#যেখানে_প্রেম_নিষিদ্ধ
#ইশরাত_জাহান_জেরিন
পর্ব-২১
রাত তিনটের নিস্তব্ধতা চিরে মীর বাড়ির বিশাল ড্রয়িংরুমে যেন এক আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটে গেছে। ড্রয়িংরুমের ঝাড়বাতির তীব্র আলোয় আব্রাজ আর তার সেই রহস্যময়ী ‘বিশ টাকার বউ’ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। সোফায় বাড়ির বড়রা সবাই এসে বসেছেন। পরিবেশটা এমন যে, কেউ এক ফোঁটা পানি ফেললে সেটার শব্দও কামানের গোলার মতো শোনাবে। সবচেয়ে বড় আতঙ্ক আরযানকে নিয়ে। আরযান মীর এই বংশের নিয়ম আর শৃঙ্খলার প্রতীক। আব্রাজ যখন সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে ঘোষণা করল সে বিয়ে করে এসেছে, তখন আরভিদ আর সাঁঝের মনে হচ্ছিল আজ রাতেই হয়তো মীর বাড়িতে একটা লাশ পড়বে। হলরুমে বিচার বসেছে। আব্রাজ নির্বিকার। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে নৈশি। নৈশির রাগ উঠছে। খালি সে সবটা সহ্য করে এখানে আসার কারণ হচ্ছে রাজনীতি। কাল নির্বাচনটা সুসম্পূর্ণ হোক আগে, তারপর মজা বুঝাবে। তাই এখন তার চোখেমুখে ভয় নেই,। বাড়ির বড় কর্তা যখন গর্জন করে উঠলেন, “বংশমর্যাদা সব ধুলোয় মিশিয়ে দিলি আব্রাজ! বড় ভাইকে রেখে কেউ আগে বিয়ে করেে? ভালো হয়েছে করেছিস। এবার বাবা মনোযোগ নিয়ে সংসার কর।” বেচারা আব্রাজের বিয়েতে খুশি। তবে তার ছেলের ভয়ে কত কি যে এখন বলতে হচ্ছে। হঠাৎ সিঁড়ি দিয়ে ধীর পায়ে নেমে এলো আরযান। আরযানের পরনে কালো টিশার্ট। কেমন যেন নীরব দেখাচ্ছে। ওর নীরবতা যেন ড্রয়িংরুমের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল। সাঁঝ আর আরভিদ কোণঠাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সাঁঝ ফিসফিস করে বলল, “ভাইয়া, আরযান ভাইয়ের হাত কি নড়ছে? বেল্ট খুলবে নাকি এবার?”
আরযান এসে ঠিক আব্রাজের সামনে দাঁড়াল। কিছুক্ষণ স্থির চোখে ওর দিকে তাকিয়ে রইল। আব্রাজ উদ্ধত ভঙ্গিতে বলল, “বিয়ে করেছি, ব্যাস। এর বেশি কৈফিয়ত দিতে পারব না।” সবাই যখন ধরেই নিয়েছে আরযান এখন আব্রাজের কলার ধরবে, ঠিক তখনই ঘটল অভাবনীয় ঘটনা। আরযান খুব শান্ত গলায় বলল, “কাজী অফিসের কাবিননামা কোথায়?”
আব্রাজ পকেট থেকে ভাঁজ করা একটা কাগজ বের করে ছুড়ে দিল টেবিলের ওপর। আরযান সেটা তুলে নিয়ে খুঁটিয়ে দেখল। তারপর রুহির দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি কি নিজের ইচ্ছায় মীর বাড়ির অবাধ্য ছেলেকে বিয়ে করেছ?”
রুহি মাথা উঁচু করে উত্তর দিল, “হু।” এই মুহূর্তে ঝামেলা করা যাবে না। আর কট খাওয়ার বিষয় নিয়ে তো কথাই বলা যাবে না।
আরযান এক মুহূর্ত চুপ থেকে হঠাৎ সোফায় গিয়ে বসল। “বিয়ে যেহেতু হয়ে গেছে, এটা এখন এই বংশের সত্য। আব্রাজ অন্যায় করেছে বাড়িকে না জানিয়ে, কিন্তু মেয়েটাকে মাঝরাতে রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে মীর বংশ নতুন করে অন্যায় করতে পারে না। চাচা, আপনি এদের ঘরে তোলার ব্যবস্থা করুন। আরযান মীর কোনো বিয়ে ভেঙে পাপ বাড়াতে চায় না।”
পুরো হলরুম নিস্তব্ধ। আরযান মেনে নিল? যে আরযান ছোট ভুলের জন্য সাঁঝকে তিন ঘণ্টা মাসাজ করায়, সে এত বড় বিদ্রূপ মেনে নিল? আরযান গম্ভীর গলায় আবার বলল, “তবে শর্ত আছে। আব্রাজের সমস্ত বিজনেস অ্যাকাউন্ট এক মাসের জন্য সিজ থাকবে। পকেটে টাকা না থাকলে ভালোবাসা কত টাকা কিলো, সেটা ও বুঝতে পারবে। আর এখন সবাই ঘুমাতে যাও।” বাড়ির সবাই তো খুশি। এদিকে আব্রাজের মা-বাবা তো অবাক। এই নৈশি মেয়েটা না এমপি প্রার্থী? তাও আব্রাজের প্রতিদ্বন্দ্বী। একে আব্রাজ বিয়ে করল কি করে? তার ওপর মেয়েটা এত সুন্দর। কেমনে পটালো?
সবাই যে যার ঘরে চলে গেলেও সাঁঝের দুশ্চিন্তা কমলো না। সে নিজের ঘরের ব্যালকনিতে গিয়ে বসল। বাইরের অন্ধকারে বাগানটা এখন অনেক বেশি ভুতুড়ে লাগছে। তার মাথায় কেবল স্বাধীনের মুখটা ঘুরছে। “ইস, ছেলেটা আজ কী ভয়টাই না পেল! আরভিদ ভাই কি আদেও চুপ থাকবে? যদি কাল সকালে আরযান ভাইকে বলে দেয়?” সাঁঝের বুকের ভেতর ধড়াস ধড়াস করছে। “আর দেখো সবাই এক এক করে বিয়ে করছে ওদের কিছু বলছে না আর এদিকে আমি কিছু করলেও থেরাপির বাহার চলে আসে।”
সে বালিশে মুখ গুঁজে ভাবল, ‘আব্রাজ ভাই তো বিশ টাকায় বউ কিনে ঘরে তুলে ফেলল, আর আমি একটা চুমু খেতে গিয়ে নিজের জীবন এক মাসের জন্য আরভিদ ভাইয়ের কাছে বন্ধক দিয়ে এলাম!’ সারা রাত চোখের পাতা এক করতে পারল না সাঁঝ। প্রতিবার চোখ বন্ধ করলেই মনে হচ্ছে আরযান ভাই টর্চ হাতে তার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
–
মীর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় আরভিদ আর আর্যার ঘরটা যেন এখন চিরস্থায়ী যুদ্ধক্ষেত্র। বিয়ের পর থেকে এমন কোনো দিন নেই, যেদিন তাদের মধ্যে কথার লড়াই হয়নি। বাড়ির সবাই জানে, এই ঘরে ‘প্রেম’ এক নিষিদ্ধ শব্দ। এখন রাত অনেক হয়েছে। সবাই এতক্ষণে যার যার রুমে চলে গিয়েছে। বাইরে আকাশের মুখ ভার, গুমোট গরমে ঘরের পরিবেশ আরও তপ্ত। আরভিদ ল্যাপটপে অফিসের ফাইল চেক করছিল। আর্যা আলমারি থেকে নিজের কাপড় গুছিয়ে রাখতে রাখতে বিড়বিড় করে কিছু একটা বলছিল। “বিড়বিড় না করে জোরে বলো, যাতে আমি শুনতে পাই।” আরভিদ ল্যাপটপ থেকে চোখ না সরিয়েই বলল।
আর্যা একটা শাড়ি ঝটক দিয়ে ভাজ করতে করতে বলল, “শোনার ইচ্ছা থাকলে এমনিও শুনতে পেতে। সারাদিন তো নিজের ইগো নিয়ে বসে থাকো। এই যে জানলার লকটা আলগা হয়ে আছে, ওটা ঠিক করার সময় তোমার হবে না। আজ রাতে যদি ঝড় আসে, তবে বুঝবে!”
“জানালা খুলে ফেলে দাও। এত বড়লোক ছেলেকে এসব বলছো শরম করে না? আর ঝড় তো ঘরের ভেতরেই আছে আর্যা, বাইরেরটা নিয়ে আমার চিন্তা নেই।” আরভিদ ফাইল সেভ করে ল্যাপটপ বন্ধ করল। “আর ওই জানলাটা কাল মিস্ত্রি এসে ঠিক করবে। এখন ঘুমানোর চেষ্টা করো।”
ঠিক সেই মুহূর্তেই আকাশ চিরে এক বিকট শব্দে বাজ পড়ল। সাথে সাথেই পুরো মীর বাড়ি ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে গেল। লোডশেডিং। ঘরের এসিটা বন্ধ হতেই গুমোট ভাবটা আরও বেড়ে গেল। আর্যা অন্ধকারে একটু ঘাবড়ে যায়, এটা তার পুরোনো স্বভাব। সে জানলার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল, বাতাসের ঝাপটায় পর্দাগুলো উড়তে শুরু করেছে। “আইপিএস অন হচ্ছে না কেন?” আরভিদ বিরক্ত মুখ করে বলল।
“আরভিদ? কোথায় তুমি?” আর্যার গলায় সামান্য ভয়ের রেশ।
“বিছানার দিকে আসো, আমি ফোনের ফ্ল্যাশলাইট খুঁজছি।” আরভিদ শান্ত গলায় উত্তর দিল।
আর্যা অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে বিছানার দিকে এগোতে গিয়ে পায়ের নিচে কার্পেটের কোণে হোঁচট খেল। “উফ!” ভারসাম্য হারিয়ে সে যখন মেঝেতে পড়ে যেতে যাবে, ঠিক তখনই একটা জোরালো হাত তার কোমর জড়িয়ে ধরল। আরভিদ তাকে পড়তে দেয়নি। অন্ধকারে আরভিদের বুকের সাথে লেপ্টে আছে আর্যা। ঝোড়ো বাতাস জানলা দিয়ে ঢুকে আর্যার এলোমেলো চুলগুলো আরভিদের মুখে উড়িয়ে দিচ্ছে। ফোনের ফ্ল্যাশলাইটটা বিছানার ওপর জ্বলছে, যার মৃদু আলোয় আরভিদের তীক্ষ্ণ চোয়াল আর আর্যার ডাগর চোখের আতঙ্ক স্পষ্ট।
আরভিদ আর্যাকে ছাড়ল না। বরং তার হাতের বাঁধনটা একটু মজবুত হলো। আর্যা জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে, তার বুকের ধুকপুকানি আরভিদ স্পষ্ট অনুভব করতে পারছে। “ছাড়ো আমাকে…” আর্যা খুব নিচু স্বরে বলল, কিন্তু তার শরীরে কোনো প্রতিবাদ নেই।
আরভিদ আর্যার কপালে জমে থাকা ঘামগুলো নিজের আঙুল দিয়ে আলতো করে মুছে দিল। আরভিদের স্পর্শে আজ সেই চিরচেনা রুক্ষতা নেই। সে ফিসফিস করে বলল, “সারা দিন তো অনেক বাঘিনিগিরি করো, এখন কেন কাঁপছ?”
“আমি কাঁপছি না।” আর্যা জেদ ধরে বলল, যদিও তার স্বর কাঁপছে।
“মিথ্যে বলো না আর্যা। তোমার হার্টবিট বলছে তুমি কতটা নার্ভাস।” আরভিদ আর্যার কানের কাছে মুখ নিয়ে এল। “আমার প্রেমে দেখছি পুরো দমে মোজে আছো।” আরভিদের উষ্ণ নিঃশ্বাস আর্যার কাঁধে আছড়ে পড়তেই তার সারা শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেল। যে মানুষটাকে সে সহ্য করতে পারে না বলে দাবি করে, আজ সেই মানুষটার বাহুবন্ধনেই সে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি নিরাপদ বোধ করছে। আরভিদ খুব ধীর স্থির ভাবে আর্যার চিবুক ধরে মুখটা একটু উঁচু করল। অন্ধকারে দুজনের চোখাচোখি। কোনো কথা হলো না, শুধু এক নিবিড় অনুভূতির সূচনা হলো। হঠাৎ করে আরভিদের কেমন যেন অন্যরকম অনুভূতি হলো। সে কিছু না ভেবেই আর্যার কপালে খুব আলতো করে নিজের ওষ্ঠাধর ছোঁয়াল। বাইরে বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ শুরু হলো। মীর বাড়ির সাপ-নেউল সম্পর্কের বিষটা আজ রাতে যেন একটু হলেও ফিকে হয়ে এল।
–
সকাল ৯ টা তখন। সাইকোলজিস্ট রাজ আজ-কাল নিজেই ফেসাদে পড়ে গেছে। যে মানুষটা অন্যের মনের জট খোলে, আজ সে নিজেই নিজের মনের গোলকধাঁধায় বন্দি। তার চেম্বারের এসির হিমশীতল বাতাসের মধ্যেও রাজের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। সামনে বসে আছে অবনী। দীর্ঘদিন ধরে রাজের চিকিৎসায় থাকা মেয়েটি আজ প্রায় সুস্থ। অবনীর চোখে এখন আর সেই বিষণ্ণতা নেই, বরং শরতের আকাশের মতো এক স্বচ্ছ আভা। কিন্তু এই সুস্থতাই রাজের জন্য সবচেয়ে বড় অসুখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবনী সুস্থ হওয়া মানেই তার ট্রিটমেন্ট শেষ হওয়া, আর ট্রিটমেন্ট শেষ হওয়া মানেই রাজের জীবন থেকে তার চিরস্থায়ী প্রস্থান।
রাজ হাতের কলমটা দিয়ে আনমনে প্যাডে হিজিবিজি কাটছিল। অবনী তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল, “ডাক্তার সাহেব, আজ কি আপনিই রোগী? তিনবার জিজ্ঞেস করলাম প্রেসক্রিপশনটা শেষ হয়েছে কি না, আপনি তো আকাশ দেখছেন!”
রাজ চমকে উঠে চশমাটা ঠিক করল। নিজের গলার স্বর স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বলল, “আসলে… তোমার কেস স্টাডিটা দেখছিলাম। অবনী, তোমার ইমপ্রুভমেন্ট মিরাকলের মতো। এখন আর সেই প্যানিক অ্যাটাক হয় না, ঘুমও ঠিকঠাক হচ্ছে। আই থিংক, আজই আমাদের লাস্ট সেশন হতে পারে।”
‘লাস্ট সেশন’ শব্দটা উচ্চারণ করতেই রাজের কলিজায় কেউ যেন গরম সিসা ঢেলে দিল। অবনীর ঠোঁটের হাসিটা একটু ম্লান হলো। সে ধীর গলায় বলল, “তার মানে কাল থেকে আর এখানে আসতে হবে না?”
“না। মেডিকেল গ্রাউন্ডে তোমার আর কোনো সাপোর্টের প্রয়োজন নেই।” রাজ নিজের ভেতরে চিৎকার করে বলতে চাইল, “কিন্তু আমার প্রয়োজন আছে! তোমাকে ছাড়া এই চেম্বারটা আমার কাছে একটা কবরস্থান মনে হবে।” কিন্তু কি করে এসব বলবে? কি করে বলবে? সারাদিন এখন মাথায় খালি অবনী ঘুরঘুর করে?
অবনী ব্যাগ গুছিয়ে উঠে দাঁড়াল। “ধন্যবাদ রাজ। আপনি না থাকলে হয়তো আমি অন্ধকারেই হারিয়ে যেতাম। ভালো থাকবেন।” সে দরজার দিকে পা বাড়াতেই রাজের মনে হলো তার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। পেশেন্ট সুস্থ হলে একজন ডাক্তারের খুশি হওয়ার কথা, কিন্তু রাজের মনে হচ্ছে সে পাগল হয়ে যাবে। সে টেবিল ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।
“অবনী, দাঁড়াও!” অবনী ঘুরে তাকাল। রাজের দুচোখে এক অদ্ভুত অস্থিরতা। সে নিজেকে সামলাতে পারছে না। মনে মনে ভাবছে, “আমি যদি ওকে এখন আটকে না রাখি, তবে আমি নিজেই নিজের পরবর্তী পেশেন্ট হয়ে এই সোফায় শুয়ে থাকব।”
রাজ কয়েক কদম এগিয়ে এসে ওর খুব কাছে গিয়ে দাঁড়াল। “যদি বলি তুমি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নও? যদি বলি তোমার আরও কিছু সেশন বাকি?”
অবনী ভ্রু কুঁচকে তাকাল। “কিন্তু আপনিই তো বললেন আমি একদম ঠিক আছি।”
রাজ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার চোখ এখন একজন পেশাদার সাইকোলজিস্টের নয়, বরং একজন তৃষ্ণার্ত প্রেমিকের। “শারীরিকভাবে তুমি সুস্থ হতে পারো, কিন্তু আমার এই মনটা এখন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অবনী, আমি তোমাকে কোনো ওষুধের নাম লিখতে পারব না, কারণ সেই ওষুধটা তুমি নিজেই।” এসব মনে মনে বলেও সামনাসামনি বলা হলো না। যদি অবনী রাগ করে? এমনিতেও প্রেমের কারনেই তো তার এই সমস্যা হয়েছিল। প্রেম শত হলেও ওর কাছে ট্রমা।
“শুনো তুমি থেকে যাও।” অবনীর চোখের পলক স্থির হয়ে গেল। রাজের হাতটা একটু কাঁপছে। সে দেয়ালে হাত রেখে নিজের ভারসাম্য বজায় রেখে বলল, “আমি সারাদিন মানুষের মস্তিষ্কের নিউরন নিয়ে খেলি, অথচ নিজের হৃৎপিণ্ডের এই ধুকপুকানিটা কন্ট্রোল করতে পারছি না। লোকে জানলে হাসবে যে সাইকোলজিস্ট মীর আবরিজ রাজ নিজেই প্রেমে পাগল হয়ে গেছে।”
অবনী নিচু গলায় বলল, “এটা কি আপনার কোনো নতুন থেরাপি?”
“না অবনী, এটা আমার সারভাইভাল কিট। তুমি যদি কাল থেকে না আসো, তবে এই চেম্বারের চেয়ারে বসে আমি দেয়ালে তোমার ছবি আঁকব। আমি জানি ডক্টর-পেশেন্ট রিলেশনে এটা ক্রাইম, কিন্তু আমি এখন অপরাধী হতেই চাই। তুমি কি একজন মানসিক রোগীর দায়িত্ব নেবে অবনী? যে রোগীটা আর কেউ নয়, স্বয়ং আমি।”
“মানে?”
অবনী ভ্রু কুঁচকে চাইতেই রাজ এবার চুপসে গেল। মুহূর্তেই বলল, “এটা নতুন থেরাপি। কিছু মনে করো না। দেখলাম কাজ করে নাকি এই থেরাপি। না কাজ যেহেতু করেনি তার মানে তুমি এখনো অসুস্থ। কাল থেকে নতুন সেশন শুরু হবে।”
অবনী কি বলবে বুঝতে পারছে না। এই লোকটা কি পাগল হয়ে গেল নাকি? সে একবার ঘুড়ি দেখল। তারপর বাইরে অপেক্ষা করা বাবার কথা একবার ভাবল। বাইরে তখন ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। চেম্বারের ভেতরে নীরবতাটা ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে। “সেশনে সময় মতো আসবে কিন্তু।” অবনী কোনো উত্তর দিল না, শুধু এক পা এগিয়ে এসে রাজের চোখের দিকে তাকাল। সেই চোখে প্রত্যাখ্যান নেই। রাজ বুঝতে পারল, সে হয়তো আজ হারেনি। আরো কিছুদিন থাকবে অবনী। তার ওইসময় টুকুতেই বাজিমাত করতে হবে। মীর বাড়ির ছেলেদের রক্তে বুঝি এই পাগলামিটাই মিশে আছে যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ, সেখানেই তারা বুক পেতে ভালোবাসা ছিনিয়ে আনে।
চলবে?
Share On:
TAGS: ইশরাত জাহান জেরিন, যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪৯
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৩৫+৩৬
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ১৯
-
প্রেম আসবে এভাবে পর্ব ৭
-
পরগাছা পর্ব ৭
-
প্রেম আসবে এভাবে পর্ব ১১
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৯
-
প্রেম আসবে এভাবে পর্ব ৯
-
প্রেম আসবে এভাবে পর্ব ২
-
পরগাছা পর্ব ২৪