Golpo কাজরী

কাজরী পর্ব ৪৮


কাজরী পর্ব ৪৮

#সাবিকুন_নাহার_নিপা

বিয়ের আয়োজন চলছে পুরোদমে। বিয়ে উপলক্ষ্যে শিরিনের বোন আইরিন ও তার পুরো পরিবার এসে উপস্থিত হয়েছে প্যালেসে। হঠাৎ আল্পনার সঙ্গে নিশানের বিয়ে শুনে সকলেই ভারী অবাক হলো। শিরিন বড় গলায় বলতেন, নিশানের বউ আনবেন তিনি পছন্দ করে। সর্বগুনসম্পন্না মেয়ে আনবেন। রুপে, গুনে সে হবে সেরার সেরা। আল্পনাকে এভারেজ সুন্দরী বলা যায়। কাজরীর মতো অমন নয়। স্টাইল, ফ্যাশনেও অনেক পিছিয়ে। তবে কেউ শিরিন কে প্রশ্ন করলেন না। শিরিন অবশ্য আগ বাড়িয়ে সবাইকে বলতে লাগলেন, যে আল্পনা ভারী লক্ষী মেয়ে। নিশান এরকম ই শান্ত, ঘরোয়া মেয়ে খুঁজেছে। যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলা মেয়েদের নিশানের পছন্দ না। ঘরোয়া, লক্ষী ধরনের মেয়েই পছন্দ।

এশনাকে নিয়ে বিয়ের শপিং করলেন শিরিন মহা আনন্দে। কাজরী অবশ্য কোনো কিছুতে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না। কোনোরকম আগ্রহও প্রকাশ করছে না। ও স্বাভাবিক আচরণ করছে এখন। মন্যুজান খাতুন একদিন কাজরীকে ডেকে পাঠালেন। বললেন,

“আখতারউজ্জামান এর মাইয়াটা তো দেখি মতলববাজ বাপের মতো। “

কাজরী স্মিত হেসে বলল,

“আপনি খুশি হন নি। বড় নাতি বিয়ে করছে। “

“না খুশি না। নিশান আমার নাতিও না। সব খবর আমার কানে আসে। শিরিন একটা পাপী। আসে না এখন আর আমার কাছে। মুখ দেখানোর সাহস নাই। “

মন্যুজান খাতুন হাসেন শরীর দুলিয়ে। নিশান সিন ক্রিয়েট করে সবাইকে নিজের জীবনের সিক্রেট অধ্যায় জানিয়ে দিয়েছে। প্যালেসের বাইরেও অনেক মানুষ ব্যাপার টা জানে, কিন্তু কেউ প্রকাশ করবার সাহস পায় না। শিরিন চৌধুরী শক্ত মানুষ বলে সম্ভব হয়েছে। তিনি যদি তার দূর্বলতা মানুষের সামনে প্রকাশ করতেন তাহলে আরও অনেক জটিলতার সম্মুখীন হতেন।

“আখতারউজ্জামান এর মাইয়ারে তুমি দেখতে পারো না?”

কাজরীর কপালে ভাজ পড়ে। এই কদিনে অসংখ্যবার কথাটা শুনেছে। আল্পনা, শিরিন, ইশান প্রত্যেকে বলেছে। আসলে কী তাই! কাজরী আল্পনাকে অপছন্দ করে! এই প্রশ্ন যদি দশ, এগারো বছরের কাজরীকে করা হতো তখন ও হয়তো বিষয় টা ভাবতো। এখন এই প্রশ্নটা শুনে অবাক হয়। দুজনের মতের হাজারো অমিল আছে। আল্পনা দুর্জয়ের সঙ্গে যে বোকামিটা করেছে সেটা নিয়ে তীব্র রাগও আছে। সেই কারণে অপছন্দের তালিকায় থাকলেও কখনোই আল্পনাকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবে নি।

মন্যুজান খাতুন আবারও ডাকলেন। কাজরী ফিরে তাকায়। ভদ্রমহিলা হাসি হাসি মুখ নিয়ে তাকিয়ে আছেন। তিনি বললেন,

“শিরিন এখন আরও বেশী করে তোমার পিছনে লাগবে। তুমি কিন্তু ঠান্ডা হইয়া বইসা থাকবা না। তোমার স্বামী সব সম্পদের মালিক। পায়ের জুতার নিচে রাখবা সবাইকে। আর স্বামীকে নাচাবা আঙুলের ইশারায়। আগেভাগে শিরিনের কাছ থেকে চাবির গোছাটা নিবা। ওর ঘরে যে সোনার গোছাটা আছে চাবির সেটা নিয়ে নাও। “

কাজরী উঠে গিয়ে বিছানায় ওনার পাশে বসে বলল,

“আপনি সারাক্ষণ শিরিন শিরিন করেন কেন? অন্য কারোর কথাও তো বলতে পারেন। আপনার ছোট ছেলের কথা বলুন। আমি শুনি তিনি কেমন ছিলেন। তাকেও কী ইশারায় নাচাতেন আপনার ছোট ছেলের বউ। নাকি সেসময় আপনি সবাইকে নাচিয়েছেন? “

মন্যুজান খাতুনের মুখটা চুপসে যাওয়া বেলুনের মতো হয়ে যায়। কাজরী আবারও বলে,

“আপনার ছোট ছেলে কেমন ছিলো? তার চরিত্র কেমন ছিলো? শুনেছি উনি নাকি ঘরে তেমন থাকতেনই না। তার মানে উনি আপনার ইশারায়ও কিছু করতেন না! বাইরের কোন এক মহিলার সঙ্গে…..

“এসব কে বলছে তোমারে? আখতারউজ্জামান মিথ্যা বলছে। এসব সত্যি না। “

“তাহলে সত্যি বলুন। কেমন ছিলো আপনার ছেলে? এই বাড়িতে তার কোনো ছবি কেন নেই? তার স্ত্রীর কোনো ছবি কেন নেই? নাকি আছে আপনার কাছে?”

মন্যুজান খাতুন অপলক তাকিয়ে রইলেন। কাজরী তার সঙ্গে কথা বলছে স্বাভাবিক ভাবে। কিন্তু তিনি অস্থিরবোধ করছেন। কাজরীকে বেরিয়ে যেতে বলতেও ভয় পাচ্ছেন।

“আখতারউজ্জামান আর কী কী মিথ্যে বলেছে শুনবেন? আপনার দুই স্বামীর কথা, ভাইকে ঠকিয়ে তার সম্পত্তি দখলের কথা। শুনবেন সেসব? “

মন্যুজান খাতুন হঠাৎ চিৎকার করে ডাকেন,

“শিরিন….. শিরিন….

মন্যুজান খাতুনের আর্তচিৎকার প্যালেসের দোতলায় শিরিনের কাছে পৌছানোর কথা নয়। তবুও তিনি ডাকছেন। কাজরী উঠে দাঁড়ায়। নির্লিপ্ত গলায় বলে,

“আমি এরপর যখন আসব তখন আপনার ছোট ছেলের কথা বলবেন। আখতারউজ্জামান এর কাছে মিথ্যেটা তো শুনলাম ই। এরপর আপনার কাছে সত্যি শুনব। “

মন্যুজান খাতুন তাকিয়ে থাকেন অপলক। কাজরী বেরিয়ে যায়।

****

“মায়ের গয়না গুলো আপনার কাছে আছে?”

আখতারউজ্জামান ইজি চেয়ারে আধশোয়া অবস্থায় বিশ্রাম করছিলেন। হাতে সকালের ইংরেজি পত্রিকা। আল্পনার গলা পেয়ে উঠে বসলেন। বললেন,

“ওগুলো আমার কাছে নেই। কল্পনা হারিয়ে ফেলেছিল বোধহয়। তার তো বোধ জ্ঞানও ছিলো না যে গুছিয়ে রাখবে। তাছাড়া ওই সময় চাকর বাকরও বিশ্বস্ত কেউ ছিলো না। তুমি নতুন গয়না কিনে নাও। “

“কাজরী তো বিয়ের সময় ওর মায়ের গয়না পেল। আমি কেন পাব না?”

আখতারউজ্জামান ভালো করে আল্পনাকে দেখলেন। সবুজ রঙের সিল্কের শাড়ি পরেছে। বিয়ে নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই। সবকিছু নিজেই গুছিয়ে নিচ্ছে। আখতারউজ্জামান এর আগে যখন প্রশ্ন করেছিল,

“নিশান কে কেন বিয়ে করতে চাইছ তুমি? নিজের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেবার আগে একবারও আমাকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন মনে করো নি?”

আল্পনা মাথা উঁচু করে চোখে চোখ রেখে বলল,

“আপনি কখনোই আমার উপযুক্ত কাউকে খুঁজে পাবেন না। কারণ আপনি রাজনীতি করা লোক। আপনার সকাল শুরুও হয় রাজনৈতিক চিন্তা ভাবনায়, রাত শেষও হয় একইভাবে। এই চিন্তা ভাবনার মাঝখানে যদি মনে হয় কোথাও আপনার লাভ, লসের হিসাব আছে সেখানে নির্দ্বিধায় আপনি আমাকে ব্যবহার করার কথা ভাববেন। যেমন করেছিলেন কাজরীকে। তাই নিজের ভাবনা একাই ভাবতে হলো। “

আখতারউজ্জামান বহুদিন পরে স্তব্ধ হয়েছিলেন আল্পনার কথা শুনে। এমন কথা যদি কাজরী ওনাকে বলতো তাতে অবাক হতেন না। কিন্তু আল্পনা! আল্পনা তাকে নিয়ে এভাবে ভাবছে!

আখতারউজ্জামান আল্পনার কথার জবাব দেবার মতো উপযুক্ত কিছু খুঁজে পান নি৷ দূর্বল গলায় বলার চেষ্টা করলেন,

“নিশানের সঙ্গে তোমার বিয়ে আমি মন থেকে মানতে পারব না। “

আল্পনা জবাবে স্বাভাবিক গলায় বলল,

“সমস্যা নেই বাবা। আমার বিয়ে ঠিক হবার পর সেটা ভেঙে যাওয়া, আমার ছোটবোনের বিয়ে হওয়া এগুলো কোনোটাই আমি মানতে পারি নি। মানসিক যন্ত্রণা পেয়েছি। এখনো আমার মানসিক যন্ত্রণা কম কিছু নয়। আমার কারণে এক্সিডেন্টে মা চলে গেলেন সেটার মানসিক যন্ত্রণাও কম নয়। সাইকিয়াট্রিস্ট, কাউন্সেলিংও সেটা সমাধান করতে পারে নি আজ পর্যন্ত। সেখানে আপনার সমস্যাটা খুব ই তুচ্ছ। “

আখতারউজ্জামান যথোপযুক্ত জবাব দিতে পারলেন না। তিনি আল্পনার জেদের কাছে হার মানলেন। এই জেদ কাজরীর মতো নয়। শীতল চোখে তাকিয়ে কথা বলা আল্পনা তাকে অন্যরকম জেদ দেখিয়েছে।

“বাবা আপনি আমাকে তেমন পছন্দ করেন না তাই না?”

আখতারউজ্জামান ধাক্কা খেলেও সেটা প্রকাশ করলেন না। বললেন,

“এই কথা কেন বলছ?”

“আপনি মনে করেন যে আমার কারণে মায়ের এক্সিডেন্ট হয়েছিল। সেজন্যই কী আমাকে অবহেলা করেছেন?”

আখতারউজ্জামান বিস্মিত গলায় একটা শব্দ উচ্চারণ করলেন,

“অবহেলা!”

আল্পনা তাকিয়ে আছে শান্ত চোখে। আখতারউজ্জামান বিচলিত বোধ করলেন। আমতা আমতা করে বললেন,

“ঠিকভাবে খেয়াল রাখতে পারিনি হয়তো। কিন্তু অবহেলা করিনি। ভুল ভাবছ। “

“কাজরীকে নিয়ে যতটা ভেবেছেন আমাকে নিয়ে তেমন ভাবেন নি। আপনার টাকার পরিমাণ সম্পর্কে আমার ধারণা না থাকলেও এটুকু বুঝি যে আমাকে উন্নত চিকিৎসা করানোর মতো পর্যাপ্ত টাকা আপনার আছে। আপনি কাজরীকে ভালো লাইফস্টাইল দিলেও আমাকে সেটা দেন নি। মা মারা যাবার পর কাজরীকে যেমন দূরে রেখেছেন আমাকেও যদি তেমন রাখতেন তাহলে আমি অন্যরকম হতাম। কনফিডেন্স থাকতো। এমন তো নয় যে আপনি আমাকে খুব ভালোবাসেন তাই দূরে পাঠান নি। আপনি আসলে চান নি। আমার ভালো থাকা না থাকা নিয়েও আপনার তেমন চিন্তা ছিলো না। “

আখতারউজ্জামান তাকিয়ে আছেন। আল্পনার চোখের পাতা কাঁপছে। শান্ত ভঙ্গিতে বলা কথাগুলো শুনে তিনি চুপ করে আছেন। উত্তর দেবার মতো শব্দ খুঁজে পাচ্ছেন না। আল্পনা চলে যাবার আগে বলল,

“মায়ের স্মৃতি কিছু থাকলে আমাকে দিবেন। তার স্মৃতি চিহ্ন আমি সবসময় সঙ্গে রাখতে চাই বাবা। আর আপনাকে কোনোদিনই সুখী করতে না পারার জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। “

আখতারউজ্জামান বুকে চাপ অনুভব করলেন। আল্পনা আজ তাকে এতোগুলো কথা বলে গেল। অথচ তিনি ঠিকঠাক জবাব দিতে পারলেন না।

****

“কাজরী….!”

“আসুন। “

শিরিন কাজরীর ঘরে ঢুকলেন। ও বিছানায় আধশোয়া অবস্থায় ছিলো। শিরিনকে দেখে উঠে বসলো।

“আর ইউ ওকে? এই সময়ে শুয়ে আছ?”

“আমি ঠিক আছি। রেস্ট নিচ্ছিলাম। “

“ডিজাইনারের সঙ্গে কথা হয়েছে? বিয়ের ইভেন্টে পরার আউটফিটগুলো অর্ডার করে দিয়েছ?”

“আপনি এটা বলতেই এসেছেন?”

শিরিন সোফায় বসলেন। ফুলদানীর বাসী ফুলগুলো দেখে মনে মনে হাসলেন। বাসী ফুলগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছে যে কাজরী এখন মেন্টালি ডিস্টার্বড।

“আমি চাই বিয়ের প্রতিটি ইভেন্টে তুমি স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করো। “

কাজরী সরু চোখে তাকালো। বলল,

“অর্ডার করছেন? “

শিরিন হাসলেন। বললেন,

“একদম না। নিশানের বিয়ে নিয়ে ওর স্বপ্ন ছিলো, ওর বাবারও….

শিরিন বেখেয়ালে কথাটা বলছিলেন। খেয়াল হতেই থামলেন। কাজরীর ঠোঁটে ঈষৎ হাসি। শিরিন প্রসঙ্গ পাল্টে বললেন,

“আসলে অনেক গেস্ট ইনভাইটেড থাকবে। একটু আয়োজন করেই বিয়েটা দিতে চাচ্ছি। আল্পনার জন্য তো আমার মায়া হয়, ওর বিয়েটা ঠিক হয়েও ভেঙে গেছে…..

“আপনার ছেলের জন্যই সেটা। ভালো করছেন আয়োজন করে। খানিকটা প্রায়শ্চিত্তও হবে। অবশ্য আমি জানিনা আপনাদের অপরাধবোধ আছে কী না। “

শিরিন অপ্রস্তুত হলেন। কাজরী কথা বলছে আগের সুরে। তবুও মুখের হাসি ঠিক রেখে বললেন,

“এক্সাক্টলি। তবে আমার মনে হচ্ছে ওরা ভালো থাকবে। দুজনের ভাইব ম্যাচ হবে। তোমাদের সম্পর্কে যেমন মিষ্টতা এসেছে। তেমন কিছুই হবে।”

কাজরী মনে মনে হাসলো। দাম্পত্য সম্পর্কের ব্যাপারে এমন একজন কথা বলছে যে নিজেই স্বামীকে ঠকিয়েছে।

শিরিন বললেন,

“তুমি কিন্তু আলসেমি করবে না। আমার দুই ছেলের বউকে দেখেই যেন সকলের চোখে মুগ্ধতা তৈরী হয়। বাই দ্য ওয়ে, নিশানের দাদীর ঘরে গিয়েছিলে? কিছু বলেছ ওনাকে? উনি শুনলাম খুব আপসেট। “

কাজরী স্বাভাবিক গলায় বলল,

“উনিই আমাকে বলেছিলেন যে আমি যেন আপনার চাবির গোছা কেড়ে নেই। আমার স্বামী এই প্যালেস, চৌধুরী গ্রুপের বিপুল সম্পদের মালিক। আমি যেন আঙুলের ইশারায় সবাইকে নাচাই। পাল্টা প্রশ্ন হিসেবে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম উনি কাকে নাচিয়েছিলেন। ওনার ছোট ছেলের ব্যাপারে জানতে চেয়েছিলাম আর কী!”

শিরিনের কপালে সূক্ষ্ম ভাজ পড়লো। ঠোঁটে মৃদু হাসির রেখা। মন্যুজান খাতুনের প্রতি বিরক্ত হলেও কাজরীর আচরণে খুশি হলেন। স্বাভাবিক গলায় বললেন,

“আচ্ছা। “

কাজরী আচ্ছার বিপরীতে মৃদু হাসলো।

****

ইশান ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কদিন ধরে। অফিশিয়াল কিছু মিটিং আছে। বাবার স্টাইল ফলো করে ইশান কাজ করতে চাইছে না। ও চাইছে নিজের স্ট্রাটেজি অনুযায়ী এগোতে। সারাদিনের স্ট্রেস শেষে ইশান যখন প্যালেসে ফিরে আসে তখন দেখে কাজরী ওর জন্য অপেক্ষা করছে। সব ক্লান্তি, টেনশন এক নিমিষেই দূর হয়ে যায়। প্রেমে পড়া আর মায়ায় পড়ার মধ্যে তফাত আছে। এসব সাহিত্যিকদের কথা। দুজন মানুষের একে অপরের প্রতি মনস্তাত্বিক ভাব, ভঙ্গি বোঝাতে এসব ব্যবহার করা হয়। তবে ইশান উপলব্ধি করতে পারে কাজরীর প্রতি ও মুগ্ধ হয়েছে ধীরে ধীরে। চটজলদি কিছু হয় নি, আস্তে ধীরে একে অপরের প্রতি আকর্ষিত হয়েছে।

এই যে কাজরী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। এরকম মুখের দিকে তাকিয়ে অনন্তকাল পাড় করে দেবার মতো ভাবনা ভাবতে পারে না। ওর ভাবনা, চিন্তায় থাকে কাজরী ওর জীবনে সবসময় এমন থাকুক। হাজার হাজার এমন রাত আসুক।

কাজরীর ঘুম ভেঙে যায়। ইশান নি:শব্দে পাশে এসে বসতেই টের পেয়ে উঠে বসলো। ক্লান্ত গলায় বলল,

“তুমি! আমাকে ডাকলে না কেন?”

ইশান হাসলো। এলোমেলো চুলগুলো গোছানোর চেষ্টা করছে কাজরী। ইশান বলল,

“ভারী কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না, অল্প সময়ে কিছু ম্যানেজ করতে পারবে?”

“আনছি। “

কাজরী কিচেনে যায়। প্যালেসের নতুন নিয়ম অনুযায়ী রাতে মাত্র কয়েকজন স্টাফ থাকে। ডাইনিং স্পেসে নিশানকে দেখে ওর চোয়াল শক্ত হলো। সম্পূর্ণ এড়িয়ে কিচেনে প্রবেশ করার সময় নিশানের গলা পেল।

“কাজরী, তোমার সঙ্গে কথা আছে। “

কাজরীর ভ্রু কুঞ্চিত হয়। নিশান বলে,

“কাল লাঞ্চের পর বাইরে কোথাও দেখা করবে? “

“এমন কী কথা যেটা তোমার আড়ালে বলতে হবে? আর তোমার মতো ক্রি*মিনাল মাইন্ডের লোকের সঙ্গে আমি দেখা করব? রিস্ক আছে জেনেও!”

নিশান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

“আমি ইশানের ব্যাপারে তোমাকে কিছু জানাতে চাই। “

কাজরী হাসলো। বলল,

“তোমার নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা। আমার আর ইশানের রিলেশনশিপ স্পয়েল করার চিন্তা না করে তুমি আল্পনার সঙ্গে রোমান্টিক কিছু প্ল্যান করো। আর হ্যাঁ, তোমাদের হানিমুন টা আমি স্পন্সর করব কেমন। উইশ ইউ অল দ্য বেস্ট। “

কাজরী কিচেনে যায়। ওর আগ্রহ আছে যথেষ্ট, কিন্তু নিশানকে ভরসা করা যায় না।

চলবে….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply