Golpo romantic golpo আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন

আলতো ছোঁয়ায় সমুদ্রকথন পর্ব ৪(খ)


#আলতোছোঁয়ায়_সমুদ্রকথন_(৪.খ)
#নুসরাত_সুলতানা_সেঁজুতি
পিউয়ের বাড়ি ফিরতে ফিরতে বিকেল হয়ে যায়। এস-এস-সির জন্য মূল ক্লাসের পরেও বাড়তি কোচিং থাকে। রোদে তেতে-পুড়ে বাড়ি এসে কোনোরকমে খেয়েই একটা লম্বা ঘুম দেয় ও। মাঝেমধ্যে ক্লান্তিতে খেতেও চায় না। তখন হয় সেজো মা, নয়তো মেজো মা আহ্লাদ করে মুখে তুলে খাওয়ান।
কিন্তু আজ পিউয়ের ওসব ঘুম-টুম কোথাও যেন উধাও হয়ে গেল। খুব ফুরফুরে মনে ফ্রেশ হলো, খেল, তারপর ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলো দুরন্ত কদমে। এর একটা বিশেষ কারণ, ধূসর ভাই!
ছুটির পরে ফোন হাতে নিয়ে পিউ দেখেছে, মানুষটা ফেসবুকে ওর রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করেছেন। এর মানে ওদিক থেকে গ্রিন সিগন্যালের সম্ভাবনা জোরালো। হবেই তো! পিউ কি দেখতে খারাপ নাকি? সবাই বলে, ও ঠিক বার্বি ডলের মতো সুন্দর। চোখ দুটো খুব বড়ো, চিকন গোলাপি ঠোঁট, নিচের ঠোঁটের ওপরেইই ছোট্ট একটা তিল, আর সঙ্গে আদুরে নাক— সবকিছুরই তো প্রশংসা করে সবাই। তাহলে ধূসর ভাই পছন্দ করবেন না কেন?
শিকদার বাড়ি একটা তিনতলা ভবন নিয়ে তৈরি। পুরো দেওয়াল ধবধবে সাদা রঙের। সামনে বিশাল উঠোন। মোট চার বিঘা জমির ওপর বানানো এই বাড়ি। একদম পূর্ব দিকে বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান, যেখানে এ বাড়ির সকল পূর্বপুরুষ শায়িত। বাড়ির সামনে গোল চত্বরের মতো বড়ো উঠোন, আর উঠোনের কোল ঘেঁষে বানানো বিশাল লোহার গেট।
ভেতরে বসার ঘর, খাবার ঘর, রান্নাঘর আর দুপাশে দুটো অতিথিকক্ষ নিচতলায়। দোতলায় বাড়ির চার কর্তার জন্য চারটি রুম বানানো। যদিও ছোটো কর্তা আনিস এখনো অবিবাহিত। পেশায় তিনি নামিদামি উকিল। সেজো কর্তা আজমল রাঙামাটিতে পোস্টেড। পেশায় তিনি ফরেস্ট অফিসার। আর আফতাব, আমজাদ— দুই ভাই পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট, গুলশান-বনানী আর বসুন্ধরা এলাকায় প্রপার্টি ইনভেস্টমেন্ট ও ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের কাজ খুব দক্ষ হাতে সামলান তাঁরা।
এ ছাড়া তিনতলায় পাঁচটা রুম। সেখানে এ বাড়ির ছেলেমেয়েরা থাকে। শুধু রাদিফের নামে ঘর থাকলেও, বাবার অনুপস্থিতিতে সে মায়ের সঙ্গেই ঘুমায়। তবে এতদিন ধূসরের জন্য বরাদ্দ ঘরটা বন্ধই ছিল। মেজো মা প্রতিদিন ঘর গুছাতেন, চাদর-পর্দা সপ্তাহে সপ্তাহে পাল্টাতেন, আবার ছিটকিনি এঁটে রাখতেন।
পিউ উঁকি দিয়ে দেখল, রুবায়দা আজও সেখানে। কাউচের ওপর ধূসরের একগাদা শার্ট-প্যান্ট রাখা। কাচতে দেওয়া হয়েছিল, মাত্রই ছাদ থেকে তুলে এনেছে পারভীন (গৃহকর্মী) । বসে বসে সেগুলো ভাঁজ করছিলেন তিনি।
পিউ চপল পায়ে ভেতরে এসে ডাকল,
“মেজো মা!”
“ পিউ! ঘুমাসনি আজ?”
“ঘুম আসছে না। কী করছো?”
“এই তো, একটু ঘরটা গুছিয়ে দিচ্ছি।”
“হেল্প করব আমি?”
“পারবি?”
পিউ অমনি ছুটে এসে মেঝেতে দুপা গুটিয়ে বসল। ধূসরের শার্টের সংখ্যা এখানে অনেক। সব একরঙা! কোনো ডিজাইন নেই, প্রিন্ট নেই, চেক নেই। হয় গাঢ় নীল, হালকা নীল, কালো, নয়তো ছাইরঙে ভরতি। ব্যাপারটায় পিউ ঠোঁট উলটে ফেলল। মানছে, এসব পরলে মানুষটাকে দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু এগুলো কোনো রং হলো?সব ফ্যাকাশে! ধূসর ভাই পরবেন মেরুন রং- পিউয়ের সবচেয়ে পছন্দের রং। তাহলেই না তাকে দেখতে একদম ওর স্বপ্নের সেই রাজপুত্রের মতো লাগবে!
মেয়েটা বসে বসেই ওই রূপ কল্পনায় এনে ফেলল। একটা মেরুন সিল্কের শার্ট, যার তিনটে খোলা বোতাম দিয়ে শ্যামলা বুক উঁকি দেবে। হাতা থাকবে কনুই অবধি। সেখান থেকে সদর্পে চেয়ে থাকবে কব্জির কালো বেল্টের ঘড়ি। চোখে কালো সানগ্লাস, সঙ্গে কালো প্যান্ট, এই চমৎকার কম্বিনেশন ফুটিয়ে ধূসর ভাই যখন সামনে এসে দাঁড়াবেন, মুগ্ধতায় পিউ পাগল হয়ে যাবে না?
“কী রে, কী ভাবছিস?”
নড়ে উঠল পিউ। হাত চালাতে চালাতে বলল,
“না, না, কিছু না!”
রুবায়দা আপ্লুত গলায় বললেন,
“আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না, আমার ছেলে ফিরেছে। দুচোখ ভরে ওকে দেখলাম, ছুঁলাম, মাথায় চুমু দিলাম, তাও বিশ্বাস হচ্ছে না! সেই রোগাপাতলা ছেলেটাকে বিদায় দিয়েছিলাম, আর আজ কত বড়ো হয়ে ফিরেছে! দিন যে কীভাবে যায়!”
পিউয়ের কানে কথাগুলো ঠিকমতো ঢুকল না। বরং টের পেল, ধূসরের ধোয়া শার্ট থেকেও পারফিউমের সূক্ষ্ম ঘ্রাণ আসছে। মেজো মায়ের চোখ এড়িয়ে একটা শার্ট নাকের কাছে ধরল ও। বেলি ফুলের কড়া গন্ধে চোখ দুটো বুজে এলো অমনি। ইস! এমন নেশা নেশা গন্ধ কেন?
হঠাৎ নিচতলা থেকে মিনা হাঁক ছাড়লেন,
“মেজো, ও মেজো! দেখে যা, আফতাবের কাণ্ড দেখে যা!”
“বাজারে পাঠিয়েছিলাম, আবার কী করল?”
বিড়বিড় করতে করতে উঠে দাঁড়ালেন রুবায়দা। যেতে যেতে বললেন,
“পিউ, তুই না পারলে রেখে দে। আমি আসছি।”
পিউ বলল,
“আসতে হবে না মেজো মা, আমি পারব।”
রুবায়দা ওটুকু না শুনেই দ্রুত নেমে গেলেন।
পিউ বসে বসে সব কাপড় ভাঁজ করল। যত্ন করে কাবার্ডে তুলে রাখল। বিছানার চাদর টানটান করে গুঁজে বালিশ-কম্বল সুন্দর করে সাজিয়ে রাখল। জানালা আর বারান্দার দরজাও আটকে দিল সন্ধ্যে নামছে বলে।
তারপর চেয়ে চেয়ে দেখল, চার দেওয়ালে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে টাঙানো ধূসরের ছবিগুলোকে। কোথাও ধূসরের হাতে “বেস্ট স্টুডেন্ট অফ দ্য কলেজ” অ্যাওয়ার্ড, কোথাও ডিবেটের মেডেল, কোথাও মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে তার কথা বলার ছবি। আবার একটা ক্যানভাসে ধূসরের নিজের হাতে আঁকা এই শিকদার বাড়ির ।
পিউ আগেও এসব দেখেছে। কিন্তু তখন ওর বুকের ভেতর এমন দুরুদুরু করেনি। এত মুগ্ধতা আসেনি। স্কুল-কলেজের ধূসর ভাইকে দেখে এমন অবাধ্যের মতো ছলকায়নি হৃদয়। যা আজ হচ্ছে! বারবার, হাজারবার পিউ টের পাচ্ছে- লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট আসলে কী,কেমন,কীরকম!
পিউ ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
ধরে ধরে দেখল ধূসরের ঘড়ির স্ট্যান্ড। সব ঘড়িরই একই ডিজাইন, শুধু বেল্টের রং আলাদা। হেয়ারব্রাশ, হেয়ার জেল, পোমেড, ট্রিমার, সানগ্লাসের ট্রে এমনকি পারফিউমও আপ্লুত হয়ে নেড়েচেড়ে দেখল মেয়েটা। ঢাকনা খুলে দুবার স্প্রে করল গলায়। এত সুন্দর গন্ধ মাগো! তারপর আয়না থেকে চোখ পড়ল ওর পড়ার টেবিলে। শেলফ ভরতি বই। অ্যাপলাইড ম্যাথম্যাটিকসের মোটা মোটা পুস্তক। লোকটা ম্যাথম্যাটিকস নিয়ে পড়তো ও জানে। সাথে আবার দেশ-বিদেশের সাধারণ জ্ঞানের বই দিয়ে ভরা। বাবাহ! লোকটা এত পড়ে? অথচ পিউয়ের তো পড়তেই ভালো লাগে না।
ধূসরের নোটবুকও খুলে দেখল সে। প্যাঁচানো হাতের লেখা! আচমকা মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি এলো। পিউ সাদা পাতা বের করে বাঁ হাত দিয়ে লিখল,
“এই যে মেঘের রাজপুত্র,
বেশি হ্যান্ডসাম হবেন না,
নজর লাগবে।”
তারপর সেটার ওপর ভার হিসেবে একটা পেপারওয়েট রেখে,বেরিয়ে এলো আস্তেধীরে।


আফতাব বড়ো বড়ো ইলিশ কিনে এনেছেন। কিন্তু অর্ধেক মাছই পচা! বরফ ছাড়তেই যেন গলে পড়ছে। এ নিয়ে রুবায়দা বকছেন। মিনা বললেন,
“আহা, হয়েছে তো, থাক না!”
“না, কেন থাকবে? এই পচা মাছ দিয়ে আমি এখন কী করব? কীভাবে পাতে দেবো সবার? এত বয়স হলো, এখনো মাছ চেনে না!”
আফতাব মুখ ভার করে রইলেন।
পিউ এসেই বলল,
“তোমরা মেজো চাচ্চুকে বকছো কেন? মাছ পচা হলে মাছের দোষ, চাচ্চু কী করবে?”
আফতাব বললেন,
“সেই তো! এজন্যই আমি বাজারে যেতে চাই না। যাই কিনি, কিছুই পছন্দ হয় না। ভালো লাগে না আর!”
ভদ্রলোক গজগজ করতে করতে ওপরে চলে গেলেন।
পিউ বলল,
“আম্মু, আজ কে কি ইলিশ ভাজা করবে?”
“না, সর্ষে ইলিশ করব।”
পিউ নাক সিটকে বলল,
“ইই! ওসব অখাদ্য কে খায়?”
মিনা চোখ পাকিয়ে বললেন,
“অখাদ্য কী? খাবার নিয়ে কেউ এভাবে বলে? আর তোর জন্য তো বানাচ্ছি না। ধূসরের খুব পছন্দ, ওর জন্য রাঁধব।”
পিউয়ের কুঁচকে থাকা মুখটা অমনি টানটান হয়ে গেল। এই রে! ধূসর ভাইয়ের পছন্দ?
মুহূর্তেই সুর বদলে বলল,
“কী রাঁধবে বললে যেন?”
“সর্ষে ইলিশ।”
“ওহহ! আমি শুনলাম শস্যে ইলিশ। সর্ষে ইলিশ তো আমারও খুব পছন্দ আম্মু! খাব, আমিও খাব।”
“ওমা! কবে থেকে?”
“অনেক দিন থেকে। বলেছিলাম তো,তুমি শোনোনি মনে হয়।”
মিনা ভ্রু কুঁচকে বিড়বিড় করলেন,
“ আমাকে আবার কবে বলল?”
রুবায়দা বললেন,
“ তা চাচার পক্ষের উকিল সাহেবা, আপনি যে কাজ নিলেন, তা পেরেছেন তো? নাকি আমি যাব?”
“সব গুছিয়েছি মেজো মা। এত চিন্তা কেন? আমি কি ছোটো আছি এখনো?”
জবা ওপর থেকে নামছিলেন। কথাটা শুনে বললেন,
“বাহ! পিউ তাহলে বড়ো হয়ে গেল! এখন তবে বিয়ে দেওয়া যাবে, কী বলো আপা?”
রুবায়দা তাল মেলালেন,
“তাই তো দেখছি। দেব নাকি পিউ?”
পিউ লজ্জা পেল। কানের পাশে চুল গুঁজতে গুঁজতে বিড়বিড় করল,
“দাও না মেজো মা, আমাকে জোর করে ধরে তোমার ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দাও।”


তখন প্রায় রাত সাড়ে বারোটা বাজে।
বাড়ির কর্তা থেকে গিন্নি, সবাই বসে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে যে যার ঘরে চলে গেছেন।
ধূসর ফিরল এই সময়ে। পুরো বাড়িতে তখন ডিমলাইটের আলো ছাড়া আর কিছু নেই। ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে নিজের রুমের দিকে এগোল ও। ঘর গোছানো। তবে আজকের গোছানোর ধরণ আলাদা মনে হচ্ছে। বালিশ একটার ওপর একটা রাখা। মা তো এভাবে রাখেন না। বড়ো মাও না। কে এসেছিল রুমে? ধূসরের মাথায় চট করে পিউয়ের নাম এলো। কেন এলো, জানে না। পরক্ষণেই মনে হলো- না, এত চমৎকার করে ঘর গোছানো অতটুকু মেয়ের কাজ নয়। হয়তো সেজো মা গুছিয়েছেন। ও ড্রেসিং টেবিলের কাছে এলো। হাতঘড়ি খুলতে খুলতে খেয়াল করল, পারফিউমটা একটু বেঁকে আছে। ধূসর এভাবে রেখে যায়নি। তারপর নজর পড়ল টেবিলে। খোলা খাতার একটা পৃষ্ঠা ফ্যানের বাতাসে উড়ছে। কাছে যেতেই চোখে পড়ল খাতায় থাকা গোটা গোটা আঁকাবাঁকা লেখা।
ধূসর এবার নিশ্চিত হয়ে গেল। লেখাটা পড়তেই মেজাজ খিঁচড়ে গেল অমনি। এক টানে পৃষ্ঠা ছিঁড়ে তড়বড় করে বেরিয়ে এলো বাইরে।
পিউয়ের ঘর দক্ষিণে। ভেতরে আলো জ্বলছে। ধূসর বাইরে দাঁড়িয়ে গম্ভীর কণ্ঠে ডাকল,
“পিউ!”
মেয়েটা তখন পড়ার টেবিলে। সামনে বই খোলা, অথচ হাতে ফোন। ইনস্টাগ্রামে ধূসরের প্রোফাইল দেখছিল। নিউইয়র্কের একটা ছবি,তার বাস্কেটবল খেলার মুহূর্ত। পরনে স্পোর্টস ইউনিফর্ম, ঘামে ভেজা মুখ, এলোমেলো চুল, হাতে বল। ইস! কত কিউট!
ঠিক তখনই সেই ভারী ডাকটা ছুটে এলো কানে। বুকের কাঁপুনির সঙ্গে তাল মেলাতে হাত থেকে ফোনটা খসে পড়ছিল প্রায়। সব ফেলে দৌড়ে বেরিয়ে এলো পিউ। পরনের স্কার্ট পায়ে জড়ানোর উপক্রম হলেও, কদম থামানো গেল না। উড়ন্ত পাখির মতো এসে দাঁড়াল ধূসরের সামনে। ধূসরের চোখেমুখে বিরক্তি। সেই বিরক্তি বাড়ল বিড়ালছানার মতো মেয়েটাকে দেখে। পরনে ক্রপ হাতা শার্ট-টপ, নিচে কালো স্কার্ট। চুল পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে ওপরে আটকানো। এত ছোটো, ছোটোর মতো থাকে না কেন?
অন্যদিকে পিউয়ের চেহারায় উথলে পড়া আনন্দ। ছটফটিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“ডেকেছেন আমায়?”
ধূসর হাতের কাগজটা উঁচু করে বলল,
“এটা কী?”
পিউ বড়ো নিষ্পাপ চোখে বলল,
“কাগজ। কেন? ম্যাজিক করলে কী কবুতর দেখব?”
ধূসর দাঁত চেপে বলল,
“কষে একটা চড় মারলে সর্ষেফুলও দেখবি।”
পিউ ঠোঁট উলটে বলল,
“এভাবে বলছেন কেন? কী করেছি আমি?”
“এসব কে লিখেছে?”
পিউ লেখার দিকে চোখ বোলায়। অবুঝের ভান করে বলে,
“আমি কী করে জানব? আমার হাতের লেখা তো এত বাজে নয়!”
ধূসর সরু চোখে বলল,
“ তুই লিখিসনি?”
“উহু! আমি তো আপনার ঘরের সামনে দিয়েও যাইনি আজ।”
ধূসর তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে রইল তাও। পিউ ভেতরে ভেতরে মিইয়ে গেলেও বাইরে অটল থাকার চেষ্টা করল খুব। এ যা রেগে গেছে! এখন কিছুতেই ধরা দেওয়া যাবে না।
আচমকা ওর পাশ কাটিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে গেল ধূসর। পিউ জিভ কাটল অমনি।
খোদা! এ কী করতে চাইছে! হুড়মুড়িয়ে পিছু নিয়ে বলল,
“ আমি লিখিনি তো!”
ধূসর পড়ার টেবিলের শেলফ থেকে পিউয়ের খাতা টেনে নামাল। ছেঁড়া কাগজটা পাশে রেখে পৃষ্ঠা উলটে উলটে মিলিয়ে দেখল হাতের লেখা। না, মিল নেই। ওর চোখমুখ দেখে ঠোঁট চেপে হাসল পিউ। গর্বে বুক ফুলিয়ে ভাবল,
“হুহ! ধূসর ভাই, পিউ দেখতে ছোটো হলেও ওর বুদ্ধি অনেক বড়ো! এই চালাকি ধরার মতো বয়স আপনার এখনো হয়নি। ওই লেখা বাঁ হাতে লিখেছি। আপনি কেন, কেউ মিলাতে পারবে না!”
তারপর আগ বাড়িয়ে বলল,
“দেখলেন তো? মিল নেই। বললাম না, আমি রাখিনি!”
ধূসর সোজা হয়ে দাঁড়াল। কয়েক সেকেন্ড ঠান্ডা চোখে চেয়ে রইল ওর মুখের দিকে। আচমকা চেয়ারটা ঘুরিয়ে দিয়ে,
ভ্রু নাচিয়ে বলল,
“বোস।”
পিউ বিভ্রান্ত হয়ে বলল,
“হ্যাঁ?”
“বোস।”
কণ্ঠটা আরও শক্ত হলো এবার। দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিয়ে চেয়ারে বসল পিউ।
ধূসর কাগজটা সামনে রেখে বলল,
“ এবার ঠিক এই লাইনটা বাঁ হাত দিয়ে লেখ।”
চলবে…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply