লেখিকাসুমিচৌধুরী
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৫২
“নাটকের কথা বললেন বস আমরা কেন এত নাটক করলাম কারণটা কী জানতে চান আপনি?”
ঈশানের মুখ থেকে হুট করে এই ‘নাটকের’ কথা শুনে শুভ্র মুহূর্তের মধ্যে পাথরের মতো গম্ভীর হয়ে গেল। তার চোয়াল শক্ত হয়ে এল চোখের মণি দুটো তীক্ষ্ণ হয়ে বিঁধল ঈশানের ওপর। সে একদম নিরেট আর গম্ভীর সুরে বলল।
“হ্যাঁ জানতে চাই কেন আমার সাথে সবাই এমন নাটক করলে? এত কষ্ট দেওয়ার কারণটা কী?”
শুভ্রর গলার স্বরে এক ধরনের চাপা হাহাকার আর তীব্র অভিমান মিশে আছে। যে কষ্টটা সে গত কয়েকদিন ধরে তিলে তিলে সয়েছে সেটা যেন আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে বের হতে চাইছে। সে শুধু নির্বাক হয়ে সবার মুখের দিকে তাকাচ্ছে উত্তরের আশায় তার বুকটা ঢিপঢিপ করছে। ঈশান এবার রহস্যময় এক হাসি হাসল। সে শুভ্রর একদম কাছে এগিয়ে এসে রক্তিম কণ্ঠে বলল।
“কারণটা জানার পর নিজেকে ধরে রাখতে পারবেন তো?”
কথাটা শুনে শুভ্রর ভ্রু কুঁচকে একাকার হয়ে গেল। এই লুকোচুরি আর হেঁয়ালি তার এখন আর এক বিন্দু সহ্য হচ্ছে না। তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। সে ঈশানের একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দাঁতে দাঁত চেপে ফেটে পড়ল।
“এত ঘুরিয়ে পেচিয়ে না বলে সোজা সাপটা বলো!”
ঈশান এবার একটু দীর্ঘশ্বাস ফেলে স্থির দৃষ্টিতে শুভ্রের দিকে তাকাল। তার কণ্ঠে যেন এক গভীর রহস্যের টান। সে শান্ত স্বরে বলল।
“কী আর করার? তাহলে তো একটু অতীতে যেতেই হয়। চলুন আপনাকে অতীতটা শুনিয়ে আসি।”
অতীত,,,,,,
সেদিন দরজার ওপাশে সাহেরা চৌধুরী আর রিদি আর কাউকে না স্বয়ং সোহান চৌধুরীকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দুজনের রক্ত হিম হয়ে এল। তার চোখেমুখে আগ্নেয়গিরির মতো রাগ। সাহেরা চৌধুরী তো ভয়ে বড় বড় ঢোক গিলতে লাগলেন শরীর থরথর করে কাঁপছে। সোহান চৌধুরী কোনো চেঁচামেচি করলেন না শুধু পাথর শীতল চোখে সাহেরা চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে আদেশ দিলেন।
“সব কাপড়-চোপড় গোছাও। আমরা আজকেই ঢাকা ব্যাক করব।”
সেদিনই সোহান চৌধুরী রিদি তার পরিবারের সবাই ঝড়ের গতিতে ঢাকা চলে এলেন। সোহান চৌধুরী ইকবাল এহসানকে জরুরি ভিত্তিতে তাদের বাড়িতে যেতে বললেন। রিদিরা সরাসরি শুভ্রদের বাড়িতে গিয়ে উঠল।
ড্রয়িংরুম,,,,,
পুরো ড্রয়িংরুমের বাতাস যেন গুমোট হয়ে আছে। ইকবালের মুখটা রাগে থমথমে যেন এখনই ফেটে পড়বে। সোহান চৌধুরীর গম্ভীর মুখের প্রতিটি ভাঁজে বিরক্তি স্পষ্ট। রিদি মাঝখানে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। সোহান চৌধুরী এরই মধ্যে সব সত্যিটা ইকবাল এহসানের কাছে ফাঁস করে দিয়েছেন। সব শুনে ইকবাল এহসান আগুনের মতো রিদির ওপর ফেটে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর তিনি ধীর পায়ে রিদির সামনে গিয়ে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়লেন।
” তোর আর শুভ্রের সম্পর্ক কী?”
বাবার এমন প্রশ্নে রিদি আতঙ্কে কেঁপে উঠল। তার কান্নার বেগ আরও বেড়ে গেল কিন্তু গলা দিয়ে কোনো শব্দ সরল না। ইকবাল এহসান এবার গগনবিদারী এক ধমক দিয়ে বললেন।
“কথা কানে যায় না? কী বলছি শুভ্রের সাথে তোর সম্পর্ক কী? জবাব দে!”
রিদির কান্নার বেগ এবার বাঁধ ভাঙল। তার কান্নার শব্দে ড্রয়িংরুমের গুমোট বাতাস যেন আরও ভারি হয়ে উঠল। সে কী বলবে কীভাবে শুরু করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। রিদির এই নীরবতা ইকবাল এহসানের রাগকে আরও উসকে দিল। তিনি এবার দাঁতে দাঁত চেপে চরম এক হুমকি ছুড়ে দিলেন।
“সত্যি বলবি নাকি তোর বাবার মরা মুখ দেখতে চাস?”
কথাটা শোনা মাত্রই রিদি আতঙ্কে শিউরে উঠল। তার কলিজাটা যেন কেউ নিষ্ঠুরভাবে মুচড়ে দিল। বাবার মুখ থেকে এমন কথা শোনার পর সে আর চুপ থাকতে পারল না। বুকের ভেতর জমানো পাহাড় সমান পাথরটা সরিয়ে সে অনেক কষ্টে সাহস সঞ্চয় করল। আর কতকাল লুকোবে এই সত্যি? আজ যা হওয়ার হোক। সে মাথা তুলে অস্ফুট স্বরে কিন্তু স্পষ্ট গলায় বলল।
“আমি শুভ্র ভাইকে ভালোবাসি।”
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই ড্রয়িংরুমে এক প্রলয়ংকরী শব্দ শোনা গেল ‘ঠাস’। ইকবাল এহসানের হাতের প্রচণ্ড থাপ্পড়টা রিদির নরম গালে গিয়ে লাগল। চড়ের শব্দে পুরো ঘরটা যেন কেঁপে উঠল। এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা শুভ্রার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। সে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না রিদি তারই ভাইকে ভালোবাসতো অতচ সে জানতো না। ইকবাল এহসান চড় মেরেই ক্ষান্ত হলেন না। তিনি রিদির দিকে ঘৃণার চোখে তাকিয়ে গর্জে উঠলেন।
“লজ্জা করছে না তোর? নিজের বাবার সামনে দাঁড়িয়ে এই কথা বলতে একটুও বাঁধল না? এত বড় লজ্জাহীন মেয়ে আমি জন্ম দিয়েছি?”
রিদি তখন ব্যথায় আর অপমানে ভেঙে পড়ছিল কিন্তু তার চোখে এখন এক অদ্ভুত দৃঢ়তা। সে কাঁদতে কাঁদতেই ভেজা গলায় বলল।
“আব্বু সত্যি কথা বলতে লজ্জা পেতে নেই। তোমরা আমার কাছে সত্যিটা জানতে চেয়েছো আমি আজ শুধু সত্যিটাই বলেছি। হ্যাঁ আব্বু আমি শুভ্র ভাইকে অনেক ভালোবাসি!”
রিদির এই স্পষ্ট স্বীকারোক্তি ড্রয়িংরুমে উপস্থিত সবার মুখে যেন কুলুপ এঁটে দিল। রাবেয়া এহসান হন্তদন্ত হয়ে এগিয়ে এলেন। তিনি রিদির কাঁধ দুটো সজোরে ঝাকিয়ে আর্তনাদ করে উঠলেন।
“ভালোবাসিস মানে? পাগল হয়ে গিয়েছিস তুই! কী আবল-তাবল বলছিস এসব?”
রিদি তখনো টলমল চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে ধীরস্থির কণ্ঠে বলল।
“আমি আবল-তাবল বলছি না আম্মু। আমি সত্যি শুভ্র ভাইকে ভালোবা…।”
“চুপপপ।”
ইকবাল এহসান আঙুল উঁচিয়ে রিদিকে মাঝপথেই থামিয়ে দিলেন। তার চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝরছে। তিনি গর্জে উঠে বললেন।
“এই শব্দটা দ্বিতীয়বার তোর মুখ থেকে বের হলে ওই মুখ ভেঙে দেব আমি! তোর মামা যে আত্মীয়তার মধ্যে আত্মীয়তা পছন্দ করেন না সেটা জানা সত্ত্বেও এই কথা বলতে তোর লজ্জা করছে না?”
ঠিক তখনই সোহান চৌধুরী নিজের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি ধীরপায়ে রিদির সামনে গিয়ে একদম ওর চোখের দিকে সোজা তাকালেন। তার শান্ত কিন্তু গম্ভীর কণ্ঠস্বর পুরো ড্রয়িংরুমে প্রতিধ্বনিত হলো।
“শুভ্রকে তুই ভালোবাসিস সত্যিটা কি এইটুকুই? নাকি এর চেয়েও বড় কোনো সত্যি আছে?”
রিদি এবার আর পিছু হঠল না। সে জানে আজ লুকানোর মানে হলো সব হারানো। সে বুকভরা সাহস নিয়ে চরম সত্যিটা উগরে দিল।
“শুভ্র ভাইয়ের সাথে আমার বিয়ে হয়েছে। আমরা দুজন স্বামী-স্ত্রী।”
মুহূর্তের মধ্যে পুরো ড্রয়িংরুমে যেন একটা শক্তিশালী বোমা ফাটল। সাহেরা চৌধুরী আর সোহান চৌধুরী বাদে উপস্থিত সবার চোখ কপালে উঠে গেল। চারদিকে এক শ্বাসরুদ্ধকর নিস্তব্ধতা নেমে এল। ইকবাল এহসান কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে রাবেয়া এহসানের দিকে তাকিয়ে তোতলাতে তোতলাতে বললেন।
“এই… এই তোমার মেয়ে এসব কী বলছে? বিয়ে হয়েছে মানে? এটা কি ও ফাজলামো পেয়েছে?”
সোহান চৌধুরী এবার ইকবালের দিকে তাকিয়ে পাথরশীতল গলায় বললেন।
“এটা ফাজলামো না ইকবাল এটা সত্যি। ওর আর শুভ্রর বিয়ে হয়েছে।”
ইকবাল এহসান চরম বিস্ময়ে অস্ফুট স্বরে বললেন।
“বিয়ে মানে?”
“হ্যাঁ বিয়ে।”
সোহান চৌধুরী যোগ করলেন।
“আমার বেশ কিছুদিন ধরেই ওদের ওপর সন্দেহ হচ্ছিল। সেদিনই আমি বুঝে নিয়েছি এদের সম্পর্ক শুধু ভাই-বোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই এর আড়ালে আরও গভীর কিছু লুকানো আছে। আর যা সন্দেহ করেছিলাম ঠিক তা-ই হলো।”
ইকবাল এহসান আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। নিজের মেয়ের মুখে এমন দুঃসাহসিক কথা শুনে তার হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেল। তিনি রিদিকে মারার জন্য তেড়ে গেলে সোহান চৌধুরী দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে জাপটে ধরলেন। ইকবাল এহসান তখনো আক্রোশে কাঁপছেন তিনি রিদির দিকে তাকিয়ে জানোয়ারের মতো গর্জে উঠলেন।
“ছেড়ে দিন ভাইসাব ওরে আজকে আমি মেরেই ফেলবো এই কুলাঙ্গার মেয়ে আমার দরকার নেই। কুলাঙ্গার মেয়ে থাকার চেয়ে না থাকা অনেক ভালো!”
সোহান চৌধুরী বেশ শক্তভাবেই তাকে আটকে রাখলেন। তিনি গম্ভীর গলায় বললেন।
“মাথা ঠান্ডা করো ইকবাল। এখানে মাথা গরম করলে চলবে না। যা করতে হবে সব ঠান্ডা মাথায় করতে হবে।”
সাহেরা চৌধুরী এতক্ষণ পাথরের মতো দাঁড়িয়ে সব দেখছিলেন। স্বামীর এমন রহস্যময় শান্ত ভাব দেখে তিনি কিছুটা শঙ্কিত হয়ে প্রশ্ন করলেন।
“কী করতে চাইছেন আপনি?”
সোহান চৌধুরী সাহেরা চৌধুরীর দিকে একবার তাকালেন তারপর আবার দৃষ্টি ঘোরালেন রিদির দিকে। তার চোখের দৃষ্টিতে এক অদ্ভুত শীতলতা। তিনি বললেন।
“সেটাই যেটা সবার জন্য ভালো হবে।”
বলেই সোহান চৌধুরী কয়েক পা এগিয়ে রিদির একদম সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। রিদি তখনো ভয়ে আর কান্নায় কুঁকড়ে আছে। সোহান চৌধুরী খুব নিচু কিন্তু তীক্ষ্ণ স্বরে বলতে শুরু করলেন।
“আমি জানি তোদের সম্পর্কটা জাস্ট নামেই। শুধু কাগজে-কলমে বিয়ে হয়েছে কিন্তু গভীরে যাওয়ার মতো সম্পর্ক তোদের এখনো তৈরি হয়নি। আর শুভ্রের সাথে যে তোর তুঘলকি রাগ-অভিমান চলছে এটাও আমি জানি। দেখ রিদি ‘ভালোবাসি’ বললেই ভালোবাসা হয় না রে মা। এখন তোরা যেটা করছিস সেটা নিছক মোহ ছাড়া আর কিছু না। দুদিন পর এই মোহ ঠিকই কেটে যাবে।”
রিদি মুখ তুলে কিছু বলতে চাইল কিন্তু সোহান চৌধুরী তাকে থামিয়ে দিয়ে আবার বললেন।
“আমি তোর মামা হই। আমি কখনো চাই না তোদের এই পাগলামির জন্য আমাদের দুই পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পর্কে ফাটল ধরুক। আত্মীয়তার মধ্যে আত্মীয়তা করলে তার চাপটা সরাসরি পরিবারের ওপর পড়ে। আজ তুই আর শুভ্র হুট করে ঝগড়া করবি আর সেই ঝগড়ার আঁচ এসে লাগবে আমাদের গায়ে। তখন ইকবাল এহসান বলবে সোহান চৌধুরীর ছেলে ভালো না আমি বলব ইকবাল এহসানের মেয়ে ভালো না। এভাবেই কাছের সম্পর্কের আড়ালে পরম আত্মীয়দের মধ্যে চরম শত্রুতা জন্ম নেয়। আমি সেই সুযোগ কাউকে দিতে চাই না।”
সোহান চৌধুরী একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে রিদির পাংশুটে হয়ে যাওয়া মুখের দিকে তাকালেন। তার কণ্ঠে এখন শাসনের চেয়েও বেশি কাজ করছে এক ধরণের বৈষয়িক যুক্তি। তিনি আবার বলতে শুরু করলেন।
“শুভ্র তোর সাথে রাগ করে চলে গেছে এটাও আমি জানি। শুভ্র চলে যাওয়ার পর থেকে তুই ঠিকমতো খাস না কারো সাথে কথা বলিস না সারাদিন মূর্তির মতো চুপচাপ থাকিস। আয়নায় নিজের চেহারার অবস্থা একবার দেখেছিস মুখ শুকিয়ে আমসি হয়ে গেছে চোখের নিচে কালি পড়েছে। এখন আমার ছেলের যে রাগ ধর কথার কথার তোদের বিয়ে আমরা মেনে নিলাম তখন যদি আবার শুভ্র রাগ করে কোথাও চলে যায় আর তোর এই দশা হয় তখন তোর বাবা কী ভাববে ইকবাল এহসান ভাববে আমরা তোকে খেতে দেই না ঠিকমতো দেখাশোনা করি না। লোকে বলবে শুভ্র ভালো ছেলে না সে স্ত্রীকে সম্মান করতে জানে না। এভাবেই হাজারো কলঙ্ক আর ভুল বোঝাবুঝি আমাদের দুই পরিবারের মধ্যে ফাটল ধরাবে জন্ম নিবে আজন্ম শত্রুতা।”
পুরো ড্রয়িংরুমে তখন সোহান চৌধুরীর গম্ভীর কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। সবার নিশ্বাস যেন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। সোহান চৌধুরী এবার একটা দম ফেলে সরাসরি ইকবাল এহসানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। তার চোখের দৃষ্টি এখন পাথরের মতো শক্ত।
“ইকবাল আমি চাই না আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কে কোনো আঁচ লাগুক। আমাদের আত্মীয়তা আর বন্ধুত্ব অটুট রাখার জন্য আমি এখন যা করতে চাইছি আশা করি তুমি তাতে কোনো বাধা দেবে না?”
উপস্থিত সবাই তখন চরম কৌতূহল আর উৎকণ্ঠা নিয়ে সোহান চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে আছেন। ইকবাল এহসানও বিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে রইলেন। সোহান চৌধুরী এবার চূড়ান্ত ঘোষণাটি দিলেন।
“আমি শুভ্র আর রিদির আইনের মাধ্যমে ডিভোর্স করাব। আর ইকবাল তোমার মেয়ে বড় হয়েছে পড়াশোনা যেটুকু করেছে ওইটুকুই অনেক। পড়াশোনার পেছনে আর সময় নষ্ট না করে ওর বিয়ের ব্যবস্থা করো। মেয়ে মানুষের এত পড়াশোনার দরকার নেই সেই তো বিয়ের পর সংসারই সামলাতে হবে। এরপর যদি ওর বর চায় তবে সে বিয়ের পর পড়াশোনা করবে।”
কথাটা শুনে রিদি মুহুর্তে হিতাহিত জ্ঞানশূন্যে এলো। ভালোবাসার মানুষকে হারানোর ভয়ে লজ্জা সরম সব ভুলে গিয়ে সে সরাসরি আছড়ে পড়ল সোহান চৌধুরীর পায়ের ওপর। দুই হাতে তার পা জাপ্টে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। তার কান্নায় ড্রয়িংরুমের দেয়ালগুলো যেন বিদীর্ণ হয়ে যাচ্ছে।
“আল্লাহর দোহাই লাগে মামা এসব করিও না আমি শুভ্র ভাইকে পাগলের মতো ভালোবাসি। শুভ্র ভাইকে ছাড়া আমি এই পৃথিবীর কোনো পুরুষকে স্বামীর নজরে দেখতে পারব না। মামা তোমার পায়ে ধরি আমাকে শুভ্র ভাইয়ের থেকে আলাদা করিও না তুমি যা বলবে আমি তা-ই করব। সারা জীবন তোমাদের বাড়ির চাকরানি হয়ে থাকব কিচ্ছু না দিলেও এক ফোঁটা অভিযোগ করব না। তবু মামা আমাকে শুভ্র ভাইয়ের থেকে আলাদা করে দিও না আমি আমি মরে যাব!”
সোহান চৌধুরী পাথরের মূর্তির মতো নির্বিকার দাঁড়িয়ে রইলেন। তার চোখেমুখে কোনো দয়া বা মায়ার লেশমাত্র নেই। রাবেয়া এহসান রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে রিদিকে টেনে তুলতে লাগলেন। তিনি রিদির হাতে সজোরে টান দিয়ে গর্জে উঠলেন।
“উঠ বলছি উঠ হারামজাদি আমাদের মুখ পুড়ালি তুই এত আদর-যত্নের ফলাফল তুই এইভাবে দিলি কুলাঙ্গার মেয়ে!”
কিন্তু রিদি যেন আজ পাথরের গায়ে আছড়ে পড়া এক লহরী। সে সোহান চৌধুরীর পা ছাড়ল না। বাচ্চাদের মতো ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে আকুতি করতে লাগল।
“মামা তুমি আমাকে শুভ্র ভাইয়ের থেকে আলাদা করে দিও না তোমার ছেলেটাকে আমি আমার নিশ্বাসের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। এটা মোহ না মামা তুমি বলো কী করলে বিশ্বাস করবে এটা ভালোবাসা ভালোবাসা প্রমাণ করার জন্য আমি সব করব তুমি শুধু একবার বলো কী করতে হবে আমায়!”
সোহান চৌধুরী সেদিন একটা কথাও বলেননি। তার এই নীরবতা যেন চাবুকের চেয়েও বেশি ক্ষতবিক্ষত করছিল রিদিকে। রিদি তার পা ছাড়তে চাইল না সে যেন জীবনের শেষ সম্বল হিসেবে শুভ্রকে ভিক্ষা চাইছে। কিন্তু ইকবাল এহসান আর রাবেয়া এহসান নির্দয়ভাবে টেনে-হিঁচড়ে রিদিকে তুলে নিয়ে যেতে লাগলেন। রিদি যাবে না সে মাটিতে নখ দিয়ে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছে। রাবেয়া এহসান ক্ষিপ্ত হয়ে রিদির গালে পিঠে এলোপাথাড়ি চড়-থাপ্পড় দিতে থাকলেন। শারীরিক যন্ত্রণা রিদিকে স্পর্শ করল না তার সমস্ত দহন এখন হৃদয়ে। টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় রিদি সোহান চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে শেষবারের মতো চি-ৎ-কা-র করে বলল।
“মামা তুমি আমার ভালোবাসাকে মোহ ভাবছো। দেখে নিও তোমার ছেলেকে যদি এই রিদি মেয়েটা না পায়। তাহলে এই মেয়েটা জীবিত থাকবে না একটা লাশে পরিণত হবে।”
রানিং…!
Share On:
TAGS: অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায়, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৯
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৪৩
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৯
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৩৭
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ২৫
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৪
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৩৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৭