব ক্লাসরুমে কেমন হুংকার তুললো।সেই হুংকারে নিজেদের বই খাতা ফেলে সামনে তাকালো প্রত্যেকে।সঙ্গে সেই তৃতীয় সারির মেয়েটি,রোদসী অর্পরা।অতঃপর ঢুলুঢুলু ভাব কাটিয়ে কনফিডেন্স এর সহিত উঠে দাঁড়িয়ে রিনরিনে গলায় বলল
“ইয়েস স্যার!
“এক্সপ্লেইন অল অফ নিউটন’স ল’স টু মি!”
এতক্ষন গম্ভীর কন্ঠের মানুষটার দিকে না তাকালেও এবার চোখ কচলে অপ্রস্তুত নজর নিয়ে আরেকটু উপরে তাকালো রোদ।উত্তরের আশায় তাকিয়ে থাকা লেকচারার এর চোখে চোখ পড়তেই থর্থরিয়ে কেঁপে উঠলো সে।ঠান্ডা শীতল কুচকুচে কালো মনিতে নিবদ্ধ হলো তার নীল চোখের এলোমেলো দৃষ্টি।লেকচারার আরেকটু এগিয়ে এলো।বেঞ্চে দুই হাত ভর দিয়ে তার দিকে কিঞ্চিৎ ঝুঁকে ভয়ানক ভারী ঠান্ডা গলায় বলল
“ইউ আর ওয়েস্টিং টাইম,আ ডোন্ট লাইক ওয়েস্টিং টাইম অ্যাট অল”.
রোদ এবার ঘাবড়ে সামান্য সরে দাঁড়ালো।পেছনের ডেস্কের সাথে তার কোমর বাড়ি খেলো সড়তে গিয়ে।ভয়ে তার হাত পা ঠান্ডা অবস হয়ে এলো।ঘেমে উঠলো হাত পায়ের তালু।ছোট পাতলা নাকে জমলো বিন্দুবিন্দু ঘর্ম বিন্দু সেই সঙ্গে বুজে এলো ঘন পাপড়ির অক্ষি পল্লব।নিউটনের সমস্ত সূত্র তার ঠোঁটস্থ।অথচ আজ মগজ পুরোটাই খালি।রোদের গলা দিয়ে কথা বেরুচ্ছে না।মুখে কেউ সুপারগ্লু লাগিয়ে দিয়েছে।সারা গায়ের শক্তি নিংড়ে নিয়েছে কোনো ভ্যাম্পায়ার।রোদ যেমন প্রাণহীন এক প্রস্তর মূর্তি।
রোদ ভয়ার্ত নজরে ফেন্সির পানে তাকালো।ফেন্সি কেমন অচেনা এক মানুষ।অথচ কিছুক্ষণ আগেই মেয়েটি তাকে সতর্ক বাণী আওড়িয়েছিলো।ফেন্সির থেকে ক্লাসে এসেই জানতে পেরেছে ফিজিক্স লেকচারার বড্ড ভয়ানক আর রাগী।পড়াশোনার ব্যাপারে হান্ড্রেড পার্সেন্ট সিরিয়াস সে।তার ক্লাসে পড়া এক্সপ্লেইনন করতে না পারলেই মিলে কঠিন শাস্তি।রোদ তো ভেবেছিলো লেকচারার নিশ্চিত ভুঁড়ি মোটা কোনো বয়স্ক লোক।কারন লিওন স্মিথ কোনো চুনো পুটি পুঁচকে মানুষের হাতে নিজের দায়িত্ত্ব অর্পণ করার মানুষ নন।রোদ ভেবেছিলো সেই নতুন টিচারকে সে পরাস্ত করার ক্ষমতা রাখে।কিন্তু চোখের সামনে যম তুল্য শাহরান শাহজাইন কে দেখে তার সমস্ত বিবেক বোধ লোপ পেয়েছে সেই সঙ্গে উবে গেছে মুখের সব কথা।
রোদ ছলছল ভীত চোখ নিয়ে একবার মানুষটার পানে তাকালো।চোখে মুখে ক্রুর দৃষ্টি।মনে হচ্ছে ইচ্ছে করেই তাকে পুরো ক্লাস রুমে নাজেহাল করছে।শাহরান আরেকটু এগিয়ে এলো রোদের দিকে।দুজনের মধ্যে চার আঙ্গুল সমান দূরত্ব।কিন্তু তার ভাব দেখে মনে হচ্ছে সমস্ত দূরত্ব মিটিয়ে রোদকে পানি ছাড়া চিবিয়ে খেতে চাইছে এই লোক।রোদ পলক ফেলতে ভুলে গেলো।শ্বাস চলছে কি না টের পেলো না।কিন্তু কামার শালার হাতুড়ির বাড়ি ক্রমাগত তার বুকের ছাতিতে পড়ছে।রোদের ভয় আরেকটু চরমে তুলে হিসহিস করে দাঁত চিবিয়ে শাহরান বলে উঠলো
“রাশিয়া থাকতে যা করেছ আমার উপর তার হিসেব এবার সুদে আসলে উসুল করবো।তোমার জন্য আমি আমার ড্রিম ফুলফিল করতে পারিনি।শুধু তাই নয় রাশিয়া ছেড়ে চলে আসতে হয়েছে আমাকে।এবার কে বাঁচাবে তোমায় আমার হাত থেকে?প্রতিটি দিন নরক বানিয়ে ছেড়ে দেব মিস “রোদসী অরোরা চৌধুরী”আমার টর্চার সহ্য করার জন্য প্রিপেয়ার্ড থাকো।প্রাণে মারবো না কিন্তু বাচিয়েও রাখবো না!”
বলেই নিজের লেকচার টেবিলে ফিরে গেলো শাহরান।অতঃপর গমগমে গলায় পুরো ক্লাস রুম কাঁপিয়ে বলে উঠলো
“ক্লাস আওয়ার যতক্ষন না শেষ হবে ততক্ষণ আপনি এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকবেন মিস রোদ।তাছাড়া আপনি কাল সিটি তে এটেন্ড করেন নি।ক্লাস শেষ হলে আমার কেবিনে আসবেন।এক্সমা দিয়ে মার্কস নিয়ে যাবেন।নয়তো লাগাতার প্রতিদিন সারা ক্লাস দাঁড়িয়ে আমার লেকচার শুনবেন”
রোদ ফট করে ঠোঁট নাড়িয়ে বলে উঠলো
“আমি স্কুলের বাচ্চা নই!”
“আপনি যেহেতু আমার অধীনে ক্লাস করছেন সেহেতু আপনি আমার কাছে বাচ্চা তুল্যই।বয়সে এবং পজিশনে দুটোতেই আপনার গুরুজন আমি।এক্সপেক্ট করবো নেক্সট ক্লাসে সম্মান দিয়ে কথা বলবেন।আর সঠিক ভাবে চ্যাপ্টার গুলোর প্রেজেন্টেশন করবেন”
(সবাই নতুন পেইজে যুক্ত হয়ে যান।যখন তখন এই পেইজ বন্ধ হয়ে যাবে।পেইজ লিংক
https://www.facebook.com/share/1BmyqXUHrn/)
চলবে
Share On:
TAGS: চেকমেট সিজন ২, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২১
-
চেকমেট সিজন ২ পর্ব ১১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন গল্পের লিংক
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৯