Golpo romantic golpo কী ভয়ংকর মায়া তোর

কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৩৪


কীভয়ংকরমায়া_তোর

পার্ট_৩৪

লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু

কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫❌

আজ শুক্রবার সকলে বাড়িতেই আছে।আদ্র এখন ভালোই সুস্থ হাতের বেন্ডেজ খুলে ফেলা হয়েছে।নেওয়াজ বাড়িতে আহি এখন স্বাভাবিক ভাবে বাড়ির মেয়ে হিসেবেই চলে।প্রথম প্রথম একটু সংকোচ নিয়ে চলে ফেরা করতো। কিন্তু এখন আবার সেই প্রাণচঞ্চল ছোট আহির রুপ নিয়েছে।নেওয়াজ বাড়ির দুটা মানুষ ছাড়া বাকি সবার চোখের মণি আহি।ছোট চাচ্চু তাহমিদ নেওয়াজ তো প্রতিদিন রাতে ডিউটি শেষ করে হসপিটাল থেকে আসার পথে এটা ওটা নিয়ে আসবে।মেয়েটা এখন ছোট বেলার মতো করেই সবার খেয়াল রাখে। এ যেমন সন্ধ্যায় বড় আব্বু আসলে তাকে আদা দিয়ে চা দাওয়া।দাদিকে ঠিক মতো ঔষধ খাওয়ানো।বড় আম্মু সাথে খাবার এগিয়ে টেবিলে রাখা।ছোট চাচ্চুর ব্যাগ গুছিয়ে দাওয়া।ফাইজের রুম গুছিয়ে রাখা।সবশেষে রইল তার বাবা কথা না বললেও বাবাকে অনেক সম্মান করে সে।বাইরে থেকে আসলে বিনা বাক্য তার চা টেবিলে রেখে দিয়ে আসা।পারুল নেওয়াজ এসব থেকে বাদ তার সাথে আহি কথা তো দূর তেমন একটা সামনেও যায় না।

সকাল ৮ টার ঘরে একে একে সবাই খাবার টেবিলে নেমে এসেছে।পুরুষেরা সব খেতে বসেছে সাথে ছোটরাও আছে।আতিয়া নেওয়াজ আর পারুল নেওয়াজ খাবার পরিবেশন
করছে।আদ্র বসে বসে অপেক্ষা করছে আহির। সে জানে আজকে দেরি করে ঘুম থেকে উঠবে।মেয়েটা এতো ঘুম পাগল প্রতিদিন একটা যুদ্ধ করে ঘুম থেকে উঠাতে হয় আতিয়া নেওয়াজের। আজ শুক্রবার ডাকতে ডাকতেও উঠবে না।

—ইয়ানা যা তো আহি কে ডেকে নিয়ে আয়।

ভাইয়ের কথায় ইয়ানা হেঁসে বলে

—তোমার কী মনে হয় ও’কে এখনো কেউ ডাকে নি?আমি তিনবার ডেকে এসেছি।আম্মু দু’বার আর দাদির কথা বাদই দিলাম।কিন্তু ছোট পরীর একটাই কথা শুক্রবার মানেই ঘুম দিবস। ঘুমাতে হবেই।কেউ যেন তাকে ডিস্টার্ব না করে।

—থাক আদ্র মেয়েটা কে একটু ঘুমাতে দে ডাকার দরকার নেই।

মায়ের কথায় আদ্র চেয়ার ছেড়ে উঠতে উঠতে বলে।

—সময় মতো খাবার না খেয়ে অসুস্থ হলে পরে রৌদ্র বলবে আমরা তার ডংগী বোনকে খেতে দি না ঠিক মতো এজন্য অসুস্থ হয়ে গেছে।

কেউ আর কিছু বলে না।সবাই জানে রৌদ্র আহির ব্যাপারে কতটা সিরিয়াস।বোনের একটু থেকে একটু উনিশ বিশ হলে সব ধ্বংস করে দাওয়ার ক্ষমতা রাখে ছেলেটা।


আদ্র সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকে। দোতলায় করিডোর পেরিয়ে আহির রুমের সামনে দাঁড়ায়। দরজা হালকা ভেজানো। ভেতর থেকে এসির মৃদু শব্দ আর আহির ভারী নিঃশ্বাসের আওয়াজ আসছে।

দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে আদ্র। খাটের মাঝখানে কোলবালিশ আঁকড়ে ঘুমাচ্ছে আহি। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে মুখের উপর পড়েছে। গায়ের পাতলা কাঁথাটা পায়ের কাছে গুটানো। সকালের রোদ জানালার পর্দা ভেদ করে ওর মুখে এসে পড়েছে। একদম নিষ্পাপ বাচ্চার মতো লাগছে।

আদ্রের ঠোঁটের কোণে এক অদ্ভুত হাসি ফুটে সে ঝুঁকে আহির কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে।

—আমার ঘুম পাগলী বউ উঠে পড়ুন।সকাল হয়ে গেছে।

আহি ঘুমের মধ্যে নড়েচড়ে উঠে আবার ঘুমি তলিয়ে যায়।আদ্র ফু দিয়ে আহির মুখে পড়া থাকা চুল গুলো সরিয়ে দেয়।আহি একটু কেঁপে উঠে তবে ঘুম ভাঙ্গে না।

—বউজান উঠে পড়েন এটা আপনার স্বামীর বাড়ি।আপনার বাপের বাড়ি মনে করে বেলা পর্যন্ত ঘুমালে হবে.?

টেনে তুলতে তুলতে কথাটা বলে আদ্র।আহি পিটপিট করে তাকিয়ে বলে।

—আরেকটু ঘুমাই.?

_নো তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেশ হও।

বিরক্ত হয়ে উঠে বসে নিচে নেমে ওয়াশরুমে যেতে বলে

—থাকব না আমি এই ফালতু স্বামী বা্ড়িতে।যেখানে বউকে অত্যাচার করে শান্তিতে ঘুমাতেও দেয় না।

বলেই শব্দ করে দরজা টা লাগিয়ে দেয়।এই দিকে বেচারা আদ্র বড়সড় একটা শকড খেয়েছে।সে না হয় একটু ঘুম থেকে উঠিয়েছে বউ ছাড়া খেতে ইচ্ছে করছে না। তাই বলে মেয়েটা এভাবে তাকে হুমকি দিবে?সে নাকি বউকে অত্যাচার করে? আর আজ পর্যন্ত একটা মাএ চুমু খেতে পেরেছে সে এখনও তো কিছু শুরুই করেনি।নিহাত সে সাদু পুরুষ না হলে অত্যাচার কী? কাকে বলে.?কয় প্রকার ও কী কী? সব বুঝিয়ে দিতো।


সবার খাওয়া প্রায় শেষের দিকে।এমন সময় রৌদ্র নেওয়াজ বাড়িতে ডুকে।যেই না রৌদ্র ডুকবে।এমন সময় দেখল ইয়ানা মুখ চেপে খাবার টেবিল থেকে উঠে দৌড়ে গিয়ে ব্রেসিং এ গড়গড় করে বমি করে দিল।আতিয়া নেওয়াজ গিয়ে মেয়ে কে ধরল।দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা রৌদ্র এটা দেখে অবাক হয়ে বিরবির করে বলে—

_ হায় আল্লাহ এক চুমুতে প্রেগন্যান্ট হয়ে গেলো নাকি? আমার চুমুর এতো পাওয়ার আগে জানলে একসাথে দুটো চুমু খেতাম।তাহলে টুইন বেবি হতো।একসাথে দু বাচ্চার বাপ আহ কী সুন্দর দুটো হাঁস মুরগীর বাচ্চা পেতাম।

—এখানে দাঁড়িয়ে কী এমন বিরবির করছো চল ভিতরে যাবে।

সায়ন খানের কথায় রৌদ্র বলে।

—কিছু না চলো।

বাপ ছেলে দুজনেই ভিতরে ডুকে।খাবার টেবিল থেকে ড্রয়িং রুম স্পষ্ট দেখা যায়।রৌদ্রের সাথে সায়ান খানকে দেখে সবাই অবাক হয়।কেউ ভাবেনি সায়ান খান এই বাড়িতে আসবে।পুরুষেরা সবাই এগিয়ে এসে কোলাকুলি করে।

—বসুন আগে.!কী ব্যাপর খান সাহেব সবাইকে অবাক করে হঠাৎ নেওয়াজ বাড়িতে?

সোফায় বসতে বসতে সায়ান খান হেঁসে আজিজ নেওয়াজ এর প্রশ্নের উওর দেয়।

—আসতেই হতো আমার মা যে এখানে।তা কই তাকে তো দেখছি না।

তরিকুল নেওয়াজ চুপচাপ সায়ান খানের কথা শুনছে।মেয়ে জন্ম দিয়ে সত্যি কারের বাবা হতে পারেন নি তিনি।অথচ সয়ান খান কীভাবে মা বলে ডাকছে।

—আপনার মেয়ে এখনো ঘুমে। তার কথা আজকে শুক্রবার সে ইচ্ছে মতো ঘুমাবে।

—ও এমনই একটু ঘুম পাগল।

—আব্বুউউউউ।

সায়ান খানের কথার মধ্যে আহি ডেকে উঠে।তিনি সিঁড়ির দিকে তাকায় যেখানে আহি দ্রুত নেমে আসছে আর পিছন পিছন আদ্র।

—আস্তে যা পড়ে যাবি তো।

কেউ শুনে কথা কথা। আদ্রের কথা যেন আহির কানেই যায় নি।সে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে তার আব্বুকে।

—কেমন আছে আমার মা টা.?

—ভালো নেই!

—কেন কী হয়েছে? কে কী বলেছে আব্বুকে বলো?

আহি গাল ফুলিয়ে অভিযোগ করে!

—এই শ্বশুর বাড়ি ভালো না আব্বু।অনেক অত্যাচার করে আমাকে?

আহির কথা প্রতিটা মানুষের চোখ কপালে।শুধু আদ্র ভ্রু কুঁচকে চেয়ে আছে আহির দিকে।আর রৌদ্র আদ্রের দিকে কটমট করে তাকিয়ে আছে।আদ্র দেখল তবে পাওা দিল না।

—কেন কী হয়েছে মা?

—আমাকে ঘুমাতে দেয় না। টেনে টেনে উঠিয়ে দেয়। আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারিনা।

সায়ন খান আর রৌদ্র বাদে সবাই আহির কথা বুজল।আজিজ নেওয়াজ বলে।

—কে আমার মেয়ে কে ঘুমাতে দেয় না?

—তোমার ছেলে।

সবাই আদ্রের দিকে তাকায়।আদ্র স্বাভাবিক মুখে আহির দিকে তাকিয়ে আছে।আহি তো ভুলেও আদ্রের দিকে ভুলেও তাকাচ্ছে না।

—আমার বোন তোর কোন জন্মের শত্রুরে ঘুমাতে দেস নি কেন.?

—নিয়ে যা তোর ডংগী বোনকে আমরা তো খালি অত্যাচার করি।সঠিক সময় খায় না পরে অসুস্থ হলে তো আমাদের দোষ।আমরা খেয়াল রাখিনি ঠিকমত এটা বলবি।যা নিয়ে যা।

—দেখছো বড় আব্বু তোমার ছেলে আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছে।

—কেউ তোমাকে তাড়াবে না আম্মু। এটা তোমার বাড়ি যে তাড়াতে চাইবে তাকে তোমার বড় আব্বু বকে দিবে যাও এখন খেয়ে নাও।

আহি আদ্র দিকে চেয়ে মুখ বেকিয়ে চলে যায়।সবাই হেসে ফেলে।আদ্র সোফায় বসে কথাবর্তা বলে এর মধ্যে বাহারি রকমের নাস্তা টেবিলে হাজির করে আতিয়া নেওয়াজ। সবাই কথা বলায় ব্যস্ত এর মধ্যে রৌদ্র আর ইয়ানা চোখাচোখি হয়।মেয়েটা দূর্ভল হয়ে চেয়ারে বসে আছে।দেখে মনে হচ্ছে কয়েকবার বমি করছে।কাল রাত থেকে গ্যাসের সমস্যার জন্য ইয়ানার বমি হচ্ছে। রৌদ্র তাকাতেই ইয়ানা চোখ সরিয়ে নেয়।

[এলার্জির ঔষধ খেয়েছি চোখে ঘুমঘুম লেখতে ইচ্ছে করছে না এই টুকু নিয়ে খুশি থাকো নেক্সট পার্ট বড় করে দিব)

চলবে….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply