#বাঁধন_রূপের_অধিকারী
#লেখিকা_সুমি_চৌধুরী
#পর্ব ২
কেটে গেছে বেশ কিছু দিন কিন্তু এই কয়দিনে কোনো কিছুই স্বাভাবিক হয়নি বরং সবকিছু আরও অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। বাঁধন একদমি রজনীকে সহ্য করতে পারে না আর সেই সাথে রূপাকেও দুচোখে দেখতে পারে না। দেখলেই মেয়েটাকে অহেতুক বকাঝকা করে। রজনী অনেকবার বাঁধনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছে তার মন জয় করতে চেয়েছে কিন্তু বাঁধন তাকে প্রতিবারই ‘খারাপ মহিলা’ বলে সম্বোধন করে দূরে ঠেলে দিয়েছে। আহসানের সাথে বাঁধনের সম্পর্কের মাঝে এখন এক বিশাল দেয়াল দাঁড়িয়ে গেছে। আহসান কিছু বললে বাঁধন কোনো উত্তর দেয় না সে যতটুকু পারে তার বাবার থেকে দূরে দূরে থাকে। বাঁধন নিজেকে একদম গুটিয়ে নিয়েছে কারো সাথে সে কথা বলে না শুধু নিজের স্কুল আর পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সে যেন এক অদৃশ্য শহর তৈরি করে নিজেকে সবার কাছ থেকে আলাদা করে ফেলেছে।
তবে আকাশের সাথে রূপার দারুণ মিল হয়েছে। আকাশ সময় পেলেই রূপার সাথে খেলাধুলা করে আর মাতিয়ে রাখে। আজও বিকেলে আকাশ আর রূপা লুকোচুরি আর ধরাছোঁয়া খেলছে। আকাশ আগে আগে দৌড়াচ্ছে আর রূপা খিলখিল করে হাসতে হাসতে তার পিছু পিছু ছুটছে। আকাশ দৌড়াতে দৌড়াতে ছাদে উঠে গেল আর তার পিছু পিছু রূপাও ছাদে এল। ছাদের দোলনায় বসে তখন বাঁধন আপন মনে বই পড়ছিল। আকাশ আর রূপাকে ছাদে দেখে সে চরম বিরক্ত হলো। ছাদ থেকে নেমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সে যখন পা বাড়াল ঠিক তখনই আকাশ এসে বাঁধনের চারপাশে ঘুরতে লাগল আর রূপাও তাকে ধরার জন্য বাঁধনের চারপাশ দিয়ে চক্কর খেতে শুরু করল। বাঁধন রাগে ফেটে পড়ে বলল।
“কী হচ্ছে কী এসব!”
আকাশ বাঁধনকে ঘিরে ঘুরতে ঘুরতে মজা করে বলল।
“এই পুঁচকি আমাকে ধরবে বলছে তাই দেখছি ও কীভাবে আমাকে ধরে।”
রূপা জেদ ধরে বলল।
“তোমাকে আমি আজ ধরেই ছাড়ব দেখো তুমি।”
আকাশ হাসতে হাসতে বলল।
“আয় ধর দেখি কেমন পারিস।”
দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ বাঁধনের সাথে রূপা জোরে ধাক্কা খেল। বাঁধন রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে হাতের বইটা সজোরে ছুড়ে মারল রূপার দিকে। বইটা সোজা গিয়ে রূপার চোখে লাগল। মুহূর্তেই রূপা যন্ত্রণায় চোখ চেপে ধরে মেঝেতে বসে পড়ল আর চোখের তীব্র জ্বালায় ডুকরে কেঁদে উঠল। আকাশ ভয় পেয়ে সাথে সাথে রূপার চোখ দেখতে দেখতে বাঁধনের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলল।
“তুই এইটা কী করলি? ওর দিকে বই কেন ছুড়ে মারলি?”
বাঁধন নিস্পৃহভাবে পাশ থেকে বইটা তুলে নিয়ে নির্দয় স্বরে বলল।
“ইচ্ছে হয়েছে তাই মারছি। এই মেয়েটা বারবার আমার চোখের সামনে কেন আসে? বারণ করেছিলাম না যে এই মেয়ে যেন আমার সামনে না আসে!”
আকাশ ক্ষোভ নিয়ে বলল।
“ও তোর ছোট বোন হয় বাঁধন। বোনের সাথে কেউ এমন জানোয়ারের মতো আচরণ করে?”
বাঁধন এবার তর্জনী উঁচিয়ে কঠোর কণ্ঠে বলল।
“দেখ আকাশ এমন কোনো কথা বলিস না যাতে তোর সাথেও আমার সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। এই মেয়ে আর ওই মহিলাকে দেখলেই আমার পিত্তি জ্বলে ওঠে ঘৃণা লাগে আমার। মা আর মেয়ে দুজনকেই বলে দিবি ওরা যেন সবসময় আমার থেকে দূরে থাকে।”
________________
“তোমাকে আবার বাঁধন মেরেছে?”
আহসানের কথায় রূপা ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ল। রজনী নিজের শাড়ির আঁচল দিয়ে ফুঁ দিয়ে দিয়ে রূপার চোখে উষ্ণ ভাপ দিচ্ছে যাতে ব্যথাটা একটু উপশম হয়। আহসানের উদ্দেশ্যে আকাশ সবটুকু খুলে বলল।
“চাচ্চু আসলে হঠাৎ রাগ হয়ে গিয়েছিল তাই বাঁধন ওর দিকে বই ছুড়ে মেরেছে।”
আহসান রহমান অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে বললেন।
“সমস্যা কী ওর? দিন দিন ছেলেটা এত বেয়াদব হচ্ছে কেন?”
“বেয়াদবের আব্বা হব তাতে কোনো সমস্যা আপনার?”
বাঁধনের তীক্ষ্ণ কণ্ঠস্বর শুনে আহসান চমকে পেছন ফিরে তাকালেন। সিঁড়ি দিয়ে গটগট করে নামছে বাঁধন। তার দুচোখে এখনো অবজ্ঞা আর তাচ্ছিল্য। হাজি রহমান দ্রুত পায়ে বাঁধনের কাছে এগিয়ে এলেন।
“দাদু ভাই ও তো ছোট্ট একটা মেয়ে। ওকে এভাবে সারাক্ষণ মারো কেন?”
বাঁধন দাদাকে উদ্দেশ্য করে কাঠখোট্টা গলায় বলল।
“আমার সীমানায় আসলে শুধু মার কেন মেরেও ফেলতে পারি আমি।”
আহসান রহমান এবার সজোরে গর্জে উঠলেন।
“বাঁধন!”
বাঁধন ভ্রু কুঁচকে বাবার দিকে তাকিয়ে নির্লিপ্তভাবে বলল।
“গলার আওয়াজটা কমান বিরক্ত লাগে আমার। বাই দ্য ওয়ে আমি এখানে পানি খেতে এসেছি এসব ফালতু কথা শুনতে না।”
বাঁধন কারো দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে নিজের মতো পানি খেয়ে ধীরপায়ে সেখান থেকে চলে গেল। আহসান রহমান অসহায় চোখে হাজি রহমানের দিকে তাকিয়ে আক্ষেপ করে বললেন।
“বাবা দেখছো ও দিন দিন কতটা সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে? আমাকেও আজকাল নূন্যতম সম্মানটুকু দিচ্ছে না ও।”
হাজি রহমান দীর্ঘশ্বাস ফেলে আহসানের কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন।
“শান্ত হ রেগে আছে ও। আর কিছুদিন গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। মাকে বড্ড বেশি ভালোবাসত তো তাই অন্য কাউকে সেই জায়গায় মানতে ওর অনেক কষ্ট হচ্ছে।”
____________
চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার আর নিঝুম রাত, শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। রূপা চোরের মতো পা ফেলে চুপিচুপি বাঁধনের রুমের সামনে এসে দাঁড়াল। তার উদ্দেশ্য হলো বাঁধনের চকলেটগুলো চুরি করা। দুপুরে সে যখন এদিকে এসেছিল, তখন বাঁধনের পড়ার টেবিলে কিছু চকলেট দেখেছিল আর তখনি মনে মনে মতলব এঁটেছিল যে ওগুলো তাকে নিতেই হবে। রূপা দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে দেখল ঘরে কেউ নেই, পুরো ঘরটাই ফাঁকা।
মুহূর্তেই সে বিড়ালের মতো নিঃশব্দে ঘরে ঢুকে সরাসরি পড়ার টেবিলের কাছে চলে এল। চকমকে চকলেটের প্যাকেটগুলো দেখেই তার চোখ চকচক করে উঠল। সে ঝটপট কয়েকটা চকলেট হাতে তুলে নিয়ে যেই না দৌড় দিতে যাবে, অমনি তার কনুইয়ের ধাক্কায় টেবিলে থাকা বাঁধনের মায়ের ছবিটা মেঝেতে পড়ে গেল। নিস্তব্ধ ঘরটায় ‘ঠাস’ করে কাঁচ ভাঙার শব্দ হলো আর ছবিটা টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ল। রূপা ভয়ে কাঠ হয়ে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ল।
ঠিক সেই মুহূর্তে বারান্দা থেকে বাঁধন ঘরে ঢুকল। রূপাকে নিজের ঘরে দেখে বাঁধন রাগে ফেটে পড়ে যেই কিছু বলতে যাবে, অমনি তার নজর গেল মেঝের দিকে। রূপার পায়ের কাছেই তার মায়ের শেষ স্মৃতিটুকু ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে আছে। বাঁধন যেন নিজের অজান্তেই মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। সে কাঁপাকাঁপা হাতে ভাঙা ছবিটা তুলে ধরল; ছবির চারপাশ ভেঙে গেছে আর মাঝখানের কাঁচটা ফেটে এমনভাবে চুরমার হয়েছে যে তার মায়ের মুখটা আর স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। বাঁধনের পাথরের মতো শক্ত চোখ দুটো এবার ভিজে উঠল আর দু-ফোঁটা তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে পড়ল ছবির ভাঙা কাঁচের ওপর। তার মুখ দিয়ে শুধু একটি হাহাকারমাখা শব্দ বেরিয়ে এল।
“মা”।
মুহূর্তের মধ্যে বাঁধনের চোখ দুটো আগুনের গোলার মতো জ্বলে উঠল। রূপার সেই ছোট্ট অবুঝ মন তখনও ভাবছে চকলেট চুরির অপরাধে বুঝি তাকে মার খেতে হবে। ভয়ে সে তার হাত দুটো পিঠের পেছনে শক্ত করে লুকিয়ে ফেলল, যেন হাতের মুঠোয় থাকা চকলেটগুলো কোনোভাবেই বাঁধনের নজরে না পড়ে।
কিন্তু বাঁধনের মাথার ভেতর তখন অন্য এক প্রলয় শুরু হয়েছে। তার মায়ের শেষ স্মৃতিটুকু এই মেয়েটা এক নিমেষে ধুলোয় মিশিয়ে দিল এই চিন্তাটা তার কিশোর মনে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল। সে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে পাশ থেকে একটা ভারি পাথরের ফুলদানি তুলে নিল। রূপা কিছু বুঝে ওঠার আগেই, চোখের পলকে বাঁধন সেই ফুলদানি দিয়ে সজোরে আঘাত করল রূপার কপালে।
এক বুক ফাটানো আর্তনাদে পুরো বাড়ি প্রকম্পিত করে তুলল রূপা।
“আহহহ মা-হ-হ-হ-হ!”
আঘাতের চোটে তার হাতের বাঁধন আলগা হয়ে গেল, চুরিকৃত চকলেটগুলো মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ল। রূপার কপাল চিরে ফিনকি দিয়ে তাজা রক্ত বের হতে লাগল। সে যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গিয়ে মাথা চেপে ধরে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল। বাঁধন তখনো রাগে হাঁপাচ্ছে, তার নিঃশ্বাসগুলো তপ্ত আগুনের মতো বের হচ্ছে। তার সামনে নিথর হয়ে ছটফট করছে রূপা, মেঝের শুভ্র কার্পেট লাল রক্তে ভিজে যাচ্ছে, কিন্তু বাঁধনের পাথরের মতো মনে বিন্দুমাত্র মায়ার উদয় হলো না। সে শীতল ও হিংস্র চোখে রূপার সেই মৃত্যুযন্ত্রণা দেখছে।
রূপার ওই আকাশ ফাটানো চিৎকার শুনে রজনী উন্মাদের মতো দৌড়ে বাঁধনের ঘরে এল। নিজের কলিজার টুকরো মেয়ের শরীর রক্তাক্ত অবস্থায় নিথর হয়ে পড়ে থাকতে দেখে রজনীর পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল। সে চিৎকার করে রূপার রক্তাক্ত মাথাটা নিজের কোলে তুলে নিল এবং আর্তনাদ করে উঠল।
“ও আল্লাহ! সোনা কী হয়েছে তোর? মাথায় এত রক্ত কেন? সোনা আমার, মা ও মা, একবার চোখ খোল!”
রজনীর সেই বুকফাটা আর্তনাদে বাড়ির প্রতিটি কোণ কেঁপে উঠল। সেই চিৎকার শুনে বাড়ির সবাই হন্তদন্ত হয়ে বাঁধনের ঘরের দিকে ছুটে এল। আহসান রহমান ঘরে ঢুকেই রূপার রক্তাক্ত আর নিথর শরীরটা দেখে আতঙ্কে শিউরে উঠলেন। পরক্ষণেই তার জ্বলন্ত দৃষ্টি গিয়ে পড়ল সামনে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকা বাঁধনের ওপর। বাঁধনের হাতে তখনো সেই রক্তমাখা ফুলদানি আর চোখ দুটো রাগে ও উত্তেজনায় টকটকে লাল হয়ে আছে। আহসান রহমানের বুঝতে আর এক মুহূর্ত সময় লাগল না যে রূপার এই করুণ দশা বাঁধনেরই কাজ।
মুহূর্তের মধ্যে আহসান রহমান দিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে ‘বাঁধন’ বলে চিৎকার করে তার দিকে তেড়ে গেলেন। তিনি বাঁধনকে প্রহার করতে উদ্যত হলে আতিক রহমান আর শিলা রহমান তাকে পেছন থেকে জাপটে ধরে কোনোমতে শান্ত করার চেষ্টা করলেন। আহসান রহমান আক্রোশে কাঁপতে কাঁপতে বাঁধনের দিকে আঙুল উঁচিয়ে চিৎকার করে উঠলেন।
“হারামজাদা! তোর এত বড় সাহস? তুই আমার মেয়ের মাথা ফাটালি? আজই তোরে আমি পুলিশের হাতে তুলে দব।”
ওদিকে রূপার অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মেয়েটা যেন ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। তার এই অবস্থা দেখে হাজি রহমান দেরি না করে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকলেন। অ্যাম্বুলেন্স আসার সাথে সাথেই রূপাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। আহসান রহমানের ক্ষোভ তখনো কমেনি, তিনি ক্রমাগত পুলিশ ডাকার হুমকি দিতে থাকলেন।
বাড়ির পরিস্থিতি যে হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং নিজের আদরের নাতিকে জেল-হাজত থেকে বাঁচাতে হলে চরম কিছু করতে হবে তা হাজি রহমান ভালোভাবেই বুঝতে পারলেন। তিনি আড়ালে গিয়ে কাঁপাকাঁপা হাতে কাউকে ফোন করে অত্যন্ত গম্ভীর ও চাপা স্বরে বললেন।
“শোনো, আজকের রাতের মধ্যে পাসপোর্ট আর ভিসার ব্যবস্থা করো।যত টাকা লাগে আমি সব দেব।”
হাজি রহমান বুঝতে পেরেছিলেন, বাড়ির পরিস্থিতি যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে বাঁধনকে এখানে রাখা আর নিরাপদ নয়। আহসান সত্যি সত্যি পুলিশে দিয়ে দিবে,যতোই নিজের ছেলে হোক অন্যায়ের প্রতিবাদে আহসান রহমান পিছ পা হোন না। তাই তিনি বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সব ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করে ফেললেন।
সেদিনের পরেদিনে সবাই যখন হাসপাতালে তখন হাজি রহমান অনেক জোরাজোরি আর বহু কষ্টে বাঁধনকে বুঝিয়ে তিনি এয়ারপোর্টে নিয়ে গেলেন। বাঁধনের জেদ আর অভিমানের পাহাড় তখনও নামেনি, কিন্তু দাদার কাতর অনুরোধ সে ফেলতে পারল না। বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু বুঝিয়ে দিয়ে হাজি রহমান বাঁধনকে ভোর সাতটায় দুবাইয়ের ফ্লাইটে তুলে দিলেন।
দুবাইয়ে হাজি রহমানের জানের প্রিয় এক বন্ধু থাকেন। তিনি আগেভাগেই তাকে সব পরিস্থিতির কথা খুলে বলেছিলেন। বন্ধুকে অনুরোধ করেছিলেন যেন সময়মতো এয়ারপোর্টে গিয়ে বাঁধনকে রিসিভ করে নিজের হেফাজতে নিয়ে যান। উড়োজাহাজটি যখন রানওয়ে ছাড়ল, হাজি রহমান এক দীর্ঘশ্বাস ফেললেন হয়তো এই দূরত্বই একদিন সব ঘৃণা ধুয়ে মুছে দেবে।
অবশেষে এক বুক দহন আর তীব্র ঘৃণা সঙ্গী করে বাঁধন অজানার উদ্দেশে দুবাই পাড়ি জমালো। যে বাড়িতে তার শৈশব কেটেছে, যে বাবার স্নেহে সে বড় হয়েছে সেই সবকিছু আজ তার কাছে বিষাদময়। যাওয়ার সময় তার চোখে জল ছিল না, ছিল কেবল এক কঠিন সংকল্প। মায়ের শেষ স্মৃতিটুকু হারানোর যন্ত্রণা আর বাবার বদলে যাওয়া রূপ তাকে এক নিষ্ঠুর মানুষে পরিণত করে পাঠালো মরুভূমির দেশে।
রানিং…!
গল্পটা এখন থেকে বড় চরিত্র পাবেন…
Share On:
TAGS: বাঁধন রূপের অধিকারী, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ২৮
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ২৫
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৩
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৪১
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৩৮ (সারপ্রাইজ শুভ নববর্ষ)
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ২২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭২
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৪২
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৪৪