Golpo romantic golpo কাছে আসার মৌসুম

কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৭৫


কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৭৫

নুসরাতসুলতানাসেঁজুতি

তপ্ত দুপুরে নিথর বাতাসে বজ্রপাত কেমন হয়,তার আঁচ যেন হাড়েহাড়ে সৈয়দ নিবাসের প্রত্যেকে বুঝে ফেলল আজ । একটু আগে লিভিংরুমের জমজমাট আড্ডার রেশ কর্পূরের মতো উধাও হলো কোথাও। পিনপতন নীরবতা চিড়ে হাতের গ্লাসটা শব্দ করে টেবিলে রাখলেন শওকত । তোড়ে গ্লাস ছলকে হলুদ পানীয় ছিটকে পড়ল চারপাশে। সাথে বুক ছ্যাৎ করে উঠল ইউশার। চোখ খিচে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরটা গুটিয়ে গেল। থরথর করা হাতটা তুলে কপালের ঘাম মুছল সে। মেয়েটা স্বপ্নেও ভাবেনি,অয়ন ভাই ওকে এইভাবে সবার সামনে টেনে এনে দাঁড় করবে! এখন কাকে কী জবাব দেবে ইউশা? অপরাধীর মতো চিবুক নুইয়ে রাখল সে। ঢেড় বুঝল, এই মূহুর্তে প্রত্যেকটা মানুষ হতবিহ্বল চোখে ওদের দুজনকেই দেখছে। এই বিস্তর নিস্তব্ধতা ভাঙলেন তনিমা। অবিশ্বাসের তোড়ে কথা আটকে এলো তাঁর। থেমে থেমে বললেন,
“ তোর,তোর কি মাথা ঠিক আছে অয়ন? ইউশাকে বিয়ে করবি তুই? কী, কী যা তা বলছিস?”
অয়নকে বিচলিত দেখাল না। উলটে পালটা প্রশ্ন করল,
“ কেনো মামুনি,এত অবাক হওয়ার কী আছে? করতে পারি না?”
“ না। ও তোর ছোটো বোন। তুই তো নিজে ওকে কত আদর যত্ন নিয়ে বড়ো করলি!”
অয়নের চোখমুখে বদল এলো না।
চোয়াল শক্ত রেখে স্থির থেকে বলল,
“ ইউশা আমার আপন বোন? রক্তের তো কেউ নয়। তাহলে বিয়েতে সমস্যা কীসের?”
শওকত দুম করে উঠে দাঁড়ালেন। চ্যাঁচিয়ে বললেন,
“ আলবাত সমস্যা! ফাজলামো হচ্ছে নাকি এটা? যখন যার যা ইচ্ছে তাই করা হচ্ছে? গত দুইদিন আগে তুশিকে বিয়ে করবে বলে বাড়ি মাথায় তুলেছ। বড়ো ভাইয়ের কলার ধরেছ,ভাংচুর করেছ। আর একটা মাস না যেতেই, ইউশাকে বিয়ে করবে? বোকা ভাবো আমাদের,আমি জানি না তুমি এসব কেন করছ?”
“ কেন করছি?”
“ করছো তো নিজের জেদ মেটাতে। তুশির ওপর রাগ দেখাতে ওর বোনকে বিয়ে করবে এখন। প্রতিশোধ নিচ্ছো অয়ন? মাথাটা এত খারাপ হয়ে গেল যে মাঝখানে আরেকটা নির্দোষ মেয়েকে টানছো! শোনো অয়ন,ইউশা এই সৈয়দ বাড়ির বড়ো মেয়ে। ওকে নিয়ে কোনোরকম কোনো এক্সপেরিমেন্ট হবে না।”
অয়ন দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
“ বাবা আমি এমন নই। এত অমানুষ নই আমি। ইউশাকে আমি জন্মাতে দেখেছি। ও আমার সাথে বড়ো হয়েছে। ওকে আমি স্নেহ করি! অন্যের ওপর জেদ মেটাতে আমি আর যাই করি ইউশাকে বেছে নেব না। ইউশা আমার এক্সপেরিমেন্ট নয়, ও আমার বাঁচার পথ।”

শেষ কথাটা তিরের মতো ইউশার বুকে গিয়ে লাগল। ধক করে উঠল দুনিয়াদারি। শুষ্ক গলা ভিজে গেল এক পশলা বিস্ময়ে,
“ ও অয়ন ভাইয়ের বাঁচার পথ?”

সার্থ চুপ করে অয়নের মুখের দিকে চেয়ে আছে। অন্তর্ভেদী চাউনিতে বুঝতে চাইছে,অয়ন আসলেই চাইছেটা কী? ইউশা অয়নকে পছন্দ করে ও জানে। কিন্তু অয়ন হুট করে ওকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলো,ব্যাপারটা পজেটিভ না নেগেটিভ!
সাইফুল-রেহণূমা মুখ দেখাদেখি করলেন। হাসনা মিন্তুকে বললেন,
“ দাদা, লও আমরা ঘরে যাই।”
মিন্তু এই ইশারা বোঝে। বড়োদের কথার মাঝে তার ঠাঁই এখনো হয়নি। তাই চুপচাপ হাসনার সাথে কক্ষের পথ ধরল।
এদিকে শওকত রেগেমেগে বললেন,
“ লেকচার কম দাও। তোমাদের কাউকে আমি এক ফোঁটাও বিশ্বাস করি না। আমি তোমার সাথে ইউশার বিয়ে কিছুতেই হতে দেব না।”
“ মেয়ে তো তোমার না,তুমি তাহলে রিয়্যাক্ট করছো কেন? চাচ্চুর মেয়ে, যা বলার চাচ্চু বলুক,ছোটো মা বলুক! চাচ্চু,আমাকে তোমাদের মেয়ে জামাই বানাতে কোনো অসুবিধে আছে?”
সোজাসাপটা প্রশ্নে সাইফুল থতমত খেলেন। জিভে ঠোঁট ভিজিয়ে কিছু বলতে গেলেই,শওকত গর্যে বললেন,
“ খবরদার সাইফুল,ওর কথায় গলবি না। একদম ন্যাকা ন্যাকা হাবভাব করবি না। মনে রাখিস, এটা তোর মেয়ের জীবনের প্রশ্ন!”
অয়ন ফের শুধাল,
“ চাচ্চু,উত্তর দাও। অসুবিধে আছে?”
“ আমি,আসলে অয়ন, ভাইজানের ওপর দিয়ে আমি কী বলব বল?”
শওকত বললেন,
“ কিছু বলার দরকারও নেই। তুশির জন্যে এই ছেলের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এখন যা পারছে, যেভাবে পারছে সেভাবে চাইছে মেয়েটার মানসিক শান্তি নষ্ট করতে।”

বারবার এরকম একটা প্রসঙ্গতে নিজের নাম আশায়,লজ্জায়-অস্বস্তির মরমে মরে যায় তুশি। সম্মানহানীতে গলার খাঁজে ঢুকে যায় চিবুক। কিন্তু জীবনটা ওকে এমন উপহাঁসের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে,ও চাইলেও এসব থেকে আর কক্ষনো পালাতে পারবে না।

অয়ন চোখ বুজে দম ফেলল। খুব কঠোর মুখে বলল,
“ বারবার এক কথা বলো না বাবা। আমি কারো ওপর রাগ-জেদ থেকে ইউশাকে জীবনে জড়াচ্ছি না। এটা আমার ব্যাপার, আমাদের ব্যাপার। দয়া করে আমার আর ইউশার মাঝে আমার ভাইয়ের বউকে টেনো না তুমি।”
সার্থর দুই ভ্রু কপালে চলে গেল। ভাইয়ের বউ! এই কথাটা ভীষণ পছন্দ হলো ওর। যাক, এতদিনে অয়ন তাহলে ঠিক লাইনে এসেছে।
তারপর আড়চোখ ঘুরিয়ে তুশিকে দেখল ও। সেই নজর ফিরে এলো মায়ের কথায়।
তনিমা বললেন,
“ অয়ন, যাই বল আর তাই বল এই সম্পর্ক হবে না। লোকে কী বলবে? সবাই ছিছি করবে আমাদের! আত্মীয় স্বজন বলবে এক বোনকে না পেয়ে আরেক বোনের সাথে বিয়ে হচ্ছে। আমি তোদের জন্যে এই বাড়ির সম্মান আর নিলামে তুলতে পারব না।”

রেহণূমাও একই সুর তুললেন,
“ দ্যাখ বাবা, বিয়ে একটা মানুষের জীবনে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এসব নিয়ে হঠকারিতা করতে নেই। হুজুগের বশে এমন কিছু করা উচিত হবে না,যেটা আর কখনো শুধরানোর উপায় না থাকে। মাঝখান থেকে তো আমার মেয়েটার জীবন নষ্ট হবে!”

ইউশা চুপ! অয়ন উদ্বেগ নিয়ে বলল,
“ ছোটো মা,আমি কেন ইউশার জীবন নষ্ট করব? ও তো সেই প্রথম থেকে আমার আদরের! কোনোদিন ওকে একটা ধমক অবধি দিইনি আমি। এমনও হয়েছে,ইউশা যেটা ভয়ে তোমাদের কাছে চাইতে পারেনি সেটা ও আমাকে এসে বলতো,আমি এনে দিতাম। আমি ইউশার কম্ফোর্ট জোন। আমি ওকে বুঝি,ও আমাকে বোঝে। তাহলে তোমাদের এত আপত্তি কীসের?”
শওকত খিটমিট করে বললেন,
“ মাথা খারাপ ছেলে, কম্ফোর্ট জোন ধুয়ে কি পানি খাবে তুমি? ইউশা তোমাকে সব বলতো,কারণ ওর কাছে তুমি বড়ো ভাইয়ের মতোন। আর তুমি কিনা ওর এসব সম্মানের দোহাই দিয়ে ওকেই বিয়ে করবে বলছো!
তাও বুঝতাম,যদি এর মাঝে কোনো ভালোবাসা থাকতো। কিন্তু তা তো নেই। তুমি ওকে ভালোবাসো?”
অয়নের অনড় হাবভাবে কিছু ভাটা পড়ল এবার। একটু থেমে বলল,
“ না।”
এই না শব্দ, ইউশার কাছে পুরোনো। অয়ন তো ওকে সোজাসাপটা বলেই দিয়েছিল,ভালোবাসে না। কিন্তু তাও একইরকম কষ্ট হলো আজও। আজও বুক চিড়ে গেল। মাথা নত করে ঠোঁটদুটো টিপে রাখল সে৷
সেই সাথে আরেক পশলা বিভ্রান্তিতে থমকে গেল সকলে। শওকত তাজ্জব হয়ে বললেন,
“ না? তাহলে কেন বিয়ে করবে?”
অয়নকে এবার কেমন অস্থির দেখাল। জিভে ঠোঁট চোবাল এলোমেলো ভাবে। বলল,
“ ভালো-ভালোবাসব, পরে।”
“ ইয়ার্কি নাকি? পরে ভালোবাসবেন উনি। এরকম হয় কখনো?”
এই পর্যায়ে তুশি আর চুপ থাকতে পারল না। এক পা এগিয়ে এসে বলল,
“ কেন হয় না বাবা? হয় তো। অনেক হয়! একসাথে থাকতে থাকতে মায়া বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভালোবাসাও হয়ে যায়। এই তো, আমার আর আপনার মেজো ছেলেকেই দেখুন। শুরুতে আমাদের মাঝেও কিছু ছিল না। উনি উত্তর মেরুর মানুষ হলে,আমি দক্ষিণে ছিলাম। দুজনেরই দুজনকে সহ্য হতো না। ওনার রুমের সামনে অবধি যাওয়া নিষেধ ছিল আমার। ওনাকে দেখলেই আমার মারতে ইচ্ছে করতো। কিন্তু সেসব ছাপিয়ে আমরা কি এখন এক হইনি? সংসার করিনি?”
সার্থ হতভম্ব হয়ে বলল,
“ তোমার আমাকে মারতে ইচ্ছে করতো?”
এতগুলো লাইনের মধ্যে এই একটা কথাই ধরল মানুষটা? জিভ কাটল তুশি। মহাবিপাকে পড়ার মতো চেহারা বানিয়ে বলল,
“ না মানে, শুরুতে শুরুতে! ওসব আগের কথা। আপনিও তো কিছু হলেই আমাকে জেলে দিতে চাইতেন।”
সার্থ তপ্ত চোখে চেয়ে রইল তাও। তনিমা বললেন,
“ তুশি, তোদের ব্যাপার আলাদা। সার্থর জীবনে কোনো মেয়ে ছিল না। কিন্তু অয়নের…”
বিব্রত চেহারায় থেমে গেলেন রমণী। জয়নবকে বললেন,
“ আম্মা,আপনি চুপ করে আছেন কেন,আপনি অন্তত কিছু বলুন!”
বৃদ্ধা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
“ আমার আসলে এখানে কিছু বলার নেই!”
শওকত বললেন,
“ কিছু বলতেও হবে না আম্মা। আমি তো বললামই, কোনো বিয়ে ফিয়ে হবে না। যদি বিয়ে করতেই হয়,বাইরে মেয়ে দেখো অয়ন। ইউশা নয়!”
সার্থ বলল,
“ কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, ইউশা অয়নের সাথেই ভালো থাকবে।”
এমন বিরুদ্ধাচারণে শওকতের মাথায় আগুন জ্বলে উঠল। ফুঁসে বললেন,
“ হ্যাঁ হ্যাঁ, তা তো মনে হবেই। অন্তত যারা নিজেরটা বোঝে তাদের এমনই মনে হবে। আফটার অল পথের কাঁটা দূর হচ্ছে। তার বৈবাহিক জীবন থেকে ঝামেলা কমছে। এতে অন্যের যদি ক্ষতিও হয়,তবে কার কী?”

সার্থর মেজাজ চটে গেল। আর একটাও কথা না বলে দুম করে উঠে ওপরে চলে গেল সে। সাইফুল বললেন,
“ এভাবে বললে কেন ভাইজান, ছেলেটা কষ্ট পেলো তো।”
অয়ন মৃদূ হেসে বলল,
“ কষ্ট পাবে কেন,চাচ্চু? বাবা একটা কথা সত্যিই বলেছে,আমি বিয়ে করে ফেললে ভাইয়া আসলেই নিশ্চিন্ত থাকবে।”
তুশি প্রতিবাদ করল নিচু স্বরে,
“ আপনার ধারণা ভুল। আপনার বিয়ে নিয়ে ওনার নিশ্চিন্ত হওয়া না হওয়ার কিছু নেই। আমাদের সম্পর্ক ওই জায়গায় এখন আর নেই অয়ন ভাই। উনি নিজের স্বার্থের জন্যে আপনার হয়ে কথা বলেননি। উনি সব সময়ই আপনার ভালো চান,চেয়ে এসেছেন!”

অয়ন জবাব দিলো না। তাকালোও না ওর দিকে। শুধু মেঝেতে শক্ত চিবুকে চেয়ে ভ্রু কুঁচকে রাখল। তবে দেখা গেল ঢোক গিলতে। যেন কিছু বলতে চেয়েও গিলে নিচ্ছে। তারপর চোখ তুলে বাবার দিকে চাইল ও। জিজ্ঞেস করল,
“ বাবা, আমার সাথে ইউশার বিয়ে দেবে কিনা!”
“ কক্ষনো না,কোনোদিন না।”
এবার সাইফুলের দিক চাইল অয়ন। ভদ্রলোক নিজেই বললেন,
“ আমিও চাই না।”
ছোটো মায়ের দিক তাকালে,
রেহণুমা বললেন,
“ আমিও না।”
জয়নব চুপ। যেন পণ করেছেন,মুখ খুলবেন না।
তনিমা রীতিমতো এসেই ইউশার বা হাতটা ধরে টানলেন। চাইলেন ছেলের থেকে ছাড়াতে। তবে এইবার জায়গা থেকে নড়ল না ইউশা। পাথর হয়ে এক জায়গায় গেড়ে রইল সে। তনিমা জোর খাটালেন,ভাবলেন অয়ন ধরে আছে। বললেন,
“ অয়ন,ওর হাত ছাড়।”
ও উত্তর দেবার আগেই, ইউশা আনত থেকেই বলল,
“ না বড়ো মা,অয়ন ভাই ছাড়লেও আমি ওনার হাত ছাড়ব না।”
হতবুদ্ধি হয়ে গেলেন তিনি।
একটু দম নিলো ইউশা। নিচু স্বরে বলল,
“ আব্বু, আমিও অয়ন ভাইকে বিয়ে করতে চাই।”
সকলে নির্বাক,স্তব্ধ হয়ে পড়ল।
শওকত ধমকে বললেন,
“ ইউশা! তোরও কি মাথা বিগড়ে গেছে? এই পাগলের পাগলামিতে স্বায় দিচ্ছিস কেন?”

ইউশার ঠোঁট জোড়া তিরতির করে উঠল। যেন কিছু বলতে চেয়েও আটকাল গলায়৷ জয়নব ফোস করে শ্বাস ফেলে বললেন,
“ ইউশার মাথা বিগড়ায়নি শওকত। তোমরা কি ওর মনের খবর জানো? ও অয়নকে পছন্দ করে।”
চমকে উঠল সবাই। ইউশা নিজেও ভড়কে গেল কিছুটা! দিদুন জানলো কী করে? অয়নের দিক চাইল ও। তার চোখেও একইরকম প্রশ্ন। যা দেখে স্পষ্ট, সে কিছু বলেনি।
সাইফুল স্তম্ভিত আওড়ালেন,
“ কীহ? কী বলছো আম্মা?”
“ হ্যাঁ, আমাকে সার্থ দাদুভাই বলেছে।”
ভীষণ বিস্ময়ে চোখ প্রকট করল তুশি।
বিড়বিড় করে বলল,
“ বিটকেলটা জানে এসব? আমাকে তো কখনো কিছু বলেইনি!”
শওকত-তনিমা এক পল দেখলেন নিজেদের। সাইফুল,রেহণুমার সঙ্গে দফায় দফায় তাদের মুখ চাওয়াচাওয়ি চলল। ছেলেমেয়ের এই কাণ্ডে কিছুক্ষণের জন্যে চারজনেই থম মেরে গেলেন। শেষে পুরু স্বরে শুধালেন রেহণূমা,
“ ইউশা,দিদুন যা বলছে, সত্যি?”
ইউশা জিভে শুষ্ক ঠোঁট ভেজাল। বুকে সাহস এনে বলল,
“ সত্যি!”
“ ও তুশিকে পছন্দ করে জেনেও তু…”
মেয়েটা কথা টেনে নিলো। নিস্পন্দ নয়নে বলল,
“ না মা,এই পছন্দ তো নতুন নয়। গত ৫ বছরের গল্প এটা।”
এক চোট বিস্ফোরণে ধরণী কেঁপে উঠল। তনিমার হাত থেকে ইউশার হাতটা ছুটে গেল সহসা। অস্ফুটে বললেন,
“ ৫ বছর!”
ইউশার চোখ থেকে দুই লাইন গাঢ় জল দুই গালে এসে নামল। অয়নের ধরে রাখা হাতের দিকে আকুল নয়নে চাইল এক পল। দৃষ্টি ভরে ঝাপসা লাগল সব। জড়োতা আর সংকোচে নিঙড়ে এলো কণ্ঠস্বর। কিন্তু আজ যে নিজেকে লুকোলে চলবে না। অয়ন ভাইয়ের পাশে দাঁড়াতে হবে তো! নাহলে এই যুদ্ধে অয়ন ভাই একা জিতবেন কী করে!
ইউশা কান্না ঠেলে বলল,
“ যখন থেকে বুঝতে শিখেছিলাম,ভালোবাসা কী? তখন থেকে অয়ন ভাইকে পছন্দ করতাম। উহু,পছন্দ বললে ভুল হবে; আমি অয়ন ভাইকে ভালোবাসি মা!”

অয়ন চোখ বুজে নিলো। খুলল ভীষণ ক্লান্ত ভাবে। রেহণূমা বিমুঢ বনে বললেন,
“ কী! আমি কী শুনছি এসব?
এই ইউশা, তুইও কি পাগল হয়ে গেলি?
তনিমা বললেন,
“ তুই যদি অয়নকে অত আগে থেকে ভালোবাসিস, তাহলে কেন সেদিন তুশির সাথে ওর বিয়ের কথা বলেছিলি? কেন তোর চাচ্চুকে বলেছিলি যে অয়নের সাথে যেন তুশির বিয়ে দেয়?”

“ কারণ, অয়ন ভাই আমাকে নয় তুশিকে ভালোবাসতো,ওকে বিয়ে করতে চাইত! নিজের কথা ওনাকে বলার সুযোগটাই পাইনি আমি। যেদিন এসব জানলাম,আমি সেদিন থেকে চেষ্টা করেছিলাম নিজের এই সব অনুভূতি নিজের মাঝেই দাফন করে দেব। কিন্তু পারিনি। তাও ভাগ্যকে আমি মেনে নিয়েছিলাম । চেয়েছিলাম ওরা ভালো থাকুক। তখন তো তুশি আর মেজো ভাইয়ারও কিছু ঠিক হয়নি,তাই ভাবলাম আমার সুখ না হোক, অন্তত ওরা সুখী হোক। কিন্তু তাও তো হলো না। সেই আমার ভাগ্য আজ আবার সব কিছু শেষে আমাকে অয়ন ভাইয়ের পাশে এনেই দাঁড় করাল,বড়ো মা। বারবার আমি এখান থেকে পালাব কী করে,বলো তো?”
শওকত বললেন,
“ ইউশা, মা তুই অন্তত বাচ্চামো করিস না। ওর সাথে তুই সুখী হবি না কখনো!”
ইউশার ঠোঁট ভেঙে এলো কান্নায়। দীর্ঘশ্বাস মিটিয়ে বলল
“ না হলাম। আমার তা নিয়ে কোনো আফসোস নেই। অয়ন ভাই তো বলল, আমি তার বাঁচার পথ! মরার আগ অবধি আমি নাহয় সেই পথ হয়েই থাকব। সারাজীবন অয়ন ভাই আমার পাশে থাকবে,এইটুকু সুখ এইটুকু শান্তি অন্তত পাব তাতে!”

নিষ্প্রভ দৃষ্টি নামিয়ে অয়ন পাশ ফিরে চাইল এইবার। বিস্ময়াভিভূত সেই চাউনি!
ইউশার গাল,গলা বুক ভিজে যাচ্ছে। মেয়েটা বুঝতেও পারল না, এক্ষুণি কত দামি একটা কথা বলে ফেলেছে ও।
রেহণুমা অতীষ্ঠ হয়ে বললেন,
“ ইউশা, এত বড়ো হয়ে যাসনি কিন্তু ! জীবন একটা লম্বা সফর। বাবা মা সারাজীবন থাকবে না। জেনেবুঝে আগুনে ঝাঁপ দিবি?”

অয়নের খারাপ লাগল কথাটায়। কাষ্ঠ হেসে বলল,
“ শুধুমাত্র তোমার ছোটো মেয়েকে ভালোবেসেছিলাম বলে আমাকে আজ আগুনের সাথে তুলনা দিচ্ছো ছোটো মা? কেন,মানুষ কি তার অতীত থেকে বেরিয়ে ভবিষ্যতে যেতে পারে না? সব ভুলে আবার বাঁচতে চাইতে পারে না? আমিও তাই চাইছি। ইউশাও স্বাবালিকা, তাহলে তোমাদের এত অসুবিধে কোথায়?”
শওকত দুইহাত তুলে বললেন,
“ অনেক হয়েছে,আর নাহ। আর একটা কথাও এখানে খরচ করব না আমি। সাইফুল,তোর মেয়েও একই পথের পথিক। কাকে কী বোঝাব আমরা? আমরা এ বাড়িতে আছিই বা কেন? ছেলেমেয়ে যা মন চায় তাই করছে। তাই বলছে।”
জয়নব বললেন,
“ ইউশা, দ্বিতীয় বার ভাবো।”
“ আমি আর ভাবব না,দিদুন। আর না! কেউ একজন আমাকে বলেছিল, লাইফ ইজ নট আ ক্যালকুলেটর! সত্যিই তো,জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে এসব কি ক্যালকুলেটিং করে হয়? এসব তো আগে থেকেই ঠিক করা থাকে। আমি যতই ভাবব,আমার ভাগ্য কি বদলাবে?”
এই কথার আর জবাব এলো না। প্রত্যেকের চোখমুখে বিষণ্ণতার সাথে পরাজয়ের বিশদ একটা চিহ্ন বসে গেল। এমন ভয়ানক নীরবতা এই ঘরে আগে কখনো নেমেছে?
অয়ন বলল,
“ তাহলে বিয়ের আয়োজন করি,বাবা?”
শওকত নাক কুঁচকে চাইলেন,
“ আশ্চর্য, আমরা তো হ্যাঁ-ই বলিনি। তোমার এত তাড়া কেন?”
“ কারণ তো একটা আছেই। চাচ্চু, তুমি বরং কালই কোনো সেন্টারে কথা বলো। বুকিং দাও। আমাদের যত দূর থেকে দূরের আত্মীয়, সবাইকে ইনভাইট করবে। আমি ধুমধাম করে ইউশাকে বিয়ে করব। আর অবশ্যই বিয়ের সব খরচা আমার!”
অয়ন বলল না,যেন ঘোষণা দিলো। তারপর এতক্ষণে ছাড়ল ইউশার হাতটা। পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় আরেকবার চাইল ওর দিকে।
এরপর লম্বা লম্বা পা ফেলে ঘরের পথ ধরল সে।
রেহণুমা মেয়ের কাছে এসে মাথায় হাত রাখলেন। বললেন,
“ আবার ভেবে দ্যাখ!”
ইউশা অটল চিত্তে চুপ করে রইল। হতাশ,বিরস শ্বাস বুকে চেপে চলে গেলেন রমণী। তনিমা জায়ের পিছু নিলেন। আস্তেধীরে বসার ঘর ফাঁকা হয়ে গেল। জয়নবও দাঁড়ালেন না। খাঁ খাঁ ঘর ইউশার সব শক্তি শুষে নিয়ে যায়। ধপ করে মেঝেতে বসে পড়ল মেয়েটা। মাথা এলিয়ে দিলো কাঠের আসবাবের সাথে। বিয়ে তো হবে, কিন্তু ভবিষ্যৎ আছে এর? অয়ন ভাই কি আদৌ পারবে ওকে স্ত্রী হিসেবে ভালোবাসতে? পারবে না। ভালোবাসা এত সহজ নয়! কিন্তু তাও ইউশা এই বিষ খেতে চাইল। অয়ন ভাই ওর স্বামী হবে,কাগজে কলমে লেখা থাকবে ‘নওরীন নাজ ইউশা’ তার স্ত্রী,এইটুকুই বেঁচে থাকতে যথেষ্ট ওর কাছে। চোখে জলের তোড়ে সমুদ্র বওয়ার যাওয়ার মাঝে, ইউশা টের পেলো কেউ একজন হাঁটুগেড়ে পাশে এসে বসেছে। ও জানে এটা কে! নরম নয়নে পাশ ফিরল। চোখে পানি নিয়ে মৃদূ হাসল তুশি। ভেজা অথচ স্ফূর্ত কণ্ঠে বলল,
“ কঞ্চুলেশন!”
কান্নার মাঝেই হেসে ফেলল ইউশা। শুধরে দিলো,
“ কংগ্রাচুলেশনস!”
তারপর হাত বাড়াতেই তুশি দুইহাতে জাপটে ধরল ওকে। ইউশা ঝরঝর করে কেঁদে উঠল সহসা। বোনের বুকে মুখ লুকিয়ে হুহু করে বলল,
“ আমি শেষমেশ অয়ন ভাইকে পাব তুশি! শেষ মেশ অয়ন ভাই আমার হবে।”

খাঁজ কাঁটা মেটাল বিনে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। ধোঁয়াগুলো বারান্দা থেকে চলে যাচ্ছে বাইরে। বিনের সামনে মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে অয়ন। ছোট্ট কালো ম্যামোরি কার্ডটা হাতের মধ্যে ঘুরিয়ে হঠাৎই সেই আগুনের মধ্যে ছুড়ে ফেলল সে। এরপর বা হাতের দামি ফোনটাও ফেলল সেথায়। একে একে বেনারসি,শেরওয়ানি আর মেয়েলি সব জিনিসপত্র ওই আগুনের মাঝে দিয়ে দিলো অয়ন। রাখল না,তুশির জন্যে ও যা কিনেছিল,যেখানে তুশির ছবি ছিল, সব আজ স্বেচ্ছায় অয়ন পুড়তে দিলো এখানে।
তারপর আরাম করে আসন দিয়ে বিনের পাশে বসল অয়ন। খুব কাছাকাছি, যেখান থেকে ওই তপ্ত অনলের আঁচ পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ চেয়ে রইল আগুনের শিখার দিকে। হুট করে ঠোঁট টেনে হাসল অয়ন,নিস্তেজ হাসি। বলল,
“ আমি ভাবতাম, ভালোবাসা মানে শুধু চাওয়া। শুধু ধরা। শুধু হার না মানা।
কিন্তু আজ বুঝলাম… ভালোবাসা কখনো কখনো কাউকে ছেড়ে দেওয়া। আর কখনো নিজেকে সরিয়ে নেয়া সব কিছু থেকে।”
একটু দম নেয় অয়ন,বলে,
“ আমি তোমায় কেন পাইনি জানো তুশি? কারণ, যেদিন থেকে আমি তোমায় চেয়েছিলাম তারও বহু আগে থেকে একজন আমাকে চেয়ে বসে আছে। আমি তোমায় যতটা ভালোবেসেছি তার চেয়েও হাজারগুণ বেশি ভালো অন্য কেউ আমাকে বেসেছে। নীরবে-ধৈর্য্যে-অপেক্ষায় সে চেয়েছে আমাকে। অথচ তোমার প্রেমে ঝুঁকতে গিয়ে,নিজের প্রতি বিলিয়ে রাখা এই প্রেম আমি দেখতেই পাইনি।

অয়ন দুইহাতের ভরে পেছনে হেলে মাথা তুলে ছাদের দিকে চাইল।
শ্বাস নিলো দু দণ্ড। কার্নিশ ছুঁয়ে যাওয়া জল নিয়ে বলল,
“ তুমি যে হাসিতে আমাকে হারিয়ে দিয়েছিলে,
যে চোখে আমাকে আটকে রেখেছিলে,
যে অনীহার ছোঁয়ায় আমাকে বেঁধে ফেলেছিলে,আজ সেইসব আমি আগুনে ছেড়ে দিলাম।”
আগুনটা একটু ফেটে উঠল তখন। শব্দ হলো অল্প। কাপড় পোড়া গন্ধে অয়ন বুক ভিজিয়ে বলল,
“ না, তোমাকে ঘৃণা করে নয়, বরং তোমাকে খুব ভালোবেসে, শেষবারের মতো মুক্ত করে দিচ্ছি।”
আসলে কিছু মানুষকে ভালোবাসা যায়,পাগলের মতো চাওয়া যায়,কিন্তু তাকে মনের ভেতর জিইয়ে রেখে,নিজের ধ্বংস দেখা যায় না।”
অয়ন উড়ন্ত ধোঁয়ায় চেয়ে বলল,
“ যাও তুশি,উড়ে যাও,
আমার থেকে দূরে যাও। এই মন থেকে সরে যাও,আমার স্মৃতি থেকে মরে যাও। সারাজীবনের জন্যে পুড়ে যাও; আমার সব শূন্যতা নিয়ে!”


তুশি ঘরে এসে দেখল, সার্থ শাওয়ার নিয়েছে। ভীষণ গম্ভীর মুখ। ও বুঝল বাবার কথায় দুঃখ পেয়েছে মানুষটা। অমনি নিজের ঠোঁটে হাসি টেনে ছুটে এলো সে। আচমকা ঝড়ের মতো বুকের ওপর ভারি কিছু পড়ায় একটু চমকাল সার্থ। ডাকল মোলায়েম স্বরে,
“ তুশি?”
তুশি মুখ তুলে চায়। থুতনি ঠেকায় সার্থর নগ্ন,ভেজা বুকে। প্রফুল্ল চোখে বলে,
“ আমি আজকে খুব খুশি,জানেন!”
“ ইউশার জন্যে?”
ও মাথা ঝাঁকিয়ে বোঝাল-হ্যাঁ। বলল,
“ আপনি জানেন ইউশা কত আগে থেকে অয়ন ভাইকে ভালোবাসতো? ওর পরীক্ষায় সময় নাকি অনেক জ্বর হয়েছিল আর অয়ন ভাই ওকে কোলে করে পরীক্ষা দিতে নিয়ে গেছিল, সেই সময় থেকে৷”
“ ওহ!”
“ ওহ? অবাক হননি?”
“ না!”
তুশি ঠোঁট উল্টাল। আবার নিজেই বলল,
“ কিন্তু আপনি একদম পাকা অভিনেতা। আপনি যে ইউশার কথা জানেন,আমি এতদিনেও বুঝিনি। বলেননি কেন আমাকে?”
“ কী বলব?”
“ তাও ঠিক,কী বলবেন! ওরা তো আপনার থেকে বয়সে ছোট তাই না! আচ্ছা,আপনি কি তখন বাবার কথায় কষ্ট পেয়েছেন?”
সার্থ বিদ্রুপ করে হাসল,
বলল,
“ উনি আমার কাছে কোনো মানে রাখে? আর যার মানে নেই,তার কথায় কোনো কিছু ফিল হবে কেন!”
তুশি খেয়াল করল, তাও সার্থর মুখ মলিন হয়ে আছে। যতই হোক বাবা তো! কিন্তু মানুষটার এমন চেহারা যে ওর ভালো লাগে না। প্রসঙ্গ কাটাতে বুক থেকে সরে এসে, পাখির মতো এক চোট চক্কর কেটে বলল,
“ দেখুন, আমি শাড়ি পরেছি। সুন্দর লাগছে না?”
সার্থ আপাদমস্তক দেখল মেয়েটাকে। কপাল কুঁচকে বলল,
“ আঁচল এভাবে তুলবে না। ছেড়ে রাখবে!”
তুশির একটুখানি কোমর বেরিয়ে ছিল,সঙ্গে সঙ্গে আঁচল নামিয়ে ঢেকে দিলো সার্থ। তুশি বলল,
“ মা,বড়ো মা তো এভাবেই পরে।”
“ তুমি পরবে না।”
“ আচ্ছা।”
“ আর আমি যখন বাড়িতে থাকব, শুধু তখন শাড়ি পরবে।”
“ আপনি তো প্রায়ই থাকেন না।
শুধু রাতে আসেন।”
সার্থ দুষ্ট হেসে বলল,
“ আমার কাজই তো রাতে।”
তুশি বোঝেনি। তাই ফুরফুরে ভঙ্গিতে হাসল। চোখ দুটো নেড়ে নেড়ে বলল,
“ আমার আজ এত আনন্দ হচ্ছে! অবশেষে ইউশা ওর অয়ন ভাইকে পাবে। উফ, সামনে ওদের বিয়ে। আমার একমাত্র বোনের বিয়ে। আমি সাজব, গুজব, নাচব। লাফাব!”

সার্থ ঠোঁট কামড়ে তুশির উচ্ছ্বাস দেখছিল। সরু চোখে বলল,
“ লাফাবেন! এর মানে আপনি সুস্থ?”
“ একদম! আমি কি অসুস্থ নাকি?”
দু মিনিটেই খট করে শব্দ হলো পেছনে। তুশি ঘুরে দেখল সার্থ দরজার ছিটকিনি তুলে দিয়েছে। একটু ভড়কে গেল মেয়েটা। জিজ্ঞেস করল,
“ কী হলো?”
সার্থ এগিয়ে আসে। ঘাড়ের ভেজা তোয়ালে মেঝেতে ফেলে দেয়। সুইচবোর্ডে হাত দিয়ে বলে,
“ আলোটা জ্বালাচ্ছে। বন্ধ করে দিই?”
তুশি হ্যাঁ /না বলার আগেই অন্ধকারে মেখে গেল ঘর। মেয়েটা বুঝে ফেলল স্বামীর ভেতরের কথা। চেহারার রং বদলে গেল অমনি। ওই তিঁমিরেই তার মেয়েলি শরীরে দুটো উষ্ণ হাত পড়ল তখন। অমনি হাওয়ায় ভাসল তুশি। পরপর মাথা ঠেকল তুলতুলে বালিশে। খোলা জানলা হতে হুটোপুটি করে আসা জোছোনায় তুশি ছটফটিয়ে বলল,
“ আমি কিন্তু এবার হাসপাতালে যাব না!”
সার্থ হেসে ফেলল। নিস্তব্ধ,নীরব ঘরে হাসিটা শোনাল জোরেশোরে।
“ কেন,সেদিন তো বললে মোটেও না!”
“ ওটাতো আপনার মন ভালো করতে বলেছিলাম। আমি কিন্তু সত্যিই এবার যাই হয়ে যাক হাসপাতালে যাব না।”
সার্থর অন্তরঙ্গতা বাড়ল।
ফিসফিস করে বলল,
“ যেতে হবে না। আই’ল কিপ কন্ট্রোল দিস টাইম!”

চলবে…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply