Golpo romantic golpo আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন

আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন পর্ব ৮


#আলতো_ছোঁয়ায়_সমুদ্রকথন__(০৮)

#নুসরাত_সুলতানা_সেঁজুতি

মারিয়া হন্যে হয়ে সাদিফকে খুঁজছে। এত বড়ো ভবন,এতগুলো ফ্লোর! তাও আবার কেমন কালো রঙের টাইলস দিয়ে ভরা। আয়নার মতো ঝকঝকে দেওয়ালে তাকালেই নিজের একটা চ্যাপ্টা-আবছা প্রতিবিম্ব দেখা যায়।

তারওপর সব অচেনা, এসেছেও প্রথম বার। এখন এই হারিয়ে বসা দিশা নিয়ে কোথায় ছুটবে ও?

মারিয়া হাত উলটে ঘড়ি দেখল। এগারোটা বাহান্ন বাজে। বারোটায় ইন্টারভিউ হওয়ার কথা। এর মধ্যে ওই পোল্ট্রিটাকে না পেলে….ওর তো সব যাবে।

মাথায় হাত দিতে দিতে ছুটছিল মেয়েটা। গায়ে ব্যথা। কনুইয়ের হাড়ও টনটন করছে। জালিম লোক,এমন ভাবে ফেলেছে ওকে! ওই লোকের কোনোদিন ভালো হবে না।

এদিকে নিচ তলার কোথাও সাদিফ নেই। মারিয়া সিঁড়ি ডিঙিয়ে দোতলায় এলো। ভাগ্য সহায় হলো এবার। এখানে এসেই দেখা গেল সাদিফকে। ওই তো,অদূরে একটা ছেলের সাথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হেসে হেসে কথা বলছিল। এত হাসি? দাঁত খুলে পড়ে যাক।৷ দুই হাত প্যান্টের পকেটে। এমা,তা কেন? তাহলে ওর ফাইল কোথায়?

মারিয়া এক ছুটে এসে পেছন থেকে সাদিফের হাতটা টেনে নিজের দিকে ফেরাল। সব রাগ ঢেলে দিলো কথায়,

“ বাজে ছেলে,আমার ফাইল কই? কী করেছেন ফাইলটা?”

হঠাৎ কান্ডে সাদিফ ভড়কে গেল কিছু। পরপরই মারিয়াকে দেখে নাক কুঁচকে বসল।

মেয়েটা চিড়বিড় করে বলল,

“ হাঁ করে কী দেখছেন? ফাইলটা কোথায় ফালতু ছেলে?”

সাদিফের রাগ চড়ল ভারি। কিছু বলতে গিয়েও খেয়াল পড়ল ও কোথায়,ওর পাশে কে আছে! সব ঝাঁঝ গিলে নিলো তাই। জিগ্যেস করল ধৈর্য নিয়ে,

“ কীসের ফাইল?”

“ কীসের ফাইল মানে,আমার ফাইল। আমার আজ ইন্টারভিউ আছে। আপনি তখন আমার ফাইল নিয়ে কোথায় চলে গেছিলেন? খুঁজতে খুঁজতে আমি পাগল হয়ে গেছি। মানুষকে বিপদে ফেলা ছাড়া আপনার কি আর কোনো কাজ নেই?”

পাশের ছেলেটা অবাক হয়ে বলল,

“ সাদিফ,হু ইজ শী?”

সাদিফ চশমাটা নাকের ডগায় ঠেলে বলল,

“ চিনি না।”

মারিয়া তাজ্জব হয়ে বলল

“ চেনেন না? চেনেন না আমাকে? এক ঘুষি মেরে আপনার নাক ফাটিয়ে দেব।”

সাদিফ চমকে বলল

“ কী?”

“ আমার ফাইল কই বলুন! কোথায় রেখেছেন? আজ যদি আমার ইন্টারভিউ দিতে কোনোরকম কোনো সমস্যা হয় না,আমি আপনাকে গলা টিপে মেরে ফেলব।”

সাদিফ দাঁত চেপে ধরল। রাগটা সংবরণ করে বলল,

“ বিহেভ ইয়র সেল্ফ ম্যালেরিয়া!”

মারিয়া গলা চড়িয়ে চ্যাঁচিয়ে উঠল,

“ আমার ফাইল দিন। এক্ষুনি।”

“ আপনার ফাইল কি আমি কোলে নিয়ে বসে আছি?”

“ আমি এত কথা জানি না। হাত ধোয়ার নাম করে আমার কাগজপত্র নিয়ে ভেগেছেন,এখন নাটক করা হচ্ছে? ইচ্ছে করে এরকম করেছেন তাই না? যাতে আমার ইন্টারভিউ দিতে দেরি হয়!”

সাদিফের মনে পড়ল এবার। হাত ধুতে গিয়ে বেসিনের পাশে রেখে এসেছিল। বিরক্তি নিয়ে বলল,

“ আপনার ফাইল ওয়াশরুমে।”

মারিয়ার মাথায় বাজ পড়ল। আর্তনাদ করে বলল,

“কীইইইই? ওয়াশরুমে! ওতে আমার সার্টিফিকেট আছে,আর আপনি ওয়াশরুমে রেখে এসছেন? আপনার মাথায় কি কিছু নেই? যদি ভিজে যায়। হায় আল্লাহ,এ কোন ফাউল লোকের পাল্লায় আমাকে ফেলেছ।

কোন, কোন ওয়াশরুমে, কোনদিকে?”

সাদিফ চোখমুখ শক্ত করে মারিয়ার ছটফটানি দেখছিল। মন চাইছিল থাপড়ে দুই গালে নকশা এঁকে দিতে। শুধু আর শুধু মাত্র ও এখানে একটা কাজে এসেছে,আর এটা ওর বন্ধুর বাবার অফিস বলে নিজেকে থামিয়ে রাখল। সহ্যশক্তি বাড়িয়ে একটা দিক দেখাতেই মারিয়া কিড়মিড়িয়ে বলল,

“ আমার ফাইল যদি ভেজে,আর ইন্টারভিউ যদি নাহয় আপনাকে আমি দেখে নেব।”

তারপর ত্রস্ত পায়ে মেয়েটা ছুটল ওদিকে। দুই হাত মুঠো করে চোখ রাঙিয়ে চেয়ে থাকে সাদিফ। অতিরিক্ত সাদা নাকটা লাল হয়ে ফুঁসছে ওর। এই প্রথম কারো ওপর শান্ত ছেলেটাকে এমন ভয়ানক ভাবে চটতে দেখে ফারাজ বড়ো আশ্চর্য হলো। ওর কাঁধে হাত রেখে বলল,

“ কে বলতো মেয়েটা?”

সাদিফ কটমটিয়ে বলল,

“ যেই হোক,কেমন অভদ্র দেখলি? এতগুলো কথা শোনাল,অথচ আমি

হাতের কাছে পেয়েও কিচ্ছু করতে পারলাম না। ইচ্ছে করছিল যাস্ট তুলে আছাড় মারতে। ম্যানার্সলেস ম্যালেরিয়া একটা!”

দেড় ঘন্টা বসে থাকার পর একটা লম্বা সিরিয়াল দিয়ে মারিয়ার ইন্টারভিউ শেষ হলো। অল্প প্রশ্ন করেছে আর সবগুলোরই ঠিক ঠিক উত্তর দিয়েছে ও। ছাত্রী হিসেবে ও মিডলক্লাস বলা যায়। মারিয়ার মন ফুরফুরে ছিল। চাকরি হবে বলে মনে হচ্ছে। বেরিয়ে আসতেই আবার মুখোমুখি পড়ল সাদিফ। সাথে ফারাজও ছিল। ওরা একই ইউনিভার্সিটির একই ডিপার্ট্মেন্টের ছাত্র। এটা ফারাজের বাবার অডিট ফার্ম। সাদিফের স্বপ্ন সি-এ হবার,তাই একটা ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট বানাতে সাহায্য করতে এসেছে।

মারিয়াকে দেখেও সাদিফ পাশ কাটাতে গেল। মেয়েটা অমনি বলল,

“ আপনার ভাগ্য ভালো আমার ইন্টারভিউ ভালো হয়েছে৷ নাহলে মজা দেখাতাম। বাই দ্য ওয়ে আপনি এখানে কী করছেন?”

সাদিফ এক সেকেন্ড থামে,উত্তর না দিয়ে আবার তড়বড় করে সামনে এগিয়ে যায়। এমন স্পষ্ট অপমানে মারিয়া ভেংচি কেটে বলল,

“ যেই না সাদা মুলা,তার আবার ভাব!”

সাদিফ হাঁটাপথেই কী ভেবে দাঁড়াল আবার। ফিরল পেছনে। মারিয়া লিফটের দিকে যাচ্ছে। পরনে টু পিসের ফারসি সালোয়ার স্যুট। পেছনে দুলছে সাপের মতো লম্বা বেনুনি। সাদিফ

চশমার ওইপাড়ে থাকা চোখের মণি দুটো দুইদিকে ঘোরাল। ফারাজ বলল,

“ কী হলো?”

“ মেয়েটা কী বলল,ইন্টারভিউ দিয়েছে। মানে এখানে চাকরি নিতে এসেছে তাই তো?

“ হ্যাঁ। হয়ত!”

“ইন্টারভিউ কে নিচ্ছে জানিস?”

“ এসব ছোটোখাটো পোস্টের জন্যে তো ম্যানেজার থাকেন!”

সাদিফ ভিন্নরকম হাসল। অদ্ভুত গলায় ডাকল,

“ ফারাজ!”

ফারাজ সঙ্গে সঙ্গে বলল,

“ প্যারা নিস না। বুঝে গেছি।”

সাদিফের ঠোঁটের হাসি চওড়া হলো।

বিড়বিড় করে বলল,

“ মিস ম্যালেরিয়া, আপনার চাকরি কী করে হয়,আমিও দেখি।”

***

ধূসর বসেছিল টং এর বেঞ্চে। ফাঁকা বেঞ্চ,মধ্য দুপুরে লোকও নেই দোকানে। আরেক দিক চেয়ে চেয়ে হাতের স্পিডের ছোট্ট বোতলে চুমুক দিচ্ছে ও। ইকবাল মাথা চুলকাতে চুলকাতে বন্ধুকে দেখল এক পল। সিগারেট ঠোঁটে চেপে দোকানে ঝুলানো লাইটার দিয়ে ধরাল।

মিনমিনিয়ে বলল,

“ খাবি ধূসর?”

তুরন্ত চোখ রাঙিয়ে চাইল ধূসর। ইকবাল হাত তুলে বলল,

“ না না ঠিক আছে,আমিই খাই।”

ইকবাল দু টান দিলো সিগারেটে,কিন্তু মজা পেলো না। ওটা ফেলে নিজেও একটা স্পিড কিনে বেঞ্চের ওই পাড়ে এসে বসল।

কথা যে কি বলে শুরু করবে সেটাই বুঝতে পারছে না! স্পিডে চুমুক দিয়েই মুখ কুঁচকে গেল ওর। এহ,কী বাজে টেস্ট! কী ঝাঁঝ! ইকবাল চেহারা বিকৃত করে দেখল ধূসরকে। ধূসরের পছন্দের ড্রিংকস! হতচ্ছাড়াটা এসব খায় কী করে? অথচ ইকবাল মুখে বলল,

“ বাহ,মজা। অনেক মজা। ধূসর তোর টেস্ট এত ভালো!”

ধূসর কথা বলল না,জবাবও দিলো না। ইকবাল চুপসে বলল

“ এখনো রাগ করে আছিস?”

উত্তর নেই। ও বলল,

“ আমি তো একটু তোকে সারপ্রাইজ দেবো ভেবেছিলাম। রওনক এরকম ঝামেলা করবে কে জানে! এখানে আমার কী দোষ ভাই?”

ধূসর পাশ ফিরে বলল,

“ তোর দোষ নেই?”

“ না… হ-হ্যাঁ আছে তো। সব আমারই তো দোষ। কিন্তু কোনটা যে আমার দোষ সেটা ভুলে গেছি। তুই একটু বলে দিবি?”

“ ইকবাল, তোর কী দরকার ছিল না বলে-কয়ে হুট করে সবার সামনে আমাকে সম্পাদক ঘোষণা করার? আমিতো মই ডিঙিয়ে গাছে উঠতে চাইনি। আজ যে এতগুলো মানুষের সামনে এরকম একটা ব্যাপার ঘটল ,তোর অসম্মান হলো,সেটা ঠিক হয়েছে?”

ইকবাল বিস্মিত, স্তব্ধ। ও ভেবেছিল ধূসর নিজের সম্মানহানীর জন্যে রাগ করেছে। অথচ ছেলেটা ওর সম্মান নিয়ে ভাবছে? তাও এই সময়! ইকবালের বুক হুহু করে উঠল ভালো লাগার তোড়ে। মাথা নুইয়ে বলল,

“ আম সরি!”

ধূসর চ সূচক শব্দ করে আরেক দিকে মুখ ফেরায়। ইকবাল উদ্বেগ নিয়ে বলে,

“ ভাই সরি তো। আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি। এর আগে এরকম কখনো হয়নি অফিসে। আজ..

“ আজ হয়েছে,কারণ আজ তোর ভুল ছিল। রওনক ওর যুক্তি ঠিক,ইকবাল। আমি এসেছি একটা বছর হয়নি। কারো কোনো মতামত ছাড়া আমি সম্পাদক হব কী করে?

আমি তো এখন অবধি দলের জন্যেও তেমন কিছুই করিনি।”

“ বুঝতে পেরেছি বন্ধু। তুই ভাবিস না,এখনই ওরা তোর যা ভক্ত,ভোটে তুইই জিতবি।”

ধূসর ভ্রু নাঁচিয়ে বলল,

“ আচ্ছা? কিন্তু এত জেতায় তোর ভালো হবে ভাবছিস?”

“ কেন হবে না?”

“ আমি হারলে কী হবে জানি না,তবে জিতলেও কথা উঠবে,ভোটে তুই কারচুপি করেছিস।”

ইকবাল আশ্চর্য হয়ে বলল,

“ এ্যাহ, কেন ভাই? আমিতো নিষ্পাপ শিশু। আমি কেন এসব করব?”

“ আমি কী জানি! নিজে ঝামেলা বাঁধিয়েছিস, এখন সামলা।”

ধূসর বোতল ছুড়ে ডাস্টবিনে ফেলে। বিল মেটায়। শুধু বেঞ্চে হতাশ হয়ে পা ছড়িয়ে বসে রইলক ইকবাল। কাঁদোকাঁদো গলায় বলল,

“ ধুর বাল,

ইকবাল!”

***

বাড়িতে সেদিন বাপ-চাচার সঙ্গে একটা মস্ত বড়ো অশান্তির পর ধূসর আর তাদের সামনে পড়ে না। খেতেও বসে না এক সাথে। খুব রাতে ফেরে, আবার সকাল আট-টা নটায় বেরিয়ে যায়।

আমজাদ-আফতাব ভোরে ওঠার দরুন রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন। ধূসরকে পেলে দু দণ্ড যে কাছে বসিয়ে বসাবেন, তার জো কোথায়? শুক্রবার বন্ধের দিন,অথচ ধূসর সারাবেলা পড়ে পড়ে ঘুমায়। অত শেয়ানা ছেলের ঘরে গিয়ে এসব রাজনীতি নিয়ে যে ধমকে-ধামকে আসবেন,আমজাদের এখন আর ওই রুচি হয় না। ক বছরে ধূসর ভারি বেয়াদব হয়েছে। উল্টাপাল্টা উত্তর দেয়। আমজাদের আক্ষেপে তখন বুক ভেসে ওঠে। ছেলেটাকে বানাতে চাইলেন কী? আর ছেলে হয়ে গেল কী! ওকে নিউইয়র্কে পাঠানোর সিদ্ধান্ত একান্ত ওনার ছিল,তাই আজ কাউকে কিছু বলতেও পারেন না। আফতাবের সাথে চোখ মেলাতেও সংকোচ হয়!

শিকদার বাড়ির বড় কর্তার দিন আক্ষেপে যাচ্ছে। আফতাবের দিন যাচ্ছে ভয়ে ভয়ে। কখন ধূসরের সাথে আমজাদের একটা যুদ্ধ বেঁধে যায়,সেই ডরে আজকাল শান্তিতে ঘুম হয় না তাঁর। আফতাব খুব করে চাচ্ছেন,ধূসর আমজাদের সামনে না আসুক৷ দিন এভাবেই যাক,যতদিন যায়।

একেকজনের একেক রকম চিন্তার মাঝ দিয়ে,ধেয়ে এলো পিউয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষা। এখন ডিসেম্বর চলছে। ফেব্রুয়ারির ২ তারিখ থেকে ওর পরীক্ষা শুরু হবে। এমনকি পিউয়ের জন্মদিনটাও পাড় হবে এক্সাম হলে। পনেরো বছরের কিশোরী পিউ,নতুন বছরে পা দেবে আরেক নতুন বয়সে। কিন্তু মেয়েটার এবার ওসব নিয়ে কোনো দুঃখ হলো না। জন্মদিন যেভাবে ইচ্ছে যাক। তবুও ওর পরীক্ষায় ভালো করা চাই! ধূসর ভাইয়ের যোগ্য হওয়া চাই!

আর এই পণে পিউ আশেপাশে কোনোদিকে চাইল না। তিন বেলা খাওয়া,স্কুলের কোচিং যাওয়া এইটুকু ছাড়া পিউকে এখন আর নিচে দেখা যায় না। সন্ধ্যায় এ বাড়িতে বসা চা-নাস্তার উৎসবেও সামিল হয় না পিউ। সারাক্ষণ টেবিলে ঝুলে ঝুলে পড়ে। ওর পড়ার শব্দ বসার ঘর অবধি শুনতে পাওয়া যায়।

মেয়ের এই পড়ায় মন দেয়ার ব্যাপারে মিনা বেগমের খুশি হওয়া উচিত। কিন্তু চিন্তায় রমণীর চোখ অন্ধকার হয়ে এলো। পিউ আজকাল টিভি দেখে না। ওর প্রিয় সিরিজের কত এপিসোড শেষ হলো খোঁজও রাখে না। খিদে পেয়েছে বলে বলে মাথা খায় না। এমন লক্ষ্মী তো তার মেয়ে নয়। হুট করে বদলে গেল,

এ কেমন কথা?

রুবা আর মিনা বসে বসে মটরশুঁটি খুটছিলেন। ভদ্রমহিলার অন্যমনস্ক মুখখানা খেয়াল করলেন রুবা। জিজ্ঞেস করলেন,

“ আপা,কী হয়েছে তোমার? তখন থেকে আমি কথা বলছি তুমি হু-হা ছাড়া উত্তরই দিচ্ছো না।”

মিনা নড়েচড়ে বসলেন। উদ্বীগ্ন চিত্তে জানালেন,

“ পিউটার কী হলো বল তো, রুবা? ও এমন করছে কেন?”

“ কী করল? পড়ছে দেখে এলাম।”

“ ওটাই তো চিন্তার রে।

যে মেয়ে আমার এক্সামের আগের রাত ছাড়া বই ধরতে চায় না। কিলিয়ে পিটিয়েও টেবিলে বসাতে পারি না সে এখন চেয়ার ছেড়ে ওঠে না। কতবার ডাকলাম তখন,বলল, মা আমি পড়ব বিরক্ত করো না। ও আমার পিউই তো?”

রুবায়দা হেসে ফেললেন,

“ আপা,তুমিও না!

পিউ এতদিন ঠিকঠাক পড়তো না বলে কী বকা বকতে। আর এখন পড়ছে দেখে এভাবে বলছো? মেয়েটা যাবে কই বলো তো?

আর দুদিন পর ওর এস এস সি পরীক্ষা না? এর আগে কি এই পরীক্ষা হয়েছে? সেজন্যে সিরিয়াস হয়ে পড়ছে। এত চিন্তা করো না। ”

মিনা অস্থির অস্থির চোখে মাথা নাড়লেন। শুধু বললেন,

“ আচ্ছা,আচ্ছা।”

ধূসর বাইরে যাবে,সক্স পরছিল। পুরোটা সময় দুই মায়ের কথা কানে এলো তার। সদর দরজা পার হতে হতে স্বস্তির শ্বাস ফেলল সে।

যাক,পিচ্চি তাহলে পড়ায় মন দিয়েছে। এজন্যেই তাহলে ইদানীং শান্তিতে থাকতে পারছে ধূসর? এজন্যেই রুমের আনাচে-কানাচে, প্যান্টের পকেটে চিরকুট পাওয়া যাচ্ছে না। ধূসরের মনে হলো ঘাড় থেকে পাথর নেমেছে। তাহলে ইকবালই ঠিক, দিস ওয়াজ ফ্যাসিনেশন। মেয়ে ভালোয় ভালোয় শুধরেছে,এই ঢেড়।

***

আনিস সবে কোর্ট থেকে ফিরেছেন। বাড়ি ঢুকে,সোফায় বসলেন। পানি চাইবেন বলে মুখ খোলার আগেই,গ্লাস নিয়ে হাজির হলেন মিনা। আনিস মুখ তুলে চাইলেন। মিনার ঠোঁটের মিটিমিটি হাসি দেখে বললেন,

“ ভাবি কি আজ একটু বেশি খুশি নাকি?”

মিনা বললেন,

“ তা একটু বলতে পারো ভাই।”

“ কী হয়েছে,আমাদেরো বলুন,আমরাও খুশি থাকি।”

“ তার আগে বলো,বিয়ে সাদি কি করবে না?”

আনিস কিছুটা অস্বস্তিতে পড়লেন। হাসলেন বিব্রত মুখে।

“ করব না কেন? দিলে করব।”

“ ও, তার মানে পছন্দের কেউ নেই?”

“ সময় কই ভাবি? আমি তো আরো ভাবলাম আপনারা খুঁজে আনবেন।”

মিনা শশব্যস্ত আনিসের সামনের সোফায় বসে বললেন,

“ ভাই শোনো, আমার না একটা মেয়েকে খুব মনে ধরেছে। দেখতে ভারি মিষ্টি! তোমার পাশে বেশ মানাবে।”

আনিস তাজ্জব হয়ে দুবার চোখের পাতা ফেলে বললেন,

“ কোন মেয়ে ভাবি?”

“ আরে রাস্তার ওপাড়ে যে গ্রোসারি শপ আছে না? আমি আর রুবা বিকেলে গেছিলাম। বাজার সদাই করে এগোবো,ব্যাগ ছিঁড়ে সব পড়ে গেল। জানোই তো আজকাল ওদের জালি ব্যাগগুলোর নমুনা!

তখন কী হলো জানো? ওই মেয়েটা এসে নিজে থেকে আমার সব তুলে তুলে দিলো। কত সুন্দর করে কথা বলে,হাসে। আপা আপা করছিল আমাকে। আমার কী যে ভালো লেগেছে! কথাবার্তা,চালচলনেই বোঝা যায় ভালো মেয়ে। শিক্ষিত! নামধাম শুনেছি – সুমনা। চাকরি করে একটা ফার্মে। বিয়ে থা কিছু হয়নি।”

আনিস হেসে ফেললেন। দুপাশে মাথা নেড়ে দাঁড়ালেন উঠে। ওনাকে হাসতে দেখে মিনার হাসি মুছে গেল। গুরুতর হয়ে বললেন

“ ওমা হাসছো যে? মেয়েটা সত্যিই সুন্দর। আমি লুকিয়ে একটা ছবি তুলেছিলাম। দেখবে? দাঁড়াও। আমার ফোনটা…কই রাখলাম…”

মিনা আশেপাশে খুঁজলেন চেয়ে। আনিস বললেন,

“ ভাবি, ছবি আমি দেখব না। আপনি পছন্দ করেছেন তো? ওটাই যথেষ্ট। কিন্তু সবার আগে ভাইজানের সাথে কথা বলুন। ভাইজান কী বলে সেটা শুনে নিই। ভাইজান যা বলবে তাই।”

“ আরে, বিয়ে করবে তুমি,আগে তোমার মতামত দরকার না?”

“ আপনাদের কথাই আমার কথা। আমি শুধু চাই যে মেয়ে আসবে,সে যেন আপনাদের মতো হয়। আপনাদের সাথে মিলেমিশে থাকে। ছেলেমেয়েগুলোকে আগলে রাখে সংসার আগলে রাখে। ব্যাস আর কিছু না।”

মিনা মুগ্ধ হয়ে গেলেন কথাগুলো শুনে। আনিস ওকালতির কালো কোর্টটা হাতে তুলে বললেন,

“ যাই ভাবি,একটু শোব। সারাদিন বসে বসে পিঠ ধরে গেছে।”

“ যাও ভাই, যাও। আমি বরং তোমার রাতের খাবারটা ঘরে দিয়ে আসব।”

“ না না,সবাই একসাথে খাব। আমি একটু পরেই আসছি।”

আনিস চলে গেলেন। সেই সাথে আনন্দে আপ্লুত হয়ে মিনা ছুটলেন রুবায়দার ঘরে। জবাও সেখানেই আছেন। রুবার মাথা ধরেছে। তেল মালিশ করছেন তিনি। মিনা ত্রস্ত পায়ে ওই পথ ধরলেন। তিন জা মিলে এখন ছোটো দেবরের জন্যে মেয়ে ঠিক করতে হবে,হাতে কত কাজ না?

***

রাত বাজে দুটো। পিউয়ের চোখে ঘুম নেই। পড়ছে পুরোদমে। ফিজিক্স এর অংক কষতে কষতে আঙুল যখন নেতিয়ে পড়ল,থামল তখন। ঘাড়,কোমর সব ব্যথা করছে। খিদেও পেয়েছে । রাতের খাবার খেয়েছিল কোন দশটা বাজে। বই-খাতা বন্ধ করে দাঁড়াল ও। এ বাড়িতে রুম হিটার থাকে। তাই অত বেশি ঠান্ডা পড়ে না। পিউ সোজা তিন তলা থেকে নিচে নেমে এলো। ফ্রিজে কিছু আছে কিনা দেখতে।

বাড়িতে আজ মিষ্টি আনা হয়েছে।

রাঙামাটিতে সেজো চাচ্চুর প্রমোশন হয়েছে। সেই আনন্দে আব্বু ছানার মিষ্টি এনেছিলেন। পিউ এক সাথে তিন চারটে মিষ্টি এক সাথে তুলে গপাগপ মুখে ঢুকিয়ে ফেলল।

এর মাঝেই দরজায় চাবি ঘুরিয়ে বাড়ি ঢুকল ধূসর। বসার ঘর আলোকিত দেখে অবাক হলো একটু। এত রাতে এখানে আলো থাকে না। ওকে ফ্লাশলাইট ধরে রুমে যেতে হয়। পরপর চোখ গেল ডায়নিং-এ। কেউ একজন নিজের অর্ধেক শরীর নিয়ে ফ্রিজে ঢুকে গেছে। বোঝাও যাচ্ছে না! ধূসর মাথাটা একবার নোয়াল,একবার তুলল, দেখতে চাইল ওটা কে?

ব্যর্থ হয়ে জিজ্ঞেসই করল,

“ কে?”

পিউ চকিতে মাথা বের করতে গেল,ফ্রিজের ওপরের তাকে কপাল ঠুকে গেল অমনি। ব্যথায় কপালে হাত চেপে “ আউচ” বলে শব্দ করল একটু। ফ্রিজ থেকে বেরিয়ে এলো চোর চোর চেহারায়। ওকে দেখেই ধূসরের চেহারা টানটান হয়ে গেল। আন্দাজ করেছিল একে। এরকম ফ্রিজ হাঁ করে খুলে তার ভেতর ঢুকে পড়ার মতো বেয়াক্কেল বাড়িতে কেই বা হবে?

পরপরই নাক-মুখ গুটিয়ে ফেলল ধূসর।

পিউয়ের মুখায়ব এমনিই গোল। একটা হাতের তালুর মধ্যে এঁটে যাওয়ার মতো। দুটো চোখই ওর পুরো চেহারা জুড়ে ফুটে থাকে। তার মধ্যে এক গাদা মিষ্টি মুখের মধ্যে। গাল দুটো ফুলে ঢোল হয়ে আছে। তারওপর বড়ো বড়ো চোখের পাতাগুলো টুকুস টিকুস করে কয়েকবার ফেলল পিউ।

ওইভাবেই জিভ নাড়িয়ে বলতে গেল,

“ আয়াফ্বমস্ন্রকম্রন?”

ধূসর বলল,

“ কীহ?”

পিউ চেষ্টা করল মিষ্টি দ্রুত চিবানোর। যাতে স্পষ্ট করে বলতে পারে। কিন্তু ধূসর সেই সময় দিলে তো? মূহুর্তে জিরাফের মতো লম্বাটে পা দুটো ফেলে ঘরের দিকে রওনা করল সে। দিয়ে গেল পিউয়ের প্রতি এক রাশ অনীহা!

মেয়েটার একটু মন খারাপ হলো। ধূসর ভাই ওকে দেখলে এমন ভাব করেন যেন ও বৃষ্টিতে জমে থাকা ময়লা পানি। হঠাৎ ওর চোখ পড়ল খাবার টেবিলে। মানুষটার ভাত বেড়ে,ঢেকে রাখা। মেজো মা তো মাথা ব্যথায় তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ল আজ।

পিউ অমনি ছুটে এলো। ভাত,তরকারি গরম করল ওভেনে দিয়ে।

এরপর একটা বড়ো ট্রেতে এক গ্লাস পানি, লবণ,প্লেট আর তরকারির বাটি সহ তুলে ছুটল তিন তলার দিকে।

ওই চপল পা জোড়া ব্রেক কষল দরজার সামনে। গম্ভীরমুখো ধূসরকে দেখলে আগে ভয় লাগতো ২০%। ওইদিন মারামারির পর থেকে লাগছে ৮০%।

বাকি ২০% এখনো বেঁচে আছে ওর প্রেম আর ভালোবাসার জোরে। আর সেই জোর নিয়েই পিউ ঘরে উঁকি দিলো। না,নেই মানুষটা। নিশ্চয়ই ফ্রেশ হচ্ছেন। এই সুযোগে ও খাবার রেখে যাবে। পিউ দু পা বাড়িয়ে ঘরের চৌকাঠ মাড়াল। ছিটকিনি সরিয়ে বেরিয়ে এলো ধূসর। ফ্রেশ নয়,এই শীতেও গোসল সেড়েছে। পরনে স্টোন ট্রাউজার, বাকিটা খালি গা। ব্যস,পিউয়ের পা জোড়া থমকাল অমনি। শক্ত পিলারের ন্যায় দাঁড়িয়ে গেল সে। দুইহাতের মুঠোয় ট্রে-টাকে আকড়ে ধরল আরেকটু। ধূসর ভালো করে গা মোছেনি। মাথার চুল মুছতে মুছতেই বেখেয়ালি চোখ ঘুরিয়ে সামনে ফিরে চাইল। স্তম্ভের মতো দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটাকে দেখে অমনি কুঁচকে এলো চোখ।

কিন্তু পিউয়ের নজর তখন অন্য কোথাও। ধূসরকে এই প্রথম খালি গায়ে দেখল ও। শ্যামলা শরীরে পানি চিকচিক করছে। গলা থেকে চুইয়ে চুইয়ে নেমে ছুঁয়ে দিচ্ছে তার মেদহীন পেট, নাভি। কেমন খাঁজ কাঁটা মাংসল বুক। ওটাকেই তো সিক্সপ্যাক বলে! বুকে একটা লোমও নেই। পিউয়ের মনে হলো ওর মাথা চক্কর দিচ্ছে। হাতের আঙুল কাঁপছে। ফ্যাসফ্যাস করে বেড়ে আসছে শ্বাস।

ধূসর আশ্চর্য হলো, পিউয়ের হাত কাঁপুনি দেখে। ট্রের ওপর দাঁড় করানো প্লেট-বাটি সব ঠকঠক করছে। পানিসহ নড়ছে গ্লাসটা।

যেন এক্ষুনি পড়ে যাবে। পড়েই যেতো। খুব দ্রুত এগিয়ে এসেই কাত হওয়া গ্লাস ধরে ফেলল ধূসর । এক ঝটকায় দাঁড় করাল সেটাকে। পিউয়ের সম্বিত ফেরার বদলে খেই হারাল আরো। এত কাছে এসে দাঁড়াল মানুষটা। দুই ঠোঁট হাঁ করে চেয়ে রইল ও। ধূসর ভাই কি মানুষ? খালি গায়ে তো অর্ধেক প্যাকেট ছাড়ানো ডেইরিমিল্ক লাগছে।

ধূসর স্বভাবে ভীষণ শক্তপোক্ত ছেলে। খুব সহজে বিব্রত হয় না। তবে আজ দু ফুট সাইজের এক মেয়ের চাউনি দেখে,অস্বস্তিতে পড়ে গেল। চটজলদি বিছানার ওপর থেকে টিশার্টটা তুলে গায়ে পরল ও। এতক্ষণে পিউ

চোখ সরায়। মাথা নুইয়ে ট্রে রাখে টেবিলে।

ছোট স্বরে জানায়,

“ আপনার খাবার।”

“ কে আনতে বলেছে?”

“ কেউ বলেনি তো। আমিই নিয়ে নিলাম।”

“ তুই কি আমার গার্ডিয়ান?”

“ তা কেন হব? আপনি খাননি ভেবে এনেছি।”

ধূসর আর কিছু বলল না।

পিউ যেতে নিয়েও থামল। মিনমিনিয়ে বলল,

“ ধূসর ভাই, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?

“ না।”

পিউ তাও বলল,

“ আপনি বুঝি জিম করেন?”

ধূসর চোখ ছোটো করে ফিরল।

“ কেন?”

পিউ কানের পাশে চুল গুজতে গুজতে মাথা নুইয়ে বলল,

“ জিম করলেই তো এরকম বডি হয় তাই না?”

ধূসর কেশে উঠল। দু একটা খুকখুক কাশি। পিউ ব্যস্ত হয়ে শুধাল,

“ পানি খাবেন?”

ধূসর নিজেকে সামলায়। চোখ বুজে আবার খোলে। নিম্নভার স্বরটা আরো শূন্যে নিয়ে বলে,

“ তুই কখনো মার খেয়েছিস?

পিউ ইঙ্গিত বুঝল। জোরে জোরে মাথা নাড়ল তিন বার। হড়বড় করে বলল,

“ আ-আমি যাচ্ছি!”

নরম পায়ের বেগ বাড়িয়ে ঘর ছাড়লেও ওইপাড়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে গেল পিউ। প্রথমে ভেংচি কাটল। মুখ ভ্যাঁঙিয়ে বলল – তুই কখনো মার খেয়েছিস?

তারপরপরই পিউয়ের সুশ্রী মুখ লালচে দেখায়। লজ্জা লজ্জা ভাব করে ঠোঁট টিপে রাখে। কেমন বুক ছুঁইয়ে পানি পরছিল। ও দেওয়ালে পিঠ রেখে ভাবল,

“ হায়.…ধূসর ভাই জামা পরলেও সুন্দর,কিছু না পরলেও সুন্দর।”

নিজের কথায় পিউ নিজেই থতমত খেয়ে জিভ কাটল। দুপাশে মাথা ঝাঁকিয়ে গালে চড় মেরে বলল,

“ আমি, আমি খালি গায়ে বুঝিয়েছি। খালি গায়ে বুঝিয়েছি!”

পিউ আবার ঘুরে চায়। টেনে রাখা পর্দা দুই আঙুল দিয়ে একটু ফাঁকা করে চোখ রাখে ভেতরে। ধূসর খাবার প্লেট নিয়ে বসেছে। চামচ দিয়ে ভাত নাড়ার পুরোটা সময় মুগ্ধ নয়ন মেলে চেয়ে রইল মেয়েটা।

ধূসরের গালের এক পাশের চিবুক যতটা আকর্ষণীয়, অতটা ধারালো আকর্ষণ পিউয়ের কাছে জগতে আর কিছু নেই। যেন ধবধবে ক্যানভাসে আঁকা কোনো শিল্পকর্ম!

হে পৃথিবী, তুমি ফরসাদের সুন্দর বলে আখ্যা দাও? তাহলে দেখো,শ্যামলা ধূসর ভাইকে দেখো! বুঝতে পারবে তুমি ভুল,বড়ো ভুল। ধূসর ভাই যে রাজপুত্র, পিউয়ের স্বপ্নের নায়ক।

ওর হৃদয়ের গভীরে বয়ঃসন্ধির জেগে ওঠা তুখোর প্রেমের প্রখর ছোঁয়া। আর সেই কম্পন,এই বিমোহ বাইরে এলো গান হয়ে। গলা ছেড়ে বলল,

“ এই হৃদয়ে তোমায় নিয়ে

কতই আশা জাগে,

যতই দেখি ততই যেন

আরো ভালো লাগে!

আমি জনম জনম চোখের পাতায়

ছবি এঁকেছি।

চোখ মেলে যারে পেয়েছি,

তারেই ভালোবেসেছি,

স্বপ্নের নায়ক সেই তুমি,

স্বপ্নের নায়ক সেই তুমি….”

ধূসরের ষষ্ঠ-ইলন্দ্রিয় টের পেলো পর্দা নড়ছে। কেউ একজন এক দৃষ্টিতে দেখছে ওকে। তাও ও পিঠ ফিরিয়ে চাইল না। বসে রইল অমন। কেবল মেঘের মতো স্বর ছেড়ে বলল,

“ আমি কিন্তু যেতে বলেছি!”

ছলকে উঠল পিউ। ধরা পড়ে জিভ পড়ল দাঁতে। তারপর ঝোড়ো হাওয়ার মতো এক ছুটে পালিয়ে গেলেও,সেই তোড়ে বাম পায়ের রূপার পায়েলটা খসে পড়ল মেঝেতে।

চলবে…

Share On:

TAGS:



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply