আমার_আলাদিন
জাবিন_ফোরকান
পর্বসংখ্যা১৩
সময়টা বিকালবেলা। নার্সারি গ্লাইডারে হেলান দিয়ে বসে ইযানকে ফিডার দিয়ে দুধ খাওয়াচ্ছে ইরাম। ফর্মুলা মিল্ক নয়। ব্রেস্ট পাম্প ব্যবহার করে সে পাম্প করে সংরক্ষণে রেখেছিল। সেটাই খাওয়াচ্ছে। এখন একটু সুবিধা অনুভব করছে সে। অতিরিক্ত চাপে বুকে আর তেমন একটা ব্যথা হয়না যেটা আগে হতো। ঢুলুঢুলু চোখে ইরামের বুকে শুয়ে ফিডার চুষছে ইযান। চুকচুক করে একটা শব্দ হচ্ছে তাতে। এই শব্দটা ইরামের ভীষণ প্রিয়। মুচকি হেসে ছেলের পিঠে আলতোভাবে হাত বোলাতে বোলাতে নার্সারি গ্লাইডারে দুলছে সে। এই আসবাবটাও ভীষণ কাজের এবং আরামদায়ক। দেখতে পুরোদস্তুর রাজকীয় ভেলভেট সোফার মতন, অথচ বসলে আরামকেদারার ন্যায় দোল খায়। বাচ্চারা এতে আরাম পায়, খুব সহজেই শান্ত হয়ে পড়ে। মায়েরও ভীষণ সুবিধা। যেখানে সেখানে যেমন তেমনভাবে ব্রেস্টফিডিং করার ঝক্কি পোহাতে হয়না। এজন্য এটাকে ফিডিং চেয়ারও বলা হয়। এমন বস্তুও আজকাল আবিষ্কার হয়েছে ভেবে ইরাম বেশ অবাক হয়।
ইযানের সাথে সাথে তার চোখজোড়াও বুঁজে এসেছিল প্রায়। এমন সময় রুমের ভেতরে এলো সাইবান। আজ সারাটা সকাল সে বাইরেই ছিল। আর কিছুদিন বাদেই তার বড় একটা শো আছে। সেটার জন্যই প্র্যাকটিস ছিল। সঙ্গে টুকিটাকি কাজও সেরে এসেছে। রুমে ঢুকেই ইরামের ইযানকে খাওয়ানোর দৃশ্যটা তার তীক্ষ্ণ চোখজোড়াকে খানিক নরম করে তুলল। খানিকটা গভীর দৃষ্টিতেই দেখল সে, প্রাণভরে। তারপরে নিজে থেকেই বিব্রত অনুভব করে গলা খাঁকারি দিল। শব্দ কানে যেতেই ইরাম চোখ খুলে ফেলে সামনে তাকাল।
“আলাদিন।”
আস্তে করে উচ্চারণ করল সে। তারপর বুকের উপর থেকে অতি সাবধানে ইযানকে তুলে ধরল। বেচারা ততক্ষণে ঘুমিয়ে কাদা। ফিডার রেখে ছেলেকে নিয়ে বিছানার মাঝখানে শুইয়ে দিল ইরাম। পাতলা কম্বল দিয়ে ঢেকে দিল ছোট্ট শরীরখানি। মুখের দুইপাশে দুহাত মুঠো পাকিয়ে গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে রইল ইযান।
“গোসল করে নাও। আমি সুগন্ধাকে খাবার দিতে বলছি।”
ইরাম বলে উঠতেই সাইবান মাথা নাড়ল,
“না। আমি খেয়ে এসেছি বাইরে থেকে।”
নিজের শরীর থেকে সাবধানে জ্যাকেট খুলে নিয়ে বিনা শব্দে হেঁটে গিয়ে ক্লোজেটে ঝুলিয়ে রাখল সে। তারপর গলা নামিয়ে নরম সুরে বলল,
“আপনার আজকে রাতে কোনো কাজ আছে?”
ফিডার আর পাম্প গুছিয়ে রাখতে রাখতে ইরাম জানাল,
“না। কেন হঠাৎ?”
“আমার সাথে একটু বেরোবেন তাহলে। পোটলাকে রেখে যেতে হবে, ঘুম পাড়িয়ে যাবেন। চিন্তা নেই, সিস আর জরিনার আম্মা সকিনাটা দেখে রাখবে।”
ইরাম ভ্রু কুঁচকে ফেলল।
“কি এমন কাজে যেতে হবে?”
“আমার বন্ধু বান্ধবদের সাথে আপনাকে পরিচয় করাবো। ওরা বায়না ধরে বসেছে।”
“বন্ধু? অনুরাগ, আফনান ওরা? কিন্তু ওরা তো আমাকে দেখেছে।”
ক্লোজেটের দরজা আটকে ঘুরে দাঁড়াল সাইবান। বুকে দুবাহু বেঁধে জানাল,
“অনুরাগরা আমার ক্লোজ ফ্রেন্ড। ওরা বাদেও কিছু চেনাজানা মানুষ আছে। কলিগ বলতে পারেন। যাদের সাথে আমি চলাচল করি, কাজ করি। আজ সন্ধ্যায় ওদের ছোটখাট একটা পার্টি দেব ভাবছি। আমাদের তো কোনো রিসেপশন হয়নি, এটাকে তেমন কিছু ধরে নিন।”
ইরামের মনের ভেতর কেমন যেন খচখচ করল। এই বিয়েটা অস্থায়ীভাবে শুরু হয়েছে। যদিও শুধুমাত্র সে এবং সাইবানই সেই কথা জানে। তবে এভাবে তাকে ছেলেটার নিজের সার্কেলের সাথে পরিচয় করানোর কি দরকার? যত রাখঢাক করা যায়, আড়ালে আবডালে থাকা যায় ততই মঙ্গল, তাইনা? তাহলে? কিন্তু ইরাম প্রশ্নটা করতে পারলনা। সাইবানের কিছু অতীত আচরণ তাকে বিস্মিত করেছে। ছেলেটার বৈশিষ্ট্য বুঝতে পারলেও তার মন বুঝতে বেগ পোহাচ্ছে ইরাম। তাই সে আর দ্বিমত করলনা।
“ঠিক আছে। আমি ইযানকে খাইয়ে, ঘুম পাড়িয়ে রেখে যাব। তবে বেশি দেরি করা যাবেনা। তুমি থাকলে থেকে যেও, আমি চলে আসব।”
“ওকে।”
একটু থেমে সাইবান হঠাৎ এগিয়ে এলো। বাইরে থেকে আসার সময় কাঁধে একটা ব্যাগ ছিল তার, সেটা কাউচের উপর রেখেছে। ব্যাগটা খুলে একটা শক্ত কার্ডবোর্ডের দারুণ বক্স বের করল সে। মখমলের মতন ডিজাইন চারপাশে। বক্সটা নিয়ে সে ইরামের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। এগিয়ে দিল। কৌতূহলী হয়ে ইরাম বক্সটা হাতে নিল,
“এটা কি?”
“আজ রাতে পড়বেন।”
এটুকুই। কোনো ব্যাখ্যা নেই। সাইবান তোয়ালে তুলে নিয়ে হেলেদুলে নিজের জাকুযির ভেতর চলে গেল। এখন দুই ঘণ্টার আগে ছেলেটার দেখা পাওয়া যাবেনা। কি যে করে ওটার ভেতরে কে জানে! অবশ্য একবার ঢুকলে ইরামেরও বের হতে মন চাইবেনা জানে সে। বক্সটা নিয়ে সে নার্সারি গ্লাইডারে বসল। উপরের ঢাকনাটা খুলতেই ভেতরের দৃশ্য তার চোখজোড়া প্রসারিত করে ফেলল। একটি গোলাপি রঙের জামদানি শাড়ি, সঙ্গে স্বর্ণালী বর্ণের কারুকার্য করা একটি নেকলেস। আসল সোনা নাকি বুঝতে পারলনা ইরাম। শাড়িটাও তার ব্যবহার করা সাধারণ সুতির শাড়ি নয়। চোখ পিটপিট করল রমণী। আনমনে জিনিসগুলো ছুঁয়ে দিয়ে মুখ তুলে জাকুযির বন্ধ দরজার দিকে তাকাল। হঠাৎ এসব? এখন যখন ভাবছে, তখন ইরামের মনে পড়ল বিয়েতে সকলের থেকেই মোটামুটি উপহার পাওয়া হয়েছে তার। এমনকি সারিকা এবং মিসিরের পক্ষ থেকে একজোড়া স্বর্ণের দুল এবং ইযানের জন্য প্লাটিনামের একটা চেইন পেয়েছে সে। কিন্তু সাইবানের তরফ থেকে কিছু আসেনি। সে চায়ও নি। উপহার চাইবার মত কিংবা প্রত্যাশা রাখার মতন করে তো বিয়েটা হয়নি।
এটাই ইরামের স্বামীর দেয়া প্রথম উপহার।
বাক্যটা নিজে থেকেই হৃদয়ে ধ্বনিত হলো। ইরাম বলতে পারবেনা কেমন যেন অনুভূত হলো বুকের ভেতর। এমন নয় যে সে অরণ্যর কাছ থেকে কোনোদিন কোনো উপহার পায়নি। বরং পেয়েছে, এর চাইতেও দামী কিছু। অরণ্য তাকে বিয়ের উপলক্ষ্য বাদে প্রথমবার ভীষণ দামী এক উপহার দিয়েছিল। রুবির লকেট। টকটকে লাল, ইরামের উজ্জ্বল শ্যামলা ত্বকের সঙ্গে দারুণ মানাত যখন সে গলায় পড়ত। কিন্তু সেই উপহারের অনুভূতি একেবারেই আলাদা। কারণ:
সেই রুবির লকেটটা ইরাম পেয়েছিল অরণ্য তার গায়ে প্রথমবার হাত তোলার পর।
─────────────────────────────
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা।
সিঁড়ির গোড়ায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ফোন ঘাঁটছে সাইবান। পুরোপুরি প্রস্তুত সে। অনুরাগ ইতোমধ্যেই মেসেজ দিয়ে রেখেছে তারা কোথায় আছে জানতে চেয়ে। সাইবান গলা উঁচিয়ে ডাকল,
“কই? আপনার হলো?”
“এইযে। আসছিইইই!”
দুই তলা থেকে ইরামের জবাব ভেসে এলো। তীর্যক হাসল সাইবান। নারী জাতি এক কিসিমের। হোক সে কোনো সাধারণ তরুণী কি ইরামের মত বোঝদার নারী। স্বামীকে অপেক্ষা তাদের করাতেই হবে।
“ভি আই পি এন্ট্রি নেবে এরপর।”
আনমনে বিড়বিড় করল সাইবান। ঠিক তখনি তার কানে ঠকঠক আওয়াজ এলো। ফোন হাতেই সামান্য মাথা কাত করে পিছনে তাকাল সে। ওইখানেই বুঝি তার গোটা জগৎ থেকে গেল তৎক্ষণাৎ।
সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসছে ইরাম। তার দেয়া গোলাপি জামদানি শাড়িটা অঙ্গে জড়ানো। লম্বা চুলগুলো মাঝখানে সিঁথি করে কাঁধের দুপাশে ছেড়ে রেখেছে। হাতে একটা হ্যান্ডব্যাগ, পায়ে দুই ইঞ্চির হিলের জুতা। গলায় স্বর্ণের নেকলেসটি শোভা পাচ্ছে। হাতে সামিয়ার গড়িয়ে দেয়া চুড়ি আর নাকে ছোট্ট একটি নোসপিন। পুরোদস্তুর নতুন বিবাহিত রমণী লাগছে তাকে। হালকা সেজেছেও। ঠোঁটের লিপস্টিক এবং চোখের নিচে সরু কাজলের কারণে বোঝা যাচ্ছে। হাজার চাওয়া সত্ত্বেও নিজের দৃষ্টি ফেরাতে পারলনা সাইবান। অজান্তেই হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে উঠল তার। ইরাম যে আগুন সুন্দরী তা নয়। কিন্তু তার এমন পরিপাটি অবয়ব থেকে চোখ ফেরানো দায়। ইশ! কেন যেন শাড়িটা এনেছে! এই শাড়িটা খুব শীঘ্রই তার বিপদের কারণ হতে যাচ্ছে ভেবে একটি শুকনো ঢোক গিললো সাইবান।
“হুম, চলো। আমি রেডি।”
কাঁধের উপর আঁচল টেনে সাইবানের সামনে এসে দাঁড়াল ইরাম। এতক্ষণে ঘোর কাটল তার। মাথা ঝাঁকিয়ে দ্রুত দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল।
“তোর মনের সমুদ্রবন্দরে ১১ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হলো।”
বিড়বিড় করল সাইবান। ভ্রু তুলে ইরাম শুধাল,
“কি? জোরে বলো, শুনতে পাইনি।”
“অ্যাহেম! কিছু বলিনি। চলুন।”
তাড়াতাড়ি উল্টো ঘুরে হাঁটা দিল সাইবান। ইরাম কাঁধ তুলে ঠোঁট উল্টে তার পিছু নিল।
বিশ পঁচিশ মিনিটের পথ। সাইবান গাড়ি থামাল একটি রেস্টুরেন্টের সামনে। স্বচ্ছ কাঁচের দেয়াল দিয়ে ভেতরে দেখা যাচ্ছে। গোটা সেকেন্ড ফ্লোরটা আজকে রাতের জন্য বুক করেছে সাইবান। গাড়ি থেকে বেরোতেই ইরামও দরজা খুলে বেরিয়ে এসে মাথা তুলে সামনে তাকাল। পার্কিং লটে আরও বেশকিছু বাইক, গাড়ি চোখে পড়ছে। সকলে প্রায় চলে এসেছে হয়ত।
“আসুন।”
ইরামের দিকে একটি হাত বাড়িয়ে দিল সাইবান। সেই হাতের দিকে তাকিয়ে এক মুহূর্তের দ্বিধা শেষ অবশেষে হাতটা ধরল ইরাম। সাইবানের পিছু পিছু এগোল। আজকে ছেলেটা ক্যাজুয়াল পড়েছে। তবুও একটা অদ্ভুতুড়ে ম্যাচিওর ভাব দিচ্ছে। ডার্ক কফি বর্ণের ব্লেজার এবং ফরমাল প্যান্ট, ভেতরে কালো টি শার্ট। একটা সিলভার চেইন ঝুলছে, তাতে আবার তার নামের প্রথম অক্ষর “A” ঝুলছে। সিঁড়ি বেয়ে দুজনেই দুই তলায় উঠে গেল। ইরাম জানেনা কেন যেন ক্রমশ শক্তভাবে চেপে ধরল সে সাইবানের হাতটা। কারণ সে জানে, এখন কোনো সামাজিক গ্যাদারিংয়ে নয় বরং যুদ্ধক্ষেত্রে যাচ্ছে সে। ভিন্ন ধরণের যুদ্ধ।
দুই তলায় বেশ সুন্দর করে টেবিলগুলো সাজানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই ভর্তি হয়ে গিয়েছে। মাঝখানে একটা বড় টেবিল। সেখানের কিছু চেয়ার এখনো ফাঁকা। বিশ – পঁচিশজন মত হবে এখানে। সাইবান আর ইরাম ঢুকতেই সবাই মুখ ঘুরিয়ে তাকাল। বিরাট এক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে।
“হ্যালো গাইয! হোপ ইউ আর নট ডেড ইয়েট!”
সাইবানের সম্ভাষণে মুহূর্তেই হাসির রোল ছড়িয়ে পড়ল। বেশ কয়েকজন ছুটে এসে একে একে তাকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানাতে লাগল। এদের ইরাম চেনেনা। সাইবান ইরামের হাতটা এক হাতে ধরে রেখে অন্য হাতে সকলের সঙ্গে করমর্দন করল, আলিঙ্গন বিনিময় করল, কথাবার্তাও বলল, পরিচয়ও করিয়ে দিল। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে একটা সেকেন্ডের জন্যও ইরামের হাতটা সে নিজের হাত থেকে ছাড়লনা। তার এমন কান্ড দেখে একজন তো বলেই বসল,
“বাব্বাহ। এর মধ্যেই ভাবী আঁচলে বেঁধে ফেলেছে? দেখ হাতটা ছাড়ছেই না যেন ছাড়লেই ভাবী পালিয়ে যাবে।”
বিনিময়ে বাঁকা হেসে সাইবান উত্তর করল,
“কি করি বল? বউয়ের মতো বউ হলে আর ছাড়তে ইচ্ছা করে?”
“ওওওওও!”
সাইবানের কথার ভিত্তিতে তরুণদের মাঝে শোরগোল পড়ে গেল। ইরাম প্রথমটায় বেশ বিব্রত হলেও বিষয়টা কেন যেন তার খারাপ লাগলনা। সাইবান যেদিকে যেদিকে যাচ্ছে, হাত ধরে রাখার কারণে তাকেও যেতে হচ্ছে। ক্ষণে ক্ষণে সে তাকিয়ে সাইবানের হাতে ধরে রাখা নিজের হাতটা দেখল।
মিনিট দশেক বাদে সবার সঙ্গে প্রায় পরিচয় পর্ব শেষ করে সাইবান ইরামকে বড় টেবিলটার দিকে নিয়ে গেল। অনুরাগ, আফনান, নীরব সকলে আগে থেকে এখানে এসে বসেছে। সাইবান চেয়ার টেনে দিল ইরামকে, স্ত্রী বসতেই সে নিজেও তার পাশের চেয়ারে বসে পড়ল।
“যাক বাবা, অবশেষে সেলিব্রিটির দেখা পাওয়া গেল।”
অনুরাগ বলতে না বলতেই নীরব প্রতিবারের মতো নাকি সুরে খেঁকিয়ে উঠল,
“আলাদিন তোর চেরাগ কোথায়?”
প্রতিবারের মতো ঝাঁঝ নিয়ে জবাব না দিয়ে খিলখিল করে হাসল সাইবান, বলল,
“চেরাগ বাসায়, ঘুমায়। দোয়া কর যেন বাত্তি জ্বালিয়ে আবার কেঁদে না ওঠে। নাহলে মাকে নিয়ে ছুটতে হবে আমার পার্টি শেষ হওয়ার আগেই।”
একে অপরের দিকে তাকিয়ে অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি করল বন্ধুদের দল। তারপর আবার নিজেরাই নিজেদের কাহিনী বুঝে হাসাহাসি করে মরল। কিছু বলা। উচিত ভেবে ইরাম বলল,
“তোমরা ভালো আছো? অনুরাগ, কি খবর তোমার?”
“জি বৌদি। একদম ঝাক্কাস।”
ওয়েলকাম ড্রিংকস হিসাবে লেমনেড সার্ভ করা হয়েছে। নিজের গ্লাসে চুমুক দিয়ে আড়চোখে অনুরাগের দিকে চেয়ে সাইবান শেষে বলে বসল,
“যাওয়ার সময় আমার সাথে একটু আলাদাভাবে কথা বলবি।”
“কেন? কি এমন গোপন কথা বলবি শুনি?”
“সেটা তখনি জানতে পারবি।”
অশুভ হাসল সাইবান। অনুরাগ ওই হাসি আর ভূতুড়ে চোখের দৃষ্টিটা খুব ভালো করে চেনে। শিউরে উঠল সে। সাইবানের সঙ্গে সে কি এমন করেছে যে এভাবে বদলা নিতে চাইছে? মানুষের উপস্থিতির কারণে অবশ্য সেটা সরাসরি জিজ্ঞেস করা আর সম্ভবপর হলোনা।
বেশ খানিকটা সময় গল্পগুজব করার পর ওয়েটার এলো জিজ্ঞেস করতে মেইন কোর্স দিয়ে দেবে কিনা। সাইবান আশেপাশে তাকিয়ে বলল,
“সকলে এসেছে? কেউ আসার বাকি আছে আর?”
“সবাইকেই দেখছি শুধু তিতলি ছাড়া।”
আফনান টেবিলের একমাত্র খালি চেয়ারটার দিকে ইঙ্গিত করে বলল। সাইবানের চেহারায় একটা চিন্তার ছায়া ভর করল।
“গ্রুপে সবাইকে ইনভাইট করেছি। তোদেরকে তো আলাদাভাবেও বললাম। ও কি আসবেনা?”
“তুই ডাকবি আর আমি আসবনা, মেরে জিনি?”
সুরেলা মেয়েলী কন্ঠস্বরটা ঠিক পিছন থেকে ভেসে এলো। সকলে ঝট করে ঘুরে তাকাল পিছনে। লাস্যময়ী ভঙ্গিতে হেলেদুলে ভেতরে প্রবেশ করল তিতলি। চিকচিকে একটা পার্টি শাড়ি পরনে। কাকতালীয়ভাবে তিতলির শাড়িটাও গোলাপি রঙের। তার উপর সিলভার জরি ঝকমক করছে। ভীষণ জেল্লাদার রমণী। ভিড়ের মাঝে সবার আগে চোখে পড়ার মতন চেহারা এবং শারীরিক গঠন। চাপা কোমরে একটা কোমরবন্ধনী চিকচিক করে দ্যুতি ছড়াচ্ছে। বন্ধুদের দল ততক্ষণে মহাবিস্মিত। নীরব জোরেই বলে বসল,
“তিতলি আর শাড়ি! আমাকে একটা চিমটি কাট তো আফনান, আমি স্বপ্ন দেখছি না তো?”
স্বভাবতই উপস্থিত অধিকাংশ পুরুষের দৃষ্টিই তিতলিতে আবদ্ধ। মেয়েটি এমনভাবে হেঁটে বড় টেবিলের কাছে এলো যেন ফ্যাশন শো তে ক্যাটওয়াক করছে। সাইবান নিজের চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়িয়ে হ্যান্ডশেক করার জন্য তিতলির দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেও মেয়েটি এসে সোজা তাকে জড়িয়ে ধরে পিঠ চাপড়ে দিল। ইরাম তাকিয়ে আছে লক্ষ্য করে ওপাশ থেকে মুখ বাড়িয়ে অনুরাগ বলল,
“তিতলি আমাদের স্কুলজীবনের বান্ধবী। তাই ওর সাথে আমরা অনেক ক্লোজ।”
যদিও ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিলনা, তবুও বন্ধুর জন্য অনুরাগ কাজটা করল দেখে মুচকি হাসল ইরাম। হাত নেড়ে বলল,
“ইটস ওকে, আমি বুঝতে পেরেছি।”
তিতলি তক্ষুণি ইরামের চেয়ারের কাছে চলে এলো। সাইবানের মত করেই হাত বাড়িয়ে ইরামের কাঁধ জড়িয়ে ধরে মোলায়েম কন্ঠে বলল,
“হাই! আপনাকে দেখার যে কত ইচ্ছা হয়েছিল জিনির কাছে শুনে। ফাইনালি আজকে দেখা পেলাম। আমি তিতলি চৌধুরী।”
“ইরাম কিবরিয়া। আমারও ভালো লাগছে। তুমি খুব মিষ্টি একটা মেয়ে তিতলি।”
গ্লস দেয়া ঠোঁটে বিরাট হেসে হেঁটে গিয়ে সাইবানের অন্য পাশের চেয়ারটা দখল করে নিল তিতলি। টেবিলে একমাত্র ওই চেয়ারটাই খালি ছিল বিধায় ইরাম কিংবা কেউই বিশেষ নজরপাত করলনা। তিতলির আগমনের মধ্য দিয়ে যেন উত্তেজনা আরও বাড়ল চারদিকে। খাবার পরিবেশন করা হলো সবাইকে। গল্প করতে করতে খেতে লাগল সকলে।
“তারপর বল, বিবাহিত জীবন কেমন কাটছে বন্ধু?”
শুরুটা করল আফনান। সাইবান নিজের প্লেটের ফ্রাইড রাইস নড়াচড়া করে বলল,
“তুইও বিয়েটা সেরে ফেল, নিজে থেকেই বুঝে যাবি।”
“ইশ! আমার এত জলদি নিজের কপাল পড়ানোর শখ হয়নি!”
হেসে উঠল সবাই। ইরাম এক চামচ খাবার মুখে দিয়ে চিবিয়ে তারপর বলল,
“কেন আফনান? বিয়ে মানেই কি শুধু কপাল পোড়ানো? তোমাদের জেনারেশন বিয়েকে অনেক বেশি ভয় পায়।”
“ঠিক। বিয়ে হলো একটা মনের মিলের ব্যাপার, মানুষটাও মনের মতন হত হয়। সেই কারণে বিয়ে সবসময় ভেবেচিন্তে করতে হয়।”
তিতলি বলে উঠল। নিজের চামচ প্লেটে রেখে দুহাত তুলে ঝংকার খেলিয়ে বলল,
“নো অফেন্স, বাট জিনির বিয়েটা তো আর পাঁচটা বিয়ের মত খুব স্বাভাবিক নয়। তাই আরকি।”
ভ্রু কুঁচকে ফেলল সাইবান। মাথা কাত করে তিতলির দিকে তাকাল,
“স্বাভাবিক নয় মানে কি?”
“ও বোধ হয় সিনিয়র জুনিয়রের ব্যাপারটা বলছে।”
তিতলি বেশ জোরেই কথা বলে। তার কণ্ঠ সবাই শুনতে পেয়েছে। তাই অন্য পাশের টেবিল থেকে একজন বলল। এতক্ষণ যাবৎ কেউ মুখ ফুটে মনের কথাটা বলতে পারেনি। তবে তিতলি শুরু করায় এখন সকলের মাঝে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ল।
“এমনভাবে বলছিস যেন পৃথিবীতে এর আগে কেউ কখনো সিনিয়র কোনো মেয়েকে বিয়ে করেনি।”
বুকে দুবাহু বেঁধে খানিকটা বিরক্তি নিয়ে বলে উঠল নীরব। তিতলি হাসল,
“ব্যাপারটা অমন নয় যে বিয়ে করেনি বা করা যাবেনা। অবশ্যই যাবে, আমাদের ধর্মে জায়েজ করা হয়েছে আমরা অস্বীকার করতে পারিনা। তবে এই আধুনিক সময়ে এসে মনের দিক থেকে বিষয়টা একটু বেমানান।”
“সেটাই বলতে চাচ্ছিলাম আরকি। কারণ দিনশেষে সবকিছুর আগে দরকার নিজের পার্টনারের সঙ্গে বোঝাপড়া আর মনের মিল। এখন তোর পার্টনার যদি তোকে সেই কমফোর্ট প্রোভাইড করতে না পারে তাহলে লং টার্মে সেটা ইফেক্ট করবেই করবে।”
“এখানে রাখঢাকের কিছুই নেই। যতই আমরা গলা উঁচু করে বলিনা কেন এইজ ডায নট ম্যাটার, দিনশেষে অসীম ইচ্ছাশক্তি না থাকলে এইজ অলয়েজ ম্যাটার্স। জেনারেশনের পার্থক্য বয়ে আনে চিন্তাধারার পার্থক্য। আজ হোক, কাল হোক সেই পার্থক্যটা ধরা পড়বেই। তখনি মনোমালিন্য হবে, অশান্তি হবে। কারণ দুজনের মনে হবে তারা দুজনেই ঠিক। কেউ ভুল না। তাদের দোষও দেয়া যাবেনা কারণ দুজন দুই ভিন্ন জেনারেশন থেকে বিলং করে যেহেতু।”
তিতলির পরপর অন্যান্যরাও বলতে লাগল। একেক টেবিলে রীতিমত আলাপ আলোচনা শুরু হয়ে গেল। যুক্তি দেয়া, যুক্তি খন্ডন। পক্ষে – বিপক্ষে আলাপ আলোচনা। এখানে বেশিরভাগ ছেলেমেয়েই তরুণ তরুণী। তাই তাদের কথাবার্তা যথেষ্ট মার্জিত হলেও কেউই তিক্ত ব্যাপারটা প্রকাশ করতে রাখঢাক করছেনা। ইরাম শুধু অজস্র কথা শুনে গেল। এমন না যে কেউ তাকে সরাসরি কিছু বলছে বা অপমান করছে। তেমন কিছুই না, বরং তাকে কেউ অসম্মানও করেনি। তবে এই আলাপ আলোচনা, বয়সের বিভেদ, জেনারেশনাল পার্থক্য এর বিপক্ষে ইরামের কাছে কোনো যুক্তি নেই। প্রত্যেকের কথায় বাস্তবতা আছে। সে নিজেও এই বিষয়টা নিয়ে বিশেষ শঙ্কিত।
ইরাম নিজের খাবারের দিকেই মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করল। টেবিলে বসে থাকা অনুরাগ, আফনান আর নীরবও চুপ করে গিয়েছে। কেউই বুঝতে পারছেনা কি বলে পরিবেশটা বাগে আনা যায়। সাইবানও শান্ত। একটু অতিরিক্ত শান্ত। চামচের পর চামচ শুধু মুখেই দিচ্ছে, যান্ত্রিক মেশিনের মতন। উজ্জ্বল চেহারায় কোনো অভিব্যক্তি ধরা পড়ছেনা। যেন নিজের আলাদা জগতে আছে। ছেলেটার জন্য ইরামের খারাপ লাগল। কারণ, কোনো পুরুষেরই এমন কথা শোনা উচিত না যেখানে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষ খোলাখুলি আলোচনা করবে। ঝুঁকে স্টেকের পিস মুখে দিতে গিয়ে সাইবানের ব্লেজারের কলারে খানিকটা সস লেগে গেল সে খেয়াল অবধি করলনা। ইরাম মুখে কিছু না বলে নিঃশব্দে একটা টিস্যু তুলে নিল। তখনো চারিপাশে আলাপ আলোচনা জারি আছে।
“সিনিয়রে জুনিয়রে শুধু মাখোমাখো প্রেমটাই হয়, ভালোবাসা হয়না।”
বন্ধুদের দলের হাজার কথাবার্তার মাঝেও তেমন বিশেষ প্রতিক্রিয়া আর দেখালনা ইরাম। সে নীরবে একপাশে ঝুঁকে হাতের টিস্যুটা দিয়ে সাইবানের কলারে লেগে যাওয়া সসটুকু মুছে নিল। ছেলেটা নিজের ঘোর থেকে বেরিয়ে নিচে তাকাল। দেখল কীভাবে সযত্নে ইরাম তার কলার পরিষ্কার করে দিল। মোছা শেষ করে যেই না সে রমণী ঘুরে বসতে যাবে ঠিক তখনি হঠাৎ সাইবান নিজের মুখটা ঘুরিয়ে ঠিক তার কপাল বরাবর উষ্ণ ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। উপস্থিত প্রত্যেকের সামনে, সরাসরি, কোনো দ্বিধা ছাড়াই। হতভম্ব ইরাম জমে গেল। মুহূর্তের ভেতর তার হাত থেকে টিস্যুটা ফসকে নিচের মেঝেতে পরে গেল। আফনান, নীরব, অনুরাগ এমনকি অন্যপাশে থাকা তিতলিও প্রসারিত নয়নে দৃশ্যটি দেখে গেল। অথচ সাইবানের হেলদোল নেই। যেন যা করছে তা তার নিত্যদিনের কাজ, অতি প্রিয় অভ্যাস। ইরামের কপালে চুমু খেয়ে সে স্বাভাবিক গলায় বলল,
“থ্যাংকস, মিসেস আলাদিন।”
হাসি ফুটল অনুরাগদের ঠোঁটে। সাইবান একেবারে শান্ত ভঙ্গিতে খাবারে ফিরে গেল। আফনান নিজের হাতের জুসের গ্লাস তুলে গলা উঁচু করে সকলে শুনতে পায় এমন কন্ঠে বলল,
“অন সেকেন্ড থট, সম্মান আর কদরটাই সম্পর্কের আসল চাবিকাঠি, বয়স নয়।”
“ইয়েস!”
আফনানের কথার ভিত্তিতে অনুরাগ আর নীরব একসঙ্গে সায় জানাল জোরালোভাবে।
─────────────────────────────
রাত সাড়ে নয়টা।
সকলের খাওয়া দাওয়া এবং শুভেচ্ছা বিনিময় সমাপ্ত প্রায়। টেবিল থেকে সবার আগে উঠল সাইবান। ইরাম একটু ওয়াশরুমে গিয়েছে। সে নিজের ব্লেজার ঠিকঠাক করে খানিকটা ঝুঁকে তিতলিকে দেখল। মেয়েটা বেশ হেসে হেসে আরেকজনের সঙ্গে কথা বলছে।
“তিতলি?”
“হুম?”
হাসিমুখেই ঘুরে তাকাল তিতলি। সাইবান শীতল গলায় বলল,
“এরপর থেকে দেখা হলে হ্যান্ডশেক করবি। জড়িয়ে ধরবি না।”
এটুকুই। না কোনো ব্যাখ্যা, না কোনো বিশ্লেষণ। তিতলির ঠোঁট থেকে হাসিটুকু মুহূর্তেই উধাও হলো। অথচ সাইবান সেটি দেখার অপেক্ষায় নেই। ইরাম ওয়াশরুম থেকে চলে এসেছে। সে টেবিল থেকে ইরামের হ্যান্ডব্যাগটা নিজের বাম হাতে তুলে নিয়ে ডান হাত এগিয়ে স্ত্রীর একটা হাত ধরল। বাকিদের দিকে তাকাল,
“আই হোপ তোরা সবাই এনজয় করেছিস। রাত হচ্ছে, আমাকে বাড়ি ফিরতে হবে। তোরা এনজয় করতে থাক, অনুরাগ আছে এখানে। পরে দেখা হবে আবার। গুডবাই।”
ইরাম কাউকে বিদায় জানানোর সুযোগ পেলনা। ভীষণ অবাক হয়েই সাইবানের পিছু পিছু হাঁটতে বাধ্য হলো।
বাড়িতে যাওয়ার সমস্ত রাস্তা সাইবান গাড়িতে একটাও কথা বললনা। রেডিও অন করে দিয়ে চুপচাপ ড্রাইভ করল। ইরামও কিছু বললনা। সে এখনো ঘোর থেকে বের হতে পারছেনা। ক্ষণে ক্ষণে অজান্তেই তার হাত ছুঁয়ে যাচ্ছে নিজের কপাল। মনে হচ্ছে যেন সেখানে এখনো সাইবানের ঠোঁটের উষ্ণতা লেপ্টে আছে। গাড়িটা গ্যারেজে থামাল সাইবান। ইরামও কোনো কথা না বলে বেরিয়ে এলো। লম্বা পা ফেলে দ্রুত বাড়ির দিকে এগোল। ইযানের কি অবস্থা একবার দেখতে হবে। তবে সদর দরজার কাছে পৌঁছতেই ভীষণ অদ্ভুত একটা কান্ড ঘটল। তার কাঁধজুড়ে একজোড়া হাত জড়িয়ে গেল, তারপরই তাকে উল্টো ঘুরিয়ে হঠাৎ করে সদর দরজার পাশে একেবারে কোণায় থামের সঙ্গে ঠেসে ধরল কেউ। বি*স্ফারিত চোখ মেলে ইরাম দেখল সাইবানকে। ছেলেটার অভিব্যক্তি বদলে গিয়েছে। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কপালে ছড়িয়ে পড়েছে বারবার আঙুল চালানোর কারণে। স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত শ্বাস নিচ্ছে। ত্বকের রংটাও হালকা লালচে দেখাচ্ছে অজানা তাপের কারণে।
“আলাদিন?”
“ক্যান আই টাচ ইউ?”
ইরাম চোখ পিটপিট করল। তার মনে হলো নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছেনা সে। সাইবান সেকেন্ডের ভেতর অধৈর্য্য হয়ে উঠল।
“ক্যান আই টাচ ইউ? প্লীজ!”
টাচ? ছুঁয়ে দেবে? ছুঁয়েই তো আছে। এর জন্য অনুমতির কি আছে? ইরাম খানিকটা ভাঙা গলায় বলল,
“হ্যাঁ। কিন্তু আগে বলো তোমার…”
কথা শেষ করার সুযোগ পেলনা ইরাম। তার মুখখানি নিজের দুই হাতের আজলায় তুলে নিল সাইবান। অতঃপর দ্বিতীয় কোনো কথা ছাড়াই তার কপালে গভীর এক চুমু খেল। ঠিক যেখানটায় ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়েছিল রেস্টুরেন্টে বসে। ইরাম শিউরে উঠে চোখ বুঁজে ফেলল। অথচ এবার সাইবান শুধু কপালে থেমে থাকলনা। তার ঠোঁট ইরামের ডান গালে নেমে এলো। প্রগাঢ় এক আদর বসালো সেথায়। তারপর ডান গালে, নাকের উপরের নোসপিনে, চিবুকে, কানের লতিতে। ইরামের মুখের এক ইঞ্চি ত্বকও বোধ হয় রেহাই পেলনা। যেখানে যেখানে সাইবানের ঠোঁট ছুঁয়ে যাচ্ছে, সেখানে সেখানে বুঝি টগবগ করে লাভা ফুটছে। কোনো স্নেহের আদর নয় এটি, ভয়ানক এক আকাঙ্ক্ষার আদর যেন। অজান্তেই ইরাম সাইবানের ব্লেজার আঁকড়ে ধরল নিজের মুঠোয়। তার মাথা ঘুরতে শুরু করেছে।
“সিগারেটের প্যাকেটে যেমন লেখা থাকে স্বাস্থ্যের জন্য হানিকারক, তেমন আপনার গায়েও লেখা উচিত আলাদিনের জন্য হানিকারক।”
কানের লতিতে আলতো কামড়ের পাশাপাশি ইরামের কর্ণগুহরে জলোচ্ছ্বাসের মতন ভেসে এলো অতি আবেশী কণ্ঠের ঘোষণাটি।
—চলবে—
Share On:
TAGS: আমার আলাদিন, জাবিন ফোরকান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
আমার আলাদিন পর্ব ১৮
-
আমার আলাদিন পর্ব ৮
-
আমার আলাদিন পর্ব ৬
-
আমার আলাদিন পর্ব ৩
-
আমার আলাদিন পর্ব ৯
-
আমার আলাদিন পর্ব ২
-
আমার আলাদিন পর্ব ১৬
-
আমার আলাদিন পর্ব ৪
-
আমার আলাদিন পর্ব ১
-
আমার আলাদিন পর্ব ১১