#লেখিকা_সুমি_চৌধুরী
#পর্ব ৬০
[ অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ ]
সকালবেলা জানালার ফাঁক দিয়ে আসা কড়া রোদটা রিদির চোখে পড়তেই তার ঘুমটা ভাঙল। ধড়মড় করে উঠে বসে ফোনের দিকে তাকাতেই তার তো আত্মারাম খাঁচাছাড়া, নয়টা বেজে গেছে। সকালের এতগুলো সময় যে ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেছে, তা ভাবতেই রিদি কপালে হাত দিল।
ঠিক সেই মুহূর্তে বালিশের পাশে রাখা ফোনটা ‘টোন’ করে কেঁপে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রিদির চোখ কপালে ওঠার জোগাড়, হোয়াটসঅ্যাপে শুভ্র মেসেজ দিয়েছে। মেসেজে লেখা,
” গুড মর্নিং আমার স্বপ্নের মহারানী ।”
এত ভোরে শুভ্রর এমন মিষ্টি মেসেজ পেয়ে রিদির গাল দুটো লাজুক রাঙা হয়ে উঠল। লোকটা দিন দিন বড্ড রোমান্টিক হয়ে যাচ্ছে। সে একগাল হেসে টাইপ করল,
“গুড মর্নিং।”
পাঠানোর সাথে সাথেই ওপাশ থেকে একটা ছবি এল। ছবিতে শুভ্র জিভ বের করে একটা অদ্ভুত স্টাইল করে আছে। রিদি খিলখিল করে হেসে উঠল, নিজেকে সামলাতে না পেরে সে নিজেও জিভ বের করে একটা ছবি তুলে শুভ্রর চ্যাটে পাঠিয়ে দিল। কিন্তু দুষ্টু শুভ্র কি আর ছেড়ে দেওয়ার পাত্র। রিদির পাঠানো ছবির ওপর সাথে সাথেই সে একটা ‘হাহা’ রিঅ্যাকশন দিয়ে বসল।
রিদি ফোনটা হাতে নিয়ে কিছুটা রেগেই গেল। মনে মনে ভাবল, “কী অসভ্য, আমার ছবি দেখে হাসি পায়।” জেদ চেপে গেল তার, তাই সেও পাল্টা শুভ্রর ছবিতে একটা ‘হাহা’ রিঅ্যাকশন দিয়ে দিল।
ঠিক তক্ষুনি শুভ্রর থেকে আরেকটা ছবি এল। ছবিটা দেখে রিদির হাসি যেন বাঁধ ভাঙল। শুভ্র চোখ মারার ভঙ্গিতে টিপে আছে, মেয়েলি আদলে দুহাতের আঙুল কানের পাশে ভি (V) সাইন করে ধরে আছে, আর নাকের ওপর বিড়ালের গোঁফের ফিল্টার। এমন কিউট আর হাস্যকর লুকে শুভ্রকে আগে কখনো দেখেনি রিদি।
কিন্তু চমকটা তখনও বাকি ছিল। ঠিক পর মুহূর্তেই আরেকটা ছবি এল, শুভ্র ফোনটা নাকের ডগায় একদম কাছে ধরে ট্যারা চোখ করে অদ্ভুত এক হাবাগোবা মুখভঙ্গি করে আছে। এই ছবিটা দেখেই রিদি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে ফোনটা বিছানায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে পেটে হাত দিয়ে হাসতে হাসতে বিছানায় গড়াগড়ি খেতে লাগল। হাসতে হাসতে ওর চোখে জল চলে এল, বিছানার চাদরটা এলোমেলো হয়ে গেল, কিন্তু রিদির হাসির তো থামার নাম নেই। শুভ্রর এই পাগলামি ভরা দুষ্টুমিগুলো রিদির সকালটাকে এক অদ্ভুত ভালো লাগায় ভরিয়ে দিল।
হাসতে হাসতে রিদির দম প্রায় বন্ধ হয়ে আসার জোগাড়, ঠিক তখনই ফোনটা আবার কেঁপে উঠল। রিদি হাসির তোড় সামলে নিয়ে দেখল শুভ্র ভিডিও কল দিয়েছে। রিদির হাতটা যেন থরথর করে কাঁপছে ধরবে কি ধরবে না। পরক্ষণেই সাহস সঞ্চয় করে সে কলটা রিসিভ করল, কিন্তু আঙুল দিয়ে ক্যামেরার লেন্সটা চেপে ধরল। চুলের যা ছিরি, শুভ্র যদি এই অবস্থায় তাকে দেখে, তবে তো মানসম্মান বলতে কিছু আর অবশিষ্ট থাকবে না।
স্ক্রিনে শুভ্রকে দেখা যাচ্ছে। সে বালিশে মাথা রেখে শুয়ে আছে, চুলগুলো এলোমেলো, চোখেমুখে ঘুমের রেশ। রিদি অপলক তাকিয়ে রইল সেই চেনা মুখটার দিকে। শুভ্র আধো ঘুমে, কিন্তু রাগী গলায় বলে উঠল,
“এই বেয়াদব, ক্যামেরা থেকে হাত সরা, সামনে আয়।”
রিদি লজ্জা আর সংকোচে মিনমিন করে বলল,
“না সামনে যাওয়া যাবে না। “
শুভ্র এবার চোখ পাকিয়ে ধমক দিল,
“ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দিমু, সামনে আয় বলছি, কুত্তির বাচ্চা।”
রিদি কিছুটা আমতা আমতা করে বলল,
“আমি ফ্রেশ হইনি, মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম।”
শুভ্র আলসেমি মাখা গলায় পাল্টা প্রশ্ন করল,
“তো?”
রিদি নিজের অবস্থা বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করল,
“এই অবস্থায় কীভাবে সামনে যাবো?”
শুভ্র গম্ভীর গলায় বলে উঠল,
“এত কিছু বুঝি না, সামনে আয়। দেখবো তোকে।”
রিদি দোটানায় পড়ে জিজ্ঞেস করল,
“আসতেই হবে?”
শুভ্র এককথায় উত্তর দিল,
“হুম, কুইক।”
রিদি কোনোমতে এক হাত দিয়ে জট পাকানো চুলগুলো একটু গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল। এরপর কাঁপা কাঁপা হাতে ক্যামেরার লেন্স থেকে আঙুলটা সরিয়ে নিল, কিন্তু লজ্জা আর সংকোচে চোখ নামিয়ে রাখল। শুভ্র অনেকক্ষণ তার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তারপর শান্ত গলায় প্রশ্ন করল,
“কালকে যে শপিং ব্যাগ দিয়েছি, খুলেছিস?”
রিদি মাথা নেড়ে না সূচক জবাব দিল। শুভ্র নির্লিপ্ত গলায় বলল,
“আচ্ছা, খুলে দেখিস। আর ভেতরে যা পাবি, তা পরে বিকেলে রেডি থাকবি। আমি নিতে আসবো।”
রিদি এবার ক্যামেরার দিকে সরাসরি তাকাল, অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
“কেন, কোথাও যাবো নাকি?”
শুভ্র ক্যামেরাটা নিজের মুখের সামনে আরও একটু কাছে আনল। বাঁ হাত দিয়ে কপালের অবাধ্য চুলগুলো পেছনে ঠেলে দিয়ে একটা রহস্যময় হাসি হেসে বলল,
“সেটা স্পেশাল, এখন বলা যাবে না।”
রিদি মিনমিন করে বলল,
“আচ্ছা।”
সে আর কথা বাড়াল না, কিন্তু শুভ্র কি আর ছাড়ার পাত্র। সে দুষ্টুমি ভরা গলায় আদেশ করল,
“গুড। আর শুন, একটা চুমু দে।”
রিদি চোখ বড় বড় করে অবাক হওয়ার ভান করে বলল,
“কিহহ? আবার?”
শুভ্র ভ্রু নাচিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল,
“আবার মানে, আমার যখন ইচ্ছে চুমু চাইব, চুমু খাব। বিনিময়ে তোকে খেয়ে ফেলব, তাতে তোর কী?”
কথাটা শুনে রিদি যেন হুশ হারিয়ে ফেলল। লজ্জার মাথা খেয়ে সে উল্টো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলল,
“আমার কী মানে, আপনি আমাকে খাবেন আর আমি কি বসে বসে আঙুল চুষব, আমিও খেয়ে দেব।”
শুভ্র এক মুহূর্ত দেরি না করে দুষ্টু হাসিতে বলে উঠল,
“আয় তাহলে, আমি তোকে খাব, তুই আমাকে খাবি। দেখি কে বেশি খেতে পারে।”
রিদি নিজের ভুল বুঝতে পেরে মুহূর্তেই লজ্জায় টকটকে লাল হয়ে গেল। নিজের বলা কথাগুলো মনে পড়তেই তার কেমন যেন অস্বস্তি লাগছে। সে কোনোমতে বলল,
“অসভ্য রাখলাম এখন।”
শুভ্র নাছোড়বান্দা, সে বায়না ধরে বসে রইল,
“উহু, আগে চুমু দে।”
রিদি ঢোক গিলে বলল,
“পারব না বলেছি না।”
শুভ্র আবারও জেদ ধরল,
“দে না।”
রিদি না সূচক মাথা নাড়ল,
“উহু।”
শুভ্র একদম নরম গলায় মিনতি করল,
“প্লিজ জান।”
শুভ্রের এই অদ্ভুত অনুরোধে রিদির বুকের ভেতর কেমন যেন মায়া মায়া ভাব খেলা করে গেল। সে আর দ্বিমত করল না। মুহূর্তের সব লজ্জা একপাশে সরিয়ে, চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে, দ্রুত ফোনের ক্যামেরায় সশব্দে দুটো চুমু দিয়ে দিল। তারপর এক সেকেন্ডও দেরি না করে হন্তদন্ত হয়ে ফোনটা কেটে দিয়ে বিছানায় শুয়ে হাঁপাতে লাগল। তার মনে হচ্ছে যেন মাত্রই সে কোনো একটা বড় বিশ্বযুদ্ধ জিতে এসেছে।
এদিকে শুভ্র ছাদের দিকে চেয়ে মুচকি হাসছে এত বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে তার মনোমোহিনীকে পাওয়ার পথে সে আজ সার্থক। হুট করেই দরজার কাছে পুরুষালী কণ্ঠস্বর শুনে তার ঘোর কাটল। তাকিয়ে দেখল তুর্য আর রিফাত দাঁড়িয়ে আছে, দুটোরই চোখে আগুনের মতো রাগ। শুভ্র চিত হয়ে শুয়েই উদাস গলায় বলল।
“হঠাৎ তোরা, ভেতরে আয়।”
তুর্য রাগী পায়ে এগিয়ে এসে তেড়ে গিয়ে বলল,
“কেন আসতে পারি না, লুকিয়ে বিয়ে করবি আর আমরা জানবো না, নিজেকে কী ভাবিস তুই।”
শুভ্র নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল,
“তোদের কে বলেছে আমি লুকিয়ে বিয়ে করছি, বিয়ের এখনো অনেক দেরি, সময় হলেই তোরা খবর পেয়ে যেতিস।”
রিফাত শুভ্রের পাশে ধপ করে বসে পড়ে খোঁচা দিয়ে বলল,
“ওহ, তাহলে আমরা অতিথি, তোর বন্ধু না, বিয়ের আগে কার্ড দিবি, আমরা এসে চুপচাপ দাওয়াত খেয়ে চলে যাব, তাই না।”
শুভ্র স্বাভাবিক গলায় বলল,
“কথাটা মন্দ বলিস নাই।”
তুর্য আর ধৈর্য ধরতে পারল না, গর্জে উঠে বলল,
“তার মানে তুই বলতে চাইছিস আমরা অতিথি, রিফাত, ধর একে, আমাদের না জানিয়ে বিয়ে করা, দাঁড়া করাচ্ছি তোকে বিয়ে করা।”
মুহূর্তের মধ্যে রিফাত আর তুর্য ঝাঁপিয়ে পড়ে শুভ্রের পরনের লুঙ্গিটা টেনে ধরল। কাল রাতে ভীষণ ক্লান্ত থাকায় শুভ্র লুঙ্গি পরেই শুয়ে পড়েছিল। আকস্মিক এই আক্রমণে সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দুই হাত দিয়ে প্রাণপণে লুঙ্গি খামচে ধরে রইল। ঠিক এই টানাহেঁচড়ার মাঝেই ঈশান রুমে ঢুকল। দৃশ্যটা দেখেই সে পকেট থেকে ফোন বের করে ভিডিও করা শুরু করে দিয়ে বলল,
“আরে বাহ, সিনেমা চলছে দেখি, তা এই সিনেমার ভিডিও না করলে টাকার থেকেও বড় মিস।”
শুভ্র রাগে লজ্জায় চিৎকার করে উঠল,
“দেখা ভালো হচ্ছে না, লুঙ্গি ছাড় বলছি।”
রিফাত লুঙ্গির গিঁট ধরে আরও জোরে জোরে টানতে টানতে বলল,
“ব্যাপার কী বল তো, শুভ্রার কাছে শুনলাম রিদি নাকি তোর জন্য বিষ খেয়েছিল আর তুইও নাকি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়েছিলি, শালা, এত কিছু হয়ে গেছে আর আমরা জানলাম না, আজকে তোরে খাইছি।”
শুভ্র ঠোঁট কামড়ে রাগে গজগজ করে বলল,
“এই হালার ঘরে হালা, লুঙ্গি ছাড় বলতেছি।”
শুভ্রর গগনবিদারী চিৎকারে মনে হচ্ছে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়বে। কিন্তু রিফাত নাছোড়বান্দা, সে শুভ্রর লুঙ্গির গিঁটটাকে যেন জীবনের শেষ সম্বল মনে করে ধরে হ্যাঁচকা টান মারছে। রিফাত দাঁত কেলিয়ে হাসতে হাসতে বলল,
“আরে শালা, এত ভাব নিস কেন বল তো, আজকে তোর ওই নিচের রহস্য উদ্ঘাটন করে আমি ইতিহাস লিখব। দেখি তো রিদি ভাবি কী দেখে তোর প্রেমে পাগল হলো।”
পাশ থেকে তূর্য শুভ্রর এক পা বগলে চেপে ধরে রীতিমতো কুস্তি লড়ছে। সে হাপাতে হাপাতে রিফাতকে বলল,
“রিফাত, টান দে জোরে, মনে হচ্ছে ভেতরে কোনো মেমোরি কার্ড লুকানো আছে। এই শালা নিচের রহস্য টা আজকে পাংচার করেই ছাড়বো।”
শুভ্র বিছানার ওপর জ্যান্ত কই মাছের মতো লাফালাফি করতে করতে এবার দাঁতে দাঁত চেপে গর্জাল,
“এই ইস্টুপিট, মার না খেতে চাইলে ছাড় বলছি, তোদের কি ডিকশনারিতে ম্যানার্স বলতে কিছু নেই রে হারামি।”
ঈশান এক কোণায় দাঁড়িয়ে খুব ভক্তিভরে ফোনের স্ট্যাবিলাইজার অন করে ভিডিও করছে। সে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলল,
“বস, আপনি একদম অস্থির লাফাচ্ছেন, আপনি শুধু একবার ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ুন। রিদি ম্যাম যখন আপনার এই লুঙ্গি-মার্শাল আর্ট দেখবে, তখন সে খুশিতে আপনাকে ব্লক করে দিবে।”
শুভ্র এবার ঈশানের দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল,
“ঈশান, তুমি কিন্তু লিমিট ক্রস করছো, ফোন সরাও বলছি।”
তূর্য এবার শুভ্রর পেটে এক আঙুলে কড়া করে একটা সুড়সুড়ি দিয়ে বলল,
“রিফাত, গিঁট প্রায় ঢিলা হয়ে গেছে, শালা শুভ্র, আজকে তোর ইজ্জতের বেলুন আমরা আকাশে উড়িয়েই ছাড়বো।”
শুভ্র এবার রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বিছানা খামচে ধরে চিল্লিয়ে উঠল,
“আরে হালার ঘরের হালা, লুঙ্গি ছাড় বলতেছি, তোদের কি জন্মের শখ মিটে গেছে, আমার লুঙ্গি নিয়ে রিসার্চ না করে নিজেদের হাফ প্যান্ট সামলা গে।”
ঈশান খুব নিরিবিলিভাবে ভিডিওর ব্রাইটনেস বাড়াতে বাড়াতে বলল,
“বস, আপনি প্লিজ কোঅপারেট করুন, আপনি রেগে গেলে ভিডিওটা বেশি ভাইরাল হবে। আমি কিন্তু ক্যাপশন রেডি করে ফেলেছি, বস ও তার নিচে লুকানো রহস্য।”
শুভ্র এবার আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে গর্জাল,
“শালা একটা কথা মনে রাখিস, আজকে আমার লুঙ্গি খুললে কিন্তু তোরা কেউ প্রাণে বাঁচি ফিরবি না। ঈশান, তুমি যদি ওই ভিডিও রিদিকে পাঠাও, তবে কালকে সকালে তোমার লাশ বুড়িগঙ্গায় ভাসবে। শালার ঘরের শালারা, তোরা কি মানুষ না কোনো বুনো জানোয়ার।”
পুরো ঘর তখন হাসির বন্যায় ভাসছে। রিফাত আর তূর্য যেন শুভ্রর ইজ্জতকে ফুটবল বানিয়ে খেলছে, আর শুভ্র তার লাল হয়ে যাওয়া চেহারা নিয়ে লুঙ্গি সামলাতে সামলাতে ‘জান দেব তাও লুঙ্গি দেব না’ স্টাইলে অলিম্পিক লেভেলের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
শুভ্র বুঝতে পারল এদের এভাবে ছাড়ানো যাবে না। বুদ্ধির আশ্রয় নিতেই হবে। মুহূর্তের মধ্যে মাথায় বুদ্ধি খেলে গেল তার। সে দরজার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল,
“আব্বু।”
সোহান চৌধুরী এসেছে ভেবে রিফাত আর তূর্যর হার্টবিট মিস হওয়ার দশা। তড়িঘড়ি করে শুভ্রর লুঙ্গি ছেড়ে ওরা দুজনেই পেছনের দিকে তাকাল। আর এই ফাঁকা দরজার দিকে তাকিয়ে থাকাটাই ওদের কাল হলো। সুযোগ বুঝে শুভ্র ওদের ওপর জ্যান্ত কই মাছের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল। ডান হাত দিয়ে তূর্যর আর বাম হাত দিয়ে রিফাতের ঘাড় এমনভাবে চেপে ধরল যে, ওরাও উল্টো হয়ে বিছানায় আছড়ে পড়ল। শুভ্র নিজেও ওদের ওপর ভর দিয়ে শরীরটাকে লটকে নিল। নিজের আধিপত্য বজায় রেখে শুভ্র দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
“কী জানি বলছিলি, আমার ইজ্জতের বেলুন আকাশে উড়াবি, তাহলে এবার দেখ, তোদের ইজ্জতের জায়েঙ্গা আমি কোথায় উড়াই।”
বলেই শুভ্র ঈশানের দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে গর্জন করল,
“ঈশান, বস তোমাকে আদেশ করছে, এই মুহূর্তে দুইজনের প্যান্ট খোলো। যদি না খোলো, তাহলে আজ রাতে তোমার নিজের প্যান্ট তোমার ফ্ল্যাটের সামনে পতাকার মতো ঝুলবে।”
রিফাত নিচ থেকে ধস্তাধস্তি করতে করতে আর্তনাদ করে উঠল,
“আরে শালা, ছাড় বলছি।”
শুভ্র ওকে আরও শক্ত করে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“তোদের প্যান্ট না খুলে আজ আমি ছাড়ছি না। ঈশান, তিন সেকেন্ড সময় দিলাম। মনে রেখো আজ যদি ওদের প্যান্ট না খোলে, তবে তোমার নিজের প্যান্ট খোলা নিশ্চিত।”
ঈশান মহাবিপদে পড়ে গেল। একদিকে শুভ্রর ভয়, অন্যদিকে ওদের দুজনের প্যান্ট খোলার লজ্জা সব মিলিয়ে সে এখন অথৈ জলে। ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এল। রিফাত আর তূর্য পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চিৎকার শুরু করল,
“আহহহহ, বাঁচাউউউউউউ।”
রিফাত অনেক চেষ্টা করল শুভ্রর ইস্পাতের মতো শক্ত বাহু থেকে মুক্ত হতে, কিন্তু শুভ্র এমনভাবে চেপে ধরেছে যে নড়ার কোনো উপায় নেই। রিফাত হাঁপাতে হাঁপাতে অবাক হয়ে বলল,
“ভাই, তুই কী খাস, মানুষের শরীরে এত শক্তি থাকে কীভাবে।”
তূর্য ব্যথায় ককিয়ে উঠে বলল,
“আমার তো এখন রিদির জন্য চিন্তা হচ্ছে। বেচারি রিদি, এত শক্তি সে আদৌ লোড নিতে পারবে তো।”
শুভ্র ঝাড়ি দিয়ে বলল,
“চুপ কর শালা লুইচ্চা।”
রানিং…!
Share On:
TAGS: অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায়, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৯
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৩৯
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১৫
-
বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ৫
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৪৪
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ২৫
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১৪
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৫০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৪
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১৩