Golpo romantic golpo রাগে অনুরাগে

রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৮(প্রথম অংশ+শেষাংশ)


#রাগে_অনুরাগে

#পর্ব_৪৮(প্রথম_অংশ)খুনসুটি 🥀

#সুহাসিনি_ফাতেহা

“কেন? উপন্যাস পড়া কি পাপ? আপনি কখনো পড়ে দেখেছেন? সঙ্গিন প্রণায়সক্তি, প্রেমঘোর, জীবনে অনেক উপন্যাস পড়া শেষ এখন ভাবছি আমি নিজেই আপনাকে আর আমাকে নিয়ে একটা রোমান্টিক উপন্যাস লিখবো।

নাম দেবো মাই হাসবেন্ড! সুন্দর না নামটা?”

ফারাজ তিতলির কথার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখাচ্ছে বলে মনে হচ্ছেনা।

সে নিরবে শুনে যাচ্ছে সব। দূর্দম্য পায়ের গতিতে সামনে এগোচ্ছে। ফারাজের পায়ের সাথে পেরে উঠছেনা তিতলি। তাও পা মিলিয়ে হাঁটার চেষ্টায় কোপোকত সে। তিতলি ঘোরে থেকে আবার বলা শুরু করল,

” প্রথমে আপনি যখন আমাদের কলেজে জয়েন করেছিলেন, প্রথম দিনেই আমি আপনার শার্টে আইসক্রিম লাগিয়ে দিয়েছিলাম মনে আছে? সেই প্রথম দেখা থেকেই শুরু করে লিখব?”

“হু তারপর?”

“তারপর আমার সাথে আপনার সাথে প্রথম দিকে যা যা হয়েছে সেসব লিখে বিয়ের পরের কাহিনী লিখব।”

“উঁহু তারমানে তুমি লিখবা আমি তোমার সব জায়গায় চুমু খেয়েছি, একটু থেমে ফারাজ ঠোঁট কামড়ে হাসল। শেষাত্মক ভাব-ভঙ্গিমা ধরে শুধাল,

” ইউ নো,না, সব জায়গায় তো এখনো চুমু খাওয়া-ই হয়নি, এখনো তো অনেক জায়গায চুমু খাওয়া বাকি, রাইট নাও?

তিতলি হতভম্ব হয়ে গেলো ফারাজ কথা শুনে।

সে তো এমন কিছু লিখবে কখনো কল্পনাও করেনি। আর এই লোক কিসব বলছে? লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়া মেয়েটা ফারাজের হাত একটু জোরে খামছে ধরল। না বোঝার ভান ধরে বললো,

“মা..মানে?”

ফারাজ ভ্রু উঁচিয়ে হাসল। বউকে জ্বালিয়ে যেন সসে পৈশাচিক আনন্দ পায়। সেটা কষ্ট দিয়ে হোক কিংবা লজ্জা বা অন্যভাবে। এমুহূর্তে তার চোখেমুখে দুষ্টমির চাপ স্পষ্ট। বউকে লজ্জার সাগরে ডুবিয়ে মারার জন্য এবারও আগের ন্যায় ফিসফিস করে আওড়াল,

“ইউ ডোন্ট নো দ্যাট! তোমার হাসবেন্ড তোমার শাড়ি খুলেছে নাভিতে হাত দিয়েছে, এসব..এসব লিখবা তাইনা আইমিন আমি বলতে চাচ্ছি যে লিখলে তে সবকিছুর বিস্তারিত লিখতে হয় তাইনা বলো?”

ফারাজের ওমন বেফাঁস প্রত্যুত্তরে লজ্জায় মরি মরি অবস্থা হলো তিতলির। তক্ষুনি নত হলো তার ঘাড়। চিবুক এসে ঠেকল গলায়। দুগালে হুট করেই দেখা মিললো একরাশ লজ্জালু লালিমা। উপচে পড়া লজ্জাগুলোতে একপ্রকার ঢাকনা দিয়ে মানবী ত্বরিত ঝাঁঝ ঢালল কন্ঠায়! দাঁত খিঁচে শুধালো,

“ছিঃ, ওসব কেন লিখব?”

ফারাজের জবাব এলোনা। তিতলি আবার একই সুরে বলল,

“বলুন সবকিছু বিস্তারিত লিখতে হবে এটাতো কোথাও লিখা নেই।”

“বলুন না।”

“এই শুনছেন না?”

এবারের কথাটা তিতলি ফারাজের হাতে একটু ঝাকুনি দিয়েই বলল। এতে কাজ হলোও বৈকি। সামনের দিকে হাঁটতে হাঁটতে সহসা থমকে দাঁড়ালো ফারাজ। তার চোখের দৃষ্টি অস্বাভাবিক ভাবে ছোট হয়ে এলো এবার। সেটা দেখতেই পেলো না চঞ্চলা তিতলি। তাছাড়া দেখবেও বা কি করে? বাইক থেকে নামার সময় যে চোখে কালো সানগ্লাস পরে নিয়েছে ফারাজ। তাই ওর চোখের দৃষ্টি ঠিক আন্দাজ করতে পারছে না তিতলি। একবার ফারাজের দিকে তাকিয়ে আবার নিজে নিজে ভাবলো কিছু। এতক্ষণ নিজের মতো কথা বললেও এবার সে সম্বিৎ ফিরে পেলো যেন। জায়গাটা এতটায় সুন্দর যে সে কল্পনার জগতে চলে গিয়েছিল। বিস্মিত হয়ে নিজের প্রিয় পুরুষের দিকে তাকাল সে, দ্বিধাহীন কণ্ঠে প্রশ্ন ছুড়লো ,

“কথা বলছেন না কেন হুহ? আচ্ছা, আপনি এতো দেরি করে জবাব দেন কেন? আমি কি নিয়ে কথা বলছিলাম ভুলে যাই তো।”

এতোক্ষণে চোখের পাতায় পলক ফেললো ফারাজ। ভীষণ মনেযোগে বউয়ের কথা শুনতে শুনতে কখন যে তারা দুজন একেবারে পার্কের কর্ণারের দিকে চলে এসেছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। এদিকটায় মানুষজনের আনাগোনা একেবারেই কম, বলতে গেলে হাতে গনা দু-তিনজন হবে। তিতলি এতটাই অমনোযোগী ছিলো যে ফারাজ তাকে কোনদিকে নিয়ে এসেছে বুঝতেই পারেনি। বুঝার কোনো চেষ্টাও করেনি। তাকে যদি এখন জঙ্গলেও নিয়ে যায় সে জঙ্গলে যেতেও একপায়ে রাজী। তবে এখন ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,

“এদিকে তো কেউ নেই।”

ফারাজের জবাব এলো সাথেসাথেই,

“কেউ নেই বলেই এদিকে এসেছি। “

“কিন্তু কেন? “

“আমি চাইছি তাই।”

“কিন্তু আমি চাইছি না। ওদিকে চলুন।”

ফারাজের ত্যাড়া জবাব,

“বেশি কথা বলছ তুমি।”

তিতলি চোখ ছোট ছোট করে বলে,

“তাহলে কি চুপ হয়ে যাবো?”

ফারাজের ব্যস্ত কণ্ঠ,

“প্রশ্নই ওঠে না।”

ফারাজের মনে এইমুহূর্তে কি চলছে কে জানে? নিশ্চিতে হেঁটে এসে এই জায়গাটায় বেচে নিলো নিজেদের জন্য। অনেকগুলো রিভলভিং চেয়ার সাড়িসাড়ি করে সাজানো সেখানে। রিভলভিং চেয়ারের কিছুটা সামনে জায়গা করে নিয়েছে বিশাল সুইমিংপুল। আশেপাশে অনেক ফুল গাছ। বিকেল হওয়ায় তেমন কেউ নামছেনা পুলে। সাধারণত দুপুর কিংবা তার আগে যারা এখানে আসে তারা সুইমিংপুলে গোসল করেই যায়। তাছাড়া বিকেলেও যাদের নামার ইচ্ছে থাকে তারা নামে বলা নেই।

ফারাজ আশেপাশে একবার নজর বুলিয়ে নিলো। অতঃপর রিভলভিং চেয়ারে আরাম করে পায়ের উপর পা তুলে বসল, সাথে তিতলিকেও নিজের গা ঘেষে বসাল। সুইমিংপুলের দিকে দৃষ্টি রেখে তিতলি হঠাৎ আবদার করলো,

“আমি সুইমিংপুলে পা ভিজাতে চাই প্লিজইই।”

অতি সাবলীল ভাবে কথাটা বলেই চেয়ার ছেড়ে চড়ুইয়ের মতো চঞ্চল পদচারণে সুমিংপুলের একেবারে কাছে চলে আসল তিতলি। পা থেকে জুতো জোড়া খুলে একপাশে খুলে রেখে শাড়িটা একটু উপরে তুলে পাজোড়া পানিতে ভিজিয়ে দিল সে। আহ, আরাম! এই সুখের কোনো বর্ননা নেই। শীতল উষ্ণতায় মন স্বাচ্ছন্দ্যে দুলছে। ঘাড় ঘুরিয়ে তিতলি হাতের ইশারায় ফারাজকে ডাকল,

“আসেন।”

ফারাজ রিভলভিং চেয়ারে দুলতে দুলতে অনেকক্ষণ ধরে বউকে গভীর দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে এক ধ্যানে। তর্জণী আর মধ্যমা দুটো একত্রে কপালের উপর বোলাতে বোলাতে মোহাবিষ্ট নয়নে দেখে চলেছে সিক্ত রমণীর প্রতিটি আবেদনময়ী পদক্ষেপ। মৃদু বাতাসের সাথে শাড়ির লম্বা আঁচলটা উড়ছে। সুইমিংপুলের পানিতে বেসামাল ভাবে পা দুলিয়ে চলেছে। কখনো হাত পানি দিয়ে ছুঁয়ে দিচ্ছে। প্রাণ খুলে হাসছে। হঠাৎ করে ঘুরে ফারাজকে ডাকছে। সাড়াশব্দ না করলে মুখ বেঁকিয়ে আবারো পা দোলাতে ব্যস্ত হয়ে উঠছে। এই দৃশ্যটি একটি রোমান্টিক মুভার মতো দেখাচ্ছে। এতক্ষণ ফারাজের মুখে রাগ থাকলেও রাগ ছাপিয়ে দু’চোখে জড়ো হলো অপার মুগ্ধতা। তিতলি পানিতে পা দুলাতে দুলাতে অকস্মাৎ অনুভব করল তার পাশে কারো বসার উপস্থিতি। সে চিনে এই মানুষকে। তার শরীরের সুবাস সব কিছুই তার চেনা। পাশে না তাকিয়েই মৃদুসুরে জিজ্ঞেস করলো,

“জায়গাটা অনেক সুন্দর তাইনা?”

কথাটা শুনে আচমকা থমকায় ফারাজ। মেয়েটা তাকে ডেকেছে না চাইতেও সঙ্গ দিতে চলে এসেছে সে। আশ্চর্য! নিজে জিন্স প্যান্টটা ভাঁজ করে একটু উপরে তুলে পানিতে পা ভিজিয়েছে সে। দুপা অবলীলায় দোলাতে দোলাতে পাশ থেকে গভীর দৃষ্টে তাকাল তিতলির মায়াবী মুখখানার পানে। তিতলি উত্তরের আশা না করে অধৈর্য হয়ে আবারও প্রশ্ন করে,

“আচ্ছা বলুন তো কোনটা বেশি সুন্দর এই সুন্দর জায়গাটা নাকি আমি?”

ফারাজ কোনো উত্তর দিল না। মনেমনে ভাবে, মেয়েটা এই জায়গার সাথে নিজেকে তুলনা করছে? জবাব না দিয়ে সুইমিংপুলের একেবারে শেষপ্রান্তে তাকাল সে। খোলা আকাশে ধীরেধীরে ডুবে যাওয়া গোলাকার সূর্যের পানে দৃষ্টি স্থির করে বসে রইল। যুবকের হ্যাজেল রঙা চোখদুটো আটকে আছে হালকা লাল রঙা সূর্যে, আর তিতলির অধৈর্য দৃষ্টি থেমে আছে ফারাজের উপর। অকস্মাৎ ফারাজ নীরবতা ভেঙে বলল,

“কোনটাই নয়,আমার কাছে ওই ডুবে যাওয়া সূর্যটাই বেশি সুন্দর।”

“সূর্য?”

ফারাজের মুখ থেকে বেরিয়ে আসা বাক্যে হতবিহ্বল কন্ঠে পরপর একই প্রশ্ন আওড়ালো তিতলি। ফারাজের দিকে তাকিয়ে আছে সে। চাহনিতে প্রশ্ন নিয়ে।

অদ্ভুত ভাবে ঘোর লেগে আসছে ফারাজের। সূর্য থেকে দৃষ্টি সরে মুহূর্তেই রমণীতে স্থির হলো তা। দুটো কাঁপাকাঁপা চিকন ঠোঁট তাকে মুহূর্তেই কাবু করে নিলো যেন। আশেপাশের সব শব্দ ভুলে গেল সে। সেকেন্ডের মধ্যেই মাথাটা অনেকখানি ঝুঁকিয়ে এনে একহাত এগিয়ে পিঠ বাকিয়ে কোমরে রাখল সে। পরপর উষ্ণ নিশ্বাস ফেললো বউয়ের পরিপাটি মুখের ওপর। আকস্মিক উষ্ণতায় দুলে উঠল তিতলির ভীত সন্ত্রস্ত অন্তরঃকরণ। সে হতবিহ্বল হয়ে কিছু বলার আগেই কর্ণকুহরে পৌঁছালো ফারাজের মাদকীয় কন্ঠের ঝঙ্কার,

“সবার মুখে যদি চাঁদ শব্দটা-ই শোভা পায় তাহলে সূর্যের কদর কে বুঝবে হুম? সবাই চাঁদকে চাক আমি ফারাজ খান একাই গোটা সূর্যকে চাই যে সূর্য তার রুপের আগুনে আমার সর্বাঙ্গ জ্বলসে দিতে পারে যার দিকে একবার তাকালে নিজেকে কন্ট্রোল করে রাখা কষ্ট হয় ভেতরটা জ্বলেপুড়ে শেষ হয়ে যায়, যার সংস্পর্শ পেলে নিজেকে মাতাল মাতাল লাগে, তখন ইচ্ছে করে… ইচ্ছে করে সব ধ্বংস করে ফেলতে সব।”

তিতলি খুব করে বুঝলো ফারাজ সূর্য বলতে তাকে বুঝিয়েছে। সেটা সোজাসোজি বললে কি পাপ হতো? হুহ! তাও এই একটুখানি স্বীকারোক্তিতে,তুলতুলে ভালোলাগায় ভরে গেল বুকটা। নিজেকে খানিকটা গুটিয়ে নিয়ে রিনরিনে গলায় শুধালো ,

“কি আছে আমার মাঝে?”

“কি আছে তোমার মাঝে যা আমার অজানা? সব জানতে চাই আমি। আরও গভীরে যেতে চাই তোমার। যতটা গভীরে গেলে তোমার কোনোকিছুই আর অজানা থাকবেনা ঠিক ততটা গভীরে।”

চোখ বুঁজে বিপন্ন ভঙ্গিমায় তিতলি জানতে চাইলো,

“ভালোবেসে ফেলছেন বুঝি আমায়?”

ফারাজ জবাব দিলো না, শুধু পাশ থেকে তিতলিকে টেনে নিজের উরুর উপর এনে বসাল। তিতলি চারদিকে একবার নজর বুলালো। লোকটা কি করতে চাইছে তার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারছেনা সে। সব বলে ভালোবাসি কেন বলেনা? তার ভাবনার মাঝেই ফারাজ নিজের মুখটা তিতলির নরম গালের সাথে মিশিয়ে নিজের খোঁচা খোঁচা দাড়ির চোয়াল চেপে ধরে কিছুক্ষণ সূর্যের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে রাখল। তক্ষুনি তিতলি ভাবুক হয়ে বলে,

“আচ্ছা ঝিলিক আপুরা কোথায় দেখছিনা কেন?”

“এখানে থাকলেই তো দেখবে। “

তিতলির ত্যাড়া জবাব,

“এখানে এসেছে এখানে থাকবেনা তো কি আফ্রিকার জঙ্গলে থাকবে?”

ফারাজ নিজের কাজে ব্যস্ত। ধীরেধীরে তিতলির শাড়ির বাঁজে বাঁজে নিজের পুুরুষালী শক্তপোক্ত হাত ডুকিয়ে দিলো। পানির ভেতরে তিতলির দুপায়ের সাথে নিজের পা বাধল। তিতলি থরথর কেঁপে উঠল ওমন কাজে। লোকটা কি চাইছে? ফারাজ হাতের আঙুলগুলো বউয়ের তুলতুলে পেটের দুপাশে বিচরণ করাতে করাতে বললো,

“ওরা এখানে থাকলে আমাদের এমন একটা রোমান্টিব মুহূর্ত মিস হয়ে যেত না?

“আমিতো চাই যেন মিস হয়ে যাক! ছাড়ুন!”

তিতলি ফারাজের দুহাতে নখের চিমটি কেটে কথাটা বললো। ফারাজের মধ্যেে কোনোরুপ ভাবান্তর দেখা গেলোনা। সে তিতলিকে আরও কাছে টেনে নিজের দুউরুর মধ্যভাগে বসিয়ে চেপে ধরল নিজের সাথে। বউকে নিজের সাথে পিষে ফেলতে চাইছে যেন। হিসহিসিয়ে জবাব দিলো সে,

“তুমি তো স্বেচ্ছায় ডেকে এনেছ আমায়। একবার যেহেতু ধরেছি ছাড়ার কথা ভুলে যাও হুম!”

“ছাড়ুন বলছি কেউ দেখে ফেলবে।”

” এখন যদি এটা পার্ক না হয়ে বেডরুম হতো না আই সোয়ার, তোমাকে আমি খেয়ে..”

আমাকে আপনি?

ফারাব সম্পূর্ণ কথা শেষ করার আগেই তিতলি কথাটা বললো। ফারাজ আবার কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনি আলভী, অয়ন , ফরহাদ ঝিলিক,আয়েশা,কলি, সবাই কোথা থেকে হাজির হলো। পেছন থেকে একসুরে বলে উঠে,

“আমরা মনে হয় স্বামী স্ত্রীর রোমান্টিক মুহূর্তে চলে এসেছি।”

চলবে।

[আমার ধারনা ছিল গল্প লিখা ছেড়ে দিব। তবে আবার লিখলাম। যদি তোমরা ঠিকমতো রেসপন্স করো তাহলে শুরু করব আবার। পরিক্ষা দিয়ে এসে লিখলি এতটুকু। আমি ঝামেলায় আছি তাও লিখছি শুধু তোমাদের জন্য। সবকিছুর একটা শেষ আছে আমার মনে হয় ফারাজ তিতলির ভালোবাসা অপূর্ণ রাখা উচিত হবেনা। তাদের সুন্দর সংসার আর বাচ্চা হবে তারপর শেষ করব।]

#রাগে_অনুরাগে

#পর্ব_৪৮(শেষাংশ)

#সুহাসিনি_ফাতেহা

“আমাদের অন্য পার্কে যেতে বলার কারণ তাহলে এটাই? ভাগ্যিস আমরা আশেপাশেই ছিলাম নয়তো ফ্রিতে এমন একটা ডিআইপি দৃশ্য মিস করে ফেলতাম পার্কটাও বাদ রাখলি না ছিঃ ছিঃ!”

পেছন থেকে ব্যঙ্গাত্মক কথাগুলো কর্ণকুহরে পৌঁছানো মাত্রই তিতলিকে এক ঝটকায় কোল থেকে নামিয়ে দিলো ফারাজ। ভাব-ভঙ্গিমা এমন যেন এইমুহূর্তে কিছুই হয়নি। হঠাৎ নামিয়ে দেওয়ার ফলস্বরপ তিতলির শাড়ির নিচের দিকে অনেকটা ভিজে যায়। কোনোরকমে উঠে দাঁড়াতে গেল কিন্তু কর্ণারে থাকায় ভুলবসত পাজোড়া পিছলে গেল বেচারির। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই মুহুর্তেই বেসামাল ভঙ্গিতে সুইমিংপুলে পড়ে গেল। ঘটনাটা এতটাই দ্রুত ঘটলো যে ফারাজও ধরার সময় পেলোনা। চারপাশে ঝপাৎ করে শব্দ বয়ে গেল পানির আওয়াজে। কিছু পানি ফারাজের চোখমুখে ছিঁটকে এসেছে। শার্ট প্যান্টের অনেক যায়গায় ফোটা ফোটা পানি স্পষ্ট। তিতলির নাকমুখে পানি ঢুকেছে। চুলগুলো ভিজে সর্বাঙ্গে লেপ্টে আছে। মুখের সামনে থেকে কিছু চুল সরিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। কোমরের উপর সমান পানি। ভাগ্যিস পানি কম নয়তো এতক্ষণে ডুবে যেত সে। পানির মধ্যে জড়সড় হয়ে মনমনে ভাবছে,

“ইসস্ কেন যে পড়তে গেলাম এখন তো ওনি আর আমাকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাবেনা মনেহয়। পানিও তো অনেক ঠান্ডা।”

মনেমনে আল্লাহর কাছে দোয়া করছে,

” আল্লাহ, আল্লাহ গো এবারের মতো ভাল্লুকের হাত থেকে আমাকে বাঁচাও।”

ফারাজ স্থির দৃষ্টে তিতলির পানে তাকিয়ে আছে। শাড়ি শরীরের সাথে লেপ্টে আছে। বুকের ভাঁজ স্পষ্ট ভাবে দৃশ্যমান। চকচকে পরিষ্কার পানির ভেতরে শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গের ভাজ বোঝা যাচ্ছে। তিতলি সেটা লক্ষ্য করে নিজের শাড়ির আঁচল টেনে বুক ঘুরে নিচ্ছে। আর ফারাজ তখনো ফ্যালফ্যাল নয়নে তিতলিকেই দেখছিল। এই মূহুর্তে তার দু’চোখে ঝাপসা হয়ে আছে দুনিয়ার সমগ্র অনিশ্চয়তা। কেবল এই চঞ্চলা নারীটা ছাড়া সবকিছুই যেন অর্থহীন, অপ্রয়জনীয়। তিতলি নিজের অবস্থা বুঝতে পেরে পেছনে ঘুরে গেল। ভীষণ লজ্জা সাথে ভয় লাগছে তার। কিছু চিন্তা মাথায় আসছে। কিছুদিন আগে একটা নাটকে দেখেছে, সেখানে এমন একটা সিন ছিলো,

নায়িকা পানিতে পড়ে যাওয়ায় নায়কও ঝাপ দিয়ে নায়িকাকে কোলে নিয়ে উপরে তুলে আনে। কিন্তু সেখানে তো নায়িকা ডুবে যাচ্ছিল সে তো ডুবে যায়নি। এখন আফসোস হচ্ছে সে কেন ডুবে গেল না।

পেছনের সবকটা টানটান উত্তেজনা নিয়ে সামনে তাকিয়ে রইল। যেমন সামনে কোনো রোমান্টিক মুভি চলছে। রোমান্টিক তো বটেই। এইযে তিতলি পানিতে জড়সড় হয়ে আছে। লজ্জা পেয়ে পেছনে ঘুরে দাঁড়িয়ে আর ফারাজ তাকিয়ে আছে সেদিকে, ধমকও দিচ্ছেনা। দুজনের কেউ কোনো কথা বলছেনা। তাদের দেখে মনে হচ্ছে ফ্লিমের নায়ক নায়িকা। আলভীরা তো আবার ঠাট্টার সুরে বলেই উঠলো,

“ইসসরে ভাবিতো সুইমিংপুলে পড়ে গেছে।

সবতো ভিজে গেছে

চিন্তিত হয়ে কথাটা বলে সামনে তাকিয়ে রইল ঝিলিক। আলভী বললো,

” যাই হোক পরের সিনটা দেখার জন্য আমরা অধির আগ্রহে দাঁড়িয়ে আছি।”

কথাটুকু শুনে একটু নড়চড়ে উঠলো ফারাজ। পেছনে বাদর গুলো আছে আর তিতলির শাড়ি শরীরের সাথে লেপ্টে আছে সেটা মস্তিষ্কে জানান দিতেই ভীষণ রাগ লাগলো তার। অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে পেছনে ঘুরে তাকাতেই আলভীদের সবাইকে

পেছনে ঘুরে যেতে দেখা গেল তখন। ফারাজ চোয়াল শক্ত করে বসা থেকে উঠে দাঁড়াল। বিকেলে সবাই মেইন জায়গাতেই ঘুরাঘুরি করে তাই এখানকার অবস্থা কারো নজরে নেই। ফারাজ স্বঃস্থির নিশ্বাস ফেলে সব কাজিনদের উদ্দেশ্য গম্ভীর গলায় বললো,

“তোরা সবাই যা এখান থেকে।”

“কি”

তিতলির চোখ রসগোল্লার মতো বড়বড় হয়ে গিয়েছে। সবাইকে চলে যেতো বলার মানেটা সুবিধার লাগছেনা। গলার জোর বাড়িয়ে মুখে যা আসল বলল,

“কেউ যাবেনা গো আমাকে বাঁচান। ও অয়ন ভাইয়া।”

অয়ন চোখজোড়া পিটপিট করে তিতলির অসহায় মুখটা লক্ষ্য করল। ফারাজ চোখ রাঙায় অয়নকে। অয়ন ফারাজের চোখ রাঙানি দেখে ভয়ে ভয়ে এখন থেকে কেটে পড়ল।

“তোরা যাবি এখান থেকে? “

ওরা সবাই একজনের দিকে একজন মুখ চাওয়াচাওয়ি করে ফারাজের কথাটা শুনে। যেন চোখের ইশারাতে বলছে, “চল এখান থেকে যার বউ সেই বুঝবে সব” বলা তো যায়না এখানে থাকলে ফারাজ তাদের সবকটাকে পানিতে চুবিয়ে মারবে। তাছাড়া তিতলি পানিতে ভিজে কাকভেজা অবস্থা। এতমাঅবস্থায় তারা এখানে থেকে ভাবিকে অস্বস্তিতে ফেলতে চাইনা। সাথে নিজেরাও বিপদে পড়তে চাইনা। তাই সবকটা মিটমিটি হাসতে হাসতে একটু দূরে সরে গেল চুপচাপ ।

সবাই চলে যেতেই ফারাজ আবার সুইমিংপুলের সামনে এসে এগিয়ে আসল। কেমন একটা দৃষ্টিতে তিতলির দিকে তাকায়। তিতলি পানিতে ফারাজকে দেখতে পায়। স্পষ্ট দেখে ফারাজ তার দিকে তাকানো। সেও পানির দিকে তাকিয়ে আছে অপরাধীর ন্যায়। অজানা কারণে মুখ তুলে সরাসরি তাকাতে পারছেনা। কি করবে এখন? সে নিশ্চিত হলো ফারাজ এখন তাকে আকাশ ফাটিয়ে ধমক দিবে। কিন্তু সে তো ইচ্ছে করে পড়েনি। ভাবতে ভাবতে ভয়ডর দূরে ঠেলে সেও ফারাজের দিকে তাকাল। ফারাজকে দেখে ঠিক বুঝা যাচ্ছেনা সে রেগে নাকি না। তিতলি ভেবে নিয়েছে ফারাজ রেগে। তাই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করানোর জন্য আগে আগেই ভয়ার্ত গলায় বলল,

“ধমকাবেন না একদম। আমি ইচ্ছে করে পড়িনি। এখানটা যে এত পিচ্ছিল হয়ে ছিলো তা কি আমি জানতাম?”

দীর্ঘশ্বাস ফেলল ফারাজ। কারণ সে জানে তিতলি পা স্লিপ করেই পড়ে গিয়েছে। তার চিন্তা হচ্ছে সুইমিংপুলের পানি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ঠান্ডা। বেশিক্ষণ ভিজা কাপড়ে থাকলে তিতলির জ্বর আসবে। মোবাইলটা পকেট থেকে কের করে হোয়াটসঅ্যাপে গিয়ে অয়নকে মেসেজ দিয়ে বললো,

“আশেপাশে কোথাও শপিং মল থাকলে জানাতে। “

তারপর দ্রুত পানির দিকে একটু ঝুঁকে নিজের হাত বাড়িয়ে দিলো তিতলির দিকে। গম্ভীর কন্ঠে হুকুম ছেড়ে দিলো,

“উঠে আসো।”

তিতলি যেন ফারাজের ‘ উঠে আসো কথাটা’ বলার অপেক্ষাতেই ছিলো। মুহুর্তেই দ্রত গতিতে পানির ভেতরে ডুবিয়ে রাখা নিজের হাত তুলে একবার ফারাজের বাড়িয়ে রাখা হাতের দিকে তাকাল। সহসা দুষ্ট বুদ্ধি চেপে বসল মাথায়। ফারাজের হাত ধরে দুষ্টু হাসলো সে। বড্ড শক্ত করে ধরেছে। যেন সে এখনই উঠবে। ভেজা চোখে, একটু ফারাজের গম্ভীর মুখের দিকে তাকিয়ে শয়তানি হাসি দিলো। শরীরের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে ফারাজকে টান মারল। আচমকা টানে ঝুঁকে থাকায় ফারাজ কিছুটা ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলে। এক পা সুইমিংপুলের ভেতরে পড়ে যায়। অন্য পা টা উপরে থেকে যায়। লম্বা পা জোড়ার ফলে নিজেকে সামলে নিতে পেরেছে। নিজেকে সামলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বউকে কয়টা কড়া কথা শুনানোর জন্য প্রস্তুতি নিলো ফারাজ।

তিতলির কাছে সবটা একটা স্বপ্নের মতো লাগছে। সে চেয়েছিল ফারাজকে টেনে পানিতে ফেলতে। শুধুশুধু শরীরের শক্তি কমে গেল। তার মতে, ফারাজকে টেনে পানিতে ফেলতে হলে তাকে দৈনিক শক্তির বাড়ানোর জন্য তিনকেজি করে ডিম খাওয়া লাগবে।

ফারাজ শান্ত ভঙ্গিতে আবার কিছু বলতে নিলে তিতলি পানি ছুড়ে মারল ফারাজের দিকে। ফারাজ হাত নিজের মুখের সামনে ধরে বলল,

“কি করছো এসব।”

তিতলি থামল না। পুনরায় দুহাতের সাহায্য একগাদা পানি ছুড়ল। পরপর আরও কিছু। মুহূর্তেই ফারাজের শার্টের উপরের অংশ ভিজে গিয়েছে। তাও তার চোখেমুখে রাগের আভাস নেই। তিতলির সাহস বেড়ে গেল। সে পাগলের মতো পানি ছুড়তে লাগলো। বলতে লাগলো,

“কেমন লাগছে?”

এবার রাগী দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত করল ফারাজ। তিতলির মন থেকে কিছুক্ষণ আগেই ভয়ডর উবে গিয়েছে। সে ফারাজের রাগী দৃষ্টিকে একপ্রকার ইগনোর করে খিলখিল করে হেসে উঠে বললো,

“এবার ঠিকাছে হুহ! শুধু আমি কেন ভিজব তাই আপনাকেও ভিজিয়ে দিলাম।”

ফারাজ নিজের গা ভিজে গেছে সেটায় তেমন একটা কেয়ার না করে তিতলির কথা শুনল।

ধমক দেওয়ার জন্য তার পাতলা ঠোঁটজোড়া কাঁপছে। গলায় ধমক আটকে রাখে সে। আবারও তিতলির দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে নরম গলায় বললো,

“আমি বলছি উঠে এসো। রাগিয়ো না আমায়।”

“ভয় দেখাবেন না একদম। সব দোষ আপনার আপনি কোল থেকে না নামালে আমি পড়তাম না।”

সুদর্শনের সুশ্রী মুখাবয়বে রাগের ছাপ স্পষ্ট হয়ে এসেছে! অধর কোণে দাঁত বসিয়ে হিসহিসিয়ে যাচ্ছে কেমন। চঞ্চলা রমণীর ত্যাড়া বাক্যবাণে রাগের পারদ আকাশ ছুঁই ছুঁই তার।

চিবুক শক্ত করে চিড়বিড়িয়ে আওড়ায় সে,

“আমার মেজাজ খারাপ হচ্ছে, কিন্তু।”

তিতলি গাল ফুলিয়ে তাকাল। আবারও দু হাতের তালু এ এক করে পানি নিয়ে ফারাজের দিকে ছুড়ে মারল। ভুলবসত ফারাজের প্যান্টের একেবারে অগ্রভাগে গিয়ে পড়ল সে পানি। ফারাজ একবার নিজের প্যান্টের দিকে তাকায় আবার তিতলির দিকে। তিতলিও বড়বড় চোখ করে ফারাজের দিকে তাকায়। দুজনের চোখাচোখি হতেই তিতলি কোনোরকমে নিজের হাসি আটকে রাখে। মুখ খুললে নিশ্চিত সে আকাশ ফাটিয়ে হাসি হাসবে।

নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে বিড়বিড়ালো,

” নাউজুবিল্লাহ, নাউজুবিল্লাহ মনে হয় এক নাম্বার করে দিয়েছে। তেমনই তো দেখাচ্ছে!”

ফারাজ সে কথা শুনতে পেল কিনা কে জানে। তবে চোখ রাঙিয়ে তাকায় সে। তিতলি মুখ ভেংচি কেটে পরপরই জেদি কন্ঠে বললো,

“আপনি নামেন।”

তিতলি নিজের এককথায় অটল। সে চাই ফারাজ নামুক। তাই জেদ ধরে বারবার একই কথা বলে যাচ্ছে। এবারও আগের ন্যায় বললো,

“আগে বলুন আপনি নামবেন তারপর আমাকে কোলে করে উপরে তুলবেন। তারপর আমি উঠব। রাজী?”

ফারাজের অভিব্যক্তি কঠিন। রক্ষণশীল গলায় বললো,

“পানিতে অনেক বেশি ঠান্ডা।

“কিন্তু আমার ঠান্ডা লাগছেনা।”

ফারাজ এবার অধৈর্য হয়ে পড়ল। যদি এখন সেও পানিতে নামে তাহলে কিছু একটা হয়ে যেতে পারে সেটা এই মেয়েকে কে বুঝাবে? নিজের বিপদ ডেকে নিজে ডেকে আনতে চাইলে যা হয় আরকি। ফারাজ চাইনা খোলামেলা জায়গায় কিছু হোক। আসলেই আলভী ঠিকই বলে সে একটা নাদান শিশুকে বিয়ে করেছে যে কিনা সব কিছুতেই তার ত্যাড়ামি জেদ ধরে বসে থাকে। দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

“খুব মজা লাগছে না? এবার উঠে দেখাও।”

কথাটা বলে ফারাজ তিতলিতে ফেলে রেখেই ধুপধাপ পা ফেলে চলে যাওয়ার ভান ধরে হাঁটা শুরু করল সামনের দিকে। তিতলি ভয় পেয়ে যায় এবার। পানির মধ্যেই কর্ণারে এসে ফারাজকে ডাকতে থাকে। ফারাজ সাড়া দিচ্ছেনা। সত্যি কি তাকে রেখে চলে যাচ্ছে? এবার কি করবে সে? লোকটাকে বিশ্বাস নেই বলা নেই সত্যি তাকে রেখে চলে যাবে। তার কিছু বলে থামানো উচিত, কিন্তু কি বলবে? যেটা মাথায় আসল সেটা বললো,

“আমাকে রেখে সত্যি চলে যাচ্ছেন?”

ফারাজ এক সেকেন্ডের জন্য হাটা থামিয়ে দেয়। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুলে উঠল তার। তিতলির কথাটা একপ্রকার উপেক্ষা করে আবার হাঁটার জন্য পা বাড়াতেই পেছন থেকে তিতলি গলা ছেড়ে আওয়াজ তুললো এবার,

“আর কখনো আপনার কথার অবাধ্য হবেনা প্রমিজ আমি ভদ্র হয়ে যাবো একদম। আপনার সব কথা শুনব। আমাকে তুলুন।”

থমকায় ফারাজ। থমকায় তার চলন্ত পাজোড়া। ঘাড় ঘুরিয়ে শক্ত চোখে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। যেমন ওয়ার্নিং দিচ্ছে এটাই শেষবার। তার এভাবে চলে আসার ভানটা আগেই করা উচিত ছিল কিন্তু তার কেন জানি খুব করে ইচ্ছে করছিল বউকে সহ্য করার। আশ্চর্য ব্যাপার! এবার ফিরে এসে হাত বাড়িয়ে দিতেই তিতলি চুপচাপ গাল ফুলিয়ে ফারাজের হাত ধরল। ফারাজ উপর থেকে দুইহাতে টেনে তিতলিকে উপরে তুলল। তিতলি ধাক্কা খেল ফারাজের বুকে গিয়ে। ফারাজের একহাত তার অদ্ভুত এক জায়গায় ছুঁয়ে দিয়েছে। তিতলি কেঁপে উঠল স্পর্শকতার অঙ্গে ওমন স্পর্শ পেয়ে। ফারাজ বুঝতে পেরে নিজের হাত সরিয়ে আনলো। তিতলি ভীষন লজ্জা পেয়ে যায়। নিজের লজ্জা একপাশে রেখে নত মুখে জিজ্ঞেস করলো,

“আপনার কি একবারও ইচ্ছে করছিল না আমার সাথে সুইমিংপুলে নেমে গোসল করতে?”

তিতলির ঠোঁটের পানি চিকচিক করছে। চুলের পানি বপাল বেয়ে পড়ছে। শাড়ি সর্বাঙ্গে লেপ্টে আছে। ফারাজ ঢোক গিলে। তিতলির ঠোঁটের আশেপাশে লেগে যাওয়া লিপিস্টিক বৃদ্ধাআঙুল দিয়ে মুছে দিয়ে বললো,

“শুধু বাড়িতে যাওয়া হোক, তারপর গিয়ে বাথটবে চুবিয়ে গোসল করাব, আর সেখানে আমিও থাকব।”

তিতলি মুখ ফসকে বললো,

“তাই নাকি?”

“হুমম, স্বামী স্ত্রী একসাথে গোসল করার আগে কি হয় জানোতো? তখন যেন আমার সাথে গোসলও করবে বলেছো এই কথাটা মনে থাকে ওকে?”

“আমি এসব অসভ্য কথা মনে রাখতে পারব না।”

“তুমি মনে না রাখলেও আমি মনে করিয়ে দেবো।”

“বাথটব আর সুইমিংপুল এক না বুঝলেন?

“পানি তো পানিই সেটা বাথটবের হোক কিংবা সুইমিংপুলের!”

ফারাজ নিজের পরনের শার্টটা খুলে তিতলিকে পরিয়ে দিতে দিতে কথাটা বললো। ঠান্ডায় মেয়েটা কাঁপছে তাও ত্যাড়ামি কমাচ্ছেনা। সেও জানে কীভাবে এই মেয়ের ত্যাড়ামি কমাতে হয়। ব্যাপার নাহ!

শপিংমলে গিয়ে ফারাজ নিজের জন্য শার্ট প্যান্ট কিনে চেঞ্জ করেছে চেঞ্জিং রুমে গিয়ে। তিতলিও ভিজা শাড়ি চেঞ্জ করে একটা নীল রঙের গ্রাউন পরেছে। ফারাজ যেটা চোখে পরেছে সেটাই কিনেছে তাড়াহোরো করে। শপিংমল টা একেবারে পার্কের পাশেই ছিল তাই তাদের বেশিক্ষণ ভিজা কাপড়ে থাকতে হয়নি। তেমন অসুবিধাও হয়নি।

★

শপিংমল থেকে আবার পার্কে ফিরে এসেছে ওরা। কিছুক্ষণ হাটাহাটি আড্ডা দেওয়ার পর অবশেষে ওরা সবাই একত্র হয়েছে। তিতলি যখন সুইমিংপুলে পড়ে যায় তখন সেখানে নিধি ছিলোনা। সবার থেকে শুনেছে তিতলি পানিতে পড়ে গেছে।

নিধি তিতলিকে বললো,

“তুই পড়ে গেছিস কীভাবে?”

“আবার পড়ে দেখাব ?”

“কি বলে? তোকে আমি একবারও বলছি আবার পড়ে দেখা?”

নিধি বললো,

“স্যারের সাথে থেকে থেকে তুই ত্যাড়া থেকে ঘাড়ত্যাড়া হয়ে গেয়েছিস। “

তিতলি ভাবল নিধি কথাটা খারাপ বলেনি। সে এতবেশি ত্যাড়া ছিলনা। ওই যে একটা কথা আছে না? সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে। কথাটা মনে মনে বলে নিধিকে বললো,

“ভেবেছিলাম বিয়ের পর সাবানার মতো হয়ে থাকব কিন্তু পরিস্থিতি আমাকে রিনা খান বানিয়ে দিয়েছে রে।”

“তুই আগেও রিনা খান ছিলি এখন ও আছিস। এবটুও বদলাস নি।”

নিধি কথাটা বলতেই নাস্তা করার জন্য ডাক পড়ল। ওরা নাস্তা করার জন্য সেখানে গেল। ফুসকা সহ আরও কিছু নাস্তা পানি করে সবাই একসাথে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। তিতলি ফারাজের অনেক সাথে ছবি তোলার জন্য অয়নকে বললো,

“আমাদের ছবি তুলে দাও অয়ন ভাইয়া।”

“অবশ্যই। “

তিতলি ফারাজের বুকে একহাত রেখে অন্যহাত ফারাজের পেছনে রাখল। দুজনকে কত সুন্দর লাগছে। ফারাজ কিছুই বলছেনা। ভ্রুজোড়ায় সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়েছে তার। চুপচাপ বউয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ দেখার অপেক্ষা করছে যেমন। তিতলি ফারাজের দিকে তাকিয়ে আমায়িক হাসি দিল। অয়ন সাথেসাথেই সেটা ক্যামারায় বন্দি করে নিল। আরও বিভিন্ন স্টাইলে পিক তোলার পর তিতলি পিক দেখতে চলে এলো।

“কেমন উঠেছে ভাইয়া দেখি তো।”

“অনেক বেশি ভালো হয়েছে।”

অয়ন ফটোগ্রাফার তাই যেখানেই যায় নিজের ক্যামেরা টা সাথেই নিয়ে যায়। সবাই তাকে পিক তোলার জন্য পেচিয়ে ধরেছে।

সকলে মিলে প্রায় আড়াই ঘন্টা সময় কাটাল স্বপ্নবিলাস পার্কে। অনেক আনন্দে কেটেছে সবার ঘুরাঘুরির সময়টুকু। আজীবন মনে থাকার মতো এই সৌন্দর্যে ভরা পার্কের কথা। তিতলি জীবনের একটা সেরা সময় কাটিয়েছে আজকে তাও নিজের প্রিয় মানুষের সাথে। এটা তার জন্য সবচেয়ে বেশি মূল্যবান সময় ছিল।

মাগরীবের আযান দিতে বেশি দেরি নেই। পরিষ্কার আকাশে ছোট ছোট মেঘে জমতে শুরু করেছে। যেকোনো মুহূর্তেই বৃষ্টি আসার সম্ভবনা আছে। আলভী সবার উদ্দেশ্য বললো,

“এবার যাওয়া যাক। হুশিয়ার নানা আসার সময় বলেই দিয়েছেন যাতে রাত হওয়ার আগে সবাই ফিরে যায়।”

সবাই সম্মতি জানাল আলভীর কথায়। চলে যাবার টাইমে হঠাৎ কোথা থেকে একটা মেয়ে এসে ফারাজের সাথে কথা বলতে শুরু করল। যেন চেনাজানা কেউ। তিতলি পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। ভ্রু কুঁচকে মেয়েটার মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখছে। দেখে তে ভালো ঘরের মেয়েই মনে হচ্ছে। তার স্বামীর সাথে এভাবে হেসে হেসে কথা বলার রাইট সে কোনো মেয়েকে দেয়নি। এই মেয়ের সাহস কত। ইচ্ছে করছে চুল টেনে ছিড়ে দিতে। তার সামনে দাঁড়িয়ে তার ব্যক্তিগত পুরুষের সাথে কথা বলছে। প্রথমে কিছু না বললেও পরপরই যখন দেখল ফারাজও মেয়েটার সাথে কৌশল বিনিময় করছে অথচ পাশে যে সে দাঁড়িয়ে আছে সেটা মনে হয় ভুলে গেছে ! অভিমানে নাকের পাটা ফুলে উঠছে সপ্তদশী মেয়েটার। ফারাজের সাথে কেমন আছেন এসব ধরনের কথাবার্তা শেষ করে মেয়েটা বললো,

“ঘুরতে এসেছেন? আর কে কে এসেছে?’

“সব কাজিন একসাথে।”

ইমা ছোট করে বলল,

“ও!”

” তুমি কোন ডিপার্টমেন্টে কাজ করছ এখন?”

সাধারনত নিজের সমবয়সী কিংবা বয়সের ছোটদের ফারাজ সর্বদাই আপনি, তুমি ব্যবহার করে এসেছে। তাছাড়া মেয়েটাকে সে নিজের বোনের মতো জানে। নানার বাড়ি আসায় একবার রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মেয়েটাকে কিছু বখাটে ছেলেদের হাত থেকে বাঁচিয়েছিল। নিজের সামনে বোনের সমান একটা মেয়েকে টেনেহিঁচরে করছে কিছু খারাপ ছেলে আর সেটা চোখের সামনে দেখে পূরণ হতে দিবে সে? ঘটনটা আরও বছর ছয়েক আগের কথা।

মেয়েটা আবার বলে,

“অনেকদিন পর দেখা হলো ভাইয়া, আচ্ছা আন্টি আঙ্কেল কেমন আছেন?’

“ভালো।”

ফরহাদ ভাইয়াও কি এসেছে?

“হুম।”

“ভাবি কই?”

ফারাজ পাশ ফিরে নিজের পাশে তিতলিকে দেখতে না পেয়ে মুহূর্তেই কপাল কুঁচকে ফেলল। তার পাশেই তো ছিলো । হঠাৎ কই গেলো? কিছুটা দূরে ঝিলিকদের দেখা যাচ্ছে। ফারাজ ভাবে হয়তো ওদের সাথেই আছে ভেবে ফারাজ ইমাকে ফেলে রেখে হনহনিয়ে তিতলিকে খোঁজতে গেল। সে নিশ্চিত না যে তিতলি আসলেই ওদের সাথে আছে কিনা। নিজের চোখে দেখে চিন্তা মুক্ত হতে চাই। পেছন থেকে ইমা কয়েকবার ডাকল,

“কোনো প্রবলেম ভাইয়া? “

ফারাজ ঝিলিকদের কাছে এসে তিতলিকে না দেখে কিছু বলতে নিলে আলভী মেকি হাসি দিয়ে বললো,

“ভাবি কই রে?”

তিতলি ঝিলিকের পেছনে এসে দাঁড়িয়ে আছে। কেন এসেছে? ওই মেয়ের সাথে কথা বলুক। তার কি? চোখ একটা কোনোমতে ফাঁকে দিয়ে ফারাজকে দেখছে ভেজা নয়নে। সারাটা দিন আনন্দে কাটালেও এই একটু

তিতলি বড্ড জড়সড় হয়ে ঝিলিক আর নিধির পেছনে দাঁড়িয়ে। ফারাজ তিতলিকে দেখছেনা কোনোভাবেই। অজানা ভয়ে ক্ষীপ্ত হয়ে উঠল সে। আলভীর উপর তার সন্দেহ হচ্ছে। আলভীর কলার টেনে ধরে শক্ত গলায় বললো,

“আমার বউ কই? কোথায় লুকিয়ে রেখেছিস ওকে?”

তিতলি আড়াল থেকে নিজেও ব্যঙ্গ করে বলছে,

“আমার বউ কই কোথায় লুকিয়ে রেখেছিস ওকে?

আমি নিজের ইচ্ছেই লুকিয়ে আছি। আর শোন, আমি তোর বউনা বুঝছিস?”

মনেমনে কথাটা বলছে। আলভী বললো,

“কোথাও লুকিয়ে রাখিনি। তুই থাক আমরা ভাবিকে আমাদের সাথে নিয়ে গেলাম।”

কথাটা বলতেই আড়াল থেকে তিতলি বেরিয়ে এলো। ফারাজকে উপেক্ষা করেই সবাই তিতলিকে সাথে নিয়ে যেতে থাকলো। কিছু দূর যেতে না যেতেই তুমুল বৃষ্টি নেমেছে। আচমকা বৃষ্টিতে সকলেই খানিকটা ভিজে গিয়েছে। দৌড়ে গাড়ির দিকে এগোচ্ছে। তিতলিও সবার সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ভুল করেও ফারাজের দিকে ফিরে তাকাচ্ছেনা। দুঃখে কষ্টে তার কান্না পাচ্ছে রীতিমত। ফারাজ কোনো মেয়ের সাথে কথা বললে তার সহ্য হয়না একদম। সামান্য কিছুতেই ফারাজের উপর করা অভিমান যেমন ফ্রি। একটু কিছুতেই অভিমান করে বসে এই মন।

ফারাজ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে তখনো। একটু নড়ছেওনা। বৃষ্টির মধ্যেই কিছুটা ভিজে গিয়েছে। বৃষ্টি প্রথমে যেভাবে হানা দিয়েছিল এখন তার ছিঁটেফোটাও নেই। থেমে গিয়েছে। ফারাজ লম্বা লম্বা কদম ফেলে সামনে এগিয়ে গেলো। কিছুক্ষনের মধ্যেই তিতলি নিজেকে হাওয়ায় ভাসতে অনুভব করল। চিৎকার করে চেপে ধরল ফারাজের শার্ট। ফারাজ রাগে কাঁপছে। মুখ দেখে মনে হলো তিতলিকে চিবিয়ে চিবিয়ে খাবে। শরীরের কোনোকিছুই বাদ রাখবেনা। তিতলি বুঝলো সে ফারাজের কোলে। আর আশেপাশের সবাই তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। অনবরত কিল ঘুষি খামছি দিতে থাকল,

“ছাড়ুন, নামান আমাকে, মানুষ দেখছে।”

“আই ডোন্ট কেয়ার?”

তিতলি রাগে ক্ষোভে, দু’হাতে ফারাজকে খামচে-খুমচে নিচে নামার চেষ্টা অব্যাহত রেখে বলতে লাগলো,

“আমার পা আছে, আমি হেটে গাড়ির কাছে যেতে পারব। এভাবে কোলে তুলেছেন কেন? এটা কোন ধরনের অ’সভ্যতা?”

“আমি কখনোই সভ্য ছিলাম না।”

“অসভ্য লোক নামান আমায়।”

ফারাজের থেকে নিজেকে ছাড়ানোর পাঁয়তারা যেন কমছেই না মেয়েটার। ধারালো নখের আঁচড়ে ফারাজের কোথায় কোথায় যে ছিঁ”ড়েফেড়ে গিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। সেসবে কোনো ভাবান্তর দেখাল না ফারাজ। জো’র’জ’বরদস্তি করে বউকে গাড়ির কাছে নিয়ে এলো। দরজা খুলে সীট বসিয়ে দিয়ে নিজেও বসে দরজা ঠিকঠাক লাগিয়ে দিলো। মুলত সে বাইক অয়নের হাতে দিয়ে গাড়ি দখন করে নিয়েছে। অবশ্যই তার নিদিষ্ট কোনো রিজনও আছে নয়তো ফারাজ থোড়াই বাইক ছেড়ে গাড়িতে করে যাবেনা সে। ফারাজ ডাইভিং সীটে বসে স্টিয়ারিং এ হাত রেখে গাড়ি স্টার্ট দিলো। একটানে গাড়ি অনেকদূরে নিয়ে থামিয়ে দিলো। মূলত তিতলির খামচাখামচি থামচে না দেখে গাড়ি থামানো। আওয়াজে গাম্ভীর্যতা টেনে বিড়বিড়ালো,

“কি সমস্যা তোমার?”

তিতলি তাকালো না ফারাজের দিকে। ফারাজকে ধৈর্যবান দেখাচ্ছে। তিতলিকে টেনে তার দিকে ফিরিয়ে তিতলির মুখ তার দু’হাতের মাঝে নিয়ে বলে,

” কি হয়েছে? আমাকে বলো?”

তিতলি নিজের গাল থেকে ফারাজের হাত নামিয়ে দিলো। ফারাজ ঠিক বুঝতে পারছে না, সে আসলে করেছে টা কি! তিতলি চোখ নামিয়ে রেখেছে। ফারাজের কেমন অসহায় লাগলো। মেয়েটা হঠাৎ তাকে ইগনোর করছে তার নিজেকে কেমন পা’গ’ল পা’গ’ল লাগছে। ফারাজ মৃদু স্বরে ডাকল,

“বউ?”

তিতলি সাথে সাথে চোখ তুলে তাকায় ফারাজের দিকে। ফারাজ তাকিয়েই ছিল চোখে চোখ পড়ার তিতলি চোখ নামিয়ে নেয়। চোখের কোণ ভিজে উঠছে। তিতলির চোখের পানি বৃদ্ধাআঙুল দিয়ে মুছে দিতে দিতে ফারাজ নরম সুরে বললো,

“আমি কি করেছি না বললে কীভাবে বুঝব হুম?”

তিতলির কেমন অদ্ভুত অনুভূতি হয়। তাও মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে দু’হাতে ফারাজকে ঠেলে দেয়। অভিমানে তার কন্ঠ আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে,

“আপনি আপনার প্রেমিকার সাথে কথা বলছিলেন না? এখন আমার কাছে কি? যান না।”

ফারাজ চোখ ছোট করে তাকিয়ে।

“কার কাছে যাব?”

“ওই মেয়ের কাছে যান। আজকে থেকে আপনার বউয়ের দরকার নেই।”

ফারাজ ঠোঁট কামড়ে হাসল। এক নিমিষেই বুঝে যায় বউয়ের রাগের কারণ। আর সে কিনা কি ভেবে বসেছিল। তিতলির কথার জবাব দিলো সময় নিয়ে,

“কিন্তু আমার তো বউ দরকার যেভাবেই হোক।”

“তো যান না, ওই মেয়েকে বিয়েও করুন। আপনার মতো জামাই আমার লাগবেনা।”

“তাহলে কেমন জামাই লাগবে আপনার?”

“যে আমার কথায় উঠবে আর বসবে তেমন জামাই লাগবে।”

“তো এখন কি করা উচিত আমার?”

“আপনি জানেন আপনার কি করা উচিত। নাটক করবেন না একদম।”

“আপনার থেকে জানতে চাই ম্যাডাম।”

“ওই মেয়ে কে ছিলো বলুন? কোনো মিথ্যা বললে আপনি একবছর বউ কাছে পাবেননা আপনার আশেপাশে ঘুরবে তাও ছুঁতে পারবেন না।”

তিতলি ফারাজের থেকে একটু দূরে বসল কথাটা বলে। একেবারে জানালার কাছে চেপে বসেছে। আগেভাগেই কথার সাথে কাজ শুরু করেছে। বাহির থেকে গাড়ির ভেতরের কিছু দেখা যায়না ঠিকই তবে ভেতর থেকে বাহির স্পষ্ট দেখা যায়। তিতলি বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকল।

তুমি যেসব আজেবাজে চিন্তা ভেবে বসে আছো তেমন কিছুইনা। ও আমার…”

“মিথ্যা বললে…”

ফারাজ ঝট করে তিতলিকে টেনে ঠোঁটজোড়া আঁকড়ে ধরে নিজের পুরুষালি ঠোঁটে দিয়ে। তিতলি বেচারি একটুও বুঝতে পারেনি। ফারাজ এমন তুফানের গতিতে কাছে আসে কেন মেয়েটি বুঝে পায় না। ফারাজ বা হাতে তিতলিকে টেনে তার সাথে জড়িয়ে নেয়, ডান হাত তিতলির চুলের ভাঁজে দিয়ে রাখে। বেশ অনেকক্ষণ পর-ও তিতলি ছাড়া না পেয়ে ফারাজকে ঠেলে ফারাজ বিরক্ত হয়,, তবে ছাড়লো না তিতলিকে। তিতলির কাধ থেকে গ্রাউন নামিয়ে ওড়নাটা খুলে সীটে রাখতেই তিতলির অস্ফুট কথা কানে এলো,

“বলছিনা আপনার বউ ধরা নিষেধ।”

“তোমাকে ধরার জন্য আমি কোনো অনুমতি নিতে আসব না। আমার জিনিস, আমি ধরবো, ছুঁবো, খাবো, যখন তখন ঝাপিয়ে পড়ব, যা ইচ্ছে তাই করব, তোমার কি?”

তিতলির অভিমান গলে পানি হয়ে এসেছে। ফারাজ তার সাথে এত সুন্দর করে কথা বললে সেকি আর অভিমান করে থাকতে পারবে? তাও সেটা ফারাজকে বুঝতে দিবেনা সে। মুখ ভেংচি কাটে ভাবছে, যেমন ভাব করছে যেন আমি ওনার সবকিছু। চোখ নামিয়ে রাখল। একদম তাকাচ্ছেনা।

ফারাজ তিতলিকে একমনে কিছু ভাবতে দেখে আলতো হাতে তিতলির থুতনিটা ওপরে তুলল। এরপর গভীর মায়াবী আহ্বানে ডাকল,

“তাকাও,। আমার চোখে চোখ রাখো।”

এমন গভীর আর সম্মোহনী আহ্বানে কি সাড়া না দিয়ে পারা যায়? তিতলিও পারল না। সে মুখ তুলে সরাসরি ফারাজের চোখের গভীরে চোখ রাখল। ফারাজ তার দৃষ্টিতে দৃষ্টি আটকে রেখে গভীর স্বরে বলল,

“তোমার আগে দ্বিতীয় কোনো নারী আমার জীবনে আসেনি আর ভবিষ্যতে ও আসবেনা। সো..ঐসব আজেবাজে চিন্তাভাবনা মাথায় না রেখে জাস্ট ফোকাস অন মি মিসেস তিতলি।”

#চলবে।

[আমার পরিক্ষা চলছে। তাই গল্প নিয়মিত দিতে পারছিনা। আর একটা আছে ওটা শেষ হলেই ইনশাআল্লাহ্‌ নিয়মিত হবো। আর ৪৮ পর্বটা অনেক বড় ছিল। প্রথম অংশ আর শেষাংশ দুটো মিলেই এক পর্ব। তাই বলা যায় পর্বটা বড়ই ছিল। পেজে রিচ ফিরিয়ে আনতে হলে নিয়মিত গল্প দিতে হবে। সবাই রিয়েক্ট কমেন্ট শেয়ার করো। তাহলে সবার কাছে পৌঁছাবে।”

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply