Golpo romantic golpo আসবো ফিরে আবারো

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৭৯


#আসবো_ফিরে_আবারো

#পর্ব_৭৯

#সুরভী_আক্তার

অনুচ্চ রমনী মিইয়ে গেলো পুরো পুরি । গুঙ্গিয়ে উঠলো আতঙ্কে । মুখের নরম ত্বকের উপর উষ্ণ শ্বাস আছড়ে পড়তেই খিচে রাখা চোখ জোড়া পিটপিট করে খুললো । ভয়ে গিললো দু ঢোক । ঘরের হলদেটে আলোয় দুটো খাদ যুক্ত সূচালো স্থির নয়নের মুখে পড়তেই ছলকে উঠলো । সহসা হাত ছুড়ে দাপাদাপি করলো । ইয়াশ ওর মুখ ছাড়লো ‌বিরক্ত হয়ে । তখনো সে ঘুমের ঘোরে বুঁদ । চোখ নিভিয়ে আসছে । 

সে মাথা নামিয়ে টলে পড়লো ওভাবেই । রমনীর গলার নিকট মুখ গুজে হিসহিসিয়ে উঠলো ঘুম কাতর কন্ঠে……

” টকেটিভ লেডি,,, এতো রাতে জ্বালাতে এসেছো কেনো ? 

গ্রীবার নরম ত্বকে যুবকের খড়খড়ে দাড়ির খোঁচায় শিরশির করে উঠলো রমনীর সর্বাঙ্গ । সুপ্ত অনুভূতিতে চোখ বুজে ঢোক গিলে জবান খুললো…..

” আ..আর আসবো না ! সরুন প্লিজ । আমি চলে যাচ্ছি । 

” এসেছো কেনো ? 

” উ…উইশ করতে ! 

অবিলম্বে মাথা তুললো যুবক ‌। হলদে ক্ষুন্ন আলোয় বোঝা গেলো না, তার কপাল কিঞ্চিত কুঁচকে এসেছে । সে শুধালো ঘ্যাসঘ্যাসে গলায়….

” হোয়াট ? কিসের উইশ ?

” আজ চব্বিশ তারিখ না ? 

” সো ? 

” আমাদের বিয়ের এক মাস হয় ! 

” উমমম,, হ্যাপি ওয়ান মানথ ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি হানি ! 

শাফাহ্ মুচকি হাসে । ইয়াশ সরে এসে উঠে বসে । 

বাঁধন মুক্ত হতেই শাফাহ্ ও তড়িঘড়ি করে উঠে বসলো । যেনো প্রাণে বাঁচলো এতক্ষণে । রাক্ষুসে লোকটার দানবীয় শরীরের নিচে চাপা পড়ে পিষ্ট হচ্ছিলো পুরো । 

দূরত্ব বাড়িয়ে মেয়েটা ধীরে পিটপিট করে চাইলো ইয়াশের দিকে । কেমন আড়ষ্টতা কাজ করলো । পায়ের তালু শিরশির করছে । সে জড়িয়ে যাওয়া কন্ঠে বললো…..

” এই ঘরে লাইট নেই ? 

” না ! 

” আপনি এমন অন্ধকারে থাকেন কেনো ? 

” ভালো লাগে তাই ! 

” আজ বোধহয় দরজা লাগাতে ভুলে গেছিলেন । 

” ভুলিনি,, এখন আর দরজা লাগাই না । 

শাফাহ্ তব্দা খায় । আহম্মক বনে চোখ বড় বড় করে চায় । ঘন ঘন পাপড়ি ঝাপটে অবাক স্বরে বলে……

” দরজা লাগান না মানে ? দিনেও না ? আগে তো পুরো লক করে রাখতেন । আমি কতবার লক খোলার চেষ্টা করেছি, পারিনি । 

” এখন আর লক করি না । এমনি চাপানো থাকে ! 

বাই দ্যা ওয়ে,,, উইশ করা হয়ে গেছে ? এবার চলে যাও ! 

গমগমে স্বর তার । শাফাহ্ ভেংচি কাটে মনে মনে । আবার আফসোস ও হয় , দরজা লক থাকতো বিধায় গত কদিনে এ ঘর মুখো হয়নি সে । আশাহত হয়ে এক ঘরেই বন্দি ছিলো । চরম বাসনা ছিলো এই ঘরে অই আছে তা দেখার । এখন তো ছিপছিপে অন্ধকার, ঠিকমতো বোঝাও যাচ্ছে না । কাল না হয় দেখা যাবে । 

এদিকটা ভুলে সে প্রসঙ্গ টেনে গলা নামিয়ে বললো…..

” বিয়ের এক মাস হয়ে গেছে, কেক কাটি আজ ? দেখুন, বারোটা বেজে গেছে ! 

” বেশি বাড়াবাড়ি করবে না স্টুপিড । এই রাতে কেক কোথায় পাবো ? 

লোকটার ধমক কে গ্রাহ্য করলো না শাফাহ্ । লাফিয়ে নামলো খাট থেকে । টেবিলের উপর থেকে ট্রে টা হাতে নিয়ে ফের বিছানায় বসলো । 

” আছে তো । এই দেখুন, ছোট ছোট পেস্ট্রি আছে । আমি খাইনি । জমিয়ে রেখেছিলাম আজকের জন্য । ক্যান্ডেল ও ছিলো বাড়িতে । সব নিয়ে এসেছি । এগুলো দিয়ে সেলিব্রেট করি ? প্লিজ না করবেন না । 

ইয়াশ নিশ্চুপ । আধো আলো আঁধারের মাঝে চেয়ে আছে নিগুড় চোখে । মেয়েটা ওর নীরবতা কে সমর্থন ধরে নিলো । তড়িঘড়ি করে ক্যান্ডেল জ্বালালো । আলো বাড়লো একটু । জ্বলজ্বল করে উঠলো রমনীর নিখুঁত খুশি খুশি মুখখানা । 

ছোট একটা চাকু ও নিয়ে এসেছে কিচেন থেকে । শাফাহ্ যুবকের গা ঘেঁষে বসে সেটাকে বাড়িয়ে দিলো তার দিকে । 

” ধরুন,, কেক কাটবো । 

ইয়াশ তাৎক্ষণিক ধরলো । বরং ছিনিয়ে নিলো চাকুটা । আকস্মিকই রমনীর কোমর পেঁচিয়ে টেনে আনলো নিজের দিকে । চাকুটা ধরলো মেয়েটার গলায় । হিসহিসিয়ে বললো…..

” এতো জ্বালাতন করছো,, মেরে দেই ? কেটে দেই গলার রগ ? 

মেয়েটা ভয় পায় নি মোটেও । খুব স্বাভাবিক ভাবেই বললো..

” দিন ! 

” ভয় পাও না ? 

” না ! 

” কেনো ? 

” কারন আমি জানি, আপনি আমায় মারবেন না ! 

” আচ্ছা,,, তাহলে মেরে প্রমাণ দেখাই ? 

” দেখান ! 

অকপট জবাব পরপর । ইয়াশ চোখ সরু করে । চাকুটা সরিয়ে আনে । ভারিক্কি মেয়েটার উপর দৃষ্টি আরো প্রখর করে বলে…..

” তুমি বোকা নও ! ভান করো বোকা সাজার ! অথচ বোকা তুমি টাকে আমার ভীষণ পছন্দ । 

শাফাহ্ শব্দ করে হাসলো । কথা ঘোরালো……

” এখন কি কেক কাটবেন , নাকি আমার গলা ? 

ইয়াশ ওর কোমর ছাড়ে । ছোট ছোট পেস্ট্রি । এ আবার কাটতে হবে নাকি ? সে চাকুটা ছুড়ে মারলো দূরে কোথাও । মেঝেতে পড়ে ঝনঝনিয়ে শব্দ উঠলো । একটা পেস্ট্রি তুলে শাফাহ্’র ঠোঁটের সামনে ধরে বললো হালকা কন্ঠে….

” এগেইন হ্যাপি ওয়ান মানথ ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি । হয়েছে এবার ? খুশি ? 

শাফাহ্ একটুখানি কামর বসায় কেকে । অতঃপর চিবিয়ে বলে…..

” উঁহু ! আমার গিফট ? 

” দিতে পারবো না ! ওসব আশা রেখো না আমার থেকে । 

” এমন কেনো করেন আপনি ? 

ইয়াশ পাল্টা কোনো উত্তর করলো না । বিছানা থেকে নেমে ঘরের বারান্দার দিকে অগ্রসর হলো । 

যাওয়ার আগে ড্রয়ার থেকে সিগারেট বের করে নিয়েছে । শাফাহ্ দেখেছে তা । 

সে বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরায় । ফুঁকে যায় লাগাতার । শাফাহ্ তোয়াক্কা করে না আজ কোনো কিছুর । 

গটগটিয়ে যায় বারান্দায় । দূরে কোথাও থেকে ল্যাম্পপোস্টে মিটমিটে আলো ভেসে আসছে । 

বারান্দায় যাওয়ার আগে সিগারেটের ধোঁয়া নাকে পড়তেই খুক খুক করে কেশে উঠলো মেয়েটা । দুহাতে মুখ চেপে ধরে তবুও এগোলো । একেবারে থামলো ইয়াশের পাশে দাঁড়িয়ে । ততক্ষণে কাশি বেড়ে গেছে । 

ছলকে ওঠে ইয়াশ । পাশ ফিরে শাফাহ্ কে দেখতেই হাতের আধপোড়া সিগারেট টা দূরে ছুড়ে মারে । মুখের সামনে বাতাস করে স্মেল তাড়ায় । ঝেড়ে ওঠে রুক্ষ কন্ঠে…..

” ইউ স্টুপিড, এখানে এসেছো কেনো ? 

” সিগারেট ফেললেন কেনো ? খান আপনি !

” অ্যাজমা আছে তোমার । প্রবলেম হয়ে যাবে ! যাও এখান থেকে । 

” অ্যাজমা আমার আছে, আপনার তো নেই । আপনি খান । আমার চিন্তা কে করতে বলেছে আপনাকে । 

ইয়াশ চোয়াল খিচে নেয় । ঘাড় ডলে পিছিয়ে বসে ইজি চেয়ারে । বাম হাত দিয়ে রমনীর হাতে হেঁচকা টান মেরে ওকে এনে বসায় নিজের উরুর উপর । ডান হাত দিয়ে ওর নরম চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত বসিয়ে বলে বাজখাঁই গলায়……

” বেশি বাড় বেড়েছে তাই না ? তর্ক করো আমার মুখে মুখে ? কে তুমি হ্যাঁ ? কেনো তোমার উপর কঠোর হতে পারি না আমি ? কেনো তোমার চিন্তা মাথায় আসে আমার ? তোমাকে তো টর্চার করতে চেয়েছিলাম এক সময় , অথচ রেগে তাকাতে গেলেও হাজার বার থমকাই । কি করেছো তুমি আমায় ? 

তার কন্ঠে চাপা ক্রোধ । চোয়ালে শক্ত হাতের চাপ পড়তেই শাফাহ্ ফুঁপিয়ে ওঠে কিঞ্চিত ব্যাথায় । 

” আবার কাঁদছো কেনো স্টুপিড ? মারলাম তোমায় ? 

” টর্চার করতে এনেছেন, তো টর্চার করতে করতে মেরে ফেলুন আমায় । কেনো এভাবে বাঁচিয়ে রেখেছেন ? আমি তো এভাবে বাঁচতে চাই নি কখনো । আপনি একটুও ভালোবাসেন না আমায় । সবার ভালোবাসা, আদর পেয়ে পেয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছি আমি । হঠাৎ এমন অবহেলা সহ্য হয় না । বলি না বলে কি ভাবেন , কষ্ট হয় না আমার ? হয় ! ভীষণ কষ্ট হয় ! এভাবে অবহেলা সহ্য করতে পারি না আমি । আপনি ভালো নন একটুও । একটা রাক্ষস আপনি । আমার সাথে না ভালো মতো কথা বলেন, আর না আমার কথা শোনেন । থাকবো না আমি আপনার সাথে । আর আসবো না কাছে । থাকুন আপনি একা একা । ছাড়ুন আমায়….

মেয়েটা ছোড়াছুড়ি করে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো । উঠে দাঁড়িয়ে ফিকড়ে উঠে এক ছুট লাগালো বাইরের দিকে । অন্ধকার ঘরে বিপত্তি এড়ালো না । ডিভানের সাথে পা বেঁধে হুমড়ি খেয়ে পড়লো মেঝেতে । ব্যাথায় কুকিয়ে উঠলো চড়া আর্তনাদে । কেঁদে উঠলো শব্দ করে । 

তাৎক্ষণিক ছুটে যায় ইয়াশ । আঁতকে ওঠে ওকে ওভাবে দেখে । 

দ্রুত সামনে বসে হাত বাড়িয়ে দিতে গেলে পিছিয়ে যায় রমনী । ক্রন্দনরত স্বরে বাঁধা দেয়…..

” ছোঁবেন না আমায় । আমাকে কষ্ট দিতেই তো এনেছেন, এই দেখুন কষ্ট পাচ্ছি । কাঁদছি আমি, আমাকে এভাবে দেখে মজা নিন আপনি । মিছে সহানুভূতি দেখাতে আসবেন না । 

মেয়েটা উঠে দাঁড়াতে চায় । পারে না । টেনে ধরে ইয়াশ । একেবারে টেনে কাছে আনে । বেঁধে ফেলে বাঁধনে । 

চঞ্চলা রমনী ছটফটিয়ে ওঠে । পার পায় না । কেঁদে ওঠে হেঁচকি তুলে । ইয়াশ ওর মাথাটা নিজের বুকের সাথে চেপে ধরলো । 

রাশভারী কন্ঠ খাদে নামিয়ে ঠান্ডা মৃদু স্বরে বলল…..

” কেঁদো না ! ব্যাথা পেয়েছো ? 

” দেহের ব্যাথা দেখে কি লাভ ? মনের ব্যাথা তো আর দেখতে চান না কখনো ! 

” তুমিও তো চাও না আমার মনের ব্যাথা দেখতে । শুধাও না কখনো । একবারেই দমে গেছো । জোর খাটিয়ে দ্বিতীয় বার আর প্রশ্ন করোনি, যে আমি তোমায় কেনো বিয়ে করেছি । কখনো জানতে চাওনি কে আমি ! সুইজারল্যান্ড যাওয়ার পরও কখনো কোনো কিছু নিয়ে প্রশ্ন করোনি আমায় । আমাকে কাঁদতে দেখেও শান্তনা দাওনি ।‌ আগলে ধরোনি এভাবে, যেভাবে আমি তোমায় ধরলাম । অথচ আমি তোমাকে সাথে রেখেছি আমাকে সামলানোর জন্যই । উল্টে তোমাকে সামলাতে হয় । 

থামলো যুবক । রমনী ফোঁপায় । হেঁচকি ওঠে গলা চিরে । ইয়াশ আজ আর থামে না । লম্বা শ্বাস ফেলে নিজে থেকে বলা আড়ম্ভ করে…..

” তোমাকে আমি এভাবে বিয়ে করতে চাইনি, আবার চেয়েও ছিলাম । রৌদ্রের উপর প্রতিশোধ নিতে তোমাকে হাতিয়ার বানাতে চেয়েছিলাম । ভেবেছিলাম তোমাকে খুব করে কষ্ট দেবো, রোজ টর্চার করবো । কিন্তু দেখো, তা করছি না আমি । কেনো করছি না জানি না । 

রৌদ্র যেবার আমার বোনকে বিয়ে করলো, তারপর প্রথম দেশে গেলাম । মেঘাকে সাথে আনা পসিবল ছিলো না তখন । কিন্তু আমি জানতাম, মেঘাকে যদি আমি রেখে আসি তাহলে ওকে আর কখনো আনতে পারবো না আমার কাছে । রৌদ্র ওকে আনতে দেবে না । 

কিন্তু তার পর পাঁচ বছর কাটলো । তিন তিনটা বার দেশে গেলাম । তিন বার দেখলাম তোমাকে । তুমি বেশ চঞ্চল । তোমার চঞ্চলতা টুকু আমার ভালো লাগতো । কিন্তু তোমাকে না । কারন ভালো লাগাটা ছিলো অন্যের উপর । ভেবেছিলাম রৌদ্র যদি আমার বোনকে না ছাড়ে, তাহলে আমিও ওর বোনকে টানবো । প্রতিশোধ নেবো । ক্রোধে বুঁদ ছিলাম তখন । 

কিন্তু এবারে বুঝলাম , রৌদ্রের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই । কারন রৌদ্র আমার বোনকে ভালোবাসে । বেপরোয়া হলেও ভালোবাসে । আমার বোন ভালো থাকবে ওর কাছে । যখন বুঝতে পেরেছি, তখন আমি আমার মনে সাজানো সব হিংস্রতা ভুলে গেছিলাম । বিশ্বাস করো, তোমাকে আনতে চাইনি আমার কাছে । প্রতিশোধ নিতে চাইনি আর । সাজানো সব খুঁটি ভেস্তে দিয়েছিলাম । 

কিন্তু দিনশেষে যা জানলাম, তাতে নিজেকে আর সামলাতে পারিনি আমি । আমি বরাবরই একা । এই অন্ধকার, আলোহীন চার দেয়ালের মাঝে থাকতে থাকতে নিঃশেষ হয়ে গেছি আমি । আর একা থাকা পসিবল ছিলো না । তাই তোমাকে এনেছি । আমি একটু সুন্দর করে সঙ্গ পেয়ে বাঁচতে চাই টুকটুকি । 

একদন্ড থামলো । দম টেনে আবার বলা শুরু করলো,, এবারে তার কন্ঠ রোধ হয়েছে । কাঁদো কাঁদো ভাব এসেছে…..

” সুইজারল্যান্ডে ঘটে যাওয়া কোনো কিছুর কারন জানতে চাওনি তুমি । জানো, আমি কার কবরে কেঁদে ছিলাম ? ও ছিলো আমার প্রাণ, আমার আরাফ । জানো, ও কবে মরে গেছে ? সাড়ে পাঁচ বছর আগে । অথচ আমি জানতাম ও না । মিছে ভুল বোঝাবুঝিকে ঘিরে ওর সাথে কথা বলিনি ছয় বছর ধরে । জেদ ধরে দেশ ছেড়েছি । ওদের স্মৃতি ভুলতে পারিনি তবুও । ওদের স্মৃতিকে ঘিরে বছরের পর বছর কাটিয়েছে । দেখবে,, ওয়েট দেখাই…..

শাফাহ্ কে নিজের বুক থেকে আলগা করলো ইয়াশ । ফোন বের করে ফ্লাশ অন করলো । তাক করলো দেয়ালের দিকে । 

” লেটস সি,,

শাফাহ্ না চাইতেও ভেজা চোখ তুলে তাকায় । ফোনের ফ্লাশ অনুসরণ করে দেয়ালের দিকে তাকানো মাত্রই যেনো চমকে যায় সে । গোটা ঘরের চার দেয়াল জুড়ে অসংখ্য,অগনিত ছবি টানানো । ফ্রেম ব্যাতীত আটকে রাখা দেয়ালে । বাদ নেই কোথাও । যেনো কোনো বাচ্চা স্টিকার লাগিয়েছে দেয়ালের প্রত্যেক অংশে । শাফাহ্ দূর থেকে আবছা আলোয় খুব একটা বুঝতে পারলো না ছবির দৃশ্য । তবুও ঠাহর করলো । বৃহৎ হলো সিক্ত আঁখি জোড়া । ইয়াশ ফোন নামিয়ে বলে আবার…..

” এই ছবি গুলো আমাদের তিনজনের । আমি, আরাফ আর রিসা । আমি স্বার্থপর টুকটুকি, ওদের ভুল বুঝে দূরে ঠেলে দিয়েছিলাম । হারিয়ে ফেলেছি ওদের । আরাফ কে কষ্ট দিয়েছি আমি । সম্পর্কে ছেদ ঘটিয়েছি । ওদের কেও যন্ত্রণা দিয়েছি, আর নিজেও পেয়েছি । এই যন্ত্রনা থেকে পরিত্রাণের প্রয়োজন ছিলো । একা থেকে রোজ দগ্ধ হতাম । কেউ ছিলো না আমার পাশে । আমার সাথে দুটো কথা বলার জন্য কেউ ছিলো না । কেউ বোঝেনি আমায় । কেউ হাসাতে পারে নি । কিন্তু তুমি,, দেশে ফেরার পর তোমার টুকটাক কথায় আনমনে হেসেছি অনেক বার । প্রতিশোধের নেশায় তোমাকে নিজের সাথে সঙ্গী হিসেবে নিয়ে আসতে চেয়েছিলাম । প্রতিশোধ ভুললাম, কিন্তু চাওয়া টা ভুলতে পারিনি । চাওয়ার বশে নিয়ে আসলাম তোমায় । তোমার বকবকানি ভালো লাগে আমার । আমি কথা বলতে পারি না বেশি, জবানে বেঁধে যায় । কিন্তু তুমি অক্লান্ত ভাবে কথা বলতে পারো । যেটা আমার ভালো লাগে । 

শাফাহ্’র মোটা মাথায় সবকিছু ঠিকঠাক পৌঁছালো কি না কে জানে ! অবাক হলেও শেষ কথাটাকে টেনে থেমে থেমে বুলি আওড়ালো সে….

” আর আমাকে ? আমাকে ভাল্লাগে না ? 

” জানি না ! 

” কি জানেন তবে ? 

” আমি জানি, তুমি শুধু বকবক করবে আমার কানের কাছে ।

” ধমকান কেনো তাহলে ? 

” সেতো আমার হেবিট । তবে আমি ধমকালেও তোয়াক্কা করবে না তুমি । সারাদিন শুধু বকর বকর করবে । আমি রেগে গেলেও আমার কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করবে সবসময় । যদি ঝেড়ে চুপ করতে বলি, তবুও চুপ করবে না । তোমাকে এখানে এযনি এমনি আনিনি আমি ‌।  বকর বকর করার জন্যই এনেছি । তোমার এমন বাজে কথা শুনতে ভালো লাগে আমার । 

ইয়াশের এমন আজগুবি উদ্ভট কথায় শাফাহ্ ফিক করে হেসে উঠলো । 

” হাসছো কেনো ? 

” হাসি পাচ্ছে ! 

” আমার পায় না কেনো ? 

” কারন আপনি হাসতে জানেন না । 

” তুমি জানো ? 

” জানি তো ! সবসময় হাসতে জানি । সুখেও আর দুঃখেও । হাসতে জানি বলেই আমার হাসির আড়ালে লুকায়িত ব্যাথা গুলো কেউ বোঝে না । 

” ব্যাথা আছে তোমার ও ? 

” আছে তো অনেক ?

আপনি জানেন,, কষ্ট হলেও সেদিন আমি হেসেছিলাম , যেদিন তার পাশে অন্য কাউকে দেখেছিলাম । 

কথা টুকু আওড়িয়ে মেয়েটা কেমন চাপা আর্তনাদে ফুঁপিয়ে উঠলো । চিবুক মেশালো গলায় । ঝরঝরিয়ে পানি ঝরলো কোটর ফেটে । যেনো মারাত্মক যন্ত্রণায় চৌচির হলো রমনীর ছোট্ট কোমল হৃদয় । সে গুঙ্গিয়ে ওঠে ধেয়ে আসা কান্না গিলতে । দুহাতে মুখ চেপে ধরে । 

ইয়াশ আশ্চর্য হয় ওকে দেখে । কথাটার অর্থ বোধগম্য হয় না । সে চোখ সরু করে । তখনো একহাতে রমনীর কোমর জড়িয়ে ধরা । উভয়েই বসে আছে মেঝেতে । 

ইয়াশ নিজের অপর হাত রমনীর ভেজা চোয়ালে তুললো । জানতে চাইলো….

” টুকটুকি,, কি বললে তুমি ?

মেয়েটা আর পারে না । হুট করেই সে হুবড়ি খেয়ে দুহাতে শক্ত করে জাপটে ধরলো তপ্ত যুবক কে । কাঁধে মুখ গুজে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো । ইয়াশ ভড়কায় । রমনীর পিঠে হাত পৌঁছায় আপনা আপনি । ঢোক গিলে ডাকে……

” এইইই কি হয়েছে ? হঠাৎ কাঁদছো কেনো এভাবে ? 

মেয়েটা ফিকড়ে ওঠে । ইয়াশ ভেজা ভেজা অনুভব করে কাঁধের নিকট । সে আলগোছে জড়িয়ে নেয় মেয়েটাকে । ঠান্ডা হয়ে বলে….

” এইইই টুকটুকি,,, বলো । আচ্ছা আমি আর কখনো রাগ করবো না, ধমকাবো না, শান্ত হয়ে কথা বলবো তোমার সাথে, কেঁদো না প্লিজ । 

মেয়েটা ফুঁপিয়ে অস্পষ্ট স্বরে শুধোয়…..

” আপনি আমাকে ভালোবাসেন ? 

ইয়াশ নড়েচড়ে উঠলো এহেন প্রশ্নে । ঠোঁট ভিজিয়ে বললো দ্বিধা হীন…..

” না ! 

” আমি জানি । 

আপনি ঐ রিসা আপুকে ভালোবাসেন, তাই তো ? 

” বাসতাম ! 

” এখন ? 

” প্রথম প্রেম ভোলা যায় না । অনুভুতি আছে, তবে মূল্য নেই । 

দন্ড কয়েক নীরবতা ‌। অতঃপর ছেদ ঘটালো রমনীর ভাঙা ভাঙা স্বর…..

” নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে অন্য কারোর হতে দেখাটা খুব কষ্টের, তাই না ? 

” মারাত্মক যন্ত্রণার । তুমি বুঝবে না । 

” আমিও বুঝি ! 

” কিভাবে ? বাসতে কাউকে ভালো ? 

” হয়তো ! 

অবলিলায় জবাব দিলো মেয়েটা । ইয়াশ কেমন অদ্ভুত যাতনায় ধক্ করে ওঠে । অগত্যা অস্ফুটে জানতে চায়……

” কাকে ?

” বলে কি হবে ? একেই আপনার ভেতর ঘরে জায়গা পাই নি । বললে পরে এ ঘরেও জায়গা জুটবে না আর । 

ইয়াশ তাৎক্ষণিক কিছু বললো না । শাফাহ্ কাউকে ভালোবাসতো, এই কথাটা ভীষণ প্রভাব ফেললো তার মাঝে । সে কেমন উদগ্রীব হয়ে উঠলো । ছটফট করে ওকে আলগা করলো নিজের থেকে । মুখোমুখি করে চিবুক উঁচিয়ে ধরে জানতে চাইলো গলা ভিজিয়ে…..

” তুমি সত্যিই ভালোবাসাতে অন্য কাউকে ? আমি কি না জেনে ভুল করেছি ? তোমাদের মাঝে এসেছি ? 

” উঁহু, আমি তাদের মাঝে ছিলাম । 

” কে সে ?

মেয়েটা চোখ মুছে নেয় । কান্না চাপে । কিছু না বলে হাসে অস্বাভাবিক । বুক ফুলিয়ে শ্বাস টানে । তপ্ত শ্বাস ছেড়ে অতি চতুরতার সহিত কথা ঘুরিয়ে বলে চোখে চোখ রেখে……

” ঘুমাবেন না ? 

” কে সে ? 

” ঘুমান, অনেক রাত হয়েছে । 

” টুকটুকি…..

” আগে অন্যকেউ টুকটুকি বলে ডাকলে রেগে যেতাম, কিন্তু আপনার মুখে এই ডাকটা শুনতে ভালো লাগে ভীষণ । 

” কথা ঘোরাচ্ছো ? 

” ঘুম পাচ্ছে ! ঘুমাবো । গুড নাইট ! 

মেয়েটা উঠতে নিলো । তবে হাত টেনে থামিয়ে দিলো ইয়াশ । অসহ্য হয়ে পূনরায় কোমর পেঁচিয়ে গালে হাত রেখে শক্ত কন্ঠে বলল….

” আমি থাকতেও অন্য কাউকে মনে পুষে রেখেছো ?

” সে তো আপনিও রেখেছেন ! আমার বেলাতেই দোষ ধরছেন কেনো ? 

” আমি যাকে রেখেছি, তাকে পাইনি আমি ! 

” আমি বুঝি পেয়েছি ? 

” কথা কাটাবে না । কে সে, বলো আমায় ! আমি জানতে চাই । 

শাফাহ্ ভার দাবিয়ে মুচকি হাসলো স্বভাব সুলভ । ভেজা গাল মুছে নিলো । অতঃপর দুহাতে লোকটার গলা জড়িয়ে নিজের মুখশ্রী আড়াল করলো তার কাঁধের নিকট । কান্না ধরে খুব ধীরুজ কন্ঠে ফিসফিস করলো…..

” তাকে চিনে লাভ নেই ‌। সে কেউ না । কেবলই আমার জীবনের মরীচিকা । মিছে ছুটেছি তার পেছনে । তবে হ্যাঁ, সে ব্যাতীত আপনি আমার জীবনে না আসলেও আমার জীবনে ভালোবাসার অভাব হতো না । কেউ একজন খুব যত্নে আগলে রাখতো আমায় । যাকে চাইতাম, তার স্মৃতি ভুলতে সময় লাগতো না । কিন্তু আফসোস, যে আমাকে চাইতো আমি তার হতে পারিনি । আমি যাকে চাইতাম, সে আমার হয় নি । এদিকে আমরা একে অপরকে না চেয়েও হয়ে গেছি দুজনার । আপনি ভালোবেসেছেন অন্য কাউকে । তার পিছেই সব ভালোবাসা বিলিয়ে দিয়েছেন । আমার জন্য একটুও আস্ত রাখেন নি । যে রেখেছে আমি তাকে মূল্য দেইনি । মোদ্দা কথা কি জানেন,,, আমরা কেউই ভালোবাসার কদর করতে জানি না । ভুলের পেছনে ছুটতে গিয়ে ফুলকে করতলে মাড়িয়ে চলে যাই । 

রমনী থামলো । ইয়াশের কাছে সবটা ঘেঁটে যায় । এলোমেলো লাগে সব । সে ব্যাকুল হয়ে ওঠে । শাফাহ্’কে টেনে সরায় । ঘুরে ফিরে এক প্রশ্ন করে উৎকণ্ঠিত হয়ে……

” কাকে চাইতে তুমি ? কাকে ভালোবাসতে ? 

” কাউকে না । আগ্রহ দমিয়ে রাখুন । সব প্রশ্নের উত্তর জানতে নেই । 

” এইই ,, রাগিও না আমায় । সাফ সাফ উত্তর দাও ? 

” একটু আগেই তো বললেন, আর রাগবেন না আমার উপর ! এর মধ্যেই ভুলে গেলেন ? 

ইয়াশ চোয়াল খিচে ঝাড়া মেরে ওকে দূরে সরায় । রাগে শরীর জ্বলে তার । সহ্য হয় না কিছুতেই । 

সে আঙ্গুল তুলে শাশায়…..

” আজকের পর আমি ব্যাতীত যদি অন্য কারোর চিন্তা মাথায় আনো, তাহলে সেই মাথাটা শরীর থেকে আলাদা করে দেবো, বলে রাখলাম । তুমি শুধু আমার । তোমার সবটা জুড়ে শুধুই আমার বিচরন ঘটবে । অন্য কারোর নয় । 

” মস্তিষ্কে খবরদারি চালানো যায় না । যদি যেয়েই থাকে, তাহলে নিজের মস্তিষ্কে আগে চালান । অন্য কাউকে সেখান থেকে ঝেড়ে ফেলে আমাকে প্রবেশ করান সেখানে । তারপর আমাকে শেখাতে আসবেন । 

শাফাহ্ উঠে দাঁড়ায় । আর থামে না । গটগটিয়ে বেরিয়ে যায় রুম থেকে । পেছনে ফেলে যায় তপ্ত এক যুবককে । যুবক তার যাওয়ার পথের পানে তাকিয়ে আওড়ায় ঠোঁট নাড়িয়ে……

” খবরদারি তো আমিই চালাবো , শুধু তোমার মস্তিষ্কে নয় । গোটা তুমি টার উপর আমার খবরদারি চলবে । 

,,,, 

কাল থেকে দেশের নিউজ চ্যানেল জুড়ে এক খবর ঘোরপাক খাচ্ছে । জুরিখে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ৬.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প । ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অগনিত । ধসে পড়েছে ছোট বড় শতাধিক ভবন । মৃত্য হয়েছে তিন শতের অধিক । আঘাত প্রাপ্ত অনেকে । 

এসব ভয়াবহ বিজ্ঞপ্তি কাল থেকেই দেখে আসছে মেঘা । এখনো দেখছে । ভর সন্ধ্যায় টিভি খুলে বসেছে । 

কাল থেকে আতঙ্ক ডুবেছে রমনীর মনে । দেশেও পৌঁছেছে এই খবর । বাড়ি থেকে লাগাতার ফোন এসেছিলো কাল । রৌদ্র আর মেঘা ঠিক আছে, জানা মাত্রই স্বস্তি পেয়েছেন সবাই । 

তবে মেঘা যেনো স্বস্তি পাচ্ছেনা । কাল থেকেই কেমন ভয় ভয় লাগছে । রৌদ্রের অমন পাগলামি দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেছিলো সে । 

বাড়ি ফেরার পর থেকে আর কেউ কারোর কাছছাড়া হয়নি  । এখনো দুজনায় পাশাপাশি বসে আছে । রৌদ্রের বুকের কাছে লেপ্টে আছে মেঘা । 

কথা বলছে না । রৌদ্র ওর নীরব আতঙ্ক দেখে চ্যানেল চেঞ্জ করলো । চকিতে মাথা তুলে চাইলো মেঘা…..

” পাল্টালেন কেনো ? 

” এক নিউজ বারবার দেখতে হবে না ।

” অনেকের অনেক ক্ষতি হয়েছে, রৌদ্র ।

” তোমার তো কিছু হয় নি, এই ঢের আমার কাছে । 

” আপনি কি জানেন, আপনি একটা পাগল ? 

” কেবলই তোমার জন্য, সানি ! 

” কাল অমন রিস্ক নিয়ে উপরে উঠতে কে বলেছিলো আপনাকে , যদি খারাপ কিছু ঘটে যেতো ? 

” ঘটেনি তো । 

” পায়ের অবস্থা কি হয়েছিলো, মনে নেই ? 

রৌদ্র নিজের পায়ের দিকে তাকায় । অতো ছোটাছুটি আর আতঙ্কে বাড়ি ফেরার পর যেনো অবশ হয়ে গেছিলো পা দুটো । এখনো কেমন টান টান অনুভুত হচ্ছে । হাঁফ ছাড়ল সে । রমনীর পানে চেয়ে মুচকি হাসলো । এক গোছা কুন্তল টেনে নাক ছুঁইছুঁই করে ঘ্রাণ টানলো । 

” এখন ঠিক আছি সুইটহার্ট । 

মেঘা পলক হীন মূক বনে ওর পানে দীর্ঘক্ষণ চেয়ে রয় । রৌদ্রের ঠান্ডা মুখাবয়ব দেখে কেমন হু হু করে কেঁপে ওঠে বক্ষস্থল । সে রৌদ্র কে সন্দেহ করে । কিভাবে টিকিয়ে রাখবে এই সংশয় ? রৌদ্র ওকে যদি নাই ভালোবাসে, তাহলে এতো পাগলামো করবে কেনো ? আর সেবার হার্ট অ্যাটাক করলো কি এমনি এমনি ? 

কিন্তু সেই বাচ্চা ? কে সে ? মেঘা কেনো একটা বাচ্চার  সম্মুখীন হয় বারবার ? এ কি কেবলই ভ্রান্তি ? বারবার ? 

মেঘা বুঝতে পারে না কিছু । 

রৌদ্র কেও বলতে পারে না । সে অপেক্ষায় রয় , যদি রৌদ্র স্বীকার করে তবে ? রৌদ্র যদি ওকে ভালোবেসেই থাকে, তাহলে কিছু লুকানোর থাকবে না নিশ্চয়ই ? 

অন্য কেউ ওর জীবনে থাকলে সে কেবলই মেঘার কাছে পড়ে থাকবে কেনো ? মেঘা কি বেশি ভাবছে ? 

সে ভাবনার মাঝেই মাথা নামিয়ে তার বুকের কাছে রাখলো । লোকটার উদরের ধারের টি শার্ট খামচে ধরে অস্পষ্ট স্বরে বলল…..

” আপনি আমাকে ভালোবাসেন রৌদ্র ? কতটুকু বাসেন ? 

” ভালোবাসা মাপা যায় বুঝি ? তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা এক আকাশ পরিমান, যার অস্তিত্ব কোথায় বিলিন, তা আমি নিজেও জানি না । 

” আপনার বাচ্চা পছন্দ ? 

আকস্মিক প্রশ্ন । রৌদ্র ভ্রু গুটায় । ঠোঁট ভিজিয়ে বলে…..

” হু । 

” কোনো বাচ্চাকে ছুঁয়েছেন কখনো ? 

” হু । তবে, আমাদের বাচ্চা কে ছুঁতে চাই এবার । আই ওয়ান্ট অ্যা বেবি, সুইটহার্ট । 

মেঘা ওর কথার প্রেক্ষিতে ভেজা কন্ঠে বললো…..

” আই লাভ ইউ রৌদ্র,, আমি কিন্তু আপনাকে কারোর সাথে ভাগাভাগি করতে পারবো না । বাঁচবো না আপনাকে ছাড়া । 

” রৌদ্র কেবলই তার রৌদ্রময়ীর । ভাগাভাগির প্রসঙ্গ আসছে কোথা থেকে ? এইই এক সেকেন্ডে,, তুমি কি আমাদের অনাগত বেবিকে হিংসে করছো ? হিংসুটে হয়েছো খুব, তাই না ? 

আরে ইডিয়ট, তুমি আমার জান । আমার জান আমার কাছে সবার আগে । আমার এই জানের মাঝে আমার অস্তিত্ব আসবে । ভাবলে কি করে আমি আমার অস্তিত্ব কে পেয়ে তোমাকে ভুলে যাবো ! 

” ভাবছি না তেমন কিছু ! 

” তাহলে ? 

মেঘা উত্তরে কিছু বলতে যাবে, তার আগেই সোফার উপরে থাকা রৌদ্রের ফোন খানা বেজে উঠলো । চকিতে তাকালো দুজনাই । রৌদ্র ফোন রিসিভ করে কানে ঠেকায়…

” বলো মাহির ! 

মাহির কিছু বললো ওপাশ থেকে । শোনা মাত্রই ধড়ফড়িয়ে উঠলো যুবক । চোখে মুখে আতঙ্ক ছড়ালো মুহুর্তেই । হাঁসফাঁস করে বললো……

” ওয়েট,,, আমি এক্ষুনি আসছি । 

সে মেঘাকে ছাড়ে । চঞ্চলা হয়ে শুধোয় রমনী…..

” কি হয়েছে রৌদ্র ? 

” ইভারা, আমাকে এক্ষুনি বেরোতে হবে । তুমি নিজের খেয়াল রাখবে , ওকে ? আমি ডিনারের আগে চলে আসবো,জান । 

উঠে দাঁড়ালো ছটফট করে । সময় সংকুলান । সেই টিশার্ট আর ট্রাউজার পড়েই বেরোবে এখন । সদরের দিকে এগিয়ে ফিরে আসলো আবার । রমনীর কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে কাতর কন্ঠে বলল…..

” ইভারা প্লিজ,, বাড়িতে থাকবে ওকে । আমি চলে আসবো খুব তাড়াতাড়ি । আর্জেন্ট কাজ পড়ে গেছে । বুঝতেই পারছো, অফিসে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে । যেতেই হবে এখন । প্লিজ জান ভুল বুঝো না । 

চলবে……….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply