কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৩৩
লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু
কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ❌🚫
নিজের রুমে এসে দৌড়ে ওয়াশরুমে ডুকে গড়গড়িয়ে বমি করে দেয় ইয়ানা।পেটের নাড়িভুড়ি সব বের হয়ে আসবে মনে হচ্ছে। শরীরে আর এক বিন্দুও শক্তি নেই। শরীরটা কেমন টলছে ইয়ানা শরীর ছেড়ে দিয়ে নিচে পড়ে যেতে নিলে।এক জোড়া শক্তপোক্ত হাত তার পাতলা শরীরটা আঁকড়ে ধরে।ইয়ানা নিভু নিভু চোখে তাকিয়ে দেখে রৌদ্র ভ্রু কুঁচকে তার দিকে চেয়ে আছে।ইয়ানা দূর্ভল শরীর নিয়ে নিজেকে রৌদ্রের কাছ থেকে সরাতে চায়।কিন্তু পারে না।রৌদ্র এক হাতে ইয়ানাকে আগলে রেখে অন্য হাতে পানি ছেড়ে ইয়ানার চোখ মুখে দেয়।ফ্রেশ করিয়ে কোলে তুলে খাটে এনে শুইয়ে দেয়।
—অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে সেই গর্তে নিজেকেই পড়তে হয় এই কথা নিশ্চয়ই শুনেছো?এবার নিজেকে নিজে দেখে বিশ্বাস হল তো?
ইয়ানা কিছু না বলে উল্টো ঘুরে শোয়।কথা বলবে না সে এই বদলোকের সাথে।সে নায় একটু মজা করে নিম পাতা আর করলা একসাথে ব্লেন্ড করে। রসটা কপিতে দিয়েছে।তাই বলে তাকে খাওয়াতে হবে?মুখে নিয়ে ফেলে দিলেই তো হয়।পেটের মধ্যে কেমন করছে।আরো বমি পাচ্ছে।কান্না আসছে তার। ইয়ানা নাক টানে।রৌদ্র বের হয়ে যেতে যেতে গম্ভীর কন্ঠে বলে
— ডংগের কান্না বন্ধ করো।প্রথম বার তাই মাপ করে দিয়েছি।আর কখনো এমন করলে এর চেয়ে খারাপ কিছু হবে।রেস্ট নাও।
ইয়ানা ভেংচি কাটে।উম আসছে প্রথম বারের মতো মাপ করে দিয়েছি।আর কখনো এমন করলে এর চেয়ে খারাপ কিছু হবে। শালা মদনখোর এত বড় শাস্তি দিয়েও বলে মাপ করে দিয়েছি।শালা তোর কপালে বউ নেই দেখিস।
মুখে বলতে না পারলেও মনে মনে কিছুক্ষণ এগুলো বকবক করল ইয়ানা।
ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে রৌদ্রকে রুমে না দেখে ভ্রু কুঁচকে আসে।চলে গেলো নাকি?নাহ এখন তো যাওয়ার কথা না গেলেও বলে যেতো।ল্যাপটপ ওপেন রেখেই বাঁদর টা কোথায় উধাও হয়ে গেছে।আদ্রের ভাবনার মাঝেই রৌদ্র রুমে ডুকে।
—কীরে কোথায় হওয়া হয়ে গিয়েছিলি?
—ওই একটু নিচে গিয়েছি।ফাইজ কল দিয়েছে বলেছে একটু দেরিতে বনুকে আনতে জেতে বনু নাকি ওর ফ্রেন্ডের সাথে ফুচকা খেতে চাইছে।
—ওহ তবে বেশি দেরি করবি না আধাঘন্টা পর নিয়ে আসবি।
রৌদ্র সায় দিয়ে আবার ল্যাপটব নিয়ে বসে।আদ্রও রৌদ্রের পাশে বসে বসতে না বসতে আদ্রের চোখ যায়।রৌদ্রের ঠোঁটের দিকে।
—কী’রে তোর ঠোঁটে কী হয়েছে.?
রৌদ্র ভড়কে যায়।হাত ধারা ঠোঁট চেপে ধরে।
— ক কই কী হবে কিছু হয় নি তো।
রৌদ্রের হাবভাব দেখে আদ্রের ভ্রু কুঁচকে আসে। জহুরি নজরে তাকায় রৌদ্রের দিকে।
—কিন্তু আমি তো দেখছি ঠোঁট ফুলে আছে।আর ঠোঁটের কোণে লাল লাল কী লেগে আছে।কি হয়েছে সত্যি করে বল?
—এক ডাইনী মৌমাছির একটু খানি মধু খেয়েছি এজন্য তার কুড়ালের ন্যায় দাঁত দ্বারা আমার সুন্দর ঠোঁট টা শেষ করে দিয়েছে।
—কী এতো বিরবির করছিস?দেখি কী হয়েছে।
আদ্র এগিয়ে আসতে নিলে রৌদ্র ছিটকে দূরে সরে যায়।তড়িঘড়ি করে দরজার দিকে এগোতে এগোতে বলে
—কিছু হয়নি কপি খেতে গিয়ে গরম কপি একটু ঠোঁটে লেগেছে তাই হয় তো ফুলে গেছে।তুই চিন্তা করিস না ঠিক হয়ে যাবে।আমার কাজ আছে গেলাম কিছুক্ষণ পর বনুকে নামিয়ে দিয়ে জাবো। বায়।
রৌদ্র বের হয়ে চলে গেল।কিন্তু আদ্র এখনো জহুরি নজরে রৌদ্রের যাওয়ার পথে চেয়ে আছে।
বাইরে এসে গাড়িতে বসে সামনে আয়নায় নিজের ঠোঁট দেখে নিজেই চমকে যায় রৌদ্র। তড়িঘড়ি টিস্যু দিয়ে ঠোঁট মুছে নেয়।ঠোঁটের কোণে লিপস্টিক লেগে আছে।তখন ইয়ানা তেতো কপি গিলেই রৌদ্রের ঠোঁটে কামড় দেয় ছাড়ার জন্য। তখন ব্যথা ফেলেও রৌদ্র টু শব্দও করে নি।কিন্তু লিপস্টিক যে লেগে গেছে সে সেটা খেয়ালই করে নি।
—শালার মেয়ে জাতি রান্না করতে গেলেও এদের সাজা লাগে।এদের কে আল্লাহ কোনো মাটি দিয়ে তৈরি করেছে।একমাত্র আল্লাহপাকই ভালো জানে।
নিজেকে ঠিকঠাক করে গাড়ি স্টার্ট দিল।
এই দিকে ক্যান্টিনে বসে কোক খাচ্ছিল শ্রেয়া।ছুটির ঘন্টা পড়ায় সে কোক খেতে খেতে ক্যান্টিন থেকে বের হচ্চিল।হঠাৎ কিছু সাথে ধাক্কা লাগার কারণে কোকটা হাত থেকে ঠাস করে নিচে পড়ে যায়।
—কোণ অসভ্যরে আমার শখের কোকটা ফেলে দিলি।এই কোকের দাম জানিস?এক্ষুনি আমার কোক এনে দি*
বলতে বলতে সামনে তাকাতেই কথা ওইখানেই আটকা পড়ে গেলো।কারণ তার সামনে স্বয়ং ফাইজ নেওয়াজ দাঁড়িয়ে তাও হাতে একটা লাঠি নিয়ে।
—হে হে আসসালামু আলাইকুম স্যার।ইয়ে মানে কোকটা মনে শয়তানে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিছে।শয়তানকে তো আমরা দেখতে পাই না এজন্য ভুলে মুখ দিয়ে এসব বের হয়ে গেছে। আবার আপনাকে কিন্তু শয়তান বলিনি।শয়তানকেই শয়তান বলেছি।কিছু মনে করবেন না আসি কেমন।
শ্রেয়া দ্রুত চলে আসলো।আর ফাইজ সে তো রোবটের মতো দাঁড়িয়ে সব দেখল এবং শুনল কিন্তু কিছু বলল না।কী বলবে সে?সে তো জানে এই মেয়ে পাগল শুধু শুধু পাগলের সাথে কথা বলে নিজের শক্তি খরচ করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে ওর মনে হয় নি এজন্যই কিছু বলে নি।সে নিচে পড়া কোকটার দিকে একপলক চেয়ে সেখান থেকে চলে গেলো।
–_
আধাঘন্টা যাবত ওরা বসে বসে ফুচকা খাচ্ছে আর আড্ডা দিচ্ছে। তিহানও আছে তবে সে ফুচকা রেখে চটপটি খাচ্ছে। তাদের আড্ডার মাঝেই রৌদ্রের গাড়ি এসে সেখানে থামল। রৌদ্র বের হয়ে আসে।
—আড্ডা দাওয়া শেষ হলে এবার চল বনু।অনেক আড্ডা দাওয়া হয়েছে আর না।
রৌদ্রের কন্ঠ শুনে সবাই পিছনে চায়।দেখে তাদের পিছনেই পকেটে হাত গুঁজে দাড়িয়ে আছে রৌদ্র।
—ভাইয়া আরেকটু থাকি প্লিজ?
—অন্যদিন বনু আজকে চল তোকে রেখে আমার আবার অফিসে যেতে হবে মিটিং আছে।
আহি আর কিছু বলে না।সবার থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠে।রৌদ্র সাইফাকে রিকশা ডেকে উঠিয়ে দেয়।
বাড়িতে ডুকতেই দেখল সোফায় অচেনা ২ জন পুরুষ বসে আছে।সাথে তার বাবা, বড় আব্বু আর পারুল নেওয়াজ ও আছে।হয়তো বাবা চাচার পরিচিত কেউ হবে।এই ভেবে আহি সালাম দিল তাদের।
—আপনি এসে গেছেন আম্মু যান উপরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেন।
বড় আব্বুর কথা আহি সায় দিয়ে উপরে চলে যায়।আহি যেতেই পারুল নেওয়াজের ভাই ফরহাদ রেজা বললেন
—মেয়েটা কে?আগে তো কখনো দেখিনি আর আজিজ ভাই আম্মু কেন বলছেন.?
তরিকুল নেওয়াজ আমার মেয়ে বলতে গেলো কিন্তু পারুল নেওয়াজ চোখ দিয়ে শাসায়। পারুল নেওয়াজের বাপের বাড়ির কেউই জানে না।তরিকুল নেওয়াজ ২য় বিয়ে করেছে আবার একটা মেয়ে ও আছে। আজিজ নেওয়াজ হেঁসে বলল
—ও আহি আমার আরেকটা মেয়ে।
—আপনার দুটো মেয়ে আগে শুনিনি ভাই।
—এখন তো শুনেছেন।
—আপনার মেয়েটা কিন্তু অনেক ভদ্র দেখেই মনে হচ্ছে।
আজিজ নেওয়াজ শুধু মুচকি হাসলেন।তবে তরিকুল নেওয়াজের বুকটা শান্ত হয়ে গেল কেন জানি। উনারা আর কিছুই বলল না।ফরহাদ রেজার বড় মেয়ের বিয়ে এজন্য নেওয়াজ বাড়ির সকল কে দাওয়াত দিতে এসেছে।
আদ্রের রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ হাতে হেঁচকা টান পড়ে।ভয়ে চিৎকার দিতে নিবে তার আগেই একটা পুরুষালী খসখসা হাত তার মুখ চেপে ধরে।ভয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়।
—কী ম্যাডাম এতো পালাই পালাই করেন কেন?এই অধমের কথা কী সারাদিনে একবারও মনে পড়ে না?একটু দয়া করলেও তো পারলেন।
নিজের ব্যাক্তিগত পুরুষের কন্ঠ স্বর শুনে পিটপিট করে চোখ খুলে আহি।দেখে আদ্র তার অতি নিকটে তার মুখের উপর ঝুঁকে আছে।আদ্র হাত সরিয়ে নেয়।
—ক কই পালাই পালাই করি।
আদ্র তাকায় তার ফুলের দিকে।গরমে ফর্সা মুখটা লাল হয়ে আছে।নাকের ডগায় ঘামে চিকচিক করছে।আদ্র হাত বাড়িয়ে যত্নসহকারে ঘাম টুকু মুছে দিয়ে বলে।
—সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি। এতো দেরি করলেন কেন?আপনার পথ চেয়ে সে কখন থেকে বসে আছি।
—ওই একটু সবাই মিলে ফুসকা খেতে গিয়েছিলাম।
—জামাই ঘরে রেখে বাইরে ফ্রেন্ডের সাথে ঘুরাটা বড্ড বেমানান ম্যাডাম।এমনিতেও অনেক অপেক্ষা করিয়েছেন আর না।এই দিকে আসুন।
বলে হাত টেনে নিয়ে খাটে বসায়।বেড সাইড টেবিল থেকে পানির গ্লাসটা তুলে এগিয়ে দেয় আহির দিকে।আহি বিনা বাক্য তা শেষ করে।আদ্র এবার আহির হিজাবের একের পর এক পিন ছাড়াতে থাকে।খুবই সাবধানে সে কাজটা করছে যেন একটু এদিক ওদিক হলেই মাথায় না পুটে যায়।আর আহি সে তো মুগ্ধ হয়ে তার ব্যাক্তিগত পুরুষের যত্ন আর ভালোবাসাটা দেখছে।
—এই ভাবে তাকাবেন না ম্যাডাম কেমন কেমন লাগে.?
—কেমন কেমন লাগে?
আহি একপ্রকার ঘোরের মধ্যে চলে যায়।আর ঘোরে মধ্যে থেকে কী বলছে যে নিজেও জানে না।আদ্র হাসে।
—উম নিজেকে কন্ট্রোলেস কন্ট্রোলেস লাগে।
এবার আহির ঘোর কাটে।মেয়েটা লজ্জায় আষ্টেপৃষ্টে যায়।গালটা আরো রক্তিম হয়ে উঠে।জিভ দ্বারা শুষ্ক ঠোঁট গুলা ভিজিয়ে নেয়।আদ্র নজরে পড়লেই খোপ করে আহির মুখটা তার হাতের ভাঁজে তুলে নেয়।
—আজকে একটু কন্ট্রোলেস হই জান?বেশি না একটু হবো প্লিজ কিছু মনে করিস না। আমি আর পারছি না।
বলেই আহির ঠোঁট জোড়া আঁকড়ে ধরে। আহি চটপট করে ছাড়া পাওয়া জন্য। কিছুক্ষণ পর একদম শান্ত হয়ে যায়।আদ্র তার স্বামী তার অধিকার আছে।এটা তার অধিকার তার অধিকারে বাঁধা দাওয়ার সাধ্য তার নেই।বেশ কিছুক্ষণ পর আদ্র ছেড়ে দেয়। একে অপরের কপাল ঠেঁকিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নেয় দুজনেই।
(কারেন্টের জ্বালায় গল্প লেখতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গরমে তো নিয়েছে এখন একটা পোটা বৃষ্টি পড়ার সাথে সাথে নিয়ে যায়। এজন্য এতো লেট হয়েছে।)
চলবে,,
Share On:
TAGS: আরিফা তাসনিম তামু, কী ভয়ংকর মায়া তোর
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৪
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৮
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১২
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২৭
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৭
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর গল্পের লিংক
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পার্ব ৩১
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৭
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২৯
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২২