Golpo romantic golpo চেকমেট সিজন ২

চেকমেট সিজন ২ পর্ব ১১


চেকমেট_২ ||১১||

সারিকা_হোসাইন

ঘুম ঘুম চোখ আর ঝিমুনো মস্তিষ্ক নিয়ে ঝাপসা দৃষ্টিতে বাইরে তাকিয়ে রইলো শাহরান।ফরেস্ট হাউজের পেছনের অংশ পুরোটাই শত শত স্টুডেন্ট, টিচার,গাইড আর পুলিশ দিয়ে ভরা।পুলিশের সঙ্গে আনা চার চারটে জার্মান শেপার্ড।লকলকে জিহবা বের করে ধুঁকছে সেগুলো।আর তাদের সামনে পলিথিন ব্যাগে একটা ছিন্নভিন্ন দেহ রাখা।প্রথম দর্শনেই চিন্তা না করে বলে দেয়া যাচ্ছে বন্য জন্তু খুবলে ছিঁড়ে খেয়েছে তাকে।কিন্তু খেলোই বা কাকে?

এতো এতো বিদঘুটে চিন্তার মধ্যে শাহরানের কানে বেজে উঠলো রোদের ভয়ার্ত রিনরিনে কম্পিত কন্ঠ

“এরেস্ট হীম!

শাহরান ভোঁতা মস্তিষ্ক নিয়ে সেই স্বর অনুসরণ করে পাশে তাকালো।মেয়েটি কেমন ভয় ভয় নজরে শাহরানের চোখে চোখ রাখলো।শাহরান কে দেখে এত ভয়ের কি আছে?তার মাথায় দুটো শিং গজিয়েছে বুঝি?আর?আর এই নির্বোধ বাঁকা হাড়ের মেয়েটা তাকে এ*রেস্ট ই বা করতে বলছে কেন?কি করেছে শাহরান?

ধীরে ধীরে সমস্ত চিন্তা ভাবনা মস্তিষ্কে জট পাকালো।শাহরান সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বারান্দার রেলিং ডিঙে সকলের নিকট আসতে চাইলো।এক পা বাইরে ফেলতেই কুকুর গুলো তেড়ে আসতে চাইলো।পুলিশ শক্ত হাতে টেনে ধরলো তাদের শিকল।কিন্তু কুকুর গুলো কর্কশ স্বরে ডেকেই চললো।শাহরান এবার স্তম্ভিত হলো।গত সন্ধ্যায়ই সে তাঁবু ছেড়ে এখানে চলে এসেছিল।নিনাদের সঙ্গেও আর যোগাযোগ হয়নি।কি এমন জঙ্গলে ঘটলো যে পুলিশ চলে এলো?

শাহরানের ভাবনার মাঝেই নিনাদ কোত্থেকে যেনো ছুটে এলো।এসেই শাহরানের গায়ের রক্তাক্ত সাদা টিশার্ট টেনে ধরে বলল

“এটা গত সন্ধ্যায় জনের সাথে মারামারি করার সময় লেগে যাওয়া রক্তের ছাপ তাই না?

শাহরান অবাক হয়ে নিনাদের পাগলামো আচরণ দেখলো।কোনো জবাব দেবার ভাষা পেলো না।কিন্তু নিনাদের প্রশ্নের উত্তর শাহরানের কাছে আছে।এটা জনের সাথে মারা মারি করার সময় লেগে যাওয়া রক্তেরই ছাপ।কিন্তু বিষয়টা তো সেখানেই মিট হয়েছে।জার্মান শেপার্ড নিয়ে পুলিশ আগমনের মতো কোনো দুর্ঘটনা তো শাহ ঘটায় নি।তবে?

এবার নিনাদ বাইরে আঙ্গুল নির্দেশ করে বললো

“তুই শুধু একবার বল তুই জন কে খু*ন করিস নি।বাকিটা আমি সামলে নেব।

এবার যেনো আকাশ থেকে পড়লো শাহ।মনে হলো নিনাদ আবোল তাবোল বকছে।মানুষের প্রা*ণ নেবে শাহরান?এও কি সম্ভব?
শাহরান এক ঝটকায় নিনাদের হাত নিজের শরীর থেকে ছাড়িয়ে দাঁত চিবিয়ে বলে উঠলো

“সকাল সকাল নেশা ভাঙ করেছিস নাকি?আমি কেনো খু*ন করবো,?আর পুলিশের সামনে কিসব বকছিস?

নিনাদ আর অপেক্ষা করলো না।দৌড়ে গিয়ে প্রিন্সিপাল এর সামনে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো

“স্যার জীবনে ও একটা পিঁপড়ে পর্যন্ত মারেনি।পিঁপড়ে তো দূর,মশা ওকে কামড়ে রক্ত খেয়ে চলে যায় তবুও মশাকে হাত তুলে চাপড় দেয়না সে।একদম জন্মের পর থেকে চিনি।ও এমন ছেলেই নয়।এটা অন্য কেউ করেছে।প্লিজ তদন্ত না করে ওকে পুলিশে দেবেন না।

প্রিন্সিপাল দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়লো।শাহরান কে বিগত তিন বছর ধরে চিনেন তিনি।ছেলেটা মানুষ খুন করার মতোও উ/গ্র নয়।আবার গত সন্ধ্যার ঘটনাও ফেলে দেবার মত নয়।তবে?তবে কে ঘটালো এহেন নিষ্ঠুর নৃ/শংস ঘটনা?
এদিকে জনের বন্ধুরা পুলিশের সামনে তুলে ধরলো গত সন্ধ্যার ভিডিও।ভিডিও তে স্পষ্ট শাহরানের হুমকি

“আ উইল কিল ইউ বা/স্টার্ড!

অফিসার ক্রিস্টোফার এক ঝলক শাহরান কে দেখলো।গায়ে র/ক্তা*ক্ত পোশাক,চোখে মুখে জ/খমের দাগ।ফর্সা গলার পুরোটা জুড়ে লম্বা আড়াআড়ি কা/ টা দাগ।অফিসারের শকুনি চোখ এক নিমিষেই যেনো পুরো ঘটনা ঝালাই করে ফেললো।সে আদেশ দিলো

“এ/রে*স্ট হীম।

শাহরান যেনো ভুল শুনলো।কিসের এ/রেস্ট করবে তাকে?সে তো এমন কিছুই ঘটায় নি।শাহরান চিৎকার করে বলতে চাইলো

“সব মিথ্যে।আমি এমন কিছুই করিনি।

সময় দিলো না অফিসার।হ্যান্ডকাফ নিয়ে তেড়ে এলো অফিসার।মুহূর্তেই শাহরানের কানে বাজলো গম্ভীর স্বর।

“সারফরাজ শাহজাইনের ছেলে তুই।তোকে শিকল পরিয়ে জেলে বন্দি করে কার সাদ্ধি?

শাহরানের মস্তিষ্কের প্রতিটি নিউরন আন্দোলন করলো,শরীরের তপ্ত র*ক্ত টগবগ করে ফুটতে লাগলো।বিক্ষিপ্ত চঞ্চল হলো মস্তিষ্ক সেই সঙ্গে নাকে মুখে জমলো ক্রোধ।চরম আক্রোশে চোয়াল শক্ত করে অফিসারের হাত থেকে নিজের হাত সরিয়ে শাহরান বলে উঠলো

“ডোন্ট ডেয়ার টু টাচ মি।

অফিসারের ইগোতে লাগলো বোধ হয় কথাটা।সে শক্ত এক ঘু/ষি বসালো শাহরানের মুখে।সহসাই কে/টে ফিনকি দিয়ে র/ক্ত ছুটলো।শাহরান ছিটকে পড়তে পড়তে নিজেকে সামলে ঠোঁটে হাত বুলালো।একের পর এক চমক।অথচ কোনটারই সুরাহা নেই তার কাছে।নিনাদ কেঁপে উঠলো পুলিশের ঘুসিতে।সে কম্পিত হাতে সারফরাজ এর নম্বর ডায়াল করলো।

কেবলই নিজের নতুন বিজনেস ডিলিং নিয়ে গোপন এক ক্লাবে বসেছে সারফরাজ।চারিধারে পিনপতন নীরবতা।ইয়ং বন্দুক হাতে সদা সতর্ক।যখন তখন ওপর পক্ষ চালাকি করলেই লাশের পর লাশ ফেলবে সে এমন নজর।এরই মাঝে নীরবতার ভগ্নদশা ঘটলো।সারফরাজ এর ফোন কেঁপে উঠলো।সারফরাজ কপাল কুঁচকে ফোন বের করলো কোটের পকেট হাতড়ে।স্ক্রিনে নিনাদের নম্বর।এক ভ্রু উঁচু হলো এবার গম্ভীর মানবের।সে ফোন কানে তুলে অপেক্ষা করলো নিনাদের স্বর শোনার।নিনাদ ভয়ার্ত স্বরে ডাকলো

“আংকেল…

এবার সারফরাজ এর চোয়াল শক্ত হলো।নিনাদের এই কন্ঠ বড্ড পরিচিত তার।শাহরান কে কেউ ছুঁয়ে দিলেই ছেলেটার কন্ঠ কেঁপে কেঁপে ভেঙে যায়।সারফরাজ হাতের ইশারায় মিটিং হোল্ড করে প্যান্টের পকেটে এক হাত গুঁজে আভিজাত্য চলনে বুক উঁচু করে বাইরে বেরিয়ে এলো।এরপর টাইয়ের নট ঢিলে করতে করতে হুংকার ছাড়লো

“হুজ গট দ্যা নার্ভ?

নিনাদ আরেকটু গুটিয়ে বলে উঠলো

“পুলিশ।

সারফরাজ আর শুনলো না।ফোন কেটে দিলো।এরপর নিজের হাত কত বড় লম্বা তার প্রভাব পরখ করলো।সেই হাতের প্রভাবে মুহূর্তেই কেঁপে উঠলো ক্যালিফোর্নিয়া টু রাশিয়া।


দুজন অফিসার কোণঠাসা করে চেপে ধরলো শাহরান কে।যেনো কোরবানির পশুকে বা/ধা হচ্ছে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে।অবশেষে স্টিলের কঠিন হাতকড়া উঠলো শাহরানের হাতে।অগণিত ঘুসি আর আঘাতের পর টেনে হিচড়ে শাহরান কে আনা হলো জনের ডে*ড বডির সামনে।শাহরানের কোনো অনুশোচনা হলো না জনকে দেখে ।।সে ভয় ও পেলো না।হাসলো।বড্ড তাচ্ছিল্য সেই হাসি।

অফিসার ক্রিস্টোফার নির্দেশ দিলেন

“গাড়িতে তুলো একে।

শাহরানকে ফাঁসি/র কাষ্ঠের আসামির মতো জ/বর/দস্তি করা হলো।এবার আর টলাতে পারলো না শাহরানকে।সকলের কটাক্ষ দৃষ্টি মাড়িয়ে অফিসার দুটো সমেত রোদের সামনে এসে দাড়ালো শাহরান।এরপর ঠোঁট এলিয়ে নিঃশব্দ হাসলো।কেমন ক্রুর আর ভয়ানক সেই হাসি।শাহরানের হাসিতে দু কদম পেছনে পেছালো রোদ ।মরে যাওয়া একটা আধ ভাঙা গাছের গুড়ির সাথে বেঁধে পরতে পরতে নিজেকে সামলালো অল্প।শাহরান ফসফস শ্বাস তুলে পুনরায় এগিয়ে গেলো রোদের পানে।এরপর রোদের মুখের দিকে ঝুঁকে হিসহিস কন্ঠে বলে উঠলো

“কোন প্রমাণের ভিত্তিতে আমাকে এরেস্ট করার নির্দেশ দিলে?আমায় খু*ন করতে দেখেছো বুঝি?

রোদ চোখ নামিয়ে নিলো।শাহরান জম্বির মতো ক্ষিপ্ত হয়ে আরেকটু ঝুঁকলো।পুলিশ রোদের সামনে থেকে শাহরান কে সরাতে চাইলো।শাহরান তবুও নড়লো না এক বিন্দু।

“আমি হলে জনের দেহের অস্তিত্ব টিকে থাকত না এই পাইন ফরেস্টে।তোমার মত এতোটা মাথা মোটা আমি নই।এই খু*ন আমি করিনি স্টু/পিড গার্ল।

বলেই হ্যান্ডকাফ সমেত নিজের বুকে নিজেই ঘুষি মারলো শাহ।কেমন পাগল পাগল লাগছে সব কিছু।ক্যালিফোর্নিয়া ফিরে গেলেই বোধ হয় ভালো ছিলো তখন।এতো ঝামেলা পিছু নিতে পারতো না।শাহরান দুই হাতের আজলায় মুখ মুছে বলে উঠলো

“ধ্যাত কাকে কি বুঝাচ্ছি?এর সাথে বকবক করার চাইতে কলা গাছের সাথে কথা বলা ঢের ভালো।সিলি গার্ল একটা।না পারলাম একে ধরে রাখতে না পারছি ছেড়ে দিতে।কলিজা কামড়ে খেয়ে কুঁড়ে কুঁড়ে মারছে ।কি নিষ্ঠুর কি হৃদয়হীন!

রোদ কথা বলার ভাষা পেলো না।শুধু পেছাতে লাগলো।শাহ রোদের সাথে পা মিলিয়ে এগুলো।সেই সাথে বললো

“জেল থেকে তো আমি ফিরবোই ফিরবো।ফিরে সবার আগে তোমাকে খু/ ন করবো।তারপর দেখাবো আমার খুনের ধরন কেমন।তোমার ধারণা পাল্টানোর জন্য হলেও তোমাকে খুন করবো আমি রোদসী অরোরা।আমার বড্ড আফসোস হয় জানো?তুমি তোমার বাবার মতো বুদ্ধিমান আর বিচক্ষণ হলে না।সাদা চামড়ার মানুষ গুলোর মতো নির্বোধ হলে।জেল থেকে বেরিয়ে তোমার মস্তিষ্ক কে/টে দেখবো কত কেজি গোবরের আমদানি ওখানে।

রোদ এবার ভয়ে কেঁদে ফেললো।শাহরান এবার সিরিয়াস হলো।সমস্ত মজা বাদ দিলো।বুকটা হঠাৎ নিকষ ব্যাথায় বিষিয়ে উঠলো।এই নির্বোধ ঘিলুহীন মেয়েটাকে সে এতোকাল জান প্রাণ দিয়ে ভালো বেসেছে।অথচ মেয়েটা তাকে নির্দয়ের মতো পুলিশের কাছে সোপর্দ করলো।
শাহরান তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে উঠলো

“আমি তোমাকে যতোটা ভালোবেসে ছিলাম তার এক সিকি ভাগও যদি তুমি আমায় বাসতে তবে আমাকে পৃথিবীর কোনো মন্দ জিনিস ছুঁতে পারতো না।কত কাঙালই না ছিলাম তোমার জন্য।অথচ তুমি আমাকে এক বিন্দু ভালোবাসা ভিক্ষে দিলে না।আমার এই এক তরফা ভালোবাসা তোমাকে একদিন খুব কাঁদাবে।আমাকে আর কোনো দিন তুমি দেখবে না।না আমার কন্ঠস্বর তোমার কানে বাজবে।কিন্তু বিশ্বাস করো আমার স্মৃতি গুলো তোমাকে উন্মাদের ন্যয় তাড়া করে বেড়াবে।পালাতে পারবে না তুমি।আ উইল ট্রুলি ফর্গেট ইউ দিজ টাইম। ভালো থেকো রোদসী অরোরা।কোনো দিন আমার সামনে পরো না।পড়লে খুব পস্তাবে।গুড বাই।

পুলিশের বহর শাহরান কে আর এক মুহূর্ত টিকতে দিলো না এই বৈকাল হ্রদের পাইন ফরেস্টের গহীনে ।টেনে হিচড়ে নিয়ে যেতে লাগলো গাড়ির দিকে ।কিন্তু শাহরানের দৃষ্টি টলাতে পারলো না এক বিন্দু।যতদূর রোদ কে দেখা গেলো শাহরান তাকিয়ে রইলো ক্রুর নজরে।ওই নজরের ভাষা রোদ জানে না ,চিনেও না।তার বাবার নজর ও এতটা ভয়ংকর নয়।তবে শাহরানের রক্ত কি তার বাবার রক্তের চাইতেও ভয়ানক?


শাহরানকে বৈকাল হ্রদের নিকটবর্তী শহর ইরকুতস্ক এর সিজো জেলে এনে বন্দি করা হলো।আপাতত সঠিক তদন্তের জন্য এখানে রাখা হয়েছে তাকে।কোর্টে এখনো রায় হয়নি।সঠিক ইনভেস্টিগেশন এর পর তবেই শুরু হবে আসল সাজা।জনের লাশ মর্গে রাখা আছে।আজ বিকেলেই সেটা ফরেন্সিকে পাঠানো হবে।যদি সব মিলিয়ে শাহরান দোষী হয় তবে তাকে পাঠানো হবে মস্কোর কারাগারে।এরপর সেখানে ভোগ করবে কঠিন সাজা।কম করে হলেও সাত বছরের জেল সঙ্গে অমানবিক ট/র্চার।

সিজোর সংকীর্ণ একটি সেলে হাটু মুড়ে ফেলে রাখা হয়েছে শাহরান কে।নিজের শেষ পরিণতি দেখে ছেলেটি এবার নিজের আশা ভরসা সব খুইয়ে ফেললো।ভালোবাসা তাকে শেষ পর্যন্ত কোথায় এনে ফেললো ভেবেই ভালোবাসা নামক জিনিসটার উপর তীব্র ঘৃণা জন্মালো তার।সে জানে তার বাবা আজই এখান থেকে তাকে মুক্ত করে নিয়ে যাবে।ক্যালিফোর্নিয়া ফিরেই শাহরান লিড করতে পারবে স্বপ্নের ন্যয় জীবন।কিন্তু এই চব্বিশ বছর বয়সে যে শরীরে, মনে এতো এতো কুৎসিত দাগ লাগলো তার বেলায় কি হবে?কবে মুছবে এই দাগের রেখা?আদৌ মুছবে তো?নাকি আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে এই গ্লানি?

শাহরানের বড় বড় কালো মনির চোখ দুটো জলে ভরে উঠল এবার।দেয়ালে মাথা ঠুকে কাঁদতে ইচ্ছে করলো।কিন্তু সে কাঁদলে ভেঙে পড়ল তার বাবার সমস্ত শৌর্য মাটিতে পতিত হবে।সারফরাজ শাহজাইন এর রক্ত বইছে তার শরীরে।ওই রক্ত কখনো কারো কাছে মাথা নোয়াইনি।বরং অন্যের মাথা নুইয়েছে নিজের চরনে।শাহরান শক্ত চোয়ালে অভাবেই হাটু গেড়ে বসে রইলো।সে দেখতে চায় কতক্ষন রাশিয়ান জেল তাকে মিথ্যে আইনে বেঁধে এভাবে রাখতে পারে।


শাহরান যাবার পর থেকেই সুফিয়ান চৌধুরীর মনটা ভালো নেই।সারাক্ষন কেমন এক গা ছমছমে ভয় বুকে জেঁকে বসে আছে।শাহরানকে বার বার অনুরোধ করেছিলেন সুফিয়ান চৌধুরী যাতে তাকেও সঙ্গে নেয় সে।কিন্তু বেপরোয়া মানুষ কি আর সেসব শোনে?একদম বাবার মতো একরোখা ঘাড় ত্যাড়া।সুফিয়ান চৌধুরী কিছুক্ষণ শাহরানের খালি এপার্টমেন্ট এ পায়চারি করে এক মগ কফি নিয়ে টিভি অন করলেন।সুন্দরী নায়িকাদের রঙ ঢং ওয়ালা নাচন কুদন দেখে যদি মনটা একটু শান্ত হয় সেই আশায়।টিভি অন করতেই সেখানে খবরের চ্যানেল বেরুলো।কোনো মার্ডার রিলেটেড খবর।পুলিশের মন নিউজ দেখার জন্য উদগ্রীব হলো।মস্তিষ্ক চাইলো নাচ দেখতে কিন্তু মন ধমকে বলে উঠলো

“বুড়ো ভাম এক পা কবরে গেছে এখনো লজ্জা হচ্ছে না?খবর দেখ।

সুফিয়ান চৌধুরী চোখ মুখ সতর্ক করে খবরে মনোযোগ দিলেন।কয়েক সেকেন্ড টিভির পর্দায় নজর রাখতেই বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন সুফিয়ান চৌধুরী।টিভিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে রক্তাক্ত জামা কাপড়ে শাহরান।তাকে টেনে হিচড়ে পুলিশ ভ্যান থেকে নামাচ্ছে রাশিয়ান পুলিশ।চারপাশে রিপোর্টার্স।সকলের চোখে মুখে ভয়।যেনো বন্য কোনো জন্তু শাহরান।নিচ দিয়ে হেডলাইন ভেসে যাচ্ছে

“এরেস্টেড ফর মার্ডার উইথ আউট অ্যানি সিঙ্গল ইনভেস্টিগেশন”

হেডলাইন দেখে সুফিয়ান চৌধুরীর মাথা ঘুরে গেলো।হাত থেকে পরে গেলো কফির মগ ।সোফায় ধপ করে বসে পড়লেন তিনি।ডায়াল করলেন সারফরাজ এর নম্বর।কিন্তু নম্বর বন্ধ।


প্রায় সাড়ে এগারো ঘন্টার ননস্টপ জেট জার্নি করে ইরকুতস্ক এসে থামলো সারফরাজ।মাইনাস 78 ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় চারপাশ জমে সাদা শক্ত বরফ হয়ে আছে।কঠিন চোখ মুখে বাইরে তাকিয়ে রাশিয়ান মাফিয়া লরেন্স কে শুধালো

“এই অসহনীয় ঠান্ডায় আমার কলিজার টুকরা জেলে শক্ত চৌকিতে বসে নিজের জীবনের হিসেব গুনছে।বাবা হিসেবে আমার কেমন অনুভূতি হচ্ছে তুমি বুঝতে পারছ লরেন্স?

লরেন্স সারফরাজ এর শক্ত চোয়াল দেখে চোখ নামিয়ে নিলো।এই বয়সে এসেও মানুষটার চোখের নজর কলিজায় কাঁপন তুলে।বয়স যেনো তাকে ছুতেই পারেনি।গায়ের চামড়া আর জৌলুস এখনো টনটনে চকচকে।চুলে পাক ধরেছে নাকি রঙ করা বুঝা দায়।গলার স্বর আগের মতোই হুংকার তুলে।নিঃশ্বাসের উত্তাপ শরীর পুড়ি/য়ে দেয়।লরেন্স গলায় ভালো করে মাফলার জড়াতে জড়াতে বলে উঠলো

“রাশিয়ার সবচাইতে বড় লইয়ার এপয়েন্ট করেছি আমি।শাহরান খু*ন করে থাকলেও তার বদলে সাজা কাঁধে নিয়ে জেল ভোগ করার মানুষ রেডি।আপনি শুধু পুলিশ স্টেশন পর্যন্ত চলুন আমার সাথে।

সারফরাজ বুক উঁচিয়ে হাটতে হাটতে জবাব দিলো

“আমার ছেলে খুন করেনি লরেন্স।ওসবের ছায়া দিয়ে বড় করিনি ওকে আমি ।কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ভুল করেছি।নয়তো শু/য়োরের বাচ্চারা আমার ছেলেকে জেলে ভরার সাহস থোরাই পেতো?সব কটাকে আস্ত গিলে নিতো ।

লরেন্স মাথা ঝাঁকালো শুধু। সারফরাজ ভারী গলায় বলল

“ম /র্গে চলো প্রথমে ।অনেক দিন ছিন্ন/ ভিন্ন গলিত ডে/ড বডি দেখা হয়নি।আরেকটা কথা

বলেই ভ্রু চুলকালো তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে সারফরাজ।এরপর দাঁত পিষে বললো

“শুনেছি অফিসার পাভেল আর স্যাভি আমার ছেলের গায়ে হাত তুলেছে।পুঁ/তে দাও ওদের ।

কেঁপে উঠলো লরেন্স ।ভীত গলায় শুধালো

“কোথায়?

“যেখানে আমার ছেলের গায়ে হাত তোলা হয়েছিলো সেখানেই।আর কানে কানে সবাইকে জানিয়ে দিও আমার ছেলের দিকে দ্বিতীয় কারো হাত উঠলে তার পরিণাম ঠিক কতটা ভ*য়া/বহ হতে পারে।

(#2k_কমেন্টসহলেরাতেআরেকপার্ট_দেব)

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply