Golpo romantic golpo আসবো ফিরে আবারো

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৯১


#আসবো_ফিরে_আবারো

#পর্ব_৯২

#সুরভী_আক্তার

রমনীর ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় উচ্চারিত হওয়া বাক্য দুটির অর্থ বুঝতে বেগ পেলো বেপরোয়া যুবক । আঁখি লতা নাক বরাবর কুঁচকে এলো সহসা । মেঘা কথাটুকু আওড়িয়ে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে গেছে তার বুকের মাঝে । সেথায় শেঁটে গিয়ে ফিকড়ে উঠলো । এদিকে রৌদ্র শুষ্ক ঢোক গেলে….

” ইভারা,, ক…কি বললে তুমি ? মা…মা*র্ডার মানে ? এইইই, কি হয়েছে ? সেদিন, কি হয়েছিলো ? 

নিচের অধর কামড়ে চোখ খিচে নেয় রমনী । 

সাহস জুগিয়ে মুখে বুলি ফুটানোর আগেই কানে বাজে বাচ্চা কন্ঠের আদুরে ডাক….

” মাম্মা ! 

ছলাৎ করে ওঠে রমনীর মাতৃ হৃদয় । এক ঝটকায় ছিটকে পিছিয়ে আসে রৌদ্রের বুক হতে । 

পাশ ফিরে তাকাতেই চোখে পড়ে বাচ্চাদের ঘুমে আচ্ছন্ন মুখাবয়ব । ঘুম ভেঙ্গে গেছে ওদের । এখনো শুয়ে থেকে খচখচ করছে ইবাদ । রোশ্ উঠে বসেছে । চোখ কচলাতে কচলাতে নিভু নিভু চোখে তাকিয়ে আছে মেঘার দিকে । ওষ্ঠ মৃদু উল্টানো । 

মেঘা ধড়ফড়িয়ে উঠলো । দ্রুত দুহাতে ভেজা চোখ মুখ মুছে বিছানা ফিরে তেড়ে গেলো অন্যপাশে । 

ঝট করে বসে মেয়েকে টান মেরে কোলে নিলো । সমস্ত রুদ্ধতা গিলে বুলি ভাঙলো থেমে থেমে…..

” রোশ্ ,,, উঠে পড়েছো সোনা ? এইতো মাম্মা আছে তোমার কাছে । 

রোশ্ মায়ের বুকে সিটিয়ে যায় । ঘুম ভাঙলেও ঘোরে টলছে এখনো । সেভাবেই বললো বাচ্চাটা….

” রোশ্ বায়ি দাবে মাম্মা । রোশ্ ডল নেবে । ডল নেই ইকানে । 

ওর কথা বলার মাঝে ইবাদ উঠে বসলো । 

চোখ ডলতে ডলতে মুখ কুঁচকালো । রোশ্ কে মায়ের কোলে দেখে ডাকলো জোর গলায়….

” মাম্মাআআআ….

মেঘা চায় তড়িতে….

” হ্যাঁ সোনা ? ঘুম ভেঙ্গে গেছে তোমার ও । এসো বাবা…! খিদে পেয়েছে ? 

ইবাদের মুখ কালো । বরাবর এমন নিরেট সে । রোশ্ যতটা কোমল, ইবাদ ততটাই রুষ্ট । এই বাচ্চা বয়সেই বড্ড তপ্ত মেজাজি সে ‌। পান থেকে চুন খসলেই চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় তোলে । মেঘাকেও জ্বালায় বড্ড । 

এই এখন হুমড়ি খেয়ে মায়ের কাছে আসলো । রোশ্ কে ঠেলে সরাতে চাইলো । মায়ের কোল একলা দখল করবে সে । ছোট্ট মুখখানি পাকিয়ে রোশকে ঠেলে সরাতে গেলে কেঁদে উঠলো বাচ্চাটা । আধো বুলি আওড়ালো….

” ইপাদ ব্যাদ বয় ‌। মাম্মা,,, রোশ্ মাম্মা দাবে । মাম্মা ইপাদকে নেবে না । 

মেঘে পড়ে বিড়ম্বনায় । বরাবর এদের দুজনের এই জায়গা দখল নিয়ে ঝগড়া সামলাতে হিমশিম খেতে হয় ওকে । 

রমনী হাঁফ ছাড়ল । ইবাদ ভেংচি কাটলো বোনকে….

” মাম্মা ইবাদ কে নেবে ‌। রোশ্ নেবে না । রোশ্ পতা গাল । 

কেঁদে উঠলো রোশ্ । 

রৌদ্র হতবাক, হতচেতন । এতক্ষণ আশ্চর্য, হতবুদ্ধ হয়ে চেয়ে দেখলো এসব । মেঘাকে ফিরে পাওয়ার খুশি, আর ইনজেকশনের ঘোরে বাচ্চাদের কথা বেমালুম বেরিয়ে গেছিলো মাথা থেকে । মেঘাকে পেয়েই আত্মহারা হয়ে পড়েছিলো । অন্যকিছু মাথায় আসেনি আর । 

এখন এসব দেখেই নড়েচড়ে উঠলো যুবক । বুকটা কেমন ছটফট করছে । সে এক হাতে বুকের ডান পাশটা খামচে ধরলো । 

চোখ বুজে দীর্ঘ পলক ধরে রাখলো । শুষ্ক ঢোক গিলে ভিজিয়ে নিলো শুকনো কন্ঠনালি । 

অতঃপর ক্রন্দনরত রোশ্ কে পেছন থেকে টেনে নিলো নিজের কোলে । 

রোশ্ তড়িতে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় । রৌদ্র কে চেনে সে । কান্নার সময়ে একটা কোল পেতেই নিমিষেই কান্না গিলে ফিক করে হাসলো । 

রৌদ্র ওকে শূন্যে ভাসিয়ে মেয়ের কপালে কপাল ঠেকায় । চোখ বুজে নেয় অতঃপর । সে অনুভব করলো, তার পায়ের তালু শিরশির করছে । বোধহয় শূন্যে ভাসছে বেপরোয়া যুবক । বুক খানি হালকা লাগছে ভীষণ । কেবলই গলায় কোথাও একটা চিনচিনে সুপ্ত ব্যথা টের পাচ্ছে সে । 

মেয়ের সংস্পর্শে আসতেই অজান্তেই ভিজেছে বন্ধ চোখের কার্নিশ । রোশ্ নড়চড় করলো । আমুদে গলায় অস্ফুটে বললো….

” আঙ্কেন….

বাচ্চাটার কথা শেষ হলো কি হলো না । একটানে ওকে নিজের চূর্ণ বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো রৌদ্র । বাচ্চাদের মতো ফুঁপিয়ে উঠলো শব্দ করে । কান্নার মাঝে ভীষণ খুশিতে দিশেহারা হয়ে গেলো যুবক । রোশ্ কে টেনে সরালো আবার । পূর্বের ন্যায় বাচ্চাটার গোটা মুখে এলোমেলো চুমু খেলো । উন্মাদ হলো সে । বললো হাঁসফাঁস করে…..

” আঙ্কেল না মাম্মা,, কল মি পাপ্পা ! 

মেঘা বিমূর্ত বনে । ঘাড় কাত করে অবাক লোচনে চায় রৌদ্রের দিকে । সে তো এখনো রৌদ্রকে বাচ্চাদের সম্বন্ধে কিছু বলেই নি । এই লোক তার আগে এতোটা দৃঢ় প্রত্যয়ে রোশ্ কে মেনে নিলো ? একটা বারও সন্দেহ বা প্রশ্ন জাগলো না তার মনে ? 

চোখে পানি জমে রমনীর । আপ্লুত হয়ে চেয়ে রয় । রোশ্ বোঝে না রৌদ্রের কথার অর্থ । তার চোখে পানি দেখে বলে বিচলিত হয়ে…..

” আঙ্কেন, কাঁদচো কিনো টুমি ? 

” আঙ্কেল না,, পাপ্পা,, একবার পাপ্পা বলো আমায় ‌। আমি তোমার পাপ্পা, সোনা । 

থামা থামা কন্ঠ যুবকের । 

রোশ বুঝলো না তবুও । মুখে ফুটলো অবাকের নিদারুণ অভিব্যক্তি । 

” পাপ্পা ! রোশ্ পাপ্পা নেই । পাপ্পা কে ? মাম্মা….

বোঝার তাগিদে মেঘার দিকে ফিরে চাইলো বাচ্চাটা । ততক্ষণে রমনী চোখ চুরিয়ে ভেজা দৃষ্টি আড়াল করেছে । 

আঁচলে মুছে নিয়েছে নোনা জল । রৌদ্র উদগ্রীব হয়ে উঠলো ‌। 

মেঘার কোলে ইবাদ কে পিটপিট করে চেয়ে থাকতে দেখে ছটফট করে এগিয়ে আসলো । রোশ্ কে একহাতে সামলে অন্যহাতে ইবাদ কে টেনে জড়িয়ে নিলো বুকের কাছে । রোশ্ পুরোপুরি মেঘার নরম আদল পেয়েছে । তবে ইবাদ পায়নি । সে কার মতো হয়েছে কে জানে । ঠিক ঠাহর করতে পারলো না বেপরোয়া যুবক । 

উন্মত্তের ন্যায় ছেলের গোটা মুখ ভরে চুমু খেতে লাগলো । এতে যেনো বিব্রত হলো ইবাদ । রৌদ্রকে চেনে না সে,, অপরিচিত লোকের এমন এলোমেলো চুম্বনে বাচ্চা সুলভে ছোড়াছুড়ি করলো । চেঁচিয়ে উঠলো…..

” আআআ,,, চালো আমায় । মাম্মা….ইনি আমাকে তুমু কাত্তে । বাঁতাও…..

দুহাতে রৌদ্রের মুখখানা ঠেলে ধরলো ইবাদ । নিজেকে নিলো পিছিয়ে । অপরিচিত এই লোকটার কাছ থেকে বাঁচতে অসহায় চোখে তাকালো মায়ের দিকে । 

রৌদ্র রোশকে ছাড়ে । দুহাতে ধরে ইবাদ কে । চোখ মুছে হাসার চেষ্টা করে বলে রুদ্ধ স্বরে..

” বাবা,,, আমি পাপ্পা তোমার । সোনা, তাকাও আমার দিকে । এই দেখো, পাপ্পা আমি  ! তোমাদের পাপ্পা । একবার পাপ্পা বলে ডাকো শুধু । 

ইবাদ কটমট করে চেঁচিয়ে ওঠে আবার….

” নাআআআ,, চালোওওও । আমাল পাপ্পা নেই…

রৌদ্র ধক্ করে ওঠে । সহসা তাকায় মেঘার দিকে । কিচ্ছু মনে করে না সে । বরং কান্না সমেত হেসে ওঠে…..

” সুইটহার্ট,,, আমার বাচ্চা ! তোমার আর আমার ? আমাদের দুটো বাচ্চা হয়েছে ! 

কবে হলো ওরা ? কত্ত বড় হয়ে গেছে দেখো তো । এতো বড়ই বা কবে হলো ? আমাকে জানালে না কেনো, জান ? আমি বাবা হয়েছি ! কি ভীষণ খুশির খবর এটা ! ওরা আমার সন্তান । কত্ত কিউট দু’জনে ! ওদের আমি আদর করতে পারিনি এতদিন, এত গুলো বছর ! ওরা আমাকে চেনেনি, আমাকে পাপা ডাকেনি । আমি জানিনি আমার বাচ্চা হয়েছে । আমাদের একসাথে দুটো বাচ্চা হয়েছে সানি । নাম কি ওদের ? বাবা,, নাম কি তোমার ? বোনের নাম রোশ্,,, আর তোমার নাম কি সোনা ? 

রৌদ্রের কথা গুলোর আবডালে কোথাও একটা সুপ্ত অভিযোগ রয়েছে । মেঘা বাচ্চাদের সামনে ধাতস্থ থাকলো । এদিকে ইবাদ ফোঁস করে ওঠে । অবাধ্য হয়….

” বলবো না….

হেসে ওঠে রৌদ্র । এ নিশ্চিত বাপের মতো হয়েছে । 

রোশ্ ভাইয়ের তিরিক্ষি মেজাজ দেখে চোখ পাকালো । নরম মাড়ি খিচে খামচি কাটলো ভাইয়ের হাতে । ইবাদ ঝাড়া দিয়ে হাত সরিয়ে নেয় সহসা । রেগে মেগে রোশ্ কে আঘাত করতে গেলে বাঁধা দেয় রৌদ্র । 

” বোনকে মারতে নেই সোনা । লেগে যাবে তো । তোমার নাম বলো পাপ্পাকে । পাপ্পা জিজ্ঞেস করছে, বলবে না ?

ইবাদ কিছু বলছে না দেখে রোশ্ বিছানার উপর উঠে দাঁড়ায় ‌এবার । ভেংচি কেটে নরম সুরে ভাইয়ের হয়ে উত্তর করে…..

” আঙ্কেন,,, ও ইপাদ । ব্যাদ বয় । 

তেতে ওঠে ইবাদ । 

রৌদ্র ফের হাসে দুজনের খুনসুটি দেখে । মেঘা বলে বহু কষ্টে…..

” ও #ইরহাম, ডাকনাম ইবাদ । আর ও #রুশমিতা, ডাকনাম রোশনি । আদর করে রোশ্ বলি । 

” রৌদ্র আর ইভারা মিলিয়ে রোশনি আর ইবাদ । মাই বয়, #ইরহাম_কাবির_ইবাদ অর মাই প্রিন্সেস #রুশমিতা_কাবির_রোশনি । 

কিন্তু সুইটহার্ট, পাপ্পা ডাকছে না কেনো ওরা আমায় ? ওদের পাপ্পা আমি । একবার ডাকতে বলো । আমি বাবা ডাক শুনতে চাই ওদের মুখে । 

চোখ তোলে মেঘা । চোখাচোখি হয় দু জোড়া সিক্ত নয়নের । রমনী রুদ্ধ শ্বাস ফেলে মুখ খোলার আগে দরজার কাছ থেকে ভেসে আসে আদ্রের ভেঙানো আহ্লাদী স্বর….

” বাবা ডাক শুনবি ওদের মুখে ? কেনো ? ওরা দুজন যে তোর বাচ্চা, এটা তোকে কে বললো ? মেঘ বলেছে একবারও ? ওদের ওভাবে আদর করছিস যে ? ওরা তো তোর বাচ্চা নাও হতে পারে, রুডি ! 

মেঘা ছলকে তাকায় । 

ভেতরটা কেঁপে ওঠে । কি বলছে আদ্র এসব ? 

আদ্রের কথা গুলো রৌদ্রের গায়ে পড়লো না একটুও । সে নিজের বাচ্চাদের আরো বেশি কাছে টেনে নিলো । দুজনের মাথায় দুবার ঠোঁট ছুঁইয়ে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বললো বুক ফুলিয়ে….

” উঁহু, ওরা আমার বাচ্চা । আমার ! বাবা হয়েছি আমি । দুটো সন্তান হয়েছে আমার ! আমি ওদের ঠিক চিনেছি । ওরা আমার অংশ । আমার ভালোবাসার নিদর্শন । আমার ইভারা আমাকে ভালোবাসে । ও আমাকে ঠকাবে না কখনো । এরা আমার বাচ্চা,, 

” এতো বিশ্বাস মেঘের উপর ? 

” নিজের থেকেও বেশি । 

আদ্র ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে । এগিয়ে এসে মেঘার পাশে দাঁড়িয়ে বলে কটাক্ষ করে…..

” এই বিশ্বাস টা তুই রাখলেও পারতি, মেঘ । 

ছলছল চোখ তুলে চাইলো রমনী । 

ঠোঁট কামড়ে ব্যাথিত ভাবখানা গিলে নিলো । ইবাদ কে ধরে রাখতে পারছে না রৌদ্র । সে ছটফট করতে করতে কামড় বসালো রৌদ্রের হাতে । নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে লাফিয়ে এলো মেঘার কোলে । রৌদ্র আর ওকে আটকায় না । ছেলেকে ছেড়ে মেয়েকে টেনে নেয় কোলে । অস্থির হয়ে গাল কপালে চুমু খেয়ে বলে আকুল হয়ে….

” মাম্মা,,, তুমি অন্তত একবার পাপ্পা বলো আমায় । আমি তোমার কি হই বলো ? 

রোশের ঝটপট উত্তর…

” আঙ্কেন ! 

” উঁহু,, পাপ্পা । 

” পাপ্পা নেই তু ! মাম্মা আতে । 

” পাপ্পা ও আছে তোমার । এই যে আমি । তোমার পাপ্পা । 

রোশ্ মায়ের দিকে তাকায় বিস্মিত হয়ে । এলোমেলো হয়ে যায় বাচ্চাটা । ইবাদ এখনো চেয়ে আছে খিটখিটে হয়ে । সে রোশের হাত টেনে ধরলো….

” মাই সিস,,,,

ওর হিংসে দেখে রৌদ্র হাসে অগত্যা । 

” অর মাই প্রিন্সেস ! 

খিদে পেয়েছে বাচ্চাদের । 

এর মধ্যেই মেহের এসে রোশ কে নিয়ে গেলো । ইবাদ যেতে চায়নি । তবুও জোর করে সাথে নিয়ে গেছে ওকেও । 

ঘরে এখন আদ্র, রৌদ্র আর মেঘা । 

মেঘার চিবুক নত । রৌদ্র ছেচড়ে এগিয়ে কাছে আসলো রমনীর । আদ্রের উপস্থিতির তোয়াক্কা না করে মেয়েটার চুলের ঢিলেঢালা খোঁপাটা একটানে খুলে দিলো । সুঢৌল কাঁধে ছড়িয়ে পড়লো অগুচ্ছ ঘন কেশরাশি । 

রৌদ্র তা হতে এক গুচ্ছ টেনে নাকের ডগায় চেপে ধরে । 

সেই মাদকিয় ঘ্রাণ ! যে ঘ্রাণে উন্মাদ সে । অদূর হতেও যে সুগন্ধির ছিটে নাকে লাগে, এই সেই মোহময় ঘ্রাণ । বছরের পর বছর এই চিত্তাকর্ষক সুগন্ধ থেকে বিরত ছিলো বেপরোয়া যুবক । সে এতে করে ভালো ছিলো না একটুও ।  

উদ্বিগ্ন লাগতো, তবে আজ যেনো সব উদ্বিগ্নতা মিলিয়ে গেলো । 

কুন্তলে নাক ডুবিয়ে দীর্ঘ এক শ্বাস টেনে মাথা নামিয়ে রমনীর কাঁধে মুখ লুকিয়ে নিলো যুবক । রুক্ষ ঠোঁট জোড়া ছুঁইয়ে দিলো কানের পাতলা লতিতে । 

আদ্র ভ্যাবাচ্যাকা খায় ‌। অপ্রস্তুত হয়ে দৃষ্টি প্রখর করে না ওদের পানে । মনের মধ্যে গেঁথে থাকা প্রশ্ন গুলোর উত্তর না পাওয়া অবধি শান্তি হচ্ছে না তার । সে গলা খাঁকারি দিলো । ঠোঁট ভিজিয়ে শুধালো ঘ্যাসঘ্যাসে গলায়…

” তুই এখানে, কক্সবাজারে কি করছিস, মেঘ ? রোশকে পাওয়ার পর খবর পেয়েছিলাম,, ও কোন এক রিসর্টের স্টাফের বাচ্চা ? তার মানে তুই….

” হু,, পাশের বেওয়াচ রিসর্টের রিসিপশনিস্ট হিসেবে জব করি আমি । 

” জব করতে গিয়ে বাচ্চাদের খেয়াল হারিয়েছিলি ? কি হতো, যদি রোশ সেদিন অন্য কারোর কবলে পড়ে যেতো ? হারালো কি করে ও ? 

মেঘার ভ্রু কুঁচকে আসে । আসলেই তো । সে নিজেও জানে না এখনো । মেয়েকেও জিজ্ঞেস করা হয় নি । রোশ বিচের কাছে কি করে আসলো, সেটাও জানে না মেঘা । 

” সেটা তো আমি নিজেও বুঝতে পারছি না, ভাইয়া । আমরা তো ডরমেটরিতে থাকি ‌। আমার কাজের সময়েও বাচ্চারা আমার কাছেই থাকে । কিন্তু সেদিন আমি রোশকে সাথে নেইনি । উৎসের ওয়াইফের কাছে ছিলো ও । শুধু জেদ ধরে ইবাদ আমার কাছে ছিলো । পরে বাড়ি ফিরে আমি রোশ্ কে পেলাম না । তখন উৎসের ওয়াইফ ও বলতে পারজছিলো না কিছু । কি থেকে কি হয়ে গেছে, এখনো বুঝতে পারছি না আমি । রোশ্ এখানে আসলো কি করে ? 

আদ্র ঠোঁট কামড়ে নেয় । হাঁফ ছেড়ে বলে…..

” বুঝতে হবে না অতো । আমার পরের প্রশ্ন গুলোর উত্তর দে এবার । দেশে আসলি কি করে তুই ? 

মেঘার সংক্ষিপ্ত উত্তর ক্ষনকাল বাদ…..

” ট্রাভেল পারমিটে ! 

” কবে এসেছিস ? 

” তিন বছর নয় মাস আগে । 

” তাহলে সুইজারল্যান্ডে বাকি দিন গুলো কোথায় কাটিয়েছিলি ? 

” লুসার্নে ! 

” কি করে কাটিয়েছিস এতো দিন, কার সাথে ? একা থাকিস নি নিশ্চয়ই ? দেশে একা আসতেও পারিস নি, এতো দম নেই তোর । বল, কি হয়েছিল ? কার সাথে ছিলি তুই ? 

মেঘা দৃষ্টি তুললো । 

সাথে রৌদ্র ও । মেঘার দৃষ্টি ভেজা থাকলেও রৌদ্রের দৃষ্টি তিরিক্ষি । সে ঝেড়ে উঠলো…..

” কি বলতে চাইছিস তুই ? তোর সাহস কি করে হয় আমার ইভারা কে সন্দেহ করার ? 

আদ্রের স্বাভাবিক বাক্য…..

” সন্দেহ নয়, সত্যিটা জানতে চাইছি । বলতে দে ওকে ! ও সেদিন তোর মুখোমুখি হতে পারতো ! ওভাবে হুট করে হারিয়ে যাওয়ার কোনো মানে ছিলো না । বল মেঘ,, তুই লুকিয়ে ছিলি কেনো এতো দিন ? এতো কাহিনী করলি কেনো ? 

মেঘা শাড়ির একাংশ খামচে ধরে । মাড়ি দাবিয়ে চোখ খিচে নেয় । রৌদ্র তীক্ষ্ণ চোখে কাছ থেকে পরখ করে ওকে । কিছু একটা ঠাহর করতে পেরে কথা পাল্টায়…..

” জানতে হবে না কোনো সত্য । কারন সবচেয়ে বড় সত্য এটাই , তা হলো আমি আমার ইভারাকে ভালোবাসি । আর ও আমাকে । ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিলো আমাদের মাঝে । ব্যস, ক্ষণিকেই মিটে গেছে সব । আর কোনো জলঘোলা হবে না এই নিয়ে । ।

” ক্ষণিকেই মিটে গেছে ? চার বছর, ক্ষণিক বুঝি ? নিজে কাটিয়েছিস তো শ্বাস রুদ্ধ সময় গুলো,,, সয়ে এসেছিস যন্ত্রণা । বারংবার অ্যাটাকের যন্ত্রণা গুলো আমরা বা মেঘ পাইনি নিশ্চয়ই ? 

বিপরীতে রা ফুটলো না রৌদ্রের মুখে । 

মেঘা রৌদ্রের দিকে ঘুরে বসে । চোখ খোলেনি এখনো । সে তটস্থ হয়ে খামচে ধরলো রৌদ্রের উদরের দুপাশ । ভয় কাটাতে মিনমিন করলো আদ্রের সামনে…..

” আ’ম স্যরি রৌদ্র । আমি আপনাকে একেবারে ছেড়ে আসতে চাইনি কখনো । পরিস্থিতি আমাকে এনে ফেলেছে এতো দূর । ‌আর সেই পরিস্থিতির চাপে অনেকটা সময় কেটে গেছিলো ‌। আপনার কাছে ফেরার পথ পাইনি আর । আ’ম রিয়েলি স্যরি ! 

” আচ্ছা, শুধু স্যরি ? চার বছরে এতো এতো যন্ত্রণা দেওয়ার পর শুধু স্যরি বললেই সাত খুন মাফ হয়ে যাবে তোর ? 

আদ্রের কথাটার তাৎক্ষণিক জবাব দেয় রৌদ্র….

জড়িয়ে নেয় মেঘাকে….

” হু,, মাফ ! সাত খুন মাফ আমার ইভারার । সব মাফ । ইউ ডোন্ট হ্যাভ টু সে স্যরি,,, মেরি জান । আ’ম স্যরি,, সব আমার ভুল ছিলো । প্লিজ ক্ষমা করে দাও,, আই লাভ ইউ । আই কান্ট ব্রিদ উইদাউট ইউ । ইটস সো হার্ড টু লিভ উইদাউট ইউ, সুইটহার্ট । হাউ কুড ইউ লিভ উইদাউট মি ফর সো লং ? ডিডন্ট ইউ ফিল দ্য পেইন ? 

চোখ তুললো রমনী ‌। ঢোক গিললো । কেঁপে কেঁপে বলতে চাইলো গুপ্ত কথাটা….

” রো… রৌদ্র,,,, আমি সেদিন অফিসে গেছিলাম । আমি প্রেগন্যান্ট, এটা বলে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম ‌আপনাকে । কিন্তু ওখানে গিয়ে যা দেখেছি, আমি সেটা আপনাকে জানতে দিতে চাইনি । বিশ্বাস করুন,, বোঝাতে চাইনি যে আমি সব দেখে ফেলেছি । তাই লুকিয়ে এপার্টমেন্টে ফিরতে চেয়েছিলাম । কিন্তু রাস্তায়,,, ঐ….ঐ ছেলেটা….ওকে আমি মেরে…….

মেঘার গলার রোধ বাড়তেই ওর ঠোঁটের মাঝে আঙ্গুল চেপে ধরলো রৌদ্র । আদ্রের সামনে বলতে দিলো না বাকিটা । 

” হুশশশ,,, কিচ্ছু হয়নি । কিচ্ছু বলতে হবে না তোমায় । আমি সব জানি । বিশ্বাস করি । আমার ইভারা একদম ঠিক ‌‌। ও আমাকে ফেলে আসতে চায়নি,,, বুঝেছি আমি । চুপ করো,,, শান্ত হও । কিচ্ছু হবে না আর । আমি আছি তো জান । 

মেঘা হাঁসফাঁস করে শ্বাস টানে । বিচলিত দেখায় ওকে । 

আদ্র না বুঝে কপাল গুটায় । পরক্ষণে চোখ ঝাপটায় । দুটোকে একা ছেড়ে গলা ঝেড়ে বলে….

” এনি ওয়ে, কাল ইমিডিয়েট রাজধানীতে ফিরছি আমরা । এখানে আর নয়, আর থাকবো না । সকাল দশটায় ফ্রাইট আছে । রেডি থাকিস । এটাই বলতে এসেছিলাম । আর, আজ আমাদের বার্থডে । ভাবিনি দিনটা এমন যাবে । সন্ধ্যার দিকে একটু সেলিব্রেশন করবো । দুটো খুশি একসাথে ‌। 

একটু থামলো । মুচকি হাসলো এতক্ষণের মেকি গম্ভীরতা ঠেলে । হাঁফ ছেড়ে পেছন থেকে মেঘার মাথায় হাত রেখে ঠান্ডা গলায় বললো…..

” স্যরি মেঘ ! অনেক চেঁচামেচি করেছি তোর সাথে । আ’ম স্যরি বনু ! এতো দিন রুডির অমন অবস্থা দেখার পর ঠিক ছিলাম না কেউ । রেগে গেছিলাম তোর উপর । হাত উঠে গেছে ভুল করে, আ……

আদ্রের পুরো কথা শেষ হলো না । গর্জে উঠলো রৌদ্র…..

” হাত উঠে গেছে মানে ? মেরেছিস তুই ওকে ? 

আদ্র ভিড়মি খায় । মেঘা সামলায়…..

” মারে নি । এমনি ! 

মেঘার মাথায় এখনো আদ্রের হাত ‌। রৌদ্র ঝটকা মেরে সরিয়ে দিলো তা…..

” ছুঁবি না আমার বউকে । দূরে সর । 

আদ্রের হাত সরিয়ে দিয়ে রমনীকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিলো যুবক । আদ্র তা দেখে দুদিকে মাথা নাড়ে । এই পাগলের এক পাগলামো দেখেছে এতদিন, এবার দেখবে আরেক পাগলামো । 

নীরবে ঘর থেকে বেরিয়ে আসলো সে । রুমের বাইরে পা রাখা মাত্রই টুং টাং শব্দে বেজে উঠলো মুঠো ফোন খানা । স্ক্রিনে তাকানো মাত্রই ওষ্ঠপূটে ফুটলো কিঞ্চিত হাসির রেখা । ফোন কানে তুলে বললো আয়েশ করে….

” বলো উৎস…..

মেঘা এখনো রৌদ্রের বুকে সেপ্টে । সেখান হতেই গলা তুললো….

” হ্যাপি বার্থডে রাইনো মুখো । 

চকিতে হাসে যুবক । 

” আফটার টুডে, মাই বার্থডে হ্যাজ বিকাম সো মাচ মোর স্পেশাল টু মি, সুইটহার্ট ! বিকজ আই হ্যাভ ইউ এগেইন ! আই লাভ ইউ জান ! আই লাভ ইউ সো মাচ্ ! 

মেঘা প্রকম্পিত জবাব…..

” আই লাভ ইউ ঠু, রাইনো মুখো ! কেউ না জানলেও আমি আপনাকে ভালোবাসি । আমি ফেলে আসতে চাইনি আপনাকে । 

” আই নো । বলতে হবে না । রিল্যাক্স,, সব শুনবো আমি ‌। 

,,,, 

ঘড়ির কাঁটা রাত্রি সাড়ে চারটার ঘরে ‌। প্রায় ভোর । কাবির পরিবারের দুই ছেলের জন্মদিনে উপলক্ষে গত রাতে রিসোর্টের ছাদে টুকটাক সেলিব্রেশন করেছে পরিবারের সবে মিলে । যদিও কারোর মন হালকা নয় । হঠাৎ মেঘাকে ফিরে পাওয়ার পর এখনো হতচেতন সকলে । 

সবকিছু মানিয়ে নিতে বেগ পোহাতে হচ্ছে । কেমন ঘোর লাগছে এখনো । 

সকালে ঢাকায় ফেরার কথা । বারোটা হতে হতেই ঘুমিয়ে পড়েছেন সবাই । রোশ্ কে মেহের সাথে নিয়েছে । রৌদ্রের রুমে এক বেডে চারজনের জায়গা কুলোতো না । 

আর এমনিতেও, মেঘা আর রৌদ্র কে আলাদা করে সময় দেওয়া উচিত । কিন্তু সেই সময়ে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে ওদের দুষ্টু ছেলে ইবাদ । সে কিছুতেই মেঘাকে ছাড়া ঘুমোবে না । সেই অবাধ্য, জেদি ছেলেকে মানাতে পারে কার সাধ্যি ? কেউ ওকে আলগা করতে পারেনি । রুবিনা কাবির কত চেষ্টা করলেন, তবুও পারেননি । 

শেষমেষ মেঘার কাছেই ঘুমিয়েছে বাচ্চাটা । 

নিস্তব্ধ গোটা ঘর । বড় আকারের বিছানা টার একপাশে ইবাদ । অন্যপাশে রৌদ্র আর মেঘা । ইবাদ মাকে জড়িয়ে দুজনের মাঝে শুয়েছিলো । কিন্তু ঘুমোনোর পর রৌদ্র সরিয়ে দিয়েছে ওকে । একপাশে বালিশ রেখেছে, যাতে পড়ে না যায় । 

ছেলেকে সরিয়ে স্ত্রীকে শক্ত করে পেঁচিয়ে নিয়েছে বেপরোয়া যুবক । মা ছেলে দু’জনেই বেঘোরে ঘুমাচ্ছে এখন । কেবল ঘুম নেই রৌদ্রের চোখে ‌‌। তন্দ্রাচ্ছন্নতার ক্লেশ ও নেই বিন্দুমাত্র । এমনিতেও ঘুমের ওষুধ না নিলে আজকাল আর ঘুমোতে পারে না । 

এখন সে একদৃষ্টে চেয়ে রয়েছে নিজের প্রশস্ত বুকে গুটিয়ে থাকা, ঘুমে বিভোর রমনীর পানে । 

সেই বিভোর ললিতার গরম শ্বাস বুকে আছড়ে ঝড় তুলছে ভেতর ঘরে । 

রৌদ্র শান্ত, স্থির । সেই বারোটা থেকে এখনো অবধি চিলতে পরিমাণ স্থানচ্যুত হয়নি । হলে যদি মেঘার ঘুম ভেঙ্গে যায় ? এই শঙ্কায় স্থবির সে । 

স্থবির তার তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি । এই দৃষ্টিতে পলক পড়ছে বহুক্ষণ বাদ বাদ । সে ঘোরে বুঁদ । 

ঘুমহীন চোখে দীর্ঘ সাড়ে চার ঘন্টার অধিক সময় ধরে চাতকের ন্যায় চেয়ে রয়েছে ঘুমন্ত মেঘার পানে । 

খুঁটিয়ে গুনেছে রমনীর মাঝে আসা সব পরিবর্তন । মেঘা আগের তুলনায় গুলুমুলু হয়েছে অনেকটা । ফর্সা দেখায় বেশি । গাল দুখানি ফোলা ফোলা । শাড়ি পড়ে এখন,, আরো বেশি বউ বউ লাগে । সাথে লাগে সন্তানের জননী । রৌদ্র ক্ষণে ক্ষণে মুচকি হাসছে ওর রুপ দেখে । আবার প্রত্যেক পলকে পলকে নিঃশব্দে ঠোঁট ছোঁয়াচ্ছে মেয়েটার কপালে । একটুও ক্লান্তি আসে নি এখনো । বরং তৃষ্ণা বাড়ছে আরো । 

চোখ ভরছে না কিছুতেই । 

পেরোয় আরো আধা ঘন্টার মতো । আজ বছর চারেক পর বালিশের বিপরীতে রৌদ্রের শক্ত বুকে মাথা রেখে ঘুমোতে গিয়ে আরাম পাচ্ছে না মেঘা । 

ভোর হয়ে আসছে । খচখচ করে নড়চড় বাড়ছে রমনীর । বাচ্চাদের খেয়াল রেখে শান্তিতে ঘুমোনো হয় না । সজাগ হতে হয় সময়ে অসময়ে । 

এই ভোরে ঘুম ছুটিয়ে পিটপিট করে চোখ মেললো রমনী । ঘোরের মাঝে নিজেকে আবিষ্কার করলো কারোর বাহুডোরে । 

মস্তিষ্ক সম্পুর্ন সজাগ হতে সময় লাগে কিছুটা । অতঃপর তড়াক করে মাথা তুলে দৃষ্টি ছিটকে চায় রমনী । ধক্ করে ওঠে ভেতরটা । 

এক মুহুর্তেই রৌদ্রের খাদযুক্ত দৃষ্টির সাথে চোখাচোখি হয় । লোকটা অদ্ভুত ভাবে হাসে তৎক্ষণাৎ । চমকে যায় মেঘা । ঘর আবছা অন্ধকার । ভোর সবে, এই লোক এখনো সজাগ কেনো ? 

মেঘা ঢোক গিললো । আমতা আমতা করলো ঘুম ঘুম কন্ঠে…..

” এ কি,, জেগে আছেন ? কটা বাজে ? 

” পাঁচটা ! ভোর হয়েছে ! 

লোকটার আবেশিত কন্ঠ । আরো বেশি চমকায় ললিতা । 

” ভোর হয়ে গেছে,, আর আপনি ঘুমোন নি ? 

” উঁহু ! 

সহজ স্বীকারোক্তি যুবকের । মেঘা চোখ ডলে । নিভু স্বরে বলে…..

” ঘুমোন নি কেনো ? 

” দেখছিলাম ! 

” কি দেখছিলেন ? 

” তোমায় ! কতদিন দেখিনি বলতো ? চোখে, বুকে তৃষ্ণা জমেছে অনেক ! আশ মিটিয়ে নিচ্ছি এখন ! 

তাজ্জব বনে রমনী । ললাট খানি শিথিল হয় । আপ্লুত হয় চোখ ‌। চেয়ে রয় ক্ষণকাল । যুবকের ভালোবাসা পূর্ণ নির্ভেজাল চমৎকার মুখাবয়ব নজরে নিয়ে বলে কাষ্ট হেসে….

” আর কোথাও হারাবো না তো আমি । দেখার অনেক সময় পাবেন । নিজেকে শাস্তি না দিয়ে স্বস্তিতে ঘুমোতে পারেন এখন । ভোর হয়ে যাচ্ছে, একেই অসুস্থ আপনি । 

রৌদ্র শ্বাস ফেললো । মাথা তুলে রমনীর কপালে কপাল ঠেকালো,, ফিসফিস করে চমৎকার কন্ঠে আওড়ালো…

” শাস্তি তো অনেক পেলাম, জান । এবারে আসলেই একটু স্বস্তি চাই আমি । একদিন – দুইদিন কিংবা একমাস – দুইমাস নয়, তোমাকে ছাড়া চার বছরের বেশি সময় কাটিয়েছি আমি । ভাবতে পারছো, কি ভীষণ যন্ত্রণা পেয়েছি ।‌

বড্ড ব্যাথিত আর ক্লান্ত তার স্বর । মেঘা গুঁড়িয়ে যায় ভেতর থেকে । ভিজে আসে অক্ষিপট…..

” স্যরি ! 

” উঁহু,, আ’ম স্যরি MP ! 

” অসুস্থ হয়ে যাবেন তো ‌‌। সেই থেকে এভাবে চেয়ে আছেন ? 

” চার বছরের তৃষ্ণা কেবল চার ঘন্টায় মিটবার নয়, জান ! এমনিতেও তোমার পানে চার ঘন্টা কেনো,, চার জনম নিষ্পলক চেয়ে থাকলেও আশ মিটবে না আমার । 

মেঘার চোখ হতে পানি গড়ালো এবার । অনুতপ্ত সে । ব্যাথায় বড্ড  জর্জরিত । চোখ মেলে কাছ থেকে রৌদ্র কে দেখলো । 

লোকটা বালিশে মাথা এলিয়ে দেওয়ার আগে ইতস্তত হয়ে একবার ঠোঁট ছোঁয়ালো রমনীর নাকের ডগায় । 

ফুঁপিয়ে ওঠে মেঘা । লোকটা নিজেকে ধাতস্থ রাখছে বুঝতে পেরে রৌদ্রকে অবাক করে দিয়ে অকস্মাৎ দ্রুত বেগে ঠোঁট নামিয়ে গাঢ় চুম্বন আঁকে যুবকের অধরের কোণে । 

ঝটকা খায় রৌদ্র । দৃষ্টি বৃহৎ হয় রমনীর এহেন অভাবনীয়  কান্ডে । মেঘা সরে যায় । আর তাকায় না রৌদ্রের দিকে । মুখ লুকিয়ে ফিসফিস করে…. 

” স্যরি ! 

” থ্যাংক ইউ ! 

ঠোঁট কামড়ে একই ভাবে ফিসফিস করে বেপরোয়া যুবক । 

চোখে পানি নিয়ে ফিক করে হেসে ওঠে মেঘা । 

🛑 অনেক দিন পর খুশি খুশি একটা পর্ব,, তাই না 🥹 ? বেশি বেশি রেসপন্স করুন । পরের পর্বে ইয়াশ আর শাফাহ্ কে পাবেন । আগে রেসপন্স করুন 🫶🏻 । 🛑

চলবে……

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply