নির্লজ্জ_ভালোবাসা
লেখিকা সুমিচোধুরী
পর্ব ৩৩ ( এত্তু স্যাড এন্ডিং+এত্তু রোমান্স)
❌ কপি করা নিষিদ্ধ ❌
আরশির চেতনা ফিরল। সে চোখ খুলেই সামনে শিহাবকে দেখতে পেল।মুহূর্তে সেই ওয়াশরুমের কথা মনে পড়ে গেল। আরশির সমস্ত মুখ রক্তিম হয়ে উঠল। সে তাড়াতাড়ি লজ্জায় মুখ লুকালো। তার কেমন যেন শিহাবের সামনে অস্বাভাবিক লজ্জা লাগছে।
শিহাব ফোনে ব্যস্ত ছিল। হঠাৎ চোখ গেল বিছানায় দেখল আরশির সেন্স ফিরেছে। শিহাব সামান্য গলা খাঁকারি দিয়ে ফোনটা রেখে দিল এবং বলল।
“আপনার মনে হয় ঘুমের জগৎ থেকে ফিরতে অনেক কষ্ট হলো?”
শিহাবের কথাগুলো আরশির কানে যেতেই যেন একটা তীব্র ধাক্কা লাগল। সে আচমকা থমকে গেল, চোখের পলক স্থির। কাঁপা কণ্ঠে সে প্রশ্ন করল।
“হঠাৎ এই কথা বলছেন কেন?”
শিহাব সামান্য দুষ্টুমি, তবে কিছুটা অপরাধবোধের হাসি নিয়ে এগিয়ে এলো। সে ফিসফিস করে বলল।
“তুমি যেইভাবে সংজ্ঞাহীন হয়েছো, মা ভাবছে তুমি প্রেগনেট।”
শিহাবের কথা শেষ হতে দেরি হলো, কিন্তু আরশির কাশতে দেরি হলো না সে খুক খুক করে এমন মারাত্মকভাবে কেশে উঠল যে তার দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম! কাশি থামার যেন নামই নেই, তার শরীর সামনের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে।
শিহাব নিজেও চমকে গেল। সে প্রায় লাফিয়ে উঠে তাড়াতাড়ি জল ভর্তি গ্লাসটা এনে আরশির ঠোঁটে ধরল। আরশি ঢোক গিলে জল পান করল। শিহাব সেই সময় আরশির কপালে ও মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল।
“আরে, আস্তে! এত ভাবার কিছু নেই। এই সামান্য কথার জন্য জীবন দিতে হবে না তো।”
আরশি জল খেয়ে স্বাভাবিক হলো। তার শরীরের দুর্বলতা কেটে যেতেই, চোখ দুটোতে বিরক্তি ও সন্দেহের ধার ফুটল। সেই বাঁকা চোখে সে শিহাবের দিকে তীক্ষ্ণভাবে তাকিয়ে বলল।
“আপনি কি আমার সাথে মজা করছেন?”
শিহাব যেন আকাশ থেকে পড়ল! সে দু’হাত ছুড়ে দিয়ে অতিরিক্ত নাটকীয়তা দেখিয়ে বলল।
“মজা কেন করব? তুমি কি আমার বেয়াইন হও নাকি যে মজা করব? আজব মেয়ে তো তুমি! একেতে কিছু না করার আগেই আমাকে বাবা বানিয়ে দিলে, দুইয়েতে এখন বেয়াইন হওয়ার চেষ্টা করছো! এই, তুমি আমার বউ নাকি শ্যালিকা, সেটাই আগে স্পষ্ট করে বলো তো?”
শিহাবের কথা শেষ হতেই সসম্মানে ঘরে প্রবেশ করলেন শান্ত চৌধুরী। তিনি মিষ্টির বাটি হাতে নিয়ে শিহাবের কাছে এসে কোনো কথা না বলেই শিহাবের মুখে মিষ্টি তুলে দিয়ে হাসতে হাসতে বলল।
“হা হা! আমি দাদা হতে যাচ্ছি! আমারও দাদু ভাই আসবে।”
শান্ত চৌধুরীর এই আনন্দময় ঘোষণা শুনে শিহাবের মুখে যেই মিষ্টিটা ছিল,তা ধপ করে মুখ থেকে ফ্লোরে পড়ে গেল। শিহাব এবং আরশি দুজনেই যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট! আরশি তো কথা বলার ভাষা একেবারেই হারিয়ে ফেলেছে! কী বলবে এখন? আরশি আমতা আমতা করে শিহাবের দিকে তাকাল, দেখল শিহাবও তার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।
শান্ত চৌধুরী আবার শিহাবকে জড়িয়ে ধরলেন এবং উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বললেন।
“আহা, আমার মাই সান। এতদিনে একটা কাজের কাজ করেছিস। এই না হলো আমার ছেলে।বিয়ের এক মাস না যেতেই আমাকে দাদা বানিয়ে দিচ্ছিস।”
শান্ত চৌধুরী কথাটা বলেই রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন নাচতে নাচতে, তার আনন্দের রেশ পুরো বাড়ি জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল।
শিহাব আর আরশি দু’জনেই বিছানায় পাথরের মতো বসে রইল, দু’জন দু’জনের দিকে অবিশ্বাস নিয়ে তাকাল। তারপর হঠাৎই আরশি খিলখিল করে হেসে উঠল! সে বালিশ চেপে ধরে হাসতে লাগল, হাসির তোড়ে তার চোখ দিয়ে প্রায় জল বেরিয়ে আসার উপক্রম!
শিহাব তার দিকে হতভম্ব চোখে তাকিয়ে রইল। সে মাথায় হাত বুলিয়ে বিরক্তিভরা কণ্ঠে বলল।
“হাসছো কেন তুমি? পাগল হয়ে গেলে নাকি?”
আরশি কোনোমতে হাসির রেশ থামাল, চোখের কোণে তখনো জলের ধারা।
“হু হা! আপনি এক মাসের মধ্যে বাবাকে দাদা বানিয়ে দিচ্ছেন! আমি জীবনে এমন কাণ্ড দেখিনি! কোনো ছেলে এত তাড়াতাড়ি কাউকে দাদা বানাতে যাচ্ছে, আর সেই মানুষটা আপনি!”
বলেই আরশি আবার হাসতে শুরু করল। সে ভুলেই গিয়েছে যে শান্ত চৌধুরী যদি দাদা হন, তাহলে তো তারই সন্তান হবে!শিহাব আরশির এই চরম বোকামি দেখে হাসবে নাকি নিজের অসহায় ভাগ্যের জন্য কাঁদবে, কিছুই বুঝতে পারছে না। সে শুধু এইটুকু বুঝতে পারছে, সে আজকে সব পাগলের পাল্লায় পড়েছে।
শিহাব এবার সোজা আরশির দিকে আরেকটু ঝুঁকে এলো, তার কণ্ঠস্বর এখন হাস্যরস মেশানো, কিন্তু মারাত্মক সিরিয়াস।
“আরশি, তুমি হয়তো একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে গিয়েছো। আমি যদি বাবাকে দাদা বানাই, তাহলে যেই জিনিসটা দিয়ে দাদা হওয়া হয় সেই আইটেমটা কিন্তু তোমাকে ডাউনলোড দিতে হবে।”
শিহাবের কথা শুনে মুহূর্তে আরশির হাসি নিভে গেল, তার মুখ লজ্জায় টকটকে লাল হয়ে উঠল, সে তাড়াতাড়ি মাথা নিচু করে ফেলল।আরশির লজ্জা-মাখা মুখ দেখে শিহাবের ভেতরে এক গভীর কৌতুক জেগে উঠল। সে আলতো করে নিজের শরীর টান দিতে দিতে, আয়েসি ভঙ্গিতে বলল।
“যাই বলো, বাবার খুশি দেখে বড্ড মায়া হচ্ছে। মনটাই চাচ্ছে সত্যি সত্যি বাবা হয়ে যায় তুমি কি বলো।”
শিহাবের এই কথায় আরশি যেন লজ্জার তাপে পুড়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে কান দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। কোনোমতে সে থরথর করে কাঁপা গলায় স্বর এনে বলল।
“তো হোন, না করছে কে? আপনি বাবা হবেন, আপনার ইচ্ছে।”
কথা শেষ না হতেই শিহাব আলতোভাবে আরশির দিকে একদম কাছে ঝুঁকে এলো। তার ঠোঁট আরশির কানের খুব কাছে এসে ফিসফিস করে বলল, কণ্ঠস্বরে তখন নেশা ধরানো মাদকতা।
“মাই ডিয়ার মিসেস, আমি বাবা হতে হলে তো আপনাকে একান্ত প্রয়োজন। বলুন, এখন কি বাবা হওয়ার কাজ শুরু করব? আপনি এই ‘লোড’ নিতে পারবেন তো? হিমশিম খাবেন না তো?”
আরশির নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। লজ্জায় তার শরীর অবশ হয়ে গেল। শিহাব এসব কী বলছে? লোকটার মাথা ঠিক আছে তো? নাকি এইবার সত্যিই সে পাগল হয়ে গেল! আরশির ভাবনার মাঝেই শিহাবের কণ্ঠস্বর কানে এলো, এবার সেই স্বর নাটকীয়তা ছেড়ে বাস্তব।
“নিচে আসেন তাড়াতাড়ি । দু’জন মিলে এখন বাবা-মাকে গিয়ে বোঝাই, এই সবটাই ভুল ধারণা। না হতে যাচ্ছি আমি বাবা, আর না হতে যাচ্ছেন তারা দাদি-দাদা।”
শিহাব ছন্দের মতো কথাটা বলেই দ্রুত পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।আরশি তখনো যেখানে ছিল সেখানেই বসে রইল। তার মনে কেবল শিহাবের সেই নেশা লাগানো শেষ কথাগুলোই বাজছিল। লজ্জার রেশ কাটার সঙ্গে সঙ্গেই তার ঠোঁটে এক অনিবার্য, উষ্ণ হাসি ফুটে উঠল।
রাত হয়ে গিয়েছে। নিঝুম, গাঢ় অন্ধকার গ্রামীণ পথকে গ্রাস করেছে আয়ান চট্টগ্রামের এক নির্জন রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে আসছিল।
হঠাৎই ফ্যাঁসসস! বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার সেই তীক্ষ্ণ শব্দ কানে এলো। গাড়িটা মারাত্মকভাবে একপাশে হেলে গেল।
আয়ান দাঁতে দাঁত চেপে ব্রেক কষল। সে গাড়ি থেকে নেমে এলো তীব্র বিরক্তি নিয়ে। গাড়ির সামনে এসে ঝুঁকে দেখল, চাকা একদম বসে গেছে।
তীব্র বিরক্তি নিয়ে আয়ান গাড়ির শক্ত চাকায় সপাটে লাথি মারল, সেই ধাতব শব্দ নির্জন রাতে প্রতিধ্বনিত হলো। সে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল।
“দূর শা’লা! চাকাটা এখানেই পাংচার হতে হলো? এখন কী করব? এই নির্জন জায়গায় তো কোনো গ্যারেজও চোখে পড়ছে না।”
আয়ান তীব্র বিরক্তি নিয়ে পকেট থেকে ফোন বের করল। ফোনের স্ক্রিন জ্বলে উঠতেই তার মেজাজ আগুন হয়ে গেল একটুও নেটওয়ার্ক নেই, সিমের লাইনগুলো কাঁপছে মাত্র। সে রাগে ফোনটা ছুঁড়ে মারতে উদ্যত হয়েও নিজেকে সামলে নিল। সে চারদিকে তাকাল পিচ ঢালা রাস্তা জনমানবশূন্য, চারদিক ঘন কালো অন্ধকারে মোড়া। এতক্ষণে কোনো মেয়ে এই পরিস্থিতিতে থাকলে নির্ঘাত ভয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে যেত।
বিরক্তিতে ফুঁসতে ফুঁসতে আয়ান রাস্তার পাশে দাঁড়াল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই রাস্তা দিয়ে এক বৃদ্ধ বাদাম বিক্রেতা, কাঁধে ঝোলানো ভার নিয়ে, বাড়ি ফিরছিলেন। এত রাতে রাস্তায় একজন সুদর্শন যুবককে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি কৌতূহলী হলেন। কাছে এসে বিনয়ের সাথে বললেন।
“কী হয়েছে বাবু? আপনি এমন মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন কেন?”
আয়ান হতাশায় দু’হাত কপালে ঠেকিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়েছিল। কণ্ঠস্বর শুনে চমকে সোজা হয়ে তাকাল। বাদামওয়ালাকে দেখে বলল।
“আসলে আঙ্কেল, আমার গাড়ির চাকা পাংচার হয়েছে। বুঝতে পারছি না কী করব।”
বৃদ্ধ মুহূর্তেই সহজ হয়ে বললেন।
“ওহ, এই কথা! ভয় পাবেন না। এখান থেকে সামান্য দূরেই একটা গ্যারেজ আছে। আপনি আমার সাথে আসুন।”
আয়ান তড়িঘড়ি করে লোকটির সাথে গ্যারেজে গেল এবং একজন শ্রমিককে নিয়ে গাড়িতে ফিরে এলো। শ্রমিকটি আয়ানের গাড়ির নতুন চাকা শক্ত করে লাগাতে লাগল। আয়ান কিছুটা দূরে, অস্বস্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে।
শ্রমিকটি চাকা লাগানো শেষে যেই উঠতে যাবে, গাড়িটা হঠাৎ হালকা কেঁপে উঠল যেন ভেতরে কেউ নড়ে উঠেছে। শ্রমিকটি ঘাবড়ে গেল। সে সাহসে ভর করে গাড়ির পিছনের দরজা খুলল। টর্চের আলো ফেলতেই তার চোখ কপালে উঠল!
সিটের নিচে জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে আছে তিথি। তাকে দেখে মনে হচ্ছে গভীর ঘুমে অচেতন, তবে তার মুখ ঢাকা। শ্রমিকটির মাথায় ভয়ানক সন্দেহ জাগল। এই রাতে, নির্জন রাস্তায়, যুবকটির গাড়িতে একজন যুবতী মেয়ে! তার মনে হলো, ছেলেটা নিশ্চয়ই মেয়েটিকে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে!
আর এক মুহূর্ত দেরি না করে, শ্রমিকটি দ্রুত নিজের ফোন বের করে, কাঁপানো কণ্ঠে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কাকে যেন ডায়াল করল।
“আসসালামু আলাইকুম, চেয়ারম্যান সাহেব! তাড়াতাড়ি পশ্চিম মোড়ের রাস্তায় চলে আসুন! বিশাল গণ্ডগোল! এখানে একটা ছেলে একটা মেয়েকে মনে হয় অপহরণ করেছে, মেয়েটি তার গাড়ির ভেতরে আছে!”
খান বাড়ি,,,
খান বাড়ির বসার ঘর তখন হাউমাউ কান্নার এক যুদ্ধক্ষেত্র। তিথি নিখোঁজ সকাল থেকে আশিক খান মেঝেতে পায়চারি করতে করতে প্রায় পাগল। আনোয়ার খান বারবার পুলিশকে ফোন করছেন, প্রতিবার ব্যর্থ হয়ে হতাশায় বসার ঘর পায়চারি করছেন। তনুজা খান কাঁদতে কাঁদতে চোখ ফুলিয়ে টকটকে করে ফেলেছেন।হিমি খান আর রৌশনি খান তাঁকে ধরে সান্ত্বনা দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করছেন।
বেশ কিছুক্ষণ পর, সেই বিভীষিকাময় মুহূর্ত এলো। আনোয়ার খানের ফোন বীভৎস শব্দে বেজে উঠল। ফোনের স্ক্রিনে ‘থানা’ শব্দটি দেখে তাঁর হাত কাঁপল। তিনি দ্রুত লাউডস্পিকার অন করে কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলেন।
“এসপি সাহেব, কোনো খবর পেলেন?”
ওপাশ থেকে এসপি সাহেবের ঠান্ডা, নির্লিপ্ত উত্তর ভেসে এলো, যেন সেটা কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
“দেখুন, আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না, তবে আমরা একজন ভয়ঙ্করভাবে নির্যাতিত মেয়ের মৃতদেহ পেয়েছি, যাকে হিংস্র ভাবে রে**প করার পর মেরে ফেলা হয়েছে। আপনারা এসে শনাক্ত করুন। আমার ধারণা, মৃতদেহটি আপনাদের বাড়ির মেয়ের হতে পারে।”
পুলিশের সেই নির্দয় উত্তরটা যেন লাউডস্পিকার চিরে বের হলো আনোয়ার খানের মাথায় যেন তৎক্ষণাৎ সহস্র বজ্রপাত হলো।পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা আশিক খানের তখন শ্বাস রুদ্ধ! তিনি বিকট চিৎকারে আকাশ ফাটিয়ে দিলেন।
“ও আল্লাহ গো! তুমি আমাকে কী খবর দিলা! আল্লাহ গো! তুমি আমার দুই মেয়েকেই আমার কাছ থেকে কেড়ে নিলা! ও আল্লাহহহহহ্!”
সেই আর্তনাদ শেষ হতে না হতেই, আশিক খান অসহনীয় যন্ত্রণায় দু’হাত দিয়ে সজোরে বুক চেপে ধরলেন। তাঁর মুখ বিকৃত হয়ে গেল, এবং মুহূর্তেই মেঝেতে ধপাস করে লুটিয়ে পড়ে স্ট্রোক করলেন।
আরফা হৃদয়বিদারক স্বরে চিৎকার করে উঠল।
“চাচা!”
তনুজা খান শোকে উন্মাদ হয়ে হাও মাও করে মেঝেতে আছড়ে পড়লেন। আনোয়ার খান পাগলের মতো জরুরি হসপিটালে কল দিলেন এবং নিথর ভাইকে ধরে ঝনঝন করে কাঁপতে লাগলেন।
“আশিক! এই আশিক! কী হলো তোর? কথা বলছিস না কেন? ভাই আমার, কথা বল!”
সুইজারল্যান্ড,,,
তুরা দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল হ্রদ সুইমিং পুলের কিনারে, যা রাতের ঝলমলে আলোয় মায়াবী হীরার মতো জ্বলছে। চারপাশে বরফ ঠাণ্ডা বাতাস বইছে, কিন্তু সেই সৌন্দর্য তুরার মনকে উষ্ণ করে তুলল। এই দৃশ্য তার কল্পনার সকল সীমানা ছাড়িয়ে গেছে।
রৌদ্র স্থির দৃষ্টিতে তুরার শিশুসুলভ কাণ্ডকারখানা দেখছিল। তার বুকে হাত শক্ত করে আড়াআড়ি ভাজ করা। হঠাৎ, কোথা থেকে যেন উড়ে এসে একটি প্রজাপতি তুরার কাঁধে বসল। তুরা হাসিমুখে সেটিকে আলতো করে ছুঁয়ে দিল। তার ছোঁয়ার জাদুতেই যেন প্রজাপতিটি উড়ে এসে তুরার হাতের তালুতে বসল। তুরা আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে সেই হাতটা রৌদ্রের দিকে বাড়িয়ে দিল এবং খুশিতে লাফাতে লাফাতে বলল।
“দেখুন, কী সুন্দর প্রজাপতি!”
তার কথা শেষ না হতেই আরও অনেকগুলো প্রজাপতি তাদের চারপাশে উড়ে এলো। তুরা সেই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে পাখির মতো ঘুরতে লাগল।রৌদ্রের চোখে তখন শুধু হাসি নয়, ছিল গভীর অধিকারবোধের দীপ্তি। সে মুচকি হেসে ধীরে ধীরে তুরার কাছে এগিয়ে গেল। রৌদ্র একদম তুরার পিছনে এসে দাঁড়াল তাদের দুজনের মাঝে শ্বাস-প্রশ্বাসের দূরত্ব ছাড়া আর কিছুই ছিল না।
রৌদ্র কোনো কথা না বলে, তার শক্তিশালী দু’হাত দিয়ে তুরাকে পিছন থেকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। বরফ শীতল বাতাসের মাঝে রৌদ্রের এই উষ্ণ স্পর্শে তুরা বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো কেঁপে উঠে নিথর হয়ে গেল। তাদের দুজনেরই নিশ্বাস এত দ্রুত হচ্ছে যে তারা নিজেরাই তা শুনতে পাচ্ছে। রৌদ্র যেন সেই মুহূর্তে নিজের সকল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল।
রৌদ্র আলতো করে তুরার পিঠ থেকে চুল সরিয়ে দীর্ঘ, উষ্ণ নিঃশ্বাস ফেলল। তারপর, সে তার ঠোঁট দিয়ে তুরার দুধে-আলতা ফর্সা, মসৃণ কাঁধ ছুঁয়ে দিল। সেই স্পর্শে তুরা যেন মুহূর্তেই অচেতন হয়ে গেল নড়াচড়া করার শক্তিও হারিয়ে ফেলল। শুধু তার মুখ থেকে এক অস্ফুট, কম্পিত শব্দ বের হলো।
“রো রৌদ্র…!”
কথাটা বলেই তুরা রৌদ্রের কাছ থেকে সামনের দিকে সরে যাওয়ার সামান্যতম চেষ্টা করল। কিন্তু রৌদ্রের সেই সুযোগ দিল না। বিদ্যুৎ গতিতে সে তুরার লেহেঙ্গার ওড়না ধরে ঝটকা মেরে টান দিল, সঙ্গে সঙ্গে তুরা শূন্যে ভেসে এসে আছড়ে পড়ল রৌদ্রের উষ্ণ বুকে। অপ্রত্যাশিত সেই ঘনিষ্ঠতায় তুরা লজ্জা ও আশঙ্কায় চোখ শক্ত করে বন্ধ করে ফেলল।
তুরার সেই অসহায় আত্মসমর্পণ দেখে রৌদ্রের মস্তিষ্কের শেষ নিয়ন্ত্রণ রেখাটিও ছিঁড়ে গেল। সে আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করল না। তার ঠোঁটজোড়া হিংস্র অধিকারের সাথে তুরার গোলাপি, কম্পমান ঠোঁটজোড়াকে গ্রাস করল।
প্রথম স্পর্শেই তুরার চোখ আতঙ্কে বিস্ফারিত হলো। সে তার সমস্ত শক্তি দিয়ে রৌদ্রকে সরানোর জন্য ধাক্কা দিতে উদ্যত হলো, ঠিক সেই মুহূর্তে তুরা অনুভব করল রৌদ্রের ঠোঁট যেন কোনো জাদুকরী মন্ত্রের মতো কাজ করছে। তার ঠোঁটের প্রতিটি শুষে নেওয়ার টানে তুরা তার প্রতিরোধের ভাষা হারিয়ে ফেলল। সেই জাদুকরী ছোঁয়ায় তুরা যেন অন্য কোনো জগতে ডুবে গেল। তার হৃদস্পন্দন ঢাকের বাদ্যির মতো বুকে বাজছে। ধাক্কা দেওয়ার হাত দুটো কখন যে রৌদ্রের শার্টের কলার আঁকড়ে ধরেছে, তুরা নিজেই টের পায়নি। সে এখন উন্মত্তের মতো রৌদ্রের সাথে প্রত্যুত্তর দিতে লাগল, দুজনের শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দে রাত ভরে উঠল।
সময়ের সাথে সাথে তুরার ফুসফুস যেন বিদ্রোহ ঘোষণা করল তার দম বন্ধ হয়ে আসছে, কিন্তু রৌদ্রের উন্মত্ত পাগলামি থামার নাম নেই। সে যেন তুরার ঠোঁটগুলো ক্ষুধার্তের মতো শুষে খাচ্ছে।
তাদের দুজনের এমন উষ্ণ, হাঁসফাঁস নিশ্বাসের মাঝেই হঠাৎ রৌদ্রের পকেটে থাকা ফোন চিৎকার করে বেজে উঠল। প্রথমবার বেজে কেটে গেল। রৌদ্রের তখন হুঁশ নেই, সে গভীর নেশায় আচ্ছন্ন।
দ্বিতীয়বার বাজার সময় তুরার মাথায় যেন ঠাণ্ডা জল পড়ল তার হুঁশ ফিরে এলো। সে সাথে সাথে সমস্ত শক্তি একত্রিত করে রৌদ্রকে ধাক্কা দিল, কিন্তু রৌদ্রের শরীর ছিল পাথরের মতো অনড় সে এক চুল পরিমাণও সরলো না, বরং তুরাকে আরও দৃঢ়ভাবে কাছে টেনে নিল। তুরার চোখ উল্টে আসার জোগাড়, এই বুঝি তার প্রাণপাখি দেহ ছেড়ে চলে যাবে।
ঠিক তখনি রৌদ্রের ফোন কেটে ক্রোধের মতো তৃতীয়বার বেজে উঠল। রৌদ্রের রোমান্টিক ঘোর এবার তীব্র বিরক্তিতে পরিবর্তিত হলো। সে অনিচ্ছাসত্ত্বেও তুরার ঠোঁটজোড়া ছেড়ে দিল।
দুজনেই ক্ষুধার্তের মতো মুখ খোলে ঘন ঘন শ্বাস নিতে লাগল। তুরা বুকে হাত চেপে শ্বাস টানছে, তার প্রাণপাখিটা যেন এক্ষুনি বেরিয়ে যেত!
রৌদ্র রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে পকেট থেকে ফোন বের করে স্ক্রিনে তাকাল নাম দেখেই তার মুখ ভীষণভাবে পাল্টে গেল। কল এসেছে বাংলাদেশ থেকে, তাও বাড়ির টেলিফোন থেকে! রৌদ্র আর কিছু না ভেবে দ্রুত নিজেকে সংযত করে ফোন রিসিভ করে কানে ধরল।
ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে আসা যন্ত্রণাভরা কণ্ঠস্বর আর আতঙ্কের শব্দগুলো শুনে রৌদ্রের শরীর নিথর হয়ে গেল। তার হাত থেকে ঠাস করে শব্দ করে দামি ফোনটা পাথরের মতো মাটিতে পড়ে গেল। রৌদ্রের চোখ দুটো বিস্ফারিত, দৃষ্টি স্থির, এবং সে কাঁপতে কাঁপতে শুধু একটি নামই উচ্চারণ করল।
“তি… তি… তিথি!”
রানিং…!
হি হি হা হা বিয়ে আজকে দিলাম না আমার আবার কট খাওয়ার বিয়ে খেতে ভালো লাগে কালকে কট খাওয়া বিয়ে খাবো সবাই রেডি হয়ে যেও 🫢😁
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৮