অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৭ এর শেষাংশ
[ পর্ব ৫৭] শেষাংশ
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
রুম জুড়ে পিনপতন নীরবতা, নিস্তব্ধতার বুক ছিঁড়ে মাঝে মধ্যে ভেসে আসছে ন্যান্সির উষ্ণ নিঃশ্বাস ছাড়ার শব্দ।যেন দহনশীল আগ্নেয়গিরির অন্তর্নীল গর্জন।
সেই নিরবতার বুক ছিন্ন করে আকস্মিক তীক্ষ্ণ স্বরে মাইমুনা এহসান,
“হাউ ডেয়ার ইউ ইলহাম? তোমার এত সাহস হয় কি করে তুমি আমার ছেলে কে এভাবে হার্ট করো? আমি তো তোমাকে..
মাইমুনা এহসানের এহেন অতর্কিত কান্ডে হুহু করে কেঁদে উঠল ন্যান্সি।
“আমি ইচ্ছে করে করিনি। আমার ভুল হয়ে গেছে!”
অভ্যন্তরে তুফান হচ্ছে ন্যান্সির। যা সমস্ত বাঁধ ভেঙ্গে দিচ্ছে তার। হৃদয় ছিঁড়ে যাচ্ছে আফসোসে আফসোসে। কাকে বুঝাবে মনের কথা? সে ভুল করে ফেলেছে,খুব বড় ভুল। বাক্য সমাপ্ত হওয়ার পূর্বেই বজ্রগতিতে সামনে এসে দাড়ালো ঈশান। কন্ঠস্বর শুনে শীতল হুমকি,
“নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না ম্যাম। ভুলে যাচ্ছেন ইলহাম ম্যামের উপর একটা আঁচড় লাগছে ব্যাপার টা কতদূর যাবে।”
মূহুর্তের মাইমুনা এহসানের মধ্যে শরীর জুড়ে সঞ্চারিত হলো মৃদু কম্পন । অভ্যন্তরীণ ক্রোধে তার অন্তর জ্বলতে থাকলেও বাস্তবতার শীতল শৃঙ্খল তাকে স্থির করে রাখল। যদি আফরিদ এই মেয়েটির প্রতি এমন উ’ন্মত্ত আসক্তিতে আবদ্ধ না হতো তাহলে তার পরিণতি এই ক্ষণেই তিনি নির্ধারণ করে দিতেন।
দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা কল্পনা বিস্ময় ভীত কন্ঠে নীলাদ্রির উদ্দেশ্যে ফিসফিসিয়ে বললো,
“কি ডেঞ্জারাস মেয়ে বাবা রে! দেখলে তাই আমি বলতাম এই মেয়েটা সাধারণ কোনো মেয়ে নয়।”
নীলাদ্রির মুখাবয়ব জুড়ে গাঢ় উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। এতদিন ইলহাম ছিলো না তাতে আফরিদ নিজের জগতেই ব্যস্ত ছিলো। সেই সুযোগে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছিল সে। কিন্তু এখন তো আবার ফিরে এসেছে ওরা! নীলাদ্রি কিভাবে যে মাফিয়াকে সামলাবে তা নিয়ে চিন্তার নেই তার!
🌿
মাস্টার বেডরুমের সুবিশাল বিছানায় আধশোয়া অবস্থায় রয়েছে আফরিদ। ফিরেছে এক ঘন্টার মতো হবে অথচ আসার পর থেকেই একের পর এক সিগারেট ফুঁকে চলেছে। নিজেকে সিগারেটের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন করে রেখেছে। বিরক্তির গাঢ় রেখা কপালে ভাঁজ ফেলে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তার অস্থিরতা
পরণের প্যান্টটা কিছুটা নিচে নেমে গিয়ে অসাবধানতায় আন্ডারপ্যান্টের প্রান্তভাগ উন্মোচিত হয়েছে। উপরে লম্বালম্বিভাবে লিখা “Calvin Klein” এর অক্ষর গুলো অনায়াসে দৃষ্টিগোচর । কিন্তু সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই।
একসময় বিছানা ছেড়ে ঠান্ডা ফ্লোরে পা রাখল। মন্থর পদক্ষেপে এগিয়ে গেল থাইগ্লাসের কাছে। এক হাত কাঁচের উপর স্থির,অপর হাতে অবহেলিত ভঙ্গিতে জ্বল’ন্ত সিগারেট ধরে রেখেছে।
“লাইক সিরিয়াসলি? মানে গুলি করছে আর তুই কি-না…
ইদ্রানের গমগমে কন্ঠস্বর আচমকাই স্তব্ধ করে দিলো আফরিদ,
“হুশশ ডোন্ট সাউন্ড।”
নিরুপায় হয়ে থেমে গেল ইদ্রান । গতকাল এসেছে আর তখন থেকেই হসপিটালে দৌড়ঝাঁপ করতে করতেই একদিন পেরিয়ে গেল অথচ যার দেহ গুলি’বিদ্ধ ক্ষত হয়েছে সে দিব্যি নিশ্চিন্তে ধোঁয়ার আস্বাদন নিচ্ছে। এ যেন এক প্রহসন।
আফরিদ ধীরে ইদ্রানের দিকে তাকালো। ইদ্রান দৃষ্টি স্থির তার কোমরের , প্যান্টের এমন অবিন্যস্ত অবস্থা তার কৌতুহলের কারণ।
এই থমথমে পরিবেশে হঠাৎই ব্যঙ্গরসের সুরে আফরিদ উচ্চারণ করল,
“ছিঃ ছিঃ… শেষমেশ তুই আমার আন্ডারপ্যান্টের দিকে লোভ করছিস? দুঃখিত, এটা তোকে প্রদান করা সম্ভব নয়।”
এমন বাক্য শুনে স্তব্ধীভূত ইদ্রান। বিস্ময়ে কথা বলতেই ভুলে গেছে। অত্যাশ্চর্যে ওষ্ঠোদ্বয় আধখোলা হয়ে এলো।
কিছুটা নাক ছিটকে বলল,
“ইয়াক ম্যান,তোর আন্ডারপ্যান্ট নেবো আমি? ও গড!”
আফরিদ ভান করা হাই তুলে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল,
“আমি দিলে তবেই না তুই নিবি! চল ফুট।”
ইদ্রান রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,
“আই ডোন্ট নো ইলহাম তোর মতো অস’ভ্য, নোংরা লোকের সাথে থাকে কি করে?হাউ? এই একটা সত্যি কথা বলতো তোকে কি ইলহাম কাছে আসতে দেয়? আমার তো মনে হয় না। অবশ্য তোর মতো বন মানুষকে কাছে আসতে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”
আফরিদের ঠোঁটের কোণে হাসির রেশটুকু মিলিয়ে গেল সহসা। নেমে এলো বিরক্তিকর ছায়া। কন্ঠ ফুঁড়ে বেরিয়ে এলো,
“আমি কি তোকে ভিডিও করে দেখাবো নাকি আমাকে কাছে আসতে দেয় কিনা! যা বের হ এখুনি। কাছে আসাআসি দেখতে চায় ননসেন্স!”
ইদ্রান বিনা বাক্যব্যয়ে বেরুতে উদ্যত হয়, ওমনি নজর গেল সিঁড়ির দিকে, ক্লান্ত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসছে ন্যান্সি। তাকে দেখা মাত্রই সতর্ক করল,
“ব্রাদার তোর ওয়াইফ আসছে।”
ন্যান্সির আগমনের সংবাদ কর্ণগোচর হতেই যেন আচমকা রূপান্তরিত হলো আফরিদ। সিগারেট নিভিয়ে দ্রুত ড্রয়ারের দিকে ছুটে গেল, সেখান থেকে একটি মিন্ট নিয়ে তড়িঘড়ি মুখে পুরল। আলো নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে সাদা কম্ফোর্টার টেনে নিল শরীরের উপর অসুস্থতার অভিনয়ে নিজেকে নিস্তব্ধ করে ফেলল।
ভ্রু কুঞ্চিত করে সেই দৃশ্য অবলোকন করছে ইদ্রান। মুহূর্ত আগেও যে ব্যক্তি নির্লজ্জ স্বাচ্ছন্দ্যে সিগারেটের বিদঘুটে ধোঁয়া আস্বাদ করছিল, স্ত্রী আসার খবর পেয়ে সে এখন রোগীর ভান করছে!
মৃদু বিরক্তি নিয়ে মনে মনে উচ্চারণ করল
“অভিনয়ে ওস্তাদ এই মাফিয়া,, সাচ আ রুড ম্যান।”
🌼
অন্ধকারে নিমজ্জিত ঘরটিতে নিস্তব্ধতার আবরণ নেমে এসেছে। জানালার ফাঁক গলে আসা ক্ষীণ আলোর রেখা মিশে গেছে গুমোট আঁধারের ভেতরে। বিছানার ওপর উদোম গায়ে শুয়ে আছে আফরিদ তার প্রশস্ত বুকের বাঁ পাশে সযত্নে জড়ানো ব্যান্ডেজের ফাঁক দিয়ে শুকনো র’ক্তের দাগ যেন অ’গ্নি পরীক্ষার সাক্ষ্য বহন করছে। গু’লিটা শরীর ছুঁয়ে থেকে তো বেরিয়ে গেছে, কিন্তু ন্যান্সি কে অগাধ অপরাধ বোধে ভুগাচ্ছে। কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। কিন্তু যদি ঘটতো। এসবে তার ব্যাথা লাগে না যতটা ব্যথা লাগে তার জানকি বাচ্চা আ’ঘাত পেলে।
শুনেছে বউটা নাকি তার কেঁদেছে খুব।ভাবলেই তার বুকের ভেতর প্রশান্তির ঢেউ বয়ে যাচ্ছে।
সাদা রঙের নরম কম্ফোর্টটি অর্ধেক গায়ে চাপা, অর্ধেক খসে পড়েছে বিছানার ধারে। সেই সাদা কাপড়ের ভাঁজে শুয়ে আছে অদৃশ্য এক বেদনা, এক অগোচর যন্ত্রণা। নিস্তরঙ্গ ঘরের বুকভরা শূন্যতায় কেবল তার কাঁধের ওঠা-নামা আর হালকা শ্বাসের শব্দই প্রমাণ দিচ্ছে সে তার ক্লান্তি ভরা দেহের।
ধীরে ধীরে দরজাটা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলো ন্যান্সি। চোখ বন্ধ করে আফরিদ কে শুয়ে থাকতে দেখলো।
তার ঠিক পিছনে রয়েছে স্মাইলি। ন্যান্সি কে এদিকে আসতে দেখে ভয় পেয়ে গেছে স্মাইলি। আবার কেন এসেছে সেটাই বুঝতে পারছে না। লোকটাকে গুলি করে আবার তার কাছে কেন যাচ্ছে? মস্তিষ্ক জুড়ে হাজারটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
দরজার কাছে চুপ করে দাঁড়ালো স্মাইলি।
ন্যান্সি ছোট ছোট পা ফেলে ভেতরে ঢুকে যায় ,বেডের কাছে গিয়ে বসলো। অসুস্থ লোকটাকে খুব গভীর ভাবে অবলোকন করে চলেছে।
কাঁপা আঙুলে ন্যান্সি যখন আলতো করে ছুঁয়ে দিলো আফরিদের ব্যান্ডেজ বাঁধা বক্ষঃস্থল, নিস্তব্ধতার ভেতর দিয়ে এক অদ্ভুত শিহরণ ছড়িয়ে পড়ল। সেই স্পর্শের পরমুহূর্তেই নিস্তরঙ্গ নীরবতা ভাঙল ঝুড়িতে থাকা কাইট্যান হঠাৎ করেই টানা সুরে ম্যাও ম্যাও করে উঠল। যেন অপ্রস্তুত মুহূর্তে অবাঞ্ছিত কোনো শব্দের মতো।
অচেতন দৃষ্টি থেকে চোখ সরিয়ে ন্যান্সি তাকালো বিড়ালের দিকে। তার চোখের ভেতরে ভয়, উদ্বেগ আর অদ্ভুত এক টানাপোড়েন খেলা করছিল। লোকটার ঘুম না ভেঙ্গে যায় এই আশ’ঙ্কা কাজ করছে।
এমন সময় আফরিদ অর্ধচেতন শরীরটা নড়েচড়ে উঠল। চোখ মেলে ধীরে ধীরে তাকাল সে। তার নিস্তেজ দৃষ্টির ভেতরে ভেসে উঠল অ্যাঞ্জেলিনার মুখ। একপলকের জন্য যেন সে ভুলে গেল ব্যথা, গু’লির আ’ঘাত। হ্যাঁ ভুলবেই তো বউ তার কেঁদে কেঁদে চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে। ভেতরে ভেতরে আনন্দ লাগে ইশ্ বোকা বউটা।
তার ক্ষীণ শক্তিহীন হাত এগিয়ে এসে ছুঁয়ে দিল ন্যান্সির গাল। সেই স্পর্শে সারা শরীর হালকা কেঁপে উঠল মেয়েটার। গালে এক অচেনা আগুনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ল যেন আফরিদের আঙুলে শুধু ছোঁয়া, ছিল এক নীরব স্বীকারোক্তি, গভীরতম অনূভুতি।
ন্যান্সি ফের আফরিদের মুখটা দেখে , নীলাভ মনি জোড়া তার দিকেই তাকিয়ে আছে। ন্যান্সি নিষ্প্রভ হয়ে বসে আছে।
তার কেন এত মায়া হয় আফরিদের জন্য? সে তো ভালোবাসে তাকে কিন্তু স্বীকার করেনি কখনো।, শুধু স্বামী বলেই কি এতটা মায়া? ভালোবাসা? আফরিদ ভালো মানুষ নয় ,সে একজন মাফিয়া। একজন নিষ্ঠুর পাষণ্ড মানুষ। এক খারাপ লোক,তার জন্য মায়া হওয়াটা বোকামি তাই না?তাকে ভালোবাসাটা বোকামি না?
আফরিদ ওষ্ঠো বাঁকিয়ে হেসে বলল।
“এসব গু’লিতে আমার কিছু হবে না অ্যাঞ্জেলিনা।”
একটু থামে আফরিদ , ন্যান্সির হাতটা টেনে মুখের কাছে নিয়ে এলো। আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিসিয়ে বললো।
“❝তোমার বোকা চোখের চাহনি আমার পাষণ্ড হৃদয় এফোঁড়ওফোঁড় করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে , বউ।❞
ন্যান্সি মৃদু হাসলো, বউ ডাকলো আফরিদ? ব্যঙ্গ করে বলল।
“আমি গু’লি করেছি আপনাকে। এত কিছুর পর এসব কথা বোকামি নয় আফরিদ এহসান? আপনার তো আমাকে মে রে ফেলা উচিত তাই নয় কি?”
আফরিদ কম্ফোর্ট টা সরিয়ে দিলো, নিজের বুকে আসতে বলে ইশারায়।
“উঁহু একটুও বোকামি নয় জানকি বাচ্চা। আমার অ্যাঞ্জেলিনা এখন স্ট্রং হয়ে গেছে, লড়তে শিখেছে। রিভলবার চালাতে শিখেছে। এটা তো একটা গুড পয়েন্ট।”
ন্যান্সি নির্বিকার দৃষ্টিতে তাকালো আফরিদের দিকে।
“বাট আফসোস নিশানা ঠিকঠাক করতে পারেনা।”
দু’হাতে অকস্মাৎ মুখ ঢেকে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো ন্যান্সি। একনাগাড়ে বিড়বিড় করে আওড়ে চলেছে,
“আমি ইচ্ছে করে করিনি… আপনি… আপনি ধমক দিয়েছেন বলে ভুলবশত…আই সরি… আমার খুব ভুল হয়ে গেছে।”
থেমে থেমে একটা একটা করে বাক্য বলছে রমণী।
ঠোঁটে বৃদ্ধা আঙ্গুল চেপে হাসি চাপতে চেষ্টা করছে মনস্টার মাফিয়া।
“কাঁদছিস কেন তুই?”
ন্যান্সি হিকড়ে কেঁদে কেঁদে বলল,
“যদি…যদি আপনার হার্টে গু’লিটা লাগতো? আমি.. তখন আমি কি করতাম আফরিদ?”
আফরিদ হালকা হেসে ন্যান্সির হাতটা টেনে বুকের উপর রাখল, ন্যান্সি আঁতকে উঠে ব্যান্ডেজের উপর হাত দেখে।
“কি করছেন ব্যথা পাবেন তো!”
আফরিদ উচ্ছ্বাসিত কন্ঠে বলে উঠে,
“স্পন্দন অনুভব করতে পারছিস?”
ন্যান্সি শুষ্ক ঢোক গিলল, সত্যি সে অনুভব করতে পারছেনা তার স্পন্দন! বিস্মিত কন্ঠে মেয়েটা বলে,
“আপনার স্পন্দন…. আমি… আমি ফিল পাচ্ছি না।”
আফরিদ মন্থর গতিতে হাতটা ডান দিকে নিয়ে চেপে ধরে বলল,
“এবার?”
ন্যান্সি অনুভব করছেন কিছু একটা স্ফীত হয়ে আবার মিলিয়ে যাচ্ছে। ভেতরের উৎকন্ঠার সূক্ষ্ম উদ্বেগ টুকু দূর করতে ত্বরিতে কান পাতলো বুকের ডান দিকে। হ্যাঁ শুনতে পাচ্ছে স্পন্দন!
মেয়েটা বিস্ময়াভিভূত হয়ে অস্ফুট স্বরে বলে,
“এটা? এটা কি করে সম্ভব আফরিদ? আপনার স্পন্দন?”
হালকা হাসলো আফরিদ। ন্যান্সির গাল ছুঁয়ে ফের বলল,
“ডেক্সট্রোকার্ডিয়া।”
প্রশ্নবিদ্ধ নয়নে চেয়ে আছে কন্যা। অর্থ ধরতে পারল না তার ছোট্ট মস্তিষ্ক।
আফরিদ সাবলীল গলায় বলতে লাগল,
“ডেক্সট্রোকার্ডিয়া ( Dextrocardia) এটা সাধারণত অনেকে রোগ বলে কিন্তু আসলে এটা জন্মগত শারীরিক সমস্যা।
পৃথিবীতে খুব অল্প কিছু মানুষের হৃদয় বুকের ডান পাশে থাকে। এই অবস্থা চিকিৎসাবিজ্ঞানে Dextrocardia নামে পরিচিত। সাধারণত মানুষের হৃদপিন্ড স্বভাবিক ভাবে বুকের বাঁ পাশে থাকে, কিন্তু আমার হৃদপিন্ড অস্বাভাবিক ভাবে বুকের ডান দিকে।
এটা বিরল ঘটনা। পৃথিবী প্রায় ১০,০০০০ জনের মধ্যে ১ জন , মানে শতকরা ০.০১% খুঁজে পাওয়া সম্ভব। সেই বিরল মানুষের তালিকায় আমিও একজন ,আফরিদ এহসান। এটা আমার জন্মগত শারীরিক সমস্যা।
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শুধু হৃদয় নয়, শরীরের অন্যান্য অঙ্গও উল্টো দিকে থাকে। এই অবস্থাকে বলা হয় Situs Inversus। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে তা নয়। আমার শরীরের সবকিছু স্বাভাবিক , কিন্তু হৃদয়টাই যেন নিয়ম ভেঙে ডান পাশে গিয়ে বসেছে।”
এতক্ষন যাবত আদর্শ শ্রোতার ন্যায় কথাগুলো শুনে গিয়েছে। চোখ দুটো টলটল করছে তার।ধীরে ধীরে হাত ছুঁয়ে যাচ্ছে তার বুকের ডান দিকে, কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,
“এখানে আপনার হৃদয়!”
আফরিদ মুচকি হেসে সেই হাতটা স্পর্শ করে বলল,
“উঁহু, আমার হৃদয় এখানে নয়। আমার হৃদয় সামনে থাকা মেয়েটি।”
ন্যান্সি নাক টানল। ভাগ্য আফরিদ এহসানের সহায় ছিলো বলেই লোকটা বেঁচে গেল। নয়তো কি হতে পারতো ভাবতেই অন্তর্নীলে ভয়ে সেঁধিয়ে যাচ্ছে।
আফরিদ এবার বিরক্তিকর কন্ঠে বলে,
“এবার কি বুকে আসবি?”
ন্যান্সি নড়েচড়ে উঠে। আফরিদ হাত দুটো মেলে বুকে ডাকছে তাকে। মেয়েটা একটুও সময় ধীরে ধীরে বুকের দিকে এগিয়ে গেল।
দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা স্মাইলি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। ভেতরের কথা গুলো শুনতেই পাচ্ছে না এত আস্তে আস্তে কথা বলছে তারা। কিন্তু চোখ দুটো বড়বড় হয়ে এসেছে। ইলহাম একজন পুরুষের বুকে চলে যাচ্ছে? আচ্ছা তারা কি গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড নাকি হাসব্যান্ড ওয়াইফ? যদি হাসব্যান্ড ওয়াইফ হয় তাহলে সে কেন স্পেনে থাকাকালীন বলেছিল তার বয়ফ্রেন্ড আছে? বলতেই তো পারতো সে বিবাহিত! আচ্ছা যদি হাসব্যান্ড বা বয়ফ্রেন্ড হয়েও থাকে তাহলে কেন ইলহাম গু’লি করলো তাকে?
কাঁধে কারো স্পর্শ পেতেই হকচকিয়ে গেল স্মাইলি।
ইদ্রান দাঁড়িয়ে আছে। গম্ভীর কন্ঠে বলে।
“এখানে কি করছো?”
স্মাইলি আমতা আমতা করে বলল।
“আমি দেখছিলাম ইলহাম এখানে কি করছে? আচ্ছা চার্ম এখানে এসব কি হচ্ছে? ওই লোকটা কি হয় ইলহামের?”
ইদ্রান এক পলক ভেতরে উঁকি দিয়ে তারপর আলতো করে দরজাটা টেনে বন্ধ করে দিলো। দরজা টেনে দিতেই ওটা অটোমেটিক লক হয়ে গেল। আপাতত পাসওয়ার্ড এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট ছাড়া খুলবে না। স্মাইলির হাতটা শক্ত করে ধরে বলল।
“ওরা একে অপরের কি হয় সেটা বুঝার মতো বুদ্ধি তোমার হয়নি।”
স্মাইলি ড্যাবড্যাব করে চেয়ে আছে ইদ্রানের দিকে। সে বুঝবে না? মানেটা কি?
স্মাইলিকে টেনে নিয়ে যেতে লাগল ইদ্রান।
🌿_____🌿
সোফার গাঢ় আবরণে আধশোয়া ভঙ্গিতে বসে আছে ইদ্রান , ঠোঁটের কোণে এক তাচ্ছিল্যের শাণিত রেখা। চারপাশে নেমে এসেছে এক অদৃশ্য নিস্তব্ধতা। সেই গাঢ় নিস্তব্ধতা ভেঙে ইদ্রান বলল,
“হোয়াই ডিড ইউ ডু দিস, লিটল প্রিন্সেস?”
হু হু শব্দে কেঁদে ফেলল স্মাইলি। বুক ফাটা কান্নায় কন্ঠরোধ হয়ে আসছে মেয়েটার।
“আমি এমন চাইনি চার্ম, আই ডিডন’ট ওয়ান্ট দিস, চার্ম আই জাস্ট ওয়ান্টেড মাই মাদার অনলি হার। ইস্ক্রিয়াস আমাকে বলেছিল মা কে এনে দেবে। আমি সত্যি বুঝতে পারিনি।”
ইদ্রান নিশ্চুপ , স্মাইলি কাঁদছে। অথচ তাকে শাস্তি দিতে পারছে না ইদ্রান।
“ডাজ়ন্ট ইয়োর সিন ডিজার্ভ আ পানিশমেন্ট, প্রিন্সেস?”
কাপা কাঁপা চোখে তাকায় স্মাইলি। নয়ন জোড়া রক্তিম অশ্রুতে পূর্ণ।
“আপনি সত্যি আমাকে শাস্তি দিবেন চার্ম?”
নিসংকোচে প্রত্যুত্তর করল ইদ্রান।
“ইয়েস।”
এক মুহূর্ত থেমে আবার বলল,
“ফ্রম টুডে, ইউ উইল লিভ হিয়ার অ্যাজ আ প্রিজনার অ্যান্ড ইউ উইল নেভার সি ইয়োর মাদার, মিসেস এনা।”
ইদ্রানের এমন সিদ্ধান্তে বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠলো স্মাইলির। রুখে দাঁড়ালো তৎক্ষণাৎ,
“প্লিজ চার্ম এমন করবেন না , আমি আমার মা কে দেখতে চাই। আপনার যতদিন ইচ্ছা আমাকে বন্দি রাখুন কিন্তু আমার মা কে দেখতে দিন। কোথায় উনি? প্লিজ চার্ম বলুন।”
ইদ্রান আর একটি শব্দও বলল না , স্মাইলি কে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে গেল।
স্মাইলি পাথরের ন্যায় বনে গেল , এতটা খারাপ কেন ইদ্রান? তাকে তো ভালোবাসতো স্মাইলি তাহলে কেন এমন করলো সে?
🌿_🌿
একদৃষ্টিতে চেয়ে আছে ন্যান্সি ওই শুভ্র রঙা মুখপানে। ব্যথার লেশমাত্র নেই।চোখে মুখে তাকে জড়িয়ে ধরার সে কি তৃপ্তি!
ন্যান্সিকে ওমন নিস্প্রভ চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে ধিমি আওয়াজে জিজ্ঞেস করে,
“কী?”
ন্যান্সি দু দ্বারে মাথা নাড়িয়ে অসম্মতি জানায়, কিচ্ছুটি না। কিন্তু মনের মধ্যে তো খচখচানি রয়েই গেছে তার।
এতদিন কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও এটুকু জানতে পারল না সে?
“আপনি আমাকে বললেন না হার্টের বিষয়ে!”
আফরিদ হাসলো, স্নিগ্ধ কোমল হাসি। পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে,
“বলিনি? আমার যতদূর মনে আছে আমি বলেছি তোকে।”
বিস্ময়ে স্থবির ন্যান্সি। এত ডাহা মিথ্যে কথা; কবে কখন তাকে বলেছে এটা? বিস্ময়ে কন্ঠ ফুড়ে অস্ফুট স্বরে বেড়িয়ে এলো,
“কখন বলেছেন?”
আফরিদ নাক টিপে ধরে রমণীর। হাস্যরেখা প্রস্ফুটিত হলো অধর দুটিতে। বিদ্রুপাত্মক কন্ঠে বলে,
“মনে কর বলেছি।”
বললে তবেই না মনে পড়বে! ন্যান্সি সরু দৃষ্টিতে চাইতেই আফরিদ বলল,
“আমি কিন্তু তোকে স্পেন থাকাকালীন বলেছিলাম। গুলি করলে বাঁ দিকে করবি। আমার বুকের বাঁ দিকটা নয়,ডান দিকটা তোকে ভালোবাসে।”
ন্যান্সি স্তম্বিত, বাকরুদ্ধ। সত্যি বলেছিল কিন্তু তার ছোট্ট মস্তিষ্কে ঢুকেনি।
ন্যান্সি মাথা গুঁজে রেখেছিল আফরিদের উষ্ণ বুকের ভেতর। বুকের গভীর স্পন্দনে তার দম আটকাতে লাগছিল, তবু সে পালাতে পারছিল না। আফরিদের অবাধ্য হাত পিঠের বাঁক বেয়ে নেমে এসে তাকে আরও অস্থির করে তুলছিল। এক ঝটকায় জ্যাকেট ছুঁড়ে ফেলার পর কাইট্যানের ম্যাও ম্যাও ধ্বনি যেন মুহূর্তটাকে আরও বৈদ্যুতিক করে তুলল।
আফরিদ হঠাৎ হেঁচকা টানে ন্যান্সিকে আরো জোরে টেনে নিলো বুকে। এক নিঃশ্বাসের ব্যবধানও থাকলো না আর। চোখের কার্নিশ লালচে আভায় ভরা, দৃষ্টিতে ছিলো এক অদম্য ইচ্ছা । তার ভেতরকার আগুন ছড়িয়ে পড়তে লাগল বাতাসে।
শুকনো ঢোক গিলে ন্যান্সি কিছু বলার চেষ্টা করতেই আফরিদ আর কোনো সুযোগ দিল না। নিঃশব্দে, বেপরোয়া তীব্রতায় নিজের ঠোঁট দিয়ে ঢেকে ফেলল ন্যান্সির ওষ্ঠ। সেই চুম্বন ছিলো না নিছক মধুর স্পর্শ ছিল এক দমবন্ধ করা ঝড়, যেখানে ন্যান্সির সমস্ত প্রতিবাদ মুহূর্তেই গলে গেলো। আফরিদের ঠোঁটের প্রতিটি আঁকড়ে ধরা টান তার শরীরকে কাঁপিয়ে তুলল, বুকের ভেতর থেকে বেরিয়ে এল এক অচেনা দীর্ঘশ্বাস।
তাদের দুজনের ঠোঁটের ভাঁজে মিশে গেলো অজস্র অনুচ্চারিত কথা, জমে থাকা দুঃখ, আর এক অদম্য আকাঙ্ক্ষা। সময় থমকে দাঁড়াল কেবল দমবন্ধ করা চুম্বনে। অবাধ্য হাত দুটো ফিটিং ড্রেস টা টেনে খুলতে উদ্যত হয়। ন্যান্সি বাধা দিলো , আফরিদ ওষ্ঠো ছেড়ে গলদেশে হাম’লে পড়ে। আফরিদের বেপরোয়া স্পর্শে মুচড়ে যায় মেয়েটা। আফরিদ থামে না , এদিকে তার বাঁ পাশে বাঁধা ব্যান্ডেজ লাল হয়ে আসছে। র’ক্ত বের হচ্ছে। চোখ দুটো বড় হয়ে এলো ন্যান্সির।
বিস্ময়াভিভূত স্বরে বলল,
“আ.. আফরিদ র’ক্ত! আফরিদ!”
আফরিদ যেনো শুনতেই পাচ্ছে না। আফরিদ চুমুতে চুমুতে অস্থির করে তুলে ন্যান্সি কে। এদিকে বাস্কেট থেকে কাইট্যান নিচে পড়ে গেল। ন্যান্সি চমকে উঠল।
“আফরিদ সরুন কাইট্যান পড়ে গেছে। কি করছেন সরুন। আপনি এসব কি করছেন আফরিদ? আপনি অসুস্থ,সরুন।”
আফরিদ ছাড়ে না ন্যান্সি কে , চেপে ধরে রাখে বিছানার সাথে। ন্যান্সির এত নড়াচড়া মোটেও ভালো লাগে না মাফিয়া কিংয়ের কাছে। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে দুহাত মাথার উপর চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বলে।
“হোয়াই দ্য হেল আর ইউ অ্যাক্টিং লাইক ইউ’আর অ্যালার্জিক, হুহ? আরেন’ট ইউ আ গার্ল? ইউ শুড বি পুলিং মি ক্লোজার, সাপোর্টিং মি মোর।”
কপালের শিরাগুলো ক্রমশ স্ফীত হচ্ছে লোকটার। ক্রোধাগ্নিতে জ্বলছে সে। আচম্বিতে ন্যান্সির গাল চেপে হিসহিসিয়ে বলে,
“হোয়াই আর ইউ মুভিং সো মাচ? ডু ইউ কেয়ার মোর অ্যাবাউট দ্যাট বাস্টার্ড দ্যান মি? হোয়াই দ্য হেল ডু ইউ রিয়্যাক্ট লাইক দিস হোয়েনএভার আই টাচ ইউ?”
চিকন নাকটা ক্র’মশ ফুলছে। চোখ দুটো লাল হয়ে আসছে ন্যান্সির। চোখ মুখ লাল হয়ে আসছে।
আফরিদের ভেতরের রাগ পানি হয়ে গেল। দু গালে টুপটুপ চুমু কে আদুরে গলায় বলল।
“সরি সরি সোনা বাচ্চা টা আর বকবো না। রাগ করে না ,একটু ভালোবাসি? জান বাচ্চা আমার। এত রাগিস না,সরি সরি। প্লিজ, লেট মি হোল্ড অ্যান্ড প্যাম্পার মাই লিটল জানকি।”
অন্ধকারে ঘেরা নিস্তব্ধ রুম হঠাৎ যেন উন্মত্ততার অ’গ্নিশিখায় জ্ব’লে উঠল। আফরিদ আর ন্যান্সি দু’জনের নিঃশ্বাস মিলে গড়ে তুলল এক অচেনা ছন্দ, যা দেয়ালে দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে আরও তীব্র হয়ে উঠছিল।
আফরিদের চোখে কোনো নিয়ম নেই, নেই শৃঙ্খলা আছে কেবল এক অদম্য আকা’ঙ্ক্ষা। ন্যান্সি তার সমস্ত প্রতিবাদ ভুলে আঁকড়ে ধরল আফরিদের উন্মুক্ত পিঠ। নখের আঁচড়ে, নিঃশ্বাসের ভারে, কণ্ঠের অস্ফুট গোঙানিতে মুহূর্তগুলো আরও উন্মাদ হয়ে উঠছিল।
আফরিদের ঠোঁট কখনো ন্যান্সির মুখে, কখনো গলায়, কখনো বুকের কাছে পথ খুঁজে ফিরছিল। সেই স্পর্শে ন্যান্সির শরীর প্রতিবার কেঁপে উঠছিল, যেন অদৃশ্য ঝড়ের দোলা লাগছে। সে ক্ষীণ স্বরে ফিসফিস করে বলছিল।
“আফরিদ থামুন, খারাপ মানুষ..
কিন্তু আফরিদের উত্তর এলো দীর্ঘ নিঃশ্বাসে ভেসে আসা শব্দে। স্মিথ স্বরে বলে,
“আজকে খারাপ থাকি কাল থেকে তোর ভদ্র আফরিদ হবো।”
ন্যান্সি প্রতিবাদ জানাতে মুখ খুলতেই আফরিদের শক্ত হাত তার ঠোঁটে চেপে ধরল। সেই হাতেই মুহূর্তের মধ্যে একের পর এক কামড় বসিয়ে দিল ন্যান্সি যেন যন্ত্রণার ভেতরেই খুঁজে নিচ্ছে নিজের মুক্তি। আফরিদের গভীর স্পর্শ গুলো সইতে হিমশিম খাবে বলেই কি ন্যান্সির মুখে হাতটা চেপে ধরেছে আফরিদ?তবু দু’জনের দেহ লেপ্টে রইল একাকার হয়ে, উষ্ণতা স্রোতে ভেসে গিয়েছে দু’জনেই।
চলবে……….।✨
(📌এই পর্বে “ডেক্সট্রোকার্ডিয়া ( Dextrocardia)” নিয়ে যা লেখা হয়েছে তা কেউ কপি করবেন না। বর্তমানে অনেকেই এই গল্পটা কাটছাঁট করে নিজের গল্পে দিচ্ছেন। আমি যতটুকু জানি গল্প জগতে অন্তত এই “ডেক্সট্রোকার্ডিয়া ( Dextrocardia) নিয়ে কেউ লেখেনি। এই বিষয়ে খুব কম মানুষই জানে। যারা মেডিক্যালের প্রিপারেশন নেয় তাদের অনেক সময় স্যাররা এমসিকিউর জন্য ধারণা দিয়ে থাকে। যদি আরো তথ্য জানতে চান তাহলে আপনারা গুগল অথবা অন্য ওয়েবসাইটে সার্চ করতে পারেন।অবশ্য যতটুকু বিস্তারিত তথ্য দিয়েছি আশাকরি প্রয়োজন পড়বে না।)
তাই আশাকরব আমার পাঠকেরা অন্য কোথাও বিষয়টা দেখলে সতর্ক থাকবেন।)
(📌 আজকে গঠনমূলক মন্তব্য করবেন।)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১১
-
রেড রোজ সকল পর্বের লিংক
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩০+বোনাস
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৮(শেষ অর্ধেক)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৪