রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৯
আজকে শুক্রবার। ঘড়িতে সময় বিকেল চারটা ত্রিশ মিনিট বাজে এখন। আগের সাপ্তাহের শুক্রবার বিকেলে খান বাড়ির সকলে টাঙ্গাইলে এসেছিল। ছোটদের ঘুরাঘুরি,এছাড়া বিকেল টাইমে মুরব্বিদের গল্পগুজব সব মিলিয়ে এক সাপ্তাহ যেন চোখের পলকেই কেটে গেল। আজকে সবাই ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা দিবেন জানালেন। হুশিয়ার সাহেব সেকথা শুনে বলছিলেন,
“আরও দুইটা দিন থাইকা যাও সক্কলে।”
ফারিন বেগমও চাইলেন আরো দুদিন থেকে তারপর যাবেন না হয়। ওনার ধারনা, কখনো বাপের বাড়ি আসা হয়না আবার কখন আসবেন তাও জানা নেই। কিন্তু ফারাজ সহ আফজাল খান আমরুল খান সবাই চান আজকের মধ্যেই চলে যেতে। যেভাবেই হোক। তাদের মুখের উপর আর কেউ কিছু বলার সাহস পায়নি। আফজাল খানের অফিস, আমরুল খানের ব্যবসা, ফারাজের কলেজ। এগুলো বাদ দিয়ে ওনারা এক সাপ্তাহ থাকতে পেরেছেন এটাই অনেক। নিজেদের কর্ম ছেড়ে এরচেয়ে বেশি থাকা সম্ভব না। আফজাল খান গলা পরিষ্কার করে শ্বশুর আব্বার উদ্দেশ্য বললেন,
“আম্মা সহ আমাদের সাথে ঢাকায় চলুন আব্বা।”
হুশিয়ার সাহেব গম্ভীর মুখে করে সোফায় বসে আছেন। জামাতা’র কথা শুনে কোনো জবাব দিলেন না। কিছুক্ষণ পর পানের বাটা থেকে পান হাতে নিয়ে তাতে চুন লাগিয়ে মুখে দিতে দিতে জামাতাকে বললেন,
“অন্য একদিন যামু আব্বা। তোমার শাশুড়ি আম্মার শরীরটা ভালা যাইতেছেনা। ডাক্তার দেখাইতে অইবো।”
ফারিন বেগম বাবার পাশেই বসে আছেন। ফারিন বেগম সহ বাকি সবাই রেডি হয়ে ছেলে-মেয়েদের জন্য বসার ঘরে অপেক্ষা করছেন। বাবার কথা শুনে ফারিন বেগম বললেন,
“ঢাকায় গেলে আম্মাকে ভালো ডাক্তার দেখাবো আব্বা।”
“ক্যান? টাঙ্গাইলে কি ভালা ডাক্তার নাই?”
ভ্রু কুঁচকে কথাটা জিজ্ঞেস করলেন হুশিয়ার সাহেব। ফারিন বেগমকে কিছু বলতে না দিয়ে আফজাল খান জবাব দিলেন,
“আছেতো আব্বা কিন্তু ঢাকায় বড় ডাক্তার সেপ্টেম্বর করিম আছে। আম্মার তো কোমরে ধরা পেশার বাড়া ডাইবেটিস বাড়া এসবের জন্য ডাক্তার সেপ্টেম্বর করিম ভালো।”
ছকিনা খাতুন যেতে রাজী হয়ে গেলেন।
এমনিতে বুড়ো হয়ে গেছেন। কয়দিন আর বাঁচবেন। কিছুদিন ধরে শুধু মেয়েদের কাছে কাছে থাকতে ইচ্ছে করে। ছেলেদের তো সবসময় চোখের সামনেই দেখেন। সত্যি বলতে ছেলেদের সাথে বসে তো মন খুলে দুইটা কথা বলতে পারেন না। যা বলার মেয়েদেরকেই বলতে পারেন। তাই মেয়েকে বললেন,
“আমি যাইতে রাজী।”
***পাখিরা জুরুরী নোটিশ***
[এটা ৪৯ পর্ব একটা পেজ আমার আগে কিছুদিন আগে ৪৯ পর্ব চ্যাটগ্রাফ থেকে লিখে পোস্ট দিয়েছে অনেকে সেখান থেকে পড়েছেও তো তাদের বলছি সেটা ভুয়া লেখা, আসল ৪৯ পর্ব এটা। ২৪ ঘন্টা পর এডিট করে বোনাস থেকে ৪৯ পর্ব লিখে দেওয়া হবে। আর অবশ্যই রিয়েক্ট কমেন্ট শেয়ার করবেন]
ছকিনা খাতুন যাবেন শুনে হুশিয়ার সাহেবও যেতে রাজী হয়ে গেলেন। বউ ছাড়া থাকতেও পারবেন না তিনি। হুশিয়ার সাহেবের বড় ছেলে হাশেম আলী বাইর থেকে এসে সবার সাথে সোফায় এসে বসেছেন। হুশিয়ার সাহেব ছেলেকে বললেন যাওয়ার কথা। হাশেম আলী বললেন,
“বেশিদিন থাকন যাইতো নো আব্বা। ময়নার জন্য যেইভাবে বিয়ের সমন্ধো আইতেছে মনে হইতাছে শিঘ্রই বিয়া অইয়া যাইবো।”
“ভালা কথা মনে কইরা দিলি হাশেম। আইজকা বাজারে আষাঢ় সাওদাগর আমারে ময়নার জন্য একটা পোলার কথা কইলো। পোলা নাকি পেশায় ইঞ্চিয়ার”
“ইঞিয়ার না আব্বা, ইঞ্জিনিয়ার।”
বাবার ভুল ধরিয়ে দিয়ে কথাটা বললেন হাশেম আলী। হুশিয়ার সাহেব পান চিবুতে চিবুতে বললেন,
“ওই একটা কইলেই হইছে। এত শুদ্ধ কথা কইতে যাইলে দাঁত ভাঙ্গি যাইবো।”
ময়না ড্রয়িংরুমে কাজ করছিল। হাশেম আলীর বড় মেয়ে। দেখতে শুনতে,ভালো। পড়ালেখা করে ইন্টারে। নিজের বিয়ের কথাবার্তা শুনে লজ্জা পায় মেয়েটা। তড়িগড়ি করে ড্রয়িরুম থেকে কেটে পড়ল।
তখন ছকিনা খাতুন আবার হুশিয়ার সাহেবকে বললেন,
“একটু আগে কইলেন না আন্নে যাইতেন নো?”
হুশিয়ার সাহেব মনেমনে ভাবছেন,
“কি আর করমু ছকিনা তোমারে ছাড়া যে রাইতে ঘুম আইতো নো সেটা বুঝোনা?”
কিন্তু মুখে কিছু বললেন না। বুড়ো হয়ে গেছেন তো কি হয়ছে? এখনো বউকে ছাড়া ভাত খান না। বউকে জড়িয়ে না ধরলে ঘুমাতে পারেন না। আরও কত কিছু করতে পারেন না। বউয়ের প্রতি ভালোবাসাটা এখনো জোয়ান কালের মতোই আছে হুশিয়ার সাহেবের। ভালোবাসা আসলে হারিয়ে যায়না। বৃদ্ধ হয়েও একে-অপরের প্রতি কত টান তাদের।
★
আজকে টাঙ্গাইল ছেড়ে চলে যাবে তাই তিতলির মনটা ভীষণ খারাপ। টাঙ্গাইলে তার প্রিয় মানুষটার সাথে প্রথম ঘুরাঘুরি করেছে সে। তাই মন খারাপ করারই কথা। সব মন খারাপ একপাশে রেখে একটা সফেদ রঙা কূর্তি পাজামা গায়ে জড়িয়ে নিলো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একটু সাজুগোজু করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। সাজুগোজু বলতে শুধু ঠোঁটে গাঢ় লাল লিপিস্টিক দিয়েছে। তিতলির মতে, ফারাজ লিপিস্টিক দেওয়া তেমন একটা পছন্দ করেনা। নয়তো কেন বারবার সে লিপিস্টিক দিলে তা মুছে দিয়ে লিপস্টিক দিতে নিষেধ করে। মুছে দিক নিষেধ করুক তাতে কি? ফারাজকে জ্বালাতে তার ভালো লাগে। লিপিস্টিক সে দিবেই দিবে।
ফারাজ ধূসর রঙা শার্ট সাথে কালো জিন্স প্যান্ট পড়ে রেডি হয়েছে। শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত ভাঁজ করতে করতে কখন থেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে যাচ্ছে তিতলিকে। ঠোঁটে কেন লিপিস্টিক লাগাতে হবে? এই তুলোর সমেত ঠোঁটে সামান্য লিপিস্টিক লাগালেও তার ভীষণ হিংসা হয়। সেটা এই মেয়েকে কে বুঝাবে? তিতলি আয়নায় ফারাজকে নিজের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মুখ ভেংচি কেটে পুনরায় সাজায় মনেযোগ দিল। যখনি দেখল ফারাজ তার দিকে এগিয়ে আসছে তখন বক্ষপিঞ্জর কেঁপে উঠল মেয়েটার। লোকটা মাঝেমাঝে এমন ভাবে তাকায় যেন তাকে ধ্বংস করে দিবে। আর হুট করেই কাছে চলে আসে যে সে আর নিজের মধ্যে থাকেনা। সহসা পেছনে ঘুরে তাকিতেই দুজনের চোখাচোখি হলো। তিতলি জিজ্ঞেস করল,
“এভাবে তাকিয়ে থেকে কি দেখছেন?”
প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিয়ে তিতলি চোখ ছোট ছোট করে তাকাল। ফারাজের জবাব এলোনা। তবে সে কিছু একটা ইশারা করল। ইশারার মানে কি বুঝলো কে জানে সপ্তদশী মেয়েটা। তৎক্ষণাৎ কানের পিঠে চুল গুঁজে লাজুক ভঙ্গিতে। পেলব ঝাপটে নিচের দিকে তাকিয়ে থেকে রিনরিনে গলায় শুধালো,
“সুন্দর লাগছে বুঝি আমায়?”
ফারাজ এবারও জবাব দিলো না, শুধু কয়েক পা এগিয়ে এসে তিতলির মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ালো, ডানহাত দিয়ে তিতলির চিবকু ধরে মুখ উপরে তুলল। গ্রীবাটা সামান্য বাঁকিয়ে অনেকখানি ঝুঁকে উষ্ণ নিশ্বাস ফেলল তিতলির রক্তেরাঙা অধরজোড়ার উপর। গভীর গলায় বললো,
“ঠোঁটে এসব কেন লাগিয়েছো? নিষেধ করেনি আমি হুমম?”
“আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই লাগিয়েছি।”
“তুলো বলছি!
“কেন তুলবো?”
আমি বলছি তাই।”
না তুললে কি করবেন?
অন্যভাবে তোলার ব্যবস্থা করবো।
আমার আরও কিছু কালারের লিপস্টিক লাগবে আপনার কাজ আমাকে ব্যাগ ভর্তি লিপস্টিক কিনে দেওয়া বুঝলেন?”
“কোনো প্রয়োজন নেই তার।”
“কিন্তু কেন? আপনার প্রয়োজন থাকবেই বা কেন?ছেলেরা তো লিপস্টিক দেইনা লিপিস্টিক তো মেয়েরা দেই।”
“আমার ঠোঁটজোড়ায় পোষায় না তোমার হুমম?”
“আপনার ঠোঁটের সাথে লিপিস্টিকের সম্পর্ক কি শুনি?”
“অবশ্যই সম্পর্ক আছে। আমার ঠোঁট-ই এখন থেকে তোমার লিপিস্টিক ওকেহ? যত ইচ্ছে যখন তখন ব্যবহার করতে পারো,আমি কোনো বাঁধা দেবো না তাতে।”
“আপনার ঠোঁট কেন আমার লিপিস্টিক হতে যাবে? আপনার ঠোঁট থেকে কী কালার বের হবে নাকি?”
জিভ ঠেলে অধল ভিজালো ফারাজ। নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে তিতলির লিপিস্টিক মুছে দিতে দিতে হাস্কিসুরে বললো,
“অন্যকিছু তো বের তাইনা বলো? আর তুমিও তো আমার…”
ফারাজের কথার মাঝেই তিতলি জিজ্ঞেস করল,
“আপনি কি চাচ্ছেন বলুন তো?”
ফারাজ তিতলির কাঁধ থেকে জামা নামিয়ে দিতে দিতে মৃদুস্বরে বলে,
“বলতে পারবো না। প্যাকটিক্যালি ভাবে লাইভে প্রমাণ করে দেখাচ্ছি, হুম?”
“এখন.. এখন তো আমরা বাড়িতে যাবো।”
“কি দরকার ছিলো লিপিস্টিক দেওয়ার এখন তো তোমাকে এলোমেলো না করা পর্যন্ত আমি শান্ত হবো না।”
তিতলি বিরক্ত হলো। সে ভুলে কেন যায়, কু’ত্তার লেজ কখনো সোজা হয়না। সে-ও ফারাজের কাজে বাঁধা দিতে দু’হাতে ফারাজকে ধাক্কা দিল। শক্তপোক্ত ফারাজের সাথে না পেরে নিজেই দু’পা পিছিয়ে গেল। ফারাজ রে’গে তাকায়। তিতলি ঢোক গিলে। ফারাজ আরও ঘনিষ্ঠ হতে চাইলে তিতলি সর্বশক্তি দিয়ে ফারাজকে ধাক্কা দিয়ে ঝাঁঝালো কণ্ঠে বললো,
“আমাদের বাড়িতে যাওয়ার কথা ভুলে গেছেন? সবাই রেডি হয়ে অপেক্ষা করছেন।”
“শুধুমাত্র বাড়িতে যেতে হবে বলে ছেড়ে দিলাম। এখন বাড়িতে যাওয়া হোক শুধু।”
তিতলি যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো। বুঝতে পারেনা লিপিস্টিক দিলে হঠাৎ এই লোকের কি হয়? সেই-কি নতুন লিপিস্টিক দেই। কই কত বউরা লিপিস্টিক দেই তাদের স্বামীরা কি তাদের বউয়ের সাথে এমন করে নাকি শুধু তার স্বামীই এমন। তিতলির ভাবনার মাঝেই কানের কাছে পুুরুষালী কন্ঠের ঝঙ্কার,
” এত খুশি হওয়ার কিছু নেই বাড়িতে গেলে সব সুদে আসলে উসুল করে নেবো। মাইন্ড ইট!”
তিতলি আগেভাগে দরজার দিকে বেরিয়ে যেতেযেতে মনেমনে বললো,
“যখন তখন শুধু শুধু কাছে আসার বাহানা আমি সব বুঝি।” মুখে বলল,
“টলিব্যাগ নিয়ে আসুন।”
★
খান বাড়ির সামনে গাড়ি থেমেছে রাত নয়টায়। একে একে চারটা গাড়ি এসে থেমেছে মেইন গেইটে। অন্য গাড়িগুলোতে জায়গা না থাকায় ফারাজ, তিতলি একসাথে এক গাড়িতে করে এসেছে। গাড়ি ঢাকার মাঝামাঝি আসতেই তিতলি ব্যাকসিটে ঘুমিয়ে পড়েছে। এখনো একইভাবে ঘুমিয়ে। নড়ছেনা। ফারাজ তিতলির উপর একটু ঝুঁকে গিয়ে কিছুক্ষণ তিতলির ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। স্থির হয়ে আসে তার চোখজোড়া। ঘুমন্ত রমণীর তুলতুলে নরম মুখখানা ড্রাগসের মতো টানল তাকে। তারপর ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে ধীরে অস্ফুটস্বরে উচ্চারণ করল,
“কি আছে তোমার মাঝে। আমিতো আগেও তোমাকে দেখতাম তখন এমন অদ্ভুত অনুভূতি হতো না। তবে কি তুমি জিতে যাচ্ছো? তোমাকে আমার সাথে জড়িয়েছি শুধুমাত্র নিজের মতো করে যা ইচ্ছে তাই শাস্তি দেবো বলে। কী আশ্চর্য! কোনো শাস্তি-ই তো দিলাম না, বরং তুমি নিজেই দিনকেদিন আমাকে শাস্তি দিয়ে যাচ্ছো। শাস্তি দিতে দিতে একসময় আমাকে ধ্বংসের শেষপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করছো নিশ্চয়ই।”
তিতলি তখনো ঘুমে বিভোর । ফারাজ নিজের মনের অদ্ভুত চিন্তা-ভাবনা বাদ দিয়ে বউকে পাঁজা কোলে তুলে গাড়ি থেমে নেমে এলো। ফারাজের গাড়ি সবার সামনে ছিল বিধায় সবাই বড়বড় চোখ করে তাকিয়ে ফারাজের পেছন পেছন আসছে। রাত হয়ে যাওয়ায় আজকের রাতটা সবাই ফারাজদের বাড়িতেই থাকবেন। আফজাল খান স্ত্রীকে বললেন,
“দেখো তোমার ছেলের কান্ড। দিনদিন কেমন বউ পাগল হয়ে যাচ্ছে।”
“আপনিও তো যুবক কালে বউ পাগল ছিলেন এখন আপনার ছেলে আপনার মতোই বউ পাগল হচ্ছে তাতে সমস্যাটা কি?”
“তোমার দেখি সব মনে আছে ফারিন। আজকে আমারও ইচ্ছে করছে তোমাকে কোলে নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে।”
ফারিন বেগম স্বামীকে কনুই দিয়ে গুতা মেরে বললেন,
“বুড়ো হয়ে গেছেন এখনো আগের স্বভাব যায়নি তাইনা।”
“না মানে পুরানো ইচ্ছেগুলো আবার জেগে উঠছে…”
আফজাল খানের কথা থামিয়ে দিলেন ফারিন বেগম। আলভী একটু সামনে সামনে হাঁটছে। চাচা চাচিদের কথাবার্তা কীভাবে যেন তার কানে এলো। আহারে ভালোবাসা। একটু দ্রুত হেটে সামনে গিয়ে ফারাজকে খোঁচা মারা দরকার। সুযোগ বুঝে বললো,
“এভাবে সবার সামনে কোলে তুলে নিলি?”
“তোর গলার শব্দে যদি ওর ঘুম ভাঙে তাহলে তোর খবর আছে বলে দিলাম।”
“যাহ তুই আমার কি খবর করবি? আমাকেও এভাবে কোলে নিবি নাকি ?”
ফারাজ আলভীর দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষিপ্ত করল। আলভী হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছে। ফারাজ নিশব্দে তিতলি সমেত বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেলো। কেউ আর টুশব্দ করলনা। ঘরে এসে সিড়ি বেয়ে সোজা নিজেদের রুমে চলে গেল। তিতলিকে বিছানায় শুইয়ে দিলো ধীরেধীরে যাতে ঘুম না ভেঙ্গে না যায়। একটু সময় যাক তখন সে নিজেই এই ঘুমের বারোটা বাজাবে না? তিতলি হাত পা ছড়িয়ে দিয়ে ঘুমের গভীরে তলিয়ে গেল। ফারাজ একবার সম্পূর্ণ রুমটায় নজর বুলালো। হামিদা বেগম আজকে সবার রুম পরিষ্কার করে দিয়ে গেছেন। যেহেতু কিছুদিন রুমগুলোত কেউ থাকেনি তাই একটু আগাছোলা হয়েছিল। এখন সব পরিপাটি চকচকে। বাইর থেকে জার্নি করে আসলে গোসল না করে একমুহূর্তও স্বস্থি পায়না ফারাজ। তোয়ালে নিয়ে সোজা ওয়াশরুমে চলে গেলো। বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে ওয়াশরুম থেকে গোসল সেরে বের হয়ে আসলো। কোমরে তোয়ালে পেঁচিয়ে দুহাতে ভেজা চুল পেছনে ঠেলতে ঠেলতে বিছানায় নজর দিলো। তাতেই চোখদুটো স্থির হয়ে এলো রুঢ় মানবের।
তিতলির পরনের কূর্তি এলোমেলো হয়ে তুলতুলে নরম পেটের কিছু অংশ উন্মুক্ত হয়ে আছে। নাভি দেখা যাচ্ছে। পাজামা হাটুর উপরে উঠে আছে। তিতলি সম্পূর্ণ এলোমেলো হয়ে শুয়ে আছে। ঘুমের ঘোরে মেয়েটার কোনো হুশ থাকেনা। ফারাজ ভেবে পায়না এতবড় জামা কেন এভাবে উপরে উঠে যায়। নিশ্চয়ই এইমেয়ে তাকে পাগল করতে চাইছে। তিতলি ব্যাকসিটে নড়াচড়া করতে পারেনি তো তাই বিছানায় শুয়ে আড়ামে হাত পা ছড়িয়ে দিয়ে ঘুমাচ্ছে। ফারাজ ফ্যান এসি কোনোটাই অন করেনি তাই গরমে নিজেই ঘুমের মাঝে জামাকাপড় তুলে ফেলেছে। সে তো আড়াম-আয়াসে ঘুমাচ্ছে সাথে আরেকজনের ভেতরে আগুন ধরিয়ে দিলো।
ফারাজ একটু একটু এগিয়ে আসে। যুববের ঘোর লাগা চোখদুটো অটল। ভুল করেও চোখের পলক ফেলছেনা। ফারাজ নিজেকে কোনোভাবে সামলে নিতে পারছেনা। চোখজোড়া বুঁজে কিছুক্ষণ পর গ্লাস ভর্তি পানি নিয়ে বিছানার কাছে এগিয়ে আসলো। তিতলির মাথা থেকে পা পর্যন্ত নজর বুলিয়ে ঠোঁটের কোণ বাঁকিয়েফারাজ ঝুঁকে পড়ল তিতলির উপর।
“এত শান্তিতে তোমাকে কি করে ঘুমাতে দিই বলো? যেখানে তুমি নিজেই আমার ভেতরটা অশান্ত করে দিয়েছো, তাই তোমার শান্তির ঘুমটা ভেঙ্গে দিলাম স্যরি বউ।”
কথাটুকু বলে তিতলির উন্মুক্ত পেটে ধীরেধীরে গ্লাসের পানি ঢেলে দিতে শুরু করল ফারাজ। প্রথমে নাভিতে ফেলল, গোল নাভির গভীরে পানি জমলো। কিছু পানি পেট বেয়ে বেয়ে বিছানায় পড়ছে। ফারাজের ইচ্ছে করছে…ইচ্ছে করছে জিভ দিয়ে সব চুষে নিতে। পরেরবার গ্লাসের পানিটুকু সোজা মুখে ঢেলে দেয
ঘুমন্ত তিতলি ধরফরিয়ে জেগে উঠে। মুখ থেকে নিচের দিকে সব ভিজে গেছে। তাছাড়া হঠাৎ গায়ের উপর পানি পড়ায় তালগোল হারিয়ে ফেলল বেচারি। ভাবলো আগুন লেগেছে তাই ফারাজ অন্যকিছুতে পানি মারতে গিয়ে তার গায়ে মেরেছে। ভয়াতুর মানবী অস্পষ্ট বাক্যদুটো উচ্চারণ করল,
“কী..কী হয়েছে? আগুন লেগেছে নাকি?”
ফারাজ তিতলিকে দ্বিতীয়বার কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কোনো রকম ওয়ার্নিং ছাড়াই তিতলিকে এক ধাক্কায় বিছানায় শুইয়ে দিলো। তিতলি কিছু বুঝে উঠার আগেই শক্ত করে চেপে ধরে মিশিয়ে ফেললো নিজের উদোম শরীরের নিচে। তিতলির বুকের ভাঁজে এলোমেলো চুমু খেতে খেতে উ`ন্মাদের মতো আওড়ালো,
“আগুন লাগিয়ে দিয়েছো তুমি,এখন আগুন নিভিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও তোমার।”
” আমরা কখন এসেছি?”
ঠোঁট কামড়ে হাসল ফারাজ! বউয়ের কথার প্রতিত্তোর দেবার প্রয়োজনীয়তা না দেখিয়ে তিতলির স্পর্শকতার জায়গায় হাত ছুঁইয়ে দিলো।থরথর করে কেঁপে উঠল তিতলির সর্বাঙ্গে।এতক্ষণে বুঝে গেল লোকটার মতলব সুবিধার না। চোখ থেকে পুরোপুরি ঘুম উবে গেছে, রমণীর নিঁখাদ প্রতিমার ন্যায় মুখখানায় এখন যা আছে তা শুধুমাত্র লজ্জা, ভয়,নার্ভাসনেস। ফারাজ গোসল করে বের হয়ছে এখন তা বুঝতে বিন্দুমাত্র সময় লাগলোনা তার। ফারাজের চুল থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ছে তিতলির মুখে। তিতলি খেয়াল করে দেখল ফারাজের শরীরে শুধুমাত্র তোয়ালে পেঁচানো। আল্লাহ এখন যদি তোয়ালে খুলে যায়? কি হবে? তিতলির আকাশ-কুসুম ভাবনার মাঝেই কানের কাছে শুনতে পেলো পুুরুষালী মাদকীয় কন্ঠসুর,
“এতদিন তোমাকে ঠিকমতো কাছে পায়নি। এখন সব একসাথে আদায় করে নেবো।”
ফারাজ নিজের বুকে তিতলির নরম হাতখানা রেখে কথাটা বলল। তিতলির স্পষ্ট অনুভব করল ফারাজের দ্রুত গতিতে চলতে থাকা হৃদস্পন্দনের শব্দ। তিতলি ভাবছিল ফারাজ তাকে ছেড়ে দিবে এখন। কিন্তু না তিতলির ভাবনার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল হলোনা, আজ বোধ হয় ফারাজ পন করে নিয়েছে সে কিছুতেই তিতলিকে ছাড়বেনা। তিতলির জামাটা খোলার বৃথা চেষ্টা চালাচ্ছে সে। তিতলি ফারাজের হাত খামচে ধরে বলল,
“কিন্তু আমিতো সবসময় আপনার কাছেই ছিলাম।”
“স্বামী হিসেবে যতটা কাছে আসা প্রয়োজন, ঠিক ততটা কাছে আসতে চাই।”
“আ…আপনি প্যান্ট পরে নিন আগে। নয়তো তোয়ালে খোলে যাবে।”
“তো? যেমন ভাব করছো মনে হচ্ছে তুমি আমাকে প্রথম তোয়ালে ছাড়া দেখবে? তুমি তো আমাকে সেদিনও..”
তিতলি এবার লজ্জায় মরিমরি। কুশন তুলে ফারাজার বুকের উপর মারতে থাকে। ঝাঁঝাল গলায় বললো,
-‘চুপ, চুপ, একদম চুপ। খালি অসভ্য কথা? মুখ সেলাই করে দিব একদম।”
কথা শুনলোনা তিতলির অসভ্য পুরুষটা। উল্টো তিতলির শরীরের নরম জায়গাগুলোতে অনবরত কামড়ও বসিয়ে দিচ্ছে হাতও তার অবাধ্যতা শুরু করেছে। তিতলি মুঁচড়ে উঠল। ছটফটিয়ে উঠল পুরুষালি দেহের নিচে থেকে ছাড়া পাওয়ার আশায়। তিতলির পারছেনা মরে যেতে। অনুভূতিতে তার গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছেনা। আর বললেও ফারাজ শুনছেনা। সে বুঝে নিলো ফারাজ তাকে সহজেই ছাড়বেনা। ফারাজের বুকে খামছি দিয়ে ধরে রাখলো। সেদিকে লোকটা কোনো উদ্বেগ দেখালেন না। মুখটা সামান্য তুলে তিতলে চোখে চোখ রেখে বললেন,
“অসভ্য লোকের কাছে সভ্য কথা আশা করাটা বোকামি। সো…এসব বোকামি বাদ দিয়ে অসভ্য লোকের অসভ্য অত্যচারগুলোও সহ্য করে নিন ম্য্যডাম।”
“ছাড়ুন। পানি দিয়ে আপনার আগুন নিভিয়ে দিচ্ছি।”
তিতলি উঠার চেষ্টা করল ফারাজ তিতলিকে আবার নিজ বলিষ্ঠ হাতের হেঁচকা টানে বিছানায় ফেলে দিলো। অতঃপর তিতলির কানের কাছে মুখ নিয়ে ধীরলয়ে ফিসফিসিয়ে আওড়াল,
“আগুন নিভাতে পানির প্রয়োজন পড়েনা। তোমার মতো হট বউ সামনে থাকলে এমনিতেই শরীরের রগে রগে দাউদাউ করে জ্বলে উঠে।”
“আমাকে এভাবে কামড় দিচ্ছেন কেন? ছাড়ুন আমায়।”
“তোমার শরীরের সবকিছু এত তুলতুলে নরম কেন বউ? কামড় দিয়ে দিয়ে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে।”
তিতলি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে। ফারাজ চরম বিরক্তিতে মাথা তুলে তাকায়। তিতলির দিকে তাকিয়ে দেখল, তিতলি ফোঁপাচ্ছে, চোখমুখ লাল। ফারাজ তিতলিকে আবারও টেনে নিয়ে আদুরে সুরে বিড়বিড় করে,
“মা’রছি না তো, আদর করছি। কাঁদে না সোনা।”
“এমন অশ্লীল আদর আমার লাগবেনা আমার ভালো আদর চাই।”
“এমন আদরে অভ্যস্ত হতে হবে তোমায়। তোমাকে আগেও বলছি এখনও বলছি আমি অল্পসল্প আদরে অভ্যস্ত নয়। আই লাইক ডার্ক রোমান্স আই নিড অল দিস,আই জাস্ট ওয়ান্ট ইউ।”
হঠাৎ-ই দরজায় লাগাতার কেউ ধাক্কায়। ফারাজ বিরক্তি হয়। তিতলিকে টেনে নেয় আরও। দরজায় শব্দ বেড়েই চলেছে। ফারাজ বিরক্তিতে মনেমনে বলে আওড়াচ্ছে,
“এখনও তো আসল কাজ-ই করতে পারিনি । এই বউ নিজেও কিছু করতে দেইনা সাথে আমাকেও শান্তিতে কিছু করতে দেইনা। এখন আবার কোন জানো’য়ার আমার কাজে বাঁধা দিতে এসে গেছে।”
★
এরইমাঝে টানা দশদিন কেটে গেল। সবাই আবার নিয়মিত নিজেদের কাজকর্মে যাওয়া শুরু করেছে। তুষারের সাথে ঝিলিকের বিয়ে হচ্ছে কয়েকদিনের মাঝেই। কিন্তু তিতলির মন ভালো নেই। সে বাড়ি যেতে চাই কিন্তু ফারাজ তাকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেনা। সে হানিমুনে যেতে চাই তাকে হানিমুনে নিয়ে যাচ্ছেনা। কখন থেকে ভাইয়ের সাথে কথা বলছে ত
“ভাইয়া আমি বাড়ি যাবো। “
“তুই ভাবিস না ওটা নিয়ে আমি ঠিকই ফারাজ ভাইকে রাজী করিয়ে তোকে নিয়ে আসবো। “
“তোমাদের সবাইকে অনেক মনে পড়ছে ভাইয়া।”
“আজকে গিয়ে দেখে আসবো নে। মন খারাপ করিস না বোন আমার।”
“সত্যি আসবা?”
হুমম বিকেলে আসব।
“আমার যে কি খুশি লাগছে ভাইয়া, এখন রাখি তাহলে হে তোমার জন্য নাস্তা পানি বানাতে হবে না?”
“আমার বোনটা দেখি অনেক বড় হয়ে গেছে বাহ।”
“তোমাদের সবাইকে অনেক মনে পড়ছে ভাইয়া।”
তুষার:-‘আজকে গিয়ে দেখে আসবো নে। মন খারাপ করিস না বোন আমার।’
তিতলির চোখমুখ উজ্জল হয়ে আসলো।
‘সত্যি আসবা ভাইয়া’
“হুমম বিকেলে আসব নে।”
“আমার যে কি খুশি লাগছে ভাইয়া, এখন রাখি তাহলে হে তোমার জন্য নাস্তা পানি বানাতে হবে না?”
“আমার বোনটা দেখি অনেক বড় হয়ে গেছে বাহ।”
তিতলি লজ্জা পেয়ে কলটা কেটে দিলো। কত কথা মনে পড়ে তার। ভাইয়ের সাথে কত দুষ্টমি করতো।
বিয়ের পর যেন সব কোথায় হারিয়ে গেল। টাঙ্গাইলে যখন তারা ঘুরতে গিয়েছিল তখন ভাইকে অনেক মনে পড়েছিল। তার ঘুরার প্রথম সঙ্গী তার ভাই। এই প্রথম সে ভাইকে ছাড়া কোথায়ও ঘুরেছে তাই মন খারাপ হয়েছে। সকালে নাস্তা করার সময় আফজাল খান বলছিলেন,
“বৌমাকে নিয়ে দূরে কোথাও গিয়ে ঘুরে আয় ফারাজ।”
ফারাজ কিছু বলেনি তখন। চুপচাপ খাওয়ার টেবিল থেকে উঠে গিয়েছিল। তিতলি তখন থেকে হানিমুন হানিমুন করে ফারাজের মাথা খেয়ে ফেলতেছে। এইযে একটু আগেও কল দিয়ে বলছে,
“আমি হানিমুনে যেতে চাই।”
[কালকে থেকে টানা সাতদিন গল্প আসবে। সবাই নির্ধিদায় পড়তে পারো। রিয়েক্ট কমেন্ট করো কেমন?
Share On:
TAGS: রাগে অনুরাগে, সুহাসিনি ফাতেহা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৩১ (প্রথম অংশ+শেষাংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৫৬(প্রথম_অংশ+শেষাংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ২২
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৫৮
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৫৮
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ১৬
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৩৭(প্রথম অংশ+শেষাংশ)
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ২৩
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৫৯
-
রাগে অনুরাগে পর্ব ৫২(প্রথম অংশ+শেষাংশ)