দ্যাব্ল্যাকমার্ক
লেখনীতেআশুও_নিশু
পর্বসংখ্যা_১৮
★★★
তুবা গভীর ঘুৃমে আচ্ছন্ন।অথচ সে জানেই না তার নিষ্পাপ অভিমানী মুখটার দিকে একটি গম্ভীর মুখ তাকিয়ে আছে।হালকা আলোয় রুমটা যেনো আরো সুন্দর লাগছে।বাহিরে এখনো তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে। নিহান কিছুক্ষণ পর গিয়ে গিটার হাতে তুলে টুংটাং শব্দ করে গেয়ে উঠল,
“আমার চোখে আকাশ দেখে,
তুমি বলেছিলে কিছু।
বুঝিনি কেন সেই ইশারা?
এখন আমি অন্য আমি হয়ে,
ছুটে চলি তোমারিই শহরে
হারিয়ে চোখের যত ঘুম।
ঝুম!উড়ে উড়ে দূরে দূরে।
ঝুম!!মেঘে মেঘে ডানা মেলে।
ঝুম।ঘুরে ঘুরে তারে ডাকি।”
ঝুম!উড়ে উড়ে খুঁড়ে খুঁড়ে। “
ঝুম!মেঘে মেঘে ডানা মেলে।
ঝুম!ঘুরে ঘুরে তারেই খুজি।
নিহান গিটার রেখে কিছুক্ষণ বসে থাকে।তার লাগছে সে এখন একটু নরম হয়ে যাচ্ছে। কোনো পার্টিতে যাওয়া হয় না এখন,মেয়েদের কাছেও যেতে ইচ্ছে করেনা।নিজের মনকে কোনোভাবেই বুজাতে পারছেনা। মানুষটা কেনোই বা এতো নরম হয়ে যাচ্ছে?তাও বা একটা সামান্য হাফ ইঞ্চির মেয়ের সামনে।ভাবতে ভাবতে নিহান চোক বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস নেয়।তুবার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে সোফায় শুয়ে পড়ে।
★★★
সকাল মানেই নতুন এক দিনের সূচনা নতুন অনুভূতি,নতুন রঙ।বাইরে একনো মেঘ জমে আছে।বৃষ্টির আভা কিছুটা ফুটে উঠেছে।
তুবার আজ সকাল সকাল ঘুম ভেঙে গিয়েছে।আজ যে তার ভার্সিটি তে যেতে হবে।ইম্পর্টেন্ট ক্লাস আছে।তাই বিছানা ছেড়ে উঠে বসল।হামি দিল একটা।চোখ কচলাতে কচলাতে উঠে দাড়ালো।হঠাৎ আয়নায় নজর পড়তেই নিজেকে দেকে থতমত খায় তুবা।হালকা বাদামি রঙের টিশার্ট আর কালো হাফপ্যান্ট
যদিও নিহানের হাফপ্যান্ট তুবার ফুলপ্যান্টের সমান।তুবা কালকে রাতের কথা মনে আসতেই মস্তিষ্কে নাড়া দেয়।সবকিছু মনে থাকলেও হালকা হালকা মনে পড়ে।নিজেকে একরাশ গালি দিতে থাকে তুবা।সোফায় নজর পড়তেই নিহান কে দেখে।কিছুক্ষন পর রুম থেকে বেরিয়ে নিচে চলে যায়। রান্নাঘরে ঢুকে ব্রেকফাস্ট বানায় যেমন তেমন ভাবে।হয়তো আজকেও আতিয়া বেগম আসবে না বাহিরের অবস্থাও ভালো না তেমন।
তুবা ব্রেকফাস্ট রেডি করে উপরে যায়।আলমারি থেকে হালকা গোলাপী রঙের একটা থ্রি-পিস বের করে।ওয়াশরুমে গিয়ে লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে বের হয়।কোনো নোংরা পুরুষের ছোঁয়া তার শরীরে রাখতে চায় না তুবা।
–__
কিছুক্ষণ পর তুবা নিচে নেমে দেখে নিহান বসে আছে।তুবা মাথায় কাপড় দেয়। চুল থেকে টপটপ করে পানি পরছে।তুবা ডাইনিং এর সামনে এসে দাড়ায়।নিহান চোখ মোবাইল থেকে উঠিয়ে তুবার দিকে তাকায়।উপর থেকে নিচ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে প্রশ্ন ছুড়ল,
“কাল রাতে তো কিছুই হয়নি তাহলে গোসল করছো কেন?”
তুবা হচকচিয়ে উঠে। মনে মনে ভাবতে থাকে এ লোকের লজ্জাশরম কি কেজিতে বেঁচে দিয়েছে নাকি?
“মানুষ কি এমনি গোসল করতে পারেনা?নাকি শুধু…”
তুবা জিহ্বায় কামড় দেয়।কি বলে ফেললো এটা।নিহান অন্যদিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসল।
“কি বলতে চেয়ে থেমে গেছো?”
তুবা কথা ঘুরিয়ে বলে,
“আ..আমি ব্রেকফাস্ট নিয়ে আসি।”
বলেই তাড়াতাড়ি রান্নাঘরের দিকে।নিহান ঠোঁট কামড়ে হাসল।তুবা রান্নাঘর ব্রেকফাস্ট নিয়ে আসে।নিহান ব্রেকফাস্ট দেখে বিরক্ত হল।বিরক্ত কন্ঠে বলল,
“খিচুড়ি?খিচুড়ি?”
“হুম খিচুড়ি!এত মজার খাবার জীবনে খেয়েছেন?”
“সকালে এসব ওয়েল যুক্ত খাবার তুমি খাও।আমি এসব খাই না।তাই তো তোমার হেলথ্ বাড়ছেনা।”
তুবা জোরে হেসে বলল,
“তো আপনি কি খাবেন?ওসব ঘাসপাতা?”
“এগুলো ঘাসপাতা না।এগুলো স্বাস্থ্যকর খাবার।”
তুবা ভেংচি কেটে রান্নাঘরের দিকে যায়।রান্নাঘর থেকে সিদ্ধ করা সবজি আর ডিম নিয়ে এসে নিহানের সামনে রাখে।নিহান খিচুড়ির প্লেটটা নিজের সামনে থেকে সরিয়ে দেয়।তুবা নিহানের সামনে বসে খিচুড়ি নিয়ে খেতে থাকে।
খাওয়া শেষে নিহানকে বলল,
“ভার্সিটি যাবো আজ।আমাকে দিয়ে আসবেন প্লিজ?”
“ড্রাইভার দিয়ে আসবে।”
তুবা মিনতির স্বরে বলল,
“না প্লিজ আপনি দিয়ে আসুন।”
“হঠাৎ আমার জন্য?”
“এমনিই বলছি!”
“বাইরের অবস্থা তো ভালো না।আজকে না গেলে হয়না?”
“না আজকে যাবো।”
“ওকে রেডি হয়ে আসো।”
তুবা মাথা নাড়িয়ে উপরে চলে যায়।নিহান সেদিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
“আজকে বাসায় থাকলে কি এমন হতো হ্যা?”
★★★
কিছুসময় পর নিহান ও গিয়ে রেডি হয়ে নেয়।নিহান আজকে কিছুটা আলাদা রকমের শার্ট পরেছে কোর্টের নিচে।পার্পেল কালারের শার্ট টা সাদা চামড়াকে যেনো কামড়ে ধরেছে।তুবাও নিচে নামে।তার পড়নে পার্পেল কালারের আবায়া।তুবা নিহান কে দেখে অবাক হয় কিছুটা।সাধারণত এসব রঙের শার্টে তাকে দেখা যায় না।নিহান তুবার চোখের সামনে চুটকি বাজিয়ে বলল,
“যাবে না?নাকি এরকম হা করে তাকিয়ে থাকবে?”
নিহানের কথায় তুবার ধ্যান ভাঙে।নিহান হাঁটত শুরু করে তুবাও যায় পিছু পিছু।
কানাডার (toronto)শহর।সেখানেই নিশানদের ডুপ্লেক্স বাড়ি।আগে এখানেই থাকত তারা তিন ভাই।নোভা সোফায় বসে কি ভাবছে আনমনে।কানাডায় আসার পর থেকে তার কিছুই ভাল্লাগছেনা।বাংলাদেশ ই ভালো তার জন্যে।নিশানকে মনে মনে গালি দিতে থাকে।তার কাছে না আছে মোবাইল,না আছে কথা বলার সঙ্গী।সে একা একা কিই বা করবে এখানে??
নিশান তার সামনা সামনি বসে মোবাইল স্ক্রল করছে।নোভা শান্ত কন্ঠে বলল,
“আমাকে মোবাইল টা দিন।”
“কী করবে?”
“লাগবে। দিন না।”
“কেনো লাগবে?”
“আমি কি খেয়ে ফেলব নাকি?”
নিশান দুষ্টু হাসল।
“আমাকে চাইলে খেতে পারো।”
নোভা রাগী চোখ করে তাকায়।নিশান নোভাকে তার মোবাইল হাতে দেয় না।পকেট থেকে আরেকটা মোবাইল বের করে।নোভা ভ্রু কুঁচকে তাকায়।এরকম নতুন তাও আবার আইফোন কীভাবে বের করল?কখন ই বা কিনল?নিশান ফোনটা হাতে দেয় নোভার।নোবা ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল,
“এটা কার?আমাকে কেন দিচ্ছেন?”
“তোমার!”
নোভা অবাক হয়ে বলল,
“আমার?তাও আবার এই নতুন আইফোনটা?”
“হুম।আমি কি তোমার বাপের মতো এত কিপ্টা?”
“আমার বাবাকে একদম কিপ্টা বলবেন না।আমার বাপের মতো মানুষ দুমিয়ায় হয় না।”
নিশান হো হো করে হেঁসে বলে,
“তাই বুঝি?”
নোভা দমে গেল।এই লোকের সাথে কথা বলা মানেই সময় নষ্ট করা।নিশান হাতে থাকা আইফোন টা নোভার দিকে এগিয়ে দিল।নোভা কিছুক্ষণ ভেবে ফোনটা হাতে নেয়।মনে মনে বলে
সময়টা হলেও কাটবে এখন তার।
★★★
আজকের আকাশটা মেঘলা।হালকা হালকা হাওয়া বইছে।তুবা জানালার বাইরে মুখ দিয়ে বাতাস উপভোগ করছে।নিহান জানালার গ্লাস তুলে দিচ্ছে দেখে তুবা তাড়াতাড়ি মুখ সরিয়ে রাগী কন্ঠে বলল,
“কী সমস্যা?বাতাস খাচ্ছি দেখছেন না?শুধু শুধু গ্লাস লাগিয়ে দিলেন কেনো?”
নিহান একবার শান্ত চোখে তাকাল।তারপর গম্ভীর গলায় বলল,
❝আমি সেই বাতাসকেও সহ্য করতে পারি না,যে অবলীলায় তোমাকে ছুঁয়ে যায়।আর আমাকে ফেলে রাখে অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষার নিঃশব্দ অপেক্ষায়।❞
তুবা’র মাথায় যেনো বাজ পড়ল।এটা কি বলছে নিহান?এটা কি সত্যিই নিহান?পুরো কথাটা বুঝতে না পরলেও একটু হলেও বুঝতে পেরেছে তুবা।
অবাক কন্ঠে বলল,
“কি?কি বললেন?”
“যা শুনেছো তাই!এত কথা পছন্দ না আমার।”
নিহান চুপচাপ গাড়ি চালাতে লাগল।তুবাও আর কিছু বলল না।কিন্তু ভেতরে ভেতরে প্রশ্নরা বাসা বাঁধছে।নিহান কি বুঝাতে চাই?কি করতে চাই?
এসব ভাবতে ভাবতে ভার্সিটির সামনে এসে গাড়ি থামে।তুবা গাড়ির ডোর খুলে নিচে নেমে ভার্সিটির ভেতরে যায়।নিহান আজকে এখানেই বসে থাকবে।ক্লাস শেষ হলে একেবারে তুবাকে নিয়ে বাসায় ফিরবে।বাইরে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
আজ প্রায় কয়েকদিন পর তিশার সাথে দেখা হয় তুবার।তুবা কয়েকদিন ভার্সিটিতে আসেনি এরপরে যখন তুবা এসেছে তখন তিশা আসেনি।আজ দুজনিই এসেছে।নিজেদের সুখ দুঃখের কথা বলছে।তিশা হঠাৎ বলল,
“একদিন একটা ছেলে তোমাকে নিতে এসেছিলো না?সেই ছেলেটা এত কথা বেয়াদব বলার মতো না।”
তুবা ভ্রু কুঁচকে বলল,
“নাহিয়ান ভাইয়া?”
“হুম ওই নাহিয়ান নাকি ফাহিয়ান এটা।”
“তোমাকে কি বলেছে?”
“তেমন কিছু না বাদ দাও।”
তুবা আর কতা বাড়াল না।ক্লাস শুরু হবে এখনিই।
চলবে?__
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৮
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৪
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৪
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৬
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক গল্পের লিংক
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৪
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১০
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১২