কাছেআসারমৌসুম_(৭৭)
নুসরাতসুলতানাসেঁজুতি
কপাল কেটে ঝরঝর করে রক্ত পড়ছে। থামার নাম নেই। তুশির প্রায় দিশাহারা অবস্থা! ওরনা ভিজে চুপচুপে। দুঃশ্চিন্তায় ভেতরটা দুঃসহ। অথচ যাকে নিয়ে এইসব,তার মুখে এইরকম প্রশ্ন শুনে মেয়েটা কিছু ভ্যাবাচ্যাকা খেলো। তাকাল হতভম্ব বনে। সার্থ ফের শুধাল,
“ কী বলেছিলে তখন?”
তুশি কানে নেয় না। ওকে দুকাঁধ ধরে উঠে দাঁড় করাল। উৎকণ্ঠিত হয়ে বলল,
“ আপনাকে এক্ষুনি ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। কত রক্ত আল্লাহ! কাছাকাছি কোথায় হাসপাতাল যেন! চিন্তায় আমি সব ভুলে যাচ্ছি। কোন দিকে যেন যাব।”
সার্থ তুশির হাত নিজের থেকে সরিয়ে দিয়ে, নিজেই ধরল ওর দুই বাহু। বড্ড অধৈর্য গলায় বলল,
“ বলো,তুমি আই লাভ ইউ বলেছ?”
“ কী শুরু করলেন? আপনার এই অবস্থা,আর আপনি পড়ে আছেন ওসব নিয়ে!”
“ তুমি বলো কী বলেছিলে?”
তুশি হার মানলো। দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল,
“ বলেছিলাম,আই লাভ ইউ!”
সার্থ সঙ্গে সঙ্গে এক টান মেরে মেয়েটাকে বুকে নিয়ে আসে। ঠিক বা পাশটায় মাথা চেপে ধরে বলে,
“ আবার বলো!”
তুশি অবাক হয়। বুঝতে পারে না ওর ওই একটা কথায় এমন কী আছে? তবে টের পাচ্ছে সার্থর বুকের এই দিকটা ঠকঠক করছে খুব। যেন ভূমিকম্পের ধ্বস নেমেছে। এত জোরে বিট করছে হার্টটা! সার্থ তাগিদ দিলো ছটফটিয়ে,
“ বলো তুশি!”
ও থেমে থেমে বলল,
“ আই,আই লাভ ইউ।”
“ আবার বলো,আরো কয়েকবার!”
তুশি চোখ বুজে হাসল। এক রকম পরিতৃপ্ত হাসি। সার্থর মুখে প্রথম ভালোবাসার কথা শুনে ওর হাত থেকে গ্লাস পড়ে গেছিল। আনচান করে মরেছিল সারারাত। টানা দুদিন সুখের স্বস্তিতে দম নিতে পারেনি। ওনারও কি আজ এমন লেগেছে? বিটকেলটা তবে ওকে ভালোবেসে, ওর ভালোবাসাকেও ছাড়িয়ে গেল এবার? তুশি সার্থর শরীরটা দুহাতে শক্ত করে প্যাঁচিয়ে ধরল। বালিশের মতো আরাম নিয়ে মাথা ঠ্যাকাল তার শক্ত বুকে। আকাশে-বাতাসে,পাখিদের গুঞ্জনে সর্বত্র নিঃশ্বাস মিশিয়ে বলল,
“ আই লাভ ইউ,আই লাভ ইউ,আই লাভ ইউ,আই লাভ ইউ আই লাভ ইউ,আই লাভ ইউ, আই লাভ ইউ,আই লাভ ইউ, আই লাভ ইউ!”
সার্থ চটজলদি উত্তর করল,
“ আই লাভ ইউ টু! আই লাভ ইউ টু!”
আজ ইউশার বিয়ে। অনেক বছর পর সৈয়দ নিবাসে একটা বড়োসড়ো বিয়ের ধুম পড়ল। পাড়ায় পাড়ায় রটিয়ে গেল খবর। আয়োজনে-উৎসবে মাতলো চারিদিক। শওকত আর্মির লোক হওয়ায়, এলাকায় বেশ মান্যি করেন সকলে। তবুও তাদের কাছে ব্যাপারটা আশ্চর্যের বৈকি! বড়ো ভাইয়ের দুই ছেলেই,ছোটো ভাইয়ের দুই মেয়েকে বিয়ে করছে,এমন দৃশ্য চোখে পড়ে আদৌ?
বিয়ের খাতিরে বিশাল ক্লাব ভাড়া করেছেন সাইফুল। আজ সন্ধ্যার পরপরই মূল অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। আত্মীয়-স্বজন হইহই করে ক্লাবে ভিড় করল। দূর-দূরান্ত থেকে এলো অতিথিরা। পরিপাটি,জমকালো, আর রং-বেরঙের আলোতে ধাঁধিয়ে গেল সব দিক। সৈয়দ নিবাসের দুই কর্তা আজ একই রকম পাজামা-পাঞ্জাবি পরেছেন। মিন্তুটাও পাঞ্জাবি পরেছে। গৃহীনিরা একইরকম হালকা-পাতলা রঙের শাড়ি,মাথায় ঘোমটা, হাসনার পরনে বোরখা,আর জয়নবেরও সেই একইরকম চিরাচরিত বেশভূষা।
কিন্তু আজ অয়নকে লাগছে অন্যরকম,সবার থেকে আলাদা। হবেই তো,বিয়ের বর সে। প্রথম বার শেরওয়ানি পরেছে ছেলেটা। ফরসা মানুষটাতে শ্যাম্পেন গোল্ড রঙের কাপড় ফুটেছেও বেশ। মাথায় রাজাদের মতো পাগড়ি জড়ানো, বুকের ব্রুচটা লাল রঙের। পায়ে সাদা নাগরা জুতো। ঠোঁটে মৃদূ হাসি থাকলেও,অয়নের চোখ দুটো হাসছে কিনা নিশ্চিত হওয়া গেল না। তবে বিয়ের এই এলাহি আয়োজন সবার মুখেমুখে রব তুলে ফেলল। ডেকোরেশন থেকে শুরু করে, ম্যানেজমেন্ট প্রত্যেকটা জিনিসের প্রশংসা করছিলেন অনেকেই। কিন্তু বিয়েতে
আলাদা করে কোনো গায়ে হলুদ বা তেমন গান-বাজনা হয়নি। সৈয়দ নিবাসের পূর্বপুরুষ, শওকতের মরহুম দাদা সেসময়কার আলেম ছিলেন। মাদ্রাসায় পড়াতেন তিনি। ভদ্রলোক এসব পছন্দ করতেন না। আর তার সম্মানার্থে জয়নব বা ছেলেরা আয়োজন করেন না এ ধরণের কিছু। তাই দুপুর নাগাদ ছেলেমেয়েকে আলাদা আলাদা গোসল করানোর পর,ইউশাকে পাঠানো হলো পার্লারে। সাথে তুশি ছিল, ইউশার মামাতো বোনেরা ছিল। ছিল ওর ভার্সিটির কাছের মেয়ে দুজন।
অয়ন নিজের বিয়ে নিয়ে সার্থর সাথে এখন অবধি কোনো আলাপ করেনি। একটা ভালোমন্দ কথাও বলেনি। দুই ভাইয়ের মাঝে সেই যোজন যোজন দুরুত্বটা একইরকম বহাল আজও। তফাত কেবল,আগে ঢাক-ঢোল পেটানো দুরুত্ব ছিল,এখনকার দুরুত্ব এক নীরব ঘাতক। যতবার দুজন সামনাসামনি পড়ে,
অয়ন মাথা নুইয়ে রাখে,চোখে চোখ মেলাতে চায় না। অন্যদিকে সার্থও আগ বাড়িয়ে যেচে কথা বলে না। সে মেনে নিয়েছে এসব। অন্ধকে পথ চেনানো যায়,কিন্তু যার আগে থেকেই চোখ আছে তাকে তো আর নতুন করে পৃথিবী দেখানো যায় না।
তাও সে বড়ো ভাই! সব ফেলে, সব ছাপিয়ে একটু হলেও ওর ছোটাছুটি যাচ্ছে। বারবার তদারকি করতে হচ্ছে এদিক-সেদিক। একটু আগেই গেইটের কাছটায় ডেকোরেশনের একটা ফুলের চাকা খুলে পড়েছে । সেখানে কাকে যেতে হলো? সার্থকেই। লোক ডেকে সেটা সেট করতে করতে ও আবার ফিরে এলো মিউজিক এরিয়ায়। বলে গেল,
“ গানের বিট কমান। অনেক মুরুব্বিরা আছেন। সফট মিউজিক দিন।”
ফটোগ্রাফার তিনজন এখানে। একজন বিয়ের ছোটোখাটো ডিটেইলসের ছবি তুলবেন,অন্যজন কেবল বর বউয়ের জন্যে বরাদ্দ,আর বাকিজন এসছেন অতিথিদের মুখ বন্দি করতে। সার্থ দ্বিতীয়জনকে বললেন,
“ ব্রাইডের এন্ট্রিতে ফোকাস করবেন। কোনো ভাবেই মিস যেন না হয়!”
লোকটি অদ্ভুত চোখে চেয়ে রইলেন ওর মুখের দিকে। সার্থ অস্বস্তিতে একশেষ হলো! জিভে ঠোঁট ভিজিয়ে বিরক্ত গলায় বলল,
“ শুনেছেন কী বললাম?”
“ জ-জি স্যার। শুনে-শুনেছি।”
সার্থর এপাশ ফিরে দুই গাল ফুলিয়ে শ্বাস ফেলল। এই বিয়েতে অয়নের চেয়েও ও ফোকাস পাচ্ছে বেশি। এসে থেকে নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। কেউ কেউ দেখছে বাঁকা চোখে। এর কারণ? কারণটা তার কপালে থাকা বিশালাকার ব্যান্ডেজ। গতকাল রাস্তায় পড়ে কপাল সোজা ইটে গিয়ে লেগেছিল। ক্ষত-র রেশ এখনো যায়নি। বাড়ির সকলের চিন্তা- জেরার,শাসনের পরেও এখনো ওকে প্রশ্নের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। ও যেই ফিরতে নিলো,পেছন থেকে এক ভদ্রলোক ডাকলেন তখনই। ঘুরে চাইতেই দেখল,আইরিনের ফুপা।
ভদ্রলোক এগিয়ে এলেন। হেসে হাতটা বাড়িয়ে বললেন,“ কেমন আছো সার্থ? রুফের বিয়েতে এলে না কেন? এ কী,কপালে কী হয়েছে?”
প্রথম দুটো প্রশ্নের সাফাই দিতে যাওয়া সার্থর মুখটা অমনি বন্ধ হয়ে গেল। নিষ্প্রভ গলায় বলল,
“ ছোটোখাটো এক্সিডেন্ট।”
“ সে কী! কী করে?”
সঠিক কারণটা সার্থ মুখে বলতে পারল না। ও যে কাল বউয়ের মুখে প্রথম বার ভালোবাসি শুনে বাইকের গতি হারিয়ে উলটে পড়েছিল এসব দুনিয়া জানলে ইমেজ নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। ব্যক্তিত্ববান সার্থ আবরার, ব্যক্তিত্ব হারাবে। এক মাত্র তুশি ছাড়া তার আসল রূপ কাউকে বোঝানো যাবে না!
হেসে বলল,
“ নাথিং সিরিয়াস,একটু ব্রেক ফেইল।”
“ আহা, দেখে চালাবে না? কী যে করো তোমরা! তবে আমি কিন্তু খুব আপসেট হয়েছি আইরিনের সাথে তোমার বিয়েটা…”
সার্থ কথা কেড়ে নিয়ে বলল,
“ আঙ্কেল খাবার ট্রাই করেছেন? বেস্ট কন্টিনেন্টাল সার্ভ হয়েছে আজ।”
“ না, তাতো এখনো দেখিনি। সবাইকে রেখে আমি খেতে বসি কী করে বলো!”
“ তাও ঠিক। আপনার ব্যবসা কেমন চলছে?”
প্রসঙ্গ মূহুর্তে ঘুরে গেল। ভদ্রলোক ব্যবসার বিস্তর আলোচনা শুরু করলেন। মার্কেটের হালচাল নিয়ে আফসোস করলেন।
সার্থ বিদেয় নিয়ে চলে এলো গেইটের কাছটায়। ভি আইপি অতিথিদের সাদরে আপ্যায়নের খাতিরে সাইফুল আগে থেকেই হাজির এখানে। মিন্তুর হাতে গোলাপজলের দায়িত্ব। খুব ভদ্রভাবে অতিথিদের গায়ে ছেটানোর নির্দেশ জারি হয়েছে। ওর নানুবাড়ির কাজিনরাও আছে। রোকসানা, নাসীর আইরিন কেউই আসেননি এখনো। আসবেন কিনা কে জানে!
সার্থ হাতঘড়ি দেখল। শেষ যখন তুশির সাথে কথা হয়েছিল,শুনেছিল পার্লার থেকে বেরিয়েছে। রাস্তায় এখন। তবে ওর ভারি মেজাজ খারাপ জামিলের ওপর। হুট করে লাপাত্তা। ফোনের ওপর ফোন দিয়েও পায়নি। শেষে যখন বাড়িতে খোঁজ নিলো,জানতে পারল হঠাৎ করে অস্ট্রেলিয়া চলে গেছে। আসবে কদিন পর। কী এমন জরুরি কাজ সার্থ বুঝল না। যাওয়ার আগে একবার জানাবে তো! অয়ন-ইউশার জীবনের এত সুন্দর মূহুর্তে ছেলেটা নেই। সার্থ মিস করছে খুব।
ও ফোন বের করল তুশিকে আবার কল দেবে ভেবে, সেসময় একটা গাড়ি এসে ভিড়ল ক্লাবের সামনে। আশেপাশের লোকজন সচকিত হয়। বউ এসছে,বউ এসছে বলে হৈচৈ পড়ে। সার্থ হাত তুলে ফটোগ্রাফারকে ডাকল। ভদ্রলোক স্ট্যান্ড সহ ছুটে এলেন। অয়ন ওর কলিগদের আড্ডায় বসেছিল। খ্যাপাচ্ছিল সবাই। বন্ধুরা সহ প্রত্যেকে ভেবে বসেছে,ইউশার সাথে অয়নের আগেই প্রেম ছিল। একবার তো এক্সাম হলের বাইরে এই মেয়েটাকেই দেখেছিল ওর বন্ধুরা। সেদিন অয়ন বলেছিল,ওটা ওর বোন! তাহলে আজ সেই বোনকেই বিয়ে করছে কেন? অয়ন হাসল তাল মিলিয়ে। কিন্তু কোনো কিছুই আর ভেঙে বলতে গেল না। জানাতে গেল না ওর খণ্ডবিখণ্ড হৃদয়ের গল্প। এর আগে যখন তুশির সাথে ওর বিয়ে ঠিক হয়েছিল,সেই ঘরোয়া বিয়েতে এদের দাওয়াত দেয়া হয়নি। তাই কেউ জানে না ওসব! ভাগ্যিস জানে না।
তখনই আশেপাশের সকলের চ্যাঁচামেচিতে মাথা তুলল সে। হাতের পাগড়িটা ঝটপট পরল। উঠে দাঁড়াল বুক চিঁতিয়ে। আজ ওর বিয়ে নয়,আজ ওর পরীক্ষা! জীবনটাকে গুছিয়ে নেয়ার,আরেকজনকে ভালো রাখার! আর এই পরীক্ষায়ও অয়ন ফুল মার্কস নিয়েই ছাড়বে।
গাড়ি থেকে তুশি নামল আগে। পরনে খয়েরি রঙের লেহেঙ্গা! ওরনাটা পেছন থেকে এনে দুই হাতের কব্জির সাথে ঝুলছে৷ লেহেঙ্গায় কারুকাজ একদমই কম। আহামরি জমকালো নয়। তবে মেয়েটাকে দেখেই সার্থ চোখ বুজে ফেলল। এত মারাত্নক সুন্দর লাগছে কেন? পরপর নিজের দিকে চাইল সে। ওর পরনে ভেলভেট কোবাল্ট ব্লু প্রিন্স কোর্ট,নিচে সাদা প্যান্ট। কোথাও ম্যাচ হলো? চোরটা ওকে বলল না কেন,এই রং পরবে? নিশ্চয়ই লেহেঙ্গার সাথে হিল পরতে হয়েছে? এখন যে কতবার হোচট খেয়ে পরবে কে জানে!
তুশি নেমেই হাত বাড়াল। গাঢ় লাল ব্রাইডাল জামদানি শাড়িটা পরে নেমে এলো ইউশা। মাথায় একটা লাল নেটের ওরনা থাকায় পেছনের ফুল দিয়ে জড়ানো খোপাটা দারুণ ভাবে চিহ্ন তুলে আছে। গা, গলা জড়ানো স্বর্ণের অলংকার,আর মুখ ভরতি মেক আপের আস্তরণে ইউশাকে দেখতে একদম অচেনা লাগছে আজ। ইউশা এমনিই সাজতো কম। তারওপর অয়ন-তুশির ব্যাপারটা নিয়ে নিজের কথা ভুলে বসেছিল। শেষ কবে মুখে ক্রিম লাগিয়েছে,আয়নায় দাঁড়িয়ে খেয়াল করেছে নিজেকে ইউশার তাই মনে নেই। সেই মেয়ের এমন বউয়ের সাজ চোখে লাগবে না? মনে হলো আসমান থেকে লাল রঙের একটা পরী এসে নামল এখানে। সকলে মুগ্ধ হয়ে ওদের দুই বোনকে দেখলেন। সাইফুলের হারানো মেয়ে পাওয়া গেছে,এই খবর তো এখন অনেকেরই জানা।
মাটিতে পা রেখে সামনে চেয়েই,তুশির হাতটা কেমন খামচানোর মতো করে ধরল ইউশা। তুশি খেয়াল করল, মেয়েটা ঘাবড়ে যাচ্ছে। চেহারায় আতঙ্ক কেমন। বোনের হাতের ওপর নিজের বা হাত রাখল সে,হেসে বলল,
“ ভয় নেই। এখানে সবাই তোমার আপনজন। আর সব থেকে আপন মানুষটা তো সেন্টারের ভেতরে। তার কাছে যেতে হবে না?”
ইউশা মাথা নাড়ল।
মিনমিন করে বলল,
“ তুমি আমার সাথে সাথে থেকো।”
“ থাকব। এসো।”
ইউশা যত এগোচ্ছে বুকের ধুকপুকানি বাড়ছিল। ভিড়ভাট্টা,ক্যামেরার ফ্ল্যাশ,অতিথিদের নজর সব কিছু ঝাপসা চোখের সামনে। ভয়ে, নার্ভাসনেসে কেমন কেমন লাগছিল নিজেকে। তুশি ওকে নিয়ে স্টেজ অবধি এলো। ইউশা একটু থমকাল তখনই। পাশ থেকে কতগুলো পুরুষ হোওওওওও বলে চ্যাঁচিয়ে উঠল হঠাৎ। ইউশা টের পেলো তুশি ওর হাত ছেড়ে দিয়েছে। নিচু চোখ তুলে চাইল সে। তুরন্ত,নজর পড়ল সামনে। স্টেজের উঁচুতে দাঁড়িয়ে হাতটা বাড়িয়ে রেখেছে অয়ন। ঠোঁট অল্প হাসি! ইউশা একবার ওর হাতের দিক চাইল। অয়ন ভাইয়ের হাত বহুবার ধরেছে,বহুবার। কিন্তু আজ ধরা মানে গোটা জীবনটা তার হাতে দিয়ে দেয়া। পুরো ভুবনটা তার নামে লিখে দেয়া। বিয়ে বাড়িতে তখন হালকা শব্দে গান চলছিল। চ্যাঁচামেচিতে ইউশার কানে এলো অল্প। গুণগুণ গলায় দুজন নারী-পুরুষ গাইছিল,
“ শুধু তুমি চাও যদি
সাজাবো আবার নদী,
এসেছি হাজার বারণে..
শুধু তোমারই জন্যে,
শুধু তোমারই জন্যে!”
ইউশা বুকে জোর এলো। পাশ ফিরে চাইল তারপর। তুশি চোখের ইশারায় অয়নের হাত ধরতে বোঝাল। ওর পেছনেই অয়নের বন্ধুরা ফোনের ক্যামেরা মেলে আছে। উৎসুক তারাও। বর-বউয়ের এই সুন্দর মূহুর্ত মিস করা যাবে না! ইউশা ঢোক গিলল,একটু শ্বাস টেনে লাল চুড়িতে ভরা হাতটা তুলে অয়নের হাতে রাখতেই ফের হৈচৈ পড়ল সেখানে। রাজকীয় ডিজাইনের সোফাটায় অয়ন বসালো ওকে। পাশে বসল নিজেও। সামনের টেবিলে কত রকম ফল,মিষ্টি রাখা। জাফরানের গন্ধ ছড়িয়েছে বাতাসে। ক্যামেরাম্যান কাজে লেগে পড়েছেন। ইউশার মুখ আনত! অয়ন সবার দিকে চোখ রেখেই বলল,
“ নার্ভাস?”
মুখ তুলল মেয়েটা।
“ হু? একটু!”
অয়ন টিস্যু এগিয়ে দিয়ে বলল,
“ ঘামছিস কেন? মেকআপ নষ্ট হয়ে যাবে!”
ইউশা টিস্যু নিলো। নাকের ডগায়,কপালে ড্যাবড্যাব করল দুবার।
অয়ন হঠাৎ বলল,
“ সুন্দর লাগছে!”
হাতটা থমকাল ওর। জানতে চাইল,
“ কী?”
অয়ন পাশ ফিরে চাইল। একইরকম বলল,
“ সুন্দর লাগছে।”
“ কতটা?”
“ কতটা বলতে?”
“ তোমার চোখ আটকে দেয়ার মতো?”
অয়নের হাসি কমে গেল। এক,দুই সেকেন্ড মুখখানা ঝিম ধরে রইল। পরপরই হাসল প্রফুল্ল চোখে। নিঃসঙ্কোচে বলল,
“ তা জানি না। তবে, আমার দেখা ওয়ার্ল্ড প্রিটিয়েস্ট ব্রাইড যে আমার পাশে বসে আছে, এটুকু জানি। এতদিনে মনে হচ্ছে তোকে লিটল চেরি ডাকা স্বার্থক!”
ইউশার সব অস্বস্তি,অসংগতি মুছে গেল এই এক কথায়। বন্ধুরা,তুশি কতবার বলেছে ওকে দেখতে রানীর মত লাগছে! কিন্তু ওর ভালো লাগেনি। মনে হয়েছে এত ভালো লেগেও তো লাভ নেই,অয়ন ভাই তাকাবেনই না। কিন্তু অয়ন ভাই তাকিয়েছেন, দেখেছেন ওকে। প্রশংসা করেছেন। ইউশার আর কী চাই? বিশ্বসুন্দরীর খেতাবটাই তো জিতে গেল আজ।
**
হঠাৎ হাত ধরে হ্যাচকা টানে পিছু ফেরাতেই হাই হিল মুচড়ে গেল তুশির। এঁকেবেকে থুবড়ে পড়ল সার্থর বুকে। ভড়কে বলল
“ আপনি? আপনাকেই তো খুঁজছিলাম।”
“ তুমি শাড়ি পরোনি কেন?”
“ বের হওয়ার সময় মা এসে দিয়ে গেল। বলল, বড়ো মা নাকি পরতে বলেছে। এখন বড়ো মায়ের কথা কি ফেলতে পারি? আর আপনিও না বললেন, শাড়ি শুধু আপনার সামনে পরতে?”
