Golpo romantic golpo বাঁধন রূপের অধিকারী

বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ১৫


#বাঁধন_রূপের_অধিকারী

#লেখিকা_সুমি_চৌধুরী [১৫]

[•••অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ•••]

রূপা আর বৃষ্টি ছাদে দাঁড়িয়ে গল্প করতে থাকল, এরই মধ্যে নিচের রাস্তায় পরিচিত বাইকের শব্দে দুজনেই নিচে তাকাল। দেখল ইশতিয়াক বাইক থামিয়ে স্টাইল করে সানগ্লাসটা খুলল, তারপর বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে একবার আড়চোখে রূপার দিকে তাকিয়েই অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিল, যেন সে আসলে অন্য কোনো কাজে এসেছে। আজ রনি সাথে আসেনি, ইশতিয়াক একাই এসেছে।

ইশতিয়াককে দেখে বৃষ্টি ভ্রু কুঁচকে বলল,

“তোদের বাসার সামনে এই ছেলে কোত্থেকে আসল?”

রূপা বিরক্তি নিয়ে তার পোষা ক্যান্ডির মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল,

“কে জানে কোন আকাশ থেকে উড়ে আসল,”

বৃষ্টি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,

“প্রতিদিন আসে নাকি?”

রূপা দায়সারাভাবে উত্তর দিল,

“হুম।”

“কীহহ, বলিস কী, প্রতিদিন আসে মানে, আগে কি আসত?”

“না, কিছুদিন ধরেই আসছে।”

বৃষ্টি এবার রহস্যময় হাসি দিয়ে ভ্রু নাচিয়ে বলল,

“ব্যাপারটা তো মোটেও সুবিধার মনে হচ্ছে না।”

রূপা ভ্রু কুঁচকে শুধাল,

“কেন?”

“এই ইশতিয়াক আবার তোর প্রেমে পড়ল নাকি?”

রূপা আকাশ থেকে পড়ার মতো ভঙ্গি করে বলল,

“ইশতিয়াক কে?”

বৃষ্টি নিচে ইশতিয়াকের দিকে ইশারা করে বলল,

“আরে এই ছেলেই তো ইশতিয়াক, ওর নাম ইশতিয়াক।”

রূপা এক পলক নিচে ইশতিয়াকের দিকে তাকাল। ইশতিয়াক তখন ফোন চাপছে আর আড়চোখে ওপরের দিকে তাকাচ্ছে। এমন একটা ভাব ধরছে যেন সে রূপাদের দেখেইনি। বৃষ্টি ফিসফিস করে বলল,

“আমার মনে হচ্ছে ইশতিয়াক নির্ঘাত তোর প্রেমে পড়েছে।”

রূপা চোখ পাকিয়ে শাসনের সুরে বলল,

“ফালতু কথা একদম বলবি না।”

বৃষ্টি কাঁধ নাচিয়ে বলল,

“আরে রাগ করিস কেন, আমার যা মনে হলো তাই বললাম।”

রূপা আর কোনো তর্কে গেল না, তবে বৃষ্টি এবার সাহস করে নিচে ইশতিয়াকের দিকে সরাসরি তাকাল। তারপর বেশ জোরেশোরে গলা খাঁকারি দিয়ে ডাকল,

“এইইই ইশতিয়াক ভাইইইয়া।”

ওপর থেকে নিজের নাম শুনে ইশতিয়াক ফোন থেকে মাথা তুলে ওপরে তাকাল। বৃষ্টি হাত নেড়ে হাই দিয়ে বলল,

“ভাইয়া আপনি এখানে, কোনো কাজ আছে নাকি?”

ইশতিয়াক একবার আড়চোখে রূপার দিকে তাকাল, রূপা দ্রুত অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিল। ইশতিয়াক বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,

“আরে না, এমনি এসেছি। তা তুমি এখানে?”

বৃষ্টি হাসিমুখে বলল,

“আসলে ভাইয়া আমি রূপাদের বাড়িতে কিছুদিন থাকব, আব্বু একটু সিলেট গেছে তো, তাই।”

ইশতিয়াক মাথা নেড়ে বলল,

“ওহহ ভালোই। তাহলে তো তোমাদের ঈদের দিন দুই ফ্রেন্ড একসাথে কাটবে?”

বৃষ্টি খুশি হয়ে বলল,

“হুম ভাইয়া।”

ইশতিয়াক এবার রূপার নির্লিপ্ত ভাব দেখে একটু ইতস্তত করে বলল,

“আচ্ছা, তোমার ফ্রেন্ড কি আমাকে দেখে রাগ করে?”

বৃষ্টি রূপার দিকে তাকালে রূপা বাধ্য হয়ে নিচে ইশতিয়াকের দিকে সরাসরি তাকাল। সে বেশ স্পষ্ট গলায় বলল,

“রাগ কেন করব ভাইয়া, আপনি তো আগেই বলে দিয়েছেন যে আপনি রাস্তায় আসেন, আর রাস্তা সরকারি, যার খুশি যখন মন চায় আসবে।”

ইশতিয়াক রূপার কথা শুনে এক চিলতে হাসল। রূপার এই কৌশলী উত্তর শুনে সে বেশ মজা পেয়েছে। সে হালকা মাথা নেড়ে বলল,

“হুম সেটাই।”

হঠাৎ ইশতিয়াকের ফোন বেজে উঠল, ইশতিয়াকের ফোনের তীক্ষ্ণ শব্দে রূপা আর বৃষ্টির আড্ডায় ছেদ পড়ল। ফোনের কথা শেষ করে ইশতিয়াক বাইকে উঠে বসল। তারপর ছাদের দিকে তাকিয়ে হাত নেড়ে বেশ আয়েশি ভঙ্গিতে বলল,

“আজ চলি, কাল আসবো আবার, তখন দেখা হবে।”

বাইকের গগনবিদারী শব্দ তুলে সে ঝড়ের গতিতে চলে গেল। বৃষ্টি নিচের দিকে তাকিয়ে থেকে আপনমনেই বলল,

“আমার মনে হয় ইশতিয়াক যতোই এই এলাকার গুন্ডা হোক না কেন, মনের দিক থেকে হয়তো ও অনেক ভালো।”

রূপা কোনো উত্তর দিল না। তার মনটা অন্য কোনো চিন্তায় মগ্ন। ছাদে আর ভালো লাগছিল না বলে তারা দুজনে নিচে নামার জন্য দরজার দিকে পা বাড়াল।

এদিকে নিজের রুমে শুয়ে থাকতে থাকতে বাঁধনের দম বন্ধ হয়ে আসছিল। বিকেলের শান্ত বাতাসটুকু গায়ে লাগলে হয়তো শরীরের ক্ষত আর যন্ত্রণার ভার কিছুটা কমবে, এই আশায় সে আকাশের কাঁধে ভর দিয়ে খুব সাবধানে সিঁড়ি ভাঙতে শুরু করল। ব্যথায় তার মুখটা বারবার কুঁচকে যাচ্ছিল, আকাশ তাকে শক্ত করে ধরে রেখে বলছিল,

“সাবধানে পা ফেল।”

ঠিক ছাদের দরজার মুখে আসতেই দুই পক্ষ একদম মুখোমুখি হয়ে গেল। রূপা আর বৃষ্টি বের হতে যাচ্ছিল, আর আকাশ বাঁধনকে নিয়ে ছাদে পা রাখল সবে মাত্র। রূপা নিজের বাড়ির ছাদে ওই দাপুটে অফিসারকে দেখে যেন আকাশ থেকে পড়ল, তার চোখ চড়কগাছ। আর বাঁধনও ঠিক ততটাই অবাক হলো ওই জেদি মেয়েটিকে নিজের বাড়ির অন্দরমহলে দেখে। সে ভ্রু কুঁচকে সরাসরি জিজ্ঞেস করল,

“তুমি এখানে?”

রূপা বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে তোতলাতে তোতলাতে বলল,

“আ-আপনি, আপনি আমাদের বাড়িতে কীভাবে?”

বাঁধনের মেজাজটা এবার চড়ে গেল। সে কর্কশ স্বরে বলল,

“হোয়াট, তোমাদের বাড়ি মানে, কী আবোল-তাবোল বলছো?”

আকাশ পাশে দাঁড়িয়ে এই অদ্ভুত পরিস্থিতি দেখে থমকে গেল। সে বাঁধনের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,

“বাঁধন, তুই রূপাকে চিনিস নাকি?”

বাঁধন আকাশের দিকে ফিরে বিরক্তিভরা গলায় বলল,

“চিনবো না কেন, এই মেয়ের সাথেই তো রাস্তায় আর ডিআইজি অফিসে আমার দেখা হয়েছিল।”

আকাশ বিস্ময়ে চোখ কপালে তুলে অবিশ্বাসের সুরে বলল,

“তার মানে তোর সাথে আগেই রূপার কথা হয়েছে?”

বাঁধন ঠিক মেলাতে পারছিল না আকাশ আসলে কী বলছে। সে বিভ্রান্ত হয়ে পালটা প্রশ্ন করল,

“তুই আসলে কি বলছিস?”

আকাশ সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,

“আরে, আমি এই রূপার কথাই বলছি!”

বাঁধন এবার আরও বিরক্ত হয়ে বলল,

“আমিও তো এই মেয়ের কথাই বলছি, তুই চিনিস নাকি ওকে?”

আকাশ এবার হোহো করে হেসে উঠল। হাসতে হাসতে সে বাঁধনের দিকে তাকিয়ে বলল,

“তুই কি সত্যিই পাগল হয়ে গেছিস বাঁধন, ওকে চিনবো না মানে, আরে ও রূপা তোর ছোট বোন, গাধা।”

#চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply