#কাজরী-৪৭
#সাবিকুন_নাহার_নিপা
কাজরী শান্ত চোখে তাকিয়ে আছে। এরকম শান্ত রুপ সচরাচর ওর মধ্যে দেখা যায় না। যেকোনো ইস্যুতে অল্পতেই যে মেজাজ হারায় তার আজকের রুপ বড্ড অচেনা লাগছে। অচেনা লাগছে আল্পনাকেও। ধাক্কা খেতে খেতে একসময় মানুষ শক্ত হয়ে যায়। প্রবল আঘাতও তখন তুচ্ছ মনে হয়।
কাজরী শান্ত গলায় প্রশ্ন করলো,
“আল্পনা এসব কী হচ্ছে? “
আল্পনা পায়েশ খাচ্ছিলো। না তাকিয়েই বলল,
“কাজরী, আমি তোমাকে কোনো ব্যখ্যা দেবার জন্য রেডি না। দিতেও চাইছি না। “
“তুমি যে বদ্ধ উন্মাদ সেটা বুঝতে পারছ তো?”
“হ্যাঁ বুঝতে পারছি। আগেও বলেছি যে আমার লাইফের যা কিছু খারাপ ঘটেছে সবকিছুর জন্য তোমরা দায়ী। তুমি আর বাবা। আর আমার জীবনে ভালো কিছু ঘটেও নি তোমাদের জন্য। “
“ওহ রিয়েলি! এখন যা ঘটাতে যাচ্ছ সেটা ভালো? নিশানের সঙ্গে তোমার বিয়ে হলে সেটা তোমার জন্য ভালো হবে? “
আল্পনা পায়েশের বাটিটা টেবিলের উপর রাখলো। সরাসরি ও তাকাচ্ছে না কাজরীর দিকে৷ কাজরী অবশ্য ও’কে ভালো করে লক্ষ্য করছে। আল্পনা সহজ, স্বাভাবিক। খুব স্বাভাবিক আচরণ করছে। ঠান্ডা গলায় বলল,
“আমার ভালো, খারাপ আমাকে বুঝতে দাও কাজরী। “
“ওকে ফাইন। কিন্তু আমার একটা প্রশ্নের জবাব দাও। নিশান কেন? “
আল্পনা এবার তাকালো। বলল,
“কারণ আমার নিশানকে ভালো লাগে। মনে হয়েছে যে ও আমার পার্টনার হবার যোগ্য। “
কাজরী হেসে ফেলল। বলল,
“নিশান! আচ্ছা, এমন কী দেখলে? নাকি ইশানের সিলি জোক সিরিয়াসলি নিলে যে নিশান তোমার বিয়েটা ভেঙেছে কারণ হি লাইকস ইউ। “
“আমি তোমাকে কোনো এক্সপ্লেনেশন দেব না। এটা আমার পারসোনাল চয়েজ কাজরী। এই বয়সে এসে নিজের সিদ্ধান্ত নেবার মতো ম্যাচুরিটি আমার আছে। “
“ম্যাচুরিটি? তোমার কথাগুলো হাস্যকর। চৌধুরী প্যালেসে কয়েকদিন থেকে সেই বাড়ির আরাম, আয়েশ দেখে তোমার লোভ হয়েছে সেটা বলো। “
আল্পনা স্মিত হেসে বলল,
“তুমি তোমার মতো যা খুশি ভাবতে পারো। আই ডোন্ট কেয়ার। “
কাজরী রুক্ষ স্বরে বলে ওঠে,
“আল্পনা আরও একবার তুমি আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করছ। এবারও সজ্ঞানে। “
আল্পনা চুপ করে থাকে। কাজরী আবারও বলে,
“চৌধুরীদের প্রভাব প্রতিপত্তি কোনো কিছুই নিশানের নয় আল্পনা। নিশান বিগ জিরো। ইশানের দয়ায় ও আছে। ওর পায়ের তলায় শক্ত অবস্থানটুকু পর্যন্ত নেই। সেটা কী তুমি জানো?”
“জানি। নিশান ইশানের বাবার ছেলে নয় সেটা জেনেও আমার সিদ্ধান্ত একই থাকবে কাজরী। তুমি সময় নষ্ট করছ। “
কাজরী রাগ সামলানোর চেষ্টা করছে। আল্পনার এই আচরণ বোধগম্য না ঠিক, কেন করছে! হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কাজরী আরও কিছু বলতে চাইলো। ইশান ডাকলো সেই সময়। কাজরী বেরিয়ে যায়। প্যালেসে ফিরে যাবার সময় কাজরী আখতারউজ্জামান কে বলে যায়,
“বাবা আমি চাই না নিশানের সঙ্গে আল্পনার বিয়ে হোক। আজও আল্পনা নিজের জন্য যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সেটা ভুল। “
“আখতারউজ্জামান কাজরীর সঙ্গে একমত পোষণ করে বললেন,
“আমারও তাই মনে হচ্ছে। হঠাৎ আল্পনার পরিবর্তন নিয়ে আমিও ভাবছিলাম। ও’কে কী কেউ ম্যানিউপুলেট করেছে? নিশান কিংবা মিসেস চৌধুরী?”
কাজরী কয়েক সেকেন্ড ভাবে। ও আসলে আল্পনার দিকে আলাদাভাবে লক্ষ্য রাখে নি। প্যালেসে ও কার সাথে কথা বলছে, কার কথা শুনছে এসব দিকে নজর দেবার কথা মাথায় ই আসে নি।
“আমি জানি না। প্যালেসে ফিরে যাচ্ছি। দেখি ওখানে কী হয়? নিশানের সঙ্গে কথা বলে দেখি। আপনি আল্পনার সঙ্গে ভালো করে কথা বলুন। ও’কে বুঝান। আপনার সব কথা তো ও শোনে। আপনি বুঝালে বুঝবে। “
আখতারউজ্জামান লক্ষ্য করলেন কাজরীর অস্থিরতা। তিনি বুঝতে পারলেন ওর অস্থির হবার কারণ। তবে তিনি বিচলিত হচ্ছেন না। আখতারউজ্জামান না চাইলে আল্পনা কিছুতেই বিয়ে করতে পারবে না।
***
“তুমি এতো অস্থির কেন হচ্ছো? আই মিন ওভার রিয়েক্ট কেন করছ?”
কাজরী হতাশ গলায় বলল,
“নিশানের সঙ্গে আল্পনা? নেভার!”
“সারপ্রাইজিং ছিলো ব্যাপার টা। বাট কী আর করা…..
কাজরী ইশানের দিকে তাকালো। ও খুব স্বাভাবিক। এমনভাবে বিষয় টা দেখছে যেন এরকম হতেই পারে। কাজরী রুক্ষ স্বরে প্রশ্ন করলো,
“তোমার কাছে বিষয় টা স্বাভাবিক লাগছে? “
“হ্যাঁ। “
“কেন? নিশান আর আল্পনার বিয়ে হওয়া উচিত বলে মনে হচ্ছে? “
“স্বাভাবিক নয় কেন? আর উচিত, অনুচিত বিষয় টা তুমি আমি ঠিক করতে পারি না। দুজনেই যথেষ্ট এডাল্ট। এটা যদি দুজনের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে তাহলে তোমাকেও রিয়েক্ট করা বন্ধ করতে হবে। কারণ অন্যের পার্সোনাল লাইফে ইন্টারফেয়ার করা ব্যড ম্যানারস। “
কাজরী বিস্মিত হলো। ইশান মাঝেমধ্যে ও’কে দ্বিধায় ফেলে দেয়। এমন কিছু কথা, কিংবা কাজ করে তখন ও ইশানকে বুঝতে পারে না। ইচ্ছে করে ইশানের মাথায় ঢুকে গিয়ে সমস্ত ভাবনা, চিন্তা পড়ে ফেলতে। বিয়ের পর থেকে ও দেখে এসেছে নিশানের সঙ্গে ওর সম্পর্কের টানাপোড়েন। অথচ নিশান যখন সবকিছু হারিয়ে ফেলল তখন ও প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে নি বরং প্রোটেক্ট করার চেষ্টা করেছে।
ইশান ড্রাইভ করছে ধীর গতিতে। কাজরীকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলল,
“ড্রাইভিং সিটে আছি সুইটহার্ট। বি কেয়ারফুল। রোমান্টিক ম্যুডে থেকো না। “
কাজরী অন্যদিকে তাকালো। ইশান বলল,
“কাজরী আমার মনে হচ্ছে তোমার ভাবনা, চিন্তা একটা জায়গায়ই আটকে আছে। আঙ্কেল আর আল্পনার মধ্যে। তুমি একটু রিলাক্স হবে প্লিজ। “
কাজরীর ঠোঁটে তীর্যক হাসি। বলল,
“সরি, আমি কুল থাকতে পারছি না। আমাকে ভাবতে হচ্ছে। কারণ আমি এদের সঙ্গে জড়িয়ে আছি। “
“তুমি আমার সঙ্গেও জড়িয়ে আছ। আমাকে নিয়েও ভাবতে পারো। “
ইশানের হালকা গলায় বলা কথাগুলো কাজরীর ভালো লাগছে না। এতো স্বাভাবিক কী করে থাকতে পারছে। কাজরী কিছুতেই বুঝতে পারছে না আল্পনার এমন চিন্তা ভাবনার কারণ কী হতে পারে! শিরিন চৌধুরী কী ওর মাথায় কিছু ঢুকিয়েছে? নাকি নিশান! ওর মাথায় অন্য কোনো প্ল্যান চলছে।
“গন্তব্যে চলে এসেছি ডিয়ার। “
কাজরী তাকালো। প্যালেসে লাল নীল আলো জলছে। বড্ড ক্লান্ত ভঙ্গিতে গাড়ি থেকে নামলো। ইশান ওর হাত ধরলো। কাজরী ছদ্ম অভিমানে সরিয়ে দিতে চাইলে ইশান শক্ত করে ধরলো। বলল,
“অনেক কিছুই তোমার পছন্দমতো হবে না। কিন্তু সেগুলো তোমার ভালোর জন্য হবে। মেনে নিতে শিখে যাও। “
****
শিরিন চৌধুরী ভারী অবাক হলেন। তিনি নিজেও জানতেন না যে এরকম কিছু ঘটতে যাচ্ছে। কাজরী যখন তাকে প্রশ্ন করলো তখন তিনি বললেন,
“এসব কী বলছ? আমি আল্পনা আর নিশানের বিয়ের কথা ভাবব? “
“আপনি নিশানকে প্রশ্ন করুন। ও নিজেকে কী ভাবে? প্রথমে আল্পনার বিয়ে ভাঙলো, আর এখন আল্পনা ও’কে বিয়ের কথা ভাবছে। কোনো সিনেমার স্ক্রিপ্ট এটা? কোন লজিকে এসব হচ্ছে। “
“হ্যাঁ জিজ্ঞেস করব তো। কিন্তু তুমি আল্পনাকে প্রশ্ন করো ও কেন এই ডিসিশন নিয়েছে। ওর তো কিছুই অজানা নয়। “
“আল্পনা বদ্ধ উন্মাদ এখন। ও’কে আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি না। আপনি নিশানকে জিজ্ঞেস করবেন এবং বারণও করবেন। “
শিরিন এতোকিছুর মধ্যেও কৌতুকবোধ করলেন। আল্পনা কাজরীর বোন নয়, দুজনের মধ্যে সেরকম স্ট্রং বন্ডিংও নেই। আজকের কথা শুনে বুঝতে পারলেন যে আল্পনা প্যালেসে বউ হয়ে আসলে কাজরীর অস্বস্তি বাড়বে। ও তো অলরেডি উঁচু অবস্থানে আছে। তবুও এই ইনসিকিউরিটির কারণ!
****
সকাল দশটা। চৌধুরী প্যালেসের ব্রেকফাস্ট টেবিলে পাঁচজন উপস্থিত আছে। এশনা, শিরিন চৌধুরী, নিশান, ইশান, কাজরী। কাজরীকে অন্যমনস্ক লাগছে। এখনো ওর মাথা থেকে আল্পনার বিষয়টি যায় নি। সকালে যখন নিশানের মুখোমুখি হলো তখনই অস্বস্তি শুরু হয়ে গেল। নিশানও স্বাভাবিক আচরণ করছে। শিরিনই প্রথম শুরু করলেন,
“ইশান কাজরীর কাছে বিষয়টা শুনলাম। আল্পনার বিষয় এর কথা বলছি। তুমি কী এই ব্যাপারে কিছু বলতে চাও?”
নিশান ব্রেড জ্যাম খেতে ব্যস্ত। ইশান এক পলক কাজরীকে দেখে বলল,
“নিশান ই বলুক। “
নিশান তাকালো জিজ্ঞাসু চোখে। কাজরীর তর সইছে না। ও আগ বাড়িয়ে প্রশ্নটা করলো,
“নিশান, আল্পনা বাবার কাছে একটা প্রস্তাব রেখেছে। ও তোমাকে বিয়ে করতে চায়। তুমি এই ব্যাপারে কী বলবে?”
নিশান নির্লিপ্ত গলায় উত্তর দিলো,
“আমার মত আছে। যেহেতু আল্পনার লাইফের বাজে ইনসিডেন্ট এর জন্য আমি ইনডাইরেক্টলি ইনভলব ছিলাম, তাই একটা প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই। “
কাজরী হতভম্ব গলায় বলল,
“প্রায়শ্চিত্ত? “
“নট এট অল। আই অলসো লাইক হার। “
কাজরী প্রচন্ডরকম ধাক্কা খেল। ইশান খাওয়া থামিয়ে প্রশ্ন করলো,
“আর ইউ শিওর? ভেবে ডিসিশন নিচ্ছো?”
“হ্যাঁ অ্যাবস্যুলেটলি। ইন ফ্যাক্ট আমিই তোমাদের জানাতাম এই ব্যাপারে। “
শিরিন কিছু বলছেন না। তিনি একটুও খুশি নন। নিশানকে যদি ধরে বেঁধে বিয়ে দিতে পারতেন তবে সেটা অন্য কারোর সঙ্গেই দিতেন। আখতারউজ্জামান এর মেয়ের সঙ্গে প্রশ্নই আসে না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অন্যরকম। নিশানের বোকা বোকা কর্মকাণ্ড তাকে চুপ থাকতে বাধ্য করছে। তাছাড়া তার ক্লিন ইমেজের জন্য এই বিয়েটা একটা মোক্ষম চাল হতেই পারে। আখতারউজ্জামান এর সঙ্গে আত্মীয়তা পাকাপোক্ত হলে তার ইমেজ ক্লিন থাকবে। তাছাড়া নিশানের বিরুদ্ধে গেলে ও বেপরোয়া হয়ে যাবে। তাই তিনি স্বাভাবিক গলায় বলেন,
“এখন কী করতে হবে? আমি কী আল্পনার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাব?”
কাজরী বলল,
“এক মিনিট? আপনিও নিশানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যাচ্ছেন যে! আপনি জানেন না ও কী করেছে? ওর সাহস কী করে হয় আল্পনাকে বিয়ে করার কথা ভাবার। “
ইশান কাজরীকে থামানোর জন্য বলল,
“কাজরী শান্ত হও। “
শিরিন বললেন,
“আল্পনা সাহস করতে পারছে। তুমি আল্পনাকে প্রশ্ন করো, আমাকে নয়। “
কাজরী উঠে দাঁড়ালো। পানির গ্লাস টা ছুড়ে ফেলল মেঝেতে। স্টাফরা কেউ ডাইনিং স্পেসে নেই। ব্যক্তিগত আলোচনা হবে বলেই সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
কাজরী রুক্ষ স্বরে বলল,
“আপনি প্রচন্ড স্বার্থপর একজন মহিলা। আপনি কী ভাবছেন আল্পনার সঙ্গে নিশানের বিয়ে হলে আপনার রাজনীতিতে পথচলা স্মুদ হবে? স্বার্থ ছাড়া তো আপনি আর কিছু ভাবতেও পারেন না। “
শিরিনও গলা চড়িয়ে বললেন,
“নো নো, ডোন্ট টক টু মি লাইক দ্যাট। আমি আমার ছেলের ব্যাপারে কথা বলছি। তুমি তোমার ব্যক্তিগত আক্রোশ আল্পনা আর তার বাবার জন্য রাখো। আমার সঙ্গে না। “
ইশান উঠে এসে কাজরীকে বলল,
“রিয়েক্ট কেন করছ? আর এখানে রিয়েক্ট না করে তুমি আল্পনার সঙ্গে কথা বলো। নিশানকে প্রশ্ন করতে পারো না তুমি। “
কাজরী ভীষণ অবাক চোখে তাকালো ইশানের দিকে। ও নরম গলায় বলল,
“তুমি ঘরে চলে যাও। “
কাজরী একে একে সবগুলো মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলো। প্রবল অবিশ্বাস ও ঘৃনা নিয়ে। একইরকম ঘৃনা ওর আল্পনার জন্যও আছে। ও ধীরে ধীরে পিছিয়ে যায়। এরপর দ্রুত প্রস্থান করে। নিশান একদম শান্ত ভঙ্গিতে কফিতে চুমুক দিচ্ছে। শিরিন অনেকদিন বাদে শান্তিমতো ব্রেকফাস্ট করলো। এশনা চুপচাপ সব দেখলো শুধু। একবার ইশানকে জিজ্ঞেস করলো,
“আমি যাব ভাবীর কাছে?”
ইশান বজ্রকন্ঠে বলল,
“না। “
****
দুদিন পর শিরিন চৌধুরী রাজকীয় আয়োজনে আখতারউজ্জামান এর বাসায় গেলেন বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। আখতারউজ্জামান কাজরীকে বলেছিলেন যে তিনি এই বিয়ে হতে দিবেন না। কিন্তু তিনি তার অপারগতা স্বীকার করে নিলেন নত মস্তকে। আল্পনা সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে যে আখতারউজ্জামান না চাইলে ও একাই নিজের বিয়ের আয়োজন করবে। একাই চৌধুরী প্যালেসের দ্বারে পৌঁছে যাবে বউ হয়ে। জীবনে প্রথম আল্পনার ভ*য়ংকর জেদের সামনে নত হতে হলো। আল্পনাকে তিনি কখনো জেদি হিসেবে দেখতে চান নি। নরম পুতুলের মতো করে মানুষ করেছিলেন। জেদ, তেজ, সাহস সবকিছু ছিলো কাজরীর। আল্পনা কোনো দিক থেকে কাজরীর মতন না। কিন্তু তিনি নতুন আল্পনাকে চিনলেন।
শিরিন চৌধুরী আল্পনার আঙুলে পরিয়ে দিলেন তার বিয়ের আংটিটা। ভালোবেসে তো নয়, লোক দেখানো রীতি বলে কথা। তবে পুত্রবধূ হিসেবে আল্পনাকে কোনোদিক থেকে যোগ্য মনে না করলেও তিনি সাদরে গ্রহণ করতে প্রস্তুত। পুরোনো হিসাব নিকাশ আছে তার। সেগুলো মিটিয়ে নেবেন মনের মতো করে।
কাজরী উপস্থিত থাকে নি। ও প্যালেসেই থেকে গেছে। ইশান ও’কে সঙ্গ দেবার জন্য ছিলো। কাজরী বলল,
“তুমি চাইলে এই সার্কাস টা বন্ধ করতে পারতে?”
“পারতাম তো। কিন্তু আমি আসলে ভুল কিছু দেখছি না। আমাদের সবার দেখার চোখ আলাদা। তুমি যেটা ভুল দেখছ, আমি সেটা দেখছি না। আল্পনাও হয়তো অন্যরকম কিছু দেখছে। সবারই আলাদা আলাদা পারস্পেক্টিভ। তবে একটা ব্যাপার কনফার্ম করো তো। তুমি কী আসলেই আল্পনাকে নিয়ে চিন্তিত নাকি ইনসিকিউর ফিল করছ। “
“ইনসিকিউরিটি? আমি? এটা মনে হচ্ছে? “
“হচ্ছে। আল্পনার ব্যাপারে তোমাদের কারোরই কোনো কনসার্ন নেই কাজরী। এটা বোঝার জন্য আলাদা মাথার প্রয়োজন নেই।”
কাজরী চুপ থাকে। ইশান আরও অনেকগুলো কথা বলে। সেগুলো শুনলেও মাথার মধ্যে একটা ব্যাপার ঘুরতে থাকে। আল্পনা হঠাৎ ফিল করলো যে বাবা কখনো ওর কথা ভাবে নি। এতোবছরে এই প্রথম এই কথাগুলো বলছে। এখন ইশানও একই কথাগুলো বলল। এই কথাগুলো আসলে কার?
চলবে…..
(উপন্যাস শেষের দিকে প্রায়…..
ধৈর্য্য হারাবেন না……..)
Share On:
TAGS: কাজরী, সাবিকুন নাহার নিপা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কাজরী পর্ব ৭
-
কাজরী পর্ব (৩০+৩১)
-
কাজরী পর্ব ২২
-
কাজরী পর্ব ১৪
-
কাজরী পর্ব ৩৯ +৪০
-
কাজরী পর্ব ১৯
-
কাজরী গল্পের লিংক
-
কাজরী পর্ব ৪৬
-
কাজরী পর্ব ৩৪
-
কাজরী পর্ব ৮+৯