ওপাশ থেকে জবাব না আসতেই,ফের বলল,
“ আচ্ছা আপনার কপালের কী অবস্থা? ব্যথা আছে? ডাক্তার কিন্তু বলেছিল ব্যথা বাড়লেই সঙ্গে সঙ্গে চলে যেতে।”
“ না নেই। আর যেটুকু, ওটুকু আমার মনের ব্যথার কাছে কম।”
“ মনে আবার কীসের ব্যথা পেলেন?”
“ তুমি জানো না?”
“ না তো।”
সার্থ চুপ করে রইল,
তুশি নিষ্পাপ কণ্ঠে বলল,
“ আমি সত্যিই জানি না।”
সার্থর হু-হা নেই। তুশি বিপাকে পড়ল বেশ। নিজেই আন্দাজ করে বলল,
“ একসিডেনের কথাটা কী?
ওখানে আমার কী দোষ? বাইক তো আপনি চালাচ্ছিলেন।”
সার্থ সাথে সাথেই বলল,
“ তো, তোমাকে তখন ওসব বলতে কে বলেছিল?”
তুশির চেহারা নুইয়ে গেল। লাজুক স্বরে বলল,
“ আমি কী করে জানব,আমার মুখে ভালোবাসার কথা শুনলে আপনার বাইক ব্রেক ফেইল করবে!”
সার্থ পুরু স্বরে বলল,
“ দোষটা তোমারই তুশি।
তোমায় তো জেলের ভেতর ঢুকিয়েছিলাম, মনের ভেতর ঢুকতে বলেছিল কে?”
কথাটায় তুশি মুখ তুলে চাইল। চেয়েই রইল সার্থর দীপ্ত নয়ন তারায়। একদিন যে দৃষ্টিতে কেবল পাথর দেখেছে,শাসন দেখেছে অনীহা দেখেছে সেই চোখে আজ এত প্রেম! এত মোহ! এত মায়া! কিছু বলার আগেই, কোত্থেকে ‘’ ওস্তাদ” বলে চিৎকার দিতে দিতে ছুটে এলো বাবলু আর টিনটিন। এক দৌড়ে এসে থামল ওদের সামনে। বাবলু চোখ বড়ো বড়ো করে তুশিকে দেখে বলল,
“ ওরে রে, তোমারে তো নায়িকা লাগে। এক্কেরে নায়িকা কুমকুম।”
টিনটিন বলল,
“ সর কুমকুম না,নায়িকা পূন্নিমা।”
“ না, নায়িকা মৌসুমি।”
“ তুই বেশি জানোস?”
“ তুই বেশি জানোস?”
সার্থ ভ্রু কুঁচকে বিড়বিড় করল,
“ এই দুটো আবার কে?”
টিনটিন বলল,
“ ওস্তাদ,খাওন দেবে কহন? আমি পলিথিন আনছি,আমার লগে দুইডা রোস্ট দিয়া দিও।”
বাবলু বলল,
“ ওস্তাদ আমিও আনছি।”
তুশি উত্তর দেবে কী, লজ্জায় ওর মাটির ভেতর ঢুকে যাওয়ার অবস্থা। সার্থর সামনে ওদের এই ওস্তাদ ওস্তাদ ডাকে ভীষণ বিব্রত হয়ে পড়ল। ঘাড় চুলকাতে চুলতে সার্থর দিকে পিঠ ফিরিয়ে,টিনটিনদের চোখ রাঙাল সে। ইশারায় মানা করল,ওস্তাদ না ডাকতে। বাচ্চাগুলো বুঝল না। উলটে টিনটিন নতুন জামা দেখিয়ে বলল – ওস্তাদ, আমারে কেমন দেখায়? ইদের জামা পরসি। মায় কইসে জামায় একটা দাগ পরলে পিডাইয়া হাপলা বানাই দিব।”
বাবলু বলল,
“ ওস্তাদ কতা কয় না ক্যা?”
সার্থ দেখল তুশির উশখুশে ভাব। ভ্রু নাঁচিয়ে বলল,
“ ওস্তাদ! দেখি ওস্তাদের মুখটা।”
তুশিকে ধরে নিজের দিকে ফেরাল ও। মেয়েটা অপ্রস্তুত ভাব করে হাসল। টিনটিন, বাবলু এতক্ষণে যেন খেয়াল করল সার্থকে। বাবলু ফিসফিস করে বলল,
“ এডা হেই পুলিশটা না? আমরা যে চোর,আমাগো ধরলে কী হইব?”
“ আরে ধরব না। হেয় তো অহন আমাগো লোক। আমাগো ওস্তাদের জামাই না? মায় কইসে,ওস্তাদ অনেক সুখে আছে।”
সার্থ দুই হাত পকেটে গুঁজে শ্বাস টেনে বলল,
“ তা ওস্তাদের কী খবর? এরা নিশ্চয়ই আপনার সাগরেদ?”
তুশি লজ্জায় মাথা নুইয়ে ঠোঁট উলটে রাখল। বাবলু বলল,
“ হ,আমরা তো এক লগে চুরি করতাম। ওস্তাদ তোমার মনে আছে,আমগো নিয়া প্রথম চুরির কতা? ওই যে মোখলেসের টাচ মোবাইল চুরি কইরা আমরা …”
তুশি অমনি ওর মুখ চেপে ধরল। কাচুমাচু করে বলল,
“ আসলে ওরা ছোটো তো,তাই বোঝে না কী ডাকতে হয়।”
তারপর বাবলুর মুখ ছেড়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
“ বাবলু, এখন থেকে আপু ডাকবি কেমন?”
টিনটিন তব্দা খেয়ে বলল,
“ আপু? ইছ আমাগো মুহে আইবই না।”
তুশি চোখ রাঙিয়ে বলল,
“ না এলেও ডাকবি। আমি এখন আর চুরি করি? এখন ভালো হয়ে গেছি না? তোরাও ভালো হবি। আমাদের সাথে কি ওসব ডাক যায় এখন?”
বাবলু-টিনটিনের মন খারাপ হলো। মুখ চাওয়াচাওয়ি করল দুজন।
“ কিন্তু, ওস্তাদ মুহে না আইলে কী করমু?”
সার্থ টিনটিনের মাথায় হাত রেখে বলল,
“ আসতে হবে না। তোমাদের যা ভালো লাগে তাই ডেকো।”
“ সত্য?”
“ হু! ওই যে,ওই রুমে খাবার দিচ্ছে যাও।”
তারপর একজনকে ডেকে বলল,
“ এদের নিজ দায়িত্বে খাওয়াতে। যাবার সময় আবার সাথে সবগুলো খাবার আলাদা পার্সেল করে দিতে।”
তুশির বুক জুড়িয়ে গেল এতে। ওর বস্তির লোকগুলোকে সার্থ এভাবে আপ্যায়ন করবে ও ভাবতেই পারেনি। বাবলু, টিনটিনও খুশি হলো খুব। ছুটতে নিয়েও বাবলু বলল,
“ ওস্তাদ, তুমি না কইছিলা দুনিয়ার সবচাইতে বদমাইশ পুলিশ এই ছারে? কই ওস্তাদ,ছারে তো অনেক ভালো।”
তুশি চোখ প্রকট করে জিভ কাটল! দিলো রে ওকে ফাঁসিয়ে। থতমত খেয়ে বলল,
“ আমি কবে বললাম?”
“ ক্যা ওস্তাদ মনে নাই? জেল দিয়ে আইলা যে,হেইইদিন না কইলা এইরম বেজাত পুলিশ তুমি জীবনে…”
তুশি ওকে থামাতে ছটফটিয়ে ধমকে উঠল,
“ বাবলু, একটা চড় মারব। চুপচাপ খেতে যা!”
বাবলু ভয় পেলো। ছুটল পালাতে। তুশি চোরা চোখের কোণ তুলে স্বামীর দিকে চাইল এইবার।
সার্থ কপাল কুঁচকে বলল,
“ আমাকে মারতে ইচ্ছে করতো,
আমি বদমাইশ,
বজ্জাত, আর কিছু?”
তুশি নিচু গলায় বলে,
“ ওগুলো তো আগের কথা!”
“ তাহলে পরের কথা কী?”
তুশির মাথায় দুষ্টুমি এলো। সব দাঁত দেখিয়ে বলল,
“ পরের কথা,আই লাভ ইউ!”
বলেই ছুটে গেল মেয়েটা। সার্থর চোখ চমকাল,পিছু ডাকল,
“ অ্যাই চোর,দাঁড়াও…”
তুশি দাঁড়ায় না। এক ছুটে মা-চাচিদের কাছে ভিড়ে যায়। সার্থ মাথা নুইয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসল। সাইফুল তক্ষুনি হাঁক ছুড়লেন,
“ বিয়ে পড়ানো হবে ভাইজান,আসুন। কোথায়? ভাবি!”
আর্মিতে অবসরপ্রাপ্ত সহকর্মীরা এসেছেন শওকতের। সেখানেই ছিলেন তিনি। ডাক শুনে তড়িঘড়ি করে উঠে এলেন। ততক্ষণে কাজী সাহেব স্টেজে গিয়েছেন। বর-কনের সাম্যনে বসলেন উনি। ছেলেপেলে, বাচ্চা-কাচ্চা সহ কয়েকজন মুরুব্বি নিয়ে একটা জটলা বাঁধল এখানে। সার্থ ভিড়ের সামনে এলো না। সাইফুল দুবার বললেও না। সে দাঁড়িয়ে রইল পেছনে। কাজী সাহেব বিয়ের তারিখ লিখলেন,
০৪/০৫/২০২৬ইং।
তুশি এসেই সার্থর বাহুতে হাত গলিয়ে দাঁড়াল। তার চোখেমুখে,ঠোঁটে উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। সার্থ জিজ্ঞেস করল,
“ হ্যাট্রিক করবে?”
তাকাল ও,
“ কীসের?”
“ বিয়ের।”
“ আবার?”
“ চাও?”
“ হুউউ, করাই যায়।”
সার্থ কানের কাছে আস্তে করে বলল,
“ তাহলে বলো,কবুল!”
তুশি ঠোঁট টেনে হাসল। মাথা উঁচু করে থুত্নি রাখল সার্থর বুকে। চোখে চোখ রেখে বলল,
“ কবুল,কবুল,
একটা বিটকেল পুলিশকে যতবার বিয়ে করতে হবে ততবার কবুল।”
সার্থ হেসে ফেলল। তক্ষুনি কাজী সাহেবের উঁচু কণ্ঠ শোনা যায়। অয়নকে বললেন,
“ বাবাজি, বলো কবুল!’’
অয়ন দম নিলো না। এক ফোঁটাও না। কাজী থামলেন, কথায় দাড়ি দিলেন,সেও সঙ্গে সঙ্গে বলল,
“ আলহামদুলিল্লাহ কবুল!”
ইউশা অবাক হলো। চেয়ে রইল তাজ্জব হয়ে।
সবাই উচ্চস্বরে আলহামদুলিল্লাহ পড়লেন। মৌলভি সাহেব বললেন,
“ এবার তুমি বলো।”
মেয়েটা একবার বাড়ির সবার দিকে দেখল। তারপর চাইল কোলের ওপর রাখা নিজের হাত দুটোর পানে। আঙুল ঠকঠক করছে,কাঁপছে বুক। দ্বিধায়, দোটানায় টইটম্বুর সব। কখনো মনে হচ্ছে অয়ন ভাই, তুশিকে ভুলতে পারবে না। বিয়ে করলেই কি নতুনকে পেয়ে পুরানোকে ভোলা যায়? ইউশা আবার অয়ন ভাইয়ের বোঝা হবে না তো! পস্তাবে না তো মানুষটা? কখনো বলে ফেলবে না তো, ইউশা বিয়েটা আমি ঝোঁকের বশে করে ফেলেছিলাম। তুই আমার জীবন থেকে চলে যা!
ইউশা ত্রাসিত বুক নিয়ে হাতের আঙুল কচলে গেল সমানে। ঠিক সেই সময় ওই ঠকঠক করা হাত দুটোয় হাত রাখল অয়ন। বিদ্যুৎ এর মতো ছলকে উঠল মেয়েটা। চিবুক তুলতেই,
অয়ন বলল,
“ কবুল বল।”
ইউশা কিছুক্ষণ চেয়ে রইল। বাবা তাগিদ দিলেন,কাজী সাহেবও দিলেন। কবুল তো তিনবার বলতে হবে। শেষমেশ মাথা নুইয়ে ইউশা আস্তে করে বলল,
“ কবুল।”
এরপর একটু জোরে বলল – কবুল।
তৃতীয়বার বলতে গিয়ে কণ্ঠ বুজে গেল,টেনেহিঁচড়ে স্বর ফোটাল, কবুউউউল।
আর তারপর, হুহু করে কেঁদে ফেলল মেয়েটা। গুমোট মেঘ ভেঙে বৃষ্টি নামার মতো ঝরঝরে কান্নার আওয়াজে, আশ্চর্য হয়ে গেল সবাই। ইউশার তাতে সৎবিৎ নেই। হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে মেহেদি রাঙা হাত দুটো দিয়ে মুখ চেপে ধরল ও। তুশি ছুটে এলো। বোনকে বুকে টেনে নিতেই ইউশা যেন খামচে ধরল ওকে। বিয়ে বাড়ির প্রত্যেকে অবাক হয়ে ওর কান্না দেখলেন. আফসোস করলেন,শ্বাস ঝাড়লেন সৈয়দ পরিবার। অতিথিদের কেউ কেউ ভাবলেন, মেয়ের বিয়েতে মত নেই। জোরাজোরি হচ্ছে কিনা! মানুষের চিন্তাধারায় তো আর কারো হাত নেই।
তবে অয়ন চুপ করে চোখ নামিয়ে পায়ের জুতোয় চেয়ে থাকে। ভেতরটা ভীষণ রকম ফাঁকা হয়ে যায়! গলা শুকায় কাঠের মতোন।
ইউশা এত কাঁদছে কেন? ওকে পাওয়ার আনন্দে? নাকি, ওকে পেয়েও পুরোপুরি পাবে না ভাবার আশঙ্কায়!”
চলবে…
Share On:
TAGS: কাছে আসার মৌসুম, নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৭২.১
-
হেই সুইটহার্ট পর্ব ৩
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৬০
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৬৫
-
হেই সুইটহার্ট পর্ব ১
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৪০
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৭৬
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৪৫(প্রথমাংশ + শেষাংশ)
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৫৫
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৩০