Golpo romantic golpo জেন্টাল মন্সটার

জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৫৫


লামিয়ারহমানমেঘলা

জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৫৫

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
সকাল সকাল মিষ্টি রোদের আলো মুখের উপর এসে পড়তে ঘুমন্ত মিরা নড়েচড়ে ওঠে।
সায়ের জানালার পর্দা খুলে দারিয়ে আছে।
মিরা চোখ খুলে সায়েরের দিকে তাকায়।
জানালার সামনে দাঁড়িয়ে লোকটা। পরনে বেবি ব্লু রঙা শার্ট কিন্তু বুকের সামনের সব গুলো বোতাম খোলা।
সায়েরকে দেখে মিরার কাল রাতের কথা মনে পড়ে যায়। সে দ্রুতই বালিশ দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে ফেলে লজ্জায়।
সায়ের বাঁকা হেসে এগিয়ে আসে, মিরার মুখের উপর থেকে বালিশটা সরিয়ে বলে,
“লজ্জা পাওয়া শেষ হলে বাড়ির দিকে যাই?”

মিরা উঠে বসে।
“হুম৷’

“যাও রেডি হয়ে এসো, ব্রেকফাস্ট করেই আমরা বের হবো।”

“ওকে৷’

মিরা নেমে দাঁড়ায় বিছনা ছেড়ে। এরপর দু’জন রেডি হয়ে বেরিয়ে যায়, হোটেলে বুফে ব্রেকফাস্ট সিস্টেম ছিলো। সায়ের এবং মিরা সেখান থেকে ব্রেকফাস্ট করে নিজেদের মেনশনের উদ্দেশ্যে রওনা করে।


সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার পর আদ্রিসের চোখ যায় আদ্রিতার দিকে৷
মেয়েটা সেভাবেই শুয়ে আছে যেভাবে কাল রাতে শুয়েছিলো।
এলোমেলো হয়ে, কাঁপছে ঠান্ডায়। আদ্রিস হাত বাড়িয়ে সাইড টেবিলের উপর থেকে এসি রিমোট টা নিয়ে এসির পাওয়ার বাড়িয়ে দেয় যাতে ঘরটা নর্মাল হয়।
সে আদ্রিতার কোমড়ের কাছ থেকে উঠে আদ্রিতার পাশে চলে আসে।
আদ্রিতাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে।আদ্রিসের উষ্ণতা পেয়ে আদ্রিতাও বেড়াল ছানার মত নিজেকে গুটিয়ে নেয় আদ্রিসের বুকে।
আদ্রিস খেয়াল করে কাল রাতে তার করা আঘাত গুলো কালকে বর্ণ ধারণ করেছে আদ্রিতার শরীরে।
আদ্রিস চায়নি এতটা রাগতে কিন্তু আদ্রিতার বোকামি বার বার তাকে রাগিয়ে দেয়। একবার রেগে গেলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা আদ্রিস।
আদ্রিস, আদ্রিতার পিঠের কালচে হওয়া স্থনে ওষ্ঠ ছোঁয়ায়।
প্রথম প্রথম আদ্রিতা কিছু বুঝতে না পারলেও আদ্রিসের স্পর্শের ছোঁয়া গভীর হতে থাকলে আদ্রিতা ধিরে ধিরে চোখ খুলে।
ততক্ষণে আদ্রিস নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে৷
আদ্রিতা ফিরে চায় আদ্রিসের দিকে।
আদ্রিস তখন মাথা তুলে আদ্রিতার দিকে তাকায়।
আদ্রিতা কাপা কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
“আ আপনার অফিস নেই?”

“এখন সকাল ৭ টা বাজে আমার অফিস ১০ টায়। আই হ্যাভ ৩ আওয়ার’স।”

কথাটা বলে আদ্রিস ফের আদ্রিতার ঘাড়ে মুখ গুঁজে। কিন্তু আদ্রিতার এটা পছন্দ হচ্ছিলো না। কালকে রাতের পর তার শরীরটা ব্যথা করছে।
কিন্তু আগ বাড়িয়ে না করতে পারছে না সে। ভয় পাচ্ছে আদ্রিতার মনে আবারো আদ্রিসের জন্য সেই ভয়টা ঢুকে গিয়েছে।
আদ্রিতাকে এমন দোটানে দেখে আদ্রিসও বিষয়টা বুঝতে পারে। সে এই পিচ্চি মেয়েটার চোখের দিকে তাকালেই ছোট্ট মস্তিষ্কে চলমান সকল কথা পড়তে পারে। অবুঝ মেয়েটাকি তা বোঝে। বুঝলে হয়ত মনে মনে কিছু ভাবাই বাদ দিতো।
আদ্রিস নিচু হয়ে আদ্রিতার ওষ্ঠদ্বয় আঁকড়ে ধরে। পরম আদরে ভালোবাসা দিতে থাকে। আদ্রিসের কিস করার স্টাইলটা আজ ভিন্ন ছিলো ওতে কোন ব্যথা ছিলোনা, না ছিলো হিংস্রতা।
আদ্রিতা দু চোখের পাতা এক করে নেয়।
আদ্রিসের হাত তখন ধিরে ধিরে যত্ন নিয়ে আদ্রিতার শরীরের উপর রাজত্ব চালাচ্ছে।
আদ্রিতা বিছনার চাদর মুঠোয় ভরে নেয়।
আদ্রিস যখন আদ্রিতাকে রেসপন্স করতে দেখে তখন সে বাঁকা হাসে।
আদ্রিতা নিজেও জানেনা সে আদ্রিসের কনট্রোলের বাইরে চাইলেও যেতে পারবে না।
আদ্রিসের মত করেই তাকে বাঁচতে হবে।
যে কথাটা সে মান্য করবে তার জন্য সে ভালোবাসা পেলেও অমান্য কথাটার জন্য তাকে শাস্তিই পেতে হবে।
আদ্রিস, চোখ বন্ধ করে আদ্রিতার সম্পূর্ণ গালে চুমু খায়।
দু’জন যখন চোখ খুলে তাকায় তখন দু’জন, দু’জনের চোখের গভীরে হারিয়ে যায়।
আদ্রিতাও নিজের যন্ত্রণা ভুলে যায়।
আদ্রিস হয়ত তাকে হিপনোটাইজ করে নাহলে আদ্রিতা কিভাবে সব ভুলে যায়।


ঘড়ির কাটায় ৯ টা ৪০।
আদ্রিস তখনো ছাড়েনি আদ্রিতাকে।
আদ্রিতা পাশ ফিরে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে অবাক হয়। ক্লান্ত হাত দু’টো আদ্রিসের গালে রেখে বলে,
“আহ ছাড়ুন, আপনার দেরি হয়ে যাচ্ছে না?”

আদ্রিস তখনো চোখ বন্ধ করে আদ্রিতার বুকের উপর মাথা রেখেছিলো। কিন্তু আদ্রিতার কথাটা শুনে সে চোখ খুলে তাকায়।
পাশে দেয়ালে থাকা বড় দেয়াল ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে বলে,
“জাস্ট ৫ মিনিট৷’

আদ্রিতা, আদ্রিসের বুকে মৃদু আঘাত করে,
” গত ৪০ মিনিট যাবত ৫ মিনিট ৫ মিনিট করেই চলেছেন।
এবারত আপনার অফিসের সময়ও হয়ে গিয়েছে।”

আদ্রিস, এরপর ঝুকে ফের আদ্রিতার ওষ্ঠদ্বয় আঁকড়ে ধরে। আদ্রিতাকে আর কিছু বলার সুযোগ সে দেয়না।
আদ্রিতাও নীরব হয়ে যায়।


ঘড়ির কাঁটায় ১০ টা বেজে ২০ মিনিট।
নিজ হাতে ক্রোধান্বিতা বেড়াল ছানাকে ব্রেকটা করাচ্ছে আদ্রিস।
আদ্রিতার গাল দু’টো ফুলে আছে। যেন জুয়ালামুখি ফাটবে তার পূর্বাভাস।

“ডার্লিং সরিত, এত রাগ করলে হয়৷”

আদ্রিসের কথাটা বলতে দেরি নেই আদ্রিতা, আদ্রিসের খাবার বাড়ানো আঙ্গুল টা নিজের দাঁতের নিচে ফেলে জোরে একটা কামড় বিয়ে দেয়।
আদ্রিস সঙ্গে সঙ্গে ব্যথায় চিৎকার করে হাত সরিয়ে নিতে যায় কিন্তু আদ্রিতার কামড় এতটা শক্তিশালী সে হাত সরাতে পারেনা৷
“আদ্রিতা, লিভ ইট ওয়াইফি৷”

ছেড়ে দেয় আদ্রিতা। আদ্রিস নিজের আঙ্গুলের দিকে তাকায়। লাল হয়ে দাঁতের ছাপ বসে গিয়েছে।
“আদ্রিতা, মাই বিউটি, তুইকি সত্যি সত্যি জংলী বেড়াল হয়ে যাচ্ছিস জান?”

আদ্রিতা মুখ ফুলিয়ে বলে,
“একটা কামড়ে মরে যাই ভাব আর আমাকে যে এত গুলা কামড়ে ভরিয়ে দিলেন তার বেলায়?”

“আহা ওটা লাভ বাইট, কামড় না৷”

“এটাও লাভ বাইট কামড় না৷”

আদ্রিস মাথা নুইয়ে হাসছে। আদ্রিতার রাগও কিউট বটে।
আদ্রিসকে হাসতে দেখে আদ্রিতার আরও রাগ হতে লাগে। কোমড় থেকে নিচ পর্যন্ত নিজের শরীরের অংশ অনুভব করতে পারছে না আদ্রিতা।
সে এই মুহুর্তে প্রচন্ড বিরক্ত আদ্রিসের উপর।
আদ্রিস নিজের ক্রোধান্বিত বেড়াল ছানাকে ব্রেকফাস্ট করিয়ে দিয়ে অফিসের জন্য রেডি হয়ে নেয়।
অফিসের জন্য রেডি হয়ে আদ্রিস ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে চুল ঠিক করে নেয়, ঘড়ি পরে ওয়ালেট নিয়ে নেয়।
আদ্রিতা বিছনায় শুয়ে শুয়ে দেখছিলো আদ্রিসের কান্ড।
আদ্রিস রেডি হয়ে আদ্রিতার দিকে এগিয়ে আসে। বিছনার এক কোণায় বসে আদ্রিতার কপাল থেকে চুল সরিয়ে কপালে চুমু খায়।
“আজ ভার্সিটিতে যাওয়া লাগবে না, কাল যাস প্রিয়াকে বলে দিব।”

আদ্রিতা বিরক্তিতে চোখ ঘোরায়, আদ্রিস সঙ্গে সঙ্গে আদ্রিতার চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে।
আদ্রিতা অবাক হয়ে যায়৷
আদ্রিস নিচু হয়ে আদ্রিতার ঠোঁটে চুমু খায়।
“তুই জানিস তোর ভেংচি কিংবা এই চোখ ঘোরানো আমি পছন্দ করিনা৷ কেন তাও বার বার সেই এক কাজ করিস?”

“আপনিও জানেন আমি আপনার এত রুডনেস নিতে পারিনা তাও কেন রুড হন?”

আদ্রিস ছেড়ে দেয় আদ্রিতার গাল। আদ্রিতা ঘাড়ে মাথা রেখে বলে,
“আমি এমনই, তুই ভালো করেই জানি আমি এমন রুড, ডমিনেটিং। সব জেনেই তুই আমাকে বিয়ে করেছিস। আর বাকি রইলো বেডের কথা, আদ্রিতা তুইত জানি আমি তোর ঘ্রাণ পেলেই পাগল হয়ে যাই। তাহলে আর কি আশা করছিস আমার থেকে?”

“আপনি এখনো আমার গায়ে হাত তুলেন আমার কষ্ট হয়৷”

আদ্রিতার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। আদ্রিস মাথা তুলে তাকায় আদ্রিতার দিকে।
আদ্রিতার চোখ পানিতে ভেজা।
আদ্রিস দীর্ঘশ্বাস ফেলে, নিচু হয়ে আদ্রিতার গালে চুমু খেয়ে চোখের পানি মুছিয়ে দেয়৷
“তুই যদি মার খাওয়া কাজ বন্ধ করিস আমি মারা বন্ধ করে দেব। কিন্তু তুই যদি মার খাওয়া কাজ করতে থাকিস। তাহলে আমারও কোন গ্যাটান্টি নেই।”

আদ্রিতা মুখ ফিরিয়ে নেয় রাগে।
“বুঝিয়েও বলা যায়। বুঝতে না পারলে। “

আদ্রিস, ফের আদ্রিতার চোয়াল শক্ত করে ধরে নিজের দিকে ফেরায়,
“ইউ আর নট এ কিড এনিমোর আদ্রিতা৷
কোনটা ভুল কোনটা সঠিক তুই জানিস৷ আমি নিশ্চয়ই তোকে এটা শিখিয়ে দিবনা কোন অপরিচিত বেটা মানুষ তোকে তুলে নিয়ে যাবে নিজের বাড়িতে আর তুই সেটা আমাকে বলবিও না। এসব আমি তোকে শেখাব যে আদ্রিতা তোকে বলতে হবে কেউ ক্যান্ডি দিলে নিবি না। এসব শেখাতে বলছিস আমাকে?”

আদ্রিসের কথাগুলো আর তার উচ্চস্বরে চিৎকার আদ্রিতার মনকে আরও ভারী করে তুলল। যেন ভেতরে জমে থাকা কষ্টগুলো হঠাৎ করেই তীব্র হয়ে উঠল। এসব আর সহ্য করতে পারছিল না সে।
অন্যদিকে, আদ্রিসের ভেতরেও জমছিল রাগ আর অস্থিরতা। সে যেন কোনোভাবেই আদ্রিতার অনুভূতিটা বুঝতে চাইছিল না।
পরিস্থিতি এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে দু’জনই নিজের নিজের দিক থেকে ঠিক,তবুও কেউ কারও মনটা সত্যিই বুঝতে চাইছে না।
দু’জনের মাঝখানে যেন অদৃশ্য এক দূরত্ব ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে।

“ডোন্ট ক্রায় আদ্রিতা।”

আদ্রিতার কানে বিষের মত লাগলো কথাটা। সে উল্টো দিকে ফিরে শুয়ে পড়লো।
কম্বল দিয়ে মাথা পর্যায়ে ঢেকে নিলো।
আদ্রিসের রাগ হচ্ছে এখন এখানে থাকলে মেরে বসতে পারে মেয়েটাকে। এমনিতেই কাল রাতে সে যা করেছে তার রেস এখনো আছে। এখন আর সে কিছু করতে চায়না তাই সে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
রুমের দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ শুনে আদ্রিতা মাথা বের করে কম্বলের নিচ থেকে। আদ্রিস চলে গেছে দেখে আরও মনটা খারাপ হতে থাকে।
আরও কান্না করে সে।


আদ্রিস নিচে এসে দেখে প্রিয়া রেডি হয়ে ব্রেকফাস্ট করছে।
আদ্রিস এগিয়ে গিয়ে বলে,
“প্রিয়া চল৷”

প্রিয়া পানির গ্লাস টেবিলে রেখে বলে,
“আদ্রিতা কোথায়?”

“ও আজ যাবেনা।”

“কালত এক্সাইটেড ছিলো। “

“প্রিয়া লেটস গো। দেরি হয়ে যাচ্ছে কাল থেকে যাবে আদ্রিতা৷”

“ওকে।”

প্রিয়া নিজের হ্যান্ড ব্যাগ নিয়ে আদ্রিসের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। মিসেস মিহু পেছন থেকে আদ্রিসে কথা শুনলো।
মেয়েটার জন্য তার চিন্তা হচ্ছে। মিসেস মিহু আদ্রিতার রুমের দিকে যাবেই এমন সময় সায়ের এবং মিরা প্রবেশ করে ভেতরে।
ওদের দেখে মিসেস মিহু থেমে যায়।
মিরা, মিসের মিহুকে দেখে এগিয়ে যায়৷
“কি ব্যপার কাল থেকে খোঁজ নেই দু’জনের। তোদের বিয়েটা এবার দিয়েই দিব৷”

“আমিও তাই চাচ্ছি মম৷”

সায়েরের নির্লজ্জ কথা বার্তা। মিরা বিরক্ত চোখে চায় সায়েরের দিকে।
সায়ের দাঁত বের করে হাসে।
“একটুও লজ্জা নেই তাইনা? পুরাই বাপের উপর গেছিস৷”

সায়ের হেসে মাকে জড়িয়ে ধরে,
“মাই ডিয়ার মম, আমিত তারই ছেলে। যাই হোক আমি এখন অফিস যাব। আদ্রিস কই?”

“চলে গিয়েছে।”

“ওহ, আজত আদ্রিতা এবং প্রিয়ার ভার্সিটিতে যাওয়ার কথা ছিলো গেছে ওরা?”

“না আদ্রিতা যায় নি প্রিয়া গেছে।”

“কেন আদ্রিতা যায় নি কেন?”

“আদ্রিস বলল ও যাবেনা। কাল থেকে যাবে।

“ও ওকে।
বাই মম, বাই মিরা। আ’ম গেটিং লেট৷”

সায়ের দ্রুত পায়ে বেরিয়ে যায়৷ মিরা তাকিয়ে রয় সায়েরের দিকে।
মিসেস মিহু, মিরার চোখে সায়েরের জন্য ভালোবাসা দেখতে পায়। মেয়েটার চাহনিই প্রকাশ করে দেয় সে কতটা ভালোবাসে সায়েরকে।
মৃদু হাসলেন তিনি। ছেলে মেয়ে খুশি থাকলেই মায়ের শুখ।


টোটো নিজের অফিসরুমে বসে কাজ করছিল। চারপাশে নিস্তব্ধতা, এসি রুমের ভেতরে শুধু কাগজের শব্দ আর এয়ারকন্ডিশনের মৃদু গুঞ্জন। ঠিক তখনই তার সেক্রেটারি তড়িঘড়ি করে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়ল।
“বস!”

টোটো ভ্রু কুঁচকে ধীর দৃষ্টিতে তাকাল,
“হোয়াট?”

সেক্রেটারির কণ্ঠে স্পষ্ট উদ্বেগ,
“বস, মাফিয়া কিং আদ্রিস খান জেনে গেছেন,
আপনি তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গেছেন।”

কথাটা শোনার পরও টোটোর মুখে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন এলো না। যেন খবরটা তার কাছে আগেই জানা ছিল।
সেক্রেটারি বিস্মিত হয়ে আবার বলল,
“স্যার, আপনি কি শুনলেন আমি কী বললাম?”

টোটো হেলান দিয়ে বসে ঠাণ্ডা গলায় উত্তর দিল,
“ইয়াপ, শুনেছি। এতে আমার করার কী আছে?”

“বস, আপনি তো”

সে কথা শেষ করার আগেই টোটো থামিয়ে দিল। তার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে এক রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল।
“আমি চেয়েছিলাম,আদ্রিস জানুক।”

সেক্রেটারি কপাল কুঁচকে তাকাল,
“মানে?”

টোটোর চোখে তখন অদ্ভুত এক দম্ভ আর খেলোয়াড়ি নির্মমতা ঝলক দিচ্ছে।
“মানে, ওর নিজের গাড়ি থেকেই ওর বউকে তুলে এনে আমার বাড়িতে রাখলাম। ভাবতে পারছিস,ওর ইগোতে কতটা আঘাত লেগেছে?”

সে একটু থামল, যেন নিজের কথার স্বাদ নিচ্ছে।
“এটাই ওর প্রথম পরাজয়। উপভোগ করতে দে ওকে, নিজের হারটা।”

তারপর ধীরে, আরও নিচু স্বরে যোগ করল,
“কারণ, গল্প তো এখনো বাকি।”

চলবে?

[ প্রিয় পাঠক ঢং না করে রেসপন্স করো আমার মাথা গরম হয়ে গেলে গল্প লেখাই বন্ধ করে দিতে পারি। এই পর্বে ২.৫কে রেসপন্স না হলে পরের পর্ব আসবে না। ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